রংপুর
‘দুর্গ’ রংপুরে অস্তিত্ব সংকটে জাতীয় পার্টি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের একটিতেও জিততে পারেননি জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনীত প্রার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে রংপুরকে নিজেদের রাজনৈতিক ‘দুর্গ’ হিসেবে দাবি করে আসা দলটি এবার সেখানেই চরম ভরাডুবির মুখে পড়েছে। একসময় দলের প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের হাত ধরে এই অঞ্চলে জাপার যে শক্ত ভিত গড়ে উঠেছিল, এবারের নির্বাচনে তা কার্যত তছনছ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও দলটির প্রার্থীরা জামানতও হারিয়েছেন।
এ বিষয়ে জাপার সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর-৫ আসনের প্রার্থী বলেন, আমরা হেরেছি বেশ কিছু কারণে। তার মধ্যে অন্যতম কারণ আমাদের সাংগঠনিক ভিত্তি একেবারেই নেই। এছাড়া আমরা ক্ষমতার অংশ থাকলেও রংপুর অঞ্চলে দৃশ্যমান উন্নয়ন করতে পারিনি।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার রাতেই লাঙ্গল সামনে রেখে ‘জাতীয় পার্টির জানাজা’ শিরোনামে একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৃণমূলে নেতৃত্ব সংকট, অভ্যন্তরীণ বিভক্তি, ভোটারদের সঙ্গে মৌসুমি যোগাযোগ, আস্থাহীনতা, জাতীয় রাজনীতির মেরুকরণ এবং বিএনপি-জামায়াতের বাইরে তৃতীয় শক্তি হিসেবে টিকে থাকতে না পারা—এসব কারণেই এমন ভরাডুবি হয়েছে। দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ থাকার অভিযোগও দলটির ওপর প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু একটি পরাজয় নয়; বরং এই অঞ্চলে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য বড় সতর্কবার্তা। ঘুরে দাঁড়াতে হলে জাপাকে তৃণমূল সংগঠন পুনর্গঠন, তরুণ নেতৃত্ব তৈরি এবং স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে। অন্যথায় ‘দুর্গ’ স্থায়ীভাবে হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিভিন্ন আসনের ফলাফল
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ফলাফলে দেখা গেছে, রংপুর-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডল পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৩০ ভোট। সেখানে জামায়াতের প্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট।
রংপুর-৩ আসনে দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট। জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট।
রংপুর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
রংপুর-৫ আসনে জাপার এস এম ফখর উজ-জামান জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১৬ হাজার ৪৯০ ভোট। জামায়াতের গোলাম রব্বানী ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির অধ্যাপক মো. গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট।
রংপুর-৬ আসনে জাতীয় পার্টির নুর আলম মিয়া পেয়েছেন ১ হাজার ২৮৭ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। অথচ এই আসনে এক সময় শেখ হাসিনা লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীর কাছে হেরেছিলেন।
একইভাবে কুড়িগ্রামের চারটি, গাইবান্ধার পাঁচটি, লালমনিরহাটের তিনটি, নীলফামারীর চারটি, পঞ্চগড়ের দুটি, ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি এবং দিনাজপুরের ছয়টি আসনেও জাতীয় পার্টির একই চিত্র দেখা গেছে।
অতীতের শক্ত ঘাঁটি থেকে অস্তিত্ব সংকটে
তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জাপা রংপুর অঞ্চল থেকে ১৭টি, ১৯৯৬ সালে ২১টি, ২০০১ সালে ১৪টি এবং ২০০৮ সালে ১২টি আসন পায়। ২০১৮ সালে রংপুর বিভাগে পায় ৭টি আসন, আর ২০২৪ সালের নির্বাচনে পায় ৩টি।
জোট-মহাজোট রাজনীতিতে প্রভাব কমতে থাকলেও আসনগুলো ক্রমে আওয়ামী লীগের দখলে যায়। তবে আওয়ামী লীগের পতনের পর ‘দোসর’ ইমেজও এবার দলটির বিপক্ষে কাজ করেছে বলে মত বিশ্লেষকদের।
সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্ব সংকট
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ে জাপার সাংগঠনিক কাঠামো আগের মতো সক্রিয় ছিল না। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কর্মীসংকট, প্রচারণায় শিথিলতা এবং নির্বাচনি কৌশলে ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় মাঠপর্যায়ে উপস্থিতিও কম ছিল।
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দলকে যে আবেগভিত্তিক সমর্থন দিয়েছিল, তার মৃত্যুর পর তা ধরে রাখতে পারেনি জাপা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে জিএম কাদের ও রওশনপন্থী বিভাজন তৃণমূলেও প্রভাব ফেলেছে। তৃণমূল সংগঠন ভেঙে পড়া এবং কমিটিগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে জাপার কোনো স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছায়নি। সরকারে থেকেও বিরোধী ভূমিকা—এই দ্বৈত অবস্থান ভোটারদের বিভ্রান্ত করেছে বলেও মত বিশ্লেষকদের।
এ অবস্থায় বিএনপি ও জামায়াত সাংগঠনিকভাবে মাঠে সক্রিয় হওয়ায় জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়ে। সাবেক ভোটব্যাংকের একটি অংশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকেছে। বিতর্কিত বা অজনপ্রিয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। জেলা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও দলটির প্রভাব কমেছে।
