বিরোধী দল
বিটিভি ও সংসদ টিভিতে সরকার ও বিরোধী দলের সংবাদ আনুপাতিক হারে প্রচারের নির্দেশ
বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও সংসদ টেলিভিশনে সরকার ও বিরোধী দলের সংবাদ আনুপাতিক হারে প্রচারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিটিভি ও সংসদ টিভিতে আনুপাতিক হারে নিউজ প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে। গত ছয় মাসে সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে কোনো গোয়েন্দা সংস্থা গণমাধ্যমকে ফোন করেনি।
ইয়াসের খান চৌধুরী আরও বলেন, গত ছয় মাসে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত ঘটনা ঘটেনি। তবে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক সংবাদ প্রচার করা ঠিক নয়।
৯ দিন আগে
বিরোধী দল অযৌক্তিকভাবে রাস্তায় নেমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে: ডা. জাহেদ
জ্বালানি সংকট নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং জনগণের জীবন সহজ করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘অহেতুক সরকারকে দায় চাপানো ঠিক হবে না। জ্বালানি সংকট দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা। বিরোধী দল অযৌক্তিকভাবে রাস্তায় নেমে জনগণের ভোগান্তি তৈরি করছে।’
বিরোধী দলকে রাজপথে কর্মসূচি দিয়ে জনদুর্ভোগ না বাড়িয়ে সংসদে গিয়ে সরকারের ভুল-ত্রুটি ও পরিকল্পনা তুলে ধরার আহ্বান জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, যুক্তিনির্ভর সমালোচনা ও গ্রহণযোগ্য প্রস্তাবই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বেশি কার্যকর।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, নজরুলকে শুধু প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিটি স্কুলে শিশুদের বয়স উপযোগী করে তাঁর সাহিত্য, চিন্তা ও দর্শন নিয়ে চর্চা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘একটা কম্পিটিশন বাচ্চাদের মধ্যে আসলে এটা আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য না। যারা স্কুলের প্রধান বা শিক্ষা কর্মকর্তা বা প্রশাসনে আছেন, তারা এই বার্তাটা পৌঁছে দেবেন, যাতে প্রতিটা স্কুলে যেন নজরুলকে নিয়ে তার বয়স উপযোগী কিছু চর্চা হয়।’
এ সময় নজরুলের চিন্তা ও দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন নজরুল কেন এই আলাপটা খুবই জরুরি, যে দলটা এখন ক্ষমতায় আছে সে দলের রাজনীতি হচ্ছে মধ্যপন্থী, উদার গণতন্ত্র। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘একেক জনের একেক রাজনৈতিক মতাদর্শ আছে। আমাদের দেশেই যারা এখন কাজ করছে, তাদের নানান রকম মতাদর্শ আছে। এখন বিএনপি মতাদর্শটা ধারণ করে, কারণ বিএনপি মনে করে এই মতাদর্শই একটা রাষ্ট্রের জন্য, জনগণের জন্য কল্যাণকর।’
নজরুলের উদার, মধ্যপন্থী ও গণতান্ত্রিক চিন্তার প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘নজরুলের মতো একজন উদার মধ্যপন্থী গণতান্ত্রিক মানুষ শাসনের হয় না এবং তাত্ত্বিকভাবে না। উনি সব করে করে দেখেছেন, উনি কী করেন, উনি সব কিছু করেছেন।’
নজরুলের সৃষ্টির বৈচিত্র্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উনি যদি গানের দিকে তাকাই, গানের রেঞ্জ যদি আমরা দেখি, যিনি হামদ-নাত থেকে শুরু করে কীর্তন পর্যন্ত লিখেছেন, এই রকম একটা মানুষকে আমরা শিশুদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।’
তিনি বলেন, ‘একটা কবিতা শিখলে আমাদের প্রবণতা আছে, সে একটা প্রাইজ পাবে, বাবা-মাও আগ্রহী, একটা আবৃত্তি বা গান শিখিয়ে দিলাম। আমি মনে করি নজরুল বর্ষের মূল স্পিরিট এই আনুষ্ঠানিকতাগুলো না, মূল স্পিরিট হচ্ছে, নজরুলকে সামনে নিয়ে আসা।’
‘নজরুল কী করেছে, নজরুল কেমন ছিলেন, নজরুলের বিভিন্ন দিক, তার চিন্তা, তার দর্শন—এগুলো বয়স উপযোগী করে কথাবার্তা বা আলোচনা যেন চলে,’ বলেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো কম্পিটিশন হলেই সেটা নিয়ে আমরা কেয়ারফুল হবো, সেটা যেন না হয়। প্রতিটা স্কুল, প্রতিটা সমাজের বিভিন্ন জায়গা থেকে যেন এই চর্চাগুলো সবসময় হয়। রাষ্ট্রের জন্য, জনগণের জন্য সেটাই ভালো হবে।’
বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব দীপংকর বিশ্বাস, ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান প্রমুখ।
১৬ দিন আগে
দেশের একমাত্র গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটিও ধ্বংস করে গেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের একমাত্র গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটিও ধ্বংস করে গেছে। সব সংকট মোকাবিলা করে দ্রুত গ্যাস সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত সুবিধাবঞ্চিতদের সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল আগের মত ভূমিকা পালন করে হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন। তারা গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, তারা সব সংকটের এখনই সমাধান চান। সরকারকে নানাভাবে টেনে ধরার চেষ্টা করছে তারা।
মির্জা ফখরুল বলেন, ২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে চার হাজার ছাত্র, নারী ও শিশুকে জুলাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছিল ফ্যাসিস্ট সরকার। গত ১৭ বছর লাখ লাখ মামলা, গুম, খুন নির্যাতনের রেকর্ড করেছিল ওই সরকার। দেশের মানুষ এখন শান্তির নিঃশ্বাস ফেলছে।
মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধে আমাদের প্রায় চার বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতিও পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণে ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে।
এ সময় তিনি সব সংকট মোকাবিলা করে দ্রুত গ্যাস সংকট সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
রংপুরে লাভ শেয়ার বিডি সংস্থার সুবিধাবঞ্চিত ২৫ জন ব্যক্তির হাতে চা-ঘর তুলে দেওয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, রংপুরের মানুষ আমরা কিছুই বুঝি না, বিএনপি থাকলে জাতীয় পার্টিকে ভোট দেই, জাতীয় পার্টি থাকলে অন্য দলকে ভোট দেই, আমাদের উন্নয়ন হবে কেমন করে! প্রধানমন্ত্রী উত্তরাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে চান। সে ব্যাপারে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
জিনিসপত্রের দাম একটু বেড়েছে, যখন আমদানি করা হয় তখন এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কথা বলতে পারতেন না, লিখতে পারতেন না, এখন যা খুশি তাই লিখতে পারছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিরোধী দল যে ভাষায় কথা বলে তা কিন্তু গণতন্ত্র নয়। আমরা উন্নয়ন কাজ শুরু করেছি, আমরা এগিয়ে যেতে চাই, দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।
অনুষ্ঠানে লাভ শেয়ার বিডি এর নিজস্ব অর্থায়নে ‘সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প’ উদ্বোধন করা হয়। এ সময় ২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির মাঝে ২৫ টি চা-ঘর হস্তান্তর করা হয়।
লাভ শেয়ার বিডির চেয়ারম্যান জাহিদ খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ও রাষ্ট্রদূত মুসফিকুল ফজল আনসারি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শামসুজ্জামান সামু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ও রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
২৫ দিন আগে
সংবিধান সংশোধনীর বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল থেকে ৫ জনকে চেয়েছেন আইনমন্ত্রী
সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল থেকে ৫ জনের নাম চেয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার আগে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি এ কথা জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত যে সাংবিধানিক চর্চা চলে আসছে, সেটিই এখানে অনুসরণ করতে চান তারা। সেই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে তিনি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন, যা সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত হবে।
তিনি জানান, সংসদের রুল ২৬৬ অনুযায়ী ১২ সদস্যের একটি প্রাথমিক তালিকা ঠিক করা হয়েছে। এতে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ১২ জনের মধ্যে বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্যান্য দল থেকে পাঁচজন রাখা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিরোধী দলের অনুপাত প্রায় ২৬ শতাংশ হওয়ায় তাদের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম চাওয়া হয়েছে। বিরোধী দল যদি এই পাঁচজনের নাম দেয়, তাহলে মোট ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে।
বিরোধী দল নাম দিলে পরদিনই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা যাবে এবং সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদের আলোকে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় স্পিকার বলেন, ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ১২ সদস্যের একটি তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বিরোধী দলের কাছ থেকে পাঁচজনের নাম চাওয়া হয়েছে। এভাবে ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। বিরোধী দল দ্রুত তালিকা দিলে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগোবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে চিফ হুইপ তার সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে তাদের মধ্যে ধারণাগত পার্থক্য রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের দল ‘সংস্কার’ চায়, কিন্তু এখানে ‘সংশোধন’-এর প্রস্তাব এসেছে। এ জায়গায় আগেও মতপার্থক্য ছিল, এখনও রয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরে মতামত জানাবেন বলে জানান তিনি।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের অবস্থানে তাদের কোনও আপত্তি নেই। তারা অপেক্ষা করতে প্রস্তুত এবং জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যাবেন। প্রয়োজনে পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতেও তাদের আপত্তি নেই।
১২৭ দিন আগে
সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগে সহযোগিতা করছে না বিরোধী দল: মাহদী আমিন
দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রমে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা না করে বিরোধী দল উল্টো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। বর্তমান সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।
