চাঁদপুর
ঝড়ে চাঁদপুরের শতাধিক গ্রামে দুই দিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, গাছচাপায় আহত ১০
ঝড়ের প্রভাবে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর, হানাচর, চান্দ্রা ও বালিয়া ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামে গাছ ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় দুই দিন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এই দুর্যোগে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
গত বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পর্যন্ত এসব গ্রামের পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। এতে ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে আসা মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েন।
ঈদের পরদিন শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে এ খবর জানা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক স্থানে ঝড়ে বড় বড় গাছ ভেঙে রাস্তায় এবং বসতঘরের ওপর পড়ে আছে।
সদরের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের দেলোয়ার শেখ বলেন, মঙ্গলবার রাতে ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়। দুই দিন পরে বৃহস্পতিবার ঈদের দিবাগত রাত ২টার দিকে বিদ্যুৎ আসে, আবার শুক্রবার সকালে চলে যায়। গ্রামের প্রতিটি ঘরে এখন ফ্রিজ আছে। অনেকেই কোরবানির মাংস নিজের এবং স্বজনদের জন্য ফ্রিজে সংরক্ষণ করে। সে কারণে অনেকেই সমস্যায় পড়েছেন।
বাগাদী ইউনিয়নের নানুপুর গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন গাজী, আনিসুর রহমান, মোরশেদ ও জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঝড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় সরবরাহ বন্ধ ছিল। পরে খবর দিলে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা এসে গাছ কেটে লাইন স্বাভাবিক করেন।
চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেন খান, ইউসুফ খান ও নাজমুল হোসেন বলেন, ঝড়ে ঘর, সড়ক ও বিদ্যুতের লাইনের ওপর বহু গাছ ভেঙে পড়ে। এতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। নিজ গ্রামে ঈদ উৎসব করতে এসে অনেকে এবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানান তারা।
একই গ্রামের বাসিন্দা মাইনুল ইসলাম ও সোহেল আহম্মেদ বলেন, আমাদের ইউনিয়নের মদনা, দক্ষিণ বালিয়া, হরিপুর, বাখরপুর ও জব্বর ঢালী এলাকায় বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়ে লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মদিনা মার্কেট এলাকায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে আঞ্চলিক সড়কে পড়ে ছিল।
তারা জানান, গত বুধবার সকালের আকস্মিক ঝড়ে পশ্চিম বালিয়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আজিজ তালুকদারের ঘরের ওপর দুটি গাছ ভেঙে পড়ে। এতে তার পরিবারের তিন সদস্য আহত হন।
আহতরা হলেন— আজিজ তালুকদারের ছেলে মো. আরাফাত (১৮), মেয়ে আবিদা সুলতানা (১২) ও স্ত্রী নাছিমা আজিজ (৪২)।
প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আমরা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আইনজীবী মো. শাহজাহান খান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ঝড়ের পর আমাদের লোকজন কাজ করেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করে বিদ্যুৎ লাইন আবার চালু করা হয়েছে। এরপরও যদি কোনো গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকে, আমাদের জানালে সেখানে আমাদের লোকজন কাজ করবেন।
৩৬ মিনিট আগে
মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে স্বপ্ন নয়, পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকার শুধু স্বপ্ন দেখতে চায় না, বরং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় খোর্দ্দ খাল পুনর্খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য একটাই—আমরা স্বপ্ন দেখতে চাই না; পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই, যে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের উপকার হবে; যে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।
খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, ৪৮ বছর আগে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করে দিয়ে গিয়েছিলেন, সেই খাল পুনর্খননের এই অনুষ্ঠান। আসুন আমরা সকলে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করি, দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা।
বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত যদি একসঙ্গে কাজ করে, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা পৃথিবীর বুকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হব বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
১৪ দিন আগে
কুমিল্লায় পথসভায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
চাঁদপুর সফরের পথে কুমিল্লায় সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরইমধ্যে কুমিল্লায় পৌঁছে বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় যোগ দিয়েছেন।
