পটুয়াখালী
বিকল ট্রলারে ভাসতে থাকা ১৮ জেলেকে চার দিন পর উদ্ধার
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বিকল ট্রলারে ভাসতে থাকা ১৮ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ট্রলারের বিকল হওয়ার চার দিন পর বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ভুক্তভোগীদের স্বজনরা একটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জের জোবায়ের এন্টারপ্রাইজের মৎস্য আড়তদার ফরহাদ হোসেন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ‘একটি ট্রলার পাঠিয়ে জেলেদের উদ্ধার করা হয়েছে।’
উদ্ধারকারী ট্রলারে থাকা বিকল ট্রলারের মালিক হানিফ মাঝির ভাই ফিরোজ জানান, তার ভাইসহ ট্রলারের ১৮ জন মাঝি-মাল্লাকেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টার দিকে সোনারচর-সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এখন তাদের চরফ্যাশনের হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের পাচকপাট স্লুইস গেট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ট্রলারটির পাখা ভেঙে যায়। তার পর থেকে সোনারচর ও রূপারচরের মাঝামাঝি এলাকায় বিকল অবস্থায় নোঙর করে ছিল ট্রলারটি। গত ২২ সেপ্টেম্বর মোবাইল ফোনে নেটওয়ার্ক পাওয়ার পর হানিফ মাঝি বিষয়টি তার এলাকার আড়তদার ফরহাদ হোসেন পাটোয়ারীকে জানান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চাওয়া হয়।
তিন নম্বর সতর্ক সংকেতের মধ্যে উত্তাল সাগরে উদ্ধার অভিযান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় গতকাল (বুধবার) পর্যন্ত তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শেষে আজ সকালে আড়তদারের পাঠানো ট্রলারে তাদের উদ্ধার করা হলো।
১ দিন আগে
উত্তাল সাগরে ট্রলারডুবি, উদ্ধার ৯ মাঝি-মাল্লা
বঙ্গোপসাগরে ঢেউয়ের কবলে পড়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। তবে অন্য একটি ট্রলারের মাধ্যমে ডুবে যাওয়া ট্রলারের ৯ মাঝি-মাল্লাই উদ্ধার হয়েছেন।
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এলাকায় থেমে থেমে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে এবং গভীর সাগর উত্তাল রয়েছে। এর মাঝে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ট্রলারটি ডুবে যায়।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের যুগিরহাওলা গ্রামের জহির প্যাদার মালিকানাধীন একটি ট্রলার ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। ওই ট্রলারেও ৯ জন মাঝি-মাল্লা ছিলেন। পরে পাশের একটি ট্রলার দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে তা ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ কারণে পায়রাসহ চার সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলো মৎস্যবন্দর আলীপুর-মহিপুরসহ বিভিন্ন চ্যানেলে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে জেলার সোনারচর সংলগ্ন সাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে গত শনিবার থেকে আটকা পড়ে আছেন ১৮ জেলে। ট্রলারটি সোনারচর-সংলগ্ন মোহনার ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে অবস্থান করছে।
উত্তাল সাগরের কারণে আশপাশের ট্রলারগুলো তাদের উদ্ধারে যেতে পারছে না বলে জানিয়েছেন জেলেদের স্বজনরা। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশকে জানানো হয়েছে।
রাঙ্গাবালী কোস্ট গার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। সেখানে যাওয়ার মতো উপযুক্ত নৌযান, জনবল ও উদ্ধার সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে রাঙ্গাবালী নৌপুলিশ জানায়, সাগরে থাকা অন্য জেলেদের মাধ্যমে আটকা পড়া ১৮ জেলেকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
১ দিন আগে
ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে চার দিন ধরে সাগরে ভাসছেন ১৮ জেলে
মাছ ধরার ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গত শনিবার থেকে বঙ্গোপসাগরে ভাসছেন ১৮ জেলে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয় বলে জানা গেছে। তাদের অবস্থান মোহনার ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে।
এদিকে ভুক্তভোগী জেলেদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশের সহায়তা চাওয়া হলেও নিরাপত্তা ও সক্ষমতার কারণে উদ্ধার অভিযান চালাতে অপারগতা জানিয়েছে তারা।
রাজধানীর রামপুরা এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী ফরহাদ পাটোয়ারীর ছেলে জুনায়েত হাসান বলেন, গত শনিবার সকালে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলা থেকে ১৮ জন মাঝি-মাল্লা নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যান ট্রলারের মালিক ও মাঝি হানিফ মিয়া। পরে তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর হানিফ মিয়া জুনায়েতের বাবাকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানিয়ে সহযোগিতা চান।
হানিফ মাঝির সঙ্গে জুনায়েতের বাবা ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। ঘটনাটি জানতে পেরে জুনায়েত ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। এছাড়া রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশকে একাধিকবার ফোন করে জেলেদের উদ্ধারে সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
জুনায়েত বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়েছে, চলমান বৈরি আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর ও পার্শ্ববর্তী নদীগুলো প্রচণ্ড উত্তাল রয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য উপযুক্ত নৌযান, জনবল এবং উদ্ধার অভিযানের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকার কথা জানানো হয়েছে কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশের পক্ষ থেকে।’
তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টার দিকে হানিফ মিয়া মুঠোফোনে কল করে উদ্ধারের সহায়তা চেয়েছেন। এরপর তিনিও উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গতকাল রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ভুক্তভোগী হানিফ মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসানের সঙ্গেও জুনায়েতের কথা হয়। তিনি মুঠোফোনে বলেন, ‘গত শনিবার সকালে তার বাবাসহ ১৮ জন মাঝি-মাল্লা চরফ্যাশন মাছঘাট থেকে সাগরে মাছ ধরতে যান। এরপর ইঞ্জিন বিকল হয়ে তারা একই স্থানে অবস্থান করছেন।’
মেহেদী হাসান জানান, গতকাল রাত ১০টার দিকে তার বাবা জানিয়েছেন, বৈরি আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। তাদের ট্রলারের আশপাশে থাকা কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলারকে হাত ইশারা করে সহায়তা চাওয়া হলেও সাগর উত্তাল থাকায় তারা এগিয়ে আসেনি।
জেলে হানিফ মিয়ার বাড়ি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় বলে জানায় তার ছেলে মেহেদী।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী কোস্ট গার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো উপযুক্ত নৌযান, জনবল ও উদ্ধারকাজে ব্যবহারের কোনো সরঞ্জাম তাদের কাছে নেই।
তিনি আরও বলেন, তাদের টহলদলের বর্তমান অবস্থান রাঙ্গাবালী উপজেলা-সংলগ্ন নদী এলাকায়। আর বিপদগ্রস্ত জেলেদের অবস্থান সোনারচর-সংলগ্ন মোহনা থেকে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে। সেখানে পৌঁছাতে প্রায় ছয় থেকে আট ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। সার্বিক বিষয় নিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে তিনি ভোলা কোস্ট গার্ডকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেন। ভোলা কোস্ট গার্ডকে জানানোর পর সেখান থেকে পরবর্তী কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
কোস্ট গার্ডের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, তিনি চরমোন্তাজ ট্রলার মালিক সমিতিকেও বিষয়টি জানিয়েছেন এবং জেলেদের উদ্ধারে সহায়তা চেয়েছেন। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযানে যাওয়ার আনুষঙ্গিক খরচ ও নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে তারাও অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
রাঙ্গাবালী নৌপুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জায়েদুর রহমান বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো নৌযান, উদ্ধার সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় কোনো কিছুই তাদের কাছে নেই। তবে সাগরে থাকা অন্যান্য জেলেদের মাধ্যমে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান বলেন, ‘বিপদগ্রস্ত জেলেদের মালিকের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। জেলেদের উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হয়েছে।’
২ দিন আগে
পটুয়াখালীতে মাদরাসা থেকে ১১ বছরের ছাত্র নিখোঁজ
পটুয়াখালীর বাউফলে একটি আবাসিক হাফিজিয়া মাদরাসা থেকে মো. মিনহাজ খান (১১) নামে এক ছাত্র নিখোঁজ হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর উপজেলার আবু বকর সিদ্দিক (রা.) নূরানী হাফিজিয়া মাদরাসার হেফজ শাখা থেকে বের হওয়ার পর তার আর সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের দাবি, নিখোঁজের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ মিনহাজ খান ওই মাদরাসার হেফজ শাখার তৃতীয় জামাতের ছাত্র। তার বাবা মো. রুহুল আমিন ওরফে ইউনুচ। তাদের বাড়ি পাশের দশমিনা উপজেলার নেহালগঞ্জ এলাকায়।
মাদরাসার শিক্ষক মো. বায়জিদ হোসেন বলেন, মিনহাজ এর আগেও কয়েকবার মাদরাসা থেকে চলে গিয়েছিল। গেল রবিবার দুপুরের পর সে কাউকে কিছু না জানিয়ে মাদরাসা থেকে বের হয়ে যায়। তারপর বিকেল ৩টার দিকে বিষয়টি জানাতে তার বাবাকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
আমরা ধারণা করেছিলাম, মিনহাজ হয়তো বাড়িতে গেছে। এ কারণে আর সেদিন ফোন করা হয়নি বলে জানান তিনি।
ওই শিক্ষক আরও বলেন, গতকাল (সোমবার) দুপুরে মিনহাজের বাবার সঙ্গে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে তার ছেলে বাড়িতে পৌঁছায়নি। এরপর মাদরাসার শিক্ষক ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
শিক্ষক বায়জিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা মনে করছি, শয়তানের ওয়াসওয়াসার কারণে সে এভাবে চলে গিয়ে থাকতে পারে। বিশেষ তদবির দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ তাকে পাওয়া যাবে।’
নিখোঁজ ছাত্রের বাবা রুহুল আমিন বলেন, ‘আমার ছেলে দুই দিন ধরে নিখোঁজ। গতকাল মাদরাসা থেকে ফোন করা হয়েছিল, কিন্তু আমি ফোন ধরতে পারিনি। সবসময় ফোনের কাছে থাকা হয় না। তারা আবার ফোন করবে ভেবেছিলাম।
‘পরে গতকাল দুপুর ১২টার পর ফোন করে শিক্ষকরা জানতে চায়, ছেলে বাড়িতে এসেছে কি না। আমি জানাই, সে বাড়িতে আসেনি। এরপর থেকেই আমরা খোঁজাখুঁজি করছি। এখনও কোনো সন্ধান পাইনি।’
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজ ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩ দিন আগে
পটুয়াখালীতে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৪ আরোহী নিহত
পটুয়াখালী কুয়াকাটা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার আরোহী নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১১টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বসাকবাজার-সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন: অটোরিকশাচালক কাইয়ুম উদ্দিন (৫০), যাত্রী শিল্পী রানী (৪০), তিথী রানী (২৩) এবং চালকের শ্যালক মো. জাহাঙ্গীর। তাদের সবার বাড়ি গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বাউরিয়া-বৌবাজার এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বরগুনার তালতলী থেকে ঢাকাগামী ‘ইমরান পরিবহন’-এর একটি বাস সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে দুটি যানবাহনই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি মাছের ঘেরে পড়ে যায় এবং অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ঘটনাস্থলেই ইজিবাইকচালক কাইয়ুম, শিল্পী রানী ও তিথী রানী নিহত হন। গুরুতর আহত জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
৫ দিন আগে
পাঁচ বছর ভোগার পর ভাসমান সেতুতে চার গ্রামের মানুষের স্বস্তি
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের বড়হরপাড়া খালের ওপর ভাসমান সেতু নির্মাণের ফলে পাঁচ বছর ধরে দুর্ভোগে থাকা চার গ্রামের মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরতে যাচ্ছে। বিশেষ করে পৌরগোঁজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের অবসান হচ্ছে।
সুফি মোতাহার উদ্দিনের বাড়ি-সংলগ্ন বড়হরপাড়া খালের ওপর এলজিইডি নির্মিত লোহার সেতুটি প্রায় পাঁচ বছর আগে ধসে পড়ে। এরপর নতুন করে সেতু নির্মাণ না হওয়ায় মম্বিপাড়া, পৌরগোঁজাসহ চার গ্রামের মানুষের যোগাযোগে চরম দুর্ভোগ নেমে আসে। স্থানীয়রা বাঁশের সাঁকো তৈরি করে কোনোভাবে চলাচল সচল রাখেন।
তবে সাঁকোতে দুর্ভোগ খুব বেশি কমেনি। সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায়ই শিশুরা খালে পড়ে যেত। একপর্যায়ে সাবিনা নামে এক শিশু পানিতে পড়ে প্রাণশঙ্কা সৃষ্টি হয়। সাঁকো পার হতে না পেরে অনেকে কলাগাছের ভেলায় খাল পার হতেন। পরে বাঁশের সাঁকোটিও জীর্ণ হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিশুদের লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছিল।
এ অবস্থায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ডু সামথিং ফাউন্ডেশন’ এলাকাবাসী দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসে। সংস্থাটি প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে ১৬৫ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে চার ফুট প্রশস্ত ভাসমান সেতু নির্মাণ করেছে।
ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের বরিশাল বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর জাহিদুল ইসলাম জানান, সেতুটি নির্মাণে ৪০টি ড্রাম ব্যবহার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, এখন সামান্য সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। কয়েক দিনের মধ্যে গ্রামবাসীকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটির উদ্বোধন করা হবে।
তিনি বলেন, সেতুটি নির্মাণে প্রায় ১৫ দিন সময় লেগেছে। এই সেতুর মাধ্যমে বিশেষ করে শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীর ক্লাসে যাওয়া-আসার ঝুঁকি ও ভোগান্তি লাঘব হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল গাজী বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে এলজিইডির লোহার সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর আর কোনো সেতু নির্মাণ বা মেরামত করা হয়নি। ভাসমান সেতু নির্মাণ হওয়ায় এখন তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হচ্ছে।
পৌরগোঁজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মেশকাত বলেন, ভাসমান সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও নিরাপদে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে পারবে। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও বাড়বে।
ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় মানুষ ও কোমলমতি শিশুদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আমরা এই ভাসমান সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি, এর ফলে চারটি গ্রামের মানুষের চলাচল ও শিক্ষার্থীদের চলাচল নির্বিঘ্নে হবে। এমন একটি ভালো কাজ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।
সারা দেশে সংস্থাটির এমন নানা কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, এটি একটি ভালো ও মহতি উদ্যোগ। আপাতত স্কুলগামী শিশু ও স্থানীয় মানুষের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ভাসমান সেতুটি নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এমন কাজে এগিয়ে আসা সমাজের জন্য ইতিবাচক দিক।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ওই খালের ওপর স্থায়ী একটি সেতু নির্মাণ করা হবে।
৫ দিন আগে
পটুয়াখালীতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ কালিকাপুর ইউনাইটেড ও মাটিভাঙ্গা চ্যালেঞ্জ একাদশ—এই দুই দলের মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ চলছিল। খেলা শেষ হওয়ার প্রায় ১০ মিনিট আগে দক্ষিণ কালিকাপুর ইউনাইটেড একটি গোল করলে প্রতিপক্ষ দল ফাউলের দাবি তোলে। এ নিয়ে রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়ায় অপর দল। এরপর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষে জড়িতরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গলাচিপা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের অনেকেই গলাচিপা ও পটুয়াখালীর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চলে গেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কারও নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, এলাকার পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে।
৭ দিন আগে
পটুয়াখালীতে মামলার আসামি না হয়েও জেলে, পুলিশের ভুল স্বীকার
পটুয়ালীর মহিপুরে চেক ডিজঅনার মামলার ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে গিয়ে মামলার প্রকৃত আসামির পরিবর্তে অন্য এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, তিনি মামলার নথিতে উল্লেখ করা আসামি নন। পরে নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে পুলিশ।
মামলার নথি অনুযায়ী, মো. আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য মো. জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে পটুয়াখালীর আদালতে মামলা করেন। নথিতে বলা হয়, পাওনা পরিশোধের জন্য দেওয়া একটি চেক ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়।
ওই মামলায় আদালত থেকে জারি করা ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট মহিপুর থানা পুলিশ মো. জলিল হাওলাদার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিবারের দাবি, মামলার আসামি ও তাদের স্বজন একই ব্যক্তি নন। পরিবারের কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যেও দুই ব্যক্তির পরিচয়ে পার্থক্য রয়েছে বলে জানান তারা।
পরিবারের অভিযোগ, পরিচয় যাচাইয়ে ভুলের কারণে জলিলকে এমন একটি মামলায় কারাভোগ করতে হচ্ছে, যার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এ বিষয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বলেন, ‘আসামির নাম, বাবার নাম ও গ্রামের নাম একই হওয়ায় ভুলে আটক হয়েছে।’
মায়ের নামের পার্থক্যের বিষয়টি জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘ওয়ারেন্ট কপিতে তো মায়ের নাম থাকে না। এজন্য পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
ভুল করে আটক হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যাতে দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়ায় কারাগার থেকে বের হতে পারেন, সে বিষয়ে তার পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ওসি।
১৮ দিন আগে
আইফোন কিনতে দেড় বছরের শিশুকে বিক্রি করলেন বাবা
সকালে দাদি মাহফুজা বেগমের কাছে গিয়ে বাবা বলেছিলেন, ‘মা, তোমার নাতিকে জামাকাপড় পরিয়ে দাও। ওকে নিয়ে বাজারে একটু ঘুরতে যাব।’
দেড় বছরের শিশু মুসাকে সাজিয়ে দেওয়ার পর তাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান বাবা মো. মারুফ। কিন্তু দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও বাবা-ছেলের কেউ আর বাড়িতে ফেরেননি।
উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা শুরু করেন খোঁজাখুঁজি। এরপর তাদের সামনে আসে আরও বিস্ময়কর এক অভিযোগ—আইফোন কেনার জন্য নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন মারুফ।
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় গতকাল শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত মারুফ ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে এবং পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি।
