লামা
লামায় সড়ক ও সেতু নির্মাণে অনিয়ম-ধীরগতির অভিযোগ, দুর্ভোগে ৬ গ্রামের মানুষ
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কুমারী-চাককাটা সড়কের উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণকাজে অনিয়ম এবং ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে না পারায় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফলে এলাকার হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, বালুর পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি দিয়ে কাজ করা এবং ঠিকাদারের দীর্ঘসূত্রতার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে কুমারী-চাককাটা সড়কের দুই কিলোমিটার কার্পেটিং নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে চুয়াডাঙ্গার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাউল্লাহ কন্সট্রাকশন কাজটি পেলেও বাস্তবে কাজটি করছেন বান্দরবানের ঠিকাদার মেহেদী হাসান। কয়েক মাস আগে শুরু হওয়া প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে দাবি করা হলেও বর্তমানে কাজ কার্যত বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কাজের শুরুতেই সড়কের স্কুলপাড়া এলাকার সচল ও ব্যবহৃত পুরোনো সেতুটি ভেঙে ফেলা হয়। পরে সেতুর রড, ইটসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ঠিকাদারি কর্তৃপক্ষ বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণ না করেই কাজ ফেলে রাখায় বর্তমানে সামান্য বৃষ্টিতেই পাহাড়ি ঢল ও পানির তোড়ে ওই অংশ দিয়ে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী নড়বড়ে সাঁকো তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, কাজ শেষ না করেই সচল পুরোনো সেতু ভেঙে ফেলার প্রয়োজন কী ছিল?
১ দিন আগে
লামায় টানা ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে ঘুমন্ত শিশুসহ নিহত ৫
টানা চার দিনের ভারী বর্ষণের ফলে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় পাহাড় ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় এক শিশুসহ দুই পরিবারের ৫ জন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি মিশন পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— মো. ইউনুছ (২৮), তার স্ত্রী রানু আক্তার (২২) ও চার বছরের ছেলে মো. সোলেমান এবং অপর পরিবারের মো. জুয়েল ( ২৭) ও তার স্ত্রী কুলসুমা আক্তার (২৩)।
অন্যদিকে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের এক হাজার ঘরবাড়ি প্লাবিত ও পাহাড় ধসে পড়ে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। এছাড়া লামা-আলীকদম সড়কের কেয়ারারঝিরি, রেপারপাড়া আবাসিক ও লাইনঝিরি এলাকা ঢলের পানিতে ডুবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এ ছাড়াও, টানা ভারী বর্ষণে বিভিন্ন ইউনিয়নে চলতি মৌসুমের বীজতলা এবং বিভিন্ন ফসলাদি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সড়কের উপর পাহাড় ধসে পড়ে, সড়ক ধসে ও ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়ে অভ্যন্তরীণসহ লামা-আলীকদম সড়ক যোগযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, উজান থেকে নেমে আসা সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের পানি পৌর এলাকাসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নিচু এলাকায় ঢুকে পড়ে। এতে ওইসব এলাকার ঘরবাড়ি, দোকানপাট, সরকারি-বেসরকারি কার্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়।
মাতামুহুরী নদী, লামা খাল, বমু খাল, ইয়াংছা খাল, বগাইছড়ি খাল, ও পোপা খালসহ বিভিন্ন স্থানের পাহাড়ি ঝিরিগুলোতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে বিভিন্ন পেশাজীবির প্রায় ১২ হাজার মানুষ। কর্মহীন হয়ে বেকায়দায় পড়েছে ওইসব এলাকার শ্রমজীবি মানুষগুলো।
গত মঙ্গলবার সকাল থেকে শহরের দোকান ও ঘরবাড়ির মালামালসহ গৃহপালিত পশু নিরাপদে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বন্যা আক্রান্তরা।
