ছিনতাই
রাজধানীতে ছিনতাই ও হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন
রাজধানীর বংশাল থানার সিদ্দিক বাজার এলাকায় ছিনতাইয়ের পর হত্যার দায়ে মাসুম নামের এক ছিনতাইকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ দশ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পী এ রায় দেন।
জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় ইউসুফ নামের অপর এক আসামিকে মামলা থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর দণ্ডিত মাসুম মিয়া ওরফে কালুকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, কামরাঙ্গীরচরের মুদি দোকানদার আব্দুল কুদ্দুস ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য রিকশায় করে বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন। এরপর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বংশাল থানার সিদ্দিক বাজার এলাকায় পৌঁছালে দুই ছিনতাইকারী তার রিকশার গতিরোধ করেন। এ সময় তারা কুদ্দুসকে ছুরিকাঘাত করেন এবং তার সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কুদ্দুসের চাচাতো ভাই মো. কামাল হোসেন ওই দিনই বংশাল থানায় এই হত্যা মামলাটি করেন। তারপর ওই বছরের ১০ নভেম্বর ওই দুই ছিনতাইকারীকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কমকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শহীদুল ইসলাম।
২০১৭ সালের ৭ মার্চ দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।
৩ দিন আগে
খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই, ৬ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড
পুলিশ পরিচয়ে এক ডিম ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় ৬ আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহআলম।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মীর সেলিম, মাহাবুবুর রহমান, মো. লিটন দেওয়ান, নাসির গাজী ওরফে কাবিলা, কালাম ঢালী ও শামীম বিশ্বাস। মামলার অপর আসামি জিহাদুল বিশ্বাসকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে শামীম বিশ্বাসকে দণ্ডবিধির ৪১২ ধারায় অতিরিক্ত ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় মো. লিটন দেওয়ান ও নাসির গাজী ওরফে কাবিলা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল মামলার বাদী ডিম ব্যবসায়ী মো. রবিউল ইসলাম পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজার থেকে দোকান বন্ধ করে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় তার কর্মচারী সঙ্গে ছিলেন।
তারা দুজন উপজেলার নাসিরপুর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে একজন পুলিশের পোশাক পরিহিত ও বাকি তিনজন সিভিল পোশাকে এসে তাদের গতিরোধ করেন।
এরপর তারা রবিউল ইসলামকে জানান, তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে থানায় যেতে হবে। পরে তাকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে থানার দিকে না যেয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালীর দিকে রওনা দেন তারা।
তখন রবিউল ইসলাম তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে আসামিরা তাকে হত্যার ভয় দেখান। পরে তার কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে ফেলে চলে যান।
ঘটনার পরের দিন রবিউল পাইকগাছা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই বছরের ৩০ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) মো. শাহজুল ইসলাম ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
১১ দিন আগে
লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্রাকচালককে অপহরণ ও ছিনতাই মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে এক ভারতীয় ট্রাকচালককে অপহরণ, ছুরিকাঘাত ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক এস এম শফিকুল ইসলাম এ রায় দেন।
রায়ে দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় (অপহরণ) তিন আসামির প্রত্যেককে পৃথকভাবে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে আদালত উল্লেখ করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পাটগ্রাম উপজেলার ইসফারমারা (সোনারভিটা) এলাকার সবুজ মিয়া, একই উপজেলার হাদীসপাড়া এলাকার রমজান আলী এবং ভাটিয়াটারী এলাকার আরিফুল ইসলাম ওরফে তানজিদ।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট দুপুরে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পাথর নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাকচালক লক্ষ্মীনন্দর সিংয়ের (৩৬) ট্রাকটি বুড়িমারী সড়কে আটকে যায়। ওইদিন দিবাগত রাত ১টার দিকে আসামিরা পে-লোডার বা ক্রেন দিয়ে ট্রাক উদ্ধারের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে মোটরসাইকেলে করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান।
পরে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর ভোটবাড়ী এলাকায় নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। এরপর তার কাছে থাকা ৮ হাজার ভারতীয় রুপি ছিনিয়ে নিয়ে তাকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায় আসামিরা।
পরবর্তী সময়ে টহল পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ট্রাকচালককে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় মামলা করেন।
বিচার শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিদের দণ্ডবিধির ৩৬৫ (অপহরণ) ও ৩৯৪ (আঘাত করে ছিনতাই) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।
আদালত সূত্র জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সবুজ মিয়া শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ তিন আসামির বিরুদ্ধে যে রায় দিয়েছেন, তাতে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। ভারতীয় নাগরিককে অপহরণ ও ডাকাতির ঘটনা নিন্দনীয়। এই রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
১৯ দিন আগে
নওগাঁয় ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে গ্রেপ্তার ৩
