চাঁদপুর
চাঁদপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে হত্যারে দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড, অপরজনের যাবজ্জীবন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ওমর সরকারকে (৪৫) গলা কেটে হত্যার অপরাধে জয় বিশ্বাস অনিক (২১) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর আসামি হৃদয় সূত্রধরকে (২১) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের দুজনকেই ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) মো. কামাল হোসাইন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জয় বিশ্বাস অনিক মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার বাসিন্দা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হৃদয় সূত্রধর মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর সারপাড় এলাকার বাসিন্দা।
হত্যার শিকার ব্যবসায়ী ওমর সরকার মতলব দক্ষিণ উপজেলার সারপাড় এলাকার রবি ভক্তের ছেলে ছিলেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে ওমর সরকার নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মাধবী শিল্পালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে আসামিরা যোগসাজশে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন।
ওই রাতেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য জয় বিশ্বাস অনিক নিজেই ওমর সরকারকে কেউ হত্যা করেছে—এমন সংবাদ তার বাবার কাছে পৌঁছান। পরে রবি ভক্ত ও তার বড় ছেলে জীবন কৃষ্ণ বাড়ির অদূরে (প্রায় ৮০ গজ) দাস বাড়ির উঠানে গিয়ে ওমর সরকারের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনার পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি ওমর সরকারের বাবা রবি ভক্ত মতলব দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত আসামি হৃদয়কে ২৩ ফেব্রুয়ারি ও জয় বিশ্বাসকে ২৪ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করে।
মামলাটির তদন্ত করেন তৎকালীন মতলব দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান। তিনি তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১০ মে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি সালমা বেগম বলেন, মামলাটি চলমান অবস্থায় আদালত ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য গ্রহণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করায় বিচারক এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জয় বিশ্বাস অনিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং অপর আসামি হৃদয় সূত্রধর জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন।
এ মামলায় আসামিপক্ষে সরকারি কৌঁসুলি ছিলেন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
৫ দিন আগে
চাঁদপুরে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২০
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বালুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচোঁ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—কুমিল্লার সদর দক্ষিণের সদরের বালুবাহী ট্রাকটির চালক আবদুল ওহাব (৪৫), বাসের চালক গাইবান্ধার কামাল (৪০) ও বাসচালকের সহকারী বাগেরহাটের শোভন (৩৫)।
শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনায় বাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গিয়ে কয়েকজন যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েন। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি জানান, নোয়াখালী থেকে যশোরগামী আল-আরাফা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাস ও ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা উদ্ধার কার্যক্রমে যোগ দেন। আহতদের উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার ইউএনবিকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আহত ১৮ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা এই হাসপাতালে চলছে।
ওসি মীর মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার কারণে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
৭ দিন আগে
দায়িত্ব অবহেলায় চাঁদপুরের সিভিল সার্জনকে তাৎক্ষণিক বদলির নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় এক মাস ধরে অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন ও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ইনজেকশন মজুতসহ প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই নাই দেখে এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীনকে তাৎক্ষণিক বদলির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে বিভিন্ন অনিয়ম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সিভিল সার্জনকে উত্তরবঙ্গের কোথাও তাৎক্ষণিক বদলির জন্য মুঠোফোনে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের নতুন ভবণ নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস এবং হাসপাতালের চলমান পরিস্থিতি উন্নতি করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দেন।