ভোটারদের প্রতিক্রিয়া
রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার রাশেদা বেগম বলেন, জাপা বহু বছর আমাদের এলাকার এমপি দিয়েছে। কিন্তু কর্মসংস্থান বা শিল্পকারখানার মতো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। আওয়ামী লীগের সময় সরকারি দল না বিরোধী দল—তা বোঝা যেত না। এলাকার মানুষের জন্য কার্যকর কিছু হয়নি, তাই মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে।
তরুণ ভোটার সোহেল রানা জানান, আমরা উন্নয়ন ও জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান দেখতে চাই। জাপা এবার আর বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে পারেনি।
নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে সরাসরি ১৭টিতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এবং ২টি আসনে জোটসমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হওয়ায় এ অঞ্চলে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের বার্তা মিলছে। বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বড় ব্যবধানে জয় এবং জাতীয় পার্টির আসনশূন্য অবস্থান রংপুর অঞ্চলের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই দুই বড় ধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে জাপা তৃতীয় শক্তি হিসেবে জায়গা হারিয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে মেরুকরণ তীব্র হওয়ায় রংপুরেও তার প্রভাব পড়েছে। ভোটাররা কৌশলগত ভোট দিয়েছেন। জাপা ভোটারদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য বার্তা পৌঁছাতে পারেনি।
রংপুর জেলা জাপার সভাপতি আজমল হক লেবু বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কারণে জাপা হেরেছে। রাষ্ট্রযন্ত্র সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে। এছাড়া আমাদের কিছু সাংগঠনিক সমস্যাও রয়েছে।’
১ দিন আগে
রংপুর-৪ ও ৬ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ, আল্টিমেটাম
রংপুর-৪ ও রংপুর-৬ আসনে নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক ভোট বাতিল ও মব সৃষ্টির মাধ্যমে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। ভোট পুনর্গণনা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই ভোট গণনা দাবিতে হারাগাছে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করছে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ। তাদের দাবি, ভোট কারচুপি করে এমদাদ ভরসাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রংপুর-৪ আসনের হারাগাছে বিএনপি প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ চলাকালে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন বিজয়ী প্রার্থী আখতার হোসেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা।
এদিকে, রংপুর-৬ আসনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ফলাফল পাল্টানোর অভিযোগ অস্বীকার করে জনগণকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেছেন বিজয়ী প্রার্থী মাওলানা নুরুল ইসলাম।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর এলাকার হকবাজারে এমদাদুল হক ভরসার কর্মী সমর্থকরা ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ করেন এবং সড়কে যানচলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় হারাগাছ-রংপুর সড়ক অবরোধ করে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। রাত ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলতে দেখা যায়। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা সেখানে জড়ো হন এবং প্রতিবাদ করেন।
একই দাবিতে পীরগাছা উপজেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা। এসময় তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ফল পুর্নগণনার জন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।
রংপুর ৪ আসনের ভোট পুনঃগণনার দাবি জানান জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমান। বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী উজ্জ্বল চন্দ্র রায় অভিযোগ করে বলেন, ‘ভোটের দিন প্রতিপক্ষ প্রার্থী আখতার হোসেন মব তৈরি করে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করেছেন। আমরাও চাই ভোটের ফলাফল পুনর্গণনা হোক।’
এ বিষয়ে অভিযোগকারী প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা জানান, নির্বাচনে তিনি জনগণের রায়ে বিজয়ী হবেন বলে শতভাগ আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু, বেলা ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে প্রতিপক্ষ আখতার হোসেনের লোকজন মব সৃষ্টি করে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় ফলাফল পরিবর্তন করে।
