রংপুর
রংপুরে বিয়ের নাটক সাজিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ মামলার আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার
রংপুরের কাউনিয়ায় ভুয়া বিয়ের নাটক সাজিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত পলাতক আসামি আজমাইন আব্দুল্লাহ উৎসকে (২৬) প্রায় দুই মাস পর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে তাকে ধর্ষণ আইনের ধারার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রংপুর আদালতে পাঠায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) হারাগাছ থানা পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হারাগাছ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার আজমাইন আব্দুল্লাহ উৎস কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর এলাকার সারাই জাগরণ পাগড়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বরাত দিয়ে এসআই রুহুল আমীন জানান, অভিযুক্ত আজমাইন বিবাহিত। বিয়ের বিষয়টি গোপন করে তিনি ১৮ বছরের এক কলেজছাত্রীকে হারাগাছ থেকে রংপুরে কলেজে যাওয়া-আসার পথে প্রেমের প্রস্তাব দেন। মেয়েটি শুরুতে প্রথমে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তবে, পরবর্তী সময়ে আজমাইন ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসআপে কথাকপনের মাধ্যমে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
গত বছরের ২ ডিসেম্বর আজমাইন মেয়েটিকে বিয়ের কথা বলে রংপুরে আদালতের পাশে লেকের পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে তিনি স্ট্যাম্পে সই নিয়ে মেয়েটিকে জানান যে তাদের দুইজনের বিয়ে হয়েছে। পরে ওইদিন হারাগাছ ধুমগড়া এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়িতে মেয়েটিকে নিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে সারা রাত অবস্থান করেন আজমাইন। এরপর বিভিন্ন স্থানে মেয়েটিকে নিয়ে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে মেয়েটির বিয়ের কাবিননামার কাগজ দেখতে চাইলে বিভিন্ন টালবাহানা করতে থাকেন আসামি। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে গত ২৪ এপ্রিল ভুক্তভোগী সাক্ষীদের নিয়ে আজমাইনের বাড়িতে যান। সেখানে ভুক্তভোগীকে জানান যে তিনি বিবাহিত, মেয়েটিকে বিয়ে করতে পারবেন না। প্রতারণা করে মিথ্যা বিয়ের নাটক সাজিয়ে তার সঙ্গে যৌনমিলন করেছেন বলে মেয়েটিকে জানানো হয়। তখন ভুক্তভোগী তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রতিবাদ করেন। এ সময় আজমাইন তাকে টাকার বিনিময়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন এবং এ বিষয়ে তাকে বিরক্ত করলে গোপনে ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান বলেন, এ ব্যাপারে গত ৬ মে মেয়েটি বাদী হয়ে রংপুর আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে ১২ মে আজমাইন আব্দুল্লাহ উৎসের বিরুদ্ধে হারাগাছ থানায় ধর্ষণ মামলা হয়। মামলা হওয়ার পর আজমাইনকে গ্রেপ্তারে মাঠে নামে পুলিশ, কিন্তু তিনি গা ঢাকা দেন। প্রায় দুই মাস চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে সোমবার র্যাব-১-এর সহায়তায় ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে হারাগাছ থানায় নিয়ে এসে আজ (বুধবার) দুপুরে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রংপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
১১ ঘণ্টা আগে
যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে, প্রার্থী ঠিক করবে দল: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর নগরীর টার্মিনাল এলাকায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের ভালোবাসা ও ভোটে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছি। একবার নয়, বিএনপি পাঁচবার সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। বিএনপিকে যারা ফ্যাসিবাদী বলেন, তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে অথবা তাদের মানসিকতা সে রকমভাবে গড়ে উঠেছে। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আর জামায়াতে ইসলামীর আমির সাহেব তাদের দলের গঠনতন্ত্র ভালোভাবে পড়বেন। তাদের দল কতটা গণতান্ত্রিক, সেটি তারাই বিবেচনা করবেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এ বছরের শেষে না হলেও আগামী বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার কৃষির উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করেছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, রংপুর অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হবে। কৃষিকে লাভজনক করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এর আগে, তিনি বিআরডিবির বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। পরে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত পল্লী মেলার উদ্বোধন ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিল্পকলা একাডেমিতে সুধী সমাজের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম (এনডিসি), রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুরের জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা।
২ দিন আগে
তিস্তা ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার দাবিতে রংপুর পাউবো ঘেরাও
