চাঁদপুর
চাঁদপুরে পুকুরের ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
চাঁদপুরের কচুয়ায় খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার উজানী গ্রামের সিকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রহিম হোসেনের মেয়ে সাদিয়া (১০) ও বিল্লাল হোসেনের মেয়ে সামিরা (৮) সম্পর্কে বোন। সামিরা চট্টগ্রাম থেকে পূজার ছুটিতে দাদার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।
স্বজনরা জানান, দুপুর ১টার দিকে সাদিয়া ও সামিরা বাড়ির উঠানে খেলছিল। পরে তাদের দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে দুই শিশুর দেহ ভাসতে দেখেন তারা।
এরপর তাদের দ্রুত উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বিকেল ৩টার দিকে দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোনো মামলা হয়নি।’
১২ ঘণ্টা আগে
চাঁদপুরে ইলিশ ধরার অপরাধে ৩০ জনকে জেলে প্রেরণ
চাঁদপুরের হাইমচরে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে মেঘনা নদীতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ৩২ জেলেকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ড। আটকদের মধ্যে ৩০ জনকে ১৮ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান চালানো হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় দুজন ছেলেকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
হাইমচর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব রশীদ জানান, অভিযানের পর উপজেলা সদরে ফিরে এসে গভীর রাতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি জানান, অভিযান চলাকালে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার অভিযোগে হাতেনাতে মোট ৩২ জেলেকে আটক করা হয়। আটক জেলেদের মধ্যে ৩০ জনকে ১৮ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আজ শুক্রবার এদেরকে জেলে পাঠানো হয়েছে।
তাছাড়া, অভিযানের সময় জব্দ করা প্রায় এক লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল নদীর পাড়েই আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া জব্দ করা ২৪ কেজি মা ইলিশ আজ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে ।
ইউএনও নজরুল ইসলাম আরও বলেন, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদীতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
২ দিন আগে
তিন দশকেও চাঁদপুর বিসিক শিল্পনগরীতে দৃশ্যমান উন্নয়ন নেই, বন্ধ অনেক কারখানা
চাঁদপুরের বাবুরহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরীতে প্রায় তিন দশকেও দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। শিল্পনগরীটিতে বেশ কয়েকটি কারখানা বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পনগরীর স্বাভাবিক কার্যক্রম।
জেলার আটটি উপজেলার কোথাও বিসিক উপজেলা পর্যায়ের অফিস না থাকায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও নানা সমস্যায় পড়ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।
চাঁদপুর সদরের বাবুরহাটে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে প্রায় ১০ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে বিসিক শিল্পনগরী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮৭ সালে এবং ১৯৯৮ সালে শিল্পনগরীটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানেই বিসিকের জেলা কার্যালয় অবস্থিত। তবে যথাযথ উদ্যোগ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের অভাবে দীর্ঘ সময়েও শিল্পনগরীটি প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি বলে মনে করছেন সচেতন ব্যবসায়ীরা।
তাদের মতে, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী শিল্পপণ্যের জায়গা ক্রমেই দখল করছে প্লাস্টিকসামগ্রী। এতে ক্ষুদ্র শিল্পের সম্ভাবনা ও ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন জেলা পরিবেশ আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মাসুম, মো. মাসুদ আলমসহ অন্যরা।
বিসিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এটি দেশের একমাত্র মিনি শিল্পনগরী। এখানে মোট ৩৩টি শিল্প ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি চালু এবং ছয়টি বন্ধ বলে জানিয়েছেন বিসিক জেলা কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শিল্প কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার খান।
তবে শিল্পনগরী ঘুরে দেখা যায়, একসময় চালু থাকা বেশ কয়েকটি কারখানা এখন বন্ধ। কোথাও কোথাও কারখানার প্রবেশপথ বন্ধ, আঙিনায় জমেছে শুকনো পাতা, চারপাশে গজিয়েছে ঝোপঝাড়। উৎপাদন ও শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায় মুখর থাকার কথা যে শিল্পাঞ্চলের, সেখানে অনেক জায়গায় বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা।
চালু কারখানার কয়েকজন কর্মচারী ইউএনবিকে জানান, উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করেও অনেক প্রতিষ্ঠান লাভের মুখ দেখতে পারেনি। লোকসানের কারণে জুস কারখানাসহ কয়েকটি শিল্প ইউনিট একে একে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন বহু শ্রমিক।
