রংপুর
রংপুরে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার
রংপুরের পীরগঞ্জে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বজলু মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের আছমতপুর গ্রামে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত বজলু মিয়া ওই গ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনায় শিশুটির চাচাতো ভাই মিলন মিয়া আজ (শুক্রবার) পীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, শিশুটি আছমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গেল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর বাড়ির পাশের একটি ইউক্যালিপটাস বাগানে গাছের পাতা সংগ্রহ করতে গেলে বজলু মিয়া তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ হয়, ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার মাকে বিষয়টি জানায়। পরে স্বজনেরা তাকে মাইক্রোবাসে করে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পীরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তাজুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
২ দিন আগে
রংপুরে ছাদ ধসে ২ শ্রমিক নিহত: পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আটক
রংপুরের পীরগঞ্জে পৌরসভা ভবনের নির্মাণকাজ চলাকালে ছাদ ধসে দুই শ্রমিক নিহতের ঘটনায় পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহিম প্রামানিক টিপুকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক।
ওসি নাজমুল বলেন, নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে অবহেলা এবং কাজের গাফিলতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শ্রমিক নিহতের ঘটনায় পৌরসভার সচিব (পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা) টিপুকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলা হলে আটককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়টি মাথায় রেখে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ইউএনও।
এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় পৌরসভার নির্মীয়মাণ ভবনে ১৩ জন শ্রমিক ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন। হঠাৎ সাটারিং ভেঙে পড়লে চারজন নিচে চাপা পড়েন।
খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক গাইবান্ধার সাদুল্লাহপুর থানার আসাদুল হক (৩০) ও রংপুর সদর থানার শিহাবকে (১৯) মৃত ঘোষণা করেন। আর আহতদের অবস্থার অবনতি হলে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
৪ দিন আগে
নির্মীয়মাণ পৌরসভা ভবনের ছাদ ধসে ২ শ্রমিক নিহত
রংপুরের পীরগঞ্জে নির্মীয়মাণ পৌরসভা ভবনের ছাদ ধসে দুই শ্রমিক নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার আরাজীগঙ্গারামপুর ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারি।
নিহতরা হলেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার আছাদুল হক ও রংপুরের শিহাব। আহতদের মধ্যে লিটন মণ্ডল, সেলিম মিয়া ও বাবলা মিয়া ছাড়া বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার নির্মীয়মাণ ভবনটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করতে সকাল থেকে ১৩ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। বিকেলে হঠাৎ সাটারিং ভেঙে পড়লে কয়েকজন শ্রমিক নিচে চাপা পড়েন।
খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আছাদুল হক ও শিহাবকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত শ্রমিকদেরও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভিশন-২০২০ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে বলে জানা গেছে।
পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা নাজমুল সরকার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, পৌরসভার ভবন নির্মাণকাজের দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ দুর্ঘটনার পেছনে কারও গাফিলতি থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
৫ দিন আগে
রংপুরে চার খুন: আলামতে অস্তিত্ব মিলল দুই আসামির ডিএনএর
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় আলামতে পাওয়া জৈবিক নমুনার সঙ্গে গ্রেপ্তার দুই আসামির ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
তিনি জানান, নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া খেজুর, শসা, সিগারেটের ফিল্টারসহ কয়েকটি আলামতে গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। ডিএনএ পরীক্ষায় এসব আলামতে পাওয়া জৈবিক নমুনার সঙ্গে তাদের ডিএনএ মিলে গেছে। এতে হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে দুই আসামির অবস্থানের বিষয়ে তদন্তে নতুন ফরেনসিক তথ্য যুক্ত হলো।
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে ওদের (সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ) যে আমরা ডিএনএ স্যাম্পলিং করাইছি, সেখানে আলামতে পাওয়া ডিএনএর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ম্যাচ করেছে।’