শনিবার (১৬ মে) দুপুর প্রায় ১টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী পথসভার মঞ্চে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা করতালি ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।
অভিবাদনের জবাবে তারেক রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদপুর যাচ্ছেন। পথে তিনি এ পথসভায় অংশ নিচ্ছেন এবং এখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন।’
আজ সকাল থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ছোট ছোট মিছিল সহকারে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পথসভাটি বড় জনসমাবেশে রূপ নেয়।
১৪ দিন আগে
আগামীকাল চাঁদপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
আগামীকাল (শনিবার) চাঁদপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে খাল পুনর্খনন ও ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন তিনি।
শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
তিনি জানান, সড়কপথে এসে প্রধানমন্ত্রী দুপুরে জেলার শাহরাস্তি উপজেলার খোদ্দাখাল পুনর্খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এরপর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট গ্রামে বিশ্বখাল পুনর্খনন কাজেরও উদ্বোধন করবেন তিনি। বিকেলে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সদর উপজেলার মেঘনা পাড়ের দুর্গম চর রাজরাজেশ্বরের ৬ শতাধিক মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।
এমপি মানিক বলেন, ‘আমাদের দাবি হচ্ছে চাঁদপুর-হাইমচরের সার্বিক উন্নয়ন। এর মধ্যে চাঁদপুরে একটি ইপিজেড স্থাপন এবং একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা যাতে চাঁদপুর সদর, হাইমচর, লক্ষ্মীপুর ও শরীয়তপুরের শতসহস্র নদীসিকস্তি এলাকার বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইপিজেডের জন্য ২০০ থেকে ২৫০ একর জমির প্রয়োজন। এটি বাস্তবায়িত হলে কমপক্ষে দেড় লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী এটি করে দেবেন।’
ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, চাঁদপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে। তবে ফ্যাসিবাদী কিছু লোক এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমাদের আরেকটি দাবি হচ্ছে, মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে চাঁদপুর সদর হয়ে হাইমচর উপজেলার জালিয়ারচর পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকায় নদীপাড়ের অব্যাহত ভাঙন রোধে স্থায়ী নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। বাঁধ নির্মাণ হলে নদীভাঙনে আর কেউ গৃহহারা হবে না, সহস্র গৃহহীন মানুষের বুকফাটা কান্না থেমে যাবে।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নদীবন্দর চাঁদপুরে এটিই তারেক রহমানের প্রথম সফর। চাঁদপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনই বিএনপির দখলে রয়েছে।
এমপি মানিক বলেন, ইতোমধ্যে এ সফরকে কেন্দ্র করে জেগে উঠেছে চাঁদপুর সদর ও শাহরাস্তির সর্বস্তরের জনগণ। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আ মান্নান, জেলা পরিষদের প্রশাসক সলিম উল্লাহ সেলিম, প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী এবং জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন ।
১৪ দিন আগে
কচুয়ায় উদ্বোধনের আগেই সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, জনমনে ক্ষোভ
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি গার্ডার সেতুর উদ্বোধন হওয়ার আগেই এর সংযোগ সড়কে (অ্যাপ্রোচ রোড) ধস দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে সড়কের মাটি ও প্রতিরক্ষা দেওয়াল (গার্ডওয়াল) সরে গিয়ে সেতুর মূল কাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। নিম্নমানের কাজের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ প্রকল্পের আওতায় এই কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের মাঝিগাছা-নিন্দপুর রঙের বাজার সংযোগ সড়কের হরিপুর গ্রামে প্রায় ১২ মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি গার্ডার সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হারুন অ্যান্ড সন্স। প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৭১ হাজার ১১৬ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের গার্ডওয়ালের নিচের মাটি সরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিশাল ফাটল দেখা দিয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি ধুয়ে কার্পেটিং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সেতুটি চলাচলের জন্য পুরোপুরি উপযোগী হওয়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হযরত আলী ও জিলানী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতুর কাজ এখনো শেষ হয়নি, এর মধ্যেই যদি রাস্তা ভেঙে পড়ে, তাহলে বর্ষাকালে কী হবে? কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এমন নিম্নমানের কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।
এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. হারুনুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে সেতুর সংযোগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বর্তমানে মেরামত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হলে সেটিও সংস্কার করে দেওয়া হবে।
কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল আলীম লিটন বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির কারণে সেতুর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। তদন্তে কোনো গাফিলতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারকে এখনও চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়নি। কাজের গুণগত মান যাচাই করার পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৯ দিন আগে
হাইমচরে এক কিলোমিটার সড়ক এখন ‘মরণফাঁদ’
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন স্থানীয়দের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছৈয়াল মোড় থেকে মরহুম আব্দুর রহমান চেয়ারম্যানের এতিমখানা মসজিদ পর্যন্ত এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বর্তমানে সংস্কারের অভাবে ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র তিন বছর আগে নির্মিত এই সড়কটির কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব খানাখন্দ ছোটখাটো পুকুরে রূপ নেয়। বিশেষ করে ছৈয়াল বাড়ি-সংলগ্ন পুকুরপাড় এলাকাটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, সেখান দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল এখন দুঃসাধ্য। প্রতিনিয়ত ছোটবড় যানবাহন উল্টে এখানে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের এই করুণ দশার পেছনে মূল কারণ ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বালু ও ইটবাহী অবৈধ ট্রাক্টর ও পাওয়ার ট্রলি। নিয়মিত এসব ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটির স্থায়িত্ব নষ্ট হয়ে গেছে। খানাখন্দের কারণে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অটোরিকশাচালকরা জানান, এই রাস্তায় যাত্রী নিয়ে চলাচল করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কয়েকবার গাড়ি উল্টে যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনায় অনেক চালক এখন এই পথে গাড়ি চালাতে ভয় পাচ্ছেন। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে এই সড়কে যাতায়াত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
সড়কটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শত শত শিক্ষার্থী। সিয়াম ও হাফিজাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে কোনো যানবাহন এই পথে আসতে চায় না, আসলেও কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দাবি করে। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের দীর্ঘ পথ হেঁটে বিকল্প রাস্তায় যাতায়াত করতে হচ্ছে, যার কারণে সঠিক সময়ে ক্লাসে পৌঁছানো অনেক সময় সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া রাস্তার বালু উড়ে শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-কাশির মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সমাজসেবী মাজহারুল ইসলাম শফিক পাটওয়ারী বলেন, আমরা সমস্যাটি সম্পর্কে অবগত আছি। নির্বাচনের পর বরাদ্দ আসায় এই রাস্তাটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকৌশলীর মাধ্যমে এস্টিমেট (প্রস্তাব) প্রস্তুত করে প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারি প্রক্রিয়া শেষ হলেই দ্রুত কাজ হওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী আশরাফুল হাসান জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম সড়ক শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় মহজমপুর ঈদগাহ থেকে ছৈয়াল বাড়ি পর্যন্ত সাড়ে ৮ কিলোমিটার সড়কটির সংস্কারের প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। এটি এলজিইডি আইডিভুক্ত সড়ক। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবর্ণনীয় কষ্ট লাঘবে আর কোনো কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ দেখতে চায় হাইমচরের এই জনপদের ভুক্তভোগী মানুষ।
২২ দিন আগে
১৬ মে চাঁদপুর ও ২৫ মে ফেনী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
আগামী ১৬ মে চাঁদপুর এবং ২৫ মে ফেনী জেলা সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৬ মে) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, খাল-খনন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে চাঁদপুর ও ফেনীতে খাল-খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আগামী ১৬ মে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে যাচ্ছেন। সেখানে অনেকগুলো কর্মসূচি রয়েছে। তিনি সেখানে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সারা বাংলাদেশে ইতোমধ্যে যেসব জেলায় তিনি যাচ্ছেন, খাল খনন কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আপনারা জানেন যে আমরা আগামী পাঁচ বছরব্যাপী সারা বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। সে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলায় গিয়ে খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। আমাদের মন্ত্রী-এমপিরা সবাই যার যার এলাকায় এই কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।
