রোগী
সিরাজগঞ্জে রোগীকে ‘যৌন হয়রানি’, ওয়ার্ড বয় পলাতক
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী রোগীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড বয় করিম সরকারের (২৯) বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নারী ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত করিম উপজেলার কর্ণসূতি গ্রামের বাসিন্দা। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে তিনি হাসপাতালটিতে কাজ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জ্বরে আক্রান্ত এক নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নারী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ভোরে ওয়ার্ড বয় করিম তার শয্যার কাছে গিয়ে নাম-ঠিকানা জানতে চান। একপর্যায়ে ডেঙ্গু হয়েছে কি না জানতে চেয়ে তার শরীরে হাত দেন করিম। এ সময় ওই নারী চিৎকার করে তার মাকে ডাকেন। পরে বিষয়টি হাসপাতালের নার্সকে জানানো হয়।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রূপালী খাতুন জানান, এ ঘটনার পর তারাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, এর আগেও করিমের বিরুদ্ধে এক নারীর সঙ্গে একই ধরনের আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তখন বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) আব্দুল মুকিত হোসেন বলেন, ওই নারীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৭ দিন আগে
হবিগঞ্জে চিকিৎসক-নার্সদের মারধরের অভিযোগ
রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের মারধর এবং হাসপাতালের আসবাব ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, তানজিলা (২১) নামের এক রোগী স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি ছিলেন। সেখান থেকে তাকে সিলেটে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে রোগীর স্বজনরা তাকে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
তিনি আরও জানান, রোগীর শ্বাসকষ্ট থাকায় তাকে প্রথমে অক্সিজেন দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার জন্য আরও দুটি ওষুধের ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয় এবং একটি ওষুধ হাসপাতালে না থাকায় তার স্বজনদের বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয়। কিন্তু ওষুধ কিনে নিয়ে আসার আগেই রোগী মারা যান।
ডা. মোজাম্মেল জানান, রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে তার স্বজনরা আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মেডিকেল অফিসার ডা. মো. তরিকুল ইসলাম ও নার্সদের মারধর ও লাঞ্ছিত করেন। এ সময় তারা হাসপাতালের আসবাবও ভাঙচুর করেন।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানায় মৌখিকভাবে জানানো হলেও কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। ওই রোগী চার মাস আগে সন্তান প্রসব করেছিলেন। চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি হৃদযন্ত্রের জটিলতায় ভুগছিলেন।
হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাস জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৩ দিন আগে
মজুত থাকলেও রোগীকে দেওয়া হচ্ছিলো না স্যালাইন, নিজের টাকায় কিনে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে বলায় এক নার্সের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এরপর ওই রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কেনার টাকা ফেরত দেন তিনি।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি ও রান্নাঘর ঘুরে দেখে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
প্রায় এক ঘণ্টা পরিদর্শন শেষে তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ে গিয়ে অনুপস্থিত চিকিৎকদের মোবাইল নম্বরে ফোন করে ব্যাখ্যা চান সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে। এখানে স্যালাইন মজুত থাকার পরেও রোগীকে দেওয়া হচ্ছিল না। এছাড়া একজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। এসব বিষয় নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপকক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। খুব শিগগিরই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শয্যাসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে।
এ সময় নওগাঁ-০৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থ্যাপনা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ ম আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পালসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে বলায় এক নার্সের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এরপর ওই রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কেনার টাকা ফেরত দেন তিনি।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি ও রান্নাঘর ঘুরে দেখে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
প্রায় এক ঘণ্টা পরিদর্শন শেষে তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ে গিয়ে অনুপস্থিত চিকিৎকদের মোবাইল নম্বরে ফোন করে ব্যাখ্যা চান সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে। এখানে স্যালাইন মজুত থাকার পরেও রোগীকে দেওয়া হচ্ছিল না। এছাড়া একজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। এসব বিষয় নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপকক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। খুব শিগগিরই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শয্যাসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে।
এ সময় নওগাঁ-০৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থ্যাপনা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ ম আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পালসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৫৬ দিন আগে
দেড় বছর ধরে অচল সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স, ভোগান্তি চরমে
হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা ২৫০ শয্যার সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও দুর্গম হাওরাঞ্চল থেকে শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে এ হাসপাতালে আসেন। অথচ হাসপাতালের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় দেড় বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় জরুরি রোগী, প্রসূতি ও চিকিৎসকদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া রোগীদের পরিবহনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
