রংপুর
আইডি কার্ড না ঝুলানোয় সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, এসআই ক্লোজড
সাংবাদিকের পরিচয় ও ভিজিটিং কার্ড দেওয়ার পরও ‘আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে’ থানায় না ঢোকায় সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে রংপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিহার রঞ্জনকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে তাকে সিসি দিয়ে কমিশনার কার্যালয়ে পাঠালে সেখান থেকে তাকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এর আগে, সেদিন দুপুরে কোতোয়ালি থানায় কালবেলার রংপুর ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান রনির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিক রেজওয়ান রনি বলেন, গতকাল (সোমবার) বিকেলে চুরির অভিযোগের বিষয়ে কটকিপাড়া এলাকার সাব্বির হাসানকে থানায় ডেকে আনেন এসআই নিহার রঞ্জন। থানায় নেওয়ার পর জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করছেন এমন তথ্য জানার পর আমরা থানায় যাই। থানায় গিয়ে ওই এসআইকে পরিচয় দেওয়ার পর তিনি আমাকে বসতে বলেন। কিন্তু অভিযুক্তকে গালাগালি ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করতেই এসআই আমার আইডি কার্ড দেখতে চান। এ সময় তাকে ভিজিটিং কার্ড দিলেও তিনি তা দেখেননি। পরে ওসি আমাকে চেনেন এবং তার সঙ্গে কথা বলতে বললে এসআই বলেন, ‘ওসি, কমিশনারের কথা শোনার টাইম নাই আমার।’
রেজওয়ান রনি আরও বলেন, ‘থানায় আসা সাংবাদিকদের সবাইকে গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে প্রবেশ করতে হয়’—এ কথা জানিয়ে তিনি চিল্লাতে চিল্লাতে আমাকে সেখান থেকে বের করে দেন এবং থানায় আইডি কার্ড নিয়ে আসতে বলেন। পরে বিষয়টি আমার সহকর্মীদের জানিয়ে থানায় ডেকে নিই। তারা এলে ওই পুলিশ সদস্য তাদের সঙ্গেও উচ্চস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি করে তার কক্ষ থেকে বের করে দেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত দৈনিক খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকার বলেন, অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে থানায় এনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন এসআই নিহার। এ বিষয়ে জানতে থানায় গেলে পরিচয়ের জন্য রনি তার ভিজিটিং কার্ড দেওয়ার পরও তাকে গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে থানায় প্রবেশ করতে বলেন। এরপর অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে থানার ভেতরের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, ‘সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে এসআই নিহার রঞ্জনকে সিসি দিয়ে কমিশনার কার্যালয়ে পাঠানো হলে সেখান থেকে তাকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। আর থানা সবার জন্য উন্মুক্ত। এখানে কার্ড ঝুলিয়ে আসতে হবে না।’
১৫ ঘণ্টা আগে
দেশে সারের সংকট নেই, মজুতও পর্যাপ্ত রয়েছে: কৃষি সচিব
দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রংপুর অঞ্চলের সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা জানান।
কৃষি সচিব বলেন, দেশের কৃষকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। বর্তমানে দেশে সারের কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। কৃষক যাতে হয়রানি ছাড়াই প্রয়োজনীয় সার পেতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখতে হবে।
তিনি বলেন, কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সারে ভর্তুকি প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বাড়ানো এবং কৃষিকে আরও লাভজনক করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
মো. সেলিম খান কৃষকদের সুষম সার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ফসলের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় ও সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ করতে হবে। অতিরিক্ত সার ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি মাটির গুণাগুণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই কৃষকদের সুষম সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
সারের বাজারে অনিয়মের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো অসাধু সার ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধভাবে সার মজুত বা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির মাধ্যমে কৃষকদের হয়রানি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকের স্বার্থে সার ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন কৃষি সচিব।