এদিকে, প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসে প্রাণহানির আশঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে আশ্রয় নিতে বিভিন্ন মাধ্যমে মাইকিং শুরু করে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলো। এর পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা আশিকার উদ্যোগেও দুর্যোগ আগাম বার্তা ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দুর্যোগকবলিতরা আশ্রয় নিতে ৫৫ বিদ্যালয়কে অস্থায়ী আশ্রয়ন কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেয় প্রশাসন। এতে কয়েকশ পরিবার আশ্রয়ন নিয়েছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর নাগাদ মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হয়।
টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে ভয়াবহ বন্যাসহ পাহাড় ধসে আরও মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন আজিনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, অব্যাহত ভারী বর্ষণের ফলে আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়ায় আজ ভোর ৪টার দিকে পৃথকভাবে আচমকা পাহাড় ধসে মো. ইউনুছ ও জুয়েল এর বসত ঘরের ওপর পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করেন। কিন্তু ততক্ষণে দুই পরিবারের ঘুমন্ত ৫ সদস্য নিহত হন।
এর আগে, রাত দেড়টার দিকে ইউনিয়নের উত্তর পাড়ায় আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রেহানা বেগমের ঘরে পাহাড় ধসে পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক জানান, তার ইউনিয়নে ৫০টির মতো ঘরবাড়ি পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, পাহাড় ধসে ৫০টি ও ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে ১০০ ঘরবাড়ি। পানিবন্দি হয়েছে ১ হাজার পরিবার।
ফাসিয়াখালী ইউনিয়নে ব্যাপক হারে পাহাড় ধসে ঘরবাড়ি ও রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয় বলে জানান ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জিয়াবুল হক।
এছাড়া গজালিয়া, সরই, রুপসীপাড়া ইউনিয়নেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানা গেছে।
পাহাড় ধসে পাঁচজন নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কাইছার হামিদ বলেন, পাহাড় ধসে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক।
এ বিষয়ে লামা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, টানা বর্ষণের শুরুতেই ঢলের পানিতে ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ পৌরবাসিদের যথাসময়ে নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়। শুধু তাই নয়, বাড়ি বাড়ি গিয়েও তাগাদা দেওয়া হয়। এরপরেও পাহাড় ধসে আজিজনগরের মিশন পাড়ায় শিশুসহ ৫ জন নিহত ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে এক হাজারের মত দোকানপাট-ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রসহ বন্যাকবলিতদের মাঝে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়। মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল না থাকায় ও রাস্তা-ঘাট ভেঙে তছনছ হওয়ার কারণে আজ পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি।
৮ দিন আগে
বান্দরবানে ট্রাক খাদে পড়ে নিহত ২
বান্দরবানের লামা উপজেলায় লাকড়িবোঝাই একটি ট্রাক পাহাড়ি খাদে পড়ে চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী–লামা সড়কের ইয়াংছা টার্নিং পয়েন্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ইয়াংছা কালিরঝিরি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদেরের ছেলে ট্রাকচালক মো. আলমগীর (৩৫) এবং পোয়াংবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪৫)। এ ঘটনায় ঠান্ডাঝিরি এলাকার পুতিয়া নামের এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বনপুর এলাকা থেকে লাকড়ি বোঝাই করে একটি ট্রাক ইয়াংছার দিকে যাচ্ছিল। পথে ট্রাকটি ইয়াংছা টার্নিং পয়েন্টে পৌঁছালে চালক ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে ট্রাকটি প্রায় ২০০ ফুট নিচে খাদে পড়ে যায়।