নওগাঁর রাণীনগর-আত্রাই আঞ্চলিক মহাসড়কে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে ৩ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছিনতাইকারী দলের আরও ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ১০টার দিকে রাণীনগর-আত্রাই আঞ্চলিক মহাসড়কের গোনা মোড় নামক স্থানে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার সময় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ (শনিবার) দুপুরে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— নওগাঁ সদর উপজেলার উত্তর সর্দারপাড়া গ্রামের ফয়সাল হোসেন (২১), বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সানা মণ্ডল (২২) এবং একই গ্রামের রাব্বি হাসান (১৯)।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, শুক্রবার রাতে গোনা এলাকার মাহবুব নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী রাণীনগর-আত্রাই আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে গোনা মোড় এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা ৮ জন ছিনতাইকারী তাকে ধাওয়া করেন। এ সময় মাহবুবের পেছনে বসা যাত্রীর চিৎকারে স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি পুলিশও এগিয়ে আসে। সে সময় ছিনতাইকারীরা পালানোর চেষ্টা করেন।
তিনি আরও বলেন, পরে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করে উপজেলার খট্টেশ্বর এলাকা থেকে জনগণের সহযোগিতায় তাদের মধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একজনের কাছ থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ৩ জন একটি মোটরসাইকেলে ছিলেন। সে সময় অপর দুই মোটরসাইকেলে থাকা আরও ৫ ছিনতাইকারী পালিয়ে যান।
ওসি বলেন, তারা মূলত ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই এসেছিল। চালক মাহবুবকে ধরতে পারলে হয়তো মারধর করে তার মোটরসাইকেলটি ছিনতাই করে নিয়ে যেত। গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আর পালিয়ে যাওয়া পাঁচ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।
৫৬ দিন আগে
ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’
নিজের আপন ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে এক অভিনব ও লোমহর্ষক ‘ছিনতাই নাটক’ সাজিয়েছিলেন ভাতিজা লিটন শেখ। তবে সিসিটিভি ফুটেজ আর প্রযুক্তির দক্ষতায় পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন সেই ভাতিজাসহ ছিনতাই চক্রের তিন সদস্য। উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া পুরো ৬ লাখ টাকা। এই কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, গতকাল (সোমবার) দুপুরে মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের সেলিনা বেগম চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের জনতা ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করে আপন ভাতিজা লিটন শেখের মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে দত্তনগর ফার্ম-সংলগ্ন মথুরা বীজ উৎপাদন খামারের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ছিনতাইকারীরা চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে টাকার ব্যাগটি হ্যাঁচকা টান দিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে সেলিনা বেগম আহত হন।
ওসির ভাষ্যমতে, ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী নারী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মহেশপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করে। এর সূত্র ধরেই একে একে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
পুলিশ সোমবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে। আটকরা হলেন— ভুক্তভোগী সেলিনা বেগমের আপন ভাতিজা এবং ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী লিটন শেখ (৪০), জলিলপুর গ্রামের আমিনুর রহমান খান (২৪) ও একই গ্রামের মোস্তফা জামান ওরফে বরকত বিশ্বাস (৪৭)। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত শাওন বদ্দি (২৩) নামে আরও এক যুবক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
ওসি মেহেদি হাসান আরও জানান, সেলিনা বেগমের ভাতিজা লিটন শেখই ছিলেন এই সাজানো ছিনতাইয়ের ‘মাস্টারমাইন্ড’। তিনি শাওন বদ্দির সঙ্গে মিলে এই পরিকল্পনাটি করেছিলেন। পুলিশের তৎপরতায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
৯৫ দিন আগে
রাজশাহীতে এনজিওকর্মীকে কুপিয়ে লাখ টাকা ছিনতাই
রাজশাহীর দুর্গাপুরে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে একজন এনজিওকর্মীকে গুরুতর আহত করে প্রায় এক লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে দুর্গাপুর পৌরসভার সিংগা পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত শাহিনুর রহমান (২৯) বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বুড়িগঞ্জ এলাকার শাহজাহান আলীর ছেলে। তিনি বেসরকারি এনজিও ‘বীজ’-এর ফিল্ড অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। ঘটনার সময় তার সহকর্মী মনিরা খাতুন তার সঙ্গে ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিস্তির টাকা আদায় শেষে মোটরসাইকেলে চড়ে অফিসে ফিরছিলেন শাহিনুর রহমান ও মনিরা খাতুন। পথে মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে গেলে তারা সিংগা পশ্চিমপাড়ার একটি মিলঘরের দক্ষিণে পাকা সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় তারা অফিসে তেল ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানান। তাদের অফিস থেকে অন্য একটি মোটরসাইকেলে করে তাদের কাছে তেল পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়।
ওই সময় হেলমেট পরা দুই অজ্ঞাত যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাদের কাছে দাঁড়ান। তখন মোবাইল ফোনে ওই দুই সহকর্মীর ভিডিও ধারণ শুরু করেন তারা। এতে আপত্তি জানালে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে ওই দুই যুবক তাদের নিকট থাকা ব্যাগ থেকে চাপাতি বের করে শাহিনুর রহমানের ওপর হামলা চালান। এতে তার ডান হাতের বাহু ও বাম হাতের আঙুলে গুরুতর জখম হয়। ঘটনাস্থলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এরপর হামলাকারীরা অপর সহকর্মী মনিরা খাতুনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার কাছ থেকে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেন।
