আসিফ নজরুল
মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনা: অধ্যাপক ইউনুসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় ২৮ জন শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে মামলাটির আবেদন করেন ওই দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মারমার বাবা উসাইমং মারমা।
শুনানি শেষে আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশের জন্য অপেক্ষমান রাখেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী এ কে এম শারিফ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আবেদনে যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন: বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, এয়ার কমান্ডিং কর্মকর্তা মোরশেদ মোহাম্মদ খায়ের উল আফসার, অফিসার কমান্ডিং ম্যানটেইনেন্স গ্রুপ ক্যাপ্টেন রিফাত আক্তার জিকু, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভার্নিং বডির উপদেষ্টা নুরনবী, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ জিয়াউল আলম, প্রিন্সিপাল (প্রশাসন) মো. মাসুদ আলম, স্কুল শাখার প্রিন্সিপাল রিফাত নবী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ফিল্ড সুপারভাইজার (উত্তরা), শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব সিদ্দিক জুবায়ের, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রিজওয়ানা হাসান ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ জুলাই দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের মুখে বিধ্বস্ত হয়। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই বিমান দুর্ঘটনায় ৩৬ জনের মৃত্যু হয়, এর মধ্যে ২৮ জনই ছিল শিক্ষার্থী।
পরবর্তীতে দুর্ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি গত ৫ নভেম্বর তখনকার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। তাতে বলা হয়েছিল, প্রশিক্ষণার্থী পাইলটের উড্ডয়ন ত্রুটির কারণে বিমান বিধ্বস্ত ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল।
১০ দিন আগে
বিএনপির মন্ত্রিসভায় থাকার প্রশ্নই আসে না: আসিফ নজরুল
বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় নিজের থাকার প্রশ্নই আসে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আসিফ নজরুল আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবশালী এই উপদেষ্টা বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায়ও জায়গা পেতে যাচ্ছেন বলে গত কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল।
এ বিষয়ে আজ সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন, আপনি পরবর্তী মন্ত্রিসভায় থাকছেন বলে শোনা যাচ্ছে; এ বিষয়ে কী বলবেন? উত্তরে আসিফ নজরুল বলেন, ‘প্রশ্নই আসে না।’
৯১ দিন আগে
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ কেন সংসদ প্রাঙ্গণে, জানালেন আসিফ নজরুল
রীতি ভেঙে বঙ্গভবনে না করে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় করার কারণ জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বিএনপির অভিপ্রায় অনুসারেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান উপদেষ্টা।
এর আগে তো বঙ্গভবনে শপথ হতো; এবার দক্ষিণ প্লাজায় শপথ হওয়ার কারণ কী—জানতে চাইলে আইন উপদেষ্টা বলেন, দক্ষিণ প্লাজায় শপথ, বিএনপি এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিল। আমার ধারণা যেটা সেটা হচ্ছে, যেহেতু আমাদের এই সংসদটা একটু ভিন্ন। আমরা জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার যে আত্মত্যাগ, এই গণঅভ্যুত্থান, অনেক আত্মত্যাগ, কষ্ট, বেদনা ও প্রাণহানির বিনিময়ে আমরা এই সংসদটা পেয়েছি। এই সংসদটা অন্য সব সংসদের চেয়ে একটু ভিন্ন।
তিনি বলেন, তাছাড়া এই সংসদ প্রাঙ্গণে অনেকগুলো ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। জুলাই ঘোষণা এবং জুলাই সনদ—এই দুইটাকে ঘিরে যে অনুষ্ঠান সেটাও সংসদেই আয়োজন করা হয়েছিল। এই সংসদের দক্ষিণ প্লাজাটা আমাদের কাছে আরও বিভিন্ন কারণে স্মরণীয়। আমাদের প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা হয়েছিল এটার পাশের জায়গায়। আমাদের যে সবার প্রিয় শহিদ ওসমান হাদি, তারও জানাজা হয়েছিল।
আসিফ নজরুল বলেন, অনেক স্মৃতি জড়িত আছে এখানে। সেই সঙ্গে এটা আমাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিন্ন যে ডকুমেন্টেশন, সেটার প্রকাশের একটা জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সবকিছু বিবেচনা করে হয়তো উনারা (বিএনপি) অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। আমরা সেই অনুযায়ী আয়োজন করেছি।
তিনি আরও বলেন, আজকে আমাদের একটা বিদায়ী বৈঠক ছিল। আমরা এখানে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেইনি। আমরা আমাদের কাজকর্ম একটু ফিরে দেখলাম। তারপর আমাদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পর্কে সবাইকে জানানো হলো। আমরা আমাদের অভিজ্ঞতার কথা বললাম। তেমন বড় কিছু না; এটা সবাই একসঙ্গে হয়ে শেষ বৈঠক করার মতোই।
৯১ দিন আগে
বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ
নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ। সর্বশেষ আইসিসির বোর্ড সভায় বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল, তবে আগের অবস্থানেই অনড় থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই চেয়েছি আমরা যেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারি। কিন্তু আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ভারতে খেলার ক্ষেত্রে সেই নিরাপত্তা ঝুঁকির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এটা কোন বায়োবীয় বিশ্লেষণ বা ধারণা থেকে হয়নি। এটা একটা সত্যিকারের ঘটনা থেকে হয়েছে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা আশঙ্কা কোনো থিওরেটিক্যাল অ্যানালাইসিস থেকে তৈরি হয়নি। যেখানে আমাদের একজন খেলোয়াড় উগ্রবাদীদের চাপে নিরাপত্তা না পেয়ে কার্যত দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, সেই দেশেই আবার বিশ্বকাপ খেলতে বলা হচ্ছে, এটা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?’