স্বস্থ্যমন্ত্রী প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা হাসপাতালের রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুরো হাসপাতাল ঘুরে দেখেন।
হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজ গত কয়েক বছর ধরে পতিত সরকারপুষ্ট ঠিকাদারের গাফিলতিতে ধীর গতিতে চলছে বলে অনেকের অভিযোগ।
এ হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, বেশ কয়েক বছর যাবত এখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক (শিশু ডাক্তার, ডেন্টাল ডাক্তার, গাইনী ও মেডিসিন ডাক্তার) এবং অ্যাম্বুল্যান্সও নেই। ফলে নদীবেষ্টিত এ উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের সাধারণ জনগণ ও প্রসূতি মায়েরা এবং শিশুরা এখানে সুষ্ঠু চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আরও জানা গেছে, হাসপাতালে আগত বহু রোগী এই হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা না পেয়ে বেসরকারি হাসপাতালের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হচ্ছে।
২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টে সরকার পরির্তনের পর ওই বছরের ১৬ অক্টোবর ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন চাঁদপুরের সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদান করেন বলে জানা যায়।
এদিন দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে সকল ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তাদের নিয়ে এক সভা করেন। এতে জেলার সার্বিক স্বাস্থ ব্যবস্থা উন্নয়ন নিয়ে আলাপ আলোচনা করেন তিনি।
মন্ত্রীকে স্বাগত জানান হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. একে এম মাহবুবুর রহমান। এ সময় চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যাহ সেলিম, হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় এবং হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদন্নবী মাছুম উপস্থিত ছিলেন।
৯ দিন আগে
চাঁদপুরে ৩১ ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে বদলি
চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত ৩১ জন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে (সাবেক ইউপি সচিব) একযোগে বদলি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চাঁদপুরের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। জেলার আট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন কর্মরত এসব কর্মকর্তাকে একযোগে বদলী করে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
এ অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ৩১ জন ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়।
জেলা প্রশাসন সুত্র জানায়, বদলির তালিকায় চাঁদপুর সদর, হাইমচর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ ও কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা রয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার জারি করা এ আদেশের অনুলিপি চাঁদপুরের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একযোগে এ বদলির ফলে জেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন কর্মপরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১১ দিন আগে
বেইলি সেতু ধসে মতলব-দাউদকান্দি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, দুর্ভোগে কয়েক উপজেলার মানুষ
চাঁদপুর-মতলব-দাউদকান্দি-ঢাকা সড়কে দাউদকান্দির খামারপাড়ায় খিরাই নদের ওপর দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ বেইলি সেতু হঠাৎ ধসে পড়ায় চাঁদপুর, মতলব দক্ষিণ, মতলব উত্তর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, হাইমচরের ঢাকাগামী লাখ লাখ লোকের দুর্ভোগ চরমে ।
শনিবার (১ আগস্ট) রাতে হঠাৎ এ সেতুটি ধসে পড়ে। সেই থেকে এ গ্রামের মানুষগুলোর চলাচলের সীমাহীন কষ্ট।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে স্থানীয় মজনু মিয়া, আবুল কাসেমসহ অনেকে জানান, গত শনিবার রাতে হঠাৎ এ সেতুটি হুমমুড় করে নিচে ধসে পড়ে। সে সময় নিচ দিয়ে ধীরে ধীরে চলা কয়েক হাজার ইটভর্তি একটি বাল্কহেডের ওপর সেতু পড়ায় সেটি নদীতে তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর বাল্কহেডের ১৬/১৭ জন শ্রমিক কোনোভাবে সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণ বাঁচান।
তারা আরও জানান, ওই শ্রমিকদের মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সাসহ অনেক মুল্যবান জিনিসপত্র নদীতে হারিয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটি ভেঙে পড়ার পর থেকে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষার্থীরা দেশি নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন।
