গাছ কাটা
সড়ক সংস্কারের বলি সুনামগঞ্জের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মূল্যবান গাছ
সুনামগঞ্জ বনবিভাগ ১৫টি লটে নানা প্রজাতির ৬ হাজার ৪০৯টি মূল্যবান কাঠ গাছ পানির দরে বিক্রি করে দিয়েছে। সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক চার লেন প্রকল্পের কাজের সুবিধার্থে রাস্তা প্রশস্ত করতে গাছগুলো কাটা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য অভ্যন্তরীণ সড়কের সংস্কারের জন্যও একই প্রক্রিয়ায় গাছ কাটা হচ্ছে।
কাঠ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সর্বনিম্ন দর ধরলেও এই গাছের মূল্য অন্তত ২৫ কোটি টাকা হবে। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে প্রায় ২৫ কোটি টাকার মূল্যবান এসব গাছ মাত্র ১ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ৩৭৫ টাকায় নিলাম দেওয়া হয়েছে। এখন গাছের বড় বড় ফালিগুলো রাতের আঁধারে কার্গো ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সুনামগঞ্জ বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯৯৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মেহগনি, আকাশমনি, জারুল, কড়াই, রেইনট্রিসহ কয়েকটি প্রজাতির গাছ সড়কের দুই পাশে লাগানো হয়েছিল। এ গাছগুলোর বয়স প্রায় ১৫-৩৫ বছর পর্যন্ত। তাই বয়স অনুপাতে প্রতিটি গাছই পরিপক্ব ও মূল্যবান কাঠের উপযোগী। বর্তমান বাজার দরে প্রতিটি গাছের মূল্য ৩০ হাজার থেকে অন্তত ১ লাখ টাকা হবে। তবে গড়ে প্রতিটি গাছের মূল্য কম করে হলেও ৪০ হাজার টাকা হবে বলে জানিয়েছেন কাঠ ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সুনামগঞ্জ-সিলেট-পাগলা-আউশকান্দি সড়ক, সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কসহ আঞ্চলিক মহাসড়ক ও স্থানীয় সড়কগুলোর সংস্কার কাজ চলছে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ ও পাগলা-আউশকান্দি সড়কে প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। রাস্তা প্রশস্তকরণের সুবিধার্থে সরকার এসব সড়কের গাছ নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।
বন বিভাগ জরিপ করে ১৫টি লটে ৬ হাজার ৪০৯টি গাছের দরপত্র আহ্বান করে। এর মধ্যে ১১টি লটে নিলাম দরপত্র পায় টাঙ্গাইল নতুন বাজার এলাকার মেসার্স শিমুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রহিম মিন্টু এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বড়গাছ এলাকার বাসিন্দা মোসাইদ আলী পান চারটি লটের গাছ।
মোসাইদ আলীকে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট ১৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে চিঠি দেন সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর। পরবর্তীতে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি মেসার্স শিমুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রহিম মিন্টুকে ১১টি লটের নিলামে গাছের মূল্য বাবদ ৮৯ লাখ ১১ হাজার ৬২৫ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে চিঠি দেন সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান। ১৫টি লটে নিলামকৃত এই মূল্যবান কাঠগাছের দাম কম করে হলেও ২৫ কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, সুনামগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে ইকবাল নগর পর্যন্ত ২টি লটে ৬৮০টি গাছ, টুকের বাজার থেকে নিয়ামতপুর পর্যন্ত ৫টি লটে ১ হাজার ৯২৩টি গাছ, শান্তিগঞ্জ থেকে সুলতানপুর-উজানীগাঁও পর্যন্ত ১টি লটে ৩২২টি গাছ, জগন্নাথপুর-মমিনপুর-মজিদপুর পর্যন্ত ১টি লটে ৭২০টি গাছ, একই সড়কের হাবিবনগর থেকে ৭ নম্বর সেতু পর্যন্ত ১টি লটে ২২৮টি গাছ, জগন্নাথপুরের ইছগাঁও রাণীগঞ্জ থেকে ১টি লটে ১ হাজার ২৫২টি গাছ, কুশিয়ারা সেতু থেকে ইনাতগঞ্জ পর্যন্ত ১টি লটে ৪০০টি গাছ, সৈয়দপুর-শাহারপাড়া রোডে তিনটি লটে আরও ৮৮৪টি গাছ রয়েছে।
সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের গাছগুলো ১৯৯৩ সাল থেকে এবং পাগলা আউশকান্দি সড়কে গাছগুলো ২০০৯ সালে লাগানো হয়। পরিবেশবিদরা জানান, বর্তমানে তিনটি সড়কের প্রতিটি গাছই পরিপক্ব ও কাঠের জন্য মহামূল্যবান।
কাঠ ব্যবসায়ীরা জানান, ১০-১৫ বছর বয়সী একটি মেহগনি গাছের গড় বাজারদর ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু সুনামগঞ্জ বনবিভাগ ১৫-৩০ বছর বয়সী গাছগুলো মাত্র ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে নিলামে বিক্রি করে দিয়েছে। সরকারি মূল্য তালিকার দোহাই দিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে মনগড়া জরিপ করে মাত্র ৭০০ থেকে ২৫০০ টাকা ঘনফুট দরে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শিমুল এন্টারপ্রাইজ সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের ৩৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় সাড়ে ৫ হাজার গাছের প্রতিটি মাত্র ১ হাজার ৩৯১ টাকা দরে কিনে নেয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, এই সড়কের গাছগুলো বড় ও বেড়ও বেশি। সড়কের প্রতিটি গাছের দাম ৪০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত হবে বলে জানিয়েছেন কিছু ব্যবসায়ী। কিন্তু বনবিভাগ ঠিকাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে মাত্র ৮৯ লাখ ১১ হাজার ৬২৫ টাকায় নিলামে বিক্রি করে দেয়। এভাবে পানির দামে গাছগুলোকে নিলামে বিক্রি করে দিয়ে সরকারের রাজস্বের ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের মোসাইদ আলীও প্রায় ১৫ বছর বয়সী পরিণত দেড় হাজারেরও অধিক কাঠগাছ মাত্র ১৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকায় কিনে নেন। হাজারেরও নিচে পড়েছে প্রতিটি গাছের মূল্য। এভাবে সরকারের কমপক্ষে ২৫ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানই ৮০ ভাগের বেশি গাছ কেটে নিয়ে গেছে।
‘হাওর বাঁচাও’ আন্দোলনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যেই আছে শুভঙ্করের ফাঁকি। তাছাড়া বন বিভাগ প্রচলিত বাজারদর অনুসরণ না করে, গাছগুলোর বেড় যথাযথভাবে না মেপে জরিপ করে ঠিকাদারদের স্বার্থ দেখে প্রতিবেদন জমা দিয়ে সরকারকে মোটা অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেছে। অথচ এই গাছের টাকা দিয়েই সরকার পুরো সড়কটির উন্নয়নকাজ করে দিতে পারত।
সুনামগঞ্জ হাওর, নদী ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মিজানুর রহমান রাসেল বলেন, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক, পাগলা-আউশকান্দি, সুনামগঞ্জ-নিয়ামতপুর সড়কে গাছের নিলামের নামে দুর্নীতি হয়েছে। সরকারের কোটি কোটি টাকার গাছ মাত্র ১ কোটি টাকায় নিলাম দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে বন বিভাগ ও ঠিকাদারের যোগসাজশ রয়েছে। ইউনূস সরকারের সময়ের এই ভয়াবহ দুর্নীতির তদন্ত হওয়া উচিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স’মিল মালিক বলেন, প্রতিটি গাছের গড় মূল্য অন্তত ৪০ হাজার টাকা হবে। লাকড়িও হবে কোটি টাকার। কিন্তু বনবিভাগ নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিয়েছে। এতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে।
মেসার্স শিমুল এন্টারপ্রাইজের পরিচালক আব্দুর রহিম মিন্টুর প্রতিনিধি শামীম আহমদ বলেন, নিলাম হয়েছে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। আমাদের প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে দরপত্র পেয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়নি। সরকারি দর অনুযায়ীই আমরা নিলাম পেয়েছি।
সুনামগঞ্জ বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার মো. আতিকুর রহমান বলেন, আমি সম্প্রতি যোগদান করেছি। নিলাম প্রক্রিয়া, মূল্য নির্ধারণ, ওয়ার্ক অর্ডার প্রদান কোনো কাজেই আমি যুক্ত ছিলাম না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন। তবে যা কিছু হয়েছে সরকারি সিদ্ধান্তেই হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের মোবাইল নম্বরে কল দিলে তিনি তা ধরেননি।
৭ দিন আগে
ঝালকাঠিতে বন বিভাগের গাছ কাটা বন্ধের দাবিতে মানবন্ধন
ঝালকাঠিতে গাছ কাটা বন্ধের দাবিতে মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্র ইউনিয়ন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান নদীর পাড়ে পুরাতন রাস্তার দুই পাশে প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকায় সম্প্রতি অনুমোদনের পর বন বিভাগ প্রায় ২ হাজার গাছ কাটতে শুরু করেছে। দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদারদের কাছে ১ হাজার ৮১৫টি গাছের বিনিময় মূল্য ৬০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ঠিকাদাররা গত এক সপ্তাহে অতি মূল্যবান ১২০টি গাছ কেটে ফেলায় পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ছাত্র ইউনিয়নের বক্তারা।
এ সময় তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে গাছ কাটার কাজ বন্ধ করার দাবি জানান। মানববন্ধনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঝালকাঠি জেলা আহ্বায়ক কাজী মো. আসিফ, সদস্য মো. ইরফান ও রাসেল বক্তব্য দেন।
জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকিরুল হক সরকার বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী ভাঙন রোধের কাজের কারণে গাছ কাটার নির্দেশ দিয়েছে। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকও অনুমতি দিয়েছেন।
২১ দিন আগে
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সামাজিক বনায়নের গাছ কাটা যাবে না: পরিবেশ উপদেষ্টা
সামাজিক বনায়নের গাছ রক্ষা করতে হবে জানিয়ে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এসব গাছ কাটা যাবে না। আকাশমণি ও ইউকেলিপটাস নয়, দেশীয় গাছ লাগাতে হবে।’
