চাঁদপুর
আলু নিয়ে বেকায়দায় চাঁদপুরের চাষি ও হিমাগার কর্তৃপক্ষ
আলুর বাজারদরে ধস নামায় চাঁদপুরের আলুচাষিরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। হিমাগারে রাখা আলু তারা যেমন তুলতে পারছেন না, তেমনি গত মৌসুমে বাকিতে কেনা আলুবীজের ধারদেনাও মেটাতে পারছেন না। এতে বিপাকে পড়েছে হিমাগার কর্তৃপক্ষও।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় আলুচাষির সংখ্যা ৫৬ হাজার ৮৬০ জন। সবচেয়ে বেশি আলু চাষ হয় চাঁদপুর সদর, মতলব দক্ষিণ ও কচুয়া উপজেলায়। এসব উপজেলার প্রত্যেকটিতে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়।
সরেজমিনে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, সাপ্তাহিক হাটবাজারে এখনো পুরোনো আলু মাত্র ৭–৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে শহর ও গ্রামীণ হাটবাজারে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় প্রায় সব ধরনের সবুজ শাকসবজির দাম কমেছে। শিম, বরবটি, করলা ও গাজর বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে, টমেটো ৪০ টাকা কেজিতে। মাত্র ১৫–২০ দিন আগেও এসব সবজির দাম ছিল ৯০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।
আলুর দাম কমে যাওয়ায় বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়ে এবার জেলায় অনেক চাষি আলু চাষে বিমুখ হয়েছেন। তারপরও জেলার বিভিন্ন স্থানে নতুন মৌসুমে অনেক চাষিকে আবার আলু বপনে ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে। সদর, কচুয়া ও মতলব দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ মোবারক হোসেন ইউএনবিকে বলেন, এবার আলুর বাজারে কোনো সিন্ডিকেট না থাকায় দাম কমই থাকবে। তিনি বলেন, ‘গত মৌসুমে সিন্ডিকেটের কারণে ক্রেতাদের ৮০ টাকা কেজিতে আলু কিনতে হয়েছে। এবার সে পরিস্থিতি নেই।’
কচুয়া উপজেলায় হিমাগারে আলু রাখা চাষিরা মারাত্মক সংকটে আছেন। একইভাবে বিপাকে পড়েছে হিমাগার কর্তৃপক্ষও। উপজেলার তিনটি হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু মজুত আছে। বাজারদর পানির দরে নেমে আসায় প্রকৃত চাষিরা আলু বের করছেন না। ফলে হিমাগারের ভাড়া আদায় করতে পারছেন না কর্মচারীরা।
দুই হিমাগার ব্যবস্থাপক মঙ্গল খান ও ইয়াছিন মিয়া জানান, চাষিরা আলু না তুললে বা ফেরত না নিলে সেগুলো বিক্রি করেও ভাড়ার টাকা আদায় সম্ভব হচ্ছে না। কারণ হাটবাজারে আলুর দাম অত্যন্ত কম।
গত মৌসুমে জেলায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছিল। বর্তমানে বাজারে ভালো মানের পুরোনো আলু ৮–১০ টাকা কেজিতে এবং নতুন আলু ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাকিলা বাজারে প্রবীণ আলুচাষি ও বিক্রেতা বাচ্চু মিজি বলেন, ‘আমার জমিতে ১০০ মণ আলু হয়েছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি, পুরোটাই লস।’
তিনি ও অন্য চাষিরা জানান, সামনে তারা আর আলু চাষ করতে চান না।
সদরের শাহ মাহমুদপুর এলাকার চাষি বাবুল, মকবুল, জহুরুল হক, হানিফ পাটোয়ারি ও তার ছেলেরাও একই হতাশার কথা জানান।
হানিফ পাটোয়ারি বলেন, ‘গত মৌসুমের আলুবীজের টাকাই এখনো দিতে পারিনি। যে লস খেয়েছি, সামনে আর আলু চাষ করব না।’ তিনি আরও জানান, বাবুরহাট বিসিক শিল্পনগরীর হিমাগারে রাখা তার ৩৩ বস্তা (প্রতি বস্তা ৫০ কেজি) আলু বস্তাপ্রতি মাত্র ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
কচুয়া উপজেলাতেও আলুচাষিদের অবস্থা ভালো নয়। লাভের আশায় তারা আলু হিমাগারে রেখেছিলেন। কিন্তু বাজারদর কম থাকায় সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরের শুরুতে আলু ফেরত নেওয়ার কথা থাকলেও এখনো অর্ধেকের বেশি আলু হিমাগারে পড়ে আছে। এতে কচুয়ার হিমাগার কর্তৃপক্ষের হতাশাও বাড়ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জেলা সদর, হাইমচর, কচুয়া, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় অধিকাংশ মাঠে আলু রোপণ ও বপনের কাজ চলছে। কোথাও জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে, আবার কোথাও শ্রমিক নিয়ে আলু রোপণ ও বপনে ব্যস্ত চাষিরা।
সদরের বাগাদীর শামসুল ইসলাম ও ধনপর্দির ইসমাইল হোসেন ও সুরুজ মিয়া জানান, গত বছর তারা আলুর ন্যায্য দাম পাননি। তাই এবার কম বা অর্ধেক জমিতে আলু চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও বাম্পার ফলনের আশা করছেন, তবে ভালো দাম পাওয়া যাবে কি না—তা নিয়ে তারা সন্দিহান।
অতি সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জ থেকে নৌপথে চাঁদপুরের বাজারে নতুন আলু আসতে শুরু করেছে। তবে নতুন আলুর দাম ৭০ টাকা কেজি থেকে নেমে ২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। বর্তমানে ৫ কেজি নতুন আলু ১০০ টাকা, আর ১০ কেজি পুরোনো আলু ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কৃষিবিদ মোবারক হোসেন আরও জানান, জেলায় বর্তমানে ১০টি হিমাগার চালু রয়েছে। এতে মোট ৮০ হাজার ১৬৯ টন আলু সংরক্ষিত আছে। এসব হিমাগারের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ৮০ হাজার ২৫০ টন। তার মতে, যদি সিন্ডিকেট থাকত, তাহলে বাজারে আলুর দাম ৭০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে উঠত।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু তাহের ইউএনবিকে বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ২০০ হেক্টর, যা গতবারের তুলনায় ১ হাজার হেক্টর কম। এর প্রধান কারণ হলো, চাষিরা আলুর প্রকৃত দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন এবং আগের দেনা পরিশোধ করতে পারছেন না।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে তিনি দেখেছেন, দাম ভালো পেলে চাষিরা স্বাভাবিকভাবেই সেই ফসল চাষে আগ্রহী হন।
৩ দিন আগে
চাঁদপুরে লঞ্চ সংঘর্ষের ঘটনায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
চাঁদপুরে হাইমচরের সীমান্তবর্তী এলাকায় মেঘনা নদীতে দুই লঞ্চের সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ জন নামীয় ও অজ্ঞাতনামা ১০ জনসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের কর্মচারী মিন্টু, সোহেল, মহিন হাওলাদার ও মনিরুজ্জামানকে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এরপর আদালত তাদের জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি জাকির সম্রাট-৩ ও বরিশালগামী অ্যাডভেঞ্চার-৯ নামের দুই লঞ্চের সংঘর্ষে এক নারীসহ ৪ যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও অনেকে।
এরপর গতকাল (শনিবার) রাত ১১টার দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুর নদীবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) বাবুলাল বৈদ্য বাদী হয়ে হাইমচর থানায় মামলা করেন।
মামলায় নামীয় ৮ আসামি হলেন: মো. ফিরোজ খান (৫৩), মো. কামাল হোসেন (৫৫), মো. মনিরুল ইসলাম (৪৩), মো. সুলতান খান (৪৫), মো. মিন্টু (২৮), মো. সোহেল (৪০), মহিন হাওলাদার (২৫) ও মো. মনিরুজ্জামান (৪০)। এই আটজন এমভি জাকির সম্রাট-৩ ও অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের কর্মচারী।
হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হাসান বলেন, বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুর নদীবন্দরের পক্ষে করা মামলাটি তদন্ত ও পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবে নৌ-পুলিশ।
নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের গ্রেপ্তার ৪ আসামিকে ঝালকাঠি থেকে গতকাল (শনিবার) চাঁদপুর নৌ থানায় আনা হয়। আজ তাদের চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
৯ দিন আগে
চাঁদপুরে লঞ্চ দুর্ঘটনা তদন্তে ৮ সদস্যের কমিটি গঠন
চাঁদপুরের হরিণা এলাকায় মেঘনা নদীতে দুটি লঞ্চের সংঘর্ষে চার যাত্রী নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ বের করা এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে এ কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ৮ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলামকে।
কমিটির সদস্যরা হলেন— নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ এমরান হোসেন, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধি (পরিচালক পদমর্যাদার), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর একজন প্রতিনিধি (পরিচালক পদমর্যাদার), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের একজন প্রতিনিধি ও নৌপুলিশের একজন প্রতিনিধি। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব এ টি এম মোর্শেদ।
তদন্ত কমিটিকে মেঘনা নদীতে সংঘটিত এমভি জাকির সম্রাট-৩ ও এডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণ অনুসন্ধান এবং এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি বা পক্ষগুলো চিহ্নিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চাঁদপুর জেলার হরিণা এলাকায় মেঘনা নদীতে এমভি জাকির সম্রাট-৩ ও এডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এমভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনায় লঞ্চটির চারজন যাত্রী নিহত এবং পাঁচজন যাত্রী আহত হন।
১১ দিন আগে
তিন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩
দেশের তিন জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের ওমপাড়ায় মাইক্রোবাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে জোবায়দা বেগম (৫০) নামে এক নারী নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
নিহত জোবায়দা স্থানীয় বাড়ৈখালী শিবরামপুরের এখলাছ উদ্দিনের স্ত্রী। আহতরা হলেন— আশুদা বেগম (৫৪), আব্দুর মহিম (৩০) ও মহসিন (৪৫)। তাদের ঢাকা ও স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
