রংপুর
পানি নামতেই ভয়াল তিস্তা, এক সপ্তাহে বিলীন ৪০ ঘরবাড়ি
কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজানের পানির কারণে কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি বাড়ার পর বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি কমলেও স্বস্তি ফেরেনি তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবনে। বরং পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তা যেন হয়ে উঠেছে আরও হিংস্র।
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের চর ঢুষমারা এলাকায় গত এক সপ্তাহে নদীতে বিলীন হয়েছে অন্তত ৪০টি পরিবারের ঘরবাড়ি। প্রতিদিনই ভাঙন এগিয়ে আসছে মানুষের ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনার দিকে।
চর ঢুষমারা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কিছুদিন আগেও যেখানে ছিল সারি সারি বসতবাড়ি, উঠান আর ফসলের জমি, সেখানে এখন শুধু তিস্তার উত্তাল স্রোত। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মতো ভাঙন দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ ঘরের টিন খুলে নিচ্ছেন, কেউ বাঁশ-খুটি সরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউবা চেষ্টা করছেন শেষ মুহূর্তে সংসারের সামান্য জিনিসপত্র বাঁচানোর।
স্থানীয়দের ভাষায়, বন্যার পানি কমার পর থেকেই ভাঙনের গতি বেড়েছে কয়েক গুণ। প্রতিদিনই নদীতে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও গাছপালা। ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলো বাস করছে খোলা স্থানে। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। আবার কেউ কেউ রাস্তার পাশে কিংবা উঁচু স্থানে অস্থায়ীভাবে মাথা গোঁজার চেষ্টা করছেন।
শুধু বসতবাড়িই নয়, নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে চর ঢুষমারা জামে মসজিদ, ফোরকানিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা এবং স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
নদীর একেবারে কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে সোলেমান, সুফিয়ান, সাবিল্লা বেগম ও রশিদ মিয়ার ঘর। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কয়েক দিনের মধ্যেই এসব স্থাপনাও বিলীন হতে পারে নদীতে।
চর ঢুষমারা গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বললেন, ‘তিস্তার ভাঙন আগেও দেখেছি আমরা, কিন্তু এবার যেভাবে এক সপ্তাহের মধ্যে এত মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেল, এমন দৃশ্য দেখিনি আগে।’
বসতভিটা হারানো বাদশা মিয়ার কণ্ঠে হতাশা, ‘পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিলীন হয়ে যাবে পুরো চর ঢুষমারা।’
‘আমরা ত্রাণ চাই না, চাই নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া শেষ হবে না এই দুর্ভোগের’, বলছিলেন জয়নাল আবেদীন। একই দাবি জানিয়ে আবেদ আলী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে সবাই বড় বড় কথা বলে, কিন্তু ভোট শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেয় না। প্রতি বছর ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে আমরা ক্লান্ত।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেজবাহুল রহমান জানিয়েছেন, পরিদর্শন করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে, যাতে দ্রুত সরকারি সহায়তা দেওয়া যায়।
চর ঢুষমারা এলাকার ভাঙনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলামও। শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
৩ দিন আগে
রংপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেলের আরোহী দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতরা সম্পর্কে পিতা-পুত্র। এছাড়া তাদের সঙ্গে থাকা নাতি আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মানদ্রাইন এলাকার নির্মল চন্দ্র রায় (৭৫) ও তার ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় (৩৫)। প্রশান্ত পেশায় পল্লী চিকিৎসক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্মল চন্দ্র রায়, তার ছেলে প্রশান্ত এবং নাতি বন্ধন একটি মোটরসাইকেলে করে তুলশীহাটে দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। পথে মন্থনা বাজারে সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লাগে। এ সময় প্রশান্ত চন্দ্র রায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় নির্মল চন্দ্র রায়কে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। আহত বন্ধন চন্দ্র রায় বর্তমানে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর জানান, ট্রাকটির চালক পলাতক রয়েছে। ট্রাকটি থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৭ দিন আগে