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা বাড়িতে অবস্থান করে খেজুর ও শসা খেয়েছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খেজুরের বিচি, কামড় দেওয়া শসার অংশ ও সিগারেটের ফিল্টারে পুরুষের ডিএনএর অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। তখন এসব নমুনা কার, তা শনাক্ত হয়নি। আসামিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে এসব আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয় তদন্তকারী সংস্থা।
ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরদিন ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করার কথা জানায় পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টির বেশি আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের ফয়েল, সিগারেটের শেষাংশ, নানরুটি, শসা, খেজুর, বেসিনের দাগ, নিহত শিশুর খাতায় পাওয়া একটি লেখাসহ বিভিন্ন আলামত ছিল। এসব আলামত কয়েক দফায় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরে ২০ সেপ্টেম্বর দুই আসামিকে ঢাকায় নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় গত ২২ আগস্ট রাতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলাটি বর্তমানে ডিবি তদন্ত করছে।
৯ দিন আগে
তিস্তার পানি বাড়া-কমায় পাকা ধান নিয়ে ১৮০ চরের কৃষকের দুশ্চিন্তা
উত্তরের তিস্তা নদীবেষ্টিত ১৮০টি চরের কৃষকের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। তিস্তার পানি কখনও বাড়ছে, আবার কখনও কমছে। পানির এমন ওঠানামায় রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলার চরাঞ্চলের কৃষকরা পাকা ধান নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে পানি বেড়ে গেলে নিচু জমির পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
কৃষি বিভাগ থেকে অবশ্য আগাম জাতের পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চরের কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পুরো চরাঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলেও জানান আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বকর সাইফুল ইসলাম।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, পাঁচ জেলার ১৮০টি চরে এবার ২২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। তিস্তার পানি ওঠানামা না করলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বকর সাইফুল ইসলাম জানান, সাধারণত মধ্য অক্টোবরের পর তিস্তার পানি ওঠানামা করে। আগের বছরগুলোতে তিস্তার পানিতে পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা বেকায়দায় পড়েছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার কৃষকরা লাভবান হবেন।
চরাঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বিভিন্ন চরের জমিতে আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই এসব জমির ধান কাটার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে তিস্তার পানি ওঠানামা করায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। হঠাৎ পানি বাড়লে পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকরা জানান, চরাঞ্চলের অনেক জমি নদীর কাছাকাছি ও নিচু। ফলে হঠাৎ পানি বেড়ে গেলে এসব জমি দ্রুত প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাকা ধান পানিতে ডুবে গেলে ঘরে তোলার আগেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
হরিশ্বর গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘যখন পানির দরকার হয়, তখন পানি পাওয়া যায় না। আবার যখন ফসল ঘরে তোলার সময় আসে, তখন পানি বাড়লে আমাদের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। কয়েক দিন পর ধান কাটার কথা। তার আগ পর্যন্ত আতঙ্কেই থাকতে হচ্ছে।’
গদাই গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সারা বছর পরিশ্রম করে ধান ফলিয়েছি। এখন শুধু ঘরে তোলার অপেক্ষা। এই সময়ে নদীর পানি বেড়ে গেলে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।’
কৃষকদের দাবি, আমন ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত তিস্তার পানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। পানিবৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিলে চরাঞ্চলের কৃষকদের দ্রুত সতর্ক করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। এতে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন তারা।
ভোটমারী চরের কৃষক সাহানুর রহমান জানান, গত বছর এই সময়ে তিস্তার পানিতে তার সাড়ে তিন বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার তিনি চরে সাত বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আবহাওয়া খারাপ, তিস্তার পানি ওঠানামা করছে। জানি না এবার কী হবে।’
এদিকে চর গড্ডিমারীর কৃষক মনিরুজ্জামান সরকারের জমিতে তিস্তার পানি উঠেছে। তিনি বলেন, ‘বড় চিন্তায় রয়েছি, কী হবে? পাকা ধান ঘরে তুলতে পারব কি না, তা নিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে হতাশায় ভুগছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, তিস্তার চরাঞ্চলের পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি বা বন্যার আশঙ্কা দেখা দিলে তাদের আগাম সতর্ক করা হবে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান ঘরে তোলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
১০ দিন আগে
ধানক্ষেত থেকে ভ্যানচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
