রংপুর
রংপুরে আলুর দামে ধস: লোকসান ও সংরক্ষণের অভাবে রাস্তায় ফেলছেন কৃষক
রংপুর অঞ্চলে আলুর কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় এবং সংরক্ষণের অভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন চাষিরা। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি আলু মাত্র ৫-৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় সামান্য। লোকসান এড়াতে ও পচন ধরায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বস্তাভর্তি আলু রাস্তার ধারে ফেলে দিচ্ছেন। কৃষি বিভাগের আশঙ্কা, এ মৌসুমে এই অঞ্চলে আলুর ক্ষতি প্রায় ৬ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
কৃষকদের তথ্যমতে, বর্তমানে পাইকারি বাজারে আলুর দর ৬ থেকে ৮ টাকা কেজি, তবে মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে ৪ থেকে ৫ টাকা কেজিতে। অথচ প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ দাঁড়িয়েছে ১৮ থেকে ১৯ টাকা। গত বছরও উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে (৮-১০ টাকা) আলু বিক্রি করতে হয়েছিল, তবে এ বছর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।
কৃষি বিভাগের রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটের ৯টি উপজেলার চাষিরা আলু সংরক্ষণ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে গঙ্গাচড়া উপজেলায় সংকট সবচেয়ে বেশি। উপজেলার একমাত্র হিমাগারটির ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৫০ হাজার বস্তা, যা এরই মধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে বাড়িতে আলু মজুত করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই আলুতেও দ্রুত পচন ধরেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) গঙ্গাচড়ার সদর ইউনিয়নের চেংমারী ও কুরিয়ার মোড় এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শত শত বস্তাভর্তি পচা আলু রাস্তার ধারে ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও স্তূপ করা আলু থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দাম পড়ে যাওয়ায় বিক্রি করতে না পারায় এবং সংরক্ষণের অভাবে এসব আলু পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে ফেলে দিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর গঙ্গাচড়ায় ৫ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ২০৭ টন আলু, যা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় বেশি। অতিরিক্ত উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য না থাকায় আলুর দাম কমে গেছে।
২৩ ঘণ্টা আগে
রংপুরে সেচ ঘর থেকে কৃষকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় একটি সেচ ঘর থেকে এক কৃষকের পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের উমরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মফিজার রহমান স্থানীয় সেচ মেশিনের মালিক মো. আমজাদ আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বুধবার (৬ মে) রাতে মফিজার রহমান উমরপুর মাঠের সেচ ঘরে পাহারায় যান। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে শহিদুল ইসলাম নামে এক কৃষক গরু নিয়ে মাঠে গেলে সেচ ঘরের দরজা খোলা ও ট্রান্সমিটার খুলে নেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি মফিজার রহমানের পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে।
স্থানীয়দের ধারণা, গভীর রাতে চোরচক্র সেচ ট্রান্সমিটার চুরি করতে গিয়ে বাধা পেয়ে মফিজার রহমানকে হত্যা করে ট্রান্সমিটার নিয়ে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পীরগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু হয়।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, উমরপুর এলাকায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
২ দিন আগে
আর এক মাসের অপেক্ষা, হাঁড়িভাঙা আম ঘিরে রংপুরে ২৫০ কোটির বাণিজ্যের হাতছানি
রংপুরের ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া ‘হাঁড়িভাঙা’ আমের জন্য অপেক্ষা আর মাত্র এক মাস। স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয় এই আমটি এখন জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে স্বীকৃত। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে এই আমকে কেন্দ্র করে রংপুর অঞ্চলে ২৫০ কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাঁড়িভাঙা আম এক বছর কম ফলন দেয়, পরের বছর আবার ভালো ফলন দেয়। যে বছর কম ফলন হয়, সেই বছরকে বলা হয় ‘অফ ইয়ার’। যে বছর ভালো ফলন দেয়, সেই বছরকে কৃষিবিদদের ভাষায় বলা হয়ে থাকে ‘অন ইয়ার’।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা আশা করছি, এ বছর ২৫০ কোটিরও বেশি টাকার বাণিজ্য হবে এই আমে। এবার হাঁড়িভাঙা আমের ‘অন ইয়ার’, অর্থাৎ এবার গাছে প্রচুর আম ধরেছে, যা গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
হাঁড়িভাঙা আমের বৈশিষ্ট্য
আঁশবিহীন, মিষ্টি ও সুস্বাদু এই আমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর পাতলা ছাল ও অত্যন্ত ছোট আঁটি। প্রতিটি আমের ওজন সাধারণত ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।