তিনি বলেন, যেহেতু বর্ষাকাল প্রায় চলে এসেছে, আমরা হয়তো এই মে মাস পর্যন্ত এই কর্মসূচি কন্টিনিউ (চলমান) রাখতে পারব। বর্ষা শেষে আবার আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর-জানুয়ারির দিকে আমরা এই কর্মসূচি চালু কর।
মন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগে মে মাসে প্রধানমন্ত্রী দুইটি জেলায় যাচ্ছেন সেটা হলো চাঁদপুর এবং ফেনী। ফেনীতে যাবেন ২৫ মে এবং চাঁদপুর যাচ্ছেন ১৬ মে।
পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রায় এক ঘণ্টার এ বৈঠকটি সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১০টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভ্যবতা জরিপ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে, সরকার শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান পানি সম্পদ মন্ত্রী।
২৪ দিন আগে
‘ঠিকাদারের গাফিলতিতে’ দেড় বছর ধরে ভুগছে চাঁদপুরের ১০ গ্রামের মানুষ
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতিতে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ ‘লাওকোরা মুক্তিযোদ্ধা সড়ক’ সংস্কারের কাজ। সাড়ে ৫ কিলোমিটারের এই সড়কের কার্পেটিং কাজ মাঝপথে থেমে থাকায় হাজীগঞ্জ, কচুয়া ও শাহরাস্তি—এই তিন উপজেলার অন্তত ১০-১২টি গ্রামের মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হলেও কোনো কর্ণপাত না করায় ইতোমধ্যে ব্যাংকে সিকিউরিটি মানি জব্দের চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), চাঁদপুর জেলা কার্যালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের উয়ারুক স্টেশন থেকে লাওকোরা বটতলী পর্যন্ত এই সড়কটি ওই এলাকার অন্তত দুই লাখ মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আইভি ওয়াই কনস্ট্রাকশন’। পরবর্তীতে কাজটি ‘ভায়া’ হিসেবে নেন চাঁদপুরের অপর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘আফজাল ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী আফজাল হোসেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না করে সড়কটি খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। সড়কের কার্পেটিং তুলে রাখায় পুরো এলাকা ধুলোবালিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। সড়কের পাশের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট বালু-ধুলায় বিবর্ণ হয়ে গেছে।
হাটিলা টঙ্গিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা বাবলু পাটোয়ারী ও আ. জলিলসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, এমন একজন ঠিকাদার কাজটা নিয়েছেন যিনি খুব খারাপ লোক। আজ থেকে দেড় বছর আগে তিনি রাস্তাটি খুঁড়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে রেখেছেন। মুমূর্ষু রোগী, প্রসূতি মা ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নাই। রাতের বেলায় এই পথে চলাচলের কথা তো বলাই যায় না।
অটোরিকশাচালক ইব্রাহিম বলেন, এখান থেকে স্টেশনে আপ-ডাউন করলে কাপড়-চোপড় পুরো নোংরা অইয়া যায়। আবার ধোয়া লাগে, নাহয় এসব গায় দেওয়া যায় না। বালু-ধুলায় এই রাস্তার পাশের দোকানপাট, বাড়িঘর সব লাল অইয়া যায়।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নবীর হোসেন ও খোরশেদ মিয়া বলেন, রাস্তাটা উল্টানোর পর বলছিল, কিছুদিন পর কাজ করবে, কিন্তু কাজটা করে নাই। খারাপ রাস্তার কারণে গাড়িগুলা ভাইঙ্গা যায়।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক ফারাজ হোসেন ভূঁইয়া ও কয়েকজন পথচারী জানান, ধুলোবালির কারণে ১০ হাত দূরের কিছু দেখা যায় না। রাস্তার কার্পেটিং না থাকায় জনসাধারণের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে মুখে মাস্ক পরে চলতে হয়। শিশু থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষ এখন বিভিন্ন ধরনের শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া।
লাওকোরা গ্রামের ইউপি সদস্য রহমত উল্ল্যাহ বলেন, রাস্তাটির উন্নয়ন ও সংস্কার আমাদের সবার জন্য অতীব জরুরি। দীর্ঘ দেড় বছর আগে থেকে ঠিকাদার এই রাস্তাটি খুঁড়ে রেখেছেন। আমরা তার সঙ্গে মুঠোফোনে কয়েকবার আলোচনা করেছি। তিনি আমাদের সঙ্গে কয়েকবার কাজ শুরুর ওয়াদাও করেছেন, কিন্তু কথা রাখেননি। আমি চাঁদপুর জেলা এবং হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন এই কাজটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের ব্যবস্থা করা হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. তাহসিনুল হোসেন মুকুল বলেন, ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিবার লিখিত হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা এবং ব্যাংকের সিকিউরিটি জব্দ রাখার জন্য চিঠিও দেওয়া হয়েছে। জুনের মধ্যে কাজ শেষ না করলে জরিমানা আদায় করে নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির সংস্কার কাজ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, সংস্কার কাজটি ২০২৪-২৫ সালে ‘জেবু মেইনটেন্যান্স’ থেকে করা হয়েছিল এবং ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। আইভি কনস্ট্রাকশন নামক প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন যাবৎ কাজটি ফেলে রেখেছে। তাদের বিরুদ্ধে দপ্তরে আগেও অনেক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানান তিনি।