রংপুরে চলতি বন্যা মৌসুমে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে জমি, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যকর উদ্যোগ না থাকার অভিযোগ তুলে জিওব্যাগ ফেলার দাবিতে রংপুর পাউবো কার্যালয় ঘেরাও করেছেন তিস্তা পাড়ের শতাধিক বাসিন্দা।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে রংপুর নগরীর আলমনগরে পাউবো কার্যালয়ের সামনে তারা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে কার্যালয় ঘেরাও করে দ্রুত ভাঙনকবলিত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে নদীভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে তিস্তা নদীতে কয়েক দফা ভাঙনে অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। কিন্তু বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও স্থায়ী বা জরুরি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর চর বাগডোগরা, মিনা বাজার বিনবিনা কোলকন্দ এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে চর মিনাবাজারের আব্দুল গোফ্ফার হোসেন বলেন, আমার বাড়িঘর রক্ষা করার জন্য টাকা তুলে একটা বাঁধ বানিয়েছিলাম, কিন্তু এবারের বন্যায় সেই বাঁধটাও ভেঙে গেছে। সেই সঙ্গে কয়েকটা বাড়িও ভেঙে গেছে। এখন আমার বাড়িও ভেঙে যাবে। পানি উন্নয়নের কর্মকর্তারা আমার কোনো খোঁজখবর নেয় না। সেইজন্য আমরাই তাদের খোঁজ নিতে এসেছি।
বাগডোহরা চরের বাসিন্দা গোলজার আহম্মেদ বলেন, এবারের বন্যায় ভেঙে যাচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। বাড়ি ভেঙে গেলে আমরা কোথায় থাকব সে চিন্তায় করছি। কিন্তু পাউবো কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা চাই চরগুলোর যেখানে ভাঙন দেখা দিয়েছে সেখানে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন বন্ধ করা হোক।
চর বিনবিনার মমিনুর রহমান বলেন, আমরা সবাই মিলে টাকা তুলে একটি বাঁধ দিয়েছিলাম। সেই বাঁধ এ বছর বন্যায় ভেঙে গেছে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানালে তারা আমাদের কয়েকটা বস্তা দেয় শুধু। এলাকায় টাকা তুলে সেই বস্তা ভরে আমরা ভাঙন রোধের চেষ্টা করি। কিন্তু এত অল্প বস্তা দিয়ে এত বড় ভাঙন রোধ করা যায় না। আমরা চাই পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদার নিয়োগ করে বাঁধগুলো সংস্কার করে দিক।
গঙ্গাচড়া উপজেলার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের পকেট ভরা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। এদিকে তিস্তার ভাঙনে প্রতিদিন মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে। সেদিকে তাদের কোনো খেয়াল নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।’
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, বাঁ তীরে এবং ডান তীরে কোথাও গুরুতর ভাঙন দেখা দেয়নি। আর যেখানে কিছুটা ভাঙন দেখা দিয়েছে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলে তা রোধ করা হচ্ছে। বাঁ তীরের ভাঙনের যে অভিযোগ নিয়ে এসেছে, সেটি মূলত নদীর ভেতরের অংশ; সেখানে কিছু মানুষ বসবাস করে।
৩ দিন আগে
রংপুরে ট্রাকচাপায় ২ নারী নিহত
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় বালুবাহী ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গঙ্গাচড়া থানার খলেয়া ইউনিয়নের পূর্ব খলেয়া রথবাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— নীলফামারী সদর উপজেলার চড়াইখোলা বাবুপাড়া এলাকার দুলাল সরকারের স্ত্রী রাধা রানী সরকার (৪০) এবং দ্বিজেন্দ্র নাথ সরকারের স্ত্রী অঞ্জনা রানী সরকার (৫০)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, একটি বালুবাহী ট্রাক জলঢাকার দিক থেকে পাগলাপীর অভিমুখে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে ট্রাকটি ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের আরোহী রাধা রানী সরকার ও অঞ্জনা রানী সরকার ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় গুরুতর আহত হন মোটরসাইকেলচালক অজিত চন্দ্র সরকার। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পুলিশ আরও জানায়, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও তার সহকারী পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনাকবলিত বালুবাহী ট্রাক ও মোটরসাইকেল জব্দ করে তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, নিহত দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
৪ দিন আগে
১০ বছর আগে ধসেছে সংযোগ সড়ক, এখনও সেতুতে উঠতে বাঁশের সাঁকোই ভরসা
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ৫ নম্বর বালাপাড়া ইউনিয়নের গোপিডাঙ্গা মৌলভি বাজার এলাকায় প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে নড়বড়ে ও জরাজীর্ণ একটি পাকা সেতু। একসময় এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা ছিল এই সেতু। তবে বন্যার পানিতে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে যাওয়ার পর প্রায় ১০ বছর ধরে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন ১০ গ্রামের অন্তত অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে জনদুর্ভোগ চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাউনিয়া উপজেলার ৫ নম্বর বালাপাড়া ইউনিয়নের গোপিডাঙ্গা মৌলভি বাজার এলাকার একমাত্র পাকা সেতুটির অবস্থাও এখন নাজুক। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সেতুটির একটি অংশ একপাশে মারাত্মকভাবে হেলে পড়েছে। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। জরাজীর্ণ এই সেতুটি এখন হাজারো মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
