মির্জা ফখরুল
সাক্ষরতা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি: রাষ্ট্রপতি
সাক্ষরতা মৌলিক মানবাধিকার, ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গতকাল (সোমবার) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
দিবসটি উপলক্ষে দেশবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। এ বছরের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’কে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সাক্ষরতা একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বর্তমান বিশ্বে সাক্ষরতার পরিধি শুধু পড়া, লেখা ও গণনার দক্ষতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জীবনদক্ষতা অর্জন, তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, বিশ্লেষণমূলক চিন্তা, নৈতিক মূল্যবোধ, পরিবেশ সচেতনতা ও সমাজের সমৃদ্ধির মতো বিষয়ও যুক্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মানবকেন্দ্রিক উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য শিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা অপরিহার্য। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সাক্ষরতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধারাবাহিকতায় সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বর্তমান সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানসম্মত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ জানিয়ে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ে আধুনিক ল্যাব, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম ও রোবোটিক্স কর্নার চালু এবং শিক্ষাবৃত্তি দ্বিগুণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পাঠদান মনিটরিং, পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ততা বাড়াতে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি আরও জানান, নতুন শিক্ষক নিয়োগ, তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালু এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবসরকালীন সুবিধাপ্রাপ্তি সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী, শিশু, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সাক্ষরতা ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এসব উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞানসমৃদ্ধ, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি।
এছাড়া রাষ্ট্রপতি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে সাক্ষরতার আলো প্রতিটি মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করবে এবং একটি শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে সবাই সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।
১১ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবের আমেজ
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আগামীকাল রবিবার প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সফর ঘিরে পুরো জেলায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে শহরের সড়ক, সড়ক বিভাজক ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আগমনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন নিয়েও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে।
আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি। তার সফরকে সামনে রেখে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজিয়ে তোলা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক সংবর্ধনার মঞ্চ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। দিন-রাত কাজ করে শ্রমিকরা মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ করেছেন। ঢাকা থেকে প্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে তারা ঠাকুরগাঁওয়ে এসেছেন।
শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের ডিভাইডারগুলোতে নতুন করে রঙ করা হয়েছে। রাতেও চলছে রঙের কাজ। সড়কবাতিগুলো মেরামত করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের পাশের বিভিন্ন এলাকা পরিষ্কার করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কগুলোকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে চলছে নানা প্রস্তুতি। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।
ঠাকুরগাঁও রোড কাজিপাড়ার বাসিন্দা আজমত রানা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের জেলার সন্তান। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তাকে স্বাগত জানাতে শহর সাজানো হচ্ছে, মানুষের মধ্যেও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।’
ব্যবসায়ী জহির ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে শহরের চেহারা অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা হচ্ছে, ডিভাইডার (বিভাজক) ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙ করা হচ্ছে। আমরা চাই, তার এই সফর শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠুক।’
গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন জেলার মানুষ। এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় আসায় সেই আনন্দ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির সফরের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।
শিক্ষার্থী আয়শা আক্তার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি আমাদের জেলার মানুষ হওয়ায় আমরা গর্বিত। তার কাছে আমাদের প্রত্যাশাও অনেক। বিশেষ করে শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানো, উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে তিনি ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করি।’
স্থানীয়রা জানান, মির্জা ফখরুল স্বল্পসময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী থাকাকালীন ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। তার উদ্যোগের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং বিমানবন্দর চালুর বিষয়টি রয়েছে। এসব উদ্যোগের কাজ চলমান রয়েছে বলেও তারা জানান।
তবে স্থানীয়দের মতে, ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। অনেক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের প্রত্যাশা, তিনি এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেবেন।
রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা বলছেন, দলমত-নির্বিশেষে এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। সংবর্ধনা সফল করতে দিনরাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। দলমত-নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি। সংবর্ধনা সফল করতে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।’
