কমিশন
স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের তাগিদ তথ্যমন্ত্রীর
দেশের গণমাধ্যম খাতে একটি স্বাধীন, দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যম পরিচালনায় কেবল নিয়ন্ত্রণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং সব অংশীজনকে নিয়ে জবাবদিহিমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য সরকার সব পক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করছে।
রবিবার (১৭ মে) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সম্পাদক ও সংবাদ প্রধানদের নিয়ে গঠিত টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল’ টিইসির নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে একটি ‘ধারণাগত ঘাটতি’ রয়েছে। মালিক, উদ্যোক্তা, সাংবাদিক ও সরকারের মধ্যে গণমাধ্যমকে আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে সমন্বিত চিন্তার অভাব ছিল। ফলে খাতটি অনেকাংশে ব্যক্তি প্রভাব, বিনিয়োগ ও ক্ষমতার বলয়ে পরিচালিত হয়েছে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যম এমন একটি জগৎ যেখানে সরকার নিজেও একটি অংশীজন। তাই সরকার একদিকে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে, অন্যদিকে অন্য অংশীজনদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অতীতে সরকারগুলো গণমাধ্যমকে মূলত নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিতে দেখেছে। এর ফলে গণমাধ্যম খাতে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ আয় রক্ষার হাতিয়ার হিসেবেও গণমাধ্যম ব্যবহার হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে একটি ‘কোয়াসি জুডিশিয়াল কমিশন’ বা স্বাধীন কর্তৃপক্ষ গঠন ছাড়া বিকল্প নেই। তবে সেই কমিশন যেন আবার কোনো সরকারের রাজনৈতিক হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সেদিকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, নামে কমিশন, কিন্তু বাস্তবে যেন কোনো ফ্যাসিস্ট সরকারের ইন্সট্রুমেন্ট না হয়—সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল গঠনকে ঐতিহাসিক উদ্যোগ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের পেশাভিত্তিক সংগঠন গণমাধ্যম সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি সম্পাদকদের মালিকপক্ষ, কেবল অপারেটর, ব্রডকাস্টিং ইঞ্জিনিয়ার, গ্রাফিকস ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সঙ্গেও মতবিনিময়ের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, গণমাধ্যম শিল্পে শ্রম আইন, কর ব্যবস্থা, বেতন-ভাতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন হওয়া উচিত নয়। তবে এসব সিদ্ধান্ত যেন রাজনৈতিক দর কষাকষির হাতিয়ার না হয়, সে জন্যই স্বাধীন কমিশনের প্রয়োজন রয়েছে।
সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশের কারণে বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যম ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে রাষ্ট্র ও সমাজ এখনও পুরোপুরি খাপ খাওয়াতে পারেনি।
তিনি বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) মানুষের সক্ষমতাকে কোটি গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে সাংবাদিকতাসহ অনেক পেশার চরিত্র বদলে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় গণমাধ্যম খাতকে নতুনভাবে ভাবতে হবে।
গণমাধ্যমে কল্যাণমুখী স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বের কোনো বিরোধ নেই। নৈরাজ্যপূর্ণ স্বাধীনতা অর্জিত সভ্যতাকেও ধ্বংস করতে পারে।
সভায় তিনি সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি সব অংশীজনকে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ঐকমত্য তৈরির আহ্বান।
বৈঠকে সংগঠনটির আহ্বায়ক বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ও বার্তা প্রধান ড. আবদুল হাই সিদ্দিক বলেন, বিগত সময়ে টেলিভিশন সম্পাদকদের নিয়ে একটি পকেট সংগঠন গঠিত হয়েছিল যারা অপতথ্য, গুজব, হিংসা ও বিদ্বেষ ছড়ানো এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি ছাড়া জনগণকে কিছুই দিতে পারেনি।
টেলিভিশনের একটি বেতন কাঠামো গঠন করাসহ ওয়েজ বোর্ড করার দাবি জানান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডিবিসি নিউজের সম্পাদক লোটন একরাম। এছাড়া টেলিভিশনের জন্য একটি বিজ্ঞাপন নীতিমালা তৈরি করতেও সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন সংগঠনির অন্যান্য নেতারা।
সংগঠনির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব সময় টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ বাবু ছাড়াও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য একাত্তর টিভির বার্তা প্রধান ও সিওও শফিক আহমেদ, বৈশাখী টেলিভিশন বার্তা প্রধান জিয়াউল কবির সুমন, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল, চ্যানেল নাইন নির্বাহী সম্পাদক, ফরহাদুল ইসলাম ফরিদ, গাজী টিভি বার্তা প্রধান গাউসুল আজম বিপু, দেশ টিভির বার্তা প্রধান ও নির্বাহী কর্মকর্তা মহি উদ্দিনসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
৬ ঘণ্টা আগে