২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের নিজস্ব জিআই পণ্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে।
উৎপাদন ও আবাদের চিত্র
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে কেবল হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ১০ থেকে ১২ টন হিসেবে মোট উৎপাদন ও বাজারমূল্য ২৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, গত কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টি আম বড় ও রসালো হতে বিশেষ সাহায্য করেছে। যদিও মাঝখানে কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় সামান্য ক্ষতি হয়েছে, তবে সার্বিকভাবে ফলন গত বছরের চেয়ে ভালো হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
বাজারজাতকরণের সময়সূচি
কৃষি অফিসের তথ্য অনুসারে, এবার ডিসেম্বরের প্রথম দিক থেকেই গাছে আমের মুকুল আসতে শুরু করে। ফলে এ বছর ঠিক সময়ে গাছ থেকে আম পাড়া শুরু হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
কৃষিবিদ ও আমচাষিরা বলছেন, সাধারণত জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে পরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আম বাজারে পাওয়া যাবে। এর আগে বাজারে আসা আমগুলো মূলত অপরিপক্ব থাকে। একটু বেশি দামের আশায় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিয়ম ভঙ্গ করে অপরিপক্ব আম বিক্রি করলেও প্রকৃত স্বাদ পেতে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চাষিদের প্রত্যাশা ও শঙ্কা
মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকার আমচাষি ও তরুণ উদ্যোক্তা নাজমুল ইসলাম জানান, তিনি ১২ একরের বেশি জমিতে আমের চাষ করেছেন। সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বাগানের কিছুটা ক্ষতি হলেও শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকলে আশানুরূপ ফলন পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বড় বড় ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যেই যোগাযোগ শুরু করেছেন। এবার আমের দাম ও চাহিদা দুটোই সন্তোষজনক হবে বলে তার প্রত্যাশা।
জিআই স্বীকৃতি ও সম্ভাবনা
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর রংপুর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, “হাঁড়িভাঙা আম এখন আর কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই আম রপ্তানি হচ্ছে। জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর এর ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি দেশের ভেতরে ফেসবুক ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বাগান থেকে আম সরবরাহের হার গত কয়েক বছরে কয়েক গুণ বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশাল এই বাণিজ্যের সম্ভাবনা থাকলেও হিমাগার বা আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব নিয়ে চাষিদের কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। আমটি দ্রুত পচনশীল হওয়ায় পরিবহনের জন্য বিশেষ ট্রেন বা দ্রুতগামী যানবাহনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
২ দিন আগে
রংপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ভ্যানচালক খুন
রংপুরের বদরগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আরিফুল ইসলাম(২৫) নামে এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বালুয়াভাটা গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত আরিফুল পৌরশহরে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাঠানপাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে ছিলেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) রংপুর আদালতে একটি মামলায় কিশোর গ্যাংয়ের মমিনুলসহ তার দলের ৫ জন হাজিরা দিতে যায়। একই মামলায় কিশোর গ্যাংয়ের ফিরোজ শাহ ওরফে মার্ডার ফিরোজ ও তার দলবলও সেখানে উপস্থিত হয়। এ সময়ে বাগবিতণ্ডা হলে ফিরোজ ও তার দলবল মমিনুল গ্রুপের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় মমিনুলসহ কয়েকজন আহত হয়। তবে সেখানেই বিষয়টির মীমাংসা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ওই ঘটনার জের ধরে গতকাল বিকেলে আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। প্রতিশোধ নিতে মমিনুল তার লোকজনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফিরোজ বাহিনীকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ালে পাঠানপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আরিফুলকে ছুরি দিয়ে জখম করে ফিরোজ গ্যাং। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আরিফুলের বাবা রেজাউল ইসলাম বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘মোর বাবা পাঠান পাড়ার বলে মারছে ওরা। মোর তিনটে ব্যাটা, একটা ব্যাটাক বাঁচপার পাও নাই। আর দুইটার একটাক মারি ফেলাইলো। বাপের ঘারত ছেলের লাশ, এর চেয়ে দুঃখ পৃথিবীতে আর হয় না। আমার ছেলে কোনো অপরাধ করে নাই। আমি অপরাধকে মানিয়ে নেওয়া লোক নোয়াই। আমি এর কঠোর বিচার চাই, নাহলে আমি আত্মহত্যা কইরব।’
বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক যাদোন্দ্রনাথ বলেন, রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথেই তিনি মারা গেছেন।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ সরকার বলেন, কোর্টে আগের মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে মারামারি হয়েছে। পরে পাঠানপাড়ারা সঙ্গবদ্ধ হয়ে এসে একটা দোকান ভেঙে চলে যাওয়ার পর ফিরোজ গ্রুপ এসে পাঠানপাড়ার বাসিন্দা হওয়ায় একটি নিরীহ ভ্যানচালককে কুপিয়ে জখম করে। ফিরোজের বিরুদ্ধে এর আগেও তিনটি হত্যা মামলাসহ ১১টি মামলা রয়েছে। নতুন করে এই ঘটনার এজাহার নেওয়া হয়েছে।
৩ দিন আগে
জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত রংপুরের জনজীবন
তীব্র জ্বালানি সংকট ও অব্যাহত লোডশেডিংয়ে রংপুর অঞ্চলের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একদিকে কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সেচ সংকটে কৃষিতে দেখা দিয়েছে হাহাকার। পরিবহন খাত অচল হয়ে পড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ ও তেলের সংকটে কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ পাম্পগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ধান ও ভুট্টাখেতে প্রয়োজনীয় পানি দিতে না পারায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অনেক খেতে ধানের শীষে চিটা দেখা দিচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।
শিল্প খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড, গাইবান্ধার বিসিক শিল্পনগরীসহ রংপুর বিভাগের মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। উদ্যোক্তারা জানান, ব্যাংক ঋণ নিয়ে গড়া এসব প্রতিষ্ঠান এখন অস্তিত্ব সংকটে। উৎপাদন না থাকলেও শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের দেউলিয়া হওয়ার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
শিক্ষা খাতেও চলছে চরম অস্থিরতা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা জানান, চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছে না। শিক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পরীক্ষার ফলাফলে। প্রচণ্ড গরমে অনেক শিক্ষার্থী কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন অটোরিকশা ও অটোভ্যানচালকরা। সারা দিন কাজ শেষে গাড়ি চার্জ দেওয়ার মতো বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না তারা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকায় তাদের উপার্জনের পথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
রংপুর অঞ্চলের ফিলিং স্টেশনগুলোর চিত্র আরও ভয়াবহ। তেলের পাম্পগুলো ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ পাম্প সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন বন্ধ থাকছে। যে দু-তিন দিন তেল দেওয়া হয়ে থাকে, সেখানেও উপচে পড়া ভিড়। অনেক পাম্পে দেখা দেখা গেছে, তেল দেওয়া শুরুর আগেই দেড় থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। যারা তেল পাচ্ছেন, তা-ও আবার চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় অনেক পাম্পে গ্রাহক-মালিকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা, মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
হিমাগার মালিকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। আলুসহ পচনশীল পণ্য রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা হিমাগার সচল রাখতে হয়। কিন্তু লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর চালানোর মতো প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে হিমাগারগুলোতে রাখা কৃষকের হাজার হাজার টন আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রংপুর অঞ্চলের বিদ্যুৎ বিভাগের কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সরকার বলছেন সারা দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। কিন্তু বাস্তবে তেল সংকটের কারণে বিদ্যুতের বেশিরভাগ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ ও ঠাকুরগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে কিছুটা হলেও এই অঞ্চলে চার-পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। অতি দ্রুত চলমান এই জ্বালানি সংকট দূর করতে না পারলে বিদ্যুৎ নিয়ে হাহাকার দেখা দেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেল সংকটের কারণে সবকিছুতেই এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাই কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে জ্বালানির বিকল্প পথ দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে। এ সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জেনারেল ম্যানেজার আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে অনেক বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারের উচিত দ্রুত বন্ধ কেন্দ্রগুলো চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া। জ্বালানি সংকট দূর করতে না পারলে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