সেলিম খান কৃষি বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আরও যত্নশীল ও দায়িত্বশীল হয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন। কৃষকদের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে তা সমাধানে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় রংপুর অঞ্চলের সার সরবরাহ, মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা এবং কৃষকদের সারপ্রাপ্তির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ অঞ্চলের সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্পর্কে কৃষি সচিবকে জানান।
পরে কৃষি সচিব রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ঘনিরামপুর গ্রামের কৃষক অহিদুল ইসলাম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি বেসড ভার্মিকম্পোস্ট খামার পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি খামারের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং কৃষকের সঙ্গে কথা বলেন।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিমসহ রংপুর বিভাগের সার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
উত্তরাঞ্চলে টিএসপি সারের সংকট, কৃষকের অসচেতনতাকে দুষছে কর্তৃপক্ষ
আমনের ভরা মৌসুমে ইউরিয়া ও ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার চাহিদামতো সরবরাহ পাওয়া গেলেও ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে রংপুর অঞ্চলের কৃষকদের। এমনকি বাড়তি দাম দিতে চাইলেও অনেক ক্ষেত্রে চাহিদামতো টিএসপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে চরম হতাশয় দিন পার করছেন কৃষকরা।
কৃষকদের দাবি, অতিরিক্ত দামেও সার পাওয়া যাচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন উত্তরের ৮৮৩টি চরের কৃষকেরা। চর এলাকায় সারের কোনো ব্যবসায়ী না থাকায় চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার বনগ্রাম এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি আট বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান লাগিয়েছেন। ধানখেতে ছিটানোর জন্য তার ১০০ কেজি টিএসপি সারের প্রয়োজন। কিন্তু ছয়টি সার বিক্রয়ের দোকানঘুরে মাত্র ৪৫ কেজি টিএসপি সার সংগ্রহ করতে পেরেছন তিনি। তার মধ্যে ১৫ কেজি সার কিনেছেন সরকারের নির্ধারিত ২৭ টাকা কেজি দরে। বাকি ৩০ কেজি কিনতে প্রতি কেজিতে তাকে ৩-৪ টাকা বাড়তি খরচ করতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ধান গাছে শিকড় শক্ত ও গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠার জন্য টিএসপি সারের প্রয়োজন। কিন্ত তিনি চাহিদামতো সার সংগ্রহ করতে না পারায় চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন। তবে ইউরিয়া ও ডিএপি সারের সরবরাহ চাহিদামতো রয়েছে। চাহিদামতো টিএসপি সার ধানখেতে ছিটাতে না পারলে আমনের আশানুরুপ ফলন পাওয়া যাবে না। টিএসপি সারের এতটাই সঙ্কট দেখা দিয়েছে যে বাড়তি টাকা দিয়েও এ সার সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। গ্রামের কৃষকরা এখন আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত। এর মধ্যে অনেক কৃষক দুই সপ্তাহ আগেই চারা রোপণ শেষ করেছেন।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চর শৈলমারী এলাকার কৃষক বাবলু মিয়া জানান, তিনি এ বছর ১২ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন, কিন্তু চাহিদার ২০ শতাংশও টিএসপি সারের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ইউরিয়া ও ডিএপি সার সরবরাহ থাকলেও তাদের প্রতি কেজি সার কিনতে ২ থেকে ৩ টাকা বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমার ১৭০ কেজি টিএসপি সারের প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু সংগ্রহ করেছি মাত্র ৫০ কেজি। দোকানে গেলে ডিলাররা বলছেন, টিএসপি সারের সরবরাহ নেই। বাড়তি দাম দিতে চেয়েও এই সার সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। সময়মতো টিএসপি সার ধানখেতে ছিটানো না গেলে ধান গাছের শিকড় শক্ত হবে না এবং দ্রুত গাছ বেড়ে উঠতে পারবে না।
গংগাচড়া উপজেলার মহিপুর তিস্তা চরের কৃষক মোন্নাফ মিয়া বলেন, টিএসপি সার সংগ্রহ করতে তিনি ৩ দিন সার বিক্রেতাদের দোকানে ধরনা দিয়েছেন, কিন্তু চাহিদামতো সার না পেয়ে চরম হতাশ তিনি।
এই কৃষক বলেন, ১০ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। আপাতত ১৫০ কেজি টিএসপি সারের চাহিদা থাকলেও মাত্র ৫০ কেজি সংগ্রহ করতে পেরেছি, তাও নির্ধারিত মূল্যে থেকে বাড়তি টাকা খরচ করে।
তিনি বলেন, আগের বছরগুলোতে টিএসপি সার চাহিদামতো সরবরাহ পেতাম, কিন্তু এ বছর তা পাচ্ছি না। সার বিক্রেতাদের বাড়তি টাকা দিয়েও সার পাওয়া যাচ্ছে না।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বজরা এলাকার সার ডিলার জুলহাস হোসেন জানান, কৃষকদের মাঝে বর্তমানে টিএসপি সারের ব্যাপক চাহিদা, কিন্তু তাদের চাহিদা অনুযায়ী এই সার দেওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমার দোকানে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১০ হাজার কেজি টিএসপি সারের চাহিদা। তবে আমি সরকারিভাবে বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র ৫০০ কেজি। সরকার সারের বরাদ্দ না দিলে আমরা কীভাবে কৃষকের চাহিদা পূরণ করব?
