উত্তরবঙ্গ
উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানী বানাতে চাই : শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের খাদ্য যোগানে উত্তরবঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার রাখলেও এ অঞ্চলকে ‘ইচ্ছে করে’ বঞ্চিত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, গরিব করে রাখা হয়েছে; সেই বঞ্চনার সাক্ষী হতে এসেছি। সৎ মায়ের মতো উত্তরবঙ্গের সাথে আচরণ করা হয়েছে।’
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পঞ্চগড় জেলা চিনিকল মাঠে দশ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত নির্বাচনি প্রচারণা সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা আগামী দিনে উত্তরবঙ্গে আর কোনো বেকার দেখতে চাই না। প্রত্যেক নাগরিককে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তৈরি করে গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানীতে রূপান্তর করতে চাই। বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনা হবে।
তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গকে আগামীতে আমরা আর কাউকে পিছিয়ে রাখতে চাই না। আপনাদের সকলের হাতে মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে চাই। আমাদের প্রত্যেকটা যুবক-যুবতী, প্রত্যেকটা নাগরিককে আমরা দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তৈরি করতে চাই।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভাই, আমাদের কাছে কোনো কার্ড নেই। আপনারা সবাই ভাইবোনেরা আমাদের কার্ড। আপনাদের বুকে আমরা একটা ভালোবাসার কার্ড চাই। আপনাদের সমর্থন, দোয়া ও ভালোবাসা দিয়ে আগামী দিনে বেকার এবং দায়–দয়ামুক্ত একটা বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই। কারও দয়ার পাত্র হয়ে বাংলাদেশের কোনো এলাকার মানুষ বসবাস করবে, তা আমরা দেখতে চাই না।’
তিনি আরও বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেউ দয়া দেখাবে—এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা আমরা চাই না, বরং যুবকদের হাতে শক্তি তুলে দিয়ে নারী-পুরুষ মিলেই দেশ গড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতদিন ‘টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া’ স্লোগান শোনা গেলেও বাস্তবে ভারসাম্য ছিল না।এবার ভারসাম্য রক্ষায় ‘তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ’ স্লোগানে কাজ করা হবে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মহান আল্লাহ উত্তরবঙ্গকে তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও করতোয়ার মতো চারটি বড় নদী দিয়েছেন, কিন্তু অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় আজ এসব নদী মরুভূমির মতো পড়ে আছে। যারা শুধু নির্বাচনের সময় মানুষের খোঁজ নেয়, পরে আর পাওয়া যায় না—তাদের সঙ্গে তৃণমূলের মানুষের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতের আমির বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার জন্য হন্যে হয়ে ছুটতে হয় রাজধানী ঢাকায়। এই সামর্থ্য সবার নেই, রাস্তায় অনেকের মৃত্যু হয়। এ অবস্থা আমরা আর দেখতে চাই না। আল্লাহ–তাআলা আমাদের দায়িত্ব দিলে ১৮ কোটি মানুষের ৬৪ জেলার কোথাও মেডিকেল কলেজবিহীন থাকবে না। পঞ্চগড়েও মেডিক্যাল কলেজ হবে, ইনশা আল্লাহ। মানসম্মত সেবা এখানেও নিশ্চিত করা হবে।’
তিনি বলেন, শহিদ পরিবার, জুলাইয়ের যোদ্ধা ও একাত্তরের বীরদের কাছে আমরা ঋণী। সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সেই ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করা হবে। আমরা দেশের মালিক হতে চাই না, আমরা সেবক হতে চাই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এই উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলাতে চাই। বুক ফুলিয়ে বলতে চাই, বদলে দেওয়ার জন্য পাঁচটি বছর সময় চাই, ইনশাআল্লাহ। আপনারা যখন আমাদেরকে ভালোবাসা দিচ্ছেন, তখনো পাশে এসে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা যদি কাজ করি, উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে যাবে, ইনশাআল্লাহ।’
২০ দিন আগে
চার দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান
দেশে ফেরার পর ঢাকার বাইরে প্রথম সফরসূচি নির্ধারণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ১১ থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
চূড়ান্ত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১১ জানুয়ারি তিনি ঢাকা ত্যাগ করে ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় ফিরবেন। এ সময় উত্তরাঞ্চলের মোট নয়টি জেলা সফর করবেন তারেক রহমান।
সফরের প্রথম দিন ১১ জানুয়ারি ঢাকায় কর্মসূচি শেষে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তারেক রহমান। পরে তিনি বগুড়ায় পৌঁছাবেন।
১২ জানুয়ারি বগুড়া থেকে সফর শুরু করে তিনি রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলায় সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। একই দিনে রংপুরে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করার কর্মসূচিও রয়েছে।
১৩ জানুয়ারি পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক ও মতবিনিময় করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
সফরের শেষ দিন ১৪ জানুয়ারি রংপুর ও বগুড়ায় আরও কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।