রংপুর চেম্বারের পরিচালক প্রণয় কুমার বলেন, জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে এর প্রভাব পড়েছে মালামাল পরিবহন থেকে শুরু করে সবকিছুতে। এখন ব্যবসায়ীদের প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়াতে হচ্ছে। এতে করে বিপাকে পড়ছেন ক্রেতারা। পাশাপাশি বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের উচিত বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত সব সমস্যার সমাধান করা।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
৪ দিন আগে
একটি সেতুর অভাবে ভুগছে করতোয়াপাড়ের ২০ গ্রামের মানুষ
রংপুরের পীরগঞ্জ ও দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদীর কুলানন্দপুর ঘাটে একটি সেতুর অভাবে দুই পাড়ের লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে অসুস্থ রোগী—সবাইকে নির্ভর করতে হচ্ছে নৌকা কিংবা অস্থায়ী ভেলা-সদৃশ ব্যবস্থার ওপর।
বর্ষা মৌসুমে সেখানকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নদীর পানি বেড়ে গিয়ে স্রোত তীব্র হওয়ায় পারাপার হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ, কখনো কখনো বন্ধও হয়ে যায়। বিশেষ করে, কৃষি অর্থনীতিনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষের জন্য সেতুর অভাব এক অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বারবার সরকার পরিবর্তন হয়, কিন্তু এই নদীর ওপরে সেতু হয়নি। একটি সেতুর কারণেই উন্নয়নের মুখ দেখছে না অন্তত ২০ গ্রামের বাসিন্দারা। এতে তাদের মনে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঘাট দিয়ে পারাপার করছেন শত শত মানুষ। রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, ঝঞ্ঝায় সেই ছোট খেয়া নৌকাই এখানে ভরসা। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীদের কথা না হয় বাদই দিলাম, কৃষি অর্থনীতিনির্ভর এই অঞ্চলের কৃষক তাদের উৎপাদিত ধান, ভুট্টা, আলু ও শাকসবজি বাজারে নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় ফসল ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি যেমন বাড়ছে, তেমনি কৃষিপণ্য উৎপাদনের আগ্রহও কমে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কুলানন্দপুর গ্রামের হারুন মিয়া বলেন, প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ এই ঘাটের ওপর নির্ভরশীল। একটি ব্রিজ না থাকায় আমাদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই পারাপার অত্যন্ত কষ্টকর।
একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা হারুন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এত উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু আমাদের এই এলাকায় উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ, তার ওপর নদী পারাপারের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। এ পারের ছেলেমেয়েকে ওপারে বিয়ে পর্যন্ত দেয় না। আমরা এখনও পিছিয়ে পড়া জনপদের মানুষ হয়ে আছি।
কুয়াদপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুম এলে দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বৃষ্টি হলেই নদীর পানি বেড়ে যায়, তখন নৌকাও ঠিকমতো চলতে পারে না। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে কেউ হাসপাতালে যেতে চাইলে বিপদের শেষ থাকে না।
মাটিয়ালপাড়া গ্রামের মিঠু মিয়া বলেন, প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে স্কুলে পাঠাতে ভয় পান। একটি ব্রিজ হলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনেকটা নিরাপদ হতো।
স্থানীয়রা জানান, শুধু যাতায়াত নয়, একটি সেতুর অভাবে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নও থমকে আছে। ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত হচ্ছে না, নতুন কোনো শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে না। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। অনেক তরুণ বাধ্য হয়ে অন্য জেলায় কাজের সন্ধানে চলে যাচ্ছেন। কুলানন্দপুর ঘাটে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে পীরগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে সময় ও খরচ উভয়ই কমবে, পাশাপাশি কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ বিষয়ে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমিন বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি শিগগিরই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে। আশা করছি, দ্রুতই সেতু হবে।
৭ দিন আগে
‘প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়’ স্কুলছাত্রী অপহরণ, যুবক গ্রেপ্তার