৩০ জুলাইয়ের মধ্যে একটি যৌক্তিক জায়গায় পৌঁছাতে চায় কমিশন: আলী রীয়াজ
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, গত বছরের জুলাই-আগস্টে শহিদদের প্রতি আমাদের যে দায়িত্ববোধ আছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে একটি যৌক্তিক জায়গায় পৌঁছাতে চায় কমিশন।
রবিবার (১৩ জুলাই) ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের ১২তম দিনের আলোচনার শুরুতে অধ্যাপক আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন।
এ সময় কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
সভায় অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, মৌলিক বিষয়গুলোতে দ্রুত ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা পর্বের একটি যৌক্তিক সমাপ্তি এবং একটি জাতীয় সনদ তৈরি করা সম্ভব হবে। আমাদের মৌলিক বিষয়গুলোতে দ্রুততার সঙ্গে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি জাতীয় সনদে উপনীত হতে হবে। রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সাংগঠনিক ব্যস্ততার মধ্যেও আলোচনায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করায় তিনি তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আজকের আলোচনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। আজও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা—এই তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
৩০৮ দিন আগে
নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রধান উপদেষ্টার তাগিদ
নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের যেসব সুপারিশ এখনই বাস্তবায়নযোগ্য, তা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণের পর তিনি এই নির্দেশনা দেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যে সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য, সেটা যেন আমাদের মাধ্যমে হয়ে যায়। আমরা যেন এই কাজের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারি। পৃথিবীর মেয়েরা এটার দিকে তাকিয়ে আছে। তারা এটা নিয়ে পর্যালোচনা করবে, অনুপ্রাণিত হবে। অন্য দেশের নারীরাও এটা নিয়ে সিরিয়াস।’
আরও পড়ুন: ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস প্রধান উপদেষ্টার
তিনি বলেন, ‘এটা শুধু নারীদের নয়, সার্বিক বিষয়। এই প্রতিবেদন ছাপিয়ে বিলি করা হবে। এটা পাঠ্যবইয়ের মতো বই আকারে ছাপা হবে। দলিল হিসেবে অফিসে রেখে দিলে হবে না, মানুষের কাছে উন্মুক্ত করে দিতে হবে।’
নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের এই প্রস্তাবগুলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানান অধ্যাপক ইউনূস।
৩৯৩ দিন আগে
ছোট আকারের মিডিয়া-কর্মীদের শেয়ার দেওয়ার সুপারিশ
ছোট আকারের মিডিয়া কোম্পানিতে কর্মীদের শেয়ার দেওয়া বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে বলে সুপারিশ করা হয়েছে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে।
শনিবার (২২ মার্চ) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
গণমাধ্যমের মালিকানা সংক্রান্ত সুপারিশে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণমাধ্যমের মালিকানার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং একক মালিকানা ও একাধিক গণমাধ্যমের মালিকানা অর্জনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের কেন্দ্রীকরণের বিষয়গুলোয় সংস্কার শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কারগুলো দ্রুত কার্যকরে উদ্যোগ নেবে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা
‘এমনকি দর্শক বা পাঠকের কত শতাংশ একটি গণমাধ্যমের গ্রাহক-ভোক্তা, এর ভিত্তিতেও সেই গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নতুন প্রকল্পের অনুমোদন বা আবেদন প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে। একক মালিকানার পরিবর্তে মালিকানা বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথা আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন তার প্রতিবেদনে বলেছিল।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্দোনেশিয়ায় গণমাধ্যম চালু করার অধিকার দেশটির যেকোনো নাগরিকের রয়েছে; কিন্তু সেই গণমাধ্যমকে করপোরেশন হিসাবে কাজ করতে হয়, যার অর্থ হচ্ছে তা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হবে, যাতে সাধারণ মানুষও শেয়ার ধারণ করতে পারবে।
‘একই সঙ্গে দেশটির মিডিয়া অ্যাক্টে সাংবাদিক-কর্মচারীদের শেয়ার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। উন্নত বিশ্বেও অধিকাংশ বড় গণমাধ্যম কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির কারণে কোম্পানির উদ্যোক্তা বা ব্যবস্থাপকদের শেয়ারহোল্ডারদের কাছে অন্তত জবাবদিহি করতে হয়।’
এতে আরও বলা হয়, তথ্যের সঙ্গে মানুষের বিশ্বাস বা আস্থার বিষয়টি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা জনগণের আমানতের সঙ্গে তুলনীয়। অথচ ব্যাংকের আমানতকে জনগণের আমানত বিবেচনায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হলেও আমাদের দেশে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তেমনটি করা হয়নি।
