যুদ্ধ
২০২৬ সালজুড়ে ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে রাশিয়া: সামরিক থিংকট্যাঙ্ক
অর্থনৈতিক চাপ ও জনবল সংকটের লক্ষণ দেখা দিলেও ২০২৬ সালজুড়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাশিয়ার এখনও রয়েছে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আন্তর্জাতিক সামরিক থিংকট্যাঙ্ক আইআইএসএস। একইসঙ্গে ইউরোপের জন্য রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি বাড়ছে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, মস্কোর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে—এমন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই। বরং রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি ক্রমশ বাড়ছে। এমনকি ইউক্রেনকে অর্থনৈতিক ও জনবলর চাপের মধ্যেও ফেলতে পারে রাশিয়া।
আইআইএসএসের মহাপরিচালক বাস্তিয়ান গিগেরিশ বলেছেন ‘যুদ্ধের পঞ্চম বছরে রাশিয়ার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে—এমন ইঙ্গিত খুব কম পাওয়া যাচ্ছে।’
থিংকট্যাঙ্কটির তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রতিরক্ষায় রাশিয়ার ক্রেমলিন অন্তত ১৮৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে যা এর সাধরণ ব্যয়ের চেয়ে ৩ শতাংশ বেশি। এটি দেশটির জিডিপির ৭ দশমিক ৩ শতাংশ যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের দ্বিগণেরও বেশি এবং যুক্তরাজ্যের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।
থিঙ্কট্যাঙ্কটির প্রতিরক্ষা অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ফেনেলা ম্যাকগার্টি তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, রাশিয়ার অর্থনীতির গতি কমছে, ফলে ২০২৬ সালে প্রকৃত অর্থে সামরিক ব্যয় কিছুটা কমতে পারে। তবে গত কয়েক বছরের বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিষয়টি দেখতে হবে।’
ওই প্রতিবেদনে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘২০২১ সালের পর থেকে রাশিয়ার সামরিক ব্যয় বাস্তবিক অর্থে দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে রাশিয়া সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল নিয়োগে বেশি ব্যয় করতে পারছে এবং অদূর ভবিষ্যতেও রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর স্থল ও আকাশপথে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে।’
চার বছর আগে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন শুরু করেন। এই আগ্রাসনে রাশিয়ার প্রতিবেশী ছোট এই দেশটি ভেঙে না পড়লেও এতে ১২ লাখের বেশি লোক হতাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও লড়াই চালিয়ে যেতে পারে রাশিয়া।
গিগেরিশ বলেন ‘একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পর্কে পশ্চিমাদের আলোচনা চললেও রাশিয়া ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একমুখী আক্রমণকারী ড্রোনের মাধ্যমে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জনবসতিতে হামলা আরও জোরদার করেছে।’
আইআইএসএসের রাশিয়া বিশেষজ্ঞ এবং বেলারুশে যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত নাইজেল গুল্ড ডেভিস বলেন এমন অনেক লক্ষণ স্পষ্ট হচ্ছে যেখানে দেখা যাচ্ছে রাশিয়ার মাসিক সৈন্য নিয়োগের হার যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের প্রাণহানির তুলনায় কমে আসছে।’ তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, ইউক্রেনজুড়ে সম্মুখ সমরে আক্রমণের তীব্রতা কমিয়ে মস্কো তাদের এই ক্ষয়ক্ষতির হার কমিয়ে আনার সক্ষমতা রাখে।
তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়া তাদের সামরিক খাতে প্রতি মাসে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার জনবল নিয়োগ দিচ্ছে। তবে নিয়োগপ্রাপ্তদের মান কমছে, কারণ এখন মদ্যপ, মাদকাসক্ত ও অসুস্থ লোকদেরও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।’
এদিকে, রাশিয়ার আক্রমণে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব রয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে ৩৫ হাজার ৩০ জন এবং এ বছরের জানুয়ারিতে ৩১ হাজার ৭১৩ জন হতাহত হয়েছে।
থিংকট্যাঙ্কটি জানিয়েছে, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মস্কো নতুন রণকৌশল, ক্ষেপণাস্ত্র ও হামলায় সক্ষম ড্রোন তৈরি করছে। এর মধ্যে আধুনিক শাহেদ-১৩৬ ড্রোনও রয়েছে যা ইউরোপজুড়ে ২ হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম।
গিগেরিশ বলেন ‘রাশিয়ার এ ধরনের উদ্যোগ ন্যাটোর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, গত সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ডের আকাশসীমায় ২১টি রুশ ড্রোন ঢুকে পড়ে। যার ফলে বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনটি অঞ্চলের মানুষ ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