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে তৌকির রহমান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)-১৩। অভিযানে অপহৃত শিক্ষার্থীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গ্রেপ্তার তৌকির নগরীর পূর্ব বোতলা এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী সপ্তম শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্রী। স্কুলে যাতায়াতের সময় দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্যক্ত করাসহ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন অভিযুক্ত তৌকির রহমান। বিষয়টি ভুক্তভোগী তার পরিবারকে জানালে পরিবারের পক্ষ থেকে তৌকিরকে অনুরোধের পর সতর্কও করা হয়। কিন্তু তাদের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করার হুমকি দেন তৌকির।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ এপ্রিল সকালে ভুক্তভোগী ইউনিফর্ম পরে স্কুলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়। সে সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তৌকির রহমান ও তার ৩-৪ জন সহযোগী মিলে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার একাধিকবার মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে তারা রংপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা করেন।
এদিকে, মামলার পর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ ও র্যাব-১১ যৌথভাবে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে কুমিল্লা জেলার লালমাই থানার পূর্ব অশোকতলা গ্রামের অভিযান চালায়। অভিযানে ওই গ্রামের জনৈক ক্বারী আজিজের বাড়ি থেকে তৌকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকেই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেপ্তার তৌকির রহমানকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১৭ দিন আগে
রংপুরে সিজারের পর প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ
রংপুরে প্রসূতির সিজার অপারেশনের সময় পেটে গজ কাপড় রেখেই সেলাই করার অভিযোগ উঠেছে এক গাইনি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহিন সুলতানা।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, গৃহবধূ হাবীবা জান্নাতের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর ইউনিয়নের বড় আমবাড়ি গ্রামে। গত ৮ মার্চ নগরীর বন্ধন জেনারেল হাসপাতালে তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন গাইনি চিকিৎসক রাজিয়া বেগম মুক্তা। অপারেশনের পর থেকেই তীব্র পেটব্যথা ও শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
এরপর বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসককে জানালেও তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দেন। আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট দেখানোর পরও তিনি দায় স্বীকার না করে নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর পরিবারের। পরে ভুক্তভোগীকে নিয়ে অন্য গাইনি চিকিৎসক মৌসুমী হাসানের কাছে গেলে তিনি সিটি স্ক্যান করতে বলেন। সিটি স্ক্যানে রোগীর পেটের ভেতরে গজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
ভুক্তভোগীর স্বামী শাওন মিয়া বলেন, বিষয়টি চিকিৎসক রাজিয়া বেগম মুক্তাকে জানিয়েছি, কিন্তু তিনি গুরুত্ব না দিয়ে বারবার এড়িয়ে যান। পরে অন্য চিকিৎসকের দারস্থ হলে ওই চিকিৎসক সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেন। এতে পেটে রয়েছে কাপড় জাতীয় কিছু ধরা পড়ে। আমরা পুনরায় অপারেশন করতে গেলে গাইনি ডাক্তার রাজিয়া বেগম মুক্তার স্বামী আতিক আমাদের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসক মৌসুমী হাসানকেও হুমকি দেন। পরে উপায় না পেয়ে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে পুনরায় অপারেশনের মাধ্যমে গজটি বের করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। ওই চিকিৎসকের শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে এক সহযোগী ফোন ধরে করে বলেন, ‘ম্যাডাম রোগী দেখছেন, পরে কথা বলবেন।’ এরপর তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহিন সুলতানা বলেন, বিষয়টি শুনেছি; এটি দুঃখজনক। ভুক্তভোগী বিষয়টি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৮ দিন আগে
রংপুরের কৃষিতে সৌর বিপ্লব, মৌসুমে সাশ্রয় ৭৫ লাখ লিটার ডিজেল
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা, সরবরাহ শঙ্কা এবং দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির আশঙ্কার মধ্যে বাংলাদেশের কৃষিখাতেও চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে সেচ মৌসুমে ডিজেলনির্ভর কৃষকদের উদ্বেগ এখন চরমে।
এমন বাস্তবতায় রংপুর অঞ্চলে আশার আলো হয়ে উঠেছে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচব্যবস্থা। সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৫ দশমিক ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এতে একেকটি সেচ মৌসুমে প্রায় ৭৫ লাখ লিটার ডিজেল সাশ্রয় সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষকেরা বলছেন, ডিজেল সংকট, মূল্যবৃদ্ধি কিংবা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ভোগান্তি ছাড়াই এখন সময়মতো জমিতে পানি দেওয়া যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ কমছে, বাড়ছে আবাদও।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের দোয়ানী গ্রামে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) পরিচালিত একটি ডাগওয়েলের দায়িত্বে আছেন আতিয়ার রহমান।