নিহত জুলাই যোদ্ধা ও দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের কবর জিয়ারত এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে।
সফরকালে তিনি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শহীদ আবু সাঈদ এবং তৈয়বা মজুমদারসহ নিহত জুলাই যোদ্ধা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের কবর জিয়ারত করবেন। এছাড়া তাদের পরিবারের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে তারেক রহমান নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্বাচনি আচরণবিধি পুরোপুরি অনুসরণ করবেন এবং কোনোভাবেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করবেন না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের বিষয়ে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারের সই করা এক চিঠিতে ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কর্মসূচির বিষয়টি অবহিত করা হয়।
কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে বিএনপি।
৩৬ দিন আগে
৫ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বঙ্গবন্ধু পূর্বসেতু রেলস্টেশনে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার প্রায় ৫ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত (১৯ মার্চ) ৩টার দিকে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, সোমবার (১৮ মার্চ) রাত ১০টার দিকে লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার খায়রুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়া ট্রেনগুলো চলতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: বিজয় এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত: ১৪ ঘণ্টা পর ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
গতকাল সোমবার (১৮ মার্চ) পঞ্চগড় থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছাড়ার পর বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতির পর রাত ১০টার দিকে রওনা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি বগি লাইনচ্যুত হয়।
খায়রুল ইসলাম আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু রেলসেতু প্রকল্পের একটি ক্রেনের সাহায্যে বগিটি টেনে তোলা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় দুইশ ফুট লাইনের মেরামত করার পর ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
বঙ্গবন্ধু পূর্বসেতু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর আশরাফ জানান, এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। লাইনচ্যুত বগিটির চাকার কোনো ত্রুটির কারণে এমনটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ফেনীতে ‘সাগরিকা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত
ট্রেন লাইনচ্যুত: জামালপুর-ময়মনসিংহ রুটে চলাচল বন্ধ
৬৯৫ দিন আগে
বগি লাইনচ্যুত: গাজীপুরে ৮ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
গাজীপুরে মঙ্গলবার মধ্যরাতে একটি মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় প্রায় আট ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বুধবার সকালে ঢাকা ও দেশের উত্তরবঙ্গের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার রেজাউল ইসলাম ইউএনবিকে বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী সার বোঝাই মালবাহী ট্রেনটি মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে ঢাকা-রাজশাহী রেল রুটে কালিয়াকৈর উপজেলার বাজ হিজলতলী এলাকায় পৌঁছালে পেছনের একটি বগির চাকা লাইনচ্যুত হয়। এতে ঢাকার সাথে উত্তর বঙ্গের রেলরুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, বিভিন্ন স্টেশনে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেসসহ আটকা পরে কয়েকটি ট্রেন। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। সকালে ঢাকা থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। ক্ষতিগ্রস্ত বগিটি উদ্ধার করার পর সকাল সোয়া ৮টায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে ট্রেন লাইনচ্যুত, সারাদেশের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
দেড় মাস পর সিলেট থেকে ট্রেন চলাচল শুরু
চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনায় বন্ধ হওয়া ৬ ট্রেন চালু হয়নি, দুর্ভোগে যাত্রীরা
১২১২ দিন আগে
গাজীপুরে বগি লাইনচ্যুত: সাড়ে ১১ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
গাজীপুরে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গ ও উত্তরাঞ্চলের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার সাড়ে ১১ ঘণ্টা পর যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। লাইনচ্যুতর ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রেলওয়ের পশ্চিম জোনের চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কুদরত ই খোদা জানান, লাইনচ্যুত হওয়া বগি উদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামত শেষে সোমবার সকাল ৮টার দিকে আবারো ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এর আগে রাত ৯টায় পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনটির কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়।
তিনি বলেন, এই ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবে ওই কমিটি।
পড়ুন: ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত: ঢাকা সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ
খুলনায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা!
১২৭৭ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় মহাসড়কে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক বিকল, যানজটে দুর্ভোগে ৩২ জেলার মানুষ
কুষ্টিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারবাহী একটি ট্রাক মহাসড়কে আড়াআড়িভাবে বিকল হয়ে পড়ে আছে। এতে দীর্ঘ প্রায় ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের ৩২ জেলার যাতায়াতকারী মানুষ।
কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী জানান, উন্নত মানের বড় ক্রেন ছাড়া এই সিলিন্ডার সরানো সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে দীর্ঘ সময় ধরে মহাসড়ক বন্ধ রয়েছে। শনিবার বিকেলে বাগেরহাটের মোংলা বন্দর থেকে বড় সিলিন্ডারবাহী ১০ চাকার একটি ট্রাক প্রায় ১৭ টন এলপিজি গ্যাস নিয়ে নাটোর যাচ্ছিল। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ট্রাকটি কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের মিরপুর বহলবাড়িয়া এলাকায় ভাঙাচোরা সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। ট্রাকটি আড়াআড়িভাবে উল্টে থাকায় উভয় দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একমাত্র যোগাযোগের এই মহাসড়কটির দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন: সংস্কারের ৪ মাসের মধ্যে আবারও দেবে গেল কুষ্টিয়ার আঞ্চলিক মহাসড়ক
এদিকে গ্যাসভর্তি ভারী সিলিন্ডার হওয়ায় ট্রাকটি স্থানীয়ভাবে সরানো সম্ভব হচ্ছে না। পাবনার জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একদল রাশিয়ান এসে সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, ট্রাকটি সরাতে গেলে যে কোন সময় এলপিজি গ্যাসের বিস্ফোরণ ঘটে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে তারা ফিরে চলে যান। এদিকে মহাসড়ক বন্ধ থাকায় এলাকার বিভিন্ন বিকল্প ছোট রাস্তা দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করছে। এসব সড়কের কয়েক জায়গায় ভেঙে গেছে।
হাইওয়ে থানার ওসি ইদ্রিস আলী জানান, সিলিন্ডার সরানোর জন্য স্থানীয়ভাবে সব রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিস্ফোরণ হলে যাতে ক্ষতি না হয়, সে জন্য উভয় পাশে বালুর স্তুপ করে রাখা হয়েছে। তবে কখন সড়ক স্বাভাবিক হবে, তা তিনি নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি।
১৪৫২ দিন আগে
শেখ হাসিনার কারণে উত্তরবঙ্গে 'মঙ্গা' শব্দটি নিশ্চিহ্ন: পরশ
কোন এক অজানা কারণে কখনোই উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ব্যাপারে আগ্রহ দেখায় নি অতীতের কোন সরকার। শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারই উত্তরবঙ্গের মানুষের কথা চিন্তা করেন, তাদের সুখ-শান্তি ও জীবনমান উন্নয়নের কথা ভাবেন। একমাত্র শেখ হাসিনার কারণেই উত্তরবঙ্গে মঙ্গা শব্দটি আজ নিশ্চিহ্ন।
শুক্রবার বনানী মডেল স্কুল মাঠে অসহায়-দুঃস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ এ কথা বলেন।
এসময় রংপুর বিভাগের ৯টি জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের কাছে রংপুর অঞ্চলের শীতার্ত মানুষের জন্য কম্বল হস্তান্তর করা হয়। বনানী মডেল স্কুল মাঠে প্রায় ১০০০ অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করে যুবলীগ।
তিনি রংপুরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, শেখ হাসিনা ২০১০ সালে রংপুরকে বাংলাদেশে ৭ম প্রশাসনিক বিভাগ হিসাবে মর্যাদা দিয়েছেন। ৮টি জেলা, মোট ৩৩টি নির্বাচনী আসন নিয়ে আমাদের রংপুর বিভাগ। রংপুর বিভাগীয় সদর দপ্তর সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। এই বিভাগীয় সদর দপ্তরে প্রতিবন্দ্বী সাধারণ জনগণ অনন্য সেবা পাচ্ছেন। একেই বলে মানবিকতা।
আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা সহায়তায় ‘পরশ’
তিনি বলেন, রংপুর বিভাগকে এক সময় মঙ্গা কবলিত ও পশ্চাদপদ ভাবলেও গত ১৩ বছরে সে অবস্থার যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটেছে। রংপুর বিভাগ এখন খাদ্য-শষ্য উদ্বৃত্ত একটি অঞ্চল। প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য নেতৃত্বে ও দিকনির্দেশনার ফলে আজ এই বিভাগের অভাব দূর হয়েছে। সৈয়দপুর বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা হচ্ছে এবং ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ পাইপলাইন এর কাজ চলছে। এই সকল কাজ রংপুর বিভাগের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
পরশ বলেন, রংপুর বিভাগ বিগত ১৩ বছরে পেয়েছে এক অনন্যরূপ। উন্নয়নের জয়যাত্রায় সমৃদ্ধ হয়েছে রংপুর বিভাগবাসী। আপনাদের এই কথাগুলো জনগণকে বলতে হবে। ২০০৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় রংপুরের উন্নয়নের দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এক সময়ের মঙ্গা-পীড়িত উত্তরাঞ্চল এখন সমৃদ্ধ জনপদ। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত পদক্ষেপের ফলে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রংপুরে কোন মঙ্গা ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর রংপুরে আর মঙ্গা দেখা দেয় নাই, দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় নাই, মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এখন উদ্বৃত্ত খাদ্যের অঞ্চল হয়ে গেছে রংপুর। যেখানে এক সময় খাবারের অভাবে মানুষ মারা যেত। কিন্তু এখন যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নও হয়েছে।
এসময় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী এমপি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা, মো. রফিকুল আলম জোয়ার্দার সৈকত, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মো. মাজহারুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয়, মহানগর ও বিভিন্ন জেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: প্রজন্মের উন্নয়নে চলচ্চিত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
উন্নয়ন করলে শত্রু ও চাপ বাড়ে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
১৪৭৬ দিন আগে