জীবনরক্ষাকারী এ সেবা বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতিদিনই রোগীদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় রোগীদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হচ্ছে। এতে কয়েক হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক পরিবার চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া জোগাতে ধারদেনাও করতে বাধ্য হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। পরে এটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সচল করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে একটি পুরোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে আনা হলেও প্রয়োজনীয় মেরামতের অভাবে সেটিও এখন পর্যন্ত সেবায় যুক্ত করা যায়নি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক বলেন, আমার এক আত্মীয়কে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সদর হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলাম। পরে চিকিৎসক সিলেটে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে নিতে হয়েছে।
আরেক রোগীর স্বজন তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় রোগী নিয়ে আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া জোগাড় করতেই অনেক সময় চলে যায়। গরিব মানুষের জন্য এই খরচ বহন করা খুবই কঠিন।
জেলার সচেতন নাগরিকদের দাবি, হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত সদর হাসপাতালের জন্য নতুন সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ এবং বিকল্প অ্যাম্বুলেন্স চালুর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একটি অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে যেন কোনো রোগীর জীবন ঝুঁকিতে না পড়ে, সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, পুরোনো সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি অকেজো হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালে সরকারি কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই। একটি পুরোনো অ্যাম্বুলেন্স আনা হয়েছে, তবে সেটি এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
১০০ দিন আগে
সিলেটে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, দুই দিনে শনাক্ত ৩ রোগী
সিলেটে বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। চলতি বছরে সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৪ জন। এর মধ্যে গত দুই দিনে নতুন করে তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
শুক্রবার (১২ জুন) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সরকারি হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা তিনজন হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা। অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গু শনাক্ত হলেও সেসব তথ্য সরকারি হিসাবে আসছে না বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে, বর্ষার শুরুতেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। গত ৯ জুন থেকে ডেঙ্গু নিধনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে সিসিক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নাগরিক অসচেতনতা এবং মশা নিধনে গাফিলতির কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, এখনই যদি সচেতনতা সৃষ্টি করা না যায়, তাহলে ডেঙ্গু শীতকালেও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, মশারি ব্যবহার এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা—এসব অভ্যাসে এখনই মনোযোগ না দিলে সামনে শঙ্কা আরও বাড়বে।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রশিদ মুনির জানান, হাসপাতালের নতুন ভবনে ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে। এতে ডেঙ্গু রোগীর জন্য ২০টি শয্যা রয়েছে।
১২৮ দিন আগে
অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযাগ, রংপুরে চিকিৎসকের ওপর হামলা
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘চিকিৎসকের অবহেলায়’ দুর্ঘটনায় আহত এক বৃদ্ধ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) রাতে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা চিকিৎসকের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গতকাল (বুধবার) রাত ১০টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার খেজমতপুর বাজার এলাকায় হাইওয়ে সড়ক পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত হন আব্দুর রউফ (৮০) নামের এক পথচারী। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক ডা. নাজমুন নাহার ও কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা বাহারুল ইসলাম সময়মতো চিকিৎসা দেননি। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় অবহেলায় ফেলে রাখার কারণেই আব্দুর রউফের মৃত্যু হয়েছে।
রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকের ওপর চড়াও হন। এ সময় হাসপাতালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে ডা. নাজমুন নাহার বলেন, রোগীকে হাসপাতালে আনার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে রোগীর অবস্থা গুরুতর ছিল। আমাদের ওপর হামলার ঘটনাটি দুঃখজনক।
১৫৭ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে রোগীর ভিড়
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বাড়ছে। প্রতিদিনই এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালেও বেড়েছে রোগীর ভিড়। এমনকি শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে।
শুক্রবারও (২৭ জুন) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৩২ জন রোগী। এর মধ্যে পুরুষ ৬ জন, নারী ১৯ জন ও শিশু রয়েছে ৭ জন।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন ধরেই এডিস মশাবাহিত এই রোগটিতে আক্রান্ত হচ্ছেন সববয়সী মানুষ। এতে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ।
