চাঁদপুর
চাঁদপুরে মেঘনার ঘূর্ণিস্রোতে কার্গোডুবি, ৫ হাজার বস্তা ধান-চাল পানিতে
চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনায় উত্তাল মেঘনার প্রবল ঘূর্ণিস্রোতে ৫ হাজার বস্তা ধান ও চালবোঝাই একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুরানবাজার ঘাট-সংলগ্ন মোহনায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তবে কার্গোতে থাকা মাঝিমাল্লাসহ পাঁচ শ্রমিক সাঁতরে অন্য নৌকার সাহায্যে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হওয়ায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
কার্গোটির চালক এরশাদ মাঝি জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) পাবনা থেকে ৩ হাজার ৫০০ বস্তা চাল এবং ১ হাজার ৫০০ বস্তা ধান নিয়ে ‘পারবো’ নামের কার্গোটি চাঁদপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। আজ (বুধবার) সকালে পুরানবাজার ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছালে তিন নদীর মোহনায় তীব্র ঝড় ও ঘূর্ণিস্রোতের কবলে পড়ে। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কার্গোটি উল্টে পানিতে ডুবে যায়।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার সময় কার্গোতে থাকা পাঁচজন শ্রমিক অন্য নৌকার সাহায্য দ্রুত সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন পাটোয়ারী জানান, ডুবে যাওয়া ধান ও চাল পুরানবাজারের সাতজন ব্যবসায়ীর মালামাল। এ ঘটনায় তাদের প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এদিকে, চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর হোসেন বলেন, কার্গোডুবির বিষয়ে এখনও আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য আসেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আপডেট জানানো হবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) চাঁদপুর নদী বন্দরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, কিছুক্ষণ আগে ঘটনাটি জেনেছি। দুর্ঘটনার কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি জানতে আমাদের নৌ-নিরাপত্তা বিভাগের উপপরিচালক বাবু লাল বৈদ্যকে ঘটনাস্থলে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনায় ঝড় ও সৃষ্ট তীব্র ঘূর্ণিস্রোত ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে প্রায়ই নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তাই এ নৌপথে চলাচলকারী কার্গো ও অন্যান্য নৌযানকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কর্তৃপক্ষকে সতর্কবার্তা জারির আহ্বান জানান তারা।
১ দিন আগে
বিরোধের জেরে রাস্তা বন্ধ, চাঁদপুরে অবরুদ্ধ শিক্ষক পরিবার
জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে টানা তিন মাস ধরে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের এক শিক্ষক পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে পরিবারটি। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পুকুরের পাড় ঘেঁষে ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতে যাতায়াত করতে হচ্ছে পরিবারের শিশুসহ সব সদস্যদের।
এ ঘটনা ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৬ নম্বর রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর সাহেবগঞ্জ এলাকার ফজল বেপারী বাড়িতে।
রবিবার (২২ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে চলাচলের পথে প্রতিপক্ষের দেওয়া বাঁশ ও কাঁটাযুক্ত বেড়ার কারণে কার্যত ঘরবন্দী হয়ে পড়েছে এ পরিবারটি।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা তাছলিমা সুলতানা জানান, তিনি সাহেবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা। তার স্বামী মো. রাসেল হোসেন সরকারি চাকরির সুবাদে ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন। তাদের স্কুল পড়ুয়া ৩টি সন্তান রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত চলাচলের পথ জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবে বাড়িতে প্রবেশের সুযোগ না থাকায় অমানবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।
তাছলিমা সুলতানা বলেন, ‘সারা দিন বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান শেষে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরি। কিন্তু নিজের ঘরে প্রবেশের কোনো স্বাভাবিক পথ নেই। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের রাস্তায় কাঁটা ও বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে অমানবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে প্রতিদিন বাড়িতে প্রবেশ করতে হচ্ছে। একজন শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের ওপর এমন অন্যায় ও সামাজিক নির্যাতনের বাস্তব চিত্র না দেখলে কেউ এটা উপলব্ধি করতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আমাকেই নয়, আমার ছোট ছোট সন্তানদেরও একইভাবে পুকুরে নেমে বাড়িতে যেতে হয়। সারা দিন বাচ্চাদের পড়ানো শেষে যখন বাড়ি ফিরি, তখন নিজের ঘরে ঢুকতেও অন্যের অত্যাচার সহ্য করতে হয়। একজন শিক্ষিকা হয়ে আমি আজ নিজ ভূমিতে অবরুদ্ধ ও অসহায়।’
