পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আজ জাতিসংঘ অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব নেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আজ (মঙ্গলবার) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব এবং ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের আনুষ্ঠানিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল ও বৈশ্বিক বহুপক্ষীয় ফোরামটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এছাড়া শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ড. খলিলুর রহমান মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অংশ নেবেন। এ সময় তিনি সভাপতি হিসেবে আগামী অধিবেশনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন।
শপথগ্রহণের পর রাত ১টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভায় সভাপতিত্ব করবেন ড. খলিলুর রহমান।
১ ঘণ্টা আগে
গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি-সংক্রান্ত বিষয়গুলো দ্বিপক্ষীয় যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) কাঠামোর আওতায় আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ভারত। এ বিষয়ে নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সই হয়েছিল এবং বাংলাদেশ-ভারতের সব পানি ও নদী-সংক্রান্ত বিষয় দ্বিপক্ষীয় যৌথ নদী কমিশনের আলোচ্যসূচির অংশ হিসেবে আলোচনা করা হয়।
তিনি বলেন, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির যৌথ কমিটির বৈঠকগুলোও কারিগরি পর্যায়ে অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের জনগণের পানির অধিকার সংরক্ষণ করেই নতুন চুক্তি করার বিষয়ে সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বৃহস্পতিবার বলেন, অভিন্ন নদীগুলো থেকে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন চুক্তি প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
‘আমরা এখন তাদের জবাবের অপেক্ষায় আছি,’ বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সই হওয়া গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। আগামী ডিসেম্বর মাসে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন করে চুক্তি করার আগে বিদ্যমান চুক্তিটি ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা ও সংস্কার করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদের সম্পৃক্ত করে পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, যথাযথভাবে পানি বণ্টন না হলে বাংলাদেশকে ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।
মরিশাসে নবম ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছিলেন, জনগণের মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করে এমন একটি নতুন বা সংশোধিত চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ।
সম্মেলনের ফাঁকে এনডিটিভিকে তিনি বলেছিলেন, ‘এগুলো অভিন্ন নদী। এখানে আমাদের অভিন্ন ঐতিহ্য, অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। তাই এমন একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই, যা জনগণের আস্থা অর্জন করবে। আগামী ২৫ থেকে ৫০ বছরের সম্পর্কের ভিত্তি তৈরির জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক শাহাব এনাম খান বলেন, প্রায় তিন দশক আগে চুক্তিটি হওয়ায় বর্তমান বাস্তবতায় তা সংশোধন করা প্রয়োজন।
সম্প্রতি ইউএনবিকে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য গঙ্গা চুক্তি নবায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি সংশোধন করতে হবে। এর খুব সহজ কারণ হলো, চুক্তিটি প্রায় তিন দশক আগে করা হয়েছিল।’
১০ দিন আগে
নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নেপাল সরকার ক্ষয়ক্ষতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ধরন মূল্যায়ন করছে এবং আজ সন্ধ্যা বা শুক্রবারের মধ্যে বাংলাদেশকে তা জানাবে।
তিনি বলেন, ‘আজ সকালবেলা আমার সঙ্গে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা হয়েছে। তাকে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে, বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে নেপালে যে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটেছে, সে বিষয়ে সমবেদনা ও শোক জ্ঞাপন করেছি। আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা অফার করেছি।’
ড. খলিলুর রহমান বলেন, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা এখনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা মূল্যায়ন করছেন। ‘এবং আজকে সন্ধ্যা কিংবা কালকের ভেতরে তিনি নিশ্চিতভাবে আমাদের জানাবেন। আমরা তৈরি আছি।’
নেপালে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছেন কি না, এখন পর্যন্ত তা জানা যায়নি বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তার কথায়, ‘আমি তাকে বলেছি যে, আমরা তো এখনও পর্যন্ত জানতে পারিনি যে কোনো বাংলাদেশি এতে অ্যাফেক্টেড হয়েছেন কিনা। যদি হয়, তাহলে পরে আমাদের যেন জানান এবং আমরা তাদের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করব।’