সুপারিশে বলা হয়, ব্যাংকিং খাতে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি বা একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালক পারিবারিকভাবে ১০ শতাংশের বেশি শেয়ারধারণ করতে পারে না এবং কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে একই সময়ে পরিবারের তিনজনের বেশি পরিচালক থাকতে পারেন না। কিন্তু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এক্ষেত্রে তাই পরিবর্তন প্রয়োজন।
‘কমিশন প্রথম পর্যায়ে মাঝারি ও বৃহৎ মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে সর্বসাধারণের জন্য শেয়ার ছাড়া ও স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া সমীচীন মনে করছে। উদ্যোক্তা পরিচালক ও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি বা একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শেয়ার ধারণের সীমা ২৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত করা ও প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে শেয়ারবণ্টন বাধ্যতামূলক করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। কর্মীদের শেয়ার ধারণের সর্বোচ্চ সীমা পাঁচ শতাংশেই সীমিত রাখতে হবে, যাতে উদ্যোক্তারা কর্মীদের সঙ্গে মিলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারেন।’
এতে ছোট আকারের মিডিয়া কোম্পানিতে কর্মীদের শেয়ার দেওয়া বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে বলে সুপারিশে বলা হয়েছে।
‘একই কোম্পানি, গোষ্ঠী, ব্যক্তি, পরিবার, উদ্যোক্তা যাতে একই সঙ্গে একাধিক মাধ্যমের মালিক হতে না পারেন, সেজন্য বিশ্বের বহুদেশে ক্রস-ওনারশিপ (টেলিভিশনের মালিক সংবাদপত্রের মালিক হতে পারেন না, বা সংবাদপত্রের মালিক টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক হতে পারেন না) নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’
এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও এটি আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ‘ব্রিটেনেও কাছাকাছি ধরনের এক আইনে টেলিভিশনের মালিক কোনো স্থানীয় পত্রিকায় ২০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারেন না। ভারতে এ ধরনের একটি বিল পার্লামেন্টে বিতর্কের অপেক্ষায় আছে। আমাদের দেশেও বেসরকারি খাতে টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন দেওয়ার সময় এই মর্মে সিদ্ধান্ত ও প্রজ্ঞাপন হয়েছিল বলে তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ গণমাধ্যম কমিশনের কাছে পেশ করা লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন। তবে সেই প্রজ্ঞাপন মন্ত্রণালয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্পষ্টতই সরকারগুলো ওই নীতি অনুসরণ করেনি।’
আরও পড়ুন: সংলাপের মাধ্যমে দ্রুত জাতীয় ঐকমত্য সম্ভব: আলী রীয়াজ
সুপারিশে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উত্তম চর্চা হচ্ছে গণমাধ্যমের কেন্দ্রীকরণ যেন কোনোভাবেই ঘটতে না পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ। কমিশন মনে করে, আমাদেরও অচিরেই অনুরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। ক্রস-ওনারশিপ নিষিদ্ধ করে অর্ডিন্যান্স জারি করা যায় এবং যেসব ক্ষেত্রে এটি বিদ্যমান, সেগুলোয় পরিবর্তন আনার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তাদের ব্যবসা পুনর্গঠনের লক্ষ্য ঠিক করে দেওয়া প্রয়োজন।
‘এগুলো নানা পদ্ধতিতে হতে পারে। যেসব কোম্পানি/গোষ্ঠী/প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তি/পরিবার একই সঙ্গে টেলিভিশন ও পত্রিকার মালিক তারা যে কোনো একটি গণমাধ্যম রেখে অন্যগুলোর মালিকানা বিক্রির মাধ্যমে হস্তান্তর করে দিতে পারে। অথবা দুইটি মিডিয়ার (টেলিভিশন ও পত্রিকাকে) সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একত্রিত করে আরও শক্তিশালী ও বড় আকারের একটি মিডিয়া (টেলিভিশন অথবা দৈনিক পত্রিকা) পরিচালনা করতে পারে,’ বলা হয় সুপারিশে।
৪২১ দিন আগে
কিছু প্রস্তাবে বিরোধিতা করে ঐকমত্য কমিশনে মতামত পাঠিয়েছে ইসি
নির্বাচন সংক্রান্ত বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাবের বিরোধিতা করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে মতামত পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার (১৭ মার্চ) ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, 'আমরা কিছু প্রস্তাবে ভিন্নমতসহ জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ স্যারের কাছে আমাদের মতামত পাঠিয়েছি।’
ভিন্নমতের বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের জন্য কমিশন গঠনের প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে কমিশনের প্রয়োজন নেই।’
এছাড়া সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে সংযোজন বা বিয়োজন ১০ শতাংশ ভোটারের ফর্মুলাও প্রয়োজন নেই বলে জানান আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের যুক্তি হলো- এই ফর্মুলা অনুসরণ করলে শহরাঞ্চলে নির্বাচনী এলাকার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং শহরাঞ্চলের দিকে মানুষের আগমন বেশি হওয়ায় তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
অন্যান্য ভিন্নমতের বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এবং প্রজ্ঞাপন জারির আগে নির্বাচন কমিশনকে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে একটি জাতীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু করা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতার পক্ষে ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
আরও পড়ুন: নতুন দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন আহ্বান ইসির
প্রস্তাবনার বিষয়ে তিনি বলেন, ইসি মনে করে এই প্রত্যয়নের প্রয়োজন নেই। কারণ একজন রিটার্নিং কর্মকর্তা সন্তুষ্ট না হলে বেসরকারি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন না।
ইসি সচিব বলেন, তারা মনে করেন, এখানে ভোটার ও জনগণের সংখ্যা এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা উচিত।
তবে আখতার আহমেদ বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত রাখতে সংস্কার প্রস্তাবে তারা একমত।
বর্তমানে ইসি এনআইডি সার্ভার থেকে ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানকে সঠিকভাবে সেবা দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
৪২৬ দিন আগে
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাতীয় ঐকমত্য গঠন হবে: আলী রীয়াজ
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাতীয় ঐকমত্য গঠনের কাজ শেষ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের সঙ্গে বৈঠকে এমন মন্তব্য করেছেন।
জাতীয় সংসদ ভবনে ঐকমত্য কমিশনের কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়েছে। এ সময় জাতীয় ঐকমত্যের ব্যাপারে কথা বলেন তারা।
কমিশনের কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কেও ইইউ রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেছেন আলী রীয়াজ।
আরও পড়ুন: ‘ন্যাশনাল চার্টার’ প্রণয়নে দ্রুতই ঐকমত্য গড়তে চায় কমিশন: আলী রীয়াজ
এ সময় মাইকেল মিলার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, বর্তমান সংস্কার কার্যক্রমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
এছাড়া ইইউ রাষ্ট্রদূত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
৪৩২ দিন আগে
‘ন্যাশনাল চার্টার’ প্রণয়নে দ্রুতই ঐকমত্য গড়তে চায় কমিশন: আলী রীয়াজ
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, 'ন্যাশনাল চার্টার' প্রণয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ঐকমত্য তৈরি করতে চায় কমিশন।
সোমবার (১০ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশে অতীতে যেভাবে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, তেমনিভাবে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব।
আলী রীয়াজ বলেন, ১৩ মার্চের মধ্যে রাজনৈতিক দল ও জোটের মতামত পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তারা। তিনি বলেন, কমিশন এ বিষয়ে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে বা ব্যাখ্যা দিতে সর্বদা প্রস্তুত।
আরও পড়ুন: সংবিধান সংস্কার কমিশনের নতুন প্রধান হলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ
আলী রীয়াজ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত পেলেই তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করবে কমিশন।
এসব আলোচনার সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে দলগুলোর মতামত পাওয়া মাত্রই—তা শুরু হবে বলে জানান তিনি।
কমিটির সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, ইফতেখারুজ্জামান, আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, সফর রাজ হোসেন, এমদাদুল হক এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
৪৩৩ দিন আগে
এই মুহূর্তে সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন: ইসি মাছউদ
নির্বাচন কমিশন এই মুহূর্তে দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। যদি সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়ে সিদ্ধান্ত নিলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সাভারের রাজফুলবাড়িয়ার মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। সব মিলিয়ে আমরা এখন জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’
‘নির্বাচন নিয়ে কোন রাজনৈতিক দল কী বলল, সেটা বিষয় না। দেশে জাতীয় একটা নির্বাচনের প্রয়োজন। তবে যদি সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো একমত থাকে যে, আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরে জাতীয় নির্বাচন, সেক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে আমরা কোনো অনুরোধ পাইনি এবং আমরা সর্বমহলে শুনছি যে, প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে (সরকারের) সবাই বলছেন, ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে নির্বাচন হতে পারে, সেই দিকেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এবং সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
