পটুয়াখালী
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার উদ্যোগে প্রধান শিক্ষকের ব্যতিক্রমী বিদায়
পটুয়াখালীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অবসরজনিত ব্যতিক্রমধর্মী বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলো। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সরকারি গাড়িতে করে প্রধান শিক্ষককে তার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে নতুন এক দিগন্তের সৃষ্টি করলেন নবাগত শিক্ষা কর্মকর্তা। এমন নতুনত্ব গণতান্ত্রিক বিদায়াচরণে উৎসাহ আর আনন্দে উদ্বেলিত জেলার প্রাথমিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
স্বাভাবিকভাবে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের ছুটি প্রস্তুত হওয়ার পর অবসরপ্রাপ্তকে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র গুছিয়ে যোগাযোগ করতে হয় উপজেলা কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা কর্মকর্তার কাছে। আর এর ব্যাতিক্রম হলো এবার পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার ১২১ নম্বর বগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ কোহিনূর বেগমের শেষ কর্মদিবসে বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় বিদায় অনুষ্ঠানের। ওই শিক্ষকের অবসরজনিত প্রস্তুতির কাগজপত্রাদি নিয়ে অনুষ্ঠানে হাজির হন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) মাসুদ করিম।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ কোহিনূর বেগম দীর্ঘ জীবনের চাকরিতে অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে শিক্ষকতার পাশাপশি একজন গুনী শিক্ষক হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত ছিলেন। তিনি ২০০৫, ২০০৮ ও ২০১২ সালে বাউফল উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা অর্জন করেন। পাশাপশি ২০১৩ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কাব প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। তিনি ২০০০, ২০০৪ ও ২০২০ সালে কাবের জাতীয় পর্যায়ে সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। একজন গুনী শিক্ষক হিসেবে কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে সরকারিভাবে শ্রীলংকা শিক্ষা সফরের সুযোগ পান মোসাম্মৎ কোহিনূর বেগম।
গতকাল (রবিবার) শেষ বিকেলে বগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কোহিনূর বেগমের শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ কোহিনূর বেগমের সহকর্মীসহ বিদ্যালয়ের কোমলমতী শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর এক অশ্রুসজল পরিবেশের মধ্য দিয়ে বিদায় দেওয়া হয় তাকে। প্রত্যেকেই তুলে ধরেন কোহিনূর বেগম এর গৌরবজ্জল ভূমিকার কথা।
কাজী বাউফল উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান রিপনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিপিইও মাসুদ করিম।
সভায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ করিম কোহিনূর বেগমের কর্মকালের প্রশংসা করেন এবং শেষ কর্মদিবসে তার এই উপস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, যে কাজের জন্য কার্যালয়ে যেতে হয়, পিআরএল মঞ্জুরজনিত দাপ্তরিক সেই কাজটি আমি আপনাদের সামনে করে দিলাম। তার অবসরের দাপ্তরিক কাজের জন্য আর কার্যালয়ে যেতে হবে না।
পরবর্তীতে সবাইকে অবাক করে দিয়ে কোহিনূর বেগমকে সম্মান জানিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তার সরকারি গাড়িতে করে নিজেই চালকের আসনে বসে কোহিনূর বেগমকে তার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসেন।
এদিকে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার এ ধরনের দায়িত্বশীল ও মানবিক কাজের প্রশংসা করে পটুয়াখালীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, এটি একটি সাহসী উদ্যোগ। পাশাপশি সরকারি গাড়িতে করে একজন পিআরএলপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে তার চাকরি জীবনের শেষ দিনে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যে সম্মানটি দিয়েছেন, এটি পটুয়াখালীর শিক্ষাঙ্গনে একটি নজির হয়ে থাকবে।
শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ করিম আরও বলেন, কোহিনূর বেগম যেদিন থেকে অবসর যাত্রা শুরু করেছেন, সেই দিনেই তার অবসরের তৈরি কাগজ তার হাতে পৌঁছে দিয়ে নতুন একটি উদ্যোগ শুরু করতে পেরে আনন্দিত। নতুন বাংলাদেশে নতুন সরকারের দৃষ্ঠিভঙ্গি হচ্ছে, কাউকে যেন কোনো কাজে কখনও ভোগান্তি পোহাতে না হয়। সেই চিন্তা থেকে আমি এ কাজটি শুরু করেছি, আগামীতে এটি অব্যাহত থাকবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগা ডা. ইয়াকুব শরীফ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. হুমায়ুন কবির, পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. জাকির হোসেন, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাউফল সৈয়দ মনিরুজ্জামান প্রমুখ।