৩ দিন আগে
জ্বালানিমন্ত্রী টুকুকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি
অসুস্থ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দেখতে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে গেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতালে গিয়ে তিনি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানান, আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাষ্ট্রপতি হাসপাতালে যান এবং জ্বালানিমন্ত্রীর শয্যার পাশে কিছু সময় অবস্থান করেন।
তিনি বলেন, এ সময় তিনি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তার চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে জানেন। তার ছেলে আবেদ হাসান মাহমুদের সাথেও কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি।
ওই সময়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত চিকিৎসক কর্ণেল এ কে এম ফয়জুল হক, রাষ্ট্রপতির সহকারি একান্ত সচিব মো. ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তার ছেলে আবেদ হাসান মাহমুদ জানান, গত কয়েকদিন ধরে তার বাবা তীব্র জ্বরে ভুগছিলেন। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে জ্বালানিমন্ত্রীর চিকিৎসা চলছে।
৬ দিন আগে
আনসার-ভিডিপিকে দেশ গঠনমূলক কাজে আরও ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দেশ গঠনমূলক কাজে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি (গ্রাম প্রতিরক্ষা দল) সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।
এ সময় বিগত গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী জননিরাপত্তা বিধান ও ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আনসার বাহিনীর কাজের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।
এছাড়া বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা, জনসম্পৃক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশি ভাষা, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
এ সময় তিনি বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম, বিশেষ করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আনসার সদস্যের মানসম্মত প্রশিক্ষণ, সদস্যদের ডেটাবেজ তৈরি, ক্ষুদ্রঋণ প্রদান কার্যক্রম ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রান্তিক পর্যায়ে বাহিনীর গৃহীত কর্মসূচি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে জানান।
আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আনসার ও ভিডিপি দেশের সব থেকে বড় জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বাহিনী।
তিনি এ সময় আনসার ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন, বিভিন্ন আইন প্রণয়ন ও আনসার ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতি এ সময় সৌরশক্তি উৎপাদন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অর্জন এবং জনমুখী কার্যক্রমে বাহিনীর অবদানের প্রশংসা করে আগামী দিনে আরও কর্মসূচি ও তৎপরতা গ্রহণের আহ্বান জানান।
দায়িত্ব পালনকালে বাহিনীর উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আনসার ও ভিডিপি প্রধানকে আশ্বস্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর এটিই হবে তার প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর।
রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওবাসীর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রঙ করার কাজ।
সফরের প্রথম দিন ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির ব্যানারে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।
নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ড. আবু মো. খয়রুল কবির জানান, ওই দিন রাষ্ট্রপতি হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁও পৌঁছাবেন। সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর তিনি শহরের সেনুয়া গোরস্থানে তার পিতার কবর জিয়ারত করবেন। পরে নিজের বাড়িতে যাওয়ার পর সরাসরি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।
সফরের দ্বিতীয় দিন ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে জামালপুরে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইস্রাফিল শাহীন জানান, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সীমিতসংখ্যক অতিথি উপস্থিত থাকবেন।
রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন জানান, রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি এখন নিরপেক্ষ ব্যক্তি। তাই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপি বা ধানের শীষের কোনো প্রতীক যাতে প্রদর্শন করা না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৭ দিন আগে
চোরাচালান, মাদকপাচার ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে বিজিবিকে আরও কার্যকর হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
সীমান্ত রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবির কাজের প্রশংসা করে চোরাচালান, মাদকপাচার, পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে বাহিনীটিকে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাতকালে বিজিবি মহাপরিচালক রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রম এবং সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে অত্যাধুনিক ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার বন্ধে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে বিজিবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সীমান্ত সুরক্ষায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনে বিজিবির উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতির সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
চীনা বিনিয়োগে বাংলাদেশে প্রায় এক লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে: রাষ্ট্রদূত ওয়েন
চীনের প্রায় ৩০টি কোম্পানি বাংলাদেশে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে (সিইআইজেড) প্রায় ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থানীয় জনগণের জন্য আনুমানিক এক লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে চীনের রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান ইয়াও ওয়েন।
