চাঁদপুর
চাঁদপুরে ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে, স্বস্তিতে ক্রেতারা
প্রায় চার মাস পর চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে ইলিশের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে গত কয়েকদিনে জেলার বাজারগুলোতে ইলিশের দাম কেজিপ্রতি গড়ে প্রায় ৪০০ টাকা কমেছে। সরবরাহ বাড়ায় মাছঘাট ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যস্ততাও বেড়েছে।
মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, ৩০ এপ্রিল জাটকা ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর গত চার মাস ধরে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৭০ মণ ইলিশ আসত। তবে গত কয়েকদিনে সরবরাহ বেড়ে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ মণ ইলিশ আসছে।
চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাট ঘুরে দেখা গেছে, তিন দিন আগেও এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৯০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও সরবরাহ বাড়ায় বর্তমানে তা ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শহরের বিপণীবাগ কাঁচাবাজারে একই ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ টাকায়।
এছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়; আগে যার দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে বাজারে আসা এসব ইলিশ পদ্মা নদীর টাটকা ইলিশ।
গেল সোমবার চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে দুই কেজি ওজনের একটি বড় বা ‘রাজা ইলিশ’ কেজিপ্রতি সাড়ে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মোট ৯ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেন এক ইলিশপ্রেমী।
প্রবীণ মাছ বিক্রেতা আবুল হোসেন জানান, বড় ইলিশের স্বাদ তুলনামূলক ভালো হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি।
ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, বর্তমানে ইলিশের মূল মৌসুম চলছে। অমাবস্যার প্রভাবে গত ২৮ আগস্ট থেকে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। তিনি আশা করেন, আগামী অক্টোবর পর্যন্ত নদীতে জেলেদের জালে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়বে।
চাঁদপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও প্রবীণ মৎস্য ব্যবসায়ী শবেবরাত সরকার বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ঘাটে ইলিশের আমদানি বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ মণ ইলিশ আসছে।
তিনি বলেন, ‘গত রবিবারও প্রায় সাড়ে ৩৫০ মণ ইলিশের আমদানি হয়েছে। এখন ইলিশের মৌসুম। সামনে আরও বেশি ইলিশ পাওয়া গেলে দাম আরও কমতে পারে।’
ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় মাছঘাটের শ্রমিকদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। শ্রমিক আল আমিন, মফিজ ও আনোয়ার হোসেন জানান, ইলিশের আমদানি বাড়ায় তাদের কাজও বেড়েছে। মাছ সংরক্ষণ ও প্যাকেটজাত করার জন্য বরফকলগুলোতেও ব্যস্ততা বেড়েছে।
মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, বরফ গুঁড়া করে ইলিশ প্যাকেটজাত করার পর ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।
ফরিদগঞ্জের সন্তোষপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জহিরুল আলম এবং নোয়াখালীর সাইফুর রহমান জীবন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাছঘাটে ইলিশ কিনতে আসেন। তারা জানান, তুলনামূলক সুবিধাজনক দামে টাটকা ইলিশ কিনতে পেরে তারা সন্তুষ্ট।
এদিকে, মাছঘাটসংলগ্ন একটি কক্ষে অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের বা ‘রিজেক্টেড’ ইলিশের পেট থেকে ডিম সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেট করতে দেখা গেছে কয়েকজন শ্রমিককে।
এ কাজে নিয়োজিত ব্যবসায়ীরা জানান, এক কেজি ইলিশের ডিমের প্যাকেট সাড়ে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। বড় ইলিশ থেকে সংগ্রহ করা ডিমের দাম আরও বেশি—কেজিপ্রতি ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এসব ডিম চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, তিন থেকে চার বছর আগে ইলিশের ডিম কেজিপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে এর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ডিম ছাড়ানোর পর কিছু ইলিশে হালকা কাটার দাগ দিয়ে লবণ মাখিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পরে হলুদ মিশিয়ে শুকানো এসব ‘কাটা ইলিশ’ কেজিপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের লবণাক্ত ইলিশের চাহিদা রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শত বছরের পুরোনো এবং চাঁদপুর জেলার সবচেয়ে বড় এ মাছঘাটে প্রায় দেড়শ ব্যবসায়ী ইলিশসহ বিভিন্ন ধরনের মাছের ব্যবসা করেন। ঘাটে প্রায় সাড়ে তিনশ দিনমজুর কাজ করেন।
৬ দিন আগে
মতলবে দেড় মাসে ২৫ ট্রান্সফরমার চুরি, ভোগান্তিতে লক্ষাধিক গ্রাহক