নড়বড়ে এই সেতুর ওপর কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি সাঁকো বসিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সেতুটি ধসে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে তৎকালীন সরকারের অর্থায়নে ও এলজিইডির বাস্তবায়নে ৩৭ লাখ ২৪ হাজার ১৮৩ টাকা ব্যয়ে পাকা সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ওই বছরের জুন মাসে সেতুটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মায়া।
সেতুটি নির্মাণের কয়েক বছর পর বন্যায় তিস্তার পানির তোড়ে এর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও সেতুর সংযোগ সড়ক মেরামত না করায় পথচারী ও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে অস্থায়ীভাবে কাঠ ও বাঁশের সমন্বয়ে পাটাতন বসিয়ে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় নিজেরাই সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছে এলাকাবাসী।
মৌলভি বাজার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও ঘোড়ার গাড়ি চলাচল করে। এছাড়া কৃষিপণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ হওয়ায় বাধ্য হয়েই আতঙ্ক নিয়ে প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ব্যবহার করছে এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটির এমন বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। রাতের বেলায় সেতুটি দিয়ে চলাচল আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সেতুর সংযোগস্থল মাটি ভরাট করে পাকাকরণ এবং সেতুর সংস্কারের দাবি জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেছে এলাকাবাসী। তবে সবাই শুধু আশ্বাস দিয়েই বছরের পর বছর পার করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, এমন ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে ১০ গ্রামের মানুষ চলাচল করছে। এত এত দুর্ভোগ, কষ্ট, অথচ এলাকার এমপি দেখেন না; কোনো উদ্যোগও গ্রহণ করেন না।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাফিজার রহমান বলেন, ওই ১০ গ্রামে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ বসবাস করে। সমস্যাটি সমাধানে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনেকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বড় সেতু তৈরির টাকা না থাকায় তা সম্ভব হয়নি।
ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান, নড়বড়ে পাকা সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রকৌশল দপ্তরে ৪ থেকে ৫ বার আবেদন করেও তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তারপরও চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, মৌলভি বাজার এলাকায় নতুন করে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনও হয়েছে। এ ছাড়াও ফিজিবিলিটি স্টাডি সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে এটি ডিজাইন পর্যায়ে রয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই টেন্ডার অনুমোদন হবে এবং এরপরই নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
৫ দিন আগে
ক্ষমতায় যারাই আসবে, তাদের শাসক নয়, সেবক হতে হবে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, বাংলাদেশে যারাই ক্ষমতায় আসবে, তাদের জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করতে হবে। ক্ষমতায় আসলে শুধুমাত্র শাসক নয়, জনগণের সেবক হতে হবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই শহিদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী ও জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন।
বেরোবির স্বাধীনতা স্মারক মাঠে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও রংপুর জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, ‘আবু সাঈদ মৃত্যুকে ভয় না করে দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশকে বলেছিলেন, “করো গুলি।” তিনি মৃত্যুকে জয় করেছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সব ছাত্র-জনতা মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে রাজপথে নেমেছিল। মা তার শিশুকে নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন, বাবা অফিস শেষ করে রাজপথে এসেছিলেন। আবু সাঈদ, ওয়াসীম ও মুগ্ধের রক্ত সারা বাংলাদেশকে নাড়া দিয়েছিল।’
আজকের দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক দিন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ ও লালন করে। যারাই ক্ষমতায় আসবে, তাকেই জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করতে হবে। তাই যারাই ক্ষমতায় আসবে, তাদের শাসক নয়, সেবক হতে হবে।’
শহিদ আবু সাঈদের কথা স্মরণ করে আহমেদ আযম খান বলেন, ‘আবু সাঈদ ১৬ জুলাই রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছেন, গণতন্ত্রকে মুক্ত করেছেন। আমরা তার কাছে চিরঋণী।’
