পটুয়াখালী
কলাপাড়ায় পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মেহেরুন্নেছা উর্মি (২৮) নামের এক নারী পুলিশ কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২ মে) ভোরে টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামের একটি ভাড়া বাসার তিন তলার কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত উর্মি বাউফল উপজেলার ইন্দ্রপুর গ্রামের বহিষ্কৃত পুলিশ সদস্য মহিববুর রহমান বাপ্পীর স্ত্রী ছিলেন। তিনি পার্শ্ববর্তী আমতলী পৌর শহরের শাহজাহান মিয়ার কন্যা এবং কলাপাড়া থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে স্বামী বাপ্পী, দেড় বছরের সন্তান ফারদিন ও চার বছরের সন্তান ফারিস্তাকে নিয়ে আমিরুল ইসলামের পাঁচতলা ভবনের তিন তলার বাসাটি ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন উর্মি। পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো।
গতকাল (১ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বাপ্পী থানায় খবর দিয়ে জানান, তার স্ত্রী ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরে পুলিশ ভোরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, মানসিক সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য ওই পুলিশ সদস্যের স্বামী ও দুই সন্তানকে থানায় আনা হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
৪ দিন আগে
পটুয়াখালীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ৫ বসতঘর বিধ্বস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত অর্ধশতাধিক
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে অন্তত ৫টি বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে উপড়ে পড়েছে শত শত গাছপালা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ ও সলিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর কয়েক দফায় প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। এতে নবাবগঞ্জ গ্রামের মন্নান বয়াতি, মরিয়ম ও মাধবের বসতঘর এবং সলিমপুর গ্রামের নির্মল বিশ্বাস ও বিমল বিশ্বাসের বসতঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
এছাড়া লতাচাপলী, মহিপুর, ধুলাসার ও মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের বেশ কিছু ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে হতদরিদ্র পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে আহাজারি চলছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলায় ১৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগর উত্তল রয়েছে। তবে মাছধরা ট্রলারগুলো নিরাপদে রয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের সহযোগিতার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’
৭ দিন আগে
পটুয়াখালীতে কিস্তির টাকা না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় খাইরুন বেগম (৩৫) নামের চার মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি এনজিও সংস্থা কোডেকের কর্মীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে ধানখালী ইউনিয়নের গন্ডামারী গ্রামের ওই গৃহবধূর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের শয্যা থেকে আহত গৃহবধূ খাইরুন বেগম বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে কোডেক থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কুয়েতে পাড়ি জমান তার স্বামী নজির মোল্লা। বিদেশে গিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতিসহ নানা সংকটে তার স্বামী টাকা পাঠাতে না পারায় তিনি কিস্তি পরিশোধ করতে পারেননি। গতকাল (শনিবার) দুপুরে কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য তাদের বাড়িতে যান ধানখালী কোডেক শাখার ব্যবস্থাপক মনিরসহ আরও দুই নারী কর্মী।
তার দাবি, ঘরে অর্থ না থাকায় টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তারা তাকে চুল ধরে কিলঘুষি দেন এবং তলপেটে লাথি মারেন। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এনজিও সূত্রে জানা যায়, খাইরুন বেগম মাত্র দুইটি কিস্তি পরিশোধ করেছেন। তার ঋণ নেওয়া ৪০ হাজার টাকার মধ্যে ৩৮ হাজার টাকা তার কাছে পাওনা রয়েছে এনজিও কোডেকের।
তবে মারধরের পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কোডেকের ধানখালী শাখার ব্যবস্থাপক মো. মনির হোসেন।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১০ দিন আগে
পটুয়াখালীতে লঞ্চে শিশুকে ফেলে রেখে ‘বাবা’ উধাও
পটুয়াখালীর বাউফলে ঢাকাগামী ডাবল ডেকার লঞ্চ বন্ধন-৫-এ একটি মেয়ে শিশুকে রেখে এক ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজেকে শিশুটির বাবা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। শিশুটির বয়স ৬ থেকে ৮ মাস বলে ধারণার কথা জানিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কালাইয়া লঞ্চঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
লঞ্চের একাধিক যাত্রী ও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল (বুধবার) বিকেল ৪টার দিকে কালাইয়া লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধুলিয়া লঞ্চঘাটে নোঙর করলে এক ব্যক্তি ওই শিশুটিকে নিয়ে লঞ্চে ওঠেন। তিনি নিজেকে শিশুটির বাবা পরিচয় দিয়ে অন্য যাত্রীদের সঙ্গে বিছানা বিছিয়ে বসেন। তবে কিছু সময় পর শিশুটিকে রেখে লঞ্চ থেকে নেমে যান তিনি।
মো. সোহেল নামে এক যাত্রী বলেন, ওই ব্যক্তি ধুলিয়া ঘাট থেকে লঞ্চে উঠেন। লঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ পর বাচ্চাটির মা আসবে বলে তিনি লঞ্চ থেকে নেমে যান। লঞ্চ থেকে নামার সময় পাশের সিটের যাত্রীদের বাচ্চার প্রতি খেয়াল রাখার অনুরোধ জানিয়ে যান।
তবে লঞ্চটি ধুলিয়া ঘাট ত্যাগ করার পরও শিশুটির মা-বাবা কিংবা কোনো স্বজন লঞ্চে আসেননি। একপর্যায়ে বাচ্চাটি চিৎকার করতে থাকে। পরে যাত্রীরা বিষয়টি লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বাচ্চাটিকে কয়েকজন নারী যাত্রীর হেফাজতে রাখেন।
এ বিষয়ে এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. সজল বলেন, কী কারণে শিশুটিকে রেখে লোকটি উধাও হয়ে গেছে তা বলতে পারছি না। শিশুটি কয়েকজন নারী যাত্রীর কাছে রয়েছে। খোঁজ-খবর নিয়ে শিশুটির পরিবারের সন্ধান করার চেষ্টা চলছে।
কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জেনেছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২০ দিন আগে
গেটের টাকা নিয়ে সংঘর্ষে ভেস্তে গেল বিয়ের আনন্দ, আহত ৪
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় বিয়েবাড়িতে গেটের টাকা দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের মল্লিক বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গেটের টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বরপক্ষের রাসেল মল্লিক (২৫), শফিক হাওলাদার (২৬), শাকিল হোসেন (১৬) এবং কনেপক্ষের জামাল হাওলাদার (৪০) আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাউফলে পাঠানো হয়েছে।
বরপক্ষের দাবি, সংঘর্ষে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শতাধিক মানুষের জন্য প্রস্তুত খাবার নষ্ট হয়ে যায়, ভাঙচুর করা হয় আসবাবপত্র এবং নগদ অর্থ লুটের অভিযোগও করা হয়েছে।
কনের বাবা সাগর মিয়া বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে বরপক্ষের সদস্যরা দাবি করেন, তারা হামলার শিকার হয়েছেন। তবে উভয় পক্ষই বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
দশমিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইমাম মেহেদী বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪০ দিন আগে
লঞ্চের ধাক্কায় তরমুজবোঝাই ট্রলার ডুবি, পটুয়াখালীতে নিহত ২
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় লঞ্চের ধাক্কায় তরমুজবোঝাই একটি ট্রলার ডুবে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) ভোরে উপজেলার লোহালিয়া নদীর বামনিকাঠী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— রেজাউল করীম (২৮) ও নাছির ফকির (৪২)। রেজাউল রাঙাবালী উপজেলার চরলাটসাহেব এলাকার ওয়াজেদ হাওলাদারের ছেলে এবং নাছির একই উপজেলার চরবিষ্টন এলাকার আব্দুল ফকিরের ছেলে। তারা দুজনই পেশায় শ্রমিক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন তরমুজ চাষি রাঙাবালী থেকে তরমুজ বোঝাই একটি ট্রলার নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। একই সময়ে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীগামী এমভি আওলাদ-৭ নামের একটি ডাবল ডেকার লঞ্চ ভোর প্রায় ৪টার দিকে বামনিকাঠী এলাকায় পৌঁছালে ট্রলারটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রলারটি মুহূর্তের মধ্যে ডুবে যায়।
ঘটনার সময় ট্রলারের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা রেজাউল ও নাছির বের হতে না পেরে মারা যান। তবে ট্রলারের অন্য যাত্রীরা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।
স্থানীয়দের ধারণা, নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চচালক ট্রলারটি দেখতে না পাওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
কালাইয়া বন্দর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৪২ দিন আগে
চাঁদার দাবিতে গলাচিপার খেয়াঘাটে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার হরিদেবপুর খেয়াঘাটে প্রকাশ্যে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসীদের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপর হুমকি আর ভয়ভীতির কারণে ঘাটের ইজারাদার শিবু লাল দাস এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রাতে গলাচিপা উপজেলার হরিদেবপুর খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার স্পষ্ট সিসি টিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ প্রশাসনের কাছে ভাইরাল হয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে একদল দুর্বৃত্ত ঘাটের ভাড়া উত্তোলন কাউন্টার-সংশ্লিষ্টদের ওপর হামলা চালায়। সে সময় তারা ক্যাশবাক্স খুলে টাকাপয়সা লুট করে।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ঘাটের বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় খেয়াঘাটে অবস্থানরত কর্মচারীদের বেধড়ক মারধর ও অস্ত্র দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। দুদিন আগে ওই ঘটনা ঘটলেও এখনও এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই নিরাপত্তার অভাবে এলাকা ছেড়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঘাট এলাকায় চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। সর্বশেষ দাবি না মানায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে জেলা পরিষদ প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি জানান, বিষয়টি প্রশাসনের সব মহলকে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, বৈধ ইজারাদার শিবু দাসকে ঘাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে।
পটুয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাজ্জাদুল ইসলাম সজল বলেন, আমরা আবেদন পেলে ঘাট দখলের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে মামলা নিতে প্রস্তুত রয়েছি।
এ বিষয়ে ইজারাদার শিবু লাল দাস বলেন, থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ সুপারকেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হলে ঘাট মুক্ত হবে বলে তিনি জানান। শিবু বলেন, ‘তালেব আকনের নেতৃত্বে খেয়াঘাট দখল করা হয়েছে।’
৪৭ দিন আগে
অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প পুনর্বিবেচনা করা হবে: সেতুমন্ত্রী
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নেওয়া অপ্রয়োজনীয় ও লোক দেখানো প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার রামনাবাদ নদীর ওপর নির্মিত সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জনস্বার্থ বিবেচনায় প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় তিনি আসন্ন ঈদ যাত্রায় গণপরিবহনে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার কথাও জানান, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
৫০ দিন আগে
অনিয়ম, ভয়ভীতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ: পটুয়াখালী-১ আসনের নির্বাচন স্থগিতের আবেদন
পটুয়াখালী-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব মিনার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, ভয়ভীতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নির্বাচন স্থগিতের লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার বরাবর এ আবেদন করেন।
লিখিত অভিযোগে মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব উল্লেখ করেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা বিভিন্নভাবে নির্বাচনি পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তোলে। ভোটের আগের রাত থেকে তার কর্মী-সমর্থকদের মারধর, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন। এতে অনেক কর্মী এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।
আবেদনে আরও বলা হয়, ভোটের দিন সকালে একাধিক কেন্দ্রে নিযুক্ত তার পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও জোরপূর্বক কেন্দ্র দখল, সাধারণ ভোটারদের লাইনে দাঁড়াতে না দেওয়া এবং নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তোলা হয়। কয়েকটি কেন্দ্রে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়া ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কিছু সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তারা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন না করায় ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। ফলে পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
আব্দুল ওয়াহাব মিনারের এই আবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের অনিয়মের কারণে নির্বাচনের ফলাফল প্রকৃত জনমত প্রতিফলিত করবে না।
তাই পটুয়াখালী-১ আসনের নির্বাচন অবিলম্বে স্থগিত করে নিরপেক্ষ পরিবেশে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
৮৩ দিন আগে
পটুয়াখালীর একটি ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ
পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্রে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের নেছারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ করা হয়। তবে কে বা কারা আগুন লাগায় তা জানা যায়নি।
আগুন দেখে স্থানীয়রা তা নেভানোর চেষ্টা করে। প্রায় আধঘণ্টার চেষ্টায় রাত সোয়া ৯টার দিকে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বিদ্যালয় কক্ষের বেঞ্চ ও টিনের বেড়া পুড়ে গেছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ওবায়দুল হক জানান, কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে তা জানা যায়নি। তবে বেশি ক্ষতি হয়নি। নিচের একটি রুমে টাঢার জ্বালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও বিজিবি ঘটনাস্থলে এসেছিল বলে জানান স্থানীয়রা।
৮৪ দিন আগে