তিনি আরও বলেন, ভোটে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ ভোট বাতিল করা হয়েছে, যা সন্দেহজনক। পুনর্গণনা করলে প্রকৃত ফলাফল জনগণের সামনে আসবে বলেও জানান তিনি। সঠিক বিচার না পেলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ও আল্টিমেটাম দেন বিএনপির এই প্রার্থী।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে রাতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি প্রার্থীর লোকজন মাইকিং করে এনসিপির কর্মীদের খুঁজে বের করে মারধর করেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রংপুর-৪ আসনে বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
এদিকে, রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনেও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি প্রার্থী সাইফুল ইসলামের কর্মী সমর্থকরা। তারা রাতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘেরাও করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবিলম্বে ফল পুনঃগণনার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট।
২ দিন আগে
নির্বাচনে প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ আখতার হোসেনের
নির্বাচনে নিজ আসনে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ তুললেন রংপুর-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী আখতার হোসেন। তিনি প্রশাসনকে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে ভোটের ফল নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যদি সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে ১১ দলীয় জোটের বিজয় কেউ আটকাতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মায়ের সঙ্গে রংপুরের ভায়ারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আসেন আখতার হোসেন। সেই কেন্দ্রে তার মা ভোট দেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আখতার হোসেন। তবে তার ভোট ঢাকায় থাকায় নিজ আসনে ভোট দিতে পারেননি তিনি।
এ সময় সাংবাদিকদের আখতার হোসেন বলেন, নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের হেনস্তা করা হয়েছে। নারী কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। এসব নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দুর্বলতা লক্ষ করা গেছে। এ সময় তিনি প্রশাসনকে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
জয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শাপলা কলির পক্ষে জোয়ার উঠেছে। রংপুর-৪ আসনের ভোটাররা উন্নয়নের স্বার্থে শাপলা কলিকেই বেছে নিচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ, বিশাল ব্যবধানে জয়ী হব।’
রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা কপি প্রতীকে ১১ দলীয় জোট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই আসনে অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন— বিএনপি প্রার্থী শিল্পপতি এমদাদুল হক ভরসা, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান, বাসদ-মার্কসবাদীর প্রগতি বর্মণ তমা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আবু সাহমা, বাংলাদেশ কংগ্রেস’র উজ্জ্বল চন্দ্র রায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জাহিদ হোসেন ও স্বতন্ত্র শাহ আলম বাশার।
রিটার্নিং কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, রংপুর জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৩ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ জন এবং পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১২ লাখ ৯২ হাজার ৮৩৮ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩১ জন। জেলায় মোট ৮৭৩টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৯৮৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ৮৭৩ জন প্রিসাইডিং, ৫ হাজার ১৮ জন সহকারী প্রিসাইডিং এবং ১০ হাজার পোলিং কর্মকর্তা ভোট গ্রহণের দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য রংপুর জেলার ভোটকেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েনসহ কেন্দ্রের বাইরে সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় ভ্যাম্যমাণ দল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি বডি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
৪ দিন আগে
অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই রংপুর বিভাগে চলছে ভোটগ্রহণ
ভোট শুরুর আগেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন ভোটাররা। লাইনে পুরুষদের থেকে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ করা গেছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ভোটারের সংখ্যা। বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। রংপুর বিভাগের ৩৩টি নির্বাচনি আসনের ভোটকেন্দ্রগুলোর চিত্র মোটামুটি এমনই।
বিভাগের কোনো জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটকেন্দ্রে আসতে পারায় খুশি ভোটাররা।
এ বিভাগের ৩৩ টি আসনে ৪ হাজার ৫৪৫টি ভোটকেন্দ্রে ১ কোটি ৪৫ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টায় নগরীর ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। সকাল থেকেই ভিড় রয়েছে বলে জানান প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোটকেন্দ্রের আশপাশে প্রার্থীদের বুথ করা হয়েছে। সেই বুথ থেকে ভোটারদের স্লিপ সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে ভোটারদের বাড়ি থেকে নিয়ে আসছেন প্রার্থীদের কর্মীরা।
