রংপুর
রংপুরে পেট্রোল মজুদ রেখে বেশি দামে বিক্রি, ব্যবসায়ীকে জরিমানা
রংপুরের গংগাচড়ায় অবৈধভাবে পেট্রোল মজুদ করে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গংগাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জেসমিন আক্তার। এর আগে শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে উপজেলার বেতগাড়ি, আলমবিদিতর ও বড়বিল ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে উপজেলা প্রশাসন এ অভিযান পরিচালনা করে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গংগাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের ‘সবুজ স্টোর’-এর মালিক প্লাস্টিকের ড্রামে পেট্রোল মজুদ করে নিজ বাসায় লুকিয়ে রাখতেন। পরে চলমান জ্বালানি সংকটকে কাজে লাগিয়ে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে মোটরসাইকেল-চালকদের কাছে বিক্রি করতেন তিনি।
এ খবর পেয়ে শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তার বাসা থেকে মজুদ করা জ্বালানি তেল জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. জেসমিন আক্তার বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি বন্ধে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
১ দিন আগে
রংপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, ভোগান্তিতে চালকরা
সারা দেশের মতো রংপুরেও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও অন্যান্য পরিবহনের চালকরা। পাম্প মালিকদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ হচ্ছে না যার কারণে এই সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে মোটরসাইকেল-চালকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে নগরীরর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, নগরীর এ রহমান পাম্প, ছালেক পেট্রোল পাম্প, শাপলা পেট্রোল পাম্প, সিটি পেট্রোল পাম্পসহ প্রায় সবগুলো পাম্পেই মোটরসাইকেল-চালকদের দীর্ঘ লাইন। আবার অনেক পাম্প কালো কাপড়ে ঢাকা।মোটরসাইকেল-চালকদের পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তেল সংগ্রহে তীব্র ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দুই ঘণ্টা থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকে তারা তেল সংগ্রহ করছেন। তবে দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষার পর মাত্র ১০০ টাকার তেল পাওয়া যাচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও অপেক্ষার পর জানা যাচ্ছে তেল শেষ হয়ে গেছে। এ কারণে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেল পাম্প কর্মচারী ও মালিকদের সঙ্গে প্রায় তর্কাতকির মতো ঘটনা ঘটছে। আবার কোথাও কোথাও এ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।
এ রহমান পেট্রোল পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি চাকরিজীবী সাজ্জাদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সকালে সময় হাতে নিয়ে পাম্পে এসেছি। এক ঘণ্টা হলো, তবু লাইন শেষ হচ্ছে না। কখন যে তেল পাব, তার কোনো ঠিক নেই।’
জুম্মন আলী বলেন, ‘শ্বশুর বাড়ি যাব। কমপক্ষে ৫০০ টাকার তেল লাগবে। প্রায় দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে তেল পেলাম মাত্র ১০০ টাকার। অনেক অনুরোধ করেও ১০০ টাকার বেশি পাওয়া গেল না। এই ১০০ টাকার তেল দিয়ে কীভাবে চলব?’