বাংলাদেশি কোনো নাগরিকের খোঁজ পাওয়া গেলে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
নেপালে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ কোনো ফ্লাইট প্রস্তুত করেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, নেপাল সরকারের চাহিদা জানার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘উনারা যখন বলবেন তখন, আগের থেকে তো করা যাবে না। কিন্তু আমরা প্রস্তুত আছি।’
তিনি বলেন, নেপালে বেশ কয়েকজন বিদেশি পর্যটক মানসলু পর্বতের দিকে যাচ্ছিলেন, সে সময় দুর্যোগটি ঘটে। এ দুর্ঘটনায় জীবিত বা মৃত অবস্থায় বাংলাদেশি কারও খোঁজ পাওয়া গেলে আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই ধরনের মনোভাব ব্যক্ত করেছেন বলে জানান ড. খলিলুর রহমান।
১২ দিন আগে
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন দিয়ে শোক জানিয়েছেন ড. খলিলুর রহমান
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত শোকবার্তা নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় তিনি এ শোকবার্তা পৌঁছে দেন।
বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নেপালে আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন।
ভয়াবহ এই বন্যা ও ভূমিধসকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের প্রতি বাংলাদেশের গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা ও প্রার্থনা রয়েছে।
ড. খালিলুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের হতাহতের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে জানানোর জন্য নেপাল সরকারের প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেপালের এই কঠিন সময়ে দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন বলেও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান ড. খালিলুর রহমান। পাশাপাশি নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
এ সময় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কঠিন এই সময়ে বাংলাদেশের সংহতি ও সহমর্মিতার উষ্ণ বার্তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের পর নেপালের কোনো সহায়তার প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট চাহিদার কথা বাংলাদেশকে জানানো হবে বলে তিনি জানান।
এ সময় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্যোগের পর চলমান অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা নিয়েও আলোচনা করেন।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী ভোতেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৭৩ জন নিহত হাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকশ’ বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে বাংলাদেশি কেউ নেই বলে জানিয়েছে নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ওই এলাকায় কম্পন শনাক্ত হওয়ার তিন মিনিট পর, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রবল পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নদী উপত্যকার জনবসতি, সড়ক, সেতু, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
রাসুয়ার টিমুরে, স্যাফ্রুবেশি ও রাসুওয়াগাধি এবং নুওয়াকোটের বেত্রাবতী, ত্রিশূলী ও দেবীঘাট এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের বিশাল ভূমিধসের কারণে নদীতে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসায় এ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাতও পানির প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। তবে কম্পনের সঙ্গে বন্যার সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনও তদন্ত করছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
১২ দিন আগে
দুই দিনের সফরে কাতার গেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দুই দিনের সরকারি সফরে কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে তিনি কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিধি দলে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সফর শেষে ১৯ আগস্ট রাতে তার র দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
২১ দিন আগে
রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে খাটো করার মতো কিছু আর করবে না ভারত, প্রত্যাশা ঢাকার
রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে খাটো বা দুর্বল করার মতো কোনো কাজ ভারত সরকার আর করবে না বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ তার রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি বিশ্বের সবার শ্রদ্ধা প্রত্যাশা করে এবং ভারতের সঙ্গে আলোচনায় তিনি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হয়েছেন যে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনের প্রথম দুই মাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ভারতীয় হাইকমিশনার। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠকে সংক্ষেপে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টি ছিল অন্যতম। বাংলাদেশ এ প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে ভারত ইতিবাচক সাড়া দেবে বলে আশা করছি।
এ ছাড়া শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজনরা ভারতে ধরা পড়েছে। ভারত যেসব কাগজপত্র চেয়েছিল, বাংলাদেশ সেগুলো ইতোমধ্যে সরবরাহ করেছে। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে হত্যাকারীদের যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে বলা হয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপরও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান ড. খলিলুর রহমান।
গেল ৫ আগস্ট ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ যে লিখিত অসন্তোষ জানিয়েছে, সেটিও আলোচনায় এসেছে কি না—জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করেছে বলে জানান তিনি। গতকালও ভারতীয় পক্ষ তাকে বিষয়টি জানিয়েছে এবং আজ (সোমবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের ভূমিকা নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ হলো নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগ। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের একটি উপযুক্ত আদালতের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। ফলে তার বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের বিষয় আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রতি অসম্মান করা হয়েছে এবং সেই কাজটি ভারত সরকার করতে দিয়েছে। আমরা চাই, বিশ্বের সবাই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোক।
খলিলুর রহমান বলেন, আমরা আশা করব, ভারত সরকার বিষয়টি অনুধাবন করবে। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমার ধারণা হচ্ছে, তারা জিনিসটা বুঝতে পেরেছে। রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে খাটো বা দুর্বল করার মতো কোনো কাজ ভারত সরকার আর করবে না—এটাই বাংলাদেশের প্রত্যাশা। ‘তাদের সঙ্গে আমার যা কথা হয়েছে, তাতে আমি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত যে, এ ধরনের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সরকারের দেওয়া দুটি আমন্ত্রণের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমন্ত্রণের বিষয়ে এখনও বাংলাদেশ কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, সেটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে দেওয়া আমন্ত্রণের সঙ্গে এক নয়। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সরকার গঠনের দিন একটি চিঠি দিয়েছিলেন। ৩ তারিখের ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সোমবারের বৈঠকে এসব আমন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, বিষয়টি কিছুটা আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
২৯ দিন আগে
রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর শোক
সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানিতে গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
তারা নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানিয়েছেন এবং এই অপূরণীয় ক্ষতি ও শোকের সময়ে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
গতকাল (রবিবার) রিয়াদের মুসা সানাইয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় এ মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং মরদেহের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে কাজ করছে বলে এক বার্তায় জানানো হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নকরণ এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহায়তায় দূতাবাস প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিকভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং তদানুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।
২৯ দিন আগে
