পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দুই দিনের সফরে কাতার গেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দুই দিনের সরকারি সফরে কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে তিনি কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিধি দলে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সফর শেষে ১৯ আগস্ট রাতে তার র দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
১ দিন আগে
রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে খাটো করার মতো কিছু আর করবে না ভারত, প্রত্যাশা ঢাকার
রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে খাটো বা দুর্বল করার মতো কোনো কাজ ভারত সরকার আর করবে না বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ তার রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি বিশ্বের সবার শ্রদ্ধা প্রত্যাশা করে এবং ভারতের সঙ্গে আলোচনায় তিনি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হয়েছেন যে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনের প্রথম দুই মাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ভারতীয় হাইকমিশনার। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠকে সংক্ষেপে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টি ছিল অন্যতম। বাংলাদেশ এ প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে ভারত ইতিবাচক সাড়া দেবে বলে আশা করছি।
এ ছাড়া শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজনরা ভারতে ধরা পড়েছে। ভারত যেসব কাগজপত্র চেয়েছিল, বাংলাদেশ সেগুলো ইতোমধ্যে সরবরাহ করেছে। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে হত্যাকারীদের যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে বলা হয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপরও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান ড. খলিলুর রহমান।
গেল ৫ আগস্ট ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ যে লিখিত অসন্তোষ জানিয়েছে, সেটিও আলোচনায় এসেছে কি না—জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করেছে বলে জানান তিনি। গতকালও ভারতীয় পক্ষ তাকে বিষয়টি জানিয়েছে এবং আজ (সোমবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের ভূমিকা নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ হলো নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগ। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের একটি উপযুক্ত আদালতের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। ফলে তার বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের বিষয় আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রতি অসম্মান করা হয়েছে এবং সেই কাজটি ভারত সরকার করতে দিয়েছে। আমরা চাই, বিশ্বের সবাই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোক।
খলিলুর রহমান বলেন, আমরা আশা করব, ভারত সরকার বিষয়টি অনুধাবন করবে। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমার ধারণা হচ্ছে, তারা জিনিসটা বুঝতে পেরেছে। রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে খাটো বা দুর্বল করার মতো কোনো কাজ ভারত সরকার আর করবে না—এটাই বাংলাদেশের প্রত্যাশা। ‘তাদের সঙ্গে আমার যা কথা হয়েছে, তাতে আমি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত যে, এ ধরনের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সরকারের দেওয়া দুটি আমন্ত্রণের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমন্ত্রণের বিষয়ে এখনও বাংলাদেশ কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, সেটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে দেওয়া আমন্ত্রণের সঙ্গে এক নয়। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সরকার গঠনের দিন একটি চিঠি দিয়েছিলেন। ৩ তারিখের ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সোমবারের বৈঠকে এসব আমন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, বিষয়টি কিছুটা আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
৮ দিন আগে
রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর শোক
সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানিতে গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
তারা নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানিয়েছেন এবং এই অপূরণীয় ক্ষতি ও শোকের সময়ে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
গতকাল (রবিবার) রিয়াদের মুসা সানাইয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় এ মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং মরদেহের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে কাজ করছে বলে এক বার্তায় জানানো হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নকরণ এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহায়তায় দূতাবাস প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিকভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং তদানুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।
৯ দিন আগে