মাহদী আমিন বলেন, ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময় এবং গত প্রায় দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বহুমুখী অপপ্রচারে লিপ্ত থাকলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য সচেতন নাগরিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে শক্ত অবস্থান নিয়ে এসব মিথ্যাচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই জন্য গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম, এই অল্প সময়ের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় সরকার যে সমস্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, বিরোধী দল সেই কাজের জন্য সামগ্রিকভাবে সহযোগিতা করবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, তারা সেটি না করে সংসদে হট্টগোল করা, রাজপথে আন্দোলনের হুমকি, গুজব-অপপ্রচার ছড়ানোসহ বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রার পথে প্রতিবন্ধকতা।
তিনি আরও বলেন, গতকাল বর্তমান সরকারের মেয়াদ দুমাস পূর্ণ হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই সরকার নির্বাচনের আগে ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার দুর্বার গতিতে অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে। প্রতিটি সেক্টরে এবং গণমানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ১৮০ দিনের যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তা এক অবিস্মরণীয় অর্জন। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে গত দুমাসে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের ও প্রতিটি নাগরিকের অগ্রযাত্রা নিশ্চিতে যেসব কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার মধ্যে ৬০টি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
এরপর সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত দুই মাসে নেওয়া ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের তালিকাও উপস্থাপন করেন তিনি। সেগুলো হলো:
১. প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পাইলট প্রকল্প শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।
২. প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দেশের কৃষক কৃষাণীর জন্য ১০টি সুবিধা ও নগদ অর্থায়ন সংবলিত ‘কৃষক কার্ড’ প্রচলন করা। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০টি জেলার ২২ হাজারেরও বেশি প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষককে এই কার্ড দেওয়া হয়েছে।
৩. প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।
৪. সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায়, অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই করে আবার সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। সবচেয়ে বেশি গুম, খুন, মানবাধিকার হরণের শিকার দল হিসেবে বিএনপি এগুলো বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।
৫. সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল এবং জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় এই কাজ শুরু করা হয়েছে।
৬. বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও সরকার জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
৭. জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সোলার বা সৌরশক্তি ব্যবহার করে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
৮. জ্বালানি নেওয়ার জন্য ফুয়েল কার্ডের পাইলটিং প্রজেক্ট ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে।
৯. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের একটি অগ্রাধিকার। প্রতিকূল বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে পবিত্র রমজান মাসে এবং এখনও অন্যান্য বছরের তুলনায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
১০. ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজক ও পালকরা মাসিক সম্মানি পাচ্ছেন। এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সব মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
১১. ঈদুল ফিতরের সময় সারা দেশে অসহায় ও গরিবদের ত্রাণ ও উপহার বিতরণ করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইসলামিক স্কলার ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে জাকাত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১২. শিগগিরই প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১৩. বিগত সময়ের তুলনায় হজযাত্রার খরচ টিকিটপ্রতি ১২ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতেই ‘নুসুক হজ কার্ড’ দেওয়া হয়েছে।
১৪. দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে শূন্যপদ চার লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। শূন্যপদ পূরণে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
১৫. পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রাধান্য পাচ্ছে চিনিকল, রেশম ও পাটশিল্প।
১৬. স্বল্প ব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাইটেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা প্রস্তুত করে সেখানে সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইকোসিস্টেম তৈরি শুরু করা হয়েছে।