বাংলাদেশকে ‘ক্লায়েন্ট রাষ্ট্র’ হিসেবে দেখতে চায় না সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শিক্ষা হলো বাংলাদেশকে কখনোই পরনির্ভরশীল বা ‘ক্লায়েন্ট’ রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় না সরকার। তিনি বলেন, দেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ‘বাংলাদেশ প্রথম’ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো বাংলাদেশকে আর কখনো সেই অবস্থায় ফিরে যেতে না দেওয়া।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের অসীম সাহস, নির্ভীক দৃষ্টিভঙ্গি ও দেশপ্রেম আমাদের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আর যারা আহত হয়েছেন, তাদের ত্যাগ ও অদম্য মনোবল প্রজন্ম পর প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, দুই বছর আগে দেশের পরিস্থিতি ছিল স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে নৃশংস সময়গুলোর একটি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বাইরে থেকে দেখেছি যে ছোট ছোট বাচ্চারা নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, প্রাণ দিচ্ছে, আহত হচ্ছে। তারপর একসময় পুরো ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট হয়ে গেল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা ছিল সবচেয়ে নৃশংস সময়, স্বাধীনতার পর এমন কালো অধ্যায় আমরা আর দেখিনি।
তিনি জানান, সে সময় জাতিসংঘের মহাসচিবের দপ্তরের সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
ড. খলিলুর রহমানের কথায়, ‘আগস্টের একেবারে শুরুর দিকে আমি জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলাম। পয়লা আগস্ট আমি ইমোশনালি এতটাই কাতর হয়ে পড়েছিলাম যে আমি জাতিসংঘের মহাসচিবের দপ্তরে ফোন করব। বাংলাদেশে এই ধরনের একটা ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় তিনি উপেক্ষা করতে পারেন না—সেই বিষয়টি আমি তাকে বলেছি।’
‘আমার ধারণা, তিনি নিশ্চুপ বসে ছিলেন না। এর কিছুদিন পরেই দেখি যে অন্তত কিছু কিছু বাহিনীর ক্ষেত্রে গুলি বর্ষণ বন্ধ হয়েছে। আমার ধারণা, পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতেও সম্ভবত এর একটি ভূমিকা ছিল।’
জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তরণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তাকে সরকারে যোগ দিতে আহ্বান জানান এবং পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব দেন।
তিনি বলেন, আমাদের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে (গণতান্ত্রিক) উত্তরণ সম্পন্ন করা। তিনটি কাজই আমরা করতে পেরেছি।
৩৪ দিন আগে
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কিছু অস্বস্তি নিরসন করা খুবই প্রয়োজন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বিদ্যমান কিছু ‘অস্বস্তি’ দূর করা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আমন্ত্রণ সরকার বর্তমানে পর্যালোচনা করছে। পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আমন্ত্রণের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সেটা এখন রিভিউ (পর্যালোচনা) করছি। এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব এবং আপনাদের সেটা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ নিয়েও পর্যালোচনা চলছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একাধিক দাওয়াত আছে। সে সবগুলো তো অনেক সময় ধরে... উনি যেমন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাবেন, সব কিছু আমাদের সামগ্রিকভাবে দেখতে হচ্ছে।
ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারের সঙ্গে এটি ছিল আমার প্রথম সাক্ষাৎ। এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমার সঙ্গে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার ত্রিবেদীর আজকে প্রথম সাক্ষাৎ হয়। এটা ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। আমরা বিস্তারিত কোনো বিষয় নিয়ে আলাপ করিনি। এটাই স্বাভাবিক, কারণ এর জন্য আমাদের সময় পড়ে আছে।’
দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, তবে দুই দেশের সম্পর্ক রিসেটের (নতুন করে শুরু) ব্যাপারে—এটা তো আমরা আগেও বলেছি—আমরা দুজনেই ঐকমত্য পোষণ করি। পারস্পরিক স্বার্থ সামনে রেখে এবং আমি বাংলাদেশের স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। এ বিষয়ে আমরা ঐকমত্য পোষণ করেছি।
পুশ-ইনসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘না, আজকে আমরা কোনো বিশেষ বিষয়ে কথা বলি নাই। কিছু কিছু ইরিটেশন (অস্বস্তি) আছে, উনিও জানেন, আমিও জানি। এগুলো নিরসন করা খুবই প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনীয়তা তো সকলেই উপলব্ধি করেন।’
ভারতে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আজকে আগেই বলেছি, এটা একটা সৌজন্য সাক্ষাৎ। উনি নিজেকে আমাদের কাছে উপস্থাপন করলেন সরকারিভাবে। এই প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি দেখা করলেন। আপনাদের বললাম একটু আগে যে আমরা বিশেষ কোনো ইস্যু নিয়ে এবার কথা বলিনি। আমাদের মধ্যে যে বিষয়গুলো আছে, আগামী দিনগুলোতে সব নিয়েই আমরা আলোচনা করব।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে খলিলুর রহমান বলেন, ‘অজিত দোভাল সাহেবের সঙ্গে আমার ম্যানিলাতে দেখা হয়নি, জয়শঙ্কর সাহেবের সঙ্গে দেখা হয়েছে। এবং সাধারণভাবে উনি জানেন যে মিস্টার ত্রিবেদীর সঙ্গে আমার বৈঠক আছে। আমরা দুজনেই আশা প্রকাশ করেছি যে আগামী দিনগুলোতে আমাদের সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই কাজ করবে।’