তিনি বলেছেন, ‘সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীরা গাছ বিক্রির লভ্যাংশের পরিবর্তে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড থেকে সমপরিমাণ অর্থ পাবেন।’
রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রংপুর সার্কিট হাউজে বন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষায় সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় জরুরি। বন ধ্বংস, দূষণ ও পানি সংকট মোকাবিলায় এককভাবে কাজ না করলে হবে না। খরা, বন্যা ও নদীভাঙন মোকাবিলায় জলাধার সংরক্ষণ, বন পুনর্স্থাপন ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
আরও পড়ুন: প্রকৃতি সংরক্ষণের জায়গা হবে বোটানিক্যাল গার্ডেন: পরিবেশ উপদেষ্টা
এ সময় তিনি পাথর ভাঙা রোধ ও অবৈধ ইটভাটা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করার নির্দেশ দেন। বাঁধের পাশে বেশি করে দেশীয় গাছ লাগাতে ও এই কর্মকাণ্ডে স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করতে বলেন।
সভায় বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা তাদের কার্যক্রম ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। এ সময় তারা জানান, রংপুর অঞ্চলে বন উজাড়, শিল্প ও কৃষিখাতে দূষণ এবং পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিরলসভাবে কাজ করা হচ্ছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম তাহমিদুল ইসলাম, বগুড়া সামাজিক বন সার্কেলের বন সংরক্ষক মুহাম্মদ সুবেদার ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মো. মাহবুবর রহমান ও পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক এ কে এম রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
৪২১ দিন আগে
গাছ কাটা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি কেন নয়: হাইকোর্ট
পরিবেশ রক্ষায় সারাদেশের গাছ কাটা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- তা জানতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
রিট আবেদনটির উপর গত সোমবার ও মঙ্গলবার শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান এবং বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে রুল জারি করেন।
সম্প্রতি তাপমাত্রা অত্যধিক বৃদ্ধি ও জনজীবন অতিষ্ঠ হওয়ার মধ্যেও বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ গত রবিবার (৫ মে) হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করে।
আরও পড়ুন: ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচন হাইকোর্টে স্থগিত
রুলে সারাদেশে গাছ কাটা বন্ধে (ব্যক্তি মালিকানাধীন গাছ ব্যতীত) ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না; ঢাকা শহর সহ অন্যান্য জেলা এবং উপজেলা শহরে গাছ কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না; সামাজিক বনায়ন বিধিমালা ২০০৪ এর বিধানে গাছ লাগানোর চুক্তিভুক্ত পক্ষকে অর্থ প্রদানের বিধান সংযুক্ত করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না; গাছ কাটা নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে ৭ দিনের মধ্যে পরিবেশবাদী, পরিবেশ বিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপকদের সমন্বয়ে একটি সাত সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গাছ কাটা বন্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৭ দিনের মধ্যে একটি সার্কুলার ইস্যু করে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা পরিবেশ অফিসার, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজকর্মী, পরিবেশবাদী, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি/সেক্রেটারি এবং সিভিল সার্জনের সমন্বয়ে কমিটি কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না; গাছ কাটা বন্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৭ দিনের মধ্যে একটি সার্কুলার ইস্যু করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজকর্মী, পরিবেশবাদী, সমাজকল্যাণ অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব ল্যান্ড এবং এলজিইডি এর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারে সমন্বয়ে কমিটি গঠনের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না; কমিটি গঠন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সকল বিবাদীগণ নিজ নিজ এলাকায় যাতে কোনো গাছ কাটা না হয় সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালণয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র; দুই সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশল, প্রধান বন সংরক্ষক; সড়ক মহাসড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী ও বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপিকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