১৭. সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অধিকতর শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একগুচ্ছ বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তর। এ লক্ষ্য অর্জনে খাতভিত্তিক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
১৮. অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে নিতে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
১৯. বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০. প্রায় ১৮ বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কোনো শ্রমিককে হাহাকার করতে হয়নি। শ্রমিক, মালিক, সরকার ও অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনার ভিত্তিতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকিং সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ঈদের আগেই বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধাদি পরিশোধ করা হয়েছে।
২১. দীর্ঘদিন পর আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুই দেশের অভূতপূর্ব যৌথ বিবৃতিতে উঠে এসেছে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও প্রবাসীদের জনকল্যাণ।
২২. বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে ইউরোপের সাতটি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২৩. দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর অংশ হিসেবে সরকার বিদেশে অধিক সংখ্যক জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে। দক্ষ এবং আধা দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দিয়ে অভিবাসনের পরিমাণ এবং গুণমান উভয়ই বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে দেশজুড়ে কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং কারিগরি শিক্ষায় বহুভাষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির কারিকুলামে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
২৪. উত্তরবঙ্গকে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের ‘হাব’ বা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২৫. পেপ্যাল ও অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ের কার্যক্রম বাংলাদেশে শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১৩৮ দিন আগে
সংসদ থেকে আবারও বিরোধী দলের ওয়াকআউট
যৌক্তিক বাধা সত্ত্বেও সংসদে পাস হওয়া গণবিরোধী বিলের দায় এড়াতে ফের জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছে বিরোধী দল।
ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ৫টা ৫৬ মিনিটে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।
বিলগুলো পাস হওয়ার পর সংসদে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, বিরোধীদলের যৌক্তিক বাধা স্বত্ত্বেও যে কয়টি গণবিরোধী বিল আজকে পাস হয়েছে। আমরা তার দায় নিতে চাই না। এই জন্য আমরা এখন সংসদ থেকে ওয়াকাআউট করছি।’ এরপরই জোটের সংসদ সদস্যদের নিয়ে অধিবেশন থেকে বের হয়ে যান তিনি।
বিরোধীদের এ পদক্ষেপের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি ধন্যবাদ জানানোর জন্য উঠছি। আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ফাস্ট রিডিং, সেকেন্ড রিডিং, থার্ড রিডিং, সব রিডিংয়ে উনারা সহায়তা করেছেন। কেউ কেউ হাত তুলে সমর্থনও দিয়েছেন। সমস্ত প্রক্রিয়া অংশগ্রহণের পরে ওয়াকআউটের কোনো মানে আছে কিনা এটা জানার জন্য। সমস্ত প্রক্রিয়া তারা অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি মাগরিবের নামাজের পর তারা আবার অংশ নেবেন।
এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিরোধিতা করে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের প্রশ্নে সংসদে আলোচনা হলেও তা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ওয়াকআউট করেছিল বিরোধী দল।
১৪৭ দিন আগে
জাতীয় স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজের আহ্বান স্পিকারের
সরকার ও বিরোধী দল উভয়কে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নবনির্বাচিত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের প্রথম অধিবেশনে তিনি এ আহ্বান জানান।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্পিকার বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর পর জনগণ নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে। চ্যালেঞ্জিং এই পরিস্থিতিতে চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
সংসদ সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। একইসঙ্গে জাতীয় সংসদে প্রথমবার বিরোধী দলের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকেও অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে জনগণের পক্ষে কাজ করার জন্য আপনারা মহান সংসদে এসেছেন। এটি একটি মহৎ দায়িত্ব এবং গৌরবের বিষয়। দেশপ্রেমের সুমহান মন্ত্র বুকে ধারণ করে দেশমাতৃকার তরে অঙ্গীকার পালন করলে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল হবে।
জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, গণতন্ত্রের ভিত সুদৃঢ়করণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ ও নিরলস প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ, এই হোক আমাদের মূলমন্ত্র। এই দেশের গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী হল জনগণ আর এই সংসদ গণতন্ত্রের প্রতীক।