ভুক্তভোগী পরিবার আরও অভিযোগ করে, গত ১৬ জুন তাছলিমা সুলতানা বেড়া পার হয়ে ঘরে প্রবেশ করতে গেলে প্রতিপক্ষের লাসমিন আক্তার দা নিয়ে তাকে আক্রমণের চেষ্টা করেন এবং সোহেল হোসেন প্রকাশ্যে কোপানোর হুমকি দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় তারা একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং থানায় অভিযোগ ও মামলা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তাদের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের পথ বন্ধ করে রেখেছে এবং পরিবারটিকে নিয়মিত ভয়ভীতি ও মানসিক হয়রানি করছে।
এদিকে, ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলালউদ্দীন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এই বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ আসেও নাই। থানায় এসে আমাদের বিস্তারিত জানালে, অভিযোগ দিলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বলেছেন, তিনি এ ব্যাপারে চেষ্টা করছেন। কিন্তু সমাধানে আসতে পারেননি।
ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, সমস্যাটি নিয়ে এলাকার চেয়ারম্যানও সমাধান করতে ব্যার্থ হয়েছেন। আমি উভয় পক্ষকে ডেকেছি । আশাকরি বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আইনত প্রকৃতপক্ষে চলাচলের পথ কেউ আটকাতে পারে না।
মানবিক দিক বিবেচনা করে চলাচলের পথটি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর প্রতিবেশীসহ আশপাশের সবাই।
১৭ দিন আগে
টার্মিনালের কাজ শেষ হলে চাঁদপুর নদীবন্দরের হারানো ঐতিহ্য ফিরবে: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
চাঁদপুর আধুনিক নৌ টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রসঙ্গে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেছেন, টার্মিনালের কিছু অংশের কাজ সম্পন্ন হলেও ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রেখেছে। ফলে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। টার্মিনালের কাজ শেষ হলে চাঁদপুর নদী বন্দর তার হারানো ঐতিহ্য ও গুরুত্ব পুনরুদ্ধার করবে।
রবিবার (৩১ মে) দুপুরে চাঁদপুর নদী বন্দর পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাট ও নদীবন্দরগুলোতে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, বড় বড় সব ঘাটে নিবিড়ভাবে নজরদারি করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীদের কোনো ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে না হয়। ঘাট ও নৌপথে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নৌ টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রসঙ্গে মো. রাজিব আহসান বলেন, টার্মিনালের কিছু অংশের কাজ সম্পন্ন হলেও ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রেখেছে। ফলে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। টার্মিনালের কাজ শেষ হলে চাঁদপুর নদী বন্দর তার হারানো ঐতিহ্য ও গুরুত্ব পুনরুদ্ধার করবে।
নৌপথে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নৌপথ সচল ও নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ড্রেজিং কার্যক্রম জোরদার করা হবে। একইসঙ্গে দেশের নৌবন্দরগুলোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, পন্টুন আধুনিকায়ন, নিয়মিত ড্রেজিং এবং নৌ অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে নৌপথকে আরও কার্যকর ও যাত্রীবান্ধব করা হবে। নৌপথের সেই ঐতিহ্য ও জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উচ্চগতির ও আধুনিক নৌযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা, চাঁদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সেলিম উল্লাহ সেলিমসহ মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন ।
৩৯ দিন আগে
ঝড়ে চাঁদপুরের শতাধিক গ্রামে দুই দিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, গাছচাপায় আহত ১০
ঝড়ের প্রভাবে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর, হানাচর, চান্দ্রা ও বালিয়া ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামে গাছ ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় দুই দিন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এই দুর্যোগে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
গত বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পর্যন্ত এসব গ্রামের পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। এতে ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে আসা মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েন।
ঈদের পরদিন শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে এ খবর জানা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক স্থানে ঝড়ে বড় বড় গাছ ভেঙে রাস্তায় এবং বসতঘরের ওপর পড়ে আছে।