৫ দিন আগে
দিনদুপুরে লুট করা গরু দিয়ে আ. লীগ নেতাদের ভূরিভোজ
রংপুরের পীরগাছায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে চার দিনমজুরের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছয়টি গরু, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ঘরের আসবাবপত্র লুট করার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
রবিবার (৯ আগস্ট) রাতে উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের দামুরস্বর গ্রামে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এ তাণ্ডব চালানো হয় বলে স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, ছাওলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও পাওটানাহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পশুচিকিৎসক রেজাউল করিম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুকুল মিয়া এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব হোসেনের নেতৃত্বে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলা হলে নিরাপত্তার খাতিরে বাড়ির লোকজন সরে গেলে ঘরের ফ্রিজ, আসবাবপত্র, সেচযন্ত্র, মোটর ও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও লুট করা হয়। পরে প্রায় ২০০ গজ দূরে সৈয়দ আলী, এরশাদ আলী ও রুবেল মিয়ার বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। সেখানে আটটি ঘর ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ টাকা, জমির দলিল, পাসপোর্ট, স্বর্ণালংকার ও ছয়টি গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী সৈয়দ আলী ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের ঘরে এখন থাকার বা খাওয়ার মতো কিছুই অবশিষ্ট নেই। চালডাল তো বটেই, রান্না করা তরকারির পাতিল পর্যন্ত নিয়ে গেছে তারা। হামলার সময় গ্রামের বিভিন্ন স্থানে লোকজন পাহারায় ছিল। ফলে কেউ তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারেননি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দিনের বেলায় প্রকাশ্যে এ ধরনের হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, লুট করা একটি গরু জবাই করে হামলাকারীরা এলাকায় ভোজের আয়োজনও করেন।
আওয়ামী লীগের প্রয়াত প্রতিমন্ত্রীর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য আইয়ুব হোসেন ও রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা দাবি করেন, ঘটনার সময় তারা এলাকায় ছিলেন না। তারা বাইরে ছিলেন।
অপর অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মুকুল মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় দুপক্ষ থেকে দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। গরু লুটের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে।
৭ দিন আগে
আইসিইউর অপেক্ষায় রমেক হাসপাতালে মৃত্যুর মিছিল
একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে যেখানে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে আইসিইউ শয্যার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দিনের পর দিন। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও শয্যা না থাকায় অপেক্ষমাণ তালিকাতেই থেকে যাচ্ছেন রোগীরা। শেষ পর্যন্ত আইসিইউতে যাওয়ার আগেই কারও কারও মৃত্যু হচ্ছে।
রংপুর বিভাগের আট জেলার ১ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতাল। প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন হাজার রোগী এখানে ভর্তি থাকেন। হাসপাতাল সূত্র বলছে, ভর্তি রোগীদের অন্তত ১০ শতাংশের আইসিইউ সেবার প্রয়োজন হয়। অথচ হাসপাতালটির আইসিইউতে শয্যা রয়েছে মাত্র ১০টি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন রোগীর জন্য আইসিইউ শয্যার অনুরোধ আসে। বিপরীতে ১০টি শয্যা থাকায় চাহিদার বড় একটি অংশই পূরণ করা সম্ভব হয় না। ফলে অনেক রোগী অপেক্ষমাণ তালিকায় নাম লিখিয়েও শয্যা পাওয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।
আইসিইউ বিভাগের পরিদর্শক ডা. তৌহিদ সরকার ডলার বলেন, ‘প্রতিদিন বহু রোগীর আইসিইউর জন্য রিকোয়েস্ট আসে। আমরা সব রোগীর অনুরোধ রাখতে পারি না। অনেক রোগী আইসিইউ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বেডের সঙ্গে আইসিইউতে জনবল এবং বিভাগের জায়গা বাড়ানো প্রয়োজন। তাহলে উত্তরবঙ্গের এই বিশাল জনগোষ্ঠী সেবা বঞ্চিত হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন।’
১০ শয্যার আইসিইউতে বিপুল চাপ
ইউএনবির হাতে আসা রমেক হাসপাতালের আইসিইউতে অপেক্ষমাণ ১২ জন রোগীর তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাদের অধিকাংশই আইসিইউ শয্যা না পেয়ে মারা গেছেন। তাদের কয়েকজনের স্বজনের সঙ্গে কথাও বলেছে ইউএনবি।
রংপুর নগরীর ধাপ সাতগাড়া এলাকার মহসেনা বেগমের মেয়ের জামাই শফিক জানান, বুকে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে তার শাশুড়িকে হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা জরুরি ভিত্তিতে তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
শফিক বলেন, ‘আইসিইউর রোগী ১০ মিনিট বাইরে রাখার সুযোগ নেই। অথচ তিন দিন অপেক্ষার পরও আইসিইউ বেড না পেয়ে প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করাই। কয়েক দফা রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে ছোটাছুটি করেছি। গত বুধবার শাশুড়ি মারা গেছেন। আমার রোগীটা সময়মতো আইসিইউ সাপোর্ট পেলে হয়তো আরও কিছু দিন বেঁচে থাকতেন।’
কুড়িগ্রামের ৭২ বছর বয়সী রহিচা বেগম স্ট্রোকের পর প্রথমে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাসেবায় অসন্তুষ্ট হয়ে স্বজনরা তাকে রমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ নেওয়া হয়।
তার ছেলে আরমান ফেরদৌস বলেন, ‘ভর্তির তিন দিন পর অচেতন অবস্থায় আমার মাকে কোনো কারণ জানানো ছাড়া রিলিজ দিয়ে বলা হয় আইসিইউ সাপোর্ট লাগবে না। আবার এক দিন পর নেফ্রোলজির চিকিৎসকরা আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু আইসিইউতে সিট আর পাইনি। আমার মা মারা গেছে।’
কুড়িগ্রামের চিলমারীর রমনা গড়াতিপাড়া থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় ৪৫ বছর বয়সী বিউটি বেগমকে রমেক হাসপাতালের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। গত ২ জুন জরুরি ভিত্তিতে তাকে অস্ত্রোপচার বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, অস্ত্রোপচারের পর তাকে আইসিইউতে নিতে হবে এবং আইসিইউ শয্যা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করা সম্ভব নয়।
চিকিৎসকের অনুমতিপত্র নিয়ে দফায় দফায় চেষ্টা করেও আইসিইউ শয্যা মেলেনি। পরদিন ৩ জুন দুপুর ১২টায় মারা যান বিউটি বেগম।
তার ভাতিজির জামাই নূর আলম বলেন, ‘আইসিইউ পেলে শাশুড়িকে বাঁচাতে পারতাম। বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে অনেক খরচ। রোগী মারা যাওয়ার পরও ওরা (বেসরকারি হাসপাতাল) রেখে দেয়। এ জন্য বাইরের হাসপাতালে নিয়ে যাইনি। আমার রোগী ভর্তি থাকা অবস্থায় তিনটা আইসিইউ বেড ফাঁকা হয়েছিল। কিন্তু আমার রোগীকে নেয়নি। যাদের বড় বড় লোক আছে, তারাই আইসিইউতে বেড পায়।’
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী এলাকার ৮০ বছর বয়সী মো. সোবহান সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তাকে রমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। গত ১ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চিকিৎসক তাকে জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউতে নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আইসিইউ শয্যা না পেয়ে পরদিন ২ জুন রাত ৩টায় মারা যান তিনি।
তার নাতনি হ্যাপি বেগম বলেন, ‘দাদুকে আইসিইউতে নেওয়া প্রয়োজন ছিল। আমরা খুব চেষ্টা করেছি। কিন্তু আইসিইউ ফাঁকা ছিল না। সময়মতো আইসিইউতে নিতে না পারায় আমার দাদু মারা গেছে। এত বড় একটা হাসপাতাল। এখানে মাত্র ১০টা আইসিইউ দিয়ে কীভাবে চলে।’
৭ দিন আগে
দেশের একমাত্র গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটিও ধ্বংস করে গেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের একমাত্র গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটিও ধ্বংস করে গেছে। সব সংকট মোকাবিলা করে দ্রুত গ্যাস সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত সুবিধাবঞ্চিতদের সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল আগের মত ভূমিকা পালন করে হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন। তারা গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, তারা সব সংকটের এখনই সমাধান চান। সরকারকে নানাভাবে টেনে ধরার চেষ্টা করছে তারা।
মির্জা ফখরুল বলেন, ২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে চার হাজার ছাত্র, নারী ও শিশুকে জুলাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছিল ফ্যাসিস্ট সরকার। গত ১৭ বছর লাখ লাখ মামলা, গুম, খুন নির্যাতনের রেকর্ড করেছিল ওই সরকার। দেশের মানুষ এখন শান্তির নিঃশ্বাস ফেলছে।
মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধে আমাদের প্রায় চার বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতিও পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণে ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে।
এ সময় তিনি সব সংকট মোকাবিলা করে দ্রুত গ্যাস সংকট সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
রংপুরে লাভ শেয়ার বিডি সংস্থার সুবিধাবঞ্চিত ২৫ জন ব্যক্তির হাতে চা-ঘর তুলে দেওয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, রংপুরের মানুষ আমরা কিছুই বুঝি না, বিএনপি থাকলে জাতীয় পার্টিকে ভোট দেই, জাতীয় পার্টি থাকলে অন্য দলকে ভোট দেই, আমাদের উন্নয়ন হবে কেমন করে! প্রধানমন্ত্রী উত্তরাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে চান। সে ব্যাপারে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
জিনিসপত্রের দাম একটু বেড়েছে, যখন আমদানি করা হয় তখন এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কথা বলতে পারতেন না, লিখতে পারতেন না, এখন যা খুশি তাই লিখতে পারছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিরোধী দল যে ভাষায় কথা বলে তা কিন্তু গণতন্ত্র নয়। আমরা উন্নয়ন কাজ শুরু করেছি, আমরা এগিয়ে যেতে চাই, দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।
অনুষ্ঠানে লাভ শেয়ার বিডি এর নিজস্ব অর্থায়নে ‘সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প’ উদ্বোধন করা হয়। এ সময় ২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির মাঝে ২৫ টি চা-ঘর হস্তান্তর করা হয়।
লাভ শেয়ার বিডির চেয়ারম্যান জাহিদ খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ও রাষ্ট্রদূত মুসফিকুল ফজল আনসারি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শামসুজ্জামান সামু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ও রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
৯ দিন আগে
রংপুরে ট্রেনের ইঞ্জিনসহ বগি লাইনচ্যুত, দেড় ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক
রংপুর রেলস্টেশন এলাকায় বুড়িমারী থেকে পার্বতীপুরগামী ৪৬১ কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন ও একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে কোনো যাত্রী হতাহত না হলেও প্রায় দেড় ঘণ্টা ওই লাইনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্টেশনের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বুড়িমারী থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি রংপুর রেলস্টেশন এলাকায় পৌঁছালে ইঞ্জিনের কয়েকটি চাকা এবং পেছনের একটি বগির কয়েকটি চাকা লাইন থেকে পড়ে যায়। এতে ওই লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে লাইনচ্যুত ইঞ্জিন ও বগি আলাদা করে ট্রেনটি অন্য লাইনে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ওই পথে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, স্টেশনের ৩ ও ৪ নম্বর লাইনে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ হয়নি। এমনকি পর্যাপ্ত পাথরও দেওয়া হয়নি। তাদের ধারণা, লাইনের এমন অবস্থার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা নাঈম ইসলাম বলেন, ‘রেললাইনের ৩ নম্বর লাইনে দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার করা হয়নি। এক ও দুই নম্বর লাইনে পাথর দেওয়া হলেও ৩ ও ৪ নম্বর লাইনে পাথর দেওয়া হয়নি। লাইনে পাথর না থাকায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে।’
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর রহমান বলেন, মালবাহী ট্রেন দীর্ঘদিন ধরে এই লাইন দিয়ে চলাচল করলেও এমন দুর্ঘটনা ঘটেনি। আজ ট্রেনটিকে ৩ নম্বর লাইনে নেওয়া হয়েছে। লাইনটি যাচাই-বাছাই না করে কীভাবে সেখানে ট্রেন ঢোকানো হলো, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। এ ক্ষেত্রে রেল কর্তৃপক্ষের দায় রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। রংপুর রেলস্টেশনের স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ট্রেনটির নির্ধারিত পথই ছিল ৩ নম্বর লাইন। স্টেশনের পয়েন্ট পার হওয়ার পর সামনের দিকে গিয়ে ইঞ্জিনের চাকাগুলো লাইনচ্যুত হয়। একই সঙ্গে পেছনের একটি বগির কয়েকটি চাকাও লাইন থেকে পড়ে যায়।
তিনি বলেন, ‘কুড়িগ্রামের ইঞ্জিন কেটে নিয়ে এবং সেখানকার বগিগুলো আলাদা করে এক নম্বর লাইনে রাখা হয়। এরপর লাইন স্বাভাবিক করা হয়েছে। বর্তমানে রংপুর স্টেশনে ট্রেন চলাচলে কোনো সমস্যা নেই।’
লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি জানিয়ে স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট বলেন, যে অংশটি লাইনচ্যুত হয়েছে, সেটুকু ছাড়া আর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে।
১০ দিন আগে
‘তিস্তাত পানি বাড়লেও হামার বিপদ, নামি গ্যাইলেও বিপদ’
তিস্তা নদীর পানি বাড়লে দেখা দেয় বন্যা পরিস্থিতি, আর পানি কমে গেলে দেখা দেয় ভাঙন পরিস্থিতি। বন্যা আর ভাঙনের কষাঘাতে চরম কষ্টে বসবাস করছেন রংপুর অঞ্চলের তিস্তাপাড়ের মানুষ। লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী বিপুল সংখ্যক পরিবারের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম হরিণচড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল বাকি জানান, গতকাল সকাল থেকে রাত পযর্ন্ত তিস্তা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তাদের বাড়িঘরে নদীর পানি ঢুকে পড়ে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় গতকাল বিকেলেই তারা গবাদি পশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে এসেছেন।
তিনি জানান, জমিতে লাগানো রোপা আমন ধানের চারা পানিতে তলিয়ে গেছে। ৪-৫ দিনের মধ্যে খেত থেকে নদীর পানি নেমে না গেলে ধান গাছের ক্ষতি হবে।
এই কৃষকের ভাষায়, ‘হামরাগুলা তিস্তাপাড়োত কষ্ট করি বাঁচি আছি। হামারগুলার কষ্টের শ্যাষ আর নাই। তিস্তাত পানি বাড়লেও হামার কষ্ট আর পানি নামি গ্যাইলেও হামারগুলার কষ্ট। পানি বাড়লে বান হয় আর পানি নামি গ্যালি নদীভাঙন শুরু হয়। হামারগুলার খালি বিপদ আর বিপদ।’
গঙ্গাচড়া উপজেলার চর নেহালি গ্রামের কৃষক আকবর আলী জানান, গতরাতে তার বাড়িতে হাঁটু পানি ছিল। ফলে তারা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদে চলে এসেছেন। আজ সকাল থেকে পানি কমছে। তবে আবারো তিস্তায় পানি বাড়তে পারে বলে ধারণা তার।
১২ দিন আগে
পীরগঞ্জের চতরাহাটের জায়গা বেদখল, বাজার বসছে সড়কে
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের চতরাহাটের প্রায় ১০ একর সরকারি জমির বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে কাঁচাবাজারের অনেক ব্যবসায়ীকে চতরা ডিগ্রি কলেজ মাঠ এবং ধাপেরহাট-চতরা সড়কের দুই পাশে দোকান বসাতে হচ্ছে।
ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকশ ব্যক্তি হাটের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় হাটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে সরকারের রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চতরা ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইকলিমপুর মৌজায় অবস্থিত চতরাহাটের নামে সিএস ও এসএ রেকর্ডভুক্ত আটটি দাগে মোট ৯ একর ৮০ শতক জমি রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট ভূমি কার্যালয় থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাটের উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন ব্যক্তি দখল করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। ফলে হাটের কার্যক্রম মূল নির্ধারিত জায়গার বাইরে সড়ক ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
ভূমি কার্যালয়ের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হাটের ৭৮ নম্বর দাগের ১৬ শতক এবং ১৭০ নম্বর দাগের ৯ শতক জমি নীতিমালা অনুসরণ না করে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের তহশিলদার নূরে আলম বলেন, হাটের জমি বর্তমানে অন্তত ৪০০ জনের দখলে রয়েছে। ২০২৩ সালে ৩০৮ জনকে অবৈধ দখলদার হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
তার ভাষ্য, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে দোকান বরাদ্দ দেওয়া গেলে হাটের ব্যবস্থাপনা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি রাজস্বও বাড়তে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, হাটের নির্ধারিত জায়গা দখলে থাকায় কাঁচাবাজারের অনেক ব্যবসায়ীকে চতরা ডিগ্রি কলেজ মাঠ এবং ধাপেরহাট-চতরা সড়কের দুই পাশে দোকান বসাতে হচ্ছে। তাদের দাবি, সড়কের ওপর হাট বসায় প্রায়ই যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সরকার পতনের পর ২০২৪ সালে স্থানীয় ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান এক বছরের জন্য ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় হাটটির ইজারা নেন। তিনি বলেন, হাটের দখলমুক্ত জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার আবেদন করেছিলেন। পরে এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিটও করেন। তবে জমি বুঝে না পাওয়ায় তিনি পরবর্তী সময়ে ইজারা নবায়ন করেননি।