রাশিয়ার হুমকির জবাবে ইউরোপের ন্যাটো সদস্য ও কানাডা ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে আইআইএসএস তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন ‘দ্য মিলিটারি ব্যালান্স’-এ বলেছে এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ও বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে যা অনেক দেশের জন্য কঠিন হবে।
গিগেরিশ বলেন, ‘সামরিক গোয়েন্দা তথ্য, ক্লাউড কম্পিউটিং ও মহাকাশ সম্পদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইউরোপের দেশগুলোর ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।’ এর পাশাপাশি বিমান প্রতিরক্ষা উন্নত করাও ইউরোপীয় দেশগুলোর অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
৮ দিন আগে
ইরানকে সীমিত হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা শেষে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হতে পারে বলে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক জানালেও তেরানে সীমিত পরিসরে হামলার কথা বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প নিজেই হামলার বিষয়ে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বলতে পারেন, আমি বিষয়টি (হামলা) বিবেচনা করছি।’ কয়েক ঘণ্টা পর তিনি আরও বলেন, ইরানকে ‘একটি ন্যায্য চুক্তি’ নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জানান, তার দেশ ‘আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে’ একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত করে ওয়াশিংটনে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
আরাগচি এমএসএনবিসির ‘মর্নিং জো’-এর এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এই চুক্তি করতে বেশি সময় লাগবে না। হয়তো এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা চুক্তির মূল বিষয় নিয়ে বাস্তব ও গুরুতর আলোচনা শুরু করতে পারব এবং একটি সিদ্ধান্তেও পৌঁছাতে পারব।’
এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কাছ থেকে চুক্তিসংক্রান্ত দাবি আদায়ে চাপ বাড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলেছে। এখনো আরও যুদ্ধজাহাজ ও বিমান পাঠাচ্ছে দেশটি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত জাহাজের ছবিতে দেখা গেছে, ট্রাম্পের নির্দেশে ক্যারিবীয় সাগর থেকে পাঠানো ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোল্ড নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ জিব্রাল্টার প্রণালি অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে।
এমন বাস্তবতায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে গেলে তারা উভই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
আরাগচি বলেন, ‘আমরা যেমন কূটনীতির জন্য প্রস্তুত, তেমনি আলোচনার জন্য প্রস্তুত এবং ঠিক একইভাবে যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত রয়েছি।’
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলি ভাইজ বলেন, ইরান যেকোনো সামরিক পদক্ষেপকে অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে দেখবে।
ভাইজের মতে, প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে ইরানের নেতারা দ্বিতীয়বার ভাববেন না এবং তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা হলেও তারা ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন।
যা নিয়ে চলছে আলোচনা
এসব ঘটনার এক দিন আগে ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক পরোক্ষ আলোচনার পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ দিনই ‘যথেষ্ট সময়’। জেনেভায় চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত আলোচনাসহ বিভিন্ন বৈঠকে দৃশ্যমান অগ্রগতি কম হলেও আলোচনা চলছে।
তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের ২০১৫ সালে যে পারমাণবিক হয়, তা থেকে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেয়। তারপর থেকেই এই আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে।
তারপর থেকে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৃহত্তর দাবিগুলো, যেমন: ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করাসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল ইরান।
যদিও প্রকাশ্যে মার্কিন কর্মকর্তারা ভিন্ন কথা বলেছেন, আব্বাস আরাগচি শুক্রবার বলেন, সর্বশেষ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি করেননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমান আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিসহ চিরকাল শান্তিপূর্ণ থাকবে এমন পরিস্থিতি নিশ্চিত করা। এর বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরান আস্থা বৃদ্ধিমূলক কিছু পদক্ষেপও বাস্তবায়ন করবে।’
আরাগচির এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বা তা তৈরির সক্ষমতা রাখতে পারবে না এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণও করতে পারবে না।
তেহরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, যেকোনো আলোচনা কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই হওয়া উচিত। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে না বলেও দাবি করেছে তেহরান।
সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশে তেহরান বাধা দেওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘শান্তিপূর্ণ’ দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ মনে করে, এর লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত অস্ত্র উন্নয়ন।
মার্কিন কংগ্রেস যা বলছে
ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে কংগ্রেসের কিছু আইনপ্রণেতা আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলার আগে প্রেসিডেন্টের কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া উচিত।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কাইন শুক্রবার জানান, তিনি একটি ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন’ প্রণয়ন করেছেন, যাতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার আগে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হবে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের একক সামরিক সিদ্ধান্তের ক্ষমতা সীমিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে এই প্রস্তাব আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ এটিতে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পেরই সই লাগবে। তবুও অতীতে ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সিনেটে যেসব রেজল্যুশনের ওপর ভোট হয়েছিল, সেগুলোর মতোই এই উদ্যোগে উভয় দলের কিছু সমর্থন তৈরি হয়েছে। যদিও সেসব রেজল্যুশন পাস হয়নি, তবু তা ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ তুলে ধরে।
এক সংবাদ বিবৃতিতে কাইন বলেন, ‘যদি আমার কিছু সহকর্মী যুদ্ধকে সমর্থন করেন, তাহলে তাদের উচিত সেই যুদ্ধের পক্ষে ভোট দেওয়ার সাহস দেখানো এবং ভোটারদের কাছে জবাবদিহি করা—ডেস্কের নিচে লুকিয়ে থাকা নয়।’
১২ দিন আগে
গাজা যুদ্ধের শুরুতে নিহত ছিল প্রকাশিত হিসাবের চেয়ে ২৫০০০ বেশি: ল্যানসেট
গাজায় দুই বছরব্যাপী যুদ্ধের প্রথম ১৬ মাসে ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যা সে সময় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘোষিত মৃত্যুসংখ্যার তুলনায় অন্তত ২৫ হাজার বেশি।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এক গবেষণার মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষের অনুপাত নিয়ে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে তথ্য দিয়েছিল, তা সঠিক ছিল।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলা এবং ইসরায়েলের গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৪২ হাজার ২০০ নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যা গাজায় সহিংসতায় নিহতদের মোট সংখ্যার ৫৬ শতাংশ।
দ্যা গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, এই গবেষণায় অংশ নেওয়া গবেষকদের মধ্যে ছিলেন লেখক, অর্থনীতিবিদ, জনসংখ্যাবিদ, মহামারিবিদ ও জরিপ বিশেষজ্ঞ। তারা বলেছেন, ‘সমন্বিত প্রমাণ বলছে, ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত গাজা উপত্যকার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ আগ্রাসনে নিহত হয়েছে এবং সংঘাতের কারণে পরোক্ষভাবে অ-সহিংস মৃত্যুর সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্যসংখ্যক।’
গাজায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। তবে গত মাসে এক প্রবীণ ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সংকলিত মৃত্যুর তথ্য মোটামুটি সঠিক।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাছাড়া এখন পর্যন্ত নিখোঁজদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, ইসরায়েলি হামলায় সরাসরি নিহতের সংখ্যা ৭১ হাজার ৬৬০ জন ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ৫৭০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।
গত বছর ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণায় গবেষকরা অনুমান করেছিলেন, যুদ্ধের প্রথম ৯ মাসে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে নিহতের সংখ্যা জানিয়েছিল, তা তাদের হিসাবের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম ছিল।
নতুন গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, সরকারিভাবে ইসরায়েল প্রকাশিত নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম দেখানো হয়েছিল এবং হিসাবেও গরমিল করা হয়েছে।
গবেষণাটি গাজায় ২ হাজার পরিবারের ওপর পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে তৈরি, যেখানে জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়। জরিপটি পরিচালনা করেন মূলত অভিজ্ঞ ফিলিস্তিনি জরিপকারীরা, যারা ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য স্থানে জরিপ কাজের জন্য পরিচিত।
বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ পর্যালোচিত গবেষণার অন্যতম লেখক এবং রয়্যাল হলোওয়ে, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অর্থনীতির অধ্যাপক মাইকেল স্পাগাট বলেন, ‘এটি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি জরিপ এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য এটি মানসিকভাবে কষ্টকর ছিল। তাই জরিপের সময় প্রশ্নোত্তরকালে ওইসব মানুষের মানসিক অবস্থাসহ আরও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করতে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদেরই নিযুক্ত করা হয়।’
দুই দশকের বেশি সময় ধরে সংঘাতে হতাহতের হিসাব নিয়ে কাজ করা স্পাগাট জানান, নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গাজায় প্রায় ৮ হাজার ২০০ মৃত্যুর পরোক্ষ কারণ অপুষ্টি ও চিকিৎসাহীনতা। তিনি ২০২৪ সালে ল্যানসেটে প্রকাশিত আরেক গবেষণার হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, যেখানে প্রতি একটি সরাসরি মৃত্যুর বিপরীতে চারটি পরোক্ষ মৃত্যুর কথা বলা হয়েছিল।
স্পাগাট বলেন, ‘প্রতিটি সংঘাতের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে মৃত্যুর ধরনে বড় পার্থক্য দেখা যায়। যেমন: কসোভো সংঘাতের সব মৃত্যুই ছিল সহিংস, কিন্তু দারফুরের মতো জায়গায় আবার ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। গাজায় শুরুতে অন্তত প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও একটি চিকিৎসাব্যবস্থা ছিল। পাশাপাশি অঞ্চলটি ছোট হওয়ায় সহায়তা পৌঁছালে মানুষকে দ্রুত সাহায্য করা সম্ভব হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটিকে কম সংখ্যক মৃত্যু বলে ভাবার সঙ্গে আমি একমত নই। আমরা এই বিষয় নিয়ে মানুষের সংবেদনশীলতা কমানোর প্রয়োজন বোধ করছি । তবে হ্যাঁ, অনেকের ধারণার তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা কম হতে পারে।’
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ বেসামরিক মানুষ নিহত হন। সেই সঙ্গে ২৫০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায় হামাস। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েল পাল্টা অভিযান শুরু করে। ইসরায়েল বিমান হামলা, ট্যাংক গোলাবর্ষণ ও ভারী আর্টিলারি হামলায় গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে।
গবেষণাটি ইসরায়েলের অভিযানের সবচেয়ে তীব্র ও প্রাণঘাতী সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত করলেও, মানবিক সংকটের সবচেয়ে চরম সময়কে অন্তর্ভুক্ত করেনি। গত বছরের আগস্টে জাতিসংঘ-সমর্থিত বিশেষজ্ঞরা গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছিলেন।
গাজায় নিহতদের মধ্যে যোদ্ধা ও বেসামরিক মানুষের অনুপাত নিয়েও তীব্র বিতর্ক রয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তাদের হামলায় উভয় পক্ষের সংখ্যা প্রায় সমান। তবে নতুন গবেষণা সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
নভেম্বরে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ডেমোগ্রাফিক রিসার্চ-এর একদল গবেষক অনুমান করে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত গাজায় ৭৮ হাজার ৩১৮ জন নিহত হয়েছেন যা নতুন গবেষণার সময়সীমার সঙ্গে প্রায় একই। তবে ওই গবেষণায় পরোক্ষ মৃত্যুর সংখ্যা বেশি ধরা হয় এবং এতে ২০২৩ সালে গাজায় আয়ুষ্কাল ৪৪ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৪৭ শতাংশ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
স্পাগাট বলেন, সংঘাতে মোট নিহতের একটি চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল সম্পদ প্রয়োজন হবে। সাম্প্রতিক গবেষণার সংখ্যাগুলোতেও উল্লেখযোগ্য ত্রুটির সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাস্তবে কী ঘটেছিল তা পুনর্গঠনের জন্য বহু মিলিয়ন পাউন্ডের গবেষণা প্রকল্প হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। গাজায় নিহত সব মানুষের পূর্ণ হিসাব পেতে অনেক সময় লাগবে, অবশ্য যদি কখনও তা সম্ভব হয়।’
১৪ দিন আগে
ইসরায়েলের ওপর আমি সন্তুষ্ট নই: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েলের ওপর আমি সন্তুষ্ট নই।
নির্ধারিত সময়সীমার পরও দুই দেশের হামলা বন্ধ না হওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে মঙ্গলবার (২৪ জুন) ভোরে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরায়েল ও ইরান উভয় দেশই যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে।’
ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে রওনা হওয়ার আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) লঙ্ঘন করেছে, একইভাবে ইসরায়েলও লঙ্ঘন করেছে।’
এর আগে, সোমবার (২৩ জুন) সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুইদেশের সংঘাতকে ‘১২ দিনের যুদ্ধ’ দাবি করে বলেন, ‘ইরান ও ইসরায়েল সম্পূর্ণ ও পুরোপুরি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।’
যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক ঘোষণায় তিনি বলেছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ঘোষণার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর যুদ্ধবিরতি শুরু হবে, সে অনুযায়ী যুদ্ধবিরতির সময় আনুমানিক রাত ১২টা (ইস্টার্ন টাইম)।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইরানে ইসরায়েলের হামলা, দুই জেনারেলসহ নিহত ৭
তবে, ইরান-ইসরায়েল দুইদেশই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে।
এ দিন, ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংবাদ সংস্থা ইরনার তথ্য মতে, রাজধানী তেহরানের নিকটবর্তী কারাজ শহরে ইসরায়েলের ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় ইরানের অভিজাত বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) দুই জেনারেলসহ বাহিনীটির মোট ৭ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে, ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় কাস্পিয়ান সাগরতীরবর্তী গিলান প্রদেশে ইসরায়েলি হামলায় ৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। প্রদেশের এক উপ-গভর্নরের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
২৫৪ দিন আগে
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কার কী ক্ষয়ক্ষতি হল
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের যুদ্ধ চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। দুই দেশের অনড় অবস্থানের কারণে হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শুক্রবার (১৩ জুন) প্রথমবারের মতো ইরানের শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নজিরবিহীন হামলা চালায় ইসরায়েল। এরপর থেকেই দুই দেশ নিজেদের প্রতিশোধের নেশায় যুদ্ধে নেমেছে। শক্তির প্রদর্শন করে লক্ষ্য অর্জনে মরিয়া দুপক্ষই।
ইরানের ক্ষয়ক্ষতি
ইসরায়েলের হামলায় ইরানে তুলনামূলক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশিই হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে। চলমান এই সংঘাতে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২৪ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের মধ্যে ৭০ জন নারী ও শিশু রয়েছে।
এখন পর্যন্ত ইরানের ৫ জন জেনারেল নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে আছেন দেশটির অভিজাত বাহিনী আইআরজিসি প্রধান হোসেইন সালেমি, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি, সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ইনচার্জ ঘোমালি রশিদ, আইআরজিসির বিমান বাহিনীর কমান্ডার আলী হাজিদাদেহ, আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখার প্রধান মো. কাজেমী।
এছাড়াও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির ছয়জন পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের পরমাণু জ্বালানি সংস্থার (এইওআই) সাবেক প্রধান ফিরেদুন আব্বাসি ও তেহরানের ইসলামি আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মোহাম্মদ মেহদি তেরাঞ্চি এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি একজন ইরানি তরুণ কবি ও তার পুরো পরিবার।
পড়ুন: ইরান-ইসরায়েল সংঘাত: তেহরানে বাংলাদেশিদের নিরাপদে স্থানান্তরের উদ্যোগ
অপরদিকে, ইসরাইলে ইরানের হামলায় ২৪ জন মানুষ নিহত হয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, গতকাল পর্যন্ত, গত কয়েক দিনে ইরান প্রায় ৩৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। ইরানের প্রতিটি হামলায় ৩০ থেকে ৬০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। তবে ইরানের দাবি, এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা।
ইসরাইলের শহরগুলোতে জরুরি মুহূর্তের জন্য বাংকার ব্যবস্থা থাকায় তুলনামূলক ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে। এছাড়া আয়রন ডোমের মতো তিন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরায়েলকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করছে। কারণ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর অনেকাংশ আয়রন ডোমের বাধার মুখে পড়ে ইসরায়েলে প্রবেশের আগেই ধ্বংস হয়ে যায়।
২৬১ দিন আগে
যুদ্ধে জন্ম নিয়ে, যুদ্ধেই শহীদ শিশুটি
তেরো মাস আগে যুদ্ধের মধ্যেই প্রথম সন্তানের জন্ম দেন আফনান আল-গানাম। তখন তার পরিবার গাজা উপত্যকায় নিজেদের বাড়িতে বাস করতেন।
চলতি বসন্তে তিনি দ্বিতীয়বার সন্তানসম্ভবা হয়েছেন। এই সময়ে এসে তারা একটি দারিদ্র্যপীড়িত তাঁবুর নিচে বাস করতেন। পনেরো মাস যুদ্ধ শেষে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি তাদের মধ্যে কিছুটা প্রশান্তি এনেছিল।
কিন্তু মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) বিমান হামলায় তাদের তাঁবুটি মাটিতে মিশে যায়। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা আফনান আল-গানাম ও তাদের প্রথম সন্তান মোহাম্মদ—দুজনেই নিহত হয়েছেন।