রংপুরের পীরগঞ্জে বিপুল চন্দ্র বর্মন (৪২) নামের এক ভ্যানচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বড় মজিদপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিপুল চন্দ্র বর্মন উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মহান চন্দ্র বর্মনের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিজস্ব জমিজমা না থাকায় বিপুল অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদের পাশাপাশি দিনমজুরির কাজ করতেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে রাতে ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালান তিনি।
প্রতিদিনের মতো গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন বিপুল। এরপর রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরে আজ (মঙ্গলবার) সকালে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পান।
স্থানীয়রা জানান, এদিন সকালে বড় মজিদপুর মৌজায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পশ্চিম পাশে একটি ধানক্ষেতে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশে একটি ভ্যানও পড়ে ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে ধানক্ষেতের বেশ কিছু ধানগাছ ভাঙা ছিল। এ থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভ্যান ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে বিপুলের ধস্তাধস্তি হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পীরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের আটকে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
১২ দিন আগে
কাশফুলে সেজেছে উত্তরের চর
শরতের মায়াবী বিকেলে উত্তরাঞ্চলে নদ-নদীর চরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কাশফুলের শুভ্রতা। তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রের বুকে জেগে ওঠা চরগুলোতে কাশফুলের দোল খাওয়া সৌন্দর্য প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করছে। দূর থেকে মনে হয়, শিল্পীর তুলিতে আঁকা কোনো জীবন্ত ছবি।
নদ-নদীর বুক চিরে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা কাশের গুচ্ছ বাতাসে দুলছে। সবুজ ঘাসের মধ্যে পালকের মতো নরম ধবধবে সাদা কাশফুলের সারি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে টানছে, একই সঙ্গে ভ্রমণপিপাসুদের জানাচ্ছে উষ্ণ অভ্যর্থনা। কাশফুলের ঘ্রাণ ও শুভ্রতা উপভোগ করতে ছুটে আসছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
শরতের আকাশে পড়ন্ত বিকেলে নদীর পাড়জুড়ে কাশফুল যেন সাদার মায়াবী চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। কাছে গেলে দেখা যায়, সবুজের বুক চিরে মাথা উঁচু করে থাকা কাশফুল হিমেল বাতাসে দুলছে। প্রকৃতির এই অপরূপ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।
স্থানীয়রা জানান, নদীর পাড়ে জেগে ওঠা চরগুলোর শত শত বিঘা জমিতে বেড়ে উঠেছে কাশ। পড়ন্ত বিকেল থেকে এসব চরে বাড়তে থাকে মানুষের আনাগোনা। কেউ আসেন প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে, কেউবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে কিছুটা সময় কাটাতে।
সরেজমিনে ইসলামপুর চরে গিয়ে দেখা যায় দর্শনার্থীদের মিলনমেলা। এ সুযোগে অনেকে ফুচকাসহ নানা রকমের খাবারের দোকান বসিয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই বিক্রেতা জানান, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ কাশফুলের বন দেখতে আসেন। চরে সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকায় তারা একটি ক্যাফে দিয়েছেন। সেখানে বোতলজাত পানি, কোমল পানীয়, ফুচকাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পাওয়া যায়। বেচাকেনাও ভালো। দুপুরের পর থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের আনাগোনা থাকে।
১৫ দিন আগে
রংপুরে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসহ বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
রংপুর নগরীর দক্ষিণ গুপ্তপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিষ্ণুমূর্তি এবং চারটি কালো পাথরের খণ্ডাংশ উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাতে এগুলো উদ্ধার করা হয়। আজ (শুক্রবার) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি ১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গ্রেপ্তাররা হলেন— নগরীর গুপ্তপাড়ার মিজান (৪২), হারাগাছ থানার নয়াবাজার গ্রামের মোজাফফর হোসেন (৩৭) এবং কাউনিয়া থানার সোনাতন সিদ্দিক বাজার গ্রামের মাজেদুল ইসলাম (২৯)।
এসআরবি ১৩ জানায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যে এসআরবি-১৩ সদস্যরা বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর দক্ষিণ গুপ্তপাড়ার এ কে এম হুমায়ুন কবিরের চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ১৫ দশমিক ১ কেজি ওজনের একটি কালো পাথরের বিষ্ণুমূর্তি এবং ৬ দশমিক ৮ কেজি ওজনের চারটি কালো পাথরের খণ্ডাংশ উদ্ধার করে এসআরবি-১৩। এ সময় মূর্তি চোরাচালান চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় এসআরবি বাদী হয়ে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। উদ্ধার হওয়া মূর্তিসহ জব্দ আলামত এবং গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৬ দিন আগে
