কুষ্টিয়া
দুই যাত্রীকে ছুরিকাঘাত, কুষ্টিয়া স্টেশনে ট্রেন আটকে বিক্ষোভ
কুষ্টিয়া শহরের কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে বাবা ও ছেলেকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে উঠেছে ট্রেনের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ যাত্রী ও স্থানীয়রা প্রায় দুই ঘণ্টা ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনে আটকে রেখে বিক্ষোভ করেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ট্রেনটি আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। তাদের বিক্ষোভের মুখে ট্রেনের লোকোমাস্টার ও টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) পালিয়ে যান।।
আহতরা হলেন— শফিউল আওয়াল সুমন (৪০) ও তার বাবা আব্দুর রহিম (৬৫)।
আহত শফিউল আলম সুমন জানান, তিনি তার অসুস্থ মাকে নিয়ে কোর্ট স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠার সময় একজন কর্মচারী তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই কর্মচারী তাকে ও তার বাবাকে ছুরিকাঘাত করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জনতা ও যাত্রীরা ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে রেখে বিক্ষোভ করেন। এ সময় ট্রেনের লোকোমাস্টার ও পরিচালক সেখান থেকে পালিয়ে যান। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইতি বলেন, আমরা অফিসের ভেতর ছিলাম। এখান থেকেই শুনতে পেলাম যে ট্রেনের কর্মচারী দ্বারা যাত্রী হেনস্তার শিকার হয়েছেন। তাদের ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান জানান, আহত অবস্থায় শফিউল্লাহ ও আব্দুর রহিম নামে দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তারা এখন আশঙ্কামুক্ত।
ট্রেনের একজন কর্মচারী জানান, দুইজন যাত্রী ‘খ’ বগি দিয়ে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় ভেতরে থাকা কর্মচারীর সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ট্রেনের এক কর্মচারী তাদের ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ইউএনও হারুন অর রশিদ বলেন, দুপুর সোয়া ২টার দিকে ট্রেনটি ছেড়ে গেছে। হামলার শিকার যাত্রীরা থানায় অভিযোগ দিলে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় চা বিক্রেতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ এলাকায় সামিরুল শাহ (৬০) নামে এক চা বিক্রেতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ব্যাংগাড়ি-ধর্মদহ সড়কের পাশে ধর্মদহ এলাকার একটি মাঠে থাকা বাঁশের মাচার ওপর তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে তেকালা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত সামিরুল তেকালা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত বিশারদ শাহের ছেলে। তিনি পেশায় চা বিক্রেতা ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাদের পরিবার মূলত পার্শ্ববর্তী মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলা থেকে এসে দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় বসবাস করে আসছে।
পুলিশ জানায়, নিহতের শরীর ও মুখে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।
২ দিন আগে
পদ্মায় জেলের জালে ধরা পড়লো ৪০ কেজির বিশাল কাতলা
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে জেলের জালে ধরা পড়লো এক মণ ওজনের বিশাল কাতলা মাছ। পরে মাছটি ৪৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয় বলে জানা গেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে পদ্মা নদীর রায়টা পাথরঘাট এলাকায় মাছটি ধরা পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (শনিবার) বিকেলে স্থানীয় জেলে মুরাদ প্রতিদিনের মতো মাছ শিকারের উদ্দেশে কিছু সংখ্যক জেলেদের নিয়ে পদ্মা নদীতে বেড়জাল ফেলেন। জাল ফেলার কয়েক ঘণ্টার পর বিকেল ৫টার দিকে জেলেরা জালে বড় একটা কিছুর অস্তিত্ব লক্ষ করেন। এক পর্যায়ে জাল কিনারায় আনলে তারা দেখতে পান বিশালাকার কাতলা মাছটি।
জেলেরা জানান, এত বড় মাছ এর আগে তাদের জালে কোনোদিন ওঠেনি।
তারা জানান, কাতলা মাছটির ওজন হয়েছে ৪০ কেজি। প্রতি কেজি ১ হাজার ১৫০ টাকা দরে মাছটির মোট দাম হয়েছে ৪৬ হাজার টাকা।
ভেড়ামারার বাসিন্দা রিপন আলীসহ কয়েকজন মিলে পরবর্তীতে মাছটি কিনে ভাগ করে নেন।
এ সময় মাছটি দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করে। অধিকাংশই জানান, তাদের জীবদ্দশায় এত বড় মাছ এর আগে কখনও দেখেননি। এমনকি পদ্মা নদীর এই অংশে এত বড় মাছ ধরা পড়েছে কি না তাদের জানা নেই।
১৪ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় অপহৃত তিন শিশুকে ঢাকা থেকে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলওয়ে জংশন থেকে অপহরণের শিকার তিন শিশুকে উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। এ ঘটনায় মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ জুন) পোড়াদহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির খান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উদ্ধার হওয়া শিশুরা হচ্ছে মিরপুর উপজেলার উত্তর কাটদহ এলাকার সুমনের ছেলে সিফাত (১০) হাসেমের ছেলে রাজ (১০) এবং একই এলাকার বেলাল হোসেনের ছেলে মোমিন (৯)।