তিস্তায় পানি কমে বাড়ছে ভাঙন, পানিবন্দি অন্তত ২০ হাজার পরিবার
তিস্তার পানি কমতে শুরু করলেও কমেনি দুর্ভোগ। নদী তীরবর্তী এলাকার অন্তত ২০ হাজার পরিবার এখনও পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন।
গত দুদিনে রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা রংপুর, লালমনিহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে ৬৫টি পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর অঞ্চলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব।
এদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আবারও পানি বাড়ার শঙ্কা থাকায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। চরবাসীকে সতর্ক থাকার জন্য মাইকিং করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পাউবোর এই কর্মকর্তা।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গতকাল (মঙ্গলবার) রাত ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ দশমিক ৮৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ১২ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানি ১৩ সেন্টিমিটার কমেছে। এখানে বিপৎসীমা ধরা হয় ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। একই সময়ে কাউনিয়া তিস্তা সেতু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
এদিকে, হঠাৎ তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা সেতু রক্ষাবাঁধ ও ডানতীর সংরক্ষণে নির্মিত গ্রোয়েন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কোলকোন্দ ও লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে পাট, চিনাবাদাম ও আমনের বীজতলা। পাশাপাশি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ধরলা, দুধকুমার নদীর তীব্র ভাঙ্গনে দিশারায় পড়েছে নদী পারের মানুষ। বিপৎসীমার উপরে বইছে দুধকুমারও।
চলতি মৌসুমে গত ২৩ জুন প্রথমবারের মতো তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে পরদিনই তা বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে। এরপর ২৯ জুন সন্ধ্যায় আবারও পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭ ও ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে।
উত্তরের ৫ জেলায় পানিবন্দি ২০ হাজার পরিবার
তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কখনও বাড়ছে আবার কমছে। এ পরিস্থিতিতে ৫ জেলার নিম্নাঞ্চলে নদীর কোলঘেষা অন্তত ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে মহিপুর এলাকায় দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙছে তিস্তার লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম অংশেও। ৫ জেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমি এখন হাঁটু পানির নিচে। আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাসহ গবাদি পশু খাদ্যের সংকট, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানিসহ খাদ্য সংকটে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ।
৮ দিন আগে
রংপুরে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা: রিমান্ডে মেডিকেল শিক্ষার্থী সাকিন
রংপুরে শিক্ষার্থী নুজশাত জাহানকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার আলোচিত মামলায় অভিযুক্ত মেডিকেলের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার (২৮ জুন) সকালে কারাগার থেকে সাকিনকে আদালতে নেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রংপুর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ড. মুহাম্মদ রাশেদ হোসাইনের কাছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম রফিক সাকিনের তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে, সাকিনের আইনজীবিরা তার জামিনের আবেদন করেন। এ সময় আদালতের কাছে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজপত্র উপস্থাপন করলে বিচারক তার জামিন আবেদন নাকোচ করে আগামী ৩ দিনের যেকোনো এক দিন রিমান্ডে নিয়ে সাকিনকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। পরে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু হায়দার মো. আব্দুল মুবিন বলেন, মামলার উপাদান ও মোবাইলের তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারী কর্মকর্তা তা আদালতে উপস্থাপন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালত আজ সাকিনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ জুন সাকিন দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নুজশাতকে মোবাইলে ফোন করে দীর্ঘ ৫০ মিনিট ১২ সেকেন্ড কথা বলেন। গত তিন মাসে ১১৮ বার তাদের মোবাইল ফোনে কথা হয় এবং মেসেজ আদান-প্রদান করা হয়। গভীর রাতে এত দীর্ঘক্ষণ কোনো ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষকের কথা হতে পারে না।
