গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ৫ জন নিহত
গোপালগঞ্জে বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে সৃষ্ট দু্ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে ঢাকা খুলনা মহাসড়কে শহরতলীর বেদগ্রামে এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পিরোজপুরগামী দোলা পরিবহনের একটি বাস শহরের বেদগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাসটি গতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বাসটি রাস্তার ওপর উল্টে যায় এবং সংঘর্ষে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এর ফলে মোটরসাইলের দুই আরোহীসহ ৪ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
দুর্ঘটনার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতাল থেকে ১২ বছরের আরও একটি শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
প্রাথমিকভাবে হতাহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তবে নিহতদের মধ্য একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী, একটি শিশু এবং ৩ জন পুরুষ রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর, জেলা প্রশাসক মো. আরিফ উজ জামান ও পুলিশ সুপার হাবীবুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
২ দিন আগে
বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, ঝড় উঠলেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ছোটেন শৌচাগারে
আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর বাতাসের তীব্রতা বাড়লেই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ৮৬ নম্বর তারাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হয় হুড়োহুড়ি। প্রাণ বাঁচাতে জরাজীর্ণ একাডেমিক ভবন ছেড়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দৌড়ে গিয়ে আশ্রয় নেন বিদ্যালয়ের শৌচাগার—ওয়াস ব্লকে।
শনিবার (২ মে) দুপুরে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে আবারও দেখা যায় এই চরম আতঙ্কের দৃশ্য। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ছাদ ধসে পড়ার ভয়ে পাঠদান বন্ধ করে দিয়ে খুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটেন শিক্ষকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের পুরোনো এই ভবনটির দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ধরেছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে নিয়মিত, আর কাঠামোগত দুর্বলতা এতটাই প্রকট যে ভবনটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় সামান্য দুর্যোগেই সবাই ক্লাস বন্ধ করে ওয়াস ব্লকে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার ঝড়ের পর বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক ওয়ালিউল্লাহ হাওলাদার বলেন, ‘আজ দুপুরে ঝড় শুরু হতেই আমরা শিক্ষার্থীদের দ্রুত ওয়াস ব্লকে সরিয়ে নেই। ভবনটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে সেখানে বসে ক্লাস নেওয়া এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।’
জানা গেছে, কয়েক মাস আগে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঈনুল হক বিদ্যালয়টির এই করুণ দশা দেখে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী এলজিইডি’র প্রকৌশলী ‘ইস্টিমেট’ বা খরচের তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ইউএনও বদলি হওয়ার পরপরই উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল আজম সেই বরাদ্দটি বাতিল করে দেন।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষক ওয়ালিউল্লাহ হাওলাদার বলেন, ‘আগের ইউএনও স্যার বরাদ্দের পর কাজের ইস্টিমেটও হয়েছিল। কিন্তু তিনি বদলি হতেই উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার বরাদ্দ বাতিল করে দেন। আমরা পরবর্তীতে ঘর নির্মাণের জন্য তার কাছে গেলে তিনি আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ওই সময়ে ঘরটি নির্মাণ হলে আজ আমাদের এই চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়তে হতো না।’
জরুরি এই বরাদ্দ বাতিলের খবরে অভিভাবকদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, শিশুদের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে এমন জনগুরুত্বপূর্ণ বরাদ্দ বাতিল করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাগুফতা হক্ বলেন, ‘ঘটনাটি আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। দ্রুত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া কেন টিনশেড ঘর নির্মাণের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে, সেটিও গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে।’
বর্তমানে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী দ্রুত একটি টিনশেড ঘর নির্মাণসহ স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে আগামী দিনে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে কোনো শিশুকে ওয়াস ব্লকে আশ্রয় নিতে না হয়।
২৬ দিন আগে
গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ২০
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২০ যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে গোপালগঞ্জ-পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার মালেকের বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক শিপলু আহমেদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, উপজেলার মালেক বাজার নামক এলাকায় পিরোজপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইমাদ পরিবহনের একটি বাস অতিরিক্ত গতি নিয়ে ওয়েলকাম পরিবহনের অপর একটি যাত্রীবাহী বাসকে ওভারটেক করতে যায়। এ সময় ইমাদ পরিবহনের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে বাসটি ফেলে দেন। এতে বাসের অন্তত ২০ যাত্রী আহত হন।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
৩১ দিন আগে
গোপালগঞ্জে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে শিশু নিহত, আহত ৫
গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের সংঘর্ষে সামিউল আলিম মোল্লা (৩) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ফকিরকান্দি নামক এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সামিউল গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মালেঙ্গা গ্রামের ইয়াসিন মোল্লার ছেলে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান জানান, ইজিবাইকটি গোপালগঞ্জ শহর থেকে যাত্রী নিয়ে শহরতলীর আড়পাড়ার দিকে যাচ্ছিল। ফকিরকান্দি এলাকায় মোড় নেওয়ার সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ইমাদ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ইজিবাইকটিকে ধাক্কা দেয়। এ সময় ইজিবাইকচালক ইয়াসিন মোল্লার ৩ বছর বয়সী ছেলে সামিউল আলিম মোল্লা ছিটকে বাসের নিচে চাপা পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশুটি। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
খবর পেয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে। তাদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। নিহত শিশু সামিউলের মরদেহ ওই হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
৩৬ দিন আগে
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় গোপালগঞ্জের জনজীবন স্থবির
বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর (বুধবার) গোপালগঞ্জ জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল ৬টায় জেলার তাপমাত্রা ছিল মাত্র ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘন কুয়াশা ও টানা শৈত্যপ্রবাহের কারণে কোটালীপাড়া উপজেলায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
গোপালগঞ্জে গত পাঁচ দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। ঘন কুয়াশা ও প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে দিনমজুররা কাজে বের হতে পারছেন না। কৃষকেরা দেরিতে মাঠে যাচ্ছেন। যে কারণে নিচু জলাভূমি অধ্যুষিত কোটালীপাড়ার একফসলি জমিতে বোরো ধান চাষ ব্যাহত হচ্ছে, যা কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক আবু সুফিয়ান জানান, আজ সকাল ৬টায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।
দুপুরের পর শীতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও অতিরিক্ত ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। তীব্র শীতে কাজে না যেতে পেরে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শীতে কষ্টে রয়েছে গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন গৃহপালিত পশু-পাখি। পাশাপাশি ঠান্ডাজনিত রোগে ভুগছেন শিশু ও বয়স্করা।
১৫০ দিন আগে
গোপালগঞ্জে কুকুরের তাড়া খেয়ে পড়ে প্রাণ গেল শিশুর
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় কুকুরের তাড়া খেয়ে কাঁদাপানিতে পড়ে এক শিশু নিহত হয়েছে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে শহরের মৌলভীপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহাগী চৌধুরী (১২) মৌলভীপাড়ার আব্দুল হামিদ চৌধুরীর মেয়ে। সে মৌলভীপাড়ার শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
নিহতের ফুফু সাবিনা আক্তার জানান, বুধবার দুপুরে স্কুল থেকে বাসায় আসার সময় রাস্তায় থাকা কুকুর সোহাগীকে তাড়া করে। এ সময় সে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে বাসায় আসতে গিয়ে উঠানের কাঁদাপানিতে পা পিছলে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। পরে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অমিত সরকার বলেন, দুপুরের দিকে সোহাগী নামের এক শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে, ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
২৭৫ দিন আগে
গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক সমাবেশকে ঘিরে সহিংসতার তদন্তে কমিটি গঠন
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির পথসভাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় তদন্ত করতে একটি কমিটি গঠন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জের সদর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জেলা কারাগারসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ও নাগরিক নিরাপত্তা ব্যাহত হওয়ার বিষয় এবং অন্যান্য ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করবে এই কমিটি।
পড়ুন: এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে সংঘর্ষ: গোপালগঞ্জে আরও দুই মামলা দায়ের
তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি ও মুক্তিযোদ্ধা ড. মো. আবু তারিককে। এছাড়া কমিটির সদস্য রয়েছেন- স্বরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার মো. মাহাবুবুর রহমান, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, যশোরের ২১ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহীদুর রহমান ওসমানী, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক সরদার নূরুল আমিন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী।
কমিটিকে রাজনৈতিক সভায় আক্রমণ ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিটি। আর কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ।
তদন্ত কমিটি আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুস্পষ্ট মতামত ও সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
৩০৯ দিন আগে
গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে নিহত ৩ জনের কবর থেকে লাশ উত্তোলন
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে সংর্ঘষের ঘটনায় নিহত তিনজনের লাশ আদালতের নির্দেশে কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে জেলার মিয়াপাড়া পৌর কবরস্থান হতে ইমন তালুকদার ও রমজান কাজির লাশ উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হয়। পরে তাদের লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার কবরস্থান থেকে সোহেল রানা মোল্লার লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।