তিনি বলেন, এলাকায় ব্যাপকভাবে ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজি চাষ হয়। এই সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্র দিয়ে প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে নিয়মিত পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
তিনি জানান, ‘ডিজেল পাওয়া না গেলে বা দাম বাড়লেও কৃষকদের এখন আর চিন্তা করতে হয় না। কারণ এই সেচযন্ত্র চলে সৌরবিদ্যুতে।’
পাশাপাশি তিনি একটি বড় সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, বছরে মাত্র চার মাস সেচকার্যে ব্যবহারের পর বাকি আট মাস সৌর বিদ্যুতের প্যানেলগুলো প্রায় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। এই সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে কৃষক, প্রতিষ্ঠান ও সরকার—সবাই লাভবান হতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সৌর বিদ্যুতের প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি পাম্প চালিয়ে কৃষিজমিতে পানি পৌঁছে দিচ্ছে। কোথাও ডিজেলের ধোঁয়া নেই, নেই জ্বালানি সংগ্রহের দৌড়ঝাঁপ, নেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার উৎকণ্ঠা।
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর গ্রামের কৃষক সুধাম চন্দ্র সেন বলেন, তেলের চিন্তা নাই। সোলার থেকে বিদ্যুৎ হয়, পানি পাই। ফসলও ভালো হয়, খরচও কম লাগে।
তিনি আরও বলেন, আগে বিদ্যুৎ থাকত, আবার থাকত না। অনেক সময় জমিতে পানি দিতে দেরি হতো। এখন সোলারে সবসময় পানি পাওয়া যায়।
নদী বাঁচাও তিস্তা বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের লালমনিরহাট জেলা ইউনিটের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষিকে আধুনিক করার জন্য এ ধরনের প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সৌরচালিত সেচ প্রকল্প আরও বাড়ানো দরকার।
বিএডিসি রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (নির্মাণ) হুসাইন মোহাম্মদ আলতাফ জানান, ২০২২ সালের পর নতুন কোনো সৌর সেচ প্রকল্প চালু হয়নি। তবে আগের স্থাপনাগুলো এখনও সচল রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত সেচ মৌসুমে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ৫৯৬টি সৌরচালিত সেচযন্ত্র সচল ছিল। প্রতিটি যন্ত্রে গড়ে ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরা হলে মোট উৎপাদন দাঁড়ায় ৫ হাজার ৯৬০ কিলোওয়াট বা ৫ দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ হাজার ফ্যান চালানো সম্ভব। একইসঙ্গে চার মাসের সেচ মৌসুমে প্রায় ৭৫ লাখ লিটার ডিজেল সাশ্রয় হয়।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) রংপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান খান বলেন, তাদের আওতায় নতুন প্রকল্প না এলেও পুরোনো প্রকল্প চালু আছে। মাঠ পর্যায়ে দুটি নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এছাড়া অফিস ভবনের সৌর বিদ্যুৎও নেট মিটারিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে।
নেসকো রংপুরের প্রধান প্রকৌশলী (অপারেশন) মিজানুর রহমান বলেন, ডিজেলনির্ভর সেচ থেকে সৌরচালিত সেচে দ্রুত রূপান্তর ঘটাতে পারলে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে কার্বন নিঃসরণও কমবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য এটি হতে পারে টেকসই কৃষির কার্যকর পথ।
তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ সৌরচালিত সেচযন্ত্র পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায় রয়েছে। তাই এসব স্থাপনায় নেট মিটারিং চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে বাস্তবায়ন সম্ভব।
কৃষকদের দাবি, নতুন করে সৌর সেচ প্রকল্প চালু হোক, পুরোনো প্রকল্প সংস্কার হোক আর অব্যবহৃত সময়ের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হোক।
১৯ দিন আগে
রংপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত
রংপুরে আইডিয়াল মোড়-সংলগ্ন মহাসড়কে বাসচাপায় জুয়েল হোসেন নামে এক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। অপরদিকে, নগরীর পীরগঞ্জে ট্রাকচাপায় আব্দুর রহিম নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে এই সড়ক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান ও পীরগঞ্জ থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, জুয়েল হোসেন মোটরসাইকেল নিয়ে টার্মিনাল থেকে মহাসড়ক ধরে মেডিকেল কলেজ মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার মোটরসাইকেলটি সড়ক বিভাজকে ধাক্কা লেগে সড়কের মাঝে পড়ে যায়। এরই মধ্যে একটি চলন্ত বাস তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
নিহত জুয়েল হোসেন নগরীর কেল্লাবন্দ এলাকার মৃত জহুরুল হকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন। কেল্লাবন্দ এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে শাপলা আদর্শপাড়ায় বসবাস করতেন তিনি।
অপরদিকে, পীরগঞ্জ থেকে মিঠাপুকুরের দিকে যাচ্ছিলেন আব্দুর রহিম। এ সময় পেছন থেকে একটি ট্রাক তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
নিহত আব্দুর রহিম পীরগঞ্জের চতরা গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
২০ দিন আগে