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের বাংলাদেশ সফরের আগের দিন ভারতীয় হাইকমিশনারের এ সাক্ষাতের কোনো বিশেষ তাৎপর্য আছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘না, এটার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। আমি গতকাল ফিরে এসেছি এবং যারা যারা উনার সঙ্গে আমার মিটিংটা হওয়ার প্রয়োজন ছিল, আমি যত দ্রুত সম্ভব সে মিটিংটা করে নিয়েছি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূতের আসন্ন সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার ইতোমধ্যে ম্যানিলাতে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে, বৈঠক হয়েছে। আমরা দুই দেশের সম্পর্ক পর্যালোচনা করেছি।
‘আপনারা জানেন, আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুমুখী। তারাও চাইছেন সম্পর্কটাকে আরও এগিয়ে নিতে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘উনি (সার্জিও গোর) কেবল ভারতে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত না, উনি আমেরিকান প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিষয়ভিত্তিক প্রতিনিধি। এটি তার প্রথম সফর। দক্ষিণ এশিয়া যেহেতু তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে, বাংলাদেশও তার অন্তর্ভুক্ত। প্রথম সফর হিসেবে আমরা ধারণা করছি এটা এক্সপ্লোরেটরি (অনুসন্ধানমূলক) সফর হবে। উনি বাংলাদেশ সম্পর্কে বুঝতে চাইবেন। শুধু আমাদের সঙ্গে না, অন্যান্য অনেক স্টেকহোল্ডারের (অংশীজন) সঙ্গেও কথাবার্তা বলবেন।’
রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে উনি অবগত আছেন। রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে যে বৈদেশিক সহায়তা আমরা পেয়েছি, তার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার পরিমাণ সর্বাধিক। আমরা সেটা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করি। উনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবেন বলে আমরা আশা করছি।’
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সম্ভাব্য সফর নিয়ে কোনো চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সংক্ষেপে বলেন, ‘আমরা কোনো ধরনের চাপ অনুভব করছি না।’
বাংলাদেশের সঙ্গে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমার মনে হওয়ার বিষয় নয়, কূটনীতিতে আমরা আন্দাজে কাজ করি না। আমরা বাস্তবতার ভিত্তিতে কাজ করি।’
ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অন্য দেশের পরিপ্রেক্ষিতে জিরো-সাম গেম নয়। একজনের সম্পর্ক ক্ষতি করে আরেকজনের সম্পর্ক বৃদ্ধি করছি—আমরা কখনোই সেটা করব না। সব দেশের সঙ্গে আমাদের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে, নিজেদের স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে আমরা সম্পর্ক বৃদ্ধির চেষ্টা করেছি। কারো সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন মানেই এই নয় যে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ভালো সফর হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি ভারতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যান, আমরা আশা করব সেই সফরটিও অত্যন্ত ভালো হোক। আবার মার্কিন প্রতিনিধির সফরও আমাদের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার অংশ। বাংলাদেশের সঙ্গে তো একটা দেশের না, বহু দেশের সম্পর্ক আছে। এটা তো স্ত্রী এবং সতীনদের মধ্যে মারামারি নয় ভাই! এটা হচ্ছে স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক। যেখানে আমাদের স্বার্থ, আমরা সেখানে যাব।’
৪০ দিন আগে
এমন কোনো সমস্যা নেই যা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না: ভারতীয় হাইকমিশনার
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হলে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আরও অগ্রগতি হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। সৌজন্য সাক্ষাতে সৌজন্যমূলক আলোচনা হয়। পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না, এমন কোনো সমস্যা নেই। শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষ এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণ।’
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের সময় ঘনিয়ে আসার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে দুই দেশেরই একটি করে ওয়ার্কিং গ্রুপ রয়েছে। তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। আমি আগেও বলেছি, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না—এমন কোনো সমস্যা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হলে বিষয়গুলো আরও এগোবে বলে আমি আশা করি। ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের কাজ করবে এবং যা দুই দেশের জনগণের জন্য উপকারী, সেটিই বাস্তবায়িত হবে। আমি সবকিছু ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছি।’
৪১ দিন আগে