২৫ দিন আগে
কচুয়ায় সড়কে নিম্নমানের কার্পেটিং, ৫ দিনের মধ্যেই দেখা দিয়েছে গর্ত
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর সংস্কার কাজ শুরু হলেও মাত্র ৫ দিনের মাথায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, ফলে জনদুর্ভোগ কমার বদলে বেড়েছে ঝুঁকি ও আতঙ্ক।
কচুয়া ফায়ার সার্ভিস থেকে উপজেলার কাশিমপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি কচুয়া, মতলব, হাজীগঞ্জসহ রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। গুরুত্বপুর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টাই শত শত যানবাহন চলাচল করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে চলমান এই সংস্কারকাজে কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব খুবই কম রাখা হয়েছে। নিম্নমানের পাথর, ইট ও নামমাত্র বিটুমিন ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ করছেন ঠিকাদার। অনেক স্থানে বিটুমিন বা ইটের খোয়া ছাড়াই সরাসরি মাটির ওপর পাথর ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে কাজ শেষ হওয়ার আগেই পাথর উঠে গিয়ে আগের মতোই গর্ত তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে কচুয়া পৌরসভার পলাশপুর, ফায়ার সার্ভিস-সংলগ্ন এলাকা, কান্দারপাড়, বালিয়াতলী, চকমাহমুদপুর, গুলবাহার বাজার এবং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সামনে সড়কটির অবস্থা সবচেয়ে নাজুক, যা এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হোসেন ও আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, দায়সারাভাবে সড়কের কাজ করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোনো তদারকি নেই। কাজ দেখলেই বোঝা যায়, এই রাস্তা টিকবে না।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক বিল্লাল হোসেন, প্রবীণ চালক ফারুক মিয়া এবং প্রাইভেট কারচালক লিটন গাজী বলেন, ভেবেছিলাম রাস্তা ঠিক হলে ভোগান্তি কমবে, কিন্তু ৫ দিনের মধ্যেই পাথর উঠে গর্ত হয়ে গেছে। এখন গাড়ি চালানো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে রাতের বেলায় আতঙ্ক বেড়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারকে অনিয়মের বিষয়টি বারবার জানানো হলেও তিনি কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তদারকি কর্মকর্তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট তদারককারী প্রকৌশলী আবু হানিফের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, সড়কটি মেরামতের জন্য এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক অর্থ বরাদ্দ হয়নি। জনদুর্ভোগ কমাতে একজন ঠিকাদার দিয়ে সাময়িকভাবে সংস্কারকাজ চালানো হচ্ছে এবং বরাদ্দ পাওয়া গেলে পরে তাকে অর্থ দেওয়া হবে।
তবে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
কচুয়া থেকে হাজীগঞ্জ ও মতলব উপজেলার সংযোগকারী এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সুরমা পরিবহনের বাস, মালবাহী ট্রাকসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। দ্রুত সঠিক মান বজায় রেখে সড়কটি সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
২৬ দিন আগে
বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি শিগগিরই: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা শিক্ষকদের বদলি শিগগিরই চালু করা হবে। সবকিছু প্রস্তুত করা হয়েছে, এখন কমিটিগুলো হচ্ছে। তারপর বদলি শুরু হবে।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে চাঁদপুরের কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান।
মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষকদের বদলি করা হবে। সবকিছু প্রস্তুত করেছি, এখন কমিটিগুলো হচ্ছে, বদলি শিগগিরই করব। চাকরির বিধিমালায় যে শর্তগুলো রয়েছে, সেগুলো দিয়েই তাদের যোগদান করানো হবে বলেও জানান তিনি।
আয়োজিত খেলায় বালকদের মধ্যে ফাইনালে কচুয়া সরকারি পাইলট প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাগদৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্দিষ্ট সময়ে ১-১ গোলে ড্র হয়। পরে টাইব্রেকারে জয় লাভ করে কচুয়া সরকারি পাইলট প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এছাড়া বালিকাদের মধ্যে ১-০ গোলে শিলাস্থান প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে আশরাফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল দল বিজয়ী হয়।
শিক্ষামন্ত্রী তার স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবী ও মেয়ে তানজিনা নাহার হককে নিয়ে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের মাঝে ট্রফি তুলে দেন।
এ সময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা মোসাদ্দেক হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল আবেদীন স্বপন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনা আক্তার, সাবেক পৌর মেয়র হুমায়ুন কবীর প্রধানসহ অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
২৮ দিন আগে