সেদিন সেহরির সময় আকস্মিকভাবে ঝাঁকে ঝাঁকে যুদ্ধবিমান এসে গাজায় বোমা ফেলতে শুরু করে। এতে চার শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের বেশিরবাগ নারী ও শিশু। ভূখণ্ডটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে। জিম্মিদের ছেড়ে দিতে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসকে বাধ্য করতে গাজায় হামলা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে ইসরাইল।
৩৫০ দিন আগে
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় নেই ইউক্রেন
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে বৈঠক শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা। যদিও এই বৈঠকে অংশীদার হিসেবে রাখা হয়নি ইউক্রেনকে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সৌদির দিরিয়াহ প্রাসাদে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, আর রাশিয়ার সের্গেই লাভরভ।
বৈঠকে রুবিওর সঙ্গে যুক্ত আছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ ও হোয়াইট হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ। রাশিয়ার পক্ষে সের্গেই লাভরভ ছাড়াও ক্রেমলিনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ আছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, রাশিয়াকে কোণঠাসা করে রাখতে দীর্ঘদিন ধরে যে নীতি অবলম্বন করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে সেখান থেকে সরে এসে এসেছে দেশটি। এই আলোচনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সাক্ষাতের পথও সুগম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন শেষে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সৌদি বৈঠকে কিয়েভকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ইউক্রেনকে ছাড়া আয়োজিত বৈঠকের কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।
তবে সৌদির এই বৈঠককে ‘সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক’ হিসেবে দেখেছেন উপদেষ্টা উশাকভ। এ কারণেই ইউক্রেনকে যুক্ত করা হয়নি বলে জানান তিনি। সৌদির মালিকানাধীন স্যাটেলাইট চ্যানেল আল আরবিয়াও এই বৈঠককে মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি স্বাভাবিক আলোচনা হিসেবেই নিশ্চিত করেছে।
রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে অভিযান শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছায়। প্রায় তিন বছর পর এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে দেশ দুটির সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধ বন্ধে ‘কার্যকর আলোচনায়’ থাকবে ইউক্রেন ও ইউরোপীয়রা
ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধের এই আলোচনায় খোদ ইউক্রেনকে আমন্ত্রণ না জানানোতে উদ্বেগ প্রকাশ করে কিয়েভ। এর পাশাপাশি আলোচনায় ইউরোপকে অর্ন্তভুক্ত না করায় তাদের পাশ কাটিয়ে শান্তি চুক্তির আলোচনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইউরোপীয় নেতারা।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সময় সোমবার প্যারিসে ইউক্রেনে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে ইউরোপের নেতাদের জরুরি বৈঠকে ডাকেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাকরন।
এছাড়াও মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি।
৩৮০ দিন আগে
যুদ্ধ বন্ধে এক টেবিলে বসতে যাচ্ছেন ট্রাম্প-পুতিন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের সখ্যতা বিশ্ব রাজনীতিতে সর্বজনবিদিত। এই সখ্যতাকে কাজে লাগিয়ে এক দিনের মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব—নির্বাচনী প্রচারণায় এমন কথাও বলেছিলেন ট্রাম্প। শপথের পরপরই ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের ইঙ্গিত দিয়েছে রাশিয়া।
এদিকেও ট্রাম্পও বলেন, পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠকের আয়োজন চলছে।
তবে কখন এই বৈঠক হবে, সেটা নিশ্চিত করা হয়নি। ফ্লোরিডায় মার-আ-লাগো রিসোর্টে ট্রাম্প বলেন, তিনি (পুতিন) বসতে চেয়েছেন, আমরা আয়োজন করছি।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পশ্চিমা দেশগুলো ঠেকাতে পারবে না: পুতিন
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ জানিয়েছেন, ‘ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত এবং আগ্রহীও বটে পুতিন। আলোচনার টেবিলে বসতে কোনো ধরণের শর্ত আরোপ করা হবে না। এটি হবে নিঃশর্ত এবং পরিচ্ছন্ন আলোচনা।’
ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০ জানুয়ারি শপথের পর পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন ট্রাম্প। সেখানে মস্কো-কিয়েভ সংঘাত নিরসনে কার্যকরী আলোচনা করা হবে।
সমস্যা সমাধানে পুতিন আগ্রহী জানিয়ে পেশকভ বলেন, দুপক্ষের সদিচ্ছাই এ আলোচনা হবে। পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে চলমান সমস্যা নিরসনের পথ বের হয়ে আসবে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, শপথের ৬ মাসের মধ্যে মস্কো ও কিয়েভকে শান্তি চুক্তিতে নিয়ে আসার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিরসনে ট্রাম্পের বিশেষ সহকারী যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিথ কিলোগ বলেন, ১০০ দিনের একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ পরিকল্পনামাফিক এগোতে পারলে যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব হবে।
যদিও কোন প্রক্রিয়ায় যুদ্ধ বন্ধ হবে—তেমন কোনো পরিকল্পনার কথা জানাননি ট্রাম্প। এদিকে পুতিনের ভাষ্য, রাশিয়ার দখল করা ভূমি থেকে ইউক্রেন নিজেদের বাহিনী সরিয়ে নিলে ও ন্যাটো যুদ্ধে প্রভাব খাটানো বন্ধ করলে ত্বরিৎ গতিতে সমাধান সম্ভব।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ‘প্রস্তুত’ পুতিন
৪১৮ দিন আগে
ইউরোপের দেশ না হয়েও ইসরায়েল কেন উয়েফার প্রতিযোগিতায়
দক্ষিণ ইসরায়েলে গাজার শাসক দল হামাসের গত বছরের অক্টোবরের হামলার জেরে উপত্যকাটিতে অব্যাহত অগ্রাসনের কারণে বিশ্বজুড়ে সমর্থন হারায় ইসরায়েল। অবরুদ্ধ গাজায় এক বছরের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনেও।
গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সম্প্রতি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনপন্থিদের সোচ্চার হতে দেখা গেছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা শঙ্কায় নেশন্স লিগে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজনে অস্বীকৃতি জানায় বেলজিয়াম। পরবর্তী সময়ে হাঙ্গেরির একটি দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।
গত ৬ নভেম্বর রাতে প্যারিসের পার্ক দে প্রান্স স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজি-আতলেতিকো মাদ্রিদ ম্যাচের আগে গ্যালারি থেকে ফিলিস্তিনপন্থিদের বিশাল ব্যানার প্রদর্শন করতে দেখা যায়। পরের দিন রাতে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামে ইউরোপা লিগের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচের পর ইসরায়েলি ক্লাব মাকাবি তেল আবিবের সমর্থকদের ওপর হামলা হয়।
একই ঘটনা দেখা গেছে ফ্রান্সে নেশন্স লিগের ম্যাচ আয়োজনের আগেও। বৃহস্পতিবার রাতে ফ্রান্স-ইসরায়েল ম্যাচের আগে বিক্ষোভে উত্তাল ছিল পুরো প্যারিস শহর।
আরও পড়ুন: ফ্রান্স-ইসরায়েল ম্যাচের আগে বিক্ষোভে উত্তাল প্যারিস
সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কারও কারও মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ হওয়া সত্ত্বেও কেন ইউরোপের প্রতিযোগিতায় খেলে ইসরায়েল ও তার ক্লাবগুলো।
এর উত্তর পেতে আমাদের ঢুঁ মারতে হবে ইতিহাসের পাতায়।
ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার বছর ১৯৪৮ সালে দেশটির জাতীয় ফুটবল দল গঠন হয়। এর আগে ১৯২৯ সাল থেকেই ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) ব্যানারে ফিফার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আসছিলেন ইহুদি খেলোয়াড়রা। সে সময় আরব, ইহুদি, এমনকি ব্রিটিশ শাসনামলে ওই অঞ্চলে কর্মরত ব্রিটিশ পুলিশ ও সেনাদের ক্লাবগুলোও পিএফএর অধীনে ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিত।
জাতীয় দল গঠনের পর এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন বা এএফসির একেবারে শুরুর দিকে আয়োজিত কয়েকটি এশিয়ান কাপেও অংশ নেয় ইসরায়েল। ১৯৫৬ সালে এশিয়ান কাপের প্রথম আসরসহ ১৯৬০, ১৯৬৪ ও ১৯৬৮ সালের আসরে অংশ নেয় ইসরায়েল জাতীয় ফুটবল দল। এর মধ্যে ১৯৬৪ সালে আয়োজক দেশ হিসেবে এশিয়ান কাপের শিরোপা জেতে দেশটি।
১৯৭৩ সালের শেষের দিকে মিসর ও সিরিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের ইয়ম কিপুর যুদ্ধের অবসানের পর পরিস্থিতি পাল্টে যেতে থেকে। আরব দেশগুলোর সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ ফুটবলের ময়দানেও ছাপ ফেলে। সে সময় প্রতিবেশী দেশগুলো ইসরায়েলের সঙ্গে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭৪ সালে কুয়েতের তদবিরে আরব দেশগুলো ইসরায়েলকে এএফসি থেকে বহিষ্কারের পক্ষে ভোট দিলে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দেশটি।
আরব লিগ থেকে বহিষ্কৃত হয়ে দেশের ফুটবল বাঁচাতে বিকল্প খুঁজতে থাকে ইসরায়েল। এশিয়া থেকে বের হয়ে ১৯৭৮ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ওশেনিক ফুটবল ফেডারেশনে (ওএফসি) যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে দেশটি।
পরে সদস্য দেশ না হয়েও উয়েফার বিশেষ অনুগ্রহে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ পায় ইসরায়েল। ১৯৮২ সালে উয়েফা এবং তার পরের দুটি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ওএফসির অধীনে খেলে তারা।
আরও পড়ুন: নেদারল্যান্ডসে ইসরায়েলি ফুটবল সমর্থকদের ওপর হামলা