ভোটার আঞ্জুমান বলেন, সকালেই ভোট দিয়েছি। এখন সারা দিন বাড়ির কাজ করা যাবে নিশ্চিন্তে। একই কথা জানান রহিমা বেগম। তিনিও সকালে শুরুতেই ভোট দিয়েছেন বলে জানান।
আজিজুল ইসলাম বলেন, পরিবারসহ সকালেই কেন্দ্রে এসেছি যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারি। সেই অনুযায়ী ভোটও দিয়েছি। কোনো ভয় নাই, উৎসবমুখর পরিবেশেই ভোট হচ্ছে।
ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান বলেন, এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৫২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ হাজার ২৫৪ জন এবং মহিলা ভোটার ১ হাজার ২৭১ জন। কেন্দ্রে সকালে ভোটারদের উপস্থিতি ভালো ছিল। বিশৃঙ্খলার কোনো আশঙ্কা নেই। ভোটের পরিবেশ ভালো।
রিটার্নিং কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, রংপুর জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৩ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ জন এবং পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১২ লাখ ৯২ হাজার ৮৩৮ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩১ জন। জেলায় মোট ৮৭৩টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৯৮৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ৮৭৩ জন প্রিসাইডিং, ৫ হাজার ১৮ জন সহকারী প্রিসাইডিং এবং ১০ হাজার পোলিং কর্মকর্তা ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালন করছেন।।
এদিকে, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য রংপুর জেলার ভোটকেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েনসহ কেন্দ্রের বাইরে সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ দল, স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি বডি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আমিনুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
৫ দিন আগে
রংপুর বিভাগে ঝুঁকিতে ২৫০০ কেন্দ্র, ৬ স্তরের নিরাপত্তা জোরদার
গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫৬ ভোটারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৪৬টি ভোটকেন্দ্র। তবে এর মধ্যে ২ হাজার ৫৬১টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ৬ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। এসব কেন্দ্রে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি থাকবে বডি ক্যামেরা পরিহিত পুলিশবাহিনী।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর পুলিশ লাইনসে পুলিশ সদস্যদের নির্বাচনি প্যারেড শেষে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফাত হুসাইন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করতে জেলা পুলিশের আওতাধীন ৬৬৯টি কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েনসহ কেন্দ্রের বাইরে ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ দল, স্ট্রাইকিং ফোর্স, সাব সেক্টর ও সেক্টর ভাগ করে ভোটার, ভোটপ্রত্যাশী ও নির্বাচনে ব্যবহৃত সরঞ্জমাদির নিরাপত্তা দেওয়া হবে। কেন্দ্রগুলোতে গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারির পাশাপাশি ৩১৫টি কেন্দ্রে পুলিশের কাছে থাকবে বডি ক্যামেরা।
মারুফাত হুসাইন বলেন, নির্বাচনের মাঠে পুলিশের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, বিজিবি, এসআইএফ (সাবেক র্যাব), আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে। রংপুর জেলায় ৮৭৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে জেলা পুলিশের আওতাধীন ৬৬৯টি কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, রংপুর জেলার নির্বাচনি পরিবেশ অত্যন্ত ভালো, এখন পর্যন্ত কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। আমরা আশা করছি এটি বজায় থাকবে। সেই সঙ্গে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা হবে।
ঝুঁকিতে ২৫০০ কেন্দ্র, অতিঝুঁকিপূর্ণ ৮২৭টি
পুলিশ সুপার জানান, রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫৬ ভোটারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৪৬টি ভোটকেন্দ্র। তবে এর মধ্যে ২ হাজার ৫৬১টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। বিশেষ করে চরাঞ্চল, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা ও কোনো কোনো প্রার্থীর বাড়ির নিকটবর্তী কেন্দ্রগুলো নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এসব কেন্দ্রে অতীতে ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা, সংঘর্ষ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব কেন্দ্রে এরই মধ্যে বসানো হচ্ছে সিসি টিভি। এছাড়া বাড়তি অস্ত্রধারী পুলিশ, আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। থাকছে ভিজিলেন্স টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স।
পুলিশের রংপুর রেঞ্জ উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ৮ জেলার ৩৩টি সংসদীয় আসনে ৩০টি পৌরসভা ও ৫৩৩টি ইউনিয়ন রয়েছে। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্র ৪ হাজার ৫৪৬টি। অতিঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে ৮২৭টিকে।
রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ। প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পুলিশ সদস্যদের শরীরে থাকবে বডিওর্ন ক্যামেরা, যার লাইভ মনিটরিং করা হবে ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে।
রংপুরে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ২১৬
জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে ৮৭৩টি ভোটকেন্দ্রে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২১৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাকি কেন্দ্রগুলো সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২১টি ও ৮ উপজেলায় ৯৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, ভোটার সংখ্যা বেশি, ইতোপূর্বে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, সীমানা প্রাচীর না থাকা, প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবশালী নেতার বাড়িসংলগ্ন কেন্দ্র, দূরবর্তী ও জনবহুল এলাকাসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে এসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) জানিয়েছে, রংপুর জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের ৩টি আসনের আংশিক অংশে নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবে মেট্রোপলিটন পুলিশ। এসব স্থানের ২০৪টি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনসহ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে আলাদা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনি দায়িত্বে ৩০টি মোবাইল পেট্রোল টিম ও ৭৮টি স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স কাজ করবে।
এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, রংপুর জেলার সংসদীয় ছয়টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৩ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ জন এবং পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১২ লাখ ৯২ হাজার ৮৩৮ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩১ জন। জেলায় মোট ৮৭৩টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৯৮৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ও স্বতন্ত্র মিলে ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রস্তুত সেনাবাহিনীর কমান্ডো গ্রুপ
এদিকে রংপুরে যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের কমান্ডো গ্রুপ। নির্বাচনের দিন বিভাগের প্রত্যন্ত এলাকার যেকোনো কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ঘটলে তারা হেলি ড্রপ করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করবেন।
চার জেলায় ৩ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন
এ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শান্তি রক্ষায় রংপুর বিভাগের ৪ জেলায় ৩ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবির রংপুর সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম শফিকুর রহমান জানান, রংপুর সেক্টরের অধীনে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলায় ২৬টি বেজ ক্যাম্পে ৭৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা নির্বাচনি এলাকার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও চেকপোস্ট স্থাপনসহ মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করছেন। এসব জেলার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নজর দিয়েছে বিজিবি।
নির্বাচনি এলাকায় নিরাপত্তা দিতে বিজিবির তল্লাশি কার্যক্রম চালু রয়েছে। এছাড়া ঝুঁকি বিবেচনায় বিভিন্ন স্থানে ডগ স্কোয়াড স্থাপন করা হয়েছে। টহল ও গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
এসএম শফিকুর রহমান জানান, রংপুর বিভাগের ৪টি জেলায় ২ হাজার ৫৭২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৬০০টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। এছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিজিবির সমন্বয়ক টিমের প্রতিনিধিরা কাজ করছে।
এদিকে পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী ছাড়াও র্যাব, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে কাজ করছে।
৫ দিন আগে
রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ১৪ জন
রংপুরের পীরগঞ্জে ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে পীরগঞ্জ পেট্রোল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— গাজীপুরের রাহিমা আক্তার মুন্নি (৩৫), রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছের আব্দুল রাজ্জাক হওলাদার (৫৫) ও তার ছেলে আরাফাত সানী সানভী (২২)।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানান, একটি ট্রাক সামনে থাকা আরেটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। একই সময় দ্রুতগতিতে পেছন দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী হানিফ পরিবহনের একটি বাস দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের যাত্রী রাহিমা আক্তার মুন্নি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুরের হারাগাছের রাজ্জাক হওলাদারকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং তার ছেলে সানভীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। খবর পেয়ে বড়দরগাহ হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন।