১ দিন আগে
পটুয়াখালীতে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে কলেজছাত্রীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গভীর রাতে সিঁধ কেটে ঘরের ভেতরে ঢুকে একাদশ শ্রেণির এক কলেজছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবার সদস্যদের দাবি, প্রায় দুই বছর আগে ওই শিক্ষার্থীর বাবা মারা যান। জীবিকার তাগিদে শুক্রবার রাতে তার মা ও ভাই ওই মেয়েটিকে ঘরে রেখে সামনের দরজায় তালা লাগিয়ে রেণু পোনা শিকারের উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী নদীতে যান। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দুই যুবক সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করেন এবং ওই শিক্ষার্থীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীর চিৎকারে পাশের ঘর থেকে চাচার পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষার্থীকে ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১০ দিন আগে
ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণ: পরিবারটির বাঁচল না কেউ, গ্রামের বাড়িতে দাফন
‘চাচা অনেক কষ্ট করে বাড়িতে একটা পাকা ঘর তুলেছিলেন। ছাদের কাজ এখনও বাকি ছিল। কোরবানির ঈদে এসে কাজ শেষ করে গ্রামেই থাকার কথা ছিল। ফিরেছেন ঠিকই, তবে লাশ হয়ে। তার স্ত্রী-সন্তানেরাও ফিরছে লাশ হয়ে।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার উত্তর কনকদিয়া গ্রামের আবুল কামালের ভাতিজি মেঘলা। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাসের লাইনে লিকেজ থেকে বিস্ফারণের ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নিজে প্রাণ হারিয়েছেন, তারপর একে একে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হার মেনেছেন তার পরিবারের সব সদস্য।
জীবিকার তাগিদে প্রায় ৩০ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বসবাস করতেন কামাল। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ছোট্ট সংসার ছিল তার। কিন্তু গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে সেই সংসারের পাঁচটি জীবনই একে একে নিভে গেছে।
গত ১০ মে ভোরে ফতুল্লার ভাড়া বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় আবুল কামাল, তার স্ত্রী সায়মা (৩২), ছেলে মুন্না (৮) এবং দুই মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৭) গুরুতর দগ্ধ হন। পরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে তাদের মৃত্যু হয়।
গত সোমবার আবুল কামালকে তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছিল। আজ (শনিবার) সকালে জানাজা শেষে কামালের কবরের পাশেই পরিবারের অপর চারজনকে দাফন করা হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় উত্তর কনকদিয়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি আর প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, আবুল কামাল ফতুল্লায় সবজির ব্যবসা করতেন। কয়েকদিন আগে তাদের বাসার গ্যাস লাইনে লিকেজ দেখা দেয়। বিষয়টি বাড়ির মালিক ও দারোয়ানকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ঘরে গ্যাস জমে ছিল।
তারা জানান, ১০ মে (রবিবার) ভোরে তরকারি গরম করার জন্য লাইটার দিয়ে চুলা জ্বালাতে গেলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পরিবারটির পাঁচ সদস্যই গুরুতরভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়।
চিকিৎকের বরাত দিয়ে কামালের মেজ ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, কামালের শরীরের ৯৫ শতাংশ, স্ত্রী সায়মার ৬০ শতাংশ, মেয়ে মুন্নির ৩৫ শতাংশ, কথার ৫২ শতাংশ এবং ছেলে মুন্নার ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, ‘এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাফন-কাফনে সহযোগিতা করা হবে।’
১০ দিন আগে
পটুয়াখালীতে হানি ট্র্যাপে ব্ল্যাকমেইল, আটক ৩
হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে এক ঔষধ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বাউফল উপজেলার বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আজাহার খান, কবির হোসেন ও যুবলীগ নেতা রাসেল তালুকদারসহ তিনজনকে আটক করেছে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ।
বুধবার (১৩ মে) রাতে পটুয়াখালী শহরের বনানী এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে এক ঔষধ ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেইল করে তার কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আদায় করেন। পরবর্তীতে আরও টাকা দাবি করলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে হানি ট্র্যাপ-সংক্রান্ত বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-প্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিরা একজন চাকরিজীবীর কাছ থেকেও বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১২ দিন আগে