শিশুটির দাদি ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, গতকাল সকাল ৮টার দিকে মারুফ মুসাকে নিয়ে বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘ সময়েও তাদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে মারুফের মামা বাহাদুর মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রথমে তিনি শিশুটির বিষয়ে কিছু স্বীকার করেননি বলে পরিবারের দাবি।
তবে পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মারুফ স্বীকার করেন যে, আইফোন কেনার জন্য তিনি তার ছেলে মুসাকে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকায় লিখিতভাবে বিক্রি করেছেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে বিক্রি করে পাওয়া টাকা নিয়ে ঢাকায় গিয়ে একটি পুরোনো আইফোন বদলে নতুন একটি আইফোনও কিনেছেন মারুফ।
শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম বলেন, প্রায় চার বছর আগে সাভার থেকে বৃষ্টি নামে এক তরুণীকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন মারুফ। প্রায় তিন বছর পর তাদের ঘরে মুসার জন্ম হয়।
তিনি বলেন, প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মারুফ ও তার স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর কিছুদিন বাড়িতে থেকে মারুফ ঢাকায় চলে যান। গত শুক্রবার সন্ধ্যার আগে তিনি বাড়িতে ফেরেন।
মাহফুজা বেগম বলেন, ‘শনিবার সকালে মারুফ আমাকে বলে, মা, তোমার নাতিকে জামাকাপড় পরিয়ে দাও। আমি ওকে নিয়ে বাজারে একটু ঘুরতে যাব। এরপরে পরে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও ছেলে ও নাতির কোনো খোঁজ পাইনি।’
তিনি বলেন, খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারেন, আইফোন কেনার জন্য এক লাখ টাকার বিনিময়ে মুসাকে বিক্রি করেছেন বলে মারুফ স্বীকার করেছেন। এই বৃদ্ধা বলেন, ‘আমি আমার নাতিকে ফিরে পেতে চাই। প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।’
অন্যদিকে, শিশুটিকে কেনার অভিযোগ ওঠা ইমরান হোসেন মুঠোফোনে বলেন, মারুফ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে শিশুটিকে দেওয়ার কথা বলে আসছিলেন।
তার শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে থাকলেও কোনো ছেলে সন্তান নেই উল্লেখ করে ইমরান দাবি করেন, এ কারণেই মারুফের সঙ্গে আলোচনা করে এক লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিতভাবে শিশুটিকে নিয়েছেন। পরে শিশুটিকে তার শ্বশুরবাড়িতে দিয়ে এসেছেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কয়েক বছর আগে মারুফ সাভার থেকে এক তরুণীকে বিয়ে করে বাড়িতে আনেন। পরে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তারা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ সরেজমিনে কাজ করছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
২৬ দিন আগে
পটুয়াখালীতে বিষমিশ্রিত ঘাস খেয়ে ২৫ মহিষ অসুস্থ, ৩টির মৃত্যু
পটুয়াখালীর বাউফলে চরের ঘাসে বিষপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘাস খেয়ে অন্তত ২৫টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং তিনটি মারা গেছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট)বিকেলে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের লাল চরে এ ঘটনা ঘটে।
মহিষের রাখাল, মালিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাল চরে বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় খামারিরা উন্মুক্তভাবে মহিষ পালন করে আসছেন। চরের সবুজ ঘাস খেয়েই মহিষগুলো প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে।
প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও রাখালরা শতাধিক মহিষকে ঘাস খাওয়াতে লাল চরে নিয়ে যান। পরে ঘাস খাওয়ার পর প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে রফিজ মৃধা, সুমন মাঝি ও রুহুল আমিনের একটি করে মহিষ মারা গেছে। আরও কয়েকটি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রাখাল ও পশু চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, চরের ঘাসে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল এবং ওই ঘাস খাওয়ার কারণেই মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে।
চন্দ্রদ্বীপের রায় সাহেবের বাসিন্দা মহিষ মালিক মোস্তফা ফকির বলেন, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে লাল চরে মহিষ পালন করছেন। শত শত মহিষ নিয়মিত চরের ঘাস খেয়ে থাকে, কিন্তু আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি।
তিনি বলেন, ‘শত্রুতার কারণে দুর্বৃত্তরা চরের ঘাসে বিষ প্রয়োগ করে থাকতে পারে। সেই ঘাস খেয়ে মহিষ মারা যাচ্ছে। আমার ১৮টি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’
আরেক মহিষ মালিক রুহুল আমিন বলেন, বিষ দেওয়া ঘাস খেয়ে তার একটি মহিষ মারা গেছে। অন্যগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের চিকিৎসা চলছে।
উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই কয়েকটি মহিষ মারা যায়। অসুস্থ মহিষগুলোর চিকিৎসা চলছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে মহিষগুলোর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৭ দিন আগে