বাংলাদেশকে ‘ক্লায়েন্ট রাষ্ট্র’ হিসেবে দেখতে চায় না সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শিক্ষা হলো বাংলাদেশকে কখনোই পরনির্ভরশীল বা ‘ক্লায়েন্ট’ রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় না সরকার। তিনি বলেন, দেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ‘বাংলাদেশ প্রথম’ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো বাংলাদেশকে আর কখনো সেই অবস্থায় ফিরে যেতে না দেওয়া।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের অসীম সাহস, নির্ভীক দৃষ্টিভঙ্গি ও দেশপ্রেম আমাদের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আর যারা আহত হয়েছেন, তাদের ত্যাগ ও অদম্য মনোবল প্রজন্ম পর প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, দুই বছর আগে দেশের পরিস্থিতি ছিল স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে নৃশংস সময়গুলোর একটি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বাইরে থেকে দেখেছি যে ছোট ছোট বাচ্চারা নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, প্রাণ দিচ্ছে, আহত হচ্ছে। তারপর একসময় পুরো ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট হয়ে গেল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা ছিল সবচেয়ে নৃশংস সময়, স্বাধীনতার পর এমন কালো অধ্যায় আমরা আর দেখিনি।
তিনি জানান, সে সময় জাতিসংঘের মহাসচিবের দপ্তরের সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
ড. খলিলুর রহমানের কথায়, ‘আগস্টের একেবারে শুরুর দিকে আমি জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলাম। পয়লা আগস্ট আমি ইমোশনালি এতটাই কাতর হয়ে পড়েছিলাম যে আমি জাতিসংঘের মহাসচিবের দপ্তরে ফোন করব। বাংলাদেশে এই ধরনের একটা ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় তিনি উপেক্ষা করতে পারেন না—সেই বিষয়টি আমি তাকে বলেছি।’
‘আমার ধারণা, তিনি নিশ্চুপ বসে ছিলেন না। এর কিছুদিন পরেই দেখি যে অন্তত কিছু কিছু বাহিনীর ক্ষেত্রে গুলি বর্ষণ বন্ধ হয়েছে। আমার ধারণা, পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতেও সম্ভবত এর একটি ভূমিকা ছিল।’
জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তরণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তাকে সরকারে যোগ দিতে আহ্বান জানান এবং পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব দেন।
তিনি বলেন, আমাদের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে (গণতান্ত্রিক) উত্তরণ সম্পন্ন করা। তিনটি কাজই আমরা করতে পেরেছি।
১৩ দিন আগে
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কিছু অস্বস্তি নিরসন করা খুবই প্রয়োজন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বিদ্যমান কিছু ‘অস্বস্তি’ দূর করা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আমন্ত্রণ সরকার বর্তমানে পর্যালোচনা করছে। পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আমন্ত্রণের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সেটা এখন রিভিউ (পর্যালোচনা) করছি। এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব এবং আপনাদের সেটা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ নিয়েও পর্যালোচনা চলছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একাধিক দাওয়াত আছে। সে সবগুলো তো অনেক সময় ধরে... উনি যেমন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাবেন, সব কিছু আমাদের সামগ্রিকভাবে দেখতে হচ্ছে।
ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারের সঙ্গে এটি ছিল আমার প্রথম সাক্ষাৎ। এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমার সঙ্গে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার ত্রিবেদীর আজকে প্রথম সাক্ষাৎ হয়। এটা ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। আমরা বিস্তারিত কোনো বিষয় নিয়ে আলাপ করিনি। এটাই স্বাভাবিক, কারণ এর জন্য আমাদের সময় পড়ে আছে।’
দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, তবে দুই দেশের সম্পর্ক রিসেটের (নতুন করে শুরু) ব্যাপারে—এটা তো আমরা আগেও বলেছি—আমরা দুজনেই ঐকমত্য পোষণ করি। পারস্পরিক স্বার্থ সামনে রেখে এবং আমি বাংলাদেশের স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। এ বিষয়ে আমরা ঐকমত্য পোষণ করেছি।
পুশ-ইনসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘না, আজকে আমরা কোনো বিশেষ বিষয়ে কথা বলি নাই। কিছু কিছু ইরিটেশন (অস্বস্তি) আছে, উনিও জানেন, আমিও জানি। এগুলো নিরসন করা খুবই প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনীয়তা তো সকলেই উপলব্ধি করেন।’
ভারতে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আজকে আগেই বলেছি, এটা একটা সৌজন্য সাক্ষাৎ। উনি নিজেকে আমাদের কাছে উপস্থাপন করলেন সরকারিভাবে। এই প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি দেখা করলেন। আপনাদের বললাম একটু আগে যে আমরা বিশেষ কোনো ইস্যু নিয়ে এবার কথা বলিনি। আমাদের মধ্যে যে বিষয়গুলো আছে, আগামী দিনগুলোতে সব নিয়েই আমরা আলোচনা করব।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে খলিলুর রহমান বলেন, ‘অজিত দোভাল সাহেবের সঙ্গে আমার ম্যানিলাতে দেখা হয়নি, জয়শঙ্কর সাহেবের সঙ্গে দেখা হয়েছে। এবং সাধারণভাবে উনি জানেন যে মিস্টার ত্রিবেদীর সঙ্গে আমার বৈঠক আছে। আমরা দুজনেই আশা প্রকাশ করেছি যে আগামী দিনগুলোতে আমাদের সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই কাজ করবে।’
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের বাংলাদেশ সফরের আগের দিন ভারতীয় হাইকমিশনারের এ সাক্ষাতের কোনো বিশেষ তাৎপর্য আছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘না, এটার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। আমি গতকাল ফিরে এসেছি এবং যারা যারা উনার সঙ্গে আমার মিটিংটা হওয়ার প্রয়োজন ছিল, আমি যত দ্রুত সম্ভব সে মিটিংটা করে নিয়েছি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূতের আসন্ন সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার ইতোমধ্যে ম্যানিলাতে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে, বৈঠক হয়েছে। আমরা দুই দেশের সম্পর্ক পর্যালোচনা করেছি।