হতহতরা সবাই অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছেন শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন।
স্থানীয়রা জানান, অটোরিকশাটি শ্রীনগরমুখী ছিল এবং মাইক্রোবাসটি ছিল ঢাকামুখী। বিকট শব্দে অটোরিকশাটি চূর্ণবিচূর্ণ এবং মাইক্রোবাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর সাময়িক সময়ের জন্য সার্ভিস লেনের ওই অংশটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি সরিয়ে নেওয়ার পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় দুটি যানবাহনই জব্দ করা হলেও মাইক্রোবাসের চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
হাসাড়া হাইওয়ে পুলিশ স্টেশন থেকে জানানো হয়েছে, এ ব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে, সকাল ৮টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুর বাজার এলাকায় ভটভটির ধাক্কায় এক পথচারী নিহত হন।
নিহত বাসেদ আলী (৭৫) ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর এলাকার মৃত রিফাত উল্লাহর ছেলে।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) হুমায়ন কবির জানান, ছত্রাজিতপুর বাজার এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় ধানবোঝাই একটি ভটভটি বৃদ্ধ বাসেদ আলীকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ওসি বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তবে অভিযোগ না থাকায় তা পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
তার আগে, চাঁদপুর সদরের মহামায়া বাজারের পশ্চিমে সকাল ৬টার দিকে বেপরোয়া গতির বাসের চাপায় মাহফুজুল হক (৭) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিহত হয়। মাহফুজুল মহামায়া বাজার জামে মসজিদের সহকারী ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ মাঈনুল পাটওয়ারীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাজারের আরিবাড়ি সড়কে মায়ের সঙ্গে রাস্তা পারাপারের সময় চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা কুমিল্লাগামী সৌদিয়া বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশুটি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটিকে আটক করলেও চালক পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক মোকলেসুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি হেফাজতে নেন।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ ইউএনবিকে জানান, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২৮ দিন আগে
ভূমিকম্পে মতলব সেতুর জয়েন্টে ফাটল, আতঙ্কে মানুষ
জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ধনাগোদা নদীর ওপর নির্মিত মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর উপজেলার সংযোগ সেতু হিসেবে পরিচিত বিশাল ‘মতলব সেতু’র মাঝখানের জয়েন্টে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং সেতুটি নিয়মিত ব্যবহারকারী যানবাহনের চালকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত ২১ নভেম্বর সারা দেশে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে ক্ষতি এড়াতে পারেনি স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থায় অতি গুরুত্বপূর্ণ মতলব সেতু। ভূমিকম্পের পর সেতুটির মাঝখানের জয়েন্টে ফাটল লক্ষ করে স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেতুর মাঝখানে জয়েন্টে বড় ফাঁকা। সেতুর কোথাও উঠে গেছে কংক্রিট, বেরিয়ে পড়েছে রড। প্রতি দিন ছোটবড় হাজার হাজার যানবাহন চলছে এই ভগ্নদশাগ্রস্ত সেতুর ওপর দিয়ে। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুটি কাঁপতে থাকে। সেতু পারাপারের সময় যানবাহনের চালকসহ যাত্রীদের চোখেমুখেও আতঙ্ক লক্ষ্য করা যায়। তাদের সঙ্গে কথা হলেও উৎকণ্ঠার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তারা।
এ ছাড়া দুই পাশের সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সেতুর নিচের মাটি-বালু সরে গিয়ে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। গর্ত তো নয়, যেন মরণফাঁদ। অতি দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় যে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর রহমান বলেন, ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পে সেতুর মাঝ দিয়ে ফাটল দেখা যাচ্ছে। ভূমিকম্পের আগে এরকম ছিল না। সেতু পরিদর্শন করে শিগগিরই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের নিকট আহ্বান জানান তিনি।
কামরুল হাসান ও গোলাম নবী বলেন, প্রতি দিন ঝুঁকি নিয়েই জরুরি পরিষেবার গাড়ি, শিক্ষার্থী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ শত-সহস্র সাধারণ মানুষ দিনরাত সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছে। তাই সেতুর দুপাশের অ্যাপ্রোচ সড়কে সৃষ্ট গর্ত এবং মাঝখানে সৃষ্ট ফাটল সংস্কার করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সেতুর অবস্থা ‘অত্যন্ত ভয়ঙ্কর’ আখ্যা দেন কলেজ শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদিন। স্কুলশিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘প্রতি দিন আমি এই সেতু দিয়ে আসা-যাওয়া করি। কোনো ভারী গাড়ি পারাপার করার সময় এটি কাঁপতে থাকে। তখন মনে হয়, এই বুঝি ভেঙে পড়ল।’
শুধু স্থানীয় নয়, আন্তঃজেলা ও ঢাকাকেন্দ্রিক যোগাযোগের জন্যও মতলব সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ। চাঁদপুরসহ আশপাশের জেলা—নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকায় যাতায়াতের জন্য ২৪ ঘণ্টা এই সেতুটি ব্যবহার করে থাকে। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করে।
চাঁদপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের সুত্র জানায়, মতলব উত্তর ও দক্ষিণের সরাসরি যোগাযোগ, চাঁদপুর থেকে ঢাকার দূরত্ব কমানো এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে প্রায় ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ধনাগোদা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। চাঁদপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগকে এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেতুটি নির্মাণে ৮৪ কোটি টাকার মধ্যে মূল সেতু নির্মাণে ৫৬ কোটি টাকা এবং জমি অধিগ্রহণ বাবদ ব্যয় হয় ২৮ কোটি টাকা। পরবর্তীতে আরও ৮ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে মোট ৯২ কোটি টাকায় ধনাগোদা নদীর ওপর মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের উত্তর-পূর্ব পাশে বিশাল এ সেতুটি নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।
সেতুটিতে ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থের ৭টি স্প্যান রয়েছে এবং দু-পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক ১.৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয়ে নির্মাণ ও অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ ২০১৮ সালের জুন মাসে সম্পন্ন হয় এবং সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
‘নিরাপদ সড়ক চাই’ মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম বাবু বলেন, ‘মতলব সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চাঁদপুরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার মানুষ এই সেতুটি ব্যবহার করছে। সেতুর দুপাশের রাস্তারও বর্তমানে বেহাল দশা। সেতুর মাঝখানের জয়েন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত সংস্কার করার জন্য জোরালো দাবি জানাচ্ছি।’
সেতুর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন ইউএনবিকে বলেন, ‘অতি দ্রুত সেতুটির সংস্কার করা হবে।’
এ বিষয়ে চাঁদপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহম্মদ আলিউল হোসেন বলেন, ‘সেতুটির বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণে প্রকৌশলী পাঠানো হবে।’
৩১ দিন আগে
চিকিৎসক সংকটে বন্ধ হয়ে গেল চাঁদপুরের শতবর্ষী দাতব্য চিকিৎসালয়
অবশেষে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ‘প্রাথমিক চিকিৎসার বাতিঘর’ খ্যাত চাঁদপুর পৌরসভার শতবর্ষী দাতব্য চিকিৎসালয়। চিকিৎসক সংকটের কারণে এটি আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ১ মাস ধরে বন্ধ রাখা রয়েছে মেঘনাপাড়ে অবস্থিত গরীবের চিকিৎসাসেবার এই অন্যতম এই কেন্দ্রটি। এতে করে নদীভাঙন-কবলিত ও চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করা মানুষেরা আরও বিপাকে পড়েছেন। ফলে স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিয়েছে চাপা ক্ষোভ। ১০৫ বছর পুরনো এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি ফের চালু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা পুরানবাজারের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একশ বছরের বেশি সময় আগে প্রতিষ্ঠা করা হয় পৌর দাতব্য চিকিৎসালয়টি।
ব্রিটিশ সরকার, পাকিস্তান সরকার এবং স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শাসনামলে সগৌরবে এই প্রতিষ্ঠানটি নামমাত্র মূল্যে (২ টাকা) মানুষকে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরবরাহ করে আসছিল। সবশেষ চাঁদপুর পৌরসভার অর্থায়নে মাত্র ২ টাকার টিকিটে চিকিৎসা ও ওষুধ দিয়ে ‘মানবতার বাতিঘর’ হিসেবে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে ব্যাপক সুনাম কুড়ায় প্রতিষ্ঠানটি।
আরও পড়ুন: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ফি আছে, চিকিৎসা নেই!