তার অভিযোগ, ওই ঘটনার পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করার মতো কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
উপদেষ্টার কথায়, যে ঘটনা থেকে আমাদের আপত্তির জন্ম, সেই বিষয়টি নিয়েই আইসিসি কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। তারা শুধু বলছে, ‘স্ট্যান্ডার্ড সিকিউরিটি প্রোটোকল আছে।’ কিন্তু মোস্তাফিজের ক্ষেত্রে সেই প্রোটোকল কোথায় ছিল, তার কোনো ব্যাখ্যা আমরা পাইনি।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দলের সঙ্গে থাকা সাংবাদিক, কর্মকর্তাসহ সম্ভাব্য দর্শকরাও একই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন।
আসিফ নজরুলের মতে, একটি বিশ্বকাপ খেললে আর্থিক বা ক্রীড়াগত লাভ হতে পারে সে কথা ঠিক। কিন্তু মাথা নত করে নিজেদের মানুষকে সত্যিকারের নিরাপত্তার ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিলে যে ক্ষতি হতে পারে, সেটাও আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।
এই প্রেক্ষাপটে উপদেষ্টার স্পষ্ট বক্তব্য, ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি সরকারের। কোনো দেশের নাগরিক অন্য দেশে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে কি না, সেটি দেখার দায়িত্ব সরকারের। এটি অন্য কারও বিবেচনার বিষয় নয়। আইসিসি বা অন্য কোনো পক্ষ এই সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে না।
১১৫ দিন আগে
আইসিসির কোনো অযৌক্তিক শর্ত মানব না: ক্রীড়া উপদেষ্টা
ভারতের চাপে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) যদি বাংলাদেশের ওপর কোনো অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দেয়, তবে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আইসিসি যদি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের চাপের কাছে মাথা নত করে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অযৌক্তিক কোনো শর্ত চাপিয়ে দেয়, আমরা সেই অযৌক্তিক শর্ত মানব না।’
চাপ সৃষ্টি করে বাংলাদেশকে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যেতে বাধ্য করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ ভারতে না গেলে বিশ্বকাপে খেলবে স্কটল্যান্ড—ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এমন এক খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদের বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নেবে—এমন কোনো কথা আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে শুনিনি। কথা হচ্ছে, আইসিসি যদি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের চাপের কাছে মাথা নত করে, আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অযৌক্তিক কোন শর্ত চাপিয়ে দেয়, আমরা সেই অযৌক্তিক শর্ত মানব না।’
তিনি বলেন, ‘এর আগে এমন উদহারণ আছে। পাকিস্তানে ভারত খেলতে যাবে না বলেছে, আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন করেছে। খুবই যৌক্তিক কারণে আমরা ভেন্যু পরিবর্তনের কথা বলেছি। আমাদের ওপর অযৌক্তিক চাপ তৈরি করে ভারতে খেলাতে আমাদের বাধ্য করা যাবে না।’
১১৭ দিন আগে
দেশকে ভালো থাকতে হলে খালেদা জিয়াকে ধারণ করতে হবে: আসিফ নজরুল
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ধারণ করতে হবে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন, আমি তার জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রামে যেতাম। তখন একটা কথা বলতাম, বেগম জিয়া ভালো থাকলে, ভালো থাকবে বাংলাদেশ। আমি বিশ্বাস করি, অবশ্যই উনি এখন ভালো আছেন। কিন্তু বাংলাদেশ কি ভালো আছে? বা ভালো থাকবে? যদি বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হয় তাহলে বেগম জিয়াকে ধারণ করতে হবে।’
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন, বন্দি ছিলেন, ওনার পক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। তখন ওনার পক্ষে কথা বলার মানুষ খুঁজে পাওয়া যেত না।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অনেক অসাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি সৎ, পরমতসহিষ্ণু ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। আত্মত্যাগী ভূমিকার জন্য ছিলেন অনন্য। তার মধ্যে দেশপ্রেম ছিল, রুচির এক অবিস্মরণীয় প্রকাশ ছিল।’
তিনি আরও বলেন, আজকে আমার ভালো লাগছে, সবাই আমরা মুক্তভাবে বেগম জিয়ার প্রতি ভালোবাসা জানাতে পারছি। আল্লাহর কাছে হাজার শোকর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা যে, বাংলাদেশের মানুষ আজকে স্বাধীনভাবে ঘৃণাও প্রকাশ করতে পারছে, স্বাধীনভাবে ভালোবাসাও প্রকাশ করতে পারছে।
শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। সাবেক এই সরকারপ্রধানের স্মরণে আয়োজিত সভায় যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, মনির হায়দার প্রমুখ।
এ ছাড়াও শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।
১২০ দিন আগে
বুধবার সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার জানাজা
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজ আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের এক বিশেষ বৈঠকে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন স্থানে বুধবার জোহরের নামাজের পর খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মন্ত্রিপরিষদের বিশেষ বৈঠকটি আহ্বান করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস। বৈঠকে মির্জা ফখরুলকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে খালেদা জিয়াকে সমাহিত করা হবে।
সভা শেষে বৈঠকের বিস্তারিত জানিয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘তিনি (মির্জা ফখরুল) সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে, খালেদা জিয়ার পরিবার, বেগম জিয়ার পরিবার এবং দলের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বেগম জিয়ার নিরাপত্তাসহ সকল ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করার জন্য ধন্যবাদ জানান।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘সভার শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন আমাদের ধর্ম উপদেষ্টা।
‘সবাই বেগম জিয়ার মৃত্যুতে আগামীকাল থেকে তিন দিনের জন্য রাষ্ট্রীয় শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে এবং আগামীকাল সাধারণ ছুটির ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
আসিফ নজরুল বলেন, ‘সভায় বেগম জিয়ার মৃত্যুতে একটি শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন আমাদের তথ্য ও পরিবেশ উপদেষ্টা। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, বাংলাদেশের যত দূতাবাস আছে, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে সেখানে শোক বই খোলা হবে।’
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় শোকের তিন দিন দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।
একইসঙ্গে বুধবার দেশের প্রতিটি মসজিদে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হবে। অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয় গুলোতেও আয়োজন হবে বিশেষ প্রার্থনার।
মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বেগম খালেদা জিয়া।
তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
মৃত্যুর সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন তার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, ছোট ছেলের স্ত্রী শার্মিলী রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এসকান্দার, তার স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য।
এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য চিকিৎসকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়া নানা জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি দীর্ঘস্থায়ী কিডনি জটিলতা, যকৃতের জটিল রোগ, অস্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন, ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
১৩৮ দিন আগে
‘মোবাইল ফোন’ ইস্যুতে প্রবাসীদের স্পষ্ট বার্তা আইন উপদেষ্টার
বিদেশ থেকে মোবাইল ফোন আনা নিয়ে প্রবাসীদের বিভিন্ন ধোঁয়াশা স্পষ্ট করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি এ বার্তা দেন।
সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য তুলে ধরে আসিফ নজরুল বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার বা আমার সম্পর্কে মিথ্যাচার নতুন কিছু নয়। সোশ্যাল মিডিয়াতে কিছু মানুষ এখন প্রচার করছে যে মোবাইল ফোন সেট নিয়ে প্রবাসীদের প্রতি অন্যায় ও বৈষম্য করা হচ্ছে। এ সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য নিচে তুলে ধরছি।
‘মিথ্যা— সরকার নতুন নিয়ম করেছে, একটার বেশি মোবাইল সেট বিদেশ থেকে নিয়ে আসলে ট্যাক্স দিতে হবে।