‘আপনারা জানেন, আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুমুখী। তারাও চাইছেন সম্পর্কটাকে আরও এগিয়ে নিতে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘উনি (সার্জিও গোর) কেবল ভারতে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত না, উনি আমেরিকান প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিষয়ভিত্তিক প্রতিনিধি। এটি তার প্রথম সফর। দক্ষিণ এশিয়া যেহেতু তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে, বাংলাদেশও তার অন্তর্ভুক্ত। প্রথম সফর হিসেবে আমরা ধারণা করছি এটা এক্সপ্লোরেটরি (অনুসন্ধানমূলক) সফর হবে। উনি বাংলাদেশ সম্পর্কে বুঝতে চাইবেন। শুধু আমাদের সঙ্গে না, অন্যান্য অনেক স্টেকহোল্ডারের (অংশীজন) সঙ্গেও কথাবার্তা বলবেন।’
রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে উনি অবগত আছেন। রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে যে বৈদেশিক সহায়তা আমরা পেয়েছি, তার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার পরিমাণ সর্বাধিক। আমরা সেটা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করি। উনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবেন বলে আমরা আশা করছি।’
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সম্ভাব্য সফর নিয়ে কোনো চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সংক্ষেপে বলেন, ‘আমরা কোনো ধরনের চাপ অনুভব করছি না।’
বাংলাদেশের সঙ্গে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমার মনে হওয়ার বিষয় নয়, কূটনীতিতে আমরা আন্দাজে কাজ করি না। আমরা বাস্তবতার ভিত্তিতে কাজ করি।’
ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অন্য দেশের পরিপ্রেক্ষিতে জিরো-সাম গেম নয়। একজনের সম্পর্ক ক্ষতি করে আরেকজনের সম্পর্ক বৃদ্ধি করছি—আমরা কখনোই সেটা করব না। সব দেশের সঙ্গে আমাদের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে, নিজেদের স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে আমরা সম্পর্ক বৃদ্ধির চেষ্টা করেছি। কারো সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন মানেই এই নয় যে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ভালো সফর হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি ভারতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যান, আমরা আশা করব সেই সফরটিও অত্যন্ত ভালো হোক। আবার মার্কিন প্রতিনিধির সফরও আমাদের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার অংশ। বাংলাদেশের সঙ্গে তো একটা দেশের না, বহু দেশের সম্পর্ক আছে। এটা তো স্ত্রী এবং সতীনদের মধ্যে মারামারি নয় ভাই! এটা হচ্ছে স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক। যেখানে আমাদের স্বার্থ, আমরা সেখানে যাব।’
২০ দিন আগে
এমন কোনো সমস্যা নেই যা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না: ভারতীয় হাইকমিশনার
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হলে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আরও অগ্রগতি হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। সৌজন্য সাক্ষাতে সৌজন্যমূলক আলোচনা হয়। পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না, এমন কোনো সমস্যা নেই। শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষ এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণ।’
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের সময় ঘনিয়ে আসার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে দুই দেশেরই একটি করে ওয়ার্কিং গ্রুপ রয়েছে। তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। আমি আগেও বলেছি, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না—এমন কোনো সমস্যা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হলে বিষয়গুলো আরও এগোবে বলে আমি আশা করি। ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের কাজ করবে এবং যা দুই দেশের জনগণের জন্য উপকারী, সেটিই বাস্তবায়িত হবে। আমি সবকিছু ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছি।’
২০ দিন আগে
ঢাকা-মালে সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব
মালদ্বীপ সরকারের বিশেষ অতিথি হিসেবে দেশটির ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের বর্ণাঢ্য প্যারেডে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সফরকালে তিনি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি দুই দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
সরকারি সফরে ২৫ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত মালদ্বীপে অবস্থান করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
সোমবার (২৭ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রবিবার মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে রিপাবলিক স্কয়ারে অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে পৌঁছালে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের বিভিন্ন শাখার বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও সামরিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার ৬১তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ প্যারেডে দেশটির শৃঙ্খলা, ঐতিহ্য ও জাতীয় গৌরবের নানা দিক তুলে ধরা হয়।
২২ দিন আগে
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মালদ্বীপ সফরে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যাশা