২ দিন আগে
মেঘনায় ইলিশ শিকারের দায়ে ২৪ জেলের কারাদণ্ড
চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের দায়ে ২৪ জেলেকে ২০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় এক লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল, ১৫ কেজি মা ইলিশ ও মাছ ধরার ছয়টি নৌকা জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হাইমচর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রশীদ এসব তথ্য জানান।
দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেকের বাড়ি মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকার আশপাশে। তাদের আজ (মঙ্গলবার) কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
হাইমচর উপজেলা প্রশাসন জানায়, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একদল জেলের নদীতে মাছ ধরার খবর পেয়ে টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে ২৮ জন জেলেকে হাতেনাতে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক চারজনকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া জব্দ করা এক লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং ছয়টি নৌকা কোস্ট গার্ডের হেফাজতে রাখা আছে। সেই সঙ্গে জব্দ করা ১৫ কেজি মা ইলিশ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
হাইমচর উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মৎস্য দপ্তর, নীলকমল নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ও স্থানীয় কোস্ট গার্ড যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নজরুল ইসলাম এতে নেতৃত্ব দেন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
ইউএনও নজরুল ইসলাম বলেন, ইলিশ মাছকে নিরাপদে মেঘনায় ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত অভয়াশ্রম এলাকায় উপজেলা টাস্কফোর্স কঠোর অবস্থানে থাকবে বলেও জানান তিনি।
৫ দিন আগে
চাঁদপুরের মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক ও গ্রেপ্তার ৯০
চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। এ সময় মোট ৯০ জনকে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি ৫১ পিস ইয়াবা ও ২৯৩ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ।
রবিবার (১১ অক্টোবর) জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিয়া নূর ইউএনবিকে এসব তথ্য জানান। এর আগে গতকাল (শনিবার) জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়।
মাদকবিরোধী অভিযানে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনের অপরাধে আটজন ও ১১ পিস ইয়াবাসহ একজনকে আটক করে। পাশাপাশি ফরিদগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার ও ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ ২৩ গ্রাম গাঁজাসহ দুজনকে এবং মতলব উত্তর থানা পুলিশ ২৪ পিস ইয়াবা ও ২০ গ্রাম গাঁজাসহ দুজনকে আটক করে।
এছাড়া হাজীগঞ্জে পাঁচ পিস ইয়াবাসহ দুজন, শাহরাস্তিতে ছয় পিস ইয়াবাসহ দুজন এবং কচুয়ায় পাঁচ পিস ইয়াবা ও ১৫০ গ্রাম গাঁজাসহ দুজনকে আটক করা হয়।
আটক বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে হাইমচরে একজন, ফরিদগঞ্জে ১৪ জন, মতলব উত্তরে আটজন, হাজীগঞ্জে ১৪ জন, শাহরাস্তিতে ১৭ জন ও কচুয়ায় ১৬ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। মাদকমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে তিনি সব স্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
৭ দিন আগে
চাঁদপুরে ইলিশ বিক্রি ও মজুদের দায়ে তিন হোটেল মালিককে জরিমানা, ১ মণ ইলিশ জব্দ
সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাঁদপুরে ইলিশ বিক্রি ও মজুদের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তিনটি হোটেল মালিককে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এসব হোটেলে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ মণ ইলিশও জব্দ করা হয়।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে শহরের বড় স্টেশন মাছঘাট-সংলগ্ন রেস্টুরেন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদ রানা।
এ সময় হিলশা কিচেনকে ৩০ হাজার, মেজবান হোটেলকে ২০ হাজার ও দেলোয়ার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ১০ হাজার টাকাসহ মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে এ অভিযান শেষে জব্দ ১ মণ ইলিশ স্থানীয় বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ বিক্রি ও মজুদের বিরুদ্ধে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
৯ দিন আগে
ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, নীরব চাঁদপুরের ব্যস্ত ঘাট
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে চাঁদপুর জেলার পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারের ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই জেলার মেঘনা নদী ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ফাঁকা ও জনমানবহীন হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে জেলার বৃহত্তম ও শতবর্ষী বড়স্টেশন মৎস্যঘাট, টিলাবাড়ী ও লঞ্চঘাট এলাকায় গিয়ে নদীর পাড় প্রায় পুরোটাই ফাঁকা দেখা যায়। কোনো মাছ ধরার নৌকা বা ট্রলারও চোখে পড়েনি।
এ সময় জেলেদের সচেতন করতে জেলা মৎস্যজীবী সংগঠনের সদস্যদের ট্রলারে করে নদীর বিভিন্ন অংশে মাইকিং করতে দেখা যায়।
সাধারণত জনমুখর ও ব্যস্ত থাকা বড়স্টেশন মৎস্যঘাটে বিরাজ করছে অস্বাভাবিক নীরবতা। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার ঠিক আগের দিন বুধবার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্তও পুরো এলাকাজুড়ে কেনাবেচা ও হাঁকডাক ছিল।
জেলা টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ২২ দিন জেলার সব বরফকলও বন্ধ থাকবে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় পুকুর, খাল, বিল ও হ্রদে চাষ করা মাছের ওপর প্রযোজ্য হবে না।
ঘাটের ইলিশ ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম, জালাল হাজী ও আলী আকবর জানান, তারা সাধারণত সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আড়তেই অবস্থান করেন। তবে আড়তে আজ কাজ না থাকলেও তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাধারণ সময়ে এই ঘাটে প্রায় ১৫০ জন দিনমজুর নানা ধরনের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন বলে জানান মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শবেবরাত সরকার।
১০ দিন আগে
চাঁদপুরে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী নিহত, চালক আটক
চাঁদপুরে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে রেহানা আক্তার লাকি (৪৫) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকচালককে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের পাশে ডাকাতিয়া নদীর দক্ষিণ পাড়ের রান্ধুনীমুড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৮টার দিকে রেহানা মারা যান।
নিহত রেহানা হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের রান্ধুনীমুড়া এলাকার মনিনাগ মজুমদার বাড়ির আব্দুল কাদের বিটু মজুমদারের স্ত্রী। তিনি দুটি সন্তান রেখে গেছেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, রেহানা হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়ক দিয়ে অটোরিকশায় করে মেয়ের বাসা থেকে স্বামীর বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দিলে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারীর মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাক ও চালককে আটক করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ওসি বলেন, এখনও মামলা হয়নি। মরদেহ দাফনের জন্য ফেরত দেওয়া হয়েছে।
১২ দিন আগে
বারান্দার পাশে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, দগ্ধ ২ শিশু
চাঁদপুর শহরে ফ্ল্যাটের বারান্দায় খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সংস্পর্শে এসে দুই শিশু মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে শহরের নিউ ট্রাক রোড এলাকার আরএস টাওয়ারের পঞ্চম তলায় পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ ফাইজা আক্তার (৬) লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থানার মৃত মো. ফরহাদের মেয়ে ও মো. সাব্বির (৪) একই এলাকার মো. সুমন মিয়ার ছেলে।
প্রতিবেশীরা জানান, দুই শিশুকে উদ্বার করে প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।
তারা প্রবাসী সোহেল দেওয়ানের ওই ভাড়া ফ্ল্যাটে বেড়াতে এসেছিল। তার স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার সন্তানদের নিয়ে ওই বাসায় থাকেন।
ইয়াছমিন জানান, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তার দুই খালাতো বোন বেড়াতে আসেন। তাদের সঙ্গে শিশুরাও ছিল। একপর্যায়ে দুই শিশু খেলতে বারান্দায় যায়। কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দ শুনে তারা বারান্দায় গিয়ে দুই শিশুকে দগ্ধ ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
তার ধারণা, শিশুদের হাতে থাকা কোনো কিছু পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সংস্পর্শে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ফ্ল্যাটটির বারান্দার খুব কাছে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন রয়েছে। ওই লাইন থেকে নিরাপত্তার জন্য বারান্দার পাশে কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থাও নেই।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আসিবুল হাসান বলেন, দগ্ধ দুই শিশুকে তিনি চিকিৎসা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ফাইজার শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে। আরেক শিশুরও শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তিনি আরও বলেন, দুই শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না। ঘটনার সময় তিনি থানার বাইরে কাজে ছিলেন।