বিবাদীর আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম মন্ডল বলেন, ৩০৬ ও ১০৯ ধারায় মামলা করার জন্য এজাহারে যে উপাদান থাকতে হয়, তার কিছুই নেই। পুলিশের কাছে দুটি মোবাইল ফোনই ছিল। তারা তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে সকল ধরনের তথ্য বের করতে পারবে। এর জন্য রিমান্ডের কোনো প্রয়োজন পড়ে না। আমরা সাকিনের জামিন আবেদন করেছিলাম। আদালত যেহেতু একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন, তাই আমাদের আবেদন নাকোচ করেছে। রিমান্ড শেষে পুনরায় জামিনের আবেদন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুন বিকেলে নগরীর নর্থভিউ হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে মারা যান এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজশাত জাহান। এ ঘটনায় পরের দিন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন নুজশাতের বাবা নজরুল ইসলাম। এ ঘটনায় ওই দিনই অভিযুক্ত রংপুর মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র ও নুজশাতের প্রাইভেট শিক্ষক শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
১১ দিন আগে
তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ৬ সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে দ্রুত বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে উত্তরের চার জেলা—রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় চরাঞ্চলের ৬ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব এ তথ্য জানিয়েছেন।
১৬ দিন আগে
রংপুরে হোটেলে ‘পানের পিক’ ফেলায় কর্মচারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা
রংপুর নগরীতে একটি হোটেলের বাসনপত্র রাখার স্থানে ‘পানের পিক’ ফেলায় শাওন (২৪) নামের এক কর্মচারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর খামার মোড় এলাকার একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনুকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
নিহত শাওন ওই হোটেলের কর্মচারী ছিলেন। তার বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার নূরের চক গ্রামে।
ডিবি হেফাজতে নেওয়ার সময় অভিযুক্ত মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্লেট-বাসন যেখানে আমি রাখি, ওইখানে টিস্যুও থাকে। ওইখানে শাওন পানের পিচকি (পিক) ফেলায় কলিজায় আঘাত লাগে তখনই আমি ওই কামটা হুট করি আসি গেইছে। হাতুড়ি দিয়ে দুইটা আঘাত করছি।’
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়ার পর অভিযুক্ত মিজানুরকে আধাঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।
তবে অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তার বাবা আমির হোসেন বলেন, ওর মানসিক সমস্যা আছে। একসময় তাকে তাবলিগে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে আসার পর সমস্যা আরও বেড়ে যায়। পরে সে মার্কাজ মসজিদে ছিল। সেখানে অনেক কবিরাজ ও মসজিদের লোকজন ঝাড়ফুঁক করে তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করেছেন। এখনও মাঝেমধ্যে তার মানসিক অবস্থা ঠিক থাকে না। আমি তাকে ধমক দিয়ে রাখি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, খামার মোড় এলাকায় ফুটপাতে ওই হোটেলের মালিক আমির হোসেন ও তার তিন ছেলে। সেখানে শাওন নামে এক যুবক কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যার পর মালিকপক্ষের ছেলে মিজানের সঙ্গে শাওনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিজান হাতুড়ি দিয়ে শাওনের মাথার পেছনে দুই থেকে তিনটি আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে আমরা জেনেছি।
তিনি জানান, ঘটনাস্থলের কাছেই গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালন করছিল। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তকে আটক করা হয় এবং পরে তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।