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অনেকে বলে, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে দ্বিধা করছি। অথচ আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাইকে যথাযথ সম্মান করে সবার আগে আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব।’
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যতগুলো হল হওয়া দরকার, টিএসসি, আবু সাঈদ গেট ও আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভ হওয়া দরকার, সবগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘রংপুরে শিল্পকারখানা তৈরি করা হবে যার ফলে বেকারত্ব হ্রাস পাবে। বর্তমান সরকার শহিদদের চেতনা বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এগিয়ে যাবে।’
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ। ওই বছরের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এই শিক্ষার্থী পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তার মৃত্যুর খবর পুরো বিশ্বকে নাড়া দেয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
১৩ দিন আগে
রংপুরে বাসচাপায় মাদরাসা সুপার নিহত, ক্ষোভে বাসে আগুন দিল জনতা
রংপুর নগরীতে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় এক মাদরাসা সুপারিনটেনডেন্ট (সুপার) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করেন।
রবিবার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের মডার্ন মোড়ের দক্ষিণে তুলা গবেষণাকেন্দ্রের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আবুল কাশেম নগরীর জিয়াতপুকুর মাজার শরিফ দাখিল মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন। পাশাপাশি একটি মসজিদের ইমাম হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করতেন। তার বাড়ি মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের আটপুনিয়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবুল কাশেম তার সাত বছর বয়সী মেয়েকে মাদরাসায় পৌঁছে দিতে মোটরসাইকেলে করে লোকাল লেন দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় স্পেশাল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস হঠাৎ লেন পরিবর্তন করে লোকাল লেনে চলে এলে তিনি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার মুহূর্তে আবুল কাশেম তার মেয়েকে রাস্তার পাশে সরিয়ে দেওয়ায় শিশুটি অক্ষত থাকে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ করেন এবং বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। একই সঙ্গে বাসচালক ও তার সহকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
রংপুরের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসচালক পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর হয়েছে। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল এবং ওই এলাকায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
১৭ দিন আগে
জাতীয় বেইমান হবেন না, গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করব: শফিকুর রহমান
সরকারের উদ্দেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় বেইমান হবেন না। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে, অন্যথায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই সমাবেশের আয়োজন করে।
জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। পরিষ্কার কথা—আমরা জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি; লাড়াই আমরা করে যাব, গণভোট বাস্তবায়নে (সরকারকে) বাধ্য করব ইনশাআল্লাহ। এর থেকে এক চুল পরিমাণ আমরা সরব না। এই আবু সাঈদের রক্তে ভেজা রংপুরে আরেকবার এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করে গেলাম।
তিনি বলেন, যে বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ করার জন্য আমাদের সন্তানেরা লড়াই করেছিল, সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বাংলাদেশের একটা জায়গায় শুধু দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ভোট দেবেন দুটো—একটি আমার দলকে, আরেকটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’। তিনি প্রথমটা রক্ষা করেছেন, দ্বিতীয়টা রক্ষা করেন নাই।
শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকারি দল নির্বাচনের আগে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও’ আন্দোলন করেছে। কিন্তু তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে ১০ টাকারও কোনো বরাদ্দ নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, আগামীতে আপনাদের সহযোগিতা, দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থনে ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।
সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সীমান্ত। সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ করছে না, প্রতিরোধ করার জন্য বিজিবির সৈনিকদের সঙ্গে সমানতালে জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। আমরা এই সংগ্রামী বীরদের অভিনন্দন জানাই। সরকারের মুখ থেকে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসে নাই। কার ভয়ে, কাকে খুশি করার জন্য, কোন দেশের শাসক আপনারা ঠিক? বাংলাদেশের জনগণের নাড়ির পালস বুঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায় আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কী হয়, সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে সবারই সেই ছবক গ্রহণ করা উচিত। অতএব সাফ কথা—তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাইপানাই বুঝি না, তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