সদরের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের দেলোয়ার শেখ বলেন, মঙ্গলবার রাতে ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়। দুই দিন পরে বৃহস্পতিবার ঈদের দিবাগত রাত ২টার দিকে বিদ্যুৎ আসে, আবার শুক্রবার সকালে চলে যায়। গ্রামের প্রতিটি ঘরে এখন ফ্রিজ আছে। অনেকেই কোরবানির মাংস নিজের এবং স্বজনদের জন্য ফ্রিজে সংরক্ষণ করে। সে কারণে অনেকেই সমস্যায় পড়েছেন।
বাগাদী ইউনিয়নের নানুপুর গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন গাজী, আনিসুর রহমান, মোরশেদ ও জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঝড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় সরবরাহ বন্ধ ছিল। পরে খবর দিলে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা এসে গাছ কেটে লাইন স্বাভাবিক করেন।
চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেন খান, ইউসুফ খান ও নাজমুল হোসেন বলেন, ঝড়ে ঘর, সড়ক ও বিদ্যুতের লাইনের ওপর বহু গাছ ভেঙে পড়ে। এতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। নিজ গ্রামে ঈদ উৎসব করতে এসে অনেকে এবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানান তারা।
একই গ্রামের বাসিন্দা মাইনুল ইসলাম ও সোহেল আহম্মেদ বলেন, আমাদের ইউনিয়নের মদনা, দক্ষিণ বালিয়া, হরিপুর, বাখরপুর ও জব্বর ঢালী এলাকায় বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়ে লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মদিনা মার্কেট এলাকায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে আঞ্চলিক সড়কে পড়ে ছিল।
তারা জানান, গত বুধবার সকালের আকস্মিক ঝড়ে পশ্চিম বালিয়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আজিজ তালুকদারের ঘরের ওপর দুটি গাছ ভেঙে পড়ে। এতে তার পরিবারের তিন সদস্য আহত হন।
আহতরা হলেন— আজিজ তালুকদারের ছেলে মো. আরাফাত (১৮), মেয়ে আবিদা সুলতানা (১২) ও স্ত্রী নাছিমা আজিজ (৪২)।
প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আমরা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আইনজীবী মো. শাহজাহান খান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ঝড়ের পর আমাদের লোকজন কাজ করেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করে বিদ্যুৎ লাইন আবার চালু করা হয়েছে। এরপরও যদি কোনো গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকে, আমাদের জানালে সেখানে আমাদের লোকজন কাজ করবেন।
৪০ দিন আগে
মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে স্বপ্ন নয়, পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকার শুধু স্বপ্ন দেখতে চায় না, বরং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় খোর্দ্দ খাল পুনর্খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য একটাই—আমরা স্বপ্ন দেখতে চাই না; পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই, যে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের উপকার হবে; যে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।
খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, ৪৮ বছর আগে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করে দিয়ে গিয়েছিলেন, সেই খাল পুনর্খননের এই অনুষ্ঠান। আসুন আমরা সকলে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করি, দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা।
বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত যদি একসঙ্গে কাজ করে, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা পৃথিবীর বুকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হব বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
৫৪ দিন আগে
কুমিল্লায় পথসভায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
চাঁদপুর সফরের পথে কুমিল্লায় সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরইমধ্যে কুমিল্লায় পৌঁছে বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় যোগ দিয়েছেন।
শনিবার (১৬ মে) দুপুর প্রায় ১টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী পথসভার মঞ্চে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা করতালি ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।
অভিবাদনের জবাবে তারেক রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদপুর যাচ্ছেন। পথে তিনি এ পথসভায় অংশ নিচ্ছেন এবং এখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন।’
আজ সকাল থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ছোট ছোট মিছিল সহকারে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পথসভাটি বড় জনসমাবেশে রূপ নেয়।
৫৪ দিন আগে
আগামীকাল চাঁদপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
আগামীকাল (শনিবার) চাঁদপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে খাল পুনর্খনন ও ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন তিনি।
শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