‘সত্য— শেখ হাসিনার আমলে প্রবাসী কর্মীরা নিজের ব্যবহৃত ফোনসেটের সঙ্গে মাত্র একটা নতুন সেট আনতে পারত। প্রবাসীদের সুবিধা বাড়ানোর জন্য বর্তমান সরকার আরও বেশি (২টা নতুন) ফোনসেট আনার অনুমতি দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অর্থাৎ প্রবাসী কর্মীরা নিজের ব্যবহৃত সেটের সঙ্গে ২টা নতুন সেট আনতে পারছে। ২টার বেশি আনলে তার জন্য শুধু ট্যক্স দিতে হবে। এনবিআর ব্যগেজ রুল পরিবর্তন করে এই আইনটা করেছে প্রবাসীদের সুবিধা দেওয়ার জন্য। তবে এই সুবিধা বিএমইটি (প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়) থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে যাওয়া প্রবাসী কর্মী ভাইদের জন্য। অন্যদের জন্য আগের নিয়মই প্রযোজ্য থাকছে।
‘মিথ্যা— প্রবাসী ভাইদের ফোন রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। সত্য— শুধু প্রবাসীদের জন্য এ ধরনের কোনো আইন করা হয়নি।’
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রকৃত তথ্য হচ্ছে, আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে যে কেউ নতুন মোবাইল ফোনসেট ব্যবহার শুরু করলে ৬০ দিনের মধ্যে সেটির রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এটা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জন্য প্রযোজ্য। মানে হচ্ছে, এটি দেশে থাকা মানুষ বা দেশে আসা প্রবাসী—সবার জন্য প্রযোজ্য।
‘অবৈধ সেট ব্যবহার করে দেশে ও প্রবাসে অপহরণ, হুমকি, চাঁদাবাজি, জুয়া—এসব নিয়ন্ত্রণের জন্য এই আইন করা হয়েছে। কাউকে হয়রানিতে ফেলার জন্য না, বরং হয়রানি থেকে বাঁচার জন্য এই আইন করা হয়েছে।’
গুজব প্রতিরোধে প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রবাসী ভাইদের কাছে আবেদন, গুজবকারী ও গিবতকারীদের থেকে সতর্ক থাকুন। মিথ্যা গুজব ছড়ানো ও গিবত করা ইসলামের দৃষ্টিতে অনেক বড় পাপ।’
‘গুজব কোন জায়গায় গেছে দেখেন, কেউ কেউ এই অবিশ্বাস্য তথ্য প্রচার করছে যে প্রবাসীরা নাকি দেশে ৬০ দিন থাকতে পারবেন! এই সব জঘন্য মিথ্যাচারকে প্রতিরোধ করুন।’
আসিফ নজরুল পরিশেষে বলেন, ‘আমি জানি, আরও কিছু বিষয়ে আপনাদের প্রশ্ন আছে। সেগুলো আমি দ্রুত জানাব। সবাই ভালো থাকবেন। আল্লাহ্ হাফেজ।’
১৬০ দিন আগে
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা একদমই ভালো না: আইন উপদেষ্টা
বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা একদমই ভালো নয় জানিয়ে তার জন্য সবাইকে দোয়া করতে বলেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস।
রাত পৌনে ১২টার দিকে তারা সেখানে গিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির ইউএনবিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আইন উপদেষ্টা হাসপাতালে গেলে সেখানে উপস্থিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গেও তাদের কথা হয়।
পরে রাত ১টার দিকে এক ফেসবুক পোস্টে আইন উপদেষ্টা লেখেন, ‘এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলাম। এখনি ফিরলাম। বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা একদমই ভালো না। সবাই দোয়া করবেন উনার জন্য।’
এর আগে, গতকাল (শুক্রবার) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ উল্লেখ করে দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘গত রাতে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
১৬৯ দিন আগে
ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন: আইন উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের প্রধান উপদেষ্টা একজন সর্বজনস্বীকৃত ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নন্দিত ব্যক্তি। তিনি নিজেই নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণার পেছনে সরে যাওয়ার কোনো চিন্তাই আমাদের নেই।’
আরও পড়ুন: মানুষ নিরুপায় হয়ে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যায়: ড. আসিফ নজরুল
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার, কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ভিন্ন কথা বলা হচ্ছে। এতে নির্বাচন আয়োজনের সময় নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব সরকারের, কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। আমরা নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই করব—এই লক্ষ্য মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনের সময় বিভিন্ন কথা বলে। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ারই অংশ। ফলে বাংলাদেশে ঐতিহ্যগতভাবে এসব রাজনৈতিক আলোচনা হয়ে এসেছে, এখনো ঠিক ওরকমভাবেই আলোচনা চলছে। এসব মন্তব্যে গুণগত পরিবর্তন খুব একটা হয়নি। ফলে নির্বাচনের সময় নিয়ে কে কী বলল, সেটাকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখতে হবে।’
২৭১ দিন আগে