এসএসসির খাতায় উত্তর লিখে দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত, পটুয়াখালীতে দুই শিক্ষককে অব্যাহতি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে কথিত ‘সিক বেডে’ এক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার সুযোগ করে দেওয়া এবং প্রকাশ্যে গণিত পরীক্ষার খাতায় উত্তরপত্র লিখে সরবরাহ করার ঘটনায় খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রাথমিকভাবে পরীক্ষার সকল দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনসহ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গত ৩ মে গণিত পরীক্ষার দিন অসাদুপায় অবলম্বনের দায়ে খেপুপাড়া মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ভিজিলেন্স টিম বহিষ্কার করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তদন্তে বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক জহিরুল ইসলাম (সমাজবিজ্ঞান) ও মেজবা উদ্দিন ওই শিক্ষার্থীকে অঙ্কের সমাধান সংবলিত পরীক্ষার বোর্ডের আলাদা বাড়তি খাতা সরবরাহের প্রমাণ মিলেছে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ এ ঘটনার পরই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেককে বিষয়টির তদন্তের দায়িত্ব দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসীন সাদেক তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, নকল সরবরাহ করা, কথিত ‘সিক বেড’ ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই শিক্ষকের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। শুধু তা-ই নয়, এই দুই শিক্ষকের যোগসাজশে বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীকে প্রশ্নের উত্তরপত্র লিখে সরবরাহ করা হয়েছিল। এমনকি সিসি ক্যামেরাবিহীন ওই কক্ষের মূল দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক শিক্ষক দেবাশীষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নকলে সরাসরি সহায়তার প্রমাণও মিলেছে।
গত ৬ মে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বহিষ্কৃত ওই পরীক্ষার্থীকে শিক্ষা বোর্ডের সরবরাহকৃত অতিরিক্ত খাতায় কয়েকটি অঙ্কের সমাধান লিখে দেওয়ার বিষয়ে সত্যতা খুঁজে পেয়েছেন। শিক্ষার্থীর খাতার হাতের লেখার সঙ্গে অতিরিক্ত খাতার হাতের লেখার মিল নেই। মূল খাতার অর্ধেকের বেশি খালি থাকা সত্ত্বেও কক্ষ পরিদর্শকের সই ও তারিখবিহীন গণিতের সমাধান করা বোর্ডের সরবরাহকৃত অতিরিক্ত খাতা পাওয়া যায়।
তদন্ত কর্মকর্তা পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবা উদ্দিনের হাতের লেখার নমুনা পরীক্ষাও করেন। এরপর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর কাছে পাওয়া অতিরিক্ত খাতার লেখার সঙ্গে মেজবা উদ্দিনের হাতের লেখার বহু অক্ষরের মিল পাওয়া গেছে। তারপরও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডির মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর বাবা তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান, তার সন্তানের অসুস্থতার খবর তার জানা ছিল না।
কক্ষপরিদর্শক দেবাশীষ চন্দ্র সিকদার তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন, পরীক্ষা চলাকালীন (ঘটনার দিন) শিক্ষক জহিরুল ইসলাম ৯ নম্বর কক্ষে (সিসি ক্যামেরাবিহীন) বহু নির্বাচনি প্রশ্নপত্রের পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। কিছুক্ষণ পরেই সহকারী শিক্ষক মেজবা উদ্দিন ওই কক্ষে প্রবেশ করে পরীক্ষার্থীর সৃজনশীল প্রশ্নের ছবি তুলে নেন। এক ঘণ্টা পরে বোর্ডের সরবরাহকৃত অতিরিক্ত উত্তরপত্রে প্রশ্নের সমাধান করে ওই পরীক্ষার্থীকে তা সরবরাহ করেন। কক্ষ পরিদর্শক দেবাশীষ মেজবা উদ্দিনকে বাধা দিলে তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাকে নিবৃত থাকতে বাধ্য করেন। এরপর কেন্দ্র সহকারী জহিরুল ইসলাম দাঁড়িয়ে থেকে ওই পরীক্ষার্থীকে নকলে সহায়তা করেন। এমনকি মেডিকেল সনদ ছাড়া সভাপতি কিংবা কেন্দ্রের পরামর্শ ছাড়া ‘সিক বেডে’ ক্যামেরাবিহীন কক্ষে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে কেন্দ্র সচিব মুহাম্মদ মহসিন রেজাকে অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবা উদ্দিন ও জহিরুল ইসলাম চাপ প্রয়োগ করেন বলেও উল্লেখ করেছেন দেবাশীষ।
এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব জানান, তিনি এই প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন। মেডিকেল সনদ ব্যতীত বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া ‘সিক বেডের’ কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত ওই দুই শিক্ষক তাকে চাপ প্রয়োগ করেন। বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত এবং ওই দুই শিক্ষকের এ বিষয়ে আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলেও তিনি তদন্ত টিমকে জানিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসীন সাদেক তার মতামতে উল্লেখ করেছেন, কেন্দ্র সহকারী কম্পিউটার অপারেটর জহিরুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক মেজবা উদ্দিন বহিষ্কৃত ওই পরীক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শককে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সিসি ক্যামেরাবিহীন কক্ষে মেডিকেল প্রত্যয়ন ব্যতীত ‘সিক বেডে গণিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং বোর্ডের সরবরাহ করা অতিরিক্ত উত্তরপত্রে নকল সরবরাহ করায় একই সঙ্গে অসাদাচারণ ও ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। ঘটনাটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালা-২০২৪-এর প্রবিধান-৫২ (২) (জ), ৫২ (২) (ঝ)-এর দণ্ড ও প্রবিধান ৫২-এর অপরাধযোগ্য দণ্ড ও দি পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্ট ১৯৮০-এর ৮ ও ৯ ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন তিনি।
এই প্রতিবেদনের আলোকে উপরোক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহাপরিচালক, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে গত বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদনসহ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয় অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবা উদ্দিন বলেন, ‘মূলত কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শক তাদের অপরাধ আমাদের ওপর চাপাচ্ছেন। আমাদের ওপর আনীত অভিযোগ কিংবা দায় সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। কারণ কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শকের অনুমতি ছাড়া অন্য কারও কক্ষে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, জড়িত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার কার্যক্রম থেকে তাদের অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডকে পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে প্রতিবেদন আকারে প্রদান করা হয়েছে। সরকারের নকলমুক্ত পরিবেশকে তারা সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করতে এমন অপকর্ম করেছেন বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেছেন।
১৭ দিন আগে
কলাপাড়ায় পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মেহেরুন্নেছা উর্মি (২৮) নামের এক নারী পুলিশ কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২ মে) ভোরে টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামের একটি ভাড়া বাসার তিন তলার কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত উর্মি বাউফল উপজেলার ইন্দ্রপুর গ্রামের বহিষ্কৃত পুলিশ সদস্য মহিববুর রহমান বাপ্পীর স্ত্রী ছিলেন। তিনি পার্শ্ববর্তী আমতলী পৌর শহরের শাহজাহান মিয়ার কন্যা এবং কলাপাড়া থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে স্বামী বাপ্পী, দেড় বছরের সন্তান ফারদিন ও চার বছরের সন্তান ফারিস্তাকে নিয়ে আমিরুল ইসলামের পাঁচতলা ভবনের তিন তলার বাসাটি ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন উর্মি। পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো।
গতকাল (১ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বাপ্পী থানায় খবর দিয়ে জানান, তার স্ত্রী ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরে পুলিশ ভোরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, মানসিক সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য ওই পুলিশ সদস্যের স্বামী ও দুই সন্তানকে থানায় আনা হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
২৪ দিন আগে
পটুয়াখালীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ৫ বসতঘর বিধ্বস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত অর্ধশতাধিক
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে অন্তত ৫টি বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে উপড়ে পড়েছে শত শত গাছপালা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ ও সলিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর কয়েক দফায় প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। এতে নবাবগঞ্জ গ্রামের মন্নান বয়াতি, মরিয়ম ও মাধবের বসতঘর এবং সলিমপুর গ্রামের নির্মল বিশ্বাস ও বিমল বিশ্বাসের বসতঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
এছাড়া লতাচাপলী, মহিপুর, ধুলাসার ও মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের বেশ কিছু ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে হতদরিদ্র পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে আহাজারি চলছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলায় ১৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগর উত্তল রয়েছে। তবে মাছধরা ট্রলারগুলো নিরাপদে রয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের সহযোগিতার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’