রোগীর সংখ্যা বাড়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে খোলা হয়েছে ডেঙ্গু কর্নার। তবে তাতেও রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু আক্রান্তের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে আজও ২ মৃত্যু
হাসপাতাল সুত্র জানা যায়, গত ১০ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২২৪ জন। এর মধ্যে অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়িতেও ফিরেছেন। আবার জটিল রোগীদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে জুন-জুলাই মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। পিটিআই, আরামবাগ, বালুবাগান, মিস্ত্রিপাড়া—এসব এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি।’
তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ-সরঞ্জাম আছে। চিকিৎসা দিতে কোনো সমস্যা নেই।
এ ছাড়া, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার এবং রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. মাসুদ।
৪৭৮ দিন আগে
দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও ৯
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার (১৪ মার্চ) সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। এ সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৯ জন।
শনিবার (১৫ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তি থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫জন, আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪ জন রোগী।
আরও পড়ুন: দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও ১৭
চলতি বছর আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৭৬ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ২৩ দশমিক ১ শতাংশ নারী।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১ হাজার ৭১৫ জন। এর মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী।
৫৮২ দিন আগে
বরিশাল শেবাচিমে রোগী দেখছেন না চিকিৎসকরা, দুর্ভোগ
পাঁচ দফা দাবি আদায়ে চলমান আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশালে বর্হিবিভাগে রোগী দেখা বন্ধ রেখেছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) চিকিৎসকরা। বুধবার (১২ মার্চ) সকাল থেকে এই কর্মসূচি শুরু করেছেন তারা। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা শত শত মানুষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার মানুষ এই হাসপাতালের বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নেয়। আজ সকালেও একইভাবে সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় আউটডোরের টিকিট বিতরণ।
কিন্তু দুইশ থেকে তিনশ টিকিট বিতরণের পর তা বন্ধ করে দেয় হাসপাতালের কর্মীরা। পরে জানা যায় যে ধর্মঘটে গেছে চিকিৎসকরা। বেলা ১০টা পর্যন্ত রোগী দেখার পর কক্ষ ছেড়ে চলে যান চিকিৎসকরা। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা পড়েন মহাদুর্ভোগে।
আরও পড়ুন: শাটডাউনের তৃতীয় দিনে অচল শেবাচিম ক্যাম্পাস
কর্মবিরতিতে অংশ নেওয়া চিকিৎসক মর্তুজা আলম বলেন, ‘কেন্দ্র ঘোষিত এই কর্মসূচি দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে। আমাদের এখানে দেরিতে খবর পৌঁছায় সকালে আউটডোরের রোগীদের টিকিট বিতরণ শুরু হয়ে যায়। যতগুলো টিকিট বিতরণ হয়েছে, তাদের চিকিৎসা দেওয়ার পরই আমরা কাজ বন্ধ করেছি। কেন্দ্র থেকে আসা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চিকিৎসা নিতে আসা রোগী নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকার তাসলিমা বেগম বলেন, ‘তারা ধর্মঘটে যাবেন; সেটা আগে বললেই পারতেন। হঠাৎ করে কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা বিপদে পড়েছি। সকাল থেকে এসে বসেছিলাম ডাক্তার দেখানোর আশায়। এখন না দেখিয়েই ফেরত যেতে হচ্ছে।’
একইভাবে আরো কয়েক শ’ রোগী ফেরত যান চিকিৎসা না পেয়ে।
হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান শাহিন বলেন, ধর্মঘটরত চিকিৎসকদের সাথে আলোচনা চলছে। আশাকরি খুব শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
৫৮৫ দিন আগে
রোগীদের প্রথম দল সোমবার চীন যাচ্ছেন
উন্নত চিকিৎসাসেবা নিতে বাংলাদেশি রোগীদের প্রথম দল সোমবার চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে। উন্নত চিকিৎসা সেবার দেওয়ার জন্য উভয় দেশের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রোগীরা দেশটিতে যাচ্ছেন।
প্রথম ব্যাচে ১১ জন রোগী থাকতে পারে জানিয়ে একজন কর্মকর্তা ইউএনবিকে বলেন, তারা ১০ মার্চ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন।
ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এদিন দুপুর ১২টায় বিমানবন্দরের সিআইপি বহির্গমন টার্মিনালে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন।
এ সময় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রোগী, চিকিৎসক ও ট্রাভেল এজেন্সির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, চীনের ইউনান প্রদেশের তিনটি শীর্ষ পর্যায়ের হাসপাতালকে বিশেষভাবে বাংলাদেশি রোগীদের গ্রহণের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
রাজধানীর চীনা দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'সব প্রচেষ্টা যদি সুষ্ঠুভাবে অব্যাহত থাকে, তবে চলতি বছরের মার্চের প্রথম দিকে বাংলাদেশি রোগীদের প্রথম দল চীনে চিকিৎসা নিতে পারে।’
আরও পড়ুন: শিগগিরই চীন, থাইল্যান্ড ও জাপান সফরে যাবেন ড. ইউনূস
তিনি বলেন, উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থা উন্নত করতে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে ভিসা প্রক্রিয়া সহজতর করা, চিকিৎসা প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা এবং অনুবাদ দল গঠনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিগুলো সম্পন্ন করছে।
পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন তার সাম্প্রতিক চীন সফরকালে জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং চীনকে চীনকে অনুরোধ করেন যেন—বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা সেবা চীনে সহজতর করা হয় এবং সহায়তাপ্রাপ্ত হাসপাতাল প্রকল্পগুলো যথাযথ বিবেচনা করে।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও সর্বোচ্চ মানের সেবা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, 'চীন এসব প্রস্তাবকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।’
৫৮৮ দিন আগে