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় উদ্বেগ ও জনভোগান্তি বেড়েছে। গত জুলাই থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দেড় মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
চুরি যাওয়া এসব ট্রান্সফরমারের মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এগুলো নষ্ট বা চুরি হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বিপাকে পড়ছেন উপজেলার প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার গ্রাহক।
পল্লী বিদ্যুৎ মতলব উত্তর জোনাল অফিসের ডিজিএম এমডি ওয়াহিদুজ্জামান ইউএনবিকে বলেন, ‘গত জুলাই মাস থেকে চলতি আগস্ট মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত মতলব উত্তরের ছেংগারচর, সুজাতপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এসব ট্রান্সফরমারের মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা।’
তিনি বলেন, ‘আসলে গত জানুয়ারি মাস থেকেই মতলব উত্তরে দুই-একটি করে ট্রান্সফরমার চুরি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পুরো চোরচক্র শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।’
এদিকে, ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় চোরচক্র শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গেল শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার বাগানবাড়ী ইউনিয়নের নবীপুর বালুঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপভ্যানসহ ট্রান্সফরমারের ভেতরে ব্যবহৃত তামার তার ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে পিকআপ ও মালামাল জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেন ওরফে ‘টানা আনোয়ার’ (৪২) নামে নিশ্চিন্তপুর এলাকার এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘এলাকায় ধারাবাহিক ট্রান্সফরমার চুরি বন্ধ ও চোরচক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কিছুদিন আগে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।’
এসআই জীবন চৌধুরী ও এএসআই রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত ওই টিমের অভিযানে প্রথমে আনোয়ারকে আটক করা হয় জানিয়ে ওসি বলেন, পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, আনোয়ার ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত অথবা চুরি করা মালামাল তার কাছে বিক্রি করা হতে পারে।
পরে চুরি করা মালামাল একটি পিকআপে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার তথ্য পায় পুলিশ। স্থানীয় সোর্স, পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পিকআপটির অবস্থান শনাক্ত করে সেটি জব্দ করা হয়।
ওসি বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে ট্রান্সফরমারের ভেতরে কয়েল তৈরিতে ব্যবহৃত তামার তারসহ বিভিন্ন মালামাল পাওয়া যায়। পরে কর্মকর্তারা এসব মালামাল পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের অংশ হিসেবে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করেছে জানিয়ে কামরুল হাসান বলেন, ‘চোরচক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
আটক আনোয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানান ওসি।
পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমারগুলো প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। একই সঙ্গে চুরি প্রতিরোধে ব্যাপক মাইকিং, প্রচার-প্রচারণা এবং স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ কাজে পুলিশও সহযোগিতা করছে।
তিনি বলেন, ‘ট্রান্সফরমার ও বিদ্যুৎ সরঞ্জাম রাষ্ট্রীয় সম্পদ, যার মালিক জনগণ।’
মতলব উত্তর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। উপজেলায় ট্রান্সফরমার রয়েছে ৪ হাজার ৬০০টির বেশি।
ধারাবাহিক চুরি বন্ধে পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুতের অভিযান আরও জোরদার এবং চক্রের হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ওসি কামরুল হাসান বলেন, ট্রান্সফরমার চুরি রোধে থানার পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
৮ দিন আগে
চট্টগ্রামের পটিয়ায় চাঁদপুরের পলাতক স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস আটক
চাঁদপুর সদরের কুমিল্লা রোডের আখন্দ মার্কেটের এস কে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাসকে (৪৫) চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁদপুর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় চাঁদপুর সদর মডেল থানার একটি দল পটিয়ার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। উপ-পরিদর্শক (এসআই) কালাম গাজীর নেতৃত্বে পুলিশের দলটি অভিযান পরিচালনা করে।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইমস অ্যান্ড অপস) মো. লুৎফর রহমান ইউএনবিকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পিন্টু দাসের সঙ্গে তার স্ত্রী রিমি এবং দুই ছেলেকেও আটক করা হয়েছে। তাদের সবাইকে চাঁদপুরে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলছে। পিন্টুর বাড়ি চট্টগ্রামে এবং তার স্ত্রীর বাড়ি কুমিল্লায়।
পুলিশ জানায়, পিন্টু দাস গত ১০-১১ দিন ধরে সপরিবারে আত্মগোপনে ছিলেন। বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও টাকা-পয়সা নিয়ে হঠাৎ আত্মগোপনে যাওয়ার ঘটনায় চাঁদপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই তার কাছে স্বর্ণ বিক্রির টাকা পাওনা রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। আজও কয়েকজন তার বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও টাকা-পয়সা আত্মসাতের অভিযোগে থানায় অভিযোগ করেছেন।
১১ দিন আগে
চাঁদপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে হত্যারে দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড, অপরজনের যাবজ্জীবন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ওমর সরকারকে (৪৫) গলা কেটে হত্যার অপরাধে জয় বিশ্বাস অনিক (২১) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর আসামি হৃদয় সূত্রধরকে (২১) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের দুজনকেই ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) মো. কামাল হোসাইন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জয় বিশ্বাস অনিক মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার বাসিন্দা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হৃদয় সূত্রধর মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর সারপাড় এলাকার বাসিন্দা।
হত্যার শিকার ব্যবসায়ী ওমর সরকার মতলব দক্ষিণ উপজেলার সারপাড় এলাকার রবি ভক্তের ছেলে ছিলেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে ওমর সরকার নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মাধবী শিল্পালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে আসামিরা যোগসাজশে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন।
ওই রাতেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য জয় বিশ্বাস অনিক নিজেই ওমর সরকারকে কেউ হত্যা করেছে—এমন সংবাদ তার বাবার কাছে পৌঁছান। পরে রবি ভক্ত ও তার বড় ছেলে জীবন কৃষ্ণ বাড়ির অদূরে (প্রায় ৮০ গজ) দাস বাড়ির উঠানে গিয়ে ওমর সরকারের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনার পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি ওমর সরকারের বাবা রবি ভক্ত মতলব দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত আসামি হৃদয়কে ২৩ ফেব্রুয়ারি ও জয় বিশ্বাসকে ২৪ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করে।
মামলাটির তদন্ত করেন তৎকালীন মতলব দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান। তিনি তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১০ মে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি সালমা বেগম বলেন, মামলাটি চলমান অবস্থায় আদালত ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য গ্রহণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করায় বিচারক এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জয় বিশ্বাস অনিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং অপর আসামি হৃদয় সূত্রধর জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন।
এ মামলায় আসামিপক্ষে সরকারি কৌঁসুলি ছিলেন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
২৬ দিন আগে
চাঁদপুরে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২০
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বালুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচোঁ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—কুমিল্লার সদর দক্ষিণের সদরের বালুবাহী ট্রাকটির চালক আবদুল ওহাব (৪৫), বাসের চালক গাইবান্ধার কামাল (৪০) ও বাসচালকের সহকারী বাগেরহাটের শোভন (৩৫)।
শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনায় বাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গিয়ে কয়েকজন যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েন। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি জানান, নোয়াখালী থেকে যশোরগামী আল-আরাফা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাস ও ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা উদ্ধার কার্যক্রমে যোগ দেন। আহতদের উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার ইউএনবিকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আহত ১৮ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা এই হাসপাতালে চলছে।
ওসি মীর মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার কারণে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
২৮ দিন আগে
দায়িত্ব অবহেলায় চাঁদপুরের সিভিল সার্জনকে তাৎক্ষণিক বদলির নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় এক মাস ধরে অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন ও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ইনজেকশন মজুতসহ প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই নাই দেখে এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীনকে তাৎক্ষণিক বদলির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে বিভিন্ন অনিয়ম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সিভিল সার্জনকে উত্তরবঙ্গের কোথাও তাৎক্ষণিক বদলির জন্য মুঠোফোনে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের নতুন ভবণ নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস এবং হাসপাতালের চলমান পরিস্থিতি উন্নতি করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দেন।
স্বস্থ্যমন্ত্রী প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা হাসপাতালের রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুরো হাসপাতাল ঘুরে দেখেন।
হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজ গত কয়েক বছর ধরে পতিত সরকারপুষ্ট ঠিকাদারের গাফিলতিতে ধীর গতিতে চলছে বলে অনেকের অভিযোগ।
এ হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, বেশ কয়েক বছর যাবত এখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক (শিশু ডাক্তার, ডেন্টাল ডাক্তার, গাইনী ও মেডিসিন ডাক্তার) এবং অ্যাম্বুল্যান্সও নেই। ফলে নদীবেষ্টিত এ উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের সাধারণ জনগণ ও প্রসূতি মায়েরা এবং শিশুরা এখানে সুষ্ঠু চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আরও জানা গেছে, হাসপাতালে আগত বহু রোগী এই হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা না পেয়ে বেসরকারি হাসপাতালের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হচ্ছে।
২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টে সরকার পরির্তনের পর ওই বছরের ১৬ অক্টোবর ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন চাঁদপুরের সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদান করেন বলে জানা যায়।
এদিন দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে সকল ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তাদের নিয়ে এক সভা করেন। এতে জেলার সার্বিক স্বাস্থ ব্যবস্থা উন্নয়ন নিয়ে আলাপ আলোচনা করেন তিনি।
মন্ত্রীকে স্বাগত জানান হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. একে এম মাহবুবুর রহমান। এ সময় চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যাহ সেলিম, হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় এবং হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদন্নবী মাছুম উপস্থিত ছিলেন।
৩০ দিন আগে
চাঁদপুরে ৩১ ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে বদলি
চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত ৩১ জন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে (সাবেক ইউপি সচিব) একযোগে বদলি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চাঁদপুরের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। জেলার আট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন কর্মরত এসব কর্মকর্তাকে একযোগে বদলী করে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
এ অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ৩১ জন ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়।
জেলা প্রশাসন সুত্র জানায়, বদলির তালিকায় চাঁদপুর সদর, হাইমচর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ ও কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা রয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার জারি করা এ আদেশের অনুলিপি চাঁদপুরের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একযোগে এ বদলির ফলে জেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন কর্মপরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৩১ দিন আগে
বেইলি সেতু ধসে মতলব-দাউদকান্দি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, দুর্ভোগে কয়েক উপজেলার মানুষ
চাঁদপুর-মতলব-দাউদকান্দি-ঢাকা সড়কে দাউদকান্দির খামারপাড়ায় খিরাই নদের ওপর দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ বেইলি সেতু হঠাৎ ধসে পড়ায় চাঁদপুর, মতলব দক্ষিণ, মতলব উত্তর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, হাইমচরের ঢাকাগামী লাখ লাখ লোকের দুর্ভোগ চরমে ।
শনিবার (১ আগস্ট) রাতে হঠাৎ এ সেতুটি ধসে পড়ে। সেই থেকে এ গ্রামের মানুষগুলোর চলাচলের সীমাহীন কষ্ট।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে স্থানীয় মজনু মিয়া, আবুল কাসেমসহ অনেকে জানান, গত শনিবার রাতে হঠাৎ এ সেতুটি হুমমুড় করে নিচে ধসে পড়ে। সে সময় নিচ দিয়ে ধীরে ধীরে চলা কয়েক হাজার ইটভর্তি একটি বাল্কহেডের ওপর সেতু পড়ায় সেটি নদীতে তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর বাল্কহেডের ১৬/১৭ জন শ্রমিক কোনোভাবে সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণ বাঁচান।