২৭ দিন আগে
পটুয়াখালীতে কিস্তির টাকা না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় খাইরুন বেগম (৩৫) নামের চার মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি এনজিও সংস্থা কোডেকের কর্মীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে ধানখালী ইউনিয়নের গন্ডামারী গ্রামের ওই গৃহবধূর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের শয্যা থেকে আহত গৃহবধূ খাইরুন বেগম বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে কোডেক থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কুয়েতে পাড়ি জমান তার স্বামী নজির মোল্লা। বিদেশে গিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতিসহ নানা সংকটে তার স্বামী টাকা পাঠাতে না পারায় তিনি কিস্তি পরিশোধ করতে পারেননি। গতকাল (শনিবার) দুপুরে কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য তাদের বাড়িতে যান ধানখালী কোডেক শাখার ব্যবস্থাপক মনিরসহ আরও দুই নারী কর্মী।
তার দাবি, ঘরে অর্থ না থাকায় টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তারা তাকে চুল ধরে কিলঘুষি দেন এবং তলপেটে লাথি মারেন। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এনজিও সূত্রে জানা যায়, খাইরুন বেগম মাত্র দুইটি কিস্তি পরিশোধ করেছেন। তার ঋণ নেওয়া ৪০ হাজার টাকার মধ্যে ৩৮ হাজার টাকা তার কাছে পাওনা রয়েছে এনজিও কোডেকের।
তবে মারধরের পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কোডেকের ধানখালী শাখার ব্যবস্থাপক মো. মনির হোসেন।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৩০ দিন আগে
পটুয়াখালীতে লঞ্চে শিশুকে ফেলে রেখে ‘বাবা’ উধাও
পটুয়াখালীর বাউফলে ঢাকাগামী ডাবল ডেকার লঞ্চ বন্ধন-৫-এ একটি মেয়ে শিশুকে রেখে এক ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজেকে শিশুটির বাবা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। শিশুটির বয়স ৬ থেকে ৮ মাস বলে ধারণার কথা জানিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কালাইয়া লঞ্চঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
লঞ্চের একাধিক যাত্রী ও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল (বুধবার) বিকেল ৪টার দিকে কালাইয়া লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধুলিয়া লঞ্চঘাটে নোঙর করলে এক ব্যক্তি ওই শিশুটিকে নিয়ে লঞ্চে ওঠেন। তিনি নিজেকে শিশুটির বাবা পরিচয় দিয়ে অন্য যাত্রীদের সঙ্গে বিছানা বিছিয়ে বসেন। তবে কিছু সময় পর শিশুটিকে রেখে লঞ্চ থেকে নেমে যান তিনি।
মো. সোহেল নামে এক যাত্রী বলেন, ওই ব্যক্তি ধুলিয়া ঘাট থেকে লঞ্চে উঠেন। লঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ পর বাচ্চাটির মা আসবে বলে তিনি লঞ্চ থেকে নেমে যান। লঞ্চ থেকে নামার সময় পাশের সিটের যাত্রীদের বাচ্চার প্রতি খেয়াল রাখার অনুরোধ জানিয়ে যান।
তবে লঞ্চটি ধুলিয়া ঘাট ত্যাগ করার পরও শিশুটির মা-বাবা কিংবা কোনো স্বজন লঞ্চে আসেননি। একপর্যায়ে বাচ্চাটি চিৎকার করতে থাকে। পরে যাত্রীরা বিষয়টি লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বাচ্চাটিকে কয়েকজন নারী যাত্রীর হেফাজতে রাখেন।
এ বিষয়ে এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. সজল বলেন, কী কারণে শিশুটিকে রেখে লোকটি উধাও হয়ে গেছে তা বলতে পারছি না। শিশুটি কয়েকজন নারী যাত্রীর কাছে রয়েছে। খোঁজ-খবর নিয়ে শিশুটির পরিবারের সন্ধান করার চেষ্টা চলছে।
কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জেনেছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৪০ দিন আগে
গেটের টাকা নিয়ে সংঘর্ষে ভেস্তে গেল বিয়ের আনন্দ, আহত ৪
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় বিয়েবাড়িতে গেটের টাকা দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের মল্লিক বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গেটের টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বরপক্ষের রাসেল মল্লিক (২৫), শফিক হাওলাদার (২৬), শাকিল হোসেন (১৬) এবং কনেপক্ষের জামাল হাওলাদার (৪০) আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাউফলে পাঠানো হয়েছে।
বরপক্ষের দাবি, সংঘর্ষে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শতাধিক মানুষের জন্য প্রস্তুত খাবার নষ্ট হয়ে যায়, ভাঙচুর করা হয় আসবাবপত্র এবং নগদ অর্থ লুটের অভিযোগও করা হয়েছে।
কনের বাবা সাগর মিয়া বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে বরপক্ষের সদস্যরা দাবি করেন, তারা হামলার শিকার হয়েছেন। তবে উভয় পক্ষই বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
দশমিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইমাম মেহেদী বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬০ দিন আগে