মির্জা ফখরুল
কৃষিশ্রমিক ধরে রাখতে কৃষিকে লাভজনক করার ওপর গুরুত্ব রাষ্ট্রপতির
কৃষিকাজ থেকে পর্যাপ্ত আয় না হওয়াই কৃষিশ্রমিক পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ার প্রধান কারণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ খাতকে লাভজনক করতে পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বারি) সফরকালে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মাঠে গিয়ে দেখবেন, শ্রমিক পাওয়া যায় না। কারণ কী? কারণ হচ্ছে, সে মাঠে একটু কাজ করে যে আয় করে, সেটা তার জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট নয়।’
তিনি আরও বলেন, কৃষিতে শ্রমিকের সংকটকে শুধু শ্রমিক খুঁজে পাওয়ার সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। মানুষকে এই পেশার প্রতি নিরুৎসাহিত করা মূল অর্থনৈতিক কারণগুলোরও সমাধান করতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, কৃষিকাজ এখন আর লাভজনক না হওয়ায় মানুষ এ পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে আপনাদের কাজ করতে হবে এবং কৃষিকে লাভজনক করার উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনে কাজ করার সময় এসেছে।
তরুণদের আত্মত্যাগ ও গণ-অভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিরল সুযোগ তৈরি করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। সবাই একটু ধৈর্য ধরে ধীরে ধীরে যদি সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করি, তাহলে অবশ্যই আমরা সফল হতে পারব বলে বিশ্বাস করি।
সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, বারির মহাপরিচালক ড. মো. মঞ্জুরুল কাদির ও ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বারির মহাপরিচালকের স্বাগত বক্তব্যের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রীও বক্তব্য দেন।
এর আগে সকাল সোয়া ১০টায় রাষ্ট্রপতি বারিতে পৌঁছালে বাংলাদেশ পুলিশের একটি দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়।
পরে তিনি প্রতিষ্ঠানটির জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এরপর উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্রে বারি কাঁঠাল-৬ জাতের একটি চারা রোপণ করেন।
৩ দিন আগে
গঠনমূলক সমালোচনা, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: রাষ্ট্রপতি
মতপার্থক্য, গঠনমূলক সমালোচনা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (৭ অক্টোবর) হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এইচএসটিইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এনামুল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি গণতন্ত্রের বিকাশকে ব্যাহত করে।’
বৈঠকে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টিও রাষ্ট্রপতিকে জানান।
শিক্ষক পদে শূন্য পদ পূরণ, ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসনসহ অন্যান্য বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন উপাচার্য।
এ সময় রাষ্ট্রপতি প্রতিনিধিদলকে এসব সমস্যা সমাধানে তার সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে দেশের তুলনামূলকভাবে কম উন্নত উত্তরাঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিক্ষার মান বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতিকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা গ্রহণ করেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন।
১১ দিন আগে
এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটন খাত গড়ে তোলার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সমন্বয়ে পর্যটন শিল্পকে প্রযুক্তিনির্ভর করে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গতকাল (শনিবার) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যটন খাতও প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্বব্যাপী পর্যটনের কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সেবাদানের ধরন বদলে দিচ্ছে। ভ্রমণ পরিকল্পনা, তথ্যপ্রাপ্তি, যাতায়াত ও আবাসনসহ সর্বত্র এর প্রভাব বিস্তৃত হচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’-কে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পর্যটন একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত। কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবনের বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন, সিলেটের চা-বাগান, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, বান্দরবানের সাজেক ভ্যালি, নীলগিরি, নীলাচল, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক, জাফলংয়ের পাহাড়ি ঝরনা, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ, হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি, সবুজ পাহাড়, বৌদ্ধবিহার, অজস্র নদ-নদী, সবুজ ফসলের মাঠ, ষড়ঋতুর সৌন্দর্য, মানুষের উষ্ণ আতিথেয়তা এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মিলিয়ে বাংলাদেশ পর্যটকদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য।
তিনি আরও বলেন, পর্যটন খাত দেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে শক্তিশালী নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
রাষ্ট্রপতি জানান, সরকার পর্যটন খাতকে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নের কাজ চলছে।
প্রত্যেক জেলার পর্যটন উপযোগিতা বিবেচনায় স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিভিত্তিক পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, জাতীয় পর্যটন নীতিমালা হালনাগাদ ও আধুনিক পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণের পাশাপাশি ইকো ট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের বিকাশে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে পর্যটনের ডিজিটাল রূপান্তরও ত্বরান্বিত হবে। অনলাইন বুকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যসেবা বাংলাদেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোকে আরও সহজলভ্য, নিরাপদ ও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
পরিবেশের ভারসাম্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে পর্যটন শিল্পের ডিজিটাল ও টেকসই রূপান্তরকে সম্মিলিত অঙ্গীকার হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
২১ দিন আগে
রাসায়নিক সার-কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার রোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
কৃষিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, অধিকমাত্রায় ও অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদি ভয়াবহ ক্ষতি হচ্ছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