এ সময় ট্রাকে থাকা চালক মো. আলমগীর ও আনোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রাত ১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল জানান, কারও কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রাথমিক সুরতহাল শেষে শুক্রবার সকালে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২৫ দিন আগে
লামায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যু
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় টমটম গাড়ির চাপায় মো. আশেক নামের ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৫ মে) ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের গুলিস্তান বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
শিশু মো. আশেক গুলিস্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা প্ল্লী চিকিৎসক মো. রাসেলের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, আশেক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির উঠানে ফুটবল নিয়ে খেলা করছিল। এ সময় ফুটবলটি বাড়ি সংলগ্ন রাস্তার ওপর পড়ে। ফুটবলটি আনতে গেলে মালুমঘাটগামী একটি টমটম গাড়ির চাপায় গুরুতর আহত হয় শিশুটি। পরে স্থানীয়রা তাকে মালুমঘাট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মো. আশেককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
আরও পড়ুন: সিলেটে এপ্রিলে ২৯ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩০, আহত ৪২
এক পর্যায়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় মারা যায় শিশু আশেক।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৪৩৭ দিন আগে
বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণ: ঘুরে আসুন দ্বিতীয় সাজেক
পর্বত, অরণ্য ও সমুদ্রপ্রেমী এই তিন শ্রেণির পরিব্রাজকদের জন্য সেরা গন্তব্য হচ্ছে বান্দরবান। অতিকায় উচ্চতার নিঃসীম শূন্যতা উপভোগ করতে করতে সবুজ বনে ঢাকা পাহাড়ি রাস্তা ট্রেকিং করা নিঃসন্দেহে কষ্টসাধ্য। এরই মাঝে দু-একটি সুদৃশ্য ঝর্ণা যেন বিস্ময়ের অববাহিকায় দিয়ে যায় রোমাঞ্চকর পরশ। চূড়ায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সেই অনন্ত শূন্যতার সঙ্গে আলিঙ্গনটা যেন এত কষ্টের স্বার্থকতা এনে দেয়। এর সঙ্গে দৃষ্টিসীমানায় ফেনিল সাগরের দৃশ্য জুড়ে দিলেই তা মিলে যাবে মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণ অভিজ্ঞতার সঙ্গে। দ্বিতীয় সাজেক নামে পরিচিত এই জায়গাটি ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে পর্যটকদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক দর্শনীয় স্থানটির বৃত্তান্ত।
মিরিঞ্জা ভ্যালির অবস্থান
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলা বান্দরবানের অন্তর্গত লামা উপজেলা। অপরদিকে,কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে আলীকদম সড়কে লামার অবস্থান। এই উপজেলারই অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর মিরিঞ্জা ভ্যালি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ভ্যালির অবস্থান প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট উঁচুতে।
মিরিঞ্জা ভ্যালির ইতিহাস ও বিশেষত্ব
সরাসরি ভ্যালির ইতিহাস বা এর নামকরণের উৎপত্তি নিয়ে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সের গোড়াপত্তন হয়েছিল ২০০৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রায় ১৬ একর পাহাড়ি ভূমিকে ঘিরে। এর আগেও কতিপয় ট্রেকারদের আনাগোনা থাকলেও এই কমপ্লেক্সই মূলত স্থানটির জনপ্রিয়তা সৃষ্টি করে। মিরিঞ্জা পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তের চূড়ায় ইট পাথরে নির্মাণ করা হয় বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজের ভাস্কর্য,যার উদ্বোধন হয় ২০০৫ সালের ১৯ এপ্রিল।
এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো পাহাড় ও মেঘের অসাধারণ মিথস্ক্রিয়া। এই কারণে পর্যটনকেন্দ্রটিকে বর্তমানে দ্বিতীয় সাজেক ভ্যালি হিসেবে অভিহিত করা হয়।
আরো পড়ুন: হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