পরবর্তী সময়ে ক্রীড়াক্ষেত্রে একটি কৌশলগত সমাধানের অংশ হিসেবে ১৯৯১ সালে ইসরায়েলি ক্লাবগুলোকে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ দেয় উয়েফা। এরপর ১৯৯৪ সালে ইসরায়েলকে সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। তার পর থেকে স্থায়ীভাবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউরো) ও নেশন্স লিগের মতো প্রতিযোগিতায় ইসরায়েল এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ইউরোপা লিগে অংশগ্রহণ করে চলেছে দেশটির ক্লাবগুলো।
ইউরোপের এলিট ফুটবলে খেললেও গাজায় এক বছরের বেশি সময় ধরে চলমান সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে ইসরায়েল। দেশটির বিভিন্ন ক্লাব ও সমর্থকদের প্রতি ক্ষোভ থেকে মাঝেমধ্যেই উত্তেজনা ছড়াচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। বিষয়টি কেবল ক্রীড়া ক্ষেত্রে নয়, শিক্ষা রাজনীতিসহ ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন অঙ্গনে।
অবশ্য ফুটবলকে কেন্দ্র করে ইহুদিদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার অভিযোগও ওঠে প্রায়ই। সবশেষ গত রাতে অনুষ্ঠিত ফ্রান্স-ইসরায়েল ম্যাচের আগেও এমন ঘটনার কথা জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
ম্যাচের আগে প্যারিসে একটি জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইসরায়েলের সমর্থনকারী ফ্রান্সের উগ্র ডানপন্থি ইহুদিরা। ফ্রান্সে বসবাসকারী ইহুদিদের সংগঠিত করতে মূলত ‘ইসরায়েল ইজ ফরেভার’ নামের একটি ইসরায়েলপন্থি সংগঠন ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ফিলিস্তিনে আগ্রাসন চলাকালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জন্য তহবিল সংগ্রহও অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে ছিল বলে খবর পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, ফুটবলে ১৯৬৪ সালের এশিয়ান কাপ জয়ই ইসরায়েলের এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় অর্জন। উয়েফার কোনো প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কিছু করে দেখাতে পারেনি তারা।
উয়েফায় যোগ দেওয়ার পর থেকে ২০০৮ সালে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে সর্বোচ্চ ১৫তম অবস্থানে উঠেছিল ইসরায়েল। এ র্যাঙ্কিংয়ে তাদের বর্তমান অবস্থান ৮১তম।
৪৭৫ দিন আগে
লেবানন-গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান সৌদি যুবরাজের
গাজায় ইসরায়েলের হামলাকে 'গণহত্যা' বলে নিন্দা জানিয়েছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। একই সঙ্গে পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে পুরোপুরি ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।
মুসলিম ও আরব নেতাদের সম্মেলনে লেবানন ও ইরানে ইসরায়েলি হামলার সমালোচনা করেন যুবরাজ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি প্রতিবেদনে বলা হয়, রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত দিয়ে, তিনি ইরানে আক্রমণ না করতে সতর্ক করেন ইসরায়েলকে।
গাজায় যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা’ বলে উল্লেখ করে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসরায়েল এই অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: ইরানের পরমাণু স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে ইসরাইলকে সতর্কবার্তা রাশিয়ার
প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ বলেন, ‘অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ এবং ইসরায়েলের আগ্রাসন শেষ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মূলত ব্যর্থ হয়েছে।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের ফলে গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়।এতে প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জন অপহৃত হন।
এরপর ইসরায়েল হামাসকে ধ্বংস করতে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, গাজায় ৪৩,৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গাজায় ছয় মাস ধরে যাচাই করা ভুক্তভোগীদের প্রায় ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু।
শীর্ষ সম্মেলনে গাজায় জাতিসংঘের কর্মী ও স্থাপনার ওপর ইসরাইলের অব্যাহত হামলারও নিন্দা জানান নেতারা।
এই শীর্ষ বৈঠকের প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে।
উপসাগরীয় নেতারা ইসরায়েলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কে জানে। তবে তার সঙ্গে তাদের ভালো সম্পর্কও রয়েছে এবং তারা চান যে তিনি এই অঞ্চলে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চুক্তি করুন।
সৌদি আরবে ট্রাম্পকে জো বাইডেনের চেয়ে অনেক বেশি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যে তার সম্পর্কে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
তিনি জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি এবং অধিকৃত গোলান মালভূমির সংযুক্তি দিয়ে ইসরাইলকে খুশি ও মুসলিম বিশ্বকে ক্ষুব্ধ করেন।
আরও পড়ুন: সীমান্ত এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় ৫ সিরীয় সেনা নিহত
৪৭৮ দিন আগে