কৃষকদের এ বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক করতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে তিনি টেকসই ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তির মাঠপর্যায়ে কার্যকর প্রয়োগ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রপতি কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের মধ্যে আরও নিবিড় সমন্বয় প্রতিষ্ঠারও আহ্বান জানান।
এ সময় শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
৩২ দিন আগে
সাক্ষরতা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি: রাষ্ট্রপতি
সাক্ষরতা মৌলিক মানবাধিকার, ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গতকাল (সোমবার) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
দিবসটি উপলক্ষে দেশবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। এ বছরের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’কে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সাক্ষরতা একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বর্তমান বিশ্বে সাক্ষরতার পরিধি শুধু পড়া, লেখা ও গণনার দক্ষতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জীবনদক্ষতা অর্জন, তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, বিশ্লেষণমূলক চিন্তা, নৈতিক মূল্যবোধ, পরিবেশ সচেতনতা ও সমাজের সমৃদ্ধির মতো বিষয়ও যুক্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মানবকেন্দ্রিক উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য শিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা অপরিহার্য। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সাক্ষরতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধারাবাহিকতায় সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বর্তমান সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানসম্মত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ জানিয়ে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ে আধুনিক ল্যাব, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম ও রোবোটিক্স কর্নার চালু এবং শিক্ষাবৃত্তি দ্বিগুণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পাঠদান মনিটরিং, পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ততা বাড়াতে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি আরও জানান, নতুন শিক্ষক নিয়োগ, তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালু এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবসরকালীন সুবিধাপ্রাপ্তি সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী, শিশু, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সাক্ষরতা ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এসব উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞানসমৃদ্ধ, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি।
এছাড়া রাষ্ট্রপতি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে সাক্ষরতার আলো প্রতিটি মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করবে এবং একটি শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে সবাই সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।
৪০ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবের আমেজ
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আগামীকাল রবিবার প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সফর ঘিরে পুরো জেলায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে শহরের সড়ক, সড়ক বিভাজক ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আগমনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন নিয়েও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে।
আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি। তার সফরকে সামনে রেখে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজিয়ে তোলা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক সংবর্ধনার মঞ্চ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। দিন-রাত কাজ করে শ্রমিকরা মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ করেছেন। ঢাকা থেকে প্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে তারা ঠাকুরগাঁওয়ে এসেছেন।
শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের ডিভাইডারগুলোতে নতুন করে রঙ করা হয়েছে। রাতেও চলছে রঙের কাজ। সড়কবাতিগুলো মেরামত করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের পাশের বিভিন্ন এলাকা পরিষ্কার করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কগুলোকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে চলছে নানা প্রস্তুতি। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।
ঠাকুরগাঁও রোড কাজিপাড়ার বাসিন্দা আজমত রানা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের জেলার সন্তান। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তাকে স্বাগত জানাতে শহর সাজানো হচ্ছে, মানুষের মধ্যেও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।’
ব্যবসায়ী জহির ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে শহরের চেহারা অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা হচ্ছে, ডিভাইডার (বিভাজক) ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙ করা হচ্ছে। আমরা চাই, তার এই সফর শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠুক।’
গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন জেলার মানুষ। এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় আসায় সেই আনন্দ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির সফরের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।
শিক্ষার্থী আয়শা আক্তার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি আমাদের জেলার মানুষ হওয়ায় আমরা গর্বিত। তার কাছে আমাদের প্রত্যাশাও অনেক। বিশেষ করে শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানো, উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে তিনি ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করি।’
স্থানীয়রা জানান, মির্জা ফখরুল স্বল্পসময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী থাকাকালীন ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। তার উদ্যোগের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং বিমানবন্দর চালুর বিষয়টি রয়েছে। এসব উদ্যোগের কাজ চলমান রয়েছে বলেও তারা জানান।