রেন্ট-এ-কারের ড্রাইভার মফিজ বকাউল, ফারুক মিয়া ও কবির হোসেনসহ দুর্ভোগে পড়া অন্যান্য যাত্রীরা বলেন, চাঁদপুর, মতলব দক্ষিণ, মতলব উত্তর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ ও হাইমচরের এলাকার কয়েক লাখ মানুষ ও হাজার হাজার যানবাহন মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাধ্যমে রাজধানীতে স্বল্প সময়ে সরাসরি গুরুতর রোগী নিয়ে যেতে ও ফিরতে দৈনিক যাতায়াত করত। তবে সেতুটি ধসে পড়ার পর থেকে তাদের এখন ১৫-২০ কিলোমিটার ঘুরে ভিন্ন পথে গৌরীপুর হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। এর ফলে ব্যায় হচ্ছে অতিরিক্ত সময়, জ্বালানি তেল; লাগছে অতিরিক্ত ভাড়া।
চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক আব্দুল হামিদও একই কথা জানান।
এ ব্যাপারে স্থানীয় দাউদকান্দি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম ইউএনবিকে জানান, এখানে নতুন পাকা সেতু হবে। এটির জন্য সরকার ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, নড়বড়ে বেইলি সেতুটির নাটবল্টু খোলার জন্য একজন ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই ঠিকাদারের কাজের ত্রুটির জন্য এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন এলজিইডি প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম।
তবে কবে নাগাদ যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালু হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
ভুক্তভোগী লোকজন জনস্বার্থে ভাঙা এ সেতুর পাশে একটি অস্থায়ী বিকল্প সেতু নির্মাণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কৃর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছেন।
১৩ দিন আগে
মাটির নিচে গাঁজার ভাণ্ডার, চাঁদপুরে নারী মাদক কারবারি আটক
চাঁদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) একটি বিশেষ অভিযানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে প্রায় ১১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাসলিমা বেগম নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে ডিএনসি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁদপুর শহরের চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ বাইপাস সড়কের ভূঁইয়া বাড়ি এলাকা হঠাৎ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের একটি দল এ অভিযান চালায়।
ডিএনসি সূত্র জানায়, অভিযানের সময় তাসলিমা নামে এক নারীকে আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বসতঘরের বারান্দায় তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে বিশেষ কৌশলে মাটির নিচে পুঁতে রাখা একটি প্লাস্টিকের ড্রামের সন্ধান পান অভিযানকারীরা।
পরে মাটির ভেতর থেকে ড্রামটি তোলার পর খুলে তল্লাশি চালালে এর ভেতর থেকে প্রায় ১১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মাদক জব্দ করে হেফাজতে নেয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁদপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান ইউএনবিকে জানান, ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর আটক নারী স্বীকার করেন যে দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মিজানুর রহমান বলেন, চাঁদপুরকে মাদকমুক্ত রাখতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসা ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে কঠোর ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।
১৪ দিন আগে
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই চাঁদপুরে সেতুতে ফাটল
চাঁদপুরের মতলব পৌরসভা এলাকায় প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুতে কাজ শেষ হওয়ার আগেই বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছিল। এসব অভিযোগের প্রতিবাদ করায় বর্তমানে ঠিকাদার নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
ঘটনাটি মতলব পৌরসভার শহীদ উল্যাহর দোকান থেকে বড়দিয়া বাজার সড়কের ইছহাক মিজির বাড়ি-সংলগ্ন নির্মাণাধীন সেতুর।
প্রায় ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই সেতুর স্থানে আগে ১০ ফুটের একটি কালভার্ট ছিল। প্রায় চার মাস আগে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। একই প্রকল্পের আওতায় সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কও নির্মাণ করার কথা রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে সেতুটির বিভিন্ন অংশে দৃশ্যমান ফাটল দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই এ ধরনের ফাটল প্রকল্পটির গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
৩১ দিন আগে
চাঁদপুরে ডাকাতির সময় গৃহবধূকে হত্যা, আরেক নারী আহত
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গভীর রাতে জানালা ভেঙে বসতঘরে ঢুকে রিগান আক্তার মিম (২৬) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করেছে ডাকাতদল। এ সময় তাদের হামলায় আহত হয়েছেন একই পরিবারের আরেক গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার (২৪)। এ সময় ঘরে থাকা কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করে স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিয়ে যায় ডাকাতরা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শাহরাস্তি পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাওলা গ্রামের বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিম ওই গ্রামের মৃত সেলিম বেপারীর পুত্রবধূ। নিহতের আড়াই বছর বয়সী একটি মেয়ে ও চার মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান আছে। তার স্বামী রনি ঢাকায় চাকরি করেন। ঘটনার সময় বাড়িতে দুই গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু ছিল।
আহত গৃহবধূ সুমাইয়া জানান, রাত ১২টার দিকে তিন মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। পরে মুখ ঢাকা দুই ব্যক্তি তাদের ঘরে প্রবেশ করে ছুরি দেখিয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্র দিতে বলেন। তিনি ভয়ে আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যেতে বললে ডাকাতরা হঠাৎ তার ওড়না দিয়ে দুই হাত বেঁধে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে তার কানের দুল, আলমারি থেকে আরেক জোড়া দুল ও একটি আংটি নিয়ে যান ডাকাতরা। এরপর তারা পাশের কক্ষে প্রবেশ করেন।
তিনি আরও জানান, পাশের কক্ষ থেকে বড় জায়ের কান্নার শব্দ শুনতে পেলেও হাত বাঁধা থাকায় তিনি তাকে সাহায্য করতে পারেননি।
প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন জানান, মিমের ঘর থেকে চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। ভেতরে ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে জানালার কাছে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও তিনি কোনো সাড়া পাননি। তখন ডাকাতির সন্দেহ হলে তিনি চিৎকার করেন। এ সময় কয়েকজন প্রতিবেশী ছুটে আসেন।
কিছুক্ষণের মধ্যেই মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরই মধ্যে স্থানীয়রা বাড়িটির বসতঘরের পূর্ব পাশের একটি জানালা খোলা দেখতে পান। ভেতরে তাকিয়ে মিমকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এ সময় পুত্রবধূদের দাদা-শ্বশুর নুরুল ইসলাম গেট খুলে দিলে স্থানীয়রা ঘরে প্রবেশ করেন। তারা ছোট গৃহবধূকে হাত বাঁধা অবস্থায় কান্নারত দেখতে পান। পরে অন্য ঘরে গিয়ে মিমকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। স্বজনরা ওড়না খুলে তাকে জাগানোর চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। পরে স্থানীয় একজন চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সুমাইয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম বলেন, রাতে তিনি বাড়ির লোহার গেটে তালা লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে জেগে উঠে গেট খুলতে গিয়ে দেখেন, গেটটি বাইরে থেকে আটকানো থাকলেও তালাটি নেই। পরে বাড়ির বাইরে অক্ষত অবস্থায় তালাটি পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান ইউএনবিকে বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।’
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, ‘এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।’
৩৪ দিন আগে
চাঁদপুরে মেঘনার ঘূর্ণিস্রোতে কার্গোডুবি, ৫ হাজার বস্তা ধান-চাল পানিতে
চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনায় উত্তাল মেঘনার প্রবল ঘূর্ণিস্রোতে ৫ হাজার বস্তা ধান ও চালবোঝাই একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুরানবাজার ঘাট-সংলগ্ন মোহনায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তবে কার্গোতে থাকা মাঝিমাল্লাসহ পাঁচ শ্রমিক সাঁতরে অন্য নৌকার সাহায্যে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হওয়ায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
কার্গোটির চালক এরশাদ মাঝি জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) পাবনা থেকে ৩ হাজার ৫০০ বস্তা চাল এবং ১ হাজার ৫০০ বস্তা ধান নিয়ে ‘পারবো’ নামের কার্গোটি চাঁদপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। আজ (বুধবার) সকালে পুরানবাজার ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছালে তিন নদীর মোহনায় তীব্র ঝড় ও ঘূর্ণিস্রোতের কবলে পড়ে। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কার্গোটি উল্টে পানিতে ডুবে যায়।