তিনি জানান, সড়কপথে এসে প্রধানমন্ত্রী দুপুরে জেলার শাহরাস্তি উপজেলার খোদ্দাখাল পুনর্খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এরপর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট গ্রামে বিশ্বখাল পুনর্খনন কাজেরও উদ্বোধন করবেন তিনি। বিকেলে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সদর উপজেলার মেঘনা পাড়ের দুর্গম চর রাজরাজেশ্বরের ৬ শতাধিক মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।
এমপি মানিক বলেন, ‘আমাদের দাবি হচ্ছে চাঁদপুর-হাইমচরের সার্বিক উন্নয়ন। এর মধ্যে চাঁদপুরে একটি ইপিজেড স্থাপন এবং একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা যাতে চাঁদপুর সদর, হাইমচর, লক্ষ্মীপুর ও শরীয়তপুরের শতসহস্র নদীসিকস্তি এলাকার বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইপিজেডের জন্য ২০০ থেকে ২৫০ একর জমির প্রয়োজন। এটি বাস্তবায়িত হলে কমপক্ষে দেড় লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী এটি করে দেবেন।’
ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, চাঁদপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে। তবে ফ্যাসিবাদী কিছু লোক এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমাদের আরেকটি দাবি হচ্ছে, মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে চাঁদপুর সদর হয়ে হাইমচর উপজেলার জালিয়ারচর পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকায় নদীপাড়ের অব্যাহত ভাঙন রোধে স্থায়ী নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। বাঁধ নির্মাণ হলে নদীভাঙনে আর কেউ গৃহহারা হবে না, সহস্র গৃহহীন মানুষের বুকফাটা কান্না থেমে যাবে।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নদীবন্দর চাঁদপুরে এটিই তারেক রহমানের প্রথম সফর। চাঁদপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনই বিএনপির দখলে রয়েছে।
এমপি মানিক বলেন, ইতোমধ্যে এ সফরকে কেন্দ্র করে জেগে উঠেছে চাঁদপুর সদর ও শাহরাস্তির সর্বস্তরের জনগণ। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আ মান্নান, জেলা পরিষদের প্রশাসক সলিম উল্লাহ সেলিম, প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী এবং জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন ।
৫৫ দিন আগে
কচুয়ায় উদ্বোধনের আগেই সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, জনমনে ক্ষোভ
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি গার্ডার সেতুর উদ্বোধন হওয়ার আগেই এর সংযোগ সড়কে (অ্যাপ্রোচ রোড) ধস দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে সড়কের মাটি ও প্রতিরক্ষা দেওয়াল (গার্ডওয়াল) সরে গিয়ে সেতুর মূল কাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। নিম্নমানের কাজের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ প্রকল্পের আওতায় এই কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের মাঝিগাছা-নিন্দপুর রঙের বাজার সংযোগ সড়কের হরিপুর গ্রামে প্রায় ১২ মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি গার্ডার সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হারুন অ্যান্ড সন্স। প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৭১ হাজার ১১৬ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের গার্ডওয়ালের নিচের মাটি সরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিশাল ফাটল দেখা দিয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি ধুয়ে কার্পেটিং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সেতুটি চলাচলের জন্য পুরোপুরি উপযোগী হওয়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হযরত আলী ও জিলানী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতুর কাজ এখনো শেষ হয়নি, এর মধ্যেই যদি রাস্তা ভেঙে পড়ে, তাহলে বর্ষাকালে কী হবে? কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এমন নিম্নমানের কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।
এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. হারুনুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে সেতুর সংযোগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বর্তমানে মেরামত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হলে সেটিও সংস্কার করে দেওয়া হবে।
কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল আলীম লিটন বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির কারণে সেতুর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। তদন্তে কোনো গাফিলতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারকে এখনও চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়নি। কাজের গুণগত মান যাচাই করার পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫৯ দিন আগে
হাইমচরে এক কিলোমিটার সড়ক এখন ‘মরণফাঁদ’
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন স্থানীয়দের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছৈয়াল মোড় থেকে মরহুম আব্দুর রহমান চেয়ারম্যানের এতিমখানা মসজিদ পর্যন্ত এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বর্তমানে সংস্কারের অভাবে ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র তিন বছর আগে নির্মিত এই সড়কটির কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব খানাখন্দ ছোটখাটো পুকুরে রূপ নেয়। বিশেষ করে ছৈয়াল বাড়ি-সংলগ্ন পুকুরপাড় এলাকাটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, সেখান দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল এখন দুঃসাধ্য। প্রতিনিয়ত ছোটবড় যানবাহন উল্টে এখানে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের এই করুণ দশার পেছনে মূল কারণ ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বালু ও ইটবাহী অবৈধ ট্রাক্টর ও পাওয়ার ট্রলি। নিয়মিত এসব ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটির স্থায়িত্ব নষ্ট হয়ে গেছে। খানাখন্দের কারণে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অটোরিকশাচালকরা জানান, এই রাস্তায় যাত্রী নিয়ে চলাচল করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কয়েকবার গাড়ি উল্টে যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনায় অনেক চালক এখন এই পথে গাড়ি চালাতে ভয় পাচ্ছেন। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে এই সড়কে যাতায়াত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
সড়কটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শত শত শিক্ষার্থী। সিয়াম ও হাফিজাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে কোনো যানবাহন এই পথে আসতে চায় না, আসলেও কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দাবি করে। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের দীর্ঘ পথ হেঁটে বিকল্প রাস্তায় যাতায়াত করতে হচ্ছে, যার কারণে সঠিক সময়ে ক্লাসে পৌঁছানো অনেক সময় সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া রাস্তার বালু উড়ে শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-কাশির মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সমাজসেবী মাজহারুল ইসলাম শফিক পাটওয়ারী বলেন, আমরা সমস্যাটি সম্পর্কে অবগত আছি। নির্বাচনের পর বরাদ্দ আসায় এই রাস্তাটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকৌশলীর মাধ্যমে এস্টিমেট (প্রস্তাব) প্রস্তুত করে প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারি প্রক্রিয়া শেষ হলেই দ্রুত কাজ হওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী আশরাফুল হাসান জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম সড়ক শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় মহজমপুর ঈদগাহ থেকে ছৈয়াল বাড়ি পর্যন্ত সাড়ে ৮ কিলোমিটার সড়কটির সংস্কারের প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। এটি এলজিইডি আইডিভুক্ত সড়ক। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবর্ণনীয় কষ্ট লাঘবে আর কোনো কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ দেখতে চায় হাইমচরের এই জনপদের ভুক্তভোগী মানুষ।
৬২ দিন আগে
১৬ মে চাঁদপুর ও ২৫ মে ফেনী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
আগামী ১৬ মে চাঁদপুর এবং ২৫ মে ফেনী জেলা সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৬ মে) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, খাল-খনন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে চাঁদপুর ও ফেনীতে খাল-খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আগামী ১৬ মে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে যাচ্ছেন। সেখানে অনেকগুলো কর্মসূচি রয়েছে। তিনি সেখানে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সারা বাংলাদেশে ইতোমধ্যে যেসব জেলায় তিনি যাচ্ছেন, খাল খনন কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আপনারা জানেন যে আমরা আগামী পাঁচ বছরব্যাপী সারা বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। সে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলায় গিয়ে খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। আমাদের মন্ত্রী-এমপিরা সবাই যার যার এলাকায় এই কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।
তিনি বলেন, যেহেতু বর্ষাকাল প্রায় চলে এসেছে, আমরা হয়তো এই মে মাস পর্যন্ত এই কর্মসূচি কন্টিনিউ (চলমান) রাখতে পারব। বর্ষা শেষে আবার আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর-জানুয়ারির দিকে আমরা এই কর্মসূচি চালু কর।
মন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগে মে মাসে প্রধানমন্ত্রী দুইটি জেলায় যাচ্ছেন সেটা হলো চাঁদপুর এবং ফেনী। ফেনীতে যাবেন ২৫ মে এবং চাঁদপুর যাচ্ছেন ১৬ মে।
পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রায় এক ঘণ্টার এ বৈঠকটি সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১০টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভ্যবতা জরিপ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে, সরকার শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান পানি সম্পদ মন্ত্রী।
৬৪ দিন আগে