মঙ্গলবার আদালতে শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রাক্কালে ও সরকারের অঙ্গীকার পরিবেশ রক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যত্রতত্র গাছ কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিভিন্ন মিডিয়ায় যেভাবে রিপোর্ট প্রকাশিত হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে গাছ কাটার এক মহা উৎসব চলছে।
মনজিল মোরসেদ, শুনানিতে আরও বলেন, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য ঢাকা শহরে যে পরিমাণ গাছপালা থাকা দরকার তা দিন দিন কমছে এবং সম্প্রতিকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মানুষের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। যার কারনে সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। অন্যদিকে সামাজিক বনায়ন চুক্তিতে সারাদেশে লাগানো গাছগুলো কেটে ফেলার কারণে পরিবেশের উপর বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। যা বন্ধ না হলে বাংলাদেশের পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে ও মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আরও পড়ুন: তাপপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনা গ্রহণে নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট
ইসলামপুর পৌর মেয়রকে বরখাস্তের আদেশ হাইকোর্টে স্থগিত
৬৯৯ দিন আগে
ফরিদগঞ্জে গাছ কাটার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে গাছ কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আবদুর রহমান নামে দিনমজুর যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৬ মার্চ) দুপুরের দিকে গাছ কাটার সময় এ ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় বাস চাপায় প্রতিবন্ধী কিশোরের মৃত্যু
নিহত আবদুর রহমান আবু মুসা পাটওয়ারীর ছেলে এবং পৌর এলাকার কাছিয়ারা গ্রামের হাসান আলী পাটোয়ারি বাড়ির বাসিন্দা।
ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা রিপন মিয়া জানায়, তার নানা আলী আকবরের সুপারিগাছ কাটার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন আবদুর রহমান।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্বার করে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত প্রদীপ মন্ডল ইউএনবিকে জানান, আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: আহত পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু
যাত্রাবাড়ীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু
৭৫১ দিন আগে
বন বিভাগের অনুমতির আগেই ২০০ গাছ কেটে ফেলল সিসিক
সিলেটে সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণের জন্য প্রায় ২০০ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। গাছ কাটার জন্য বন বিভাগের অনুমতি নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকার এই গাছগুলো কেটেছে খোদ সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।
গত সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত সিসিকের কর্মীরা উপশহরের সড়কের পাশের দুই শতাধিক গাছ কেটে ফেলে। আর কেটে ফেলা গাছগুলো টুকরো করে সড়কের পাশে রাখা হয়েছে। কেটে ফেলা গাছ ইতোমধ্যে বিক্রিও করা হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। ট্রাকে করে সেগুলো সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতে গাছ কেটে অধিকাংশ বিক্রি করে ট্রাকে করে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। স্থানীয় একটি চক্র গাছ কেনাবেচায় কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে। খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করে কেনাবেচার সত্যতা পেয়েছে।
বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার পাওয়া আফতাব চৌধুরী উপশহর এলাকারই বাসিন্দা। এই সড়কের পাশের গাছগুলো তিনিই রোপন করেছিলেন। আফতাব চৌধুরী বলেন, ‘এই গাছগুলোর অধিকাংশ আমার হাতে লাগানো। কোনো বাছবিচার ছাড়াই নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে। যেখানে ৫০টির মত গাছ কাটা প্রয়োজন সেখানে ২০০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এই ২০০টি গাছ একেকটি এক লাখ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার মতো।’
পড়ুন: দারিদ্র বিমোচনে ভূমিকা রাখছে ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল’ পালন
সিসিকের প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরে ১৫ কিলোমিটার এলাকায় ড্রেন নির্মাণ ও রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। শাহজালাল উপশহর এলাকার সি ব্লকের ২১, ৩৭ ও ৩৮ নম্বর রাস্তায় সম্প্রতি ড্রেন ও রাস্তা বড় করার কাজ শুরু হয়। ওই এলাকার রাস্তার দুই পাশে রেইনট্রিসহ নানা প্রজাতির এসব গাছ ১৯৯০ সালের দিকে লাগানো হয়েছিল।