ওসি নাসির খান জানান, গত ২৭ এপ্রিল সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে পোড়াদহ রেলওয়ে জংশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে সিফাত, মোমিন ও রাজ নামের তিন শিশুকে সুকৌশলে অপহরণ করা হয়। পরে অপহরণকারীরা মহানন্দা লোকাল ট্রেনে করে ওই তিন শিশুকে প্রথমে যশোরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাদের বিক্রির উদ্দেশ্যে ঢাকায় নিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সিফাতের মা মোছা. শেফালী আক্তার গত ৬ জুন রাতে পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্য কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার গোপালপুর এলাকার টুটুলের স্ত্রী ফতে আক্তার (৩৫) ও হৃদয়ের স্ত্রী শাহানাজ বেগমকে (৪০) গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা তিন শিশুকে অপহরণ করার কথা স্বীকার করেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল (সোমবার) রাতে ঢাকায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়ে অপহৃত তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত শিশুদের প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মানবপাচার চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তাররে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৪৮ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অর্ধশতাধিক
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় প্রশিক্ষণার্থী সেনাসদস্য বহনকারী একটি বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী আকেটি বাসের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক ব্যক্তি।
রবিবার (৩১ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার তালবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া থেকে খুলনাগামী ৩৯ জন প্রশিক্ষণার্থী সেনাসদস্য বহনকারী একটি বাসের সঙ্গে কুষ্টিয়া থেকে টাঙ্গাইলগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে বাস দুটি সড়কের পাশের ঢালে নেমে কাত হয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ৩২ জন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আরও বেশ কিছু মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। তাদের মধ্যে ৮ জন নারী এবং বাকিরা পুরুষ।
আহতদের মধ্যে সেনা সদস্যের সংখ্যাই বেশি। তবে সকলেই বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। এ ঘটনায় একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লিচুবাহী একটি পিকআপ-ভ্যানকে পাশ দিতে গিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
৫৬ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় যাত্রীবাহী বাস উল্টে খাদে পড়ে নিহত ৪
কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের খোকসায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে একটি বাস খাদে পড়ে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০-২৫ জন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।
শনিবার (২১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খোকসা শিয়ালডাঙ্গী মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তানহা পরিবহনের একটি বাস রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়ার দিকে আসছিল। পথিমধ্যে খোকসা শিয়ালডাঙ্গী মসজিদের সামনে পৌঁছালে একটি ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষের উপক্রম হয়। পরে ভ্যানটিকে বাঁচাতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাসটি খাদে পড়ে যায়।
খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুল হক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জনের মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। এছাড়া আহত ২০ জনকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে। এরমধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারজনকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ইকবাল হাসান জানান, আশঙ্কাজনক অবস্থায় আনা ৪ জনের মধ্যে একজন নারী এবং একজন পুরষ মারা গেছেন। বাকি ২ জন পুরুষকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৬৪ দিন আগে
প্রেমের টানে বগুড়া থেকে কুষ্টিয়ায়, এরপর বিষ খেয়ে হাসপাতালে যুবক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণীর সঙ্গে পরিচয়। পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে প্রেম। প্রেমের পরিণতি দিতে বিয়ে করতে বগুড়া থেকে কুষ্টিয়ায় ছুটে এসে মেয়ের বাড়িতে অনশনে বসেন যুবক। মেয়ে এবং মেয়ের পরিবার একপর্যায়ে বিয়েতে রাজি হলেও ছেলের পরিবার রাজি না হওয়ায় অভিমানে বিষপান করে এখন হাসাপাতালে ভর্তি ওই যুবক।
চিকিৎসকরা তার শরীর থেকে বিষ উত্তোলন করেছেন। বর্তমানে ওই যুবক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে এখন দুই পরিবারের কেউই ওই যুবকের আর কোনো খোঁজ খবর নিচ্ছে না। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের চৌদুয়ার এলাকায়।
যুবকের নাম ইলিয়াস সরদার। বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের নিচ্চুনপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর ধরে টিকটক এবং ফেসবুকের মাধ্যমে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ইলিয়াসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের চৌদুয়ার এলাকায় এক তরুণীর। দুজনের বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ইলিয়াস চলে আসেন মেয়ের বাড়িতে। এসে বিয়ের দাবি জানালে একপর্যায়ে মেয়ের পরিবার বিয়ে দিতে রাজি হলেও ছেলের পরিবার মানতে নারাজ। উল্টো তার বাবা-মা তাকে বকাবকি করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অভিমানে ওই যুবক বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ইলিয়াস সরদার বলেন, মেয়ে রাজি, আমিও রাজি, মেয়ের পরিবারও রাজি, কিন্তু আমার পরিবার থেকে কেউ আসছে না, তাই বিয়েও হচ্ছে না। আমার বাবা-মা না আসায় আমাদের বিয়ে হচ্ছে না। এখন আমি এখানেই থেকে যাব।
বাবা-মা বকাবকি করার কারণেই যে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, সেকথাও অকপটে স্বীকার করেন তিনি।
মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পিযূষ কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত ১১ মে রাতে ইলিয়াস নামের এক যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকরা তার শরীর থেকে বিষ বের করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত, তবে পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