ঢাকা থেকে বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালি যাওয়ার উপায়
মিরিঞ্জা যাওয়ার জন্য প্রথমত রাজধানী ঢাকার রাজারবাগ,ফকিরাপুল বা সায়েদাবাদ থেকে কক্সবাজারের বাস ধরতে হবে। অতঃপর গন্তব্যের আগেই নেমে যেতে হবে চকরিয়া বা চিরিঙ্গা বাস টার্মিনালে।
এছাড়া কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রেলপথে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যাওয়া যায়। অতঃপর বাসে করে সরাসরি চকরিয়া বাস টার্মিনাল।
দ্রুত সময়ে যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারের ফ্লাইট ব্যবহার করা যেতে পারে। তারপর কক্সবাজার থেকে বাসে করে চকরিয়া পৌঁছাতে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে।
চকরিয়া থেকে লামা-আলীকদম সড়ক ধরে মিরিঞ্জা ভ্যালিতে যাওয়ার সিএনজি, জিপগাড়ি বা লোকাল বাস পাওয়া যায়। এই পরিবহনগুলো লামা-আলীকদম পথে মিরিঞ্জা পাহাড়ের পাশে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে ১০ মিনিট হাঁটার দূরত্বে ভ্যালির অবস্থান।
আরো পড়ুন: থাইল্যান্ডের ফুকেট ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
যারা ট্রেকিং করতে ইচ্ছুক তাদের চকরিয়া থেকে চান্দের গাড়িতে করে মুরুম পাড়া পর্যন্ত আসতে হবে। এখান থেকে পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে ভ্যালি পর্যন্ত ২০ মিনিটের একটি সহজ ট্রেকিং পথ আছে।
চান্দের গাড়িগুলো মিরিঞ্জা পাড়া পর্যন্তও যায়, যেখানে মেইন রোড থেকে ভ্যালি মাত্র ১০ মিনিট হাঁটা পথ।
মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণে কী কী দেখবেন
পাহাড়ি রাস্তা বা ঝিরিপথ পেরিয়ে চূড়ায় আরহণের পর দূরে দেখা যায় মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স এবং সাঙ্গু নদীসহ বিশাল পাহাড়জুড়ে বিস্তীর্ণ সবুজ বনভূমি। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য এই চূড়া উপযুক্ত একটি স্থান। এখান থেকে দিগন্তরেখায় কক্সবাজার অংশের বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলরাশি চোখে পড়ে। সেই সঙ্গে দৃশ্যমান হয় লাইট হাউস,যার ক্ষীণ আলোয় সরু রেখায় আলোকিত হয়ে ওঠে পৃথিবীর দীর্ঘতম সৈকত।
মুগ্ধতার পরিসর আরও একটু বাড়িয়ে দিয়ে কখনো কখনো সেই রেখায় ভেসে ওঠে একটি দুটি জাহাজ। পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তের টাইটানিক জাহাজের কাঠামোটিও এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পর্যটনকেন্দ্রের কাছেই উপজেলা শহরে ম্রো, ত্রিপুরা, ও মারমাসহ মোট ১১ জনগোষ্ঠির বসবাস।
আরো পড়ুন: থাইল্যান্ডের গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের চিয়াং মাই ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণের সেরা সময়
বর্ষাকালের শেষ থেকে শরৎকাল পর্যন্ত প্রায় সারাদিনই পরিষ্কার আকাশে শুভ্র মেঘের খেলা দেখা যায়। পাহাড়ের চূড়া থেকে এই দৃশ্য দেখার অনুভূতির কোনো বিকল্প হয় না। তবে এ সময়টাতে পাহাড়ি পথ বেশ পিচ্ছিল থাকে। ট্রেকিং পথ খুব একটা দুর্গম না হলেও উষ্ণ মৌসুমের ফলে পুরো যাত্রাটা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই এখানে আসার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে শীতের শুরু, তথা নভেম্বর মাস। এ সময় কুয়াশার ঘনঘটা তেমন থাকে না, বিধায় পাহাড়ের উপরের দৃশ্যগুলো ভালোভাবে দেখা যায়।
৬০৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় নতুন অতিথি ৬ ক্যাঙ্গারু, ৬ লামা
সাদা বাঘের জন্য ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিল চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। এবার এই চিড়িয়াখানায় যুক্ত হলো হল্যান্ড থেকে আনা ছয়টি ক্যাঙ্গারু ও ছয়টি লামা।
শুক্রবার (২১শে অক্টোবর) ভোর ৫টায় এসব নতুন প্রাণী চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় পৌঁছে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বর্তমানে শতাধিক প্রজাতির অর্ধসহস্রাধিক পশু ও পাখি আছে।
১৩৬৪ দিন আগে
লামায় যুবককে ‘গুলি’ করে হত্যা