রহমত আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘২০০ বা ৩০০ টাকার তেল দিলে কিন্তু পাম্পের লাইন ধরতে হতো না। বাইকাররা পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটছেন এবং লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।’
স্বপন চৌধুরী বলেন, ‘মোটরসাইকেল চালকরা তো তেল ইচ্ছা করে বেশি নিয়ে গিয়ে খায় না। প্রয়োজনেই তো তেল দরকার, সেটাও পাচ্ছি না। অথচ, মন্ত্রী অনবরত তেলের সংকট নেই বলে মিডিয়ায় বক্তব্য দিচ্ছেন; মন্ত্রীর লজ্জাও নেই।’
রংপুর পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ শোভন বলেন, ‘সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদার তুলনায় অনেক কম জ্বালানি সরবরাহ দিচ্ছে। যার কারণে তেল নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। রংপুরে যতটুকু তেল রয়েছে, সেটির সরবরাহও দ্রুত শেষ হওয়ার পথে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মোটরসাইকেল-চালকরা অনেকে আগামী দিনে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকে তেল মজুদ করছেন। এমন আশঙ্কা থেকে ১০০ টাকার বেশি পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে না। যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট থাকবে।’
এ সময় তিনি পাম্পের নিরাপত্তায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে পুলিশ মোতায়েনের জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান।
যমুনা পেট্রোলিয়ামের রংপুর অঞ্চলের বিক্রয় কর্মকর্তা মোহসিন আলী জানান, ‘ঢাকা থেকে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়, যার কারণে জ্বালানি সংকটের বিষয়টি নিয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’
৪ দিন আগে
রংপুরে শিশুকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা
রংপুরে নিজের দেড় বছরের শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর এক মা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাজাপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।
নিহত ওই নারীর নাম সূচনা ঘোষ। শিশুপুত্র জয়দেব ঘোষকে হত্যার পর নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন তিনি।
পুলিশ জানায়, নগরীর সাজাপুর এলাকার শংকর ঘোষের (৪৫) স্ত্রী সূচনা ঘোষ (৪০) তার দেড় বছরের পুত্রসন্তান জয়দেব ঘোষকে শ্বাস রোধ করে হত্যার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নিজে আত্মহত্যা করেন। আত্মাহত্যার ঘটনাটি জানালার ফাঁক দিয়ে প্রথমে দেখতে পান তার দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে পুষ্পিতা ঘোষ। ওই গৃহবধূর পূজা ঘোষ নামের বড় আরেকটি মেয়ের বিয়ে হয়েছে। গৃহবধূর স্বামী একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং ক্ষুদ্র মুদি দোকানি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
শংকর ঘোষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন তার স্ত্রী। বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে তাকে। তার ধারণা, মানসিক সমস্যা থেকেই সন্তানকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেন সূচনা।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, মূলত অভাব অনটনের কারণে পারিবারিক অশান্তি ছিল পরিবারটিতে। তবে পারিবারিক কলহ নাকি মানসিক অসুস্থতার কারণে এ ঘটনা ঘটছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে।
১৫ দিন আগে
হঠাৎ বৃষ্টিতে কপাল পুড়ল উত্তরের আলু চাষিদের
উত্তরের জেলাগুলোতে আলুর দামে ধস নামার মধ্যেই অকাল বৃষ্টিতে নতুন করে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে আলুখেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় বৃষ্টির পানিতে খেত তলিয়ে যাওয়ায় আলুতে পচন ধরার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। দরপতনের হাহাকারের মাঝেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আলুচাষিরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এবং শুক্রবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হওয়া বৃষ্টিতে রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জ, আমাশু কুকরুল, সদরের পালিচড়া ও পীরগাছা উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর, ছাওলা, অন্নদানগর ও কান্দি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ আলুখেত পানিতে তলিয়ে আছে। ফসল রক্ষায় খেত থেকে পানি সরানোর চেষ্টা করছেন কৃষকরা।
উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘১০ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করছি, ফলনও ভালো হইছে। কিন্তু হঠাৎ করে ঝড়বৃষ্টিতে আলুর অনেক ক্ষতি হইল। সকালে এসে দেখি আলুখেতে অনেক পানি জমে গেছে। এখন পানি কমানোর চেষ্টা করতেছি।’