হাবিবুর রহমানসহ (৭৫) স্থানীয় কয়েকজন বর্ষীয়ানের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম দিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিতে অস্ত্রোপচারসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা দেওয়া হতো। পরবর্তীতে অর্থ সংকটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকলেও পৌরসভার ২ জন স্বাস্থ্য সহকারী দিয়ে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। এতে হতদরিদ্র মানুষের ছোটখাট অসুখের চিকিৎসার আশ্রয়স্থল হয়ে উঠে দাতব্য চিকিৎসালয়টি। দৈনিক প্রায় ৮০/৯০ জন রোগী এখানে সেবা নিতে আসতেন বলে জানান তারা।
তবে হঠাৎ করেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকটের কারণ দেখিয়ে গত মাসে চিকিৎসালয়টি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা হতদরিদ্র মানুষজন পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
১২৪ দিন আগে
চাঁদপুরে নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ধনাগোদা নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া আব্দুল মান্নান (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে চাঁদপুর নৌ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে তিনি নিখোঁজ হন। বিকেল ৫টার দিকে চাঁদপুর নৌ ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল প্রায় এক ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আব্দুল মান্নান মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলি নয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে আব্দুল মান্নান ধনাগোদা নদীতে গোসল করতে নামেন। এ সময় নদীতে প্রচণ্ড স্রোতের কারণে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তলিয়ে যান।
পরবর্তীতে মতলব উত্তর ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে চাঁদপুর নৌ ফায়ার স্টেশনে খবর দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে সাগরে গোসলে নেমে বাবা-ছেলের মৃত্যু, দুই দিনে প্রাণ গেল ৪ জনের
চাঁদপুর নৌ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. রাকিবুল ইসলাম ইউএনবিকে বলেন, গতকাল (রোববার) বিকাল ৪টার দিকে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এক ঘণ্টার চেষ্টায় ৫টার দিকে তারা আব্দুল মান্নানের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
উদ্ধার শেষে মতলব উত্তর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল হাকিমের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক জানান, মৃত্যুর ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।
১২৭ দিন আগে
মেঘনার পাড় ঘেঁষে বালু উত্তোলন: হুমকিতে বাঁধ, আতঙ্কে স্থানীয়রা
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর পাড় ঘেঁষে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন চলছে। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে মেঘনা-ধনাগোদা বন্যা নিয়ন্ত্রণ সেচ প্রকল্পের ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। ফলে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
এই বাঁধের মধ্যে মতলব দক্ষিণের একটি গ্রাম ও মতলব উত্তরের ১৪টি ইউনিয়ন অবস্থিত। সেখানকার জনসংখ্যা প্রায় ৭ লাখ।
গত কয়েকদিন উপজেলার মেঘনা নদী অববাহিকার দশানি, ষাটনল, নাছিরাকান্দি, বোরচর এলাকা ঘুরে প্রকাশ্যে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলতে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু সন্ত্রাসী কিবরিয়া মিয়াজি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরেই মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন। তাদের এই ধরনের কাজে জড়িত থাকায় দুপক্ষের বিরোধে গোলাগুলিতে একাধিক ব্যাক্তি মারা গেছে, আহত হয়েছে আরও অনেকে। এসব ঘটনায় এখনো মামলা চলছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। এতকিছুর পরও কীভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে?