মালদ্বীপের স্বাধীনতার ৬১তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেশটিতে পৌঁছেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের ক্ষেত্রে এ সফরকে ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে দেখছে দেশটি।
শনিবার (২৫ জুলাই) তিনি মালদ্বীপে পৌঁছালে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদাম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।
এই সফর আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ভিত্তি তৈরি করবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
২৫ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি সফরে মালদ্বীপে অবস্থান করবেন। দেশটির সরকারের ‘বিশেষ অতিথি’ হিসেবে তিনি দেশটির স্বাধীনতার ৬১তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানান, ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা থেকে দোহা হয়ে মালদ্বীপে পৌঁছেছেন ড. খলিলুর রহমান।
২৪ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকট রাজনৈতিক ব্যর্থতার ফল, রাজনৈতিকভাবেই এর সমাধান হতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গারা ঘটনাক্রমে রাষ্ট্রহীন হয়নি, বরং পরিকল্পিতভাবে তাদের রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা এবং এর সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই হতে হবে।
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় ৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় রাখাইন রাজ্যে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গার নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিতকল্পে বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতি মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রোহিঙ্গারা পরিস্থিতির কারণে রাষ্ট্রহীন নয়, তাদের পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা, যার জন্য রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।”
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নিজের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংলাপ ও কূটনীতির বিকল্প নেই।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানান, প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশ ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, যা দেশের ওপর উল্লেখযোগ্য সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের প্রতি কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে আসছে, যাতে রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়।
এ সময় সমুদ্রসীমা-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট সব রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান ড. খলিলুর রহমান।
জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উদীয়মান প্রযুক্তির সুবিধা এবং ঝুঁকির কথা তুলে ধরে ড. খলিলুর রহমান এ অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক ও উন্নয়ন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আঞ্চলিক প্রযুক্তি শাসন কাঠামো (টেকনোলজি গভর্ন্যান্স ফ্রেমওয়ার্ক) গঠনের প্রস্তাব দেন।
সফরের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, পর্যটন, মানবিক সহায়তা, বহুপাক্ষিক ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতাসহ দ্বিক্ষিক ও বহুক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং দায়িত্ব পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এদিকে, এআরএফ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ড. খলিলুর রহমান। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ড. খলিলুরের সঙ্গে বৈঠকের পর সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণন বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন স্বার্থ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং বৃহত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে দুই দেশ কীভাবে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং আসিয়ানের মাধ্যমে যৌথভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও পর্যটনমন্ত্রী বিজিথা হেরাথের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিকতা, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির প্রতি উভয় দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এর আগে, বুধবার এআরএফ বৈঠকের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন ড. খলিলুর রহমান।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এসব বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির (টিএসি) ৫০তম বার্ষিকী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. খলিলুর রহমান। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে এআরএফ প্ল্যাটফর্ম।
২৬ দিন আগে
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে চায় ঢাকা
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বুধবার (২২ জুলাই) ফিলিপাইনের রাজধানীতে আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয় বলে একটি কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানিয়েছে।
৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির (টিএসি) ৫০তম বার্ষিকী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. খলিলুর রহমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতের সহযোগিতাসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতেই দেশের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনা করা হবে।
২৭ দিন আগে