তারা আরও জানান, ওই শ্রমিকদের মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সাসহ অনেক মুল্যবান জিনিসপত্র নদীতে হারিয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটি ভেঙে পড়ার পর থেকে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষার্থীরা দেশি নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন।
রেন্ট-এ-কারের ড্রাইভার মফিজ বকাউল, ফারুক মিয়া ও কবির হোসেনসহ দুর্ভোগে পড়া অন্যান্য যাত্রীরা বলেন, চাঁদপুর, মতলব দক্ষিণ, মতলব উত্তর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ ও হাইমচরের এলাকার কয়েক লাখ মানুষ ও হাজার হাজার যানবাহন মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাধ্যমে রাজধানীতে স্বল্প সময়ে সরাসরি গুরুতর রোগী নিয়ে যেতে ও ফিরতে দৈনিক যাতায়াত করত। তবে সেতুটি ধসে পড়ার পর থেকে তাদের এখন ১৫-২০ কিলোমিটার ঘুরে ভিন্ন পথে গৌরীপুর হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। এর ফলে ব্যায় হচ্ছে অতিরিক্ত সময়, জ্বালানি তেল; লাগছে অতিরিক্ত ভাড়া।
চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক আব্দুল হামিদও একই কথা জানান।
এ ব্যাপারে স্থানীয় দাউদকান্দি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম ইউএনবিকে জানান, এখানে নতুন পাকা সেতু হবে। এটির জন্য সরকার ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, নড়বড়ে বেইলি সেতুটির নাটবল্টু খোলার জন্য একজন ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই ঠিকাদারের কাজের ত্রুটির জন্য এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন এলজিইডি প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম।
তবে কবে নাগাদ যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালু হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
ভুক্তভোগী লোকজন জনস্বার্থে ভাঙা এ সেতুর পাশে একটি অস্থায়ী বিকল্প সেতু নির্মাণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কৃর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছেন।
৩৩ দিন আগে
মাটির নিচে গাঁজার ভাণ্ডার, চাঁদপুরে নারী মাদক কারবারি আটক
চাঁদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) একটি বিশেষ অভিযানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে প্রায় ১১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাসলিমা বেগম নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে ডিএনসি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁদপুর শহরের চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ বাইপাস সড়কের ভূঁইয়া বাড়ি এলাকা হঠাৎ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের একটি দল এ অভিযান চালায়।
ডিএনসি সূত্র জানায়, অভিযানের সময় তাসলিমা নামে এক নারীকে আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বসতঘরের বারান্দায় তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে বিশেষ কৌশলে মাটির নিচে পুঁতে রাখা একটি প্লাস্টিকের ড্রামের সন্ধান পান অভিযানকারীরা।
পরে মাটির ভেতর থেকে ড্রামটি তোলার পর খুলে তল্লাশি চালালে এর ভেতর থেকে প্রায় ১১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মাদক জব্দ করে হেফাজতে নেয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁদপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান ইউএনবিকে জানান, ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর আটক নারী স্বীকার করেন যে দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মিজানুর রহমান বলেন, চাঁদপুরকে মাদকমুক্ত রাখতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসা ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে কঠোর ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।
৩৫ দিন আগে
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই চাঁদপুরে সেতুতে ফাটল
চাঁদপুরের মতলব পৌরসভা এলাকায় প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুতে কাজ শেষ হওয়ার আগেই বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছিল। এসব অভিযোগের প্রতিবাদ করায় বর্তমানে ঠিকাদার নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
ঘটনাটি মতলব পৌরসভার শহীদ উল্যাহর দোকান থেকে বড়দিয়া বাজার সড়কের ইছহাক মিজির বাড়ি-সংলগ্ন নির্মাণাধীন সেতুর।
প্রায় ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই সেতুর স্থানে আগে ১০ ফুটের একটি কালভার্ট ছিল। প্রায় চার মাস আগে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। একই প্রকল্পের আওতায় সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কও নির্মাণ করার কথা রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে সেতুটির বিভিন্ন অংশে দৃশ্যমান ফাটল দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই এ ধরনের ফাটল প্রকল্পটির গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
৫১ দিন আগে