বড়দরগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১০ দিন আগে
আবু সাঈদদের আমানত জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করব: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শহিদ আবু সাঈদেরা জীবন দিয়ে দেশের যে আমানত আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন, সেই আমানত রক্ষায় প্রয়োজনে আমরাও জীবন দিতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, ‘তাদের প্রত্যাশা ছিল একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক স্বাধীন বাংলাদেশ গড়া। আমাদের নিজস্ব কোনো স্বপ্ন নেই, তাদের স্বপ্নই আমাদের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্যই আমরা ঐক্য গড়ে তুলেছি। সরকারে যেতে পারলে আবু সাঈদের সব স্বপ্নই আমরা পূরণ করব।’
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহিদ রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মান কারও কাছে বন্ধক রাখা হবে না। যেভাবে আবু সাঈদেরা বুক পেতে দিয়েছিল, সেভাবেই বুক পেতে দিতে আমরা প্রস্তুত।
কবর জিয়ারত শেষে আবু সাঈদের বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আবু সাঈদের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, শহিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাবে।
‘কঠিন সময়, দমন-পীড়ন কিংবা সংকট—কোনো পরিস্থিতিতেই জনগণকে ছেড়ে যায়নি জামায়াতে ইসলামী; ভবিষ্যতেও যাবে না’—এমন অঙ্গীকার ব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, জীবন চলে গেলেও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, কঠিন সঙ্কটেও আমরা আপনাদের ছেড়ে যাইনি, পালিয়ে যাইনি। পরিস্থিতি যেমনই হোক, জনগণের পাশেই থাকব।
আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে জামায়াত আমির তার সফরের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু করেন।
এরপর গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় সকাল ১০টায় আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেন তিনি।দুপুর ১২টায় বগুড়া শহর এবং দুপুর আড়াইটায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার। এরপর সিরাজগঞ্জ শহরে বিকেল সাড়ে ৩টায় এবং উল্লাপাড়া উপজেলায় বিকেল ৪টায় নির্ধারিত জনসভায় অংশ নেবেন শফিকুর রহমান।
সিরাজগঞ্জের কর্মসূচি শেষে পাবনা জেলায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় একটি সমাবেশে যোগ দিয়ে সফরের দ্বিতীয় দিনের নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করবেন তিনি।
২৩ দিন আগে
ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্যই আইনসভার উচ্চকক্ষ: আলী রীয়াজ
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্যই আইনসভার উচ্চকক্ষ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। এবারের গণভোটে জনগণ রায় দিলে আইনসভায় নাগরিকদের প্রত্যেকটা ভোটের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। একইসঙ্গে সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আসবে।
গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রংপুরের শহিদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ পুলিশ রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম ও রংপুরের পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী।
রংপুর বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বিদ্যমান সংবিধানিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নির্বাহীপ্রধান, একইসঙ্গে সংসদনেতা এবং রাজনৈতিক দলের প্রধানের দায়িত্বও তার হাতেই থাকে। ক্ষমতা এককেন্দ্রিক করার কারণেই ক্ষমতাসীনরা ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার সুযোগ পায়।
তিনি বলেন, এ কারণেই জুলাই সনদে এক ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী থাকার মেয়াদ ১০ বছরে সীমিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া, আর্থিক প্রতিষ্ঠানবিষয়ক সংসদীয় কমিটিগুলোতে বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথা হয়েছে।
গণভোটের মার্কা ‘টিক চিহ্ন’ উল্লেখ করে সরকারের পক্ষে গণভোটের প্রচার কার্যক্রমের এই মূখ্য সমন্বয়ক বলেন, নির্বাচনের দিন গোলাপি রঙের ব্যালটে টিক চিহ্নের ওপর সিল দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ শাসনব্যবস্থা ও সুশাসিত বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যেতে হবে।
‘যারা জুলাই সনদের পক্ষে নয়, তারা ফ্যাসিস্টের পক্ষে’ উল্লেখ করেন সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার বিগত ১৬ বছর সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই এক দানবীয় ব্যবস্থা তৈরি করেছিল। বিদ্যমান সংবিধানের গুরুতর ত্রুটির কারণেই আমরা বারবার তাদের হাতে জিম্মি হয়েছি। তাই যারা ফ্যাসিবাদকে আবারও ফিরিয়ে আনতে চায়, তারাই জুলাই সনদ ও গণভোটকে ব্যর্থ করে দিতে চায়।