আবু সাঈদের বাড়ি-কবরস্থান উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে: শাহে আলম
শহিদ আবু সাঈদের বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ, তার মা-বাবার থাকার ব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কত সুন্দর সুন্দর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, সেগুলোকে সমর্থন না দিয়ে দেশের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কোনো অপতৎপরতাই কাজে আসবে না, সরকার তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।
এ সময় তিনি শহিদ আবু সাঈদের বাড়ি ও কবর সৌন্দর্য বর্ধন করার জন্য এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনা দূর করতে সরকার কাজ করছে। আবু সাঈদের আত্মত্যাগ শুধু ইতিহাসের অংশ নয়, এটি তরুণ সমাজ ও ছাত্র-জনতার জন্য অনুপ্রেরণা। তার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে আন্দোলন সারা দেশের মানুষকে রাজপথে নামিয়েছিল, তা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
শহিদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আবু সাঈদ গণ-অভ্যুত্থানের বীর। আমরা আবু সাঈদকে ছড়িয়ে দিতে চাই। তার বাড়ির উন্নয়ন ও কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে ঘোষিত এক কোটি টাকার কাজ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য জেলা প্রশাসককে নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
এছাড়া রংপুর স্টেডিয়ামকে শহিদ আবু সাঈদের নামে করার আগ্রহের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের নাম ইতোমধ্যে ‘শহিদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম’ করা হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বেহেশতের কথা বলে ভোট নিয়েছে, কিন্তু মসজিদ, মাদরাসা, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় শিক্ষকদের নিয়ে চিন্তা করেনি। তাদের নিয়ে চিন্তা করেছেন তারেক রহমান। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, স্বাস্থ্য কার্ড, খাল খনন, কর্মসংস্থান, খেলাধুলার উন্নয়নসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে আগামী চার বছরে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
কৃষকদের ভূমিহীন, প্রান্তিক, মধ্যম ও উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিবেচনা করে কার্ড দেওয়া হবে। এ জন্য তাদের তদবিরের প্রয়োজন হবে না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে সম্মানীর অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালুর চিন্তা করছে সরকার। এর মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে তেল-গ্যাসের বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য সরকার দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সাময়িক অসুবিধার কথা জানিয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিরোধীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, লংমার্চ করে কখনও সমস্যার সমাধান হবে না। আপনাদের কোনো সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলুন। একই সঙ্গে সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা মূল্যায়নের জন্য সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় জেলা পরিষদ প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুন্নবীর ডনসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৯ দিন আগে
রংপুরে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবার মৃত্যুর অভিযোগে মামলা
রংপুরের পীরগাছায় ছেলের ছুরিকাঘাতে মাহাবুর হোসেন ওরফে মহুবর (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক। এর আগে গতকাল (শুক্রবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চর তাম্বুলপুর ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাহাবুর হোসেন ওরফে মহুবর ওই এলাকার মৃত ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে। তার মৃত্যুর জন্য ছেলে হাসানুর রহমানকে (২২) দায়ী করছেন পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীরা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মাহাবুর হোসেনের সঙ্গে তার ছেলে হাসানুর রহমানের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাসানুর রহমান ছুরি দিয়ে তার বাবাকে আঘাত করেন। এতে বাবা মাহাবুর হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের সঙ্গে হাসানুর রহমানের সম্পর্ক ভালো ছিল না। দুপুরের দিকে হাসানুরের শাশুড়িসহ কয়েকজন তাদের বাড়িতে আসেন। কিন্তু হাসানুর তাদের অসম্মান করায় বাবা ও ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাগান্বিত হয়ে শাশুড়ির সামনেই ছেলেকে থাপ্পর দেন বাবা।
বাবার শাসনের বিষয়টি ভালোভাবে নেননি হাসানুর। পরে রাতে আবারও বাবা-ছেলের কথা কাটাকাটি হয়। ওই সময়ই পাশে থাকা একটি ছুরি দিয়ে বাবার বুকে আঘাত করেন হাসানুর। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে তাকে রমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি সেলিম মালিক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২২ দিন আগে