রংপুর বিভাগীয় এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলী আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়াও সমাবেশের শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
১৮ দিন আগে
পানি নামতেই ভয়াল তিস্তা, এক সপ্তাহে বিলীন ৪০ ঘরবাড়ি
কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজানের পানির কারণে কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি বাড়ার পর বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি কমলেও স্বস্তি ফেরেনি তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবনে। বরং পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তা যেন হয়ে উঠেছে আরও হিংস্র।
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের চর ঢুষমারা এলাকায় গত এক সপ্তাহে নদীতে বিলীন হয়েছে অন্তত ৪০টি পরিবারের ঘরবাড়ি। প্রতিদিনই ভাঙন এগিয়ে আসছে মানুষের ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনার দিকে।
চর ঢুষমারা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কিছুদিন আগেও যেখানে ছিল সারি সারি বসতবাড়ি, উঠান আর ফসলের জমি, সেখানে এখন শুধু তিস্তার উত্তাল স্রোত। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মতো ভাঙন দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ ঘরের টিন খুলে নিচ্ছেন, কেউ বাঁশ-খুটি সরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউবা চেষ্টা করছেন শেষ মুহূর্তে সংসারের সামান্য জিনিসপত্র বাঁচানোর।
স্থানীয়দের ভাষায়, বন্যার পানি কমার পর থেকেই ভাঙনের গতি বেড়েছে কয়েক গুণ। প্রতিদিনই নদীতে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও গাছপালা। ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলো বাস করছে খোলা স্থানে। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। আবার কেউ কেউ রাস্তার পাশে কিংবা উঁচু স্থানে অস্থায়ীভাবে মাথা গোঁজার চেষ্টা করছেন।
শুধু বসতবাড়িই নয়, নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে চর ঢুষমারা জামে মসজিদ, ফোরকানিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা এবং স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
নদীর একেবারে কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে সোলেমান, সুফিয়ান, সাবিল্লা বেগম ও রশিদ মিয়ার ঘর। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কয়েক দিনের মধ্যেই এসব স্থাপনাও বিলীন হতে পারে নদীতে।
চর ঢুষমারা গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বললেন, ‘তিস্তার ভাঙন আগেও দেখেছি আমরা, কিন্তু এবার যেভাবে এক সপ্তাহের মধ্যে এত মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেল, এমন দৃশ্য দেখিনি আগে।’
বসতভিটা হারানো বাদশা মিয়ার কণ্ঠে হতাশা, ‘পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিলীন হয়ে যাবে পুরো চর ঢুষমারা।’
‘আমরা ত্রাণ চাই না, চাই নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া শেষ হবে না এই দুর্ভোগের’, বলছিলেন জয়নাল আবেদীন। একই দাবি জানিয়ে আবেদ আলী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে সবাই বড় বড় কথা বলে, কিন্তু ভোট শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেয় না। প্রতি বছর ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে আমরা ক্লান্ত।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেজবাহুল রহমান জানিয়েছেন, পরিদর্শন করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে, যাতে দ্রুত সরকারি সহায়তা দেওয়া যায়।
চর ঢুষমারা এলাকার ভাঙনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলামও। শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
২৩ দিন আগে
রংপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেলের আরোহী দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতরা সম্পর্কে পিতা-পুত্র। এছাড়া তাদের সঙ্গে থাকা নাতি আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মানদ্রাইন এলাকার নির্মল চন্দ্র রায় (৭৫) ও তার ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় (৩৫)। প্রশান্ত পেশায় পল্লী চিকিৎসক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্মল চন্দ্র রায়, তার ছেলে প্রশান্ত এবং নাতি বন্ধন একটি মোটরসাইকেলে করে তুলশীহাটে দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। পথে মন্থনা বাজারে সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লাগে। এ সময় প্রশান্ত চন্দ্র রায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় নির্মল চন্দ্র রায়কে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। আহত বন্ধন চন্দ্র রায় বর্তমানে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর জানান, ট্রাকটির চালক পলাতক রয়েছে। ট্রাকটি থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২৭ দিন আগে