চাঁদাবাজি
পুলিশি হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে মহাসড়কে ট্যাংকলরি রেখে খুলনায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ
পুলিশি হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে খুলনায় মহাসড়কে ট্যাংকলরি রেখে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন জ্বালানি তেল পরিবহন শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খুলনা-যশোর মহাসড়কের ফুলতলা থেকে পথের বাজার পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মী ও শ্রমিকরা।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৯টায় শ্রমিকরা ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন না করে খুলনা-যশোর মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এদিন শ্রমিকরা প্রথমে ফুলতলা থানার সামনে কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে তারা খানজাহান আলী থানার পথের বাজার এলাকায় অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন।
খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এনাম মুন্সীর সভাপতিত্বে সমাবেশে জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সহ-সভাপতি শেখ মুরাদ হোসেন, খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতা মীর মোকসেদ আলী এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলী আজিম বক্তব্য দেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, কাগজপত্র যাচাইয়ের অজুহাতে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন রাস্তায় ট্যাংকলরি থামিয়ে চাঁদাবাজি ও হয়রানি করছেন।
তারা বলেন, জ্বালানি তেল পরিবহনের আগে টার্মিনালেই ট্যাংকলরির কাগজপত্র যাচাই করার নিয়ম রয়েছে। তাই মহাসড়কে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই করা উচিত নয়।
তারা বলেন, মহাসড়কে ট্যাংকলরি থামানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ প্রতিটি ট্যাংকলরিতে প্রায় ৯ হাজার লিটার দাহ্য পদার্থ থাকে। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি ও হয়রানি করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই পুলিশি হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
৯ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার যমুনা নদীতে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে নৌযান মালিক-কর্মচারীসহ ৩ উপজেলার ২৭ গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ এলাকার ত্রাস হিসেবে খ্যাত ‘সালাম বাহিনী’র বিরুদ্ধে বেলকুচি ক্ষিদ্রচাঁপিয়া এলাকায় মানববন্ধন করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, টাঙ্গাইল সদর ও চৌহালী উপজেলার চরবেল, পুংলি, কাকুয়া, জাঙ্গালিয়া, কলাবাগান ও মহেষপুরের নৌযান মালিক-কর্মচারীরা এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এলাকার ত্রাস হিসেবে খ্যাত সালাম ও তার সহযোগী রুবেল, কাওছার আলম, মাসুদ ও হাবিব গং সন্ধ্যা নামার পর যমুনা নদীতে ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে সশস্ত্র মহড়া দেয়।
সিরাজগঞ্জ-ঢাকা নৌরুটে তারা সব ধরনের বাল্কহেড, ছোটবড় নৌকাসহ বিভিন্ন নৌযান থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করে আসছে। তার দাবিকৃত চাঁদা না দিলে নৌযান শ্রমিক-কর্মচারীদের মারধর করে। এ সালাম বাহিনীর অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে আজ আমরা নৌযান মালিক ও কর্মচারীরা মানববন্ধন করছি। যমুনায় নৌপথ নিরাপদ করতে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করেন।
আবু সাঈদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে নৌযান মালিক-কর্মচারীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন ইউসুফ মোল্লা, কছির উদ্দিন, সুমন ও বক্কার মোল্লাসহ অনেকে। নৌযান মালিক-কর্মচারী ছাড়াও বেলকুচি, টাঙ্গাইল সদর ও চৌহালী উপজেলার ২৭ গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেন।
২০ দিন আগে
মতিঝিলে চাঁদাবাজি ও গুলিবর্ষণ মামলায় শুটার বাপ্পিসহ গ্রেপ্তার ৫
রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় চাঁদাবাজি ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শুটার তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি এবং তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) এবং অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার অন্য চারজন হলেন— মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭), মো. মানিক কাজী (৫০) ও রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫)।
পুলিশ বলছে, রাজধানীর দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের এক ইজারাদারের অফিস লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এছাড়া, বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিতে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায়ও তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে মতিঝিল বিভাগ। পরে তাদের দেওয়া তথ্য এবং প্রযুক্তির সহায়তায় উত্তর কমলাপুর থেকে আরেক সহযোগী রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, গত ১৯ মে দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের এক ইজারাদার ব্যবসায়ীর অফিস লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করে। ১৫ মে একই ব্যবসায়ীর কাছে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর তদন্তে তানিম রেজা বাপ্পি ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ জুলাই দিনগত রাতে দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির অফিসে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড রিভলভারের গুলি, দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুইটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি বিদেশি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা করা হয়েছে বলেও জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।
ওসমান গনি বলেন, তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি একজন অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। এছাড়া মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। গ্রেপ্তার তানিম রেজা বাপ্পির বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যা চেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি তাদের অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং আরও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার।
৪৭ দিন আগে
নেত্রকোনায় চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলার আসামি যুবদল নেতা মেহেদী হাসান ওরফে সাহসসহ (৩০) তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) গভীর রাতে রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। বুধবার (২০ মে) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান দুর্গাপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌরসভার পশ্চিম মোক্তারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মঞ্জুরুল হকের ছেলে। অন্য দুজন হলেন বাগিচাপাড়া এলাকার হাসু মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (৩০) এবং সাধুপাড়া এলাকার মো. মেহেদী (২৮)।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা, মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে থানায় হত্যাসহ একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার নাজিরপুর মোড়ে ‘ভাই ভাই এন্ড জনতা হোটেলে’ তার সহযোগীদের নিয়ে বাকিতে খাবার খেতেন। গত ৪ এপ্রিল রাতে খাবার খেতে এসে হোটেলের মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে তিনি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা চলে যান। এরপরও ভয়ভীতি দেখিয়ে বাকিতে খাবার খেতে থাকেন। গত ৩০ এপ্রিল দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি তার প্রায় ১৫ জন সহযোগী নিয়ে ওই হোটেলে গিয়ে খাবার খান। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ বকেয়া মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ টাকা বিল চান। এতে মেহেদী হাসান ক্ষিপ্ত হয়ে হোটেলের মালিক ও কর্মচারীদের মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে উল্টো দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে মামলা বা পুলিশকে জানানোর ব্যাপারে নিষেধ করা হয়। ভয়ে হোটেলমালিক তিন দিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন। পরে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মেহেদী হাসানকে প্রধান আসামি করে তার ৮ জন সহযোগীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও আটজনের নামে মামলা করেন। গতকাল রাতে পুলিশ মেহেদী হাসানসহ তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
হোটেলমালিক খোকন মিয়া বলেন, মেহেদী হাসান বিভিন্ন সময় তার সহযোগীদের নিয়ে আমার হোটেলে খেয়ে এক লাখ টাকা বকেয়া করেন। টাকা চাইতে গেলেই তিনি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, প্রাণনাশসহ নানা ধরনের হুমকি দেন। ওই দিন গভীর রাতে খাবার খাওয়ার পর আমার ম্যানেজার টাকা চাইলে তিনি উল্টো দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ব্যবসা করতে হলে তাকে চাঁদা দিয়ে করতে হবে বলে জানান। তাই খুন-জখমের ভয়ে তিন দিন হোটেল বন্ধ রাখা হয়। তার ভয়ে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত ও অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। পরে এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লাহ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল গভীর রাতে ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে মেহেদী হাসান সাহসসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।
১০৫ দিন আগে
চাঁদাবাজির তথ্য দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চাঁদাবাজি বেড়ে যাওয়ার দাবি করা বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চাঁদাবাজির তথ্য দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কোরবানির পশুরহাটের নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার কাছে যদি চাঁদাবাজি বেড়েছে—সেই খতিয়ান থাকে, তা আমার কাছে আপনারা দিলে সেই জায়গাটা মোকাবিলা করতে পারব। কোথায় চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পেল, সেই তালিকা পেলে ব্যবস্থা নেব।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি দাবি করেছেন, চাঁদাবাজির কারণে বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, ‘চাঁদাবাজি কোথায় বেড়েছে, সেই তথ্য পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারব।’
তিনি বলেন, গত ৩০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, মাদক কারবারি ও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। বিশেষ করে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে জোর দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর, ডিএমপি ও জেলা পুলিশ সুপারদের নিয়মিতভাবে অভিযানের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সেই তালিকাটা আপনাদের মাধ্যমে বিরোধীদলীয় নেতার কাছে যেতে পারে। অথবা পত্রিকায় আমরা আরও বেশি করে প্রকাশ করতে পারি। কোথায় চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পেলো, সেই তালিকা পেলে ব্যবস্থা নেব।
এর আগে, রাজধানীর মিরপুর-১-এর শাহ আলী পাইকারি বাজার পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরিদর্শনকালে ব্যবসায়ীরা বিরোধীদলীয় নেতার কাছে অভিযোগ তুলে বলেন, সরকারিভাবে ৫ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া রাজধানীর মিরপুর শাহআলী কাঁচাবাজারে দোকান দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিচ্ছেন বরাদ্দ পাওয়া মালিকরা, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। দোকান ভাড়ার সঙ্গে চলছে নীরব চাঁদাবাজি। কারা চাঁদাবাজি করছে, তা বলতেও ভয় পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
এ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, চাঁদাবাজি সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। ব্যবসায়ীরা চাইলে প্রতিরোধের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।
১১৪ দিন আগে
ঈদে চাঁদাবাজি রোধে থাকবে বডি-ওর্ন ক্যামেরা, গোয়েন্দা নজরদারি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় সড়ক ও নৌপথে পশুবাহী যানবাহনে চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আসন্ন ঈদুল আজহা ২০২৬ এর প্রাক্কালে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, ঈদের পূর্বে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধ ও ছুটি প্রদান, সড়ক-মহাসড়ক যানজট মুক্ত রাখা ও কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তা প্রদানসহ প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ঈদুল আজহার প্রাক্কালে এবং পরবর্তী সময়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেল ঈদের আগের ৭ দিন এবং পরের ৭ দিন সার্বক্ষণিক কার্যকর থাকবে। এছাড়া র্যাব, পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ সকল গোয়েন্দা সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে জনসাধারণের জন্য পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস (১০২) ও বিআইডব্লিউটিএ (১৬১১৩) সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর হটলাইন নম্বরগুলো চালু থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এবার সারাদেশে ৪ হাজার ২৫৯টি পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১টি হাট থাকবে। হাটগুলোতে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জালনোট শনাক্তে প্রতিটি হাটে ব্যাংকগুলোর বুথ ও মেশিন থাকবে। এছাড়া ইজারাদারদের চাহিদানুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অঙ্গীভূত আনসার’ নিয়োজিত করা হবে।
সভায় সড়ক ও নৌপথে পশুবাহী যানবাহনে যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি কঠোরহস্তে দমনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে এবং সিভিল ড্রেসে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, চামড়া পাচার রোধে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, চামড়ার গুণগত মান রক্ষায় কোরবানি পরবর্তী দুই ঘণ্টার মধ্যে লবণ দিয়ে সংরক্ষণের জন্য দেশব্যাপী প্রচারণা চালানো হবে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের অনুমোদন দিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, ঈদের ছুটির আগেই পোশাক শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং মহাসড়কের গর্তগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। ফেরি ও লঞ্চে যাত্রী ও পশু পরিবহনে হেনস্তা বন্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারের গৃহীত এসব পদক্ষেপের ফলে দেশবাসী অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ।
ভারতের অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন বা অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক প্রভাব পড়ার শঙ্কা নাকচ করে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে। সীমান্ত দিয়ে কোনো প্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ বা ‘পুশ-ইন’ রোধে বিজিবি সর্বদা জাগ্রত রয়েছে।’
১১৪ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জে চাঁদাবাজির মামলায় ছাত্রদল নেতা সোহেলকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার দত্তবাড়ি মহল্লার বাসিন্দা এবং পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
রবিবার (৩ মে) সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কার মাতুব্বর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, উক্ত পৌর এলাকার কোবদাসপাড়া আক্কার মোড় মহল্লায় মনোহারী ব্যবসায়ী শাহজাহান আলী দোকান পরিচালনা করতেন। গত ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় তার ব্যবসায়িক সহযোগী নাজমুল ইসলাম ব্যাবসা-সংক্রান্ত আলোচনার জন্য শাহজাহন আলীর বাড়িতে যান। কিন্তু তিনি বাড়িতে না থাকায় তার মায়ের সঙ্গে নাজমুল কথাবার্তা বলছিলেন। এ সময় যুবলীগ নেতা সাবেক কাউন্সিলর হোসেন ও ছাত্রদল নেতা সোহেলসহ কয়েকজন বাড়িতে ঢুকে নাজমুল ও শাহজাহানের স্ত্রী নূপুরকে জড়িয়ে মিথ্যা অপবাদ রটান এবং হুমকি-ধমকি দিয়ে নাজমুলকে তুলে নিয়ে ৭০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এ চাঁদার টাকা ৫ দিনের মধ্যে দেওয়ার কথা স্বীকার করে নাজমুলকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা নাজমুলকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে জানান ওসি।
তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে আজ (রবিবার) সকালে ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী নুপুর বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করেছেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে ওই ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
১২৩ দিন আগে
মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান: মন্ত্রী
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন। রাষ্ট্র ও সমাজের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মাঠ পর্যায়ে শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বান্দরবান জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলার সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মাদক, সন্ত্রাস বা চাঁদাবাজিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি যেই হোক না কেন, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। যদি আমাদের দলের কোনো ব্যক্তিও এসব অপকর্মে লিপ্ত থাকে, তবে তাকেও আইনের আওতায় আসতে হবে। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কাজ সরকার মেনে নেবে না।
দীপেন দেওয়ান বলেন, দীর্ঘদিন পর অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠিত হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো উন্নয়ন। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী ও গতিশীল করা হবে।
মন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জীবনমান ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন অনেকাংশেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই প্রতিটি কর্মীকে আরও দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব হতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বাস্তব পরিস্থিতি ও সমস্যার কথা শোনেন এবং আশ্বস্ত করে বলেন, তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব না হলে সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় বান্দরবান পার্বত্য জেলায় কর্মরত পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে মন্ত্রী বান্দরবান জেলা সদরে রাজার মাঠে মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘মাহা সাংগ্রাই পোয়ে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত মৈত্রী পানি বর্ষণ (জলকেলি) অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও কৃষ্টি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
১৪১ দিন আগে
চাঁদার দাবিতে গলাচিপার খেয়াঘাটে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার হরিদেবপুর খেয়াঘাটে প্রকাশ্যে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসীদের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপর হুমকি আর ভয়ভীতির কারণে ঘাটের ইজারাদার শিবু লাল দাস এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রাতে গলাচিপা উপজেলার হরিদেবপুর খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার স্পষ্ট সিসি টিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ প্রশাসনের কাছে ভাইরাল হয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে একদল দুর্বৃত্ত ঘাটের ভাড়া উত্তোলন কাউন্টার-সংশ্লিষ্টদের ওপর হামলা চালায়। সে সময় তারা ক্যাশবাক্স খুলে টাকাপয়সা লুট করে।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ঘাটের বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় খেয়াঘাটে অবস্থানরত কর্মচারীদের বেধড়ক মারধর ও অস্ত্র দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। দুদিন আগে ওই ঘটনা ঘটলেও এখনও এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই নিরাপত্তার অভাবে এলাকা ছেড়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঘাট এলাকায় চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। সর্বশেষ দাবি না মানায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে জেলা পরিষদ প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি জানান, বিষয়টি প্রশাসনের সব মহলকে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, বৈধ ইজারাদার শিবু দাসকে ঘাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে।
পটুয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাজ্জাদুল ইসলাম সজল বলেন, আমরা আবেদন পেলে ঘাট দখলের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে মামলা নিতে প্রস্তুত রয়েছি।
এ বিষয়ে ইজারাদার শিবু লাল দাস বলেন, থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ সুপারকেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হলে ঘাট মুক্ত হবে বলে তিনি জানান। শিবু বলেন, ‘তালেব আকনের নেতৃত্বে খেয়াঘাট দখল করা হয়েছে।’
১৬৮ দিন আগে
কুমিল্লায় চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতাকে ছুরিকাঘাত
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করতে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় যুবদল নেতাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার।
আহত মো. ওমর ফারুক ভূঁইয়া জেলার ১ নম্বর দক্ষিণ কালিবাজারের বাসিন্দা আব্দুল মালেক ভূঁইয়ার ছেলে এবং তাইফুল হক তার চাচা শামসুল হক ভূঁইয়ার ছেলে ।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, কালির বাজারে মাসুম নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছেন। তার এ কাজে বাধা দেন যুবদল নেতা ওমর ফারুক। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুমের নেতৃত্বে একটি দল গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় ফারুকের বাড়ির সামনে এসে তার চাচাতো ভাই তাইফুল হক ও তার ওপর হামলা চালান। অভিযুক্ত হামলাকারীরা ফারুকের কাঁধ, পেট ও পিঠে ছুরিকাঘাত করেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বুধবার রাতে তাইফুল বলেন, আজকে (গতকাল) মাগরিবের পর আমার চাচাতো ভাই ও আমি আমাদের বাড়ির সামনে অবস্থান করেছিলাম। তখন ছাত্রলীগ নেতা মাসুমের নেতৃত্বে ‘একদল সন্ত্রাসী’ মোটরসাইকেল করে এসে আমার বড় ভাইকে চা-পাতি দিয়ে কোপাতে থাকেন। আমার ভাইয়ের বাঁ কাঁধে, পিঠে কুপিয়ে জখম করে ‘সন্ত্রাসীরা’। আমি বাধা দিতে গেলে আমার ওপরও তারা হামলা চালায়।
ফারুক বলেন, মাসুম কালির বাজারের সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করলে আমি বাধা দেই। একপর্যায়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়েই আমার বাড়ির সামনে গিয়ে তাদের একটি দল চাপাতি, সুইস গিয়ার (চাকু) দিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় আমার চাচাতো ভাই তাইফুল আমাকে বাঁচাতে এলে তার ওপরও হামলা চালানো হয়।
তার দাবি, বল্লবপুরের মাসুদ আল হাসান মাসুম, হাত কাটা বাইল্লা, রেন্ডি মামুন, বাইল্লার ছেলে অপু, ইউছুফ, আবুল কালাম, আনিস ও মিজান তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত বলেও দাবি করেন ফারুক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাসুমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ হয়েছে বলে জেনেছি। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
১৯৬ দিন আগে