তিনি বলেন, ‘বাজারে আলুর দাম নাই, কেজি মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকা। এখন বৃষ্টির কারণে কেজিপ্রতি আরও দুই টাকা কমে যাবে। এ অবস্থায় মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে গেল এই বৃষ্টি।’
আলুচাষি এমদাদুল হক বাবু বলেন, সারের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ধারদেনা করে আলু চাষ করে এখন বিপাকে আছি। বাজারে দাম নেই। কোল্ড স্টোরে রাখতে হলে বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে। না হয় কালোবাজারি ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কাছে অল্প দামে আলু বিক্রি করতে হবে। এ কারণে খেতের মধ্যেই আলু রেখেছিলাম। দাম ভালো মিললে বিক্রি করব। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল।
১৬ দিন আগে
রংপুরে নকল কোমল পানীয়র কারখানার সন্ধান, লক্ষাধিক টাকা জরিমানা
রংপুরে পৃথক দুটি স্থানে দুটি কোমল পানীয়র কারখানায় অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ সময় মোজো, সেভেন আপ, ফ্রুটো ও টেন আপের নকল পণ্য উদ্ধার করা হয়। এ অপরাধে দুটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকার বেশি জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরীর কুটিরপাড়া ও কামালকাছনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার তমাল আজাদ ও নুসরাত আরা এ জরিমানা করেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নগরীর কুটিরপাড়া এলাকায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে মেসার্স দানিস ট্রেডার্স ও মেসার্স রুমন ট্রেডার্সের গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে মোজো, সেভেন আপ, টেন আপের নকল পণ্য উদ্ধার এবং বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দ করা হয়। শিশুদের জন্য ক্ষতিকর পণ্য তৈরি ও বাজারজাতের জন্য গুদামজাত করার অপরাধে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার। পরে জব্দ করা বিপুল মালামাল বিনষ্ট করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ মালামাল সংরক্ষণ ও বাজারজাত না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রংপুরের এফএসও মো. লোকমান হোসাইন বলেন, এনএসআইয়ের তথ্য অনুযায়ী দুটি কারখানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণে শিশুদের জন্য ক্ষতিকর মোজো, সেভেন আপ, ফ্রুটো, টেন আপের নকল পণ্য উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে দুটি কারখানার মালিককে জরিমানাসহ সতর্ক করা হয়। এ রকম অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এফএসও।
২০ দিন আগে
ভরা মৌসুমেও চাষির আলু নিয়ে দুশ্চিন্তা
চলতি মৌসুমের শুরুতেই উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে আলুর দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। নতুন আলু বিক্রি করেও উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ন্যায্য দাম না পেয়ে গত বছরের মতো এ বছরও বড় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকদের অভিযোগ, গত বছরের অবিক্রিত আলু এখনও বাজারে রয়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাব। ফলে পাইকারি বাজারে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
খুচরা বাজারেও একই চিত্র। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে পাইকারি বাজারে এক কেজি আলু বিক্রি করে মিলছে না এক কাপ চায়ের দাম। এতে হতাশায় ভেঙে পড়েছেন চাষিরা। তাদের ভাষ্য, ‘আলু আবাদ করে বিপদ, না করেও বিপদ।’
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে রংপুর সিটি বাজারসহ উত্তরের বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকা দরে। অথচ প্রতি কেজি আলু উৎপাদনেই খরচ হয়ে গেছে প্রায় ১৪ টাকা। এতে কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ১ কোটি ১৫ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছিল। এর মধ্যে ৮৭ লাখ টন উৎপাদন হয়েছে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৮৪ লাখ টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২৪ দিন আগে
রংপুরে ভেজাল মশলার কারখানা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন
রংপুরে ভেজালবিরোধী অভিযানে অবৈধ মশলার কারখানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। এ সময় কারখানার মশলা ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ ইউনিয়নের নাজিরদহ গফুর টারী এলাকায় একটি অবৈধ মশলা উৎপাদন কারখানায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রংপুরের কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অঙ্কন পাল।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ওই কারখানায় গোল মরিচে ক্ষতিকর কেমিক্যালযুক্ত রং, খয়ের ও ময়দা মিশিয়ে মশলা তৈরি করা হচ্ছিল। এমন তথ্য পেয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় মশলা কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়াসহ অবৈধ মশলা মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। এ সময় শরিফুল ইসলাম নামে ওই কারখানার ব্যবসায়ীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৩ ধারা অনুযায়ী, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, অভিযানে গোল মরিচে ওজন বৃদ্ধি করার জন্য ক্ষতিকারক কেমিক্যালযুক্ত রং, খয়ের ও ময়দা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব ভেজাল উপাদান মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
৩১ দিন আগে
মাঠ প্রশাসনকে তিন নির্দেশনা দিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা ও আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা—এই তিন বিষয়ে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর সার্কিট হাউজে বিভাগীয় পর্যায়ে সব জেলা প্রশাসককের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, মাঠ প্রশাসনকে ওই তিন বিষয়ে ছাড়াও মাদক ও দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্সের কথা তুলে ধরার মতো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রংপুর বিভাগের অনেক দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঘাটতি রয়েছে। অন্যান্য বিভাগের তুলনায় এ বিভাগে অনেক প্রকল্প অন্তর্ভুক্তি হয়নি এখনও। সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মানুষ যাতে খুব সহজে সেবা পায়, সেই বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে রংপুর বিভাগে বৈষম্য হয়েছে, যার কারণে মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এবারে যাতে কোনো বৈষম্য না হয়, এই অঞ্চলের সন্তান হিসেবে বাজেটে সেই চেষ্টা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের প্রাক্কালে রংপুরে এসেছিলেন, তিনিও রংপুরের উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। তারেক রহমান আরও বলেছেন, রংপুরের উন্নয়নে কলকারখানা স্থাপনসহ এই অঞ্চলকে আর পিছিয়ে পড়তে দেওয়া হবে না। তাছাড়া রংপুর অঞ্চল খাদ্য উৎপাদনের অঞ্চল, এখানকার জমি সস্তা, শ্রম সস্তা, মানুষ ভালো, আইনশৃঙ্খলা ভালো। তাই অপেক্ষা করেন, রংপুর অঞ্চলও অন্যান্য অঞ্চলের মতো সমভাবে উন্নত হবে।’
তিস্তা নদী প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তিস্তা নদী নিয়ে আর কোনো বিচ্ছিন্ন প্রকল্প হবে না। তিস্তা খনন, কিংবা তিস্তার উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে তিস্তা নদী শাসন ও খননেন কাজ করা হবে। বিএনপি একটি জনবান্ধব রাজনৈতিক দল। তাই অল্প সময়ের মধ্যে জনগণের দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে তিস্তা বাস্তবায়ন করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী, রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুসহ প্রশাসন এবং বিএনপির নেতারা।
৩৫ দিন আগে
‘দুর্গ’ রংপুরে অস্তিত্ব সংকটে জাতীয় পার্টি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের একটিতেও জিততে পারেননি জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনীত প্রার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে রংপুরকে নিজেদের রাজনৈতিক ‘দুর্গ’ হিসেবে দাবি করে আসা দলটি এবার সেখানেই চরম ভরাডুবির মুখে পড়েছে। একসময় দলের প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের হাত ধরে এই অঞ্চলে জাপার যে শক্ত ভিত গড়ে উঠেছিল, এবারের নির্বাচনে তা কার্যত তছনছ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও দলটির প্রার্থীরা জামানতও হারিয়েছেন।
এ বিষয়ে জাপার সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর-৫ আসনের প্রার্থী বলেন, আমরা হেরেছি বেশ কিছু কারণে। তার মধ্যে অন্যতম কারণ আমাদের সাংগঠনিক ভিত্তি একেবারেই নেই। এছাড়া আমরা ক্ষমতার অংশ থাকলেও রংপুর অঞ্চলে দৃশ্যমান উন্নয়ন করতে পারিনি।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার রাতেই লাঙ্গল সামনে রেখে ‘জাতীয় পার্টির জানাজা’ শিরোনামে একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৃণমূলে নেতৃত্ব সংকট, অভ্যন্তরীণ বিভক্তি, ভোটারদের সঙ্গে মৌসুমি যোগাযোগ, আস্থাহীনতা, জাতীয় রাজনীতির মেরুকরণ এবং বিএনপি-জামায়াতের বাইরে তৃতীয় শক্তি হিসেবে টিকে থাকতে না পারা—এসব কারণেই এমন ভরাডুবি হয়েছে। দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ থাকার অভিযোগও দলটির ওপর প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু একটি পরাজয় নয়; বরং এই অঞ্চলে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য বড় সতর্কবার্তা। ঘুরে দাঁড়াতে হলে জাপাকে তৃণমূল সংগঠন পুনর্গঠন, তরুণ নেতৃত্ব তৈরি এবং স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে। অন্যথায় ‘দুর্গ’ স্থায়ীভাবে হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিভিন্ন আসনের ফলাফল