তবে স্থানীয়দের মতে, ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। অনেক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের প্রত্যাশা, তিনি এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেবেন।
রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা বলছেন, দলমত-নির্বিশেষে এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। সংবর্ধনা সফল করতে দিনরাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। দলমত-নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি। সংবর্ধনা সফল করতে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।’
৪৩ দিন আগে
জ্বালানিমন্ত্রী টুকুকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি
অসুস্থ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দেখতে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে গেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতালে গিয়ে তিনি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানান, আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাষ্ট্রপতি হাসপাতালে যান এবং জ্বালানিমন্ত্রীর শয্যার পাশে কিছু সময় অবস্থান করেন।
তিনি বলেন, এ সময় তিনি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তার চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে জানেন। তার ছেলে আবেদ হাসান মাহমুদের সাথেও কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি।
ওই সময়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত চিকিৎসক কর্ণেল এ কে এম ফয়জুল হক, রাষ্ট্রপতির সহকারি একান্ত সচিব মো. ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তার ছেলে আবেদ হাসান মাহমুদ জানান, গত কয়েকদিন ধরে তার বাবা তীব্র জ্বরে ভুগছিলেন। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে জ্বালানিমন্ত্রীর চিকিৎসা চলছে।
৪৬ দিন আগে
আনসার-ভিডিপিকে দেশ গঠনমূলক কাজে আরও ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দেশ গঠনমূলক কাজে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি (গ্রাম প্রতিরক্ষা দল) সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।
এ সময় বিগত গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী জননিরাপত্তা বিধান ও ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আনসার বাহিনীর কাজের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।
এছাড়া বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা, জনসম্পৃক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশি ভাষা, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
এ সময় তিনি বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম, বিশেষ করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আনসার সদস্যের মানসম্মত প্রশিক্ষণ, সদস্যদের ডেটাবেজ তৈরি, ক্ষুদ্রঋণ প্রদান কার্যক্রম ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রান্তিক পর্যায়ে বাহিনীর গৃহীত কর্মসূচি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে জানান।
আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আনসার ও ভিডিপি দেশের সব থেকে বড় জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বাহিনী।
তিনি এ সময় আনসার ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন, বিভিন্ন আইন প্রণয়ন ও আনসার ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতি এ সময় সৌরশক্তি উৎপাদন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অর্জন এবং জনমুখী কার্যক্রমে বাহিনীর অবদানের প্রশংসা করে আগামী দিনে আরও কর্মসূচি ও তৎপরতা গ্রহণের আহ্বান জানান।
দায়িত্ব পালনকালে বাহিনীর উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আনসার ও ভিডিপি প্রধানকে আশ্বস্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪৭ দিন আগে
দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর এটিই হবে তার প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর।
রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওবাসীর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রঙ করার কাজ।
সফরের প্রথম দিন ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির ব্যানারে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।
নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ড. আবু মো. খয়রুল কবির জানান, ওই দিন রাষ্ট্রপতি হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁও পৌঁছাবেন। সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর তিনি শহরের সেনুয়া গোরস্থানে তার পিতার কবর জিয়ারত করবেন। পরে নিজের বাড়িতে যাওয়ার পর সরাসরি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।
সফরের দ্বিতীয় দিন ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে জামালপুরে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইস্রাফিল শাহীন জানান, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সীমিতসংখ্যক অতিথি উপস্থিত থাকবেন।
রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন জানান, রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি এখন নিরপেক্ষ ব্যক্তি। তাই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপি বা ধানের শীষের কোনো প্রতীক যাতে প্রদর্শন করা না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৪৭ দিন আগে
চোরাচালান, মাদকপাচার ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে বিজিবিকে আরও কার্যকর হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
সীমান্ত রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবির কাজের প্রশংসা করে চোরাচালান, মাদকপাচার, পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে বাহিনীটিকে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাতকালে বিজিবি মহাপরিচালক রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রম এবং সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে অত্যাধুনিক ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার বন্ধে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে বিজিবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সীমান্ত সুরক্ষায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনে বিজিবির উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতির সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪৮ দিন আগে