সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়
সংস্কৃতি চর্চা ও শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং শিশুদের বই পড়ায় উৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় এসব নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতি হাজার বছরের। কিন্তু আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে আমরা তা হয়তো যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছি, নতুন নতুন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে যাব।’
এ সময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কীভাবে আরও বেশি করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা যায়, তা নিয়ে ভাবার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে শিশুদের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া যায় কি না, তা সংশ্লিষ্টদের ভেবে দেখতে বলেন তিনি।
পাঠচক্র, বই পড়ার প্রতিযোগিতা এবং এ ধরনের অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় লালন উৎসব ও নজরুলবর্ষকে কেন্দ্র করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়।
ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসব উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের গৃহীত ও প্রস্তাবিত কর্মসূচি সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়।
সভায় জানানো হয়, আগামী শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসবে সার্কাস, গ্রামীণ সংস্কৃতি, নৌকাবাইচ, ঘুড়ি উৎসব, ঘোড়দৌড়, পাপেট শো, বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক উৎসব এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া জুলাই জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা তাদের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী শিল্পকলা একাডেমিগুলোকে আরও সক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে উপস্থিত সবারই কোনো না কোনো যোগ্যতা রয়েছে। সবাইকে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে কাজ করতে আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিই, তাহলে আমরা সবাই মিলে যে ধরনের দেশ দেখতে চাই, অন্তত তার কিছুটা হলেও বাস্তবায়ন করতে পারব। দেশের জন্য কিছু করার সুযোগ আমাদের রয়েছে। আমরা যেন সেই সুযোগ কাজে লাগাই।’
সভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
একুশে পদকপ্রাপ্তদের সম্মান জানালো মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়
২০২১ সালে একুশে পদকপ্রাপ্তদের সম্মানিত করেছে নাট্যদল মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়। সোমবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় সংগঠনের আয়োজনে ১১ দিনব্যাপী ‘বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব ২০২১’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেয়া হয়।
সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন- চলচ্চিত্রে সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকী, অভিনয়ে সালমা বেগম সুজাতা ও রাইসুল ইসলাম আসাদ, নাটকে আহমেদ ইকবাল হায়দার, আবৃত্তিতে ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, আলোকচিত্রে পাভেল রহমান, সংগীতে পাপিয়া সারোয়ার এবং ভাষা ও সাহিত্যে কবি কাজী রোজী।
সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উত্তরীয় পরিয়ে ও সম্মাননা স্মারক দিয়ে তাদের সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.আবুল মনসুর।
তিনি এ সময় বলেন, মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় এদেশের সংস্কৃতির জগতে অতিপ্রিয় একটি জাগরণমূলক নাম। দেশের সংস্কৃতির প্রতি যেসব মানুষ ও প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে, দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় তাদের সম্মাননা জানিয়েছে। এটি অনেক বড় একটি বিষয়। আগামীতে এই উৎসব আরও বড় পরিসরে হবে এই আশা রাখছি। সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এমন উৎসবই আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করবে। এই দলের মতো আরও কয়েকটি দল যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে পারবো।
উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সায়লা ফারজানা, রোটারিয়ান এ কে এম আখতারুজ্জামান, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. জাকেরুল আবেদীন, কাস্টম ও ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার ড. মো. তাজুল ইসলাম, জনতা ব্যাংকের উপ মহাব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ‘বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব’ এর প্রধান সমন্বয়ক মীর জাহিদ হাসান।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সম্মাননা জানানো শেষে মঞ্চায়িত হয় মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে থিয়েটার প্রযোজনা ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ নাটকটি।
আরও পড়ুন: পুনঃমঞ্চায়ন হলো মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের ‘ঘুমনেই’
শিল্পকলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী শুরু
১৭৭০ দিন আগে