অভিযুক্তের মানসিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়ে সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘কেউ মানসিক ভারসাম্যহীন কি না, সেটি চিকিৎসকই বলতে পারবেন। তিনি মানসিক রোগে ভুগছেন বা চিকিৎসাধীন এমন কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। প্রায় আধা-ঘণ্টা তার সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ মনে হয়নি।’
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত জানিয়েছেন, হোটেলে পরিষ্কার করা বাসনপত্র রাখার স্থানে কুলি বা ময়লা ফেলা নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়েছিল। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি রাগান্বিত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে শাওনের মাথায় আঘাত করেন।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২২ দিন আগে
বাজারে আসছে হাঁড়িভাঙা আম, উত্তরাঞ্চলে জমে উঠেছে কোটি টাকার বাণিজ্য
উত্তরাঞ্চলের খ্যাতিমান সুস্বাদু ও রসালো হাঁড়িভাঙা আম এবার আগেভাগেই বাজারে এসেছে। ভিন্ন স্বাদ ও গুণগত মানের কারণে ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয় এ আম কিনতে হাট-বাজারে দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসছেন পাইকাররা। ভালো দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে আমচাষিদের মুখে।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এখন সারি সারি আমগাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় হাঁড়িভাঙা আম। একসময় অভাব-অনটনে থাকা অনেক কৃষকের জীবন বদলে দিয়েছে এই আম। হাঁড়িভাঙা আম চাষকে ঘিরে উত্তরাঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এসেছে নতুন গতি।
রংপুরের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যখ্যাত হাঁড়িভাঙা আমের আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ সাধারণত ২০ জুন শুরু হলেও এবার তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে চাষিরা আগেভাগেই আম সংগ্রহ শুরু করেন। সোমবার (১৫ জুন) মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকার একটি বাগান থেকে আম পেড়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এরপরই পুরোদমে শুরু হয় আম সংগ্রহ ও বিপণন।
শুধু পদাগঞ্জ হাট নয়, হাঁড়িভাঙা আমের প্রধান উৎপাদন এলাকা খোড়াগাছ, পাইকারহাট, ময়েনপুর, চ্যাংমারী, বালুয়া মাসুমপুর, কুতুবপুর, গোপালপুর, লোহানীপাড়া, রামনাথপুর ও কালুপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন আম বিক্রির ধুম চলছে। হাট-বাজারের চিত্র দেখে যে কারও মনে হতে পারে, পুরো এলাকা যেন হাঁড়িভাঙা আমের রাজ্যে পরিণত হয়েছে।
২২ দিন আগে
রংপুরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু, আহত ১
রংপুরে বজ্রপাতে পৃথক এলাকায় রহমত উল্যাহ (৩৫) ও আব্দুর রশিদ (৪৮) নামে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় খোরশেদ আলম নামে আরও এক কৃষক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর এলাকা ও বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের ঘিরনই এলাকায় এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ হোসেন বলেন, বিকেলে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষক আব্দুর রশিদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
অপরদিকে, আজ (শুক্রবার) দুপুরে বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের ঘিরনই এলাকায় বজ্রপাতে একজন কৃষক নিহত ও আরেকজন কৃষক আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে রহমত উল্যাহ, খোরশেদ আলমসহ কয়েকজন কৃষক মাঠে কাজ করছিলেন। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে তারা পাশের একটি সেচযন্ত্রের ঘরে আশ্রয় নেন। কিছুক্ষণ পর বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই রহমত উল্যাহ নিহত হন। খোরশেদ আলম গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় বজ্রপাতে ছয়টি ছাগলও মারা যায়।
পরে স্থানীয়রা আহত খোরশেদকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, ‘ঘটনা জানার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহতকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিকে দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
২৭ দিন আগে
রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় মাত্র ৫ ডুবুরি, এক মাসে পানিতে ডুবে অর্ধশতাধিক প্রাণহানি
নদ-নদী, পুকুর, খাল-বিলবেষ্টিত রংপুর বিভাগের আটটি জেলার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। বিশাল এ অঞ্চলের জন্য এ সংখ্যা শুধু অপ্রতুলই নয়, বরং উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিভাগের কোনো জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে ডুবুরির নির্দিষ্ট কোনো পদ নেই। ফলে পানিতে ডুবে কেউ নিখোঁজ হলে রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের এই পাঁচ ডুবুরির ওপরই নির্ভর করতে হয় পুরো বিভাগের মানুষকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত এক মাসেই রংপুর বিভাগের আট জেলায় অর্ধশতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু ডুবুরি সংকটের কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উদ্ধার অভিযান শুরু হওয়ার আগেই নিভে যাচ্ছে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা।
রংপুর বিভাগের অন্তর্ভুক্ত রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও—এই আটটি জেলা ভৌগোলিকভাবে নদীমাতৃক অঞ্চল। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি, নৌকাডুবি, বন্যা ও বিভিন্ন জলাশয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এখানে বেশি। কিন্তু সেই ঝুঁকির তুলনায় উদ্ধার সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা বলছেন, পঞ্চগড় কিংবা ঠাকুরগাঁওয়ের মতো দূরবর্তী জেলা থেকে জরুরি কল এলে রংপুর থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ততক্ষণে নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের মুখেও পড়তে হয় উদ্ধারকর্মীদের।
রংপুর ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ২২টি উদ্ধার-সংক্রান্ত কল পেয়েছে বিভাগীয় ডুবুরি দল। এসব ঘটনায় পানিতে ডুবে যাওয়া ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাস্তবে পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি।
গত এক মাসে বিভাগের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ৩ মে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে নীরব নামে তিন বছরের এক শিশু, ১২ মে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে চার বছর বয়সী এক শিশু, ১৬ মে তিস্তা নদীতে ডুবে দুই ভাই, ২০ মে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সাবিয়া জান্নাত (৬) ও সিয়াম (৪), ২৭ মে গঙ্গাচড়ায় রুশা মনি (১৫) ও তার ভাই সাইফ (৫), ২৮ মে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে মোমিন আলী, ২৯ মে রংপুরের তারাগঞ্জে অহিদ ইসলাম (১৫) ও মাসুদ রানা (১৬), ৩ জুন দিনাজপুরের খানসামায় আত্রাই নদীতে মান্না ইসলাম (৪৫) ও সাদ্দাম হোসেন (৩২), ৩১ মে কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে চার বছরের এক শিশু, ১ জুন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সৃজন কুমার (৬) ও বৃন্দা রানী (৫) এবং ৬ জুন সাদুল্লাপুরে সিনথিয়া আক্তার (১১) পানিতে ডুবে মারা যায়।
এছাড়া ৩ জুন থেকে ৬ জুনের মধ্যে রংপুরের পীরগাছায় ছয় শিশু, ৫ জুন ঘাঘট নদীতে নেমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী, ৭ জুন পঞ্চগড় সদর উপজেলায় দুই মাদরাসাছাত্র এবং একই দিনে নীলফামারীর ডিমলায় রুপাইয়া (৪) ও আশফিকা (৪) নামে দুই চাচাতো বোনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ৭ জুন লালমনিরহাটে ধরলা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ১৯৯০ সালে ২৫ সদস্যের একটি ডুবুরি ইউনিট গঠনের মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে তাদের দেশের বিভিন্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে পদায়ন করা হয়। সে সময় রংপুরে দুইজন ডুবুরি দায়িত্ব পান। প্রায় তিন দশক দুই ডুবুরি দিয়ে কাজ চালানোর পর ২০১৯ সালে আরও তিনজন যোগ দিলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচে। এরপর আর কোনো জনবল বাড়েনি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়লেও ডুবুরি সংকট কাটেনি।
ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, পানি বহনকারী গাড়ি, ফোম টেন্ডার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম যুক্ত হয়েছে। কিন্তু জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডুবুরির কোনো পদ সৃষ্টি না হওয়ায় সংকট আগের মতোই রয়ে গেছে।
বর্তমানে রংপুর বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত ডুবুরি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘পঞ্চগড় থেকে কল এলে রংপুর থেকে যেতে অন্তত দুই-আড়াই ঘণ্টা লাগে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর স্থানীয়রা প্রশ্ন করেন, এত দেরি হলো কেন। কিন্তু দূরত্বের বাস্তবতা তো অস্বীকার করা যায় না।’