পরে থানার পুলিশ পরিদর্শকের (তদন্ত) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনিও ফোন ধরেননি।
১৪ দিন আগে
চাঁদপুরে ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে, স্বস্তিতে ক্রেতারা
প্রায় চার মাস পর চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে ইলিশের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে গত কয়েকদিনে জেলার বাজারগুলোতে ইলিশের দাম কেজিপ্রতি গড়ে প্রায় ৪০০ টাকা কমেছে। সরবরাহ বাড়ায় মাছঘাট ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যস্ততাও বেড়েছে।
মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, ৩০ এপ্রিল জাটকা ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর গত চার মাস ধরে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৭০ মণ ইলিশ আসত। তবে গত কয়েকদিনে সরবরাহ বেড়ে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ মণ ইলিশ আসছে।
চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাট ঘুরে দেখা গেছে, তিন দিন আগেও এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৯০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও সরবরাহ বাড়ায় বর্তমানে তা ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শহরের বিপণীবাগ কাঁচাবাজারে একই ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ টাকায়।
এছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়; আগে যার দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে বাজারে আসা এসব ইলিশ পদ্মা নদীর টাটকা ইলিশ।
গেল সোমবার চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে দুই কেজি ওজনের একটি বড় বা ‘রাজা ইলিশ’ কেজিপ্রতি সাড়ে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মোট ৯ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেন এক ইলিশপ্রেমী।
প্রবীণ মাছ বিক্রেতা আবুল হোসেন জানান, বড় ইলিশের স্বাদ তুলনামূলক ভালো হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি।
ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, বর্তমানে ইলিশের মূল মৌসুম চলছে। অমাবস্যার প্রভাবে গত ২৮ আগস্ট থেকে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। তিনি আশা করেন, আগামী অক্টোবর পর্যন্ত নদীতে জেলেদের জালে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়বে।
চাঁদপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও প্রবীণ মৎস্য ব্যবসায়ী শবেবরাত সরকার বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ঘাটে ইলিশের আমদানি বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ মণ ইলিশ আসছে।
তিনি বলেন, ‘গত রবিবারও প্রায় সাড়ে ৩৫০ মণ ইলিশের আমদানি হয়েছে। এখন ইলিশের মৌসুম। সামনে আরও বেশি ইলিশ পাওয়া গেলে দাম আরও কমতে পারে।’
ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় মাছঘাটের শ্রমিকদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। শ্রমিক আল আমিন, মফিজ ও আনোয়ার হোসেন জানান, ইলিশের আমদানি বাড়ায় তাদের কাজও বেড়েছে। মাছ সংরক্ষণ ও প্যাকেটজাত করার জন্য বরফকলগুলোতেও ব্যস্ততা বেড়েছে।
মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, বরফ গুঁড়া করে ইলিশ প্যাকেটজাত করার পর ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।
ফরিদগঞ্জের সন্তোষপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জহিরুল আলম এবং নোয়াখালীর সাইফুর রহমান জীবন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাছঘাটে ইলিশ কিনতে আসেন। তারা জানান, তুলনামূলক সুবিধাজনক দামে টাটকা ইলিশ কিনতে পেরে তারা সন্তুষ্ট।
এদিকে, মাছঘাটসংলগ্ন একটি কক্ষে অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের বা ‘রিজেক্টেড’ ইলিশের পেট থেকে ডিম সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেট করতে দেখা গেছে কয়েকজন শ্রমিককে।
এ কাজে নিয়োজিত ব্যবসায়ীরা জানান, এক কেজি ইলিশের ডিমের প্যাকেট সাড়ে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। বড় ইলিশ থেকে সংগ্রহ করা ডিমের দাম আরও বেশি—কেজিপ্রতি ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এসব ডিম চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, তিন থেকে চার বছর আগে ইলিশের ডিম কেজিপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে এর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ডিম ছাড়ানোর পর কিছু ইলিশে হালকা কাটার দাগ দিয়ে লবণ মাখিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পরে হলুদ মিশিয়ে শুকানো এসব ‘কাটা ইলিশ’ কেজিপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের লবণাক্ত ইলিশের চাহিদা রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শত বছরের পুরোনো এবং চাঁদপুর জেলার সবচেয়ে বড় এ মাছঘাটে প্রায় দেড়শ ব্যবসায়ী ইলিশসহ বিভিন্ন ধরনের মাছের ব্যবসা করেন। ঘাটে প্রায় সাড়ে তিনশ দিনমজুর কাজ করেন।
৪৬ দিন আগে