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ফলাফলে দেখা গেছে, রংপুর-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডল পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৩০ ভোট। সেখানে জামায়াতের প্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট।
রংপুর-৩ আসনে দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট। জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট।
রংপুর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
রংপুর-৫ আসনে জাপার এস এম ফখর উজ-জামান জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১৬ হাজার ৪৯০ ভোট। জামায়াতের গোলাম রব্বানী ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির অধ্যাপক মো. গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট।
রংপুর-৬ আসনে জাতীয় পার্টির নুর আলম মিয়া পেয়েছেন ১ হাজার ২৮৭ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। অথচ এই আসনে এক সময় শেখ হাসিনা লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীর কাছে হেরেছিলেন।
একইভাবে কুড়িগ্রামের চারটি, গাইবান্ধার পাঁচটি, লালমনিরহাটের তিনটি, নীলফামারীর চারটি, পঞ্চগড়ের দুটি, ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি এবং দিনাজপুরের ছয়টি আসনেও জাতীয় পার্টির একই চিত্র দেখা গেছে।
অতীতের শক্ত ঘাঁটি থেকে অস্তিত্ব সংকটে
তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জাপা রংপুর অঞ্চল থেকে ১৭টি, ১৯৯৬ সালে ২১টি, ২০০১ সালে ১৪টি এবং ২০০৮ সালে ১২টি আসন পায়। ২০১৮ সালে রংপুর বিভাগে পায় ৭টি আসন, আর ২০২৪ সালের নির্বাচনে পায় ৩টি।
জোট-মহাজোট রাজনীতিতে প্রভাব কমতে থাকলেও আসনগুলো ক্রমে আওয়ামী লীগের দখলে যায়। তবে আওয়ামী লীগের পতনের পর ‘দোসর’ ইমেজও এবার দলটির বিপক্ষে কাজ করেছে বলে মত বিশ্লেষকদের।
সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্ব সংকট
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ে জাপার সাংগঠনিক কাঠামো আগের মতো সক্রিয় ছিল না। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কর্মীসংকট, প্রচারণায় শিথিলতা এবং নির্বাচনি কৌশলে ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় মাঠপর্যায়ে উপস্থিতিও কম ছিল।
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দলকে যে আবেগভিত্তিক সমর্থন দিয়েছিল, তার মৃত্যুর পর তা ধরে রাখতে পারেনি জাপা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে জিএম কাদের ও রওশনপন্থী বিভাজন তৃণমূলেও প্রভাব ফেলেছে। তৃণমূল সংগঠন ভেঙে পড়া এবং কমিটিগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে জাপার কোনো স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছায়নি। সরকারে থেকেও বিরোধী ভূমিকা—এই দ্বৈত অবস্থান ভোটারদের বিভ্রান্ত করেছে বলেও মত বিশ্লেষকদের।
এ অবস্থায় বিএনপি ও জামায়াত সাংগঠনিকভাবে মাঠে সক্রিয় হওয়ায় জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়ে। সাবেক ভোটব্যাংকের একটি অংশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকেছে। বিতর্কিত বা অজনপ্রিয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। জেলা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও দলটির প্রভাব কমেছে।
ভোটারদের প্রতিক্রিয়া
রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার রাশেদা বেগম বলেন, জাপা বহু বছর আমাদের এলাকার এমপি দিয়েছে। কিন্তু কর্মসংস্থান বা শিল্পকারখানার মতো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। আওয়ামী লীগের সময় সরকারি দল না বিরোধী দল—তা বোঝা যেত না। এলাকার মানুষের জন্য কার্যকর কিছু হয়নি, তাই মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে।
তরুণ ভোটার সোহেল রানা জানান, আমরা উন্নয়ন ও জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান দেখতে চাই। জাপা এবার আর বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে পারেনি।
নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে সরাসরি ১৭টিতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এবং ২টি আসনে জোটসমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হওয়ায় এ অঞ্চলে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের বার্তা মিলছে। বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বড় ব্যবধানে জয় এবং জাতীয় পার্টির আসনশূন্য অবস্থান রংপুর অঞ্চলের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই দুই বড় ধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে জাপা তৃতীয় শক্তি হিসেবে জায়গা হারিয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে মেরুকরণ তীব্র হওয়ায় রংপুরেও তার প্রভাব পড়েছে। ভোটাররা কৌশলগত ভোট দিয়েছেন। জাপা ভোটারদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য বার্তা পৌঁছাতে পারেনি।
রংপুর জেলা জাপার সভাপতি আজমল হক লেবু বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কারণে জাপা হেরেছে। রাষ্ট্রযন্ত্র সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে। এছাড়া আমাদের কিছু সাংগঠনিক সমস্যাও রয়েছে।’
৪২ দিন আগে
রংপুর-৪ ও ৬ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ, আল্টিমেটাম
রংপুর-৪ ও রংপুর-৬ আসনে নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক ভোট বাতিল ও মব সৃষ্টির মাধ্যমে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। ভোট পুনর্গণনা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই ভোট গণনা দাবিতে হারাগাছে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করছে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ। তাদের দাবি, ভোট কারচুপি করে এমদাদ ভরসাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রংপুর-৪ আসনের হারাগাছে বিএনপি প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ চলাকালে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন বিজয়ী প্রার্থী আখতার হোসেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা।
এদিকে, রংপুর-৬ আসনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ফলাফল পাল্টানোর অভিযোগ অস্বীকার করে জনগণকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেছেন বিজয়ী প্রার্থী মাওলানা নুরুল ইসলাম।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর এলাকার হকবাজারে এমদাদুল হক ভরসার কর্মী সমর্থকরা ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ করেন এবং সড়কে যানচলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় হারাগাছ-রংপুর সড়ক অবরোধ করে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। রাত ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলতে দেখা যায়। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা সেখানে জড়ো হন এবং প্রতিবাদ করেন।
একই দাবিতে পীরগাছা উপজেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা। এসময় তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ফল পুর্নগণনার জন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।
রংপুর ৪ আসনের ভোট পুনঃগণনার দাবি জানান জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমান। বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী উজ্জ্বল চন্দ্র রায় অভিযোগ করে বলেন, ‘ভোটের দিন প্রতিপক্ষ প্রার্থী আখতার হোসেন মব তৈরি করে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করেছেন। আমরাও চাই ভোটের ফলাফল পুনর্গণনা হোক।’
এ বিষয়ে অভিযোগকারী প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা জানান, নির্বাচনে তিনি জনগণের রায়ে বিজয়ী হবেন বলে শতভাগ আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু, বেলা ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে প্রতিপক্ষ আখতার হোসেনের লোকজন মব সৃষ্টি করে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় ফলাফল পরিবর্তন করে।
তিনি আরও বলেন, ভোটে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ ভোট বাতিল করা হয়েছে, যা সন্দেহজনক। পুনর্গণনা করলে প্রকৃত ফলাফল জনগণের সামনে আসবে বলেও জানান তিনি। সঠিক বিচার না পেলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ও আল্টিমেটাম দেন বিএনপির এই প্রার্থী।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে রাতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি প্রার্থীর লোকজন মাইকিং করে এনসিপির কর্মীদের খুঁজে বের করে মারধর করেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রংপুর-৪ আসনে বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
এদিকে, রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনেও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি প্রার্থী সাইফুল ইসলামের কর্মী সমর্থকরা। তারা রাতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘেরাও করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবিলম্বে ফল পুনঃগণনার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট।
৪৪ দিন আগে