লাশ কবরস্থান থেকে উত্তোলন কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল মুন্সী ও রন্টি পোদ্দার। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় গোপালগঞ্জ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইমএন্ড অপস) সহ গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর সাজেদুর রহমান, এস আই মুরাদ, এস আই শহিদুল ইসলাম, এপিবিএন পুলিশ ও বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত বুধবারের সংঘর্ষে নিহত চারজনের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন ও সৎকার করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় মারা যান রমজান মুন্সি। পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে তার লাশের ময়নাতদন্ত হয়। ময়না তদন্ত শেষে আপনজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই মুরাদ হোসেন ও এস আই শহিদুল ইসলাম উক্ত রমজান কাজী ও ইমন তালুকদার লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠান। ময়না তদন্ত শেষে লাশ পুনরায় দাফন কর হবে। অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা এড়াতে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ স্বাভাবিক আছে।
পড়ুন: স্কুলে চলছিল কোচিং, তখনই আছড়ে পড়ে বিমান
ময়নাতদন্ত শেষে আজ পুনরায় তাদের কবরস্থানে কবর দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ রিপোট লেখা পর্যন্ত ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি বলে জানা গেছে।
গোপালগঞ্জে কাটেনি জনমনের আতঙ্ক
গোপালগঞ্জে বুধবার (১৬ জুলাই) সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ জন নিহত হন। নিহত ৫ জনের মধ্যে ৪ জনের নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সদর থানায় পৃথক ৪টি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এসব মামলার প্রতিটিতে অজ্ঞাত দেড় হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলাগুলোয় মোট আসামি ৬ হাজার।
সদর থানার ৪ উপপরিদর্শক পৃথক পৃথকভাবে মামলার বাদী হয়ে মামলাগুলো করেন।
গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় গোটা জেলায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ফলে জনমনে কাটেনি আতঙ্ক। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ও পড়েছে ঘটনার রেশ। সোমবার কারফিউ বা ১৪৪ না থাকলেও দোকানপাট খোলেনি। নেই তেমন লোকজনের আনাগোনা। তবে অন্যান্য দিনের চেয়ে আজ লোকজনের চলাচল কিছুটা বেড়েছে।
৩১২ দিন আগে
গোপালগঞ্জে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া হস্তান্তরের বিষয়টি ভিত্তিহীন: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
সংঘর্ষে নিহতদের লাশ ইচ্ছাকৃতভাবে ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তরের বিষয়টি ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে জানিয়েছে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (২০ জুলাই) হাসপাতালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘গত ১৬ জুলাই, গোপালগঞ্জ জেলায় অপ্রত্যাশিত ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের লাশ ময়নাতদন্ত না করার বিষয়ে কিছু সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নিহত ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজনদের বক্তব্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এ বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য।’
বিবৃতি অনুযায়ী, প্রকৃত ঘটনা হলো— সংঘর্ষ চলাকালে প্রথম মৃতদেহটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর রোগীর স্বজনদের লাশ ময়নাতদন্তের কার্যক্রম শেষ করে লাশ নেওয়ার কথা বললে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে জোর করে লাশ নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বাকি মৃতদেহগুলোর স্বজনরাও ময়নাতদন্ত করাতে রাজি হয়নি। তারা হাসপাতালে কর্মরত কর্মচারীদের সঙ্গে ‘অসৌজন্যমূলক’ আচরণ করে জোর করে মৃতদেহ নিয়ে যায়।
পড়ুন: গোপালগঞ্জে পরিস্থিতির কারণে গুলি করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এমন পরিস্থিতি ও চারদিকে সংঘর্ষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন উপস্থিত না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অসহায় বোধ করেন। এছাড়া, ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ডবয় ও অন্যান্য কর্মচারীরা সংঘর্ষে আহতদের চিকিৎসাকাজে নিয়োজিত থাকায় এবং হাসপাতালের বাইরে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।’
তবে, পরবর্তীতে এই ঘটনা পুলিশকে মোবাইল ফোনে এবং লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়। এই বিবৃতির মাধ্যমে জনমনে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে বলেও আশাপ্রকাশ করা হয়।
৩১৪ দিন আগে
প্রয়োজনে লাশ উত্তোলন করে গোপালগঞ্জে নিহতদের ময়নাতদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষে পাঁচজন নিহতের লাশ প্রয়োজনে কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
শনিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘নিহতের স্বজনরা লাশের ময়নাতদন্ত করতে চাননি, তাই হয়নি। কিন্তু যদি সরকার প্রয়োজন মনে করে, তাহলে এখনো ময়নাতদন্তের সুযোগ আছে।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গোপালগঞ্জের পুরো ঘটনা সাংবাদিকরা লাইভ করেছেন। এখানে লুকোচুরির কিছু নেই। যা হয়েছে, সবার সামনেই হয়েছে।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি এখন শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে, গ্রেপ্তার ২৫: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
গোপালগঞ্জের সংঘর্ষে দায় কার—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি যা প্রতিবেদন দেবে, সেখান থেকেই জানা যাবে আসলে কেন এমন ঘটনা ঘটল।
থার্ড টার্মিনাল পরিদর্শন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, এ টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে যাত্রীদের বিদ্যমান অনেক সমস্যা লাঘব হবে। টার্মিনালের ইমিগ্রেশন পুরোপুরি কার্যকর করতে মন্ত্রণালয় প্রস্তুত আছে। ইমিগ্রেশনে ৪০০-এর মতো সদস্য থাকবে।
টার্মিনালের উদ্বোধন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি অন্য মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়ত্তে যা আছে, সেখান থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’
৩১৫ দিন আগে