আরও পড়ুন: এমন জোয়ার সৃষ্টি হবে, যেখানে ভোট ছাড়া কোনো চিন্তা থাকবে না: সিইসি
কমিশনার মাছউদ বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দল থেকে হুমকি বা এমন কোনো কিছুই পাইনি; তাই কে কী বলল, এটা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আমরা আমাদের মতো করে এগিয়ে যাচ্ছি।’
‘আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে আমাদের কষ্ট হবে। তারপরও সরকারের সঙ্গে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়ে যে সিদ্ধান্তে আসবে, আমরা সেই মোতাবেক কাজ করব।’
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়ার ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে যাদের নিবন্ধন আছে, তারা যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, তাহলে আমাদের বারণ করার কিছু নেই। তবে কোনো একটা বিশেষ দলকে সরকার যদি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, তাহলে আমাদের আইন অনুযায়ী যে নিবন্ধন আছে সেটা বাতিল হবে।’
এ সময় সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জহিরুল আলম, তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আর্থিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা জেইসন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৪৪৩ দিন আগে
কেমন বাংলাদেশ চাই, ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে তা নির্ধারিত হবে: প্রেস সচিব
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকের মাধ্যমে আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই, তা নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রেস সচিব বলেন, ‘আজকে একটি ঐতিহাসিক দিন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠক শুরু হয়েছে। বলা যায়, এটি প্রস্তুতিমূলক সভা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ২৬টি দল ও জোটের প্রায় ১০০ জন রাজনীতিবিদ এতে অংশগ্রহণ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘যতগুলো দলকে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি, তারা সবাই অংশ নিয়েছে। বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আর জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।’
আরও পড়ুন: ইউনূসের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে আ.লীগের পাশাপাশি ভারতীয় মিডিয়াও: প্রেস সচিব
শফিকুল আলম বলেন, ‘ড. ইউনূস বলেছেন যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম অধ্যায় শেষ হয়েছে প্রথম ছয় মাসে। আজকের সংলাপের মাধ্যমে দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হচ্ছে। আমরা যে বাংলাদেশ গড়তে চাচ্ছি, তার প্রতি সবার সমর্থন আছে। বড় বড় দেশগুলো বলেছে— আপনাদের কী চাই? আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘেরও পুরো সমর্থন আছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের যে প্রতিবেদন এসেছে, তাতে পুরো পৃথিবী জানতে পেরেছে— এখানে কীরকম ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড হয়েছে, কে সেই নির্দেশ দিয়েছে ও কীভাবে এ দেশের মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছে। কাজেই নতুন যে বাংলাদেশ গড়তে চাচ্ছি, তার সঙ্গে পুরো পৃথিবী ও বাংলাদেশের সবাই আছে। এখন এই সংলাপের মাধ্যমে কীরকম বাংলাদেশ আমরা চাই, সেটি নির্ধারিত হবে।’
৪৫৬ দিন আগে
নির্বাচন ব্যবস্থায় আস্থা ফেরাতে কাজ করছে কমিশন: ইসি সানাউল্লাহ
নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেছেন, ‘মানুষ যাতে নিজেদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে, সেটাও নিশ্চিত করা হবে। ইতোপূর্বে ভোটার তালিকার তথ্য নিয়ে সমালোচনা ছিল। ইসি ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি শুরু করেছে।’
ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় যাতে নির্ভূলভাবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করা যায়, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সঠিক তথ্য সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে নওগাঁয় তথ্য সংগ্রকারী, সুপারভাইজার ও নতুন ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে কমিশনার এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরকে সামনে রেখে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে: ইসি সানাউল্লাহ
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ একটি রাজনৈতিক ঐক্যমত্য প্রক্রিয়ার বিষয়। এ ছাড়াও বিচারিক একটা বিষয় রয়েছে যদি আদালতে গড়ায়।’
তিনি বলেন, ‘এটি নির্বাচন কমিশনের বিষয় নয়। তফসিল ঘোষণা পর যেসব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল থাকবে তখন সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আব্দুল আউয়াল, পুলিশ সুপার সফিউল সারোয়ার, নওগাঁ পৌরসভার প্রশাসক টিএমএ মমিন ও জেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল মোত্তালিবসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
৪৬৯ দিন আগে