ব্যাগে কিস্তি আদায়ের প্রায় এক লাখ টাকা ছিল বলে জানান মনিরা খাতুন। পরে টাকা নিয়ে দ্রুত দুর্গাপুর বাজারের দিকে পালিয়ে যান তারা।
স্থানীয়রা আহত শাহিনুর রহমানকে উদ্ধার করে প্রথমে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১১৩ দিন আগে
লঞ্চে ‘নেশাদ্রব্য খাইয়ে’ ছিনতাই, ভোলায় যাত্রীর মৃত্যু
স্ত্রীর সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ঢাকা থেকে ভোলায় শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে লঞ্চে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪৫) নামে এক যাত্রীর টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। অচেতন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২১ মার্চ) সকালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত মোস্তাফিজুর কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা। তিনি ভোলা সদর উপজেলার ঘুইংগার হাট এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে ঈদ করতে যাচ্ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী জেসমিন বেগম জানান, শুক্রবার দুপুরে ঢাকা থেকে ভোলার উদ্দেশে রওনা হন মোস্তাফিজুর। লঞ্চে যাত্রাপথে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি তার সঙ্গে পরিচিত হয়ে কথা বলেন এবং একপর্যায়ে তাকে পানি পান করতে দেন। সেই পানি পান করার পরপরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় তার কাছে থাকা টাকাপয়সা নিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার রাতে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. শামসুল আলম জানান, শুক্রবার রাতে অজ্ঞাত বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ অবস্থায় মোস্তাফিজুরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং ভর্তি হওয়ার পর থেকেই সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। তবে শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কী ধরনের বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক সমীরণ মণ্ডল বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী-আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১৪৭ দিন আগে
ব্যাগ ধরে ছিনতাইকারীর টান, রিকশা থেকে পড়ে নারী নিহত
রাজধানীর তুরাগের মেট্রো স্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় অটোরিকশা থেকে এক নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে এক ছিনতাইকারী টান দিলে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মুক্তা আক্তার (২১) নামের ওই নারী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুর পৌনে ২টার দিকে তাকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন ।
ঢামেক থেকে নিহতের স্বামী লিমন হোসেন জানান, আমার স্ত্রী সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঈদের কেনাকাটা করে অটোরিকশায় চড়ে বাসায় ফিরছিল। পথে তুরাগের মেট্রোরেল-সংলগ্ন এলাকায় ছিনতাইকারীরা আমার স্ত্রীর ব্যাগ ধরে টান দেয়। এতে সে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যান। ওখানে অবস্থার অবনতি হলে অন্য আরেকটি হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বাড়ি রাজশাহী জেলা গোদাগাড়ী থানা ফরহাদপুর গ্রামে। বর্তমানে দক্ষিনখানের ফায়দাবাদ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ছিলাম আমরা।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্মা মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।
১৪৯ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ডিবি পরিচয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টা, গণপিটুনি
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ডিবি পুলিশের পোশাক পরে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে দুই প্রতারককে আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে তাদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের পীচমোড় চিংড়িখালী সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক দুজন হলেন— ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার বাজারপাড়া এলাকার রিজভী সালমান রহমান (২৯) ও একই উপজেলার গাবতলাপাড়া গ্রামের আহাদ আলী (৩৫)।
স্থানীয়রা জানান, আজ (সোমবার) দুপুর ১২টার দিকে ডিবি পুলিশের পোশাক পরে কয়েকজন ব্যক্তি চিংড়িখালী সেতু এলাকায় এক নারীর কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করলে দুজন ধরা পড়েন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দেন এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করেন। তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও চারজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। আটক দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৫২ দিন আগে
বিয়ানীবাজারে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাসাইতলা হাওর এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) রাতে সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
গত ৫ মার্চ রাতে নিজ মালিকানাধীন অটোরিকশায় গ্যাস নিতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন গাড়ির মালিক শাহাদাত হোসেন সামাদ। তার বাড়ি জকিগঞ্জ উপজেলায়।
যাত্রী নিয়ে অন্যত্র যাওয়ার কথা বলে ছিনতাইকারীরা তার অটোরিকশা মুল্লাপুর ইউনিয়নের লাসাইতলা হাওর এলাকায় নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে সেটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এ সময় অটোরিকশাচালককে হাত-পা বেঁধে তারা মারপিট করে। পরে সেখানকার স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। একপর্যায়ে পুলিশ ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বিয়ানীবাজারের মাথিউরা পূর্বপাড় গ্রামের রাজন আহমদ (৩৫), খায়রুল ইসলাম সরোয়ার (২৮), শাহগলী নিদনপুর এলাকার সালেহ আহমদ সুলতান (৩৫) ও চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ গ্রামের মাহমুদ হোসেন জাহিদকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
১৫৮ দিন আগে