দশানি গ্রামের মাজেদুর রহমান বলেন, ‘কী বলমু ভাই, দিন-রাইত ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তোলে। পাড় ধসে আমাদের ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বেড়িবাঁধ যদি ভেঙে যায়, তাহলে পুরো মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাবে। কোটি কোটি টাকার সম্পদ শেষ হয়ে যাবে, অথচ কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’
আরও পড়ুন: পদ্মায় বালু উত্তোলনের দায়ে ৪ জনের কারাদণ্ড, একজন মুচলেকায় মুক্ত
ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রশাসনকে বারবার জানালেও কোনো ফল পাইনি। মনে হয় বালু সিন্ডিকেটের কাছে প্রশাসনও জিম্মি। সরকার পরিবতর্ন হলেও কোনো কাম হচ্ছে না।’
১৩৮ দিন আগে
চাঁদপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবক নিহত
চাঁদপুর সদর উপজেলায় বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রুবেল হোসেন শিশির (১৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১০ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলার বাবুরহাট-পেন্নাই সড়কের কাছে ময়দান খোলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রুবেল ৩ নম্বর কল্যাণপুর ইউনিয়নের আমানুল্লাহপুর গ্রামের দিঘিরপাড় এলাকার নজরুল ইসলাম স্বপনের ছেলে।
নিহতের স্বজনরা জানান, রুবেল সম্প্রতি বাবুরহাট স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেছেন। গতকাল (রবিবার) নানার কাছ থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হয়। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল (রবিবার) দুপুরে রুবেল তার নানার মোটরসাইকেলে করে সদরের লালদিয়া এলাকা থেকে বাবুরহাট যাওয়ার পথে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ডাববোঝাই ভ্যানের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খেলে তিনি ছিটকে পড়ে যান। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার তীব্রতায় তার মস্তিষ্ক বের হয়ে আসে।
দীর্ঘ সময় রাস্তার পাশে রুবেলের মরদেহ পড়ে থাকলেও স্থানীয়রা কেউ তাকে হাসপাতালে নিতে সাহস পাননি।
পরে এক সিএনজি অটোরিকশাচালক মানবিক কারণে তাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
আরও পড়ুন: দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় নিহত ১
এরপর চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসান সুমন জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রুবেলের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে আহাজারি শুরু করেন।
চাঁদপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।’
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া ইউএনবিকে জানান, পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই শেষ বিকালে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৪৮ দিন আগে
বাল্যবিবাহ ঠেকাতে প্রধান শিক্ষকের কাছে স্কুলছাত্রীর দরখাস্ত
চাঁদপুরে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দিচ্ছে পরিবার—এমন অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষকের কাছে দরখাস্ত দিয়েছে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান ওই শিক্ষক।
সাহসিকতা দেখানো মেয়েটির নাম রুহি আক্তার (১৩)। সে ফরিদগঞ্জ উপজেলার কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। বাড়ি উপজেলার কড়ৈতলী গ্রামের গাজী বাড়িতে। বাবা প্রবাসী আব্দুর রশিদ এবং মা গৃহিণী সুমি বেগম।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) প্রধান শিক্ষক পংকজ শর্মার হাতে লিখিত আবেদনটি দেয় রুহি। আবেদনে সে জানায়, তার জন্ম ২০১২ সালের ১৮ জুন। সে এখনো পড়াশোনা করছে। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যাতে সে রাজি নয়। তাই প্রধান শিক্ষকের সহায়তা চায় সে।
প্রধান শিক্ষক পংকজ শর্মা বলেন, ‘দরখাস্ত পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’
আরও পড়ুন: বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় অ্যাসিড নিক্ষেপ, নারী-শিশুসহ দগ্ধ ৩
ইউএনও সুলতানা রাজিয়া বলেন, ‘এই বয়সে এমন সাহসিকতা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আমরা মেয়েটির পাশে আছি এবং যে কোনো মূল্যে বাল্যবিয়ে ঠেকানো হবে।’
রুহির মা সুমি বেগম বলেন, ‘পারিবারিকভাবে ভালো পাত্র দেখা হয়েছিল, তবে এখনো বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক হয়নি। মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছুই করা হবে না।’
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি। বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে ইউএনও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন, আমরা প্রশাসনিক সহায়তা করি।’
১৬০ দিন আগে