আজ (বুধবার) সকাল পর্যন্ত ওই যুবকের পরিবার থেকে কেউ হাসপাতালে আসেনি বলেও জানান এই চিকিৎসা কর্মকর্তা।
৭৪ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কসহ গুলিবিদ্ধ ১০
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— রবিউল ইসলাম (৩৬), তার পিতা হাফেজ প্রামাণিক (৭০), সোহেল রানা (৪৫), তার স্ত্রী তমা খাতুন (২৬), কামরুল ইসলাম (৩৭), মুন্নি খাতুন (২৪), রুনা খাতুন (২৭), মিতা খাতুন (৩০), তৌহিদুল ইসলাম (৩০) ও তার স্ত্রী মেরিনন খাতুন (২৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১১টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় মরিচা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম (৩৬) নিজ বাড়ির সামনে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় রবিউলের চিৎকারে তার বাবা-মা ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত নারী-পুরুষসহ তার পরিবারের সদস্যরা গুলিবিদ্ধ হন। পরে হামলাকারীরা এলাকা ত্যাগ করেন।
আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতাল থেকে আজ রবিউল ইসলামের মামা লিয়াকত মেম্বার জানান, হামলার কারণ সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। কারা এই হামলা চালিয়েছে, তাও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমার ভাগ্নের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। রাতে হঠাৎ করেই ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল এসে হামলা চালায়। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সবাইকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে ১০ জন গুলিবিদ্ধ হন।’
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, রাতে মরিচা ইউনিয়নে কয়েক রাউন্ড গুলির ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রবিউল ইসলাম গুরুতর আহত। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলার কারণ এখনও জানা যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৯৬ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় বিএনপির কার্যালয়ে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ, গুলিবিদ্ধ ১
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ডাবলুর কার্যালয় লক্ষ্য করে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় স্থানীয় চায়ের দোকানদার শুকুর আলী গুলিবিদ্ধ হন।
শনিবার (৭মার্চ) রাত পৌনে ৯টার দিকে ভেড়ামারায় দক্ষিণ রেলগেট-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শনিবার) রাতে ৪-৫ জন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র ও ককটেল নিয়ে ভেড়ামারা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডাবলুর অফিসের নিচে এসে তাকে গালিগালাজ করে। এ সময় তারা উপজেলা যুবদল নেতা ও বালু ব্যবসায়ী উজ্জল স্বর্ণকারকে খুঁজতে থাকে। এরপর ডাবলুর অফিস লক্ষ্য করে ৬-৭ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে ও দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে অফিসের পাশের চায়ের দোকানদার শুকুর আলী গুলিবিদ্ধ হন। অফিসের অন্য পাশের দোকানের বেশ কয়েকটি অ্যাকুরিয়াম ভেঙে যায়। ঘটনার সময় পৌর ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা-কর্মীরা অফিসেই ছিলেন।
ভেড়ামারার ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, গতকাল সারাদিনই বালু ঘাটের পরিস্থিতি নিয়ে ভেড়ামারার অবস্থা উত্তপ্ত ছিল। সকালে উপজেলার বাহাদুরপুরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। দুপুরের পর বাহিরচর ইউনিয়নের টিকটিকি পাড়ার বালুঘাটে বিএনপির একটি পক্ষ অন্য পক্ষের কার্যালয় ভাঙচুর করে। এ সময় একটি পেলুটারসহ বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। মূলত আগের ঘটনার জেরেই পৌর বিএনপি সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়ে রাতে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
গুলিবিদ্ধ চা দোকানি শুকুর আলী বলেন, হঠাৎ করে ছোট একটি গুলি এসে আমার গলায় লাগে। বেশ কয়েকজন দুর্বৃত্ত গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ করে স্থান ত্যাগ করে।
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডাবলু বলেন, আমার অফিসে দুর্বৃত্তরা গুলি ও ককটেল ছুঁড়েছে। চা দোকানি শুকুর আলী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তারা আমার অফিস গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। আমি রাজনীতির পাশাপাশি প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার। শত্রুতার জেরে কেউ এমন কাজ করেছে।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে। পুলিশ দুর্বৃত্তদের আটক করার জন্য কাজ করছে।
১৪০ দিন আগে
কুমারখালীর কাপড়ের হাটের সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলার ঘোষণা এমপি আফজালের
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ঐতিহ্যবাহী কাপুড়িয়া হাট পরিদর্শন করেছেন কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা–কুমারখালী) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে তিনি হাটে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। বিশেষ করে বাজারে অনিয়ম ও সিন্ডিকেট কার্যক্রমের অভিযোগ সামনে আসে। এসব বিষয়ে এমপি ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অস্বাস্থ্যকর প্রভাব বিস্তার বরদাশত করা হবে না। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও একটি সুশৃঙ্খল বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারেন, সে দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন এ সংসদ সদস্য।
এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমারখালী পৌরসভা শাখার নেতা ও বাজার কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বাজার উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
১৫২ দিন আগে