এ সময় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন রাষ্ট্রদূত ওয়েন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের অংশ হিসেবে সিইআইজেড-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং মোংলা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠায় সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফর দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও সুগম করবে।
সাক্ষাৎকালে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ‘২+২’ কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল, আম ও পেয়ারা রপ্তানি শুরু, সৌরশক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন সংযোজন কারখানা স্থাপন, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসে।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন গত এপ্রিল মাসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী থাকাকালে রাষ্ট্রপতির চীন সফরের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
ওই সফরে আইডিসিপিসির মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ এবং তার বাবা লিউ শু ছিংয়ের মাধ্যমে ১৯৮০ সালের আগস্টে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে পরিচয়পত্র পেশের বিরল আলোকচিত্র ও ভিডিও হস্তান্তরের বিষয়টি স্মরণ করে রাষ্ট্রদূত ধন্যবাদ জানান।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে বহুমাত্রিক সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
৯ দিন আগে
সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করব: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালন ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করার কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে আমি দল, সংসদ ও মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করে এসেছি। আমি এখন সম্পূর্ণভাবে একজন দলনিরপেক্ষ মানুষ। দলনিরপেক্ষভাবেই আমি আমার দায়িত্বপালন করে যাব।’
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি এখন সম্পূর্ণভাবে একজন দলনিরপেক্ষ মানুষ এবং আমার রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পরে আমি সবকিছুর, রাজনীতির ঊর্ধ্বে আমি থাকব বলেই আমি শপথ নিয়েছি। আমার জন্য কোনো রাগ, বিরাগ, অনুরাগ কোনো কিছুই থাকবে না। আমার সামনে একটাই মূল উদ্দেশ্য, লক্ষ্য—সেটা হচ্ছে আমার দেশ, আমার রাষ্ট্র, আমার জনগণ।’
তিনি বলেন, তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন পার করেছেন এবং মাটির মানুষের সঙ্গে থেকে কাজ করেছেন। দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশ একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে পৌঁছেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা থেকে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় এসেছে। এখন সংসদ দেশের মূল কেন্দ্র এবং সেটিকে কেন্দ্র করেই রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়।
বঙ্গভবনকে রাষ্ট্র, সার্বভৌমত্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এখান থেকেই রাষ্ট্রের মর্যাদা ও সম্মানের বিষয়গুলো পরিচালিত হয়। তাই বঙ্গভবনে কর্মরত সবার দায়িত্ব হলো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সর্বোচ্চ মূল্য দেওয়া এবং দেশের জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা, সম্মান ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা।
রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, পেশাদারত্ব ও সততার সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে জনআস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বঙ্গভবনের অভ্যন্তরীণ তথ্য, দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত-সংক্রান্ত সব বিষয় কঠোরভাবে গোপন রাখার নির্দেশ দেন, যাতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়।
সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের করের অর্থেই সরকারি সম্পদ, যানবাহন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিচালিত হয়। তাই এসবের সঠিক, দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের অর্থের অপচয় রোধে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের নিজ নিজ জীবনে ধর্মীয় বিধান যথাযথভাবে পালন এবং নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে সুন্দর চরিত্র গঠনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের পাশাপাশি পরিবার, সন্তান-সন্ততি ও প্রিয়জনদের জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখার পরামর্শ দেন, যাতে কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে সুস্থ ভারসাম্য বজায় থাকে।
১২ দিন আগে
ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি
ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক-কে আজ বুধবার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ভুটানের রাজাকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করে।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টার অবস্থানকালে ভিভিআইপি লাউঞ্জে রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। জবাবে ভুটানের রাজা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের সুবিধাজনক সময়ে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান। জবাবে ভুটানের রাজাও বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি শুভকামনা জ্ঞাপন করেন।
আলাপকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। ভুটান সবসময় আমাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে আছে। কারণ, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ ভুটান।
বাংলাদেশের প্রতি ভুটানের বর্তমান রাজার পিতা রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বিশেষ মমত্ববোধ ও শুভকামনাও রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে ভুটানের রাজা শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
ভুটানের রাজা তার দূরদর্শী ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে জানান এবং এ উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটির প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের রূপান্তরমূলক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।
সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভুটানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে।
১৩ দিন আগে
বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
শপথ গ্রহণের পর আজ প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার (২২ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে পৌঁছালে প্রধান ফটক-২-এ বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল তাকে অভ্যর্থনা জানায়।
১৬ দিন আগে