তিনি জানান, অনেক সময় পঞ্চগড়ে কয়েক ঘণ্টা কাজ শেষ করে গাইবান্ধায় যেতে হয়। আবার সেখান থেকে লালমনিরহাট বা অন্য জেলায় ছুটতে হয়। কখনও টানা পাঁচ থেকে সাত দিন এক জেলা থেকে আরেক জেলায় উদ্ধার কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। ডুবুরির সংখ্যা বাড়লে এ ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
রংপুর নগরীর কটকিপাড়ার বাসিন্দা ও সাবেক রোভার স্কাউট সদস্য সাব্বির আহমেদ বলেন, ফায়ার সার্ভিস বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু পঞ্চগড়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে রংপুর থেকে ডুবুরি পৌঁছাতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। এ সময়ে একজন মানুষের পানির নিচে বেঁচে থাকার সুযোগ থাকে না। ফলে ডুবুরিরা গিয়ে কেবল মরদেহ উদ্ধারের কাজই করতে পারেন। এ অবস্থায় ডুবুরির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে জনবল সংকট অযৌক্তিক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডুবুরি সংকটের পাশাপাশি সচেতনতার অভাবও পানিতে ডুবে মৃত্যুর অন্যতম কারণ। শিশুদের একা না রাখা, জলাশয়ের আশপাশে নজরদারি বাড়ানো এবং সাঁতার শেখানোর মাধ্যমে অনেক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, সাঁতার না জেনে পানিতে নামা উচিত নয়। একই সঙ্গে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। শিশুদের কোনো অবস্থাতেই একা ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়।
বাংলাদেশ স্কাউটসের লিডার ট্রেইনার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ডুবুরি না থাকায় পানির নিচে উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয় না। রংপুর বা অন্য জেলা থেকে ডুবুরি আসতে যে সময় লাগে, সেটিই অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তার মতে, রংপুর বিভাগের প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি পূর্ণাঙ্গ ডুবুরি ইউনিট থাকা প্রয়োজন, যেখানে পাঁচ থেকে ছয়জন প্রশিক্ষিত ডুবুরি থাকবেন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক সাঁতার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা জরুরি। অন্যথায় ডুবুরি সংকটের এই মূল্য রংপুরবাসীকে আরও দীর্ঘ সময় ধরে দিতে হবে।
রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ডুবুরিদের কোনো জেলা পর্যায়ের পদ নেই। তারা বিভাগীয় কার্যালয়ে কর্মরত থাকেন এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান জনবল দিয়ে এত বড় অঞ্চলের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নতুন ডুবুরি নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে তারা জেনেছেন।
রংপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ারুল হক বলেন, ‘বারবার ডুবুরি চেয়ে অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এখনও সংকট কাটেনি। তবে আশা করছি, খুব দ্রুতই নতুন ডুবুরি পাওয়া যাবে।’
২৭ দিন আগে
রংপুরে পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে ৩ জনের মৃত্যু
রংপুরে পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে দুই শিশু ও এক কলেজ শিক্ষার্থীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) জেলার পীরগাছা উপজেলা এবং রংপুর নগরীর পানবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
নিহতরা হলেন—পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ী ইউনিয়নের নজর মাহমুদ গ্রামের সজিব মিয়ার ছেলে রাজীব মিয়া (৬), একই গ্রামের শাহজাহান মিয়ার মেয়ে সেনাতুল আক্তার (৪) এবং রংপুর নগরীর দর্শনা সূত্রাপুর এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী সিহাব (২৬)। নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো ভাইবোন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টার দিকে রাজীব ও সেনাতুল বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। দীর্ঘক্ষণ তাদের না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কোনো অভিযোগ না থাকায় সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শুক্রবার দুপুরে রংপুর নগরীর পানবাড়ি এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘাঘট নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন কলেজ শিক্ষার্থী সিহাব। পরে নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার আব্দুল মাবুদ নদী থেকে কলেজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
৩৪ দিন আগে