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বান্দরবানের লামা উপজেলায় এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
উপজেলারা রূপসীপাড়া ইউনিয়নের অংহ্লাপাড়ায় সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত মংক্যচিং মার্মা (৩৫) রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালীয়া এলাকার বাসিন্দা।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ কর্মীকে গুলি করে হত্যা
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, মংক্যচিং সোমাবার অংহ্লা পাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। রাত দেড়টার দিকে ছয় জন অস্ত্রধারী পাহাড়ি সন্ত্রাসী বাড়িটিকে ঘিরে ফেলে। পরে তারা ঘরের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ও বেড়াতে আসা জামাইকে গুলি করে হত্যা করে। এসময় সন্ত্রাসীরা তিন/চার রাউন্ড ফাকা গুলি করে পালিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: রাঙ্গামাটিতে যুবককে গুলি করে হত্যা
ওসি জানান, কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
১৬৫৫ দিন আগে
বান্দরবানে প্রবাসীর গর্ভবতী স্ত্রীকে ধর্ষণ, ভাসুরের বিরুদ্ধে মামলা
বান্দরবানের লামায় বেঁধে মারধর করে ধর্ষণের অভিযোগে এক প্রবাসীর গর্ভবতী স্ত্রী তার ভাসুরসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের বৈদ্যভিটা এলাকায় ওই নারী বাথরুমের উদ্দেশ্যে বাইরে বের হলে এ ঘটনা ঘটে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা তাকে জোর করে বাড়ির পেছনে নিয়ে যায় এবং তার দুই সন্তানকে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রাখে। স্বামী প্রবাসী হওয়ায় বাড়িতে শুধু সন্তানদের নিয়ে থাকতেন ওই নারী।
ভুক্তভোগী জানান, ঘরে তালা লাগানোর আগে দুর্বৃত্তরা বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারও নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ফরিদগঞ্জে শিশু ধষর্ণ মামলায় যুবকের ৫ বছরের কারাদণ্ড
বৃহস্পতিবার সকালে তার দুই সন্তানের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা তাকে অচেতন অবস্থায় একটি গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায়। এরপর তারা পুলিশে খবর দেন।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ওই নারী তার স্বামীর সৎ ভাই জয়নাল আবেদীন ও অপর এক অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে লামা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বৃহস্পতিবার মামলা করেছেন।
তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ওসি।
আরও পড়ুন: হিলিতে শিশু ধষর্ণের অভিযোগ কিশোর আটক
১৬৬৬ দিন আগে
বান্দরবানে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে ইউনিয়নের বাঙালিপাড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলেন, কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার লইক্ষ্যাচর ইউনিয়নের জিদ্দাবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. ইছাকের ছেলে মো. এনাম (৪৫) ও নবী হোসেনের ছেলে মো. শহীদ (১৮)। তারা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা হন।
আরও পড়ুন: ১০ বছরে বজ্রপাতে দুই হাজার ৮০০ মৃত্যু: মো. এনামুর
ফাইতং ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন জানান, মো. এনাম ও তার ভতিজা মো. শহীদ ফাইতং ইউনিয়নের বাঙালিপাড়ায় ধানের চাষ করে। ধান পাহারা দেয়ার জন্য গাছের উপরে তৈরি করা মাচাং ঘরে রাতে অবস্থান করে ফসল পাহারা দিতে যায় তারা। সোমবার রাত ১১টার দিকে আচমকা প্রবল বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত হলে এনাম ও শহীদ ঘটনাস্থালে মারা যান।
আরও পড়ুন: জামালপুরে বজ্রপাতে নিহত ৩
এদিকে, একই সময় বজ্রপাতে উপজেলার লামা সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা বাসুকুমার দের তিনটি ও মেরাখোলা মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা আব্দুর রহমানের একটি গরু মারা যায় বলে জানান চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: হাওরে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে জেলে নিহত
১৭৩৮ দিন আগে