বন বিভাগের বিধিমালায় আছে, ব্যক্তি মালিকানাধীন অথবা সরকারি জমি থেকে গাছ কাটার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। এরপর তদন্ত করে গাছ কাটার যৌক্তিকতা পাওয়া গেলে গাছের দরদাম নির্ধারণ ও পরবর্তী আরও গাছ লাগানোর শর্তে গাছ কাটার অনুমতি দেয়া হয়। এ প্রক্রিয়া বন বিভাগের মাধ্যমে করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
জানা যায়, ড্রেন নির্মাণে উপশহর এলাকার কিছু গাছ কাটার জন্য বন বিভাগের কাছে আবেদন করে সিসিক। তবে বন বিভাগ এখনও গাছ কাটার অনুমতি দেয়নি। অনুমতি পাওয়ার আগেই কেটে ফেলা হয়েছে ২০০ গাছ।
বন বিভাগের সিলেট শহর রেঞ্জের রেঞ্জার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘উপশহরে রাস্তার দুই পাশে ড্রেন নির্মাণ করতে কিছু গাছ কাটার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে ১৭ অক্টোবর বন বিভাগকে একটি চিঠি দেয় সিটি করপোরেশন। পরদিন আমাদের কর্মীরা সেখানে গিয়ে দেখেন গাছ কাটা হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ঠিক কী পরিমাণ গাছ কাটা হয়েছে এবং কাটা গাছগুলো কোথায় নেয়া হয়েছে, তা আমরা খোঁজ নিচ্ছি।
শ্রমিকরা না বুঝেই গাছ কেটে ফেলেছে জানিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘ওইখানে ড্রেন নির্মাণ ও সড়ক সম্প্রসারণ হবে। এজন্য কিছু গাছ কাটা প্রয়োজন। গাছ কাটার জন্য আমরা বন বিভাগকে চিঠিও দিয়েছি। তবে অনুমতি পাওয়ার আগেই সিটি করপোরেশনের কিছু লোক গাছ কেটে ফেলেছেন। এ ব্যাপারে দায়ীদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।’
সিটি করপোরেশন গাছ রক্ষায় খুবই আন্তরিক দাবি করে তিনি বলেন, ‘উপশহরে গাছ কাটার বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হবে। আর যাতে অকারণে কোনো গাছ কাটা না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়াব।’
পড়ুন: হারিয়ে যাচ্ছে মুরাদনগরের ‘মৃৎশিল্প’
‘ফাতেমা’ জাতের ধানে বিঘায় ৫০ মণ ফলন
১৬২৯ দিন আগে
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ না কাটার নির্দেশ হাইকোর্টের
ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটা আগামী ২০ মে পর্যন্ত বন্ধ রাখতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
নির্দেশনার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানাতে অ্যাটর্নি জেনারেল এ. এম. আমিন উদ্দিনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২০ মে পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে আজ এই আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ. এম. আমিন উদ্দিন।
আরও পড়ুন: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটা বন্ধে হাইকোর্টে রিট
গত ৯ মে আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রেস্টুরেন্ট স্থাপনের জন্য গাছ কাটা বন্ধ করতে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
এর আগে গত ৬ মে আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রেস্টুরেন্ট স্থাপনের জন্য গাছ কাটা বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আরও একটি আইনি নোটিশ পাঠান এই আইনজীবী। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ, গণপূর্ত বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. শামিম আখতার এবং চিফ আর্কিটেক্ট অব বাংলাদেশ মীর মনজুর রহমানকে এ নোটিশ পাঠিয়েছিলেন তিনি।
নোটিশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছিল। অন্যথায় প্রতিকার চেয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছিল। এর প্রতিকার না পেয়ে তারই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা করা হয়।
এছাড়াও ছয়টি সংগঠন ও এক ব্যক্তি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শতবর্ষী ও বিলুপ্তপ্রায় পাখিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে সেখানকার গাছ না কাটতে সরকার সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠায়।
গত ৬ মে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফরমস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), নিজেরা করি, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), আইন ও শালিস কেন্দ্র (আসক) এবং স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন এই নোটিশ পাঠান।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে এই নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বিনষ্টকরণ হতে বিরত থাকতে, এ উদ্যানের শতবর্ষী ও বিলুপ্তপ্রায় পাখিদের আশ্রয়স্থল বৃক্ষগুলোকে না কাটতে এবং ইতোমধ্যে কর্তন করা বৃক্ষগুলোর জায়গায় একই প্রজাতির তিন গুণ বৃক্ষ রোপণের দাবি জানানো হয়।
পরবর্তীতে এই ৬ সংগঠন ও স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন একটি রিট করেছেন হাইকোর্টে। বর্তমানে রিট আবেদনটি শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
১৭৯১ দিন আগে