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার সময় কার্গোতে থাকা পাঁচজন শ্রমিক অন্য নৌকার সাহায্য দ্রুত সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন পাটোয়ারী জানান, ডুবে যাওয়া ধান ও চাল পুরানবাজারের সাতজন ব্যবসায়ীর মালামাল। এ ঘটনায় তাদের প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এদিকে, চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর হোসেন বলেন, কার্গোডুবির বিষয়ে এখনও আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য আসেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আপডেট জানানো হবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) চাঁদপুর নদী বন্দরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, কিছুক্ষণ আগে ঘটনাটি জেনেছি। দুর্ঘটনার কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি জানতে আমাদের নৌ-নিরাপত্তা বিভাগের উপপরিচালক বাবু লাল বৈদ্যকে ঘটনাস্থলে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনায় ঝড় ও সৃষ্ট তীব্র ঘূর্ণিস্রোত ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে প্রায়ই নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তাই এ নৌপথে চলাচলকারী কার্গো ও অন্যান্য নৌযানকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কর্তৃপক্ষকে সতর্কবার্তা জারির আহ্বান জানান তারা।
৪১ দিন আগে
বিরোধের জেরে রাস্তা বন্ধ, চাঁদপুরে অবরুদ্ধ শিক্ষক পরিবার
জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে টানা তিন মাস ধরে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের এক শিক্ষক পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে পরিবারটি। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পুকুরের পাড় ঘেঁষে ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতে যাতায়াত করতে হচ্ছে পরিবারের শিশুসহ সব সদস্যদের।
এ ঘটনা ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৬ নম্বর রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর সাহেবগঞ্জ এলাকার ফজল বেপারী বাড়িতে।
রবিবার (২২ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে চলাচলের পথে প্রতিপক্ষের দেওয়া বাঁশ ও কাঁটাযুক্ত বেড়ার কারণে কার্যত ঘরবন্দী হয়ে পড়েছে এ পরিবারটি।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা তাছলিমা সুলতানা জানান, তিনি সাহেবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা। তার স্বামী মো. রাসেল হোসেন সরকারি চাকরির সুবাদে ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন। তাদের স্কুল পড়ুয়া ৩টি সন্তান রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত চলাচলের পথ জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবে বাড়িতে প্রবেশের সুযোগ না থাকায় অমানবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।
তাছলিমা সুলতানা বলেন, ‘সারা দিন বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান শেষে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরি। কিন্তু নিজের ঘরে প্রবেশের কোনো স্বাভাবিক পথ নেই। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের রাস্তায় কাঁটা ও বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে অমানবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে প্রতিদিন বাড়িতে প্রবেশ করতে হচ্ছে। একজন শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের ওপর এমন অন্যায় ও সামাজিক নির্যাতনের বাস্তব চিত্র না দেখলে কেউ এটা উপলব্ধি করতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আমাকেই নয়, আমার ছোট ছোট সন্তানদেরও একইভাবে পুকুরে নেমে বাড়িতে যেতে হয়। সারা দিন বাচ্চাদের পড়ানো শেষে যখন বাড়ি ফিরি, তখন নিজের ঘরে ঢুকতেও অন্যের অত্যাচার সহ্য করতে হয়। একজন শিক্ষিকা হয়ে আমি আজ নিজ ভূমিতে অবরুদ্ধ ও অসহায়।’
ভুক্তভোগী পরিবার আরও অভিযোগ করে, গত ১৬ জুন তাছলিমা সুলতানা বেড়া পার হয়ে ঘরে প্রবেশ করতে গেলে প্রতিপক্ষের লাসমিন আক্তার দা নিয়ে তাকে আক্রমণের চেষ্টা করেন এবং সোহেল হোসেন প্রকাশ্যে কোপানোর হুমকি দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় তারা একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং থানায় অভিযোগ ও মামলা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তাদের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের পথ বন্ধ করে রেখেছে এবং পরিবারটিকে নিয়মিত ভয়ভীতি ও মানসিক হয়রানি করছে।
এদিকে, ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলালউদ্দীন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এই বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ আসেও নাই। থানায় এসে আমাদের বিস্তারিত জানালে, অভিযোগ দিলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বলেছেন, তিনি এ ব্যাপারে চেষ্টা করছেন। কিন্তু সমাধানে আসতে পারেননি।
ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, সমস্যাটি নিয়ে এলাকার চেয়ারম্যানও সমাধান করতে ব্যার্থ হয়েছেন। আমি উভয় পক্ষকে ডেকেছি । আশাকরি বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আইনত প্রকৃতপক্ষে চলাচলের পথ কেউ আটকাতে পারে না।
মানবিক দিক বিবেচনা করে চলাচলের পথটি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর প্রতিবেশীসহ আশপাশের সবাই।
৫৭ দিন আগে