মনির হায়দার বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্যের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে ও সঠিক তথ্য জানাতে কাজ করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী।
এ সময় ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারেনি। ফলে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা বারবার প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন; মর্যাদা হারিয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তারা সুশাসনের পক্ষে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই শাসন বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশকে একটি কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণভোটের বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
৩২ দিন আগে
উত্তরে হাড়কাঁপানো শীত, ২০ দিনে ২৮ জনের মৃত্যু
প্রতি বছরের মতো এবারও রংপুর বিভাগে শীতের তাণ্ডব শুরু হয়েছে। কনকনে শীতে পুরো বিভাগের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতজনিত রোগে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। সেইসঙ্গে বাড়ছে রোগাক্রান্ত রোগী মৃত্যুর সংখ্যা।
পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে উত্তরের জেলাগুলোতে ঘরের বাইরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে বাসিন্দাদের। দিন ও রাতের তাপমাত্রার তারতম্য কমে এসেছে; হিমেল হাওয়া কাঁপন ধরাচ্ছে শরীরে। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষ। শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন উত্তরের ছিন্নমূলসহ তিস্তা, ধরলা ও যমুনার চর ও বাঁধে আশ্রিতরা।
রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) সুত্র জানায়, শীতের তীব্রতা বাড়ায় রমেক হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে এই বিভাগের ৮ জেলা থেকে আসা শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
বিশেষ করে হাসপাতালগুলোর মেডিসিন ও শিশু ওয়ার্ডে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী বেড়েছে। গত ২০ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ২০ দিনে রমেক হাসপাতালে ১ হাজার ৯১৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। শীতজনিত রোগে এই ২০ দিনে মারা গেছেন ২৮ জন। এর মধ্যে মেডিসিন ও শিশু বিভাগে মারা গেছেন ১৭ জন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আশিকুর রহমান বলেন, তীব্র শীত এই অঞ্চলে। তাই শীতজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাইঁ নেই। এ কারণেই প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৬ টায় রংপুর বিভাগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া একই সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ঠাকুরগাঁওয়ে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি, নীলফামারীর ডিমলায় ১০ ডিগ্রি , রংপুরে ১০ দশমিক ২, কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও দিনাজপুরে ১১ দশমিক ৫, গাইবান্ধায় ১১ দশমিক ৮ এবং লালমনিরহাটে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৫ দিন রংপুর বিভাগ ও নদীর অববাহিকা এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
৩৭ দিন আগে
রংপুরে জেঁকে বসেছে শীত, হাসপাতালে বাড়ছে রোগী, ৬ শিশুর মৃত্যু
দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ঝেঁকে বসেছে শীত। এরই সঙ্গে বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে রোগাক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন অন্তত ৬ জন।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডাক্তার মেশকাতুল আবেদ বলেন, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের ৮ জেলায় শিশু ও বৃদ্ধসহ আরও ৪৫৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শীতে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এই চিকিৎসক।
এদিকে, রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডেই গত সাত দিনে ৬১৩ জন ভর্তি হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
রমেক হাসপাতালে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিশুরা নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। তাছাড়া হাসপাতালে বেডের তুলনায় রোগী অনেক বেশি। দূর-দূরান্ত থেকে এই হাসপাতালে আসছেন রোগীরা। অন্যদিকে সংকট রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিকের। সরবরাহ না থাকার অজুহাতে এক বেলা পেলে আরেক বেলা কিনতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
এদিকে, ওই হাসপাতালের ১০ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে শয্যার তুলনায় চারগুণ শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। আজ (বুধবার) সকালে ওই ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, এক বেডে চারজন শিশু রাখা হয়েছে। ১০ নম্বর ওয়ার্ডে বেড রয়েছে ৪০টি। তার বিপরীতে রোগী ভর্তি রয়েছে ১৭৮ জন।
৫৪ দিন আগে