তার দাবি, হাটটি দখলমুক্ত করা গেলে ইজারামূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
চতরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহীন বলেন, ২০২০ সালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হাটের সীমানা নির্ধারণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় প্রকৃত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য প্রায় ৪০০ দোকান নির্মাণের পরিকল্পনাও ছিল। তবে সেটি বাস্তবায়িত হয়নি।
অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে পরিকল্পিতভাবে দোকান বরাদ্দ দেওয়া গেলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে বলে তার ধারণা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
১৫ দিন আগে
রংপুরে নিভে গেল রুপালি পর্দার শেষ আলো শাপলা টকিজ
দীর্ঘদিনের লোকসানে কারণে রংপুরের একমাত্র নিয়মিত সিনেমা হল শাপলা টকিজ বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। এর ফলে বিভাগীয় শহর রংপুরে আর কোনো বাণিজ্যিক সিনেমা হল চালু থাকল না।
রবিাবর (২ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাপলা টকিজের ব্যবস্থাপক শাহাবুদ্দিন। এর আগে, গত শুক্রবার থেকে সিনেমা হলটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে হলের আয় দিয়ে ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করাই কঠিন হয়ে পড়েছিল। চলচ্চিত্র শিল্পকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা হিসেবে মালিকপক্ষ দীর্ঘদিন ভর্তুকি দিয়ে হলটি চালালেও সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়িক মন্দা ও বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত হলটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৯৭৮ সালে রংপুর শহরের তেঁতুলতলা এলাকায় (বর্তমান শাপলা চত্বর) ‘বসুন্ধরা’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিল শাপলা টকিজ। সে বছরের ১৬ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহে আলম হলটির উদ্বোধন করেন। প্রতিষ্ঠাতা নজরুল ইসলাম মাসুমের মৃত্যুর পর তার ভাই মিন্টু মিয়া হলটির দায়িত্ব নেন। পরে লোকসানের কারণে এটি চলচ্চিত্র প্রযোজক কামাল হোসেনের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়।
একসময় রংপুরের সবচেয়ে আধুনিক ও জনপ্রিয় সিনেমা হল হিসেবে পরিচিত ছিল শাপলা টকিজ। শুধু রংপুর নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও দর্শকরা এখানে সিনেমা দেখতে আসতেন। তবে সময়ের সঙ্গে দর্শক কমে যাওয়া, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের প্রসার ও চলচ্চিত্র ব্যবসার মন্দার কারণে হলটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
গত সপ্তাহে সর্বশেষ ‘বলবো কথা বাসর ঘরে’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পর হলটির প্রবেশদ্বারে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় ৪৮ বছরের পথচলার এখানেই ইতি টানল শাপলা টকিজ।
হল মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সাইদুর রহমান সুমন জানান, হলে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে, যা পরিবার নিয়ে আসা দর্শকদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। বিষয়টি নিয়ে রংপুর চেম্বারের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর হলটি স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে চলচ্চিত্র প্রযোজক কামাল হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, একসময় রংপুরে মডার্ন হল, দরদী হল, ওরিয়েন্টাল, লক্ষ্মী টকিজ, নূর মহল (আকাশ সিনেমা হল), চায়না টকিজ ও সেনা হলসহ মোট ১০টি সিনেমা হল ছিল। তবে অনেক আগে থেকেই একে একে সবগুলো বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ শাপলা টকিজের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় বিভাগীয় শহর রংপুর এখন পুরোপুরি সিনেমা হলশূন্য হয়ে পড়ল।
১৬ দিন আগে