স্পিকার বলেন, জনগণ সংসদের কার্যক্রম দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়পক্ষ জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করবে বলে আশা করেন তিনি।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পিতবার বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরু হয়।
সংসদ নেতা তারেক রহমানের অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবে দলের পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সায় দেন।
পরে সভাপতি মোশাররফ হোসেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নাম ঘোষণা করেন। নিরপেক্ষতার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে এ সময় পদত্যাগ করেছেন বলেও জানান হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
১৭৫ দিন আগে
বিরোধী দলকে নিষিদ্ধ করতে চায় আ. লীগ: ড. মঈন
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নিজেদের ক্ষমতা আরও পাকাপোক্ত করতে বিরোধী দলগুলোকে নিষিদ্ধ করতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।
রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
মঈন খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য বিচার বিভাগ ও সংসদ উভয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা এখন বিরোধী দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। এটাই আওয়ামী লীগের মানসিকতা।’
আরও পড়ুন: জনসমর্থন নেই বলেই সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা হবে: মঈন খান
তিনি আরও বলেন, ‘মূল কথা হলো, এই শাসকগোষ্ঠী গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না বলেই দেশের বিরোধী দলগুলোকে নিষিদ্ধ করতে চায়।’
আওয়ামী লীগের বিপরীতে বিএনপি শুধু ক্ষমতায় না গিয়ে দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করে বলে দাবি করেন তিনি।
বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘গত দেড় বছর ধরে আমরা যে আন্দোলন করছি তা কেবল দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য। আমরা ক্ষমতার লোভ করি না।’
তিনি বলেন, তাদের দলের লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতার পরিবর্তন আনা। যাতে দেশের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরে আসে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আরও বলেন, জনগণের অর্থ লুটপাট, সম্পদ ও সম্পদ কুক্ষিগত করা এবং বিদেশে অভিজাত এলাকায় দ্বিতীয় বাড়ি গড়ে তোলার অধিকার বাংলাদেশের জনগণ কোনো রাজনৈতিক দলকে দেয়নি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সেই কারণে স্বাধীন হয়নি।’
এর আগে বিএনপির সহযোগী সংগঠন বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঈন খানের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী তাঁতি দলের নেতা-কর্মীরা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
তারা সেখানে জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোজাজাত করেন।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মঈন বলেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে প্রতিটি আসনের জন্য সরকার আগে থেকেই বিজয়ী বাছাই করে ফলাফল পূর্বনির্ধারিত ছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণে দেশের মানুষ নির্বাচন বর্জন করেছে।’
আরও পড়ুন: জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদ বা সরকার গঠিত হয়নি: ড. মঈন
তিনি বলেন, সরকার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে বলেই এদেশে গণতন্ত্র নেই।
বিএনপি নেতা বলেন, ‘এমনকি প্রধান প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও ম্যাগাজিনগুলোও বলছে- বাংলাদেশে বাকশাল-২ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির ‘শান্তিপূর্ণ’ সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হামলা বিরোধী দলের উপর সরকারের দমন-পীড়ন বলেও মন্তব্য করেন ড. মঈন।
মঈন বলেন, ‘এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। সেই দমন-পীড়নের মাধ্যমে সরকার আবারও এ দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। সুতরাং ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ ও সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না।’
ড. মঈন বলেন, দেশের এই ক্রান্তিকালে তাদের দল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, গরিবের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং পাকিস্তানিদের স্বৈরাচার ও শোষণ থেকে মুক্তি পেতে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশের মানুষ দেশ স্বাধীন করেছে।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্রকে মুছে ফেলে, ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে।’
আরও পড়ুন: আ. লীগ সরকার ‘তাসের ঘরের মতো’ ভেঙে পড়বে: মঈন খান
৯২৮ দিন আগে
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত বিরোধী দল রাজপথ ছাড়বে না: বিএনপি
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত বিরোধী দল রাজপথ ছাড়বে না।
তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ছাড়া অন্য কোনো ব্যবস্থা থাকবে না।’
শনিবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীতে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বিএনপির এই নেতা এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে বন্দুকের জোরে দেশ শাসন করছে।
আরও পড়ুন: বিএনপির নতুন কর্মসূচি আসছে: রিজভী
মঈন খান বলেন, ‘এখন শুধু আমরাই বলছি না, ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রহসনের নির্বাচন নিয়ে সারা বিশ্বের মিডিয়ার দিকে তাকান, বিভিন্ন দেশের বিবৃতির দিকে তাকান। প্রহসনের নির্বাচন নিয়ে আমরা গণতান্ত্রিক বিরোধী দলগুলো গত কয়েক বছর ধরে যা বলে আসছি, তারাও তারই প্রতিধ্বনি করেছে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, দেশে-বিদেশে এটা প্রতিষ্ঠিত যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র এখন মৃত।
তিনি বলেন, দলের একমাত্র লক্ষ্য বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। ‘ইনশাল্লাহ আমাদের গণতন্ত্রের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।’
প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে নাগরিক ঐক্যের গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে দেশের প্রতিটি মানুষ যোগ দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব। এছাড়া তিনি বর্তমান সরকারকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
নাগরিক ঐক্য জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণতন্ত্রের পক্ষে ও ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধন করে।
আরও পড়ুন: জাতীয় নির্বাচন নিয়ে টিআইবির বক্তব্য 'জনমতের প্রতিফলন': বিএনপি
আয়োজকরা জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বিরোধী দলগুলোর দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে, জেলা ও উপজেলা এবং আন্তর্জাতিকভাবে সর্বস্তরের জনগণের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হবে।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আওয়ামী লীগ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্য নয় বলেই ৭ জানুয়ারি একতরফা প্রহসনের নির্বাচনের আয়োজন করেছে।
মান্না আরও বলেন, এজন্য আমরা এই স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচির আয়োজন করেছি। আমরা শুধু বাংলাদেশের ১০ কোটি ভোটার নয়, দেশের ১৭ থেকে ১৮ কোটি মানুষের কাছেও পৌঁছানোর চেষ্টা করব।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য আমাদের কর্মসূচি অফলাইন ও অনলাইন উভয় ক্ষেত্রেই অব্যাহত থাকবে।
মান্না বলেন, দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে গঠিত সরকারের নিন্দা জানাতে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে সারাদেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন তারা।
তিনি আরও বলেন, গণস্বাক্ষর কর্মসূচির পাশাপাশি অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে তাদের দল রাজপথে একযোগে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।
তিনি বলেন, স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে গিয়ে আমরা রাস্তা ছেড়েছি, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, ‘রাজপথের আন্দোলন জোরদার করতে আমরা স্বাক্ষর সংগ্রহ করছি। আমরা এমন একটি সংগ্রাম গড়ে তোলার চেষ্টা করছি যাতে দখলদারকে মাথা নত করতে বাধ্য করা যায়।’
আরও পড়ুন: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবে বিএনপি: মঈন খান
৯৫৭ দিন আগে
সংসদে বিরোধী দলে থাকতে চায় জাতীয় পার্টি: জিএম কাদের
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, তিনি বিরোধী দলে আছেন এবং থাকতে চান।
তিনি বলেন, ‘সংসদে আসার অনুভূতি সবসময়ই ভালো। সেই অর্থে আবার সংসদে আসতে পারাটা আনন্দের বিষয়।’
আরও পড়ুন: সরকার যেখানে যাকে জেতাতে চেয়েছে সে জিতেছে: জিএম কাদের
বুধবার (১০ জানুয়ারি) এমপি হিসেবে শপথ নেয়ার পরপরই জিএম কাদের নবনির্বাচিত সংসদে বিরোধী দল নিয়ে এ কথা বলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না নিয়মটা । কিন্তু আমরা বিরোধী দলে ছিলাম এবং বিরোধী দলে থাকতে চাই। আমরা জনকল্যাণমুখী এবং আমরা জনগণের জন্য যা ভালো তাই করতে চাই।’
নেতৃত্বের ব্যর্থতার অভিযোগে দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো পূর্বপরিকল্পিত বিষয়।
আরও পড়ুন: জাতীয় পার্টিকে ভোট দিন: জিএম কাদের
তিনি বলেন, ‘কিছু লোক আমাদের দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। যা করা হয়েছে তা সবার সঙ্গে আলোচনা করেই করা হয়েছে।’
এবার দল কম আসন পাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব সময় পরিস্থিতি একই থাকে না।
তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন সঠিক নির্বাচন ছিল না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটা ভালো ছিল। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের কর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে এবং ভোটকেন্দ্র দখল করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ‘বলির পাঁঠা’ করা হচ্ছে: জিএম কাদের
জিএম কাদের আরও বলেন, এই নির্বাচন আসলে তার দলের জনপ্রিয়তা বা জনগণের কাছে তার ভিত্তির প্রতিফলন ঘটায়নি।
জাতীয় পার্টি পেয়েছে মাত্র ১১টি আসন, যেখানে ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা পেয়েছিল ২৩টি আসন।
৯৬৭ দিন আগে