মোনাজাত
শবে কদরে ইবাদতে মশগুল মুসল্লিরা, খতমে তারাবির বিশেষ মোনাজাত
বরকতময় শবে কদরেই নাজিল হয়েছে পবিত্র কোরআন। এই রজনী নিয়ে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ একটি সুরা। খোদার কাছে নিজেকে সপে দিতে হাজার মাসের চেয়েও সেরা এই রাতটির চেয়ে ভালো সময় আর কী-বা হতে পারে! মুসলমানরা সেই সুযোগটি হাতছাড়া করতে চান না।
তাই আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হয়ে পড়েছেন তারা। বিশেষ ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে মুসলমানদের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ শবে কদর। এই রাত উপলক্ষে রাজধানীর মসজিদে-মসজিদে খতমে তারাবির নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।
সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ঘুরে দেখা যায়, এশার আজানের পর থেকেই অন্যান্য দিনের তুলনায় মসজিদে মুসল্লিদের ভিড় বেশি। অনেক এলাকায় মসজিদে জায়গা না পেয়ে রাস্তায় জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে উপচেপড়া ভিড় ছিল মুসল্লিদের। অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে নামাজ পড়তে এসেছেন এখানে। এমনই একজন নারিন্দার বাসিন্দা আউয়াল হোসেন বলেন, প্রতি কদরেই বায়তুল মোকাররমে আসা পড়ে। একা না, এলাকার পরিচিত প্রতিবেশী এবং আশপাশের আত্মীয়-স্বজন সবাই মাগরিবের নামাজ শেষ করেই কদরের রাতের নামাজের জন্য এখানে আসেন।
আরেক মুসল্লি শরিফ আহমেদ বলেন, এই রাত মুসলমানদের জন্য বিশেষ রাত। রোজার মাস থেকে শুরু করে পুরো জীবনের সব ভুল-ত্রুটির জন্য মাফ চাইতে এই রাতকেই বেছে নেন মুসলমানরা।
শবে শব্দটি বাংলা ভাষায় এসেছে ফারসি থেকে। ফারসিতে শাব ও আরবিতে লাইলাতুন অর্থ রাত্রি বা রজনী। অন্যদিকে ‘কদর’ শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা, মহাসম্মান। লাইলাতুল কদরের নানা মহিমা কোরআন এবং হাদিসে বর্ণিত আছে। শবে কদর মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে ভাবমর্যাদাপূর্ণ রাত হিসেবে পালিত হয়।
হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে কেউ ঈমান ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে সালাত আদায় করতে দাঁড়াবেন, তার আগের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।”
যদিও কোরআন এবং হাদিসে শবে কদরকে নির্দিষ্ট কোনো তারিখে বেঁধে দেয়া হয়নি। বলা হয়েছে, রমজানের শেষ দশ দিন যেকোনো বেজোড় রাতই হতে পারে শবে কদর। তবে উপমহাদেশের অনেক আলেমের মতো, ২৭ রমজান দিবাগত রাতকে কদরের রাত বিবেচনা করে আলাদা মর্যাদায় পালন করা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশে যেসব মসজিদে খতমে তারাবির পড়ানো হয়, সেখানে সারা মাসে নামাজে পড়া কিরাতের মাধ্যমে কোরআন তেলাওয়াত খতম দেয়া হয় কদরের রাতে। এতে করে একদিকে কোরআন খতম, অন্যদিকে কদরের রাত- দুই মর্যাদাই মুসলমানরা লাভ করতে পারেন।
এ প্রসঙ্গে উত্তর বাড্ডা জামে মসজিদের ইমাম মুফতি মাওলানা আজহারউদ্দীন বলেন, ‘শহরের মানুষের আলাদা করে কোরআন পড়া কিংবা শোনার সময় হয় না। এজন্য অনেকেই কোরআন খতমের বড় একটি মাধ্যম হিসেবে খতমে তারাবিকে বেছে নেন। কদরের রাতে কোরআন খতমের পাশাপাশি যারা কোরআন পড়িয়েছেন, সেইসব হাফেজদেরকেও আলাদা করে হাদিয়া দেয়া হয়। মূলত গোটা রমজানের পূর্ণতা আসে এই কদরের রাতকে কেন্দ্র করেই।’
আজহারউদ্দীন বলেন, ‘এশা এবং তারাবির পর কদরের রাতের জন্য আলাদা করে কোনো নামাজ না থাকলেও মুসল্লিরা সারারাত নফল নামাজ এবং জিকির-আজকারের মাধ্যমে ইবাদত করেন। কেননা রমজানে নফল ইবাদতের সওয়াব ফরজের সমান। এছাড়া কোরআন তেলাওয়াত এবং দান-খয়রাতের মাধ্যমে কাটে এই রাত। শেষ রাতে মসজিদে মসজিদে আয়োজন করা হয় বিশেষ মোনাজাতের। আল্লাহর কাছে নিজেদের ভুল-ভ্রান্তি এবং পাপের ক্ষমাপ্রার্থনার পাশাপাশি দেশ-জাতি এবং সমস্ত মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা হয়।’
৬ দিন আগে
কুড়িগ্রামে ঈদের নামাজ পর মোনাজাতের সময় মুসুল্লির মৃত্যু
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে মোনাজাত করার সময় এক মুসুল্লির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কেরামতিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
তবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারেন।
আরও পড়ুন: ঢাকার ভবন থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু
নিহত ওই মুসুল্লি সামছুল রহমানের (৬০) বাড়ি নাগেশ্বরী পৌরশহরের সেনপাড়া এলাকায়।
জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে ঈদুল ফিতরের নাজাজ শুরু হয়। নামাজ শেষে মোনাজাত করার সময় ওই ব্যক্তি মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেন।
তবে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয় মুসুল্লিরা।
পরে নিহতের স্বজনরা তার লাশ বাড়িতে নিয়ে গেছে। বিকালের দিকে তাকে দাফন করা হতে পারে।
নাগেশ্বরী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবিউল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সকালে ঈদের নামাজ শেষে মোনাজাত করার সময় এক ব্যক্তি মারা গেছেন।
আরও পড়ুন: রামপুরায় গাড়ির ধাক্কায় বাইকারের মৃত্যু
জৈন্তাপুরে বজ্রপাতে ৩ শিশুর মৃত্যু
৭১২ দিন আগে
আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো কুড়িগ্রামের ইজতেমা
ধর্ম প্রাণ মুসলিম সম্প্রদায়ের তিন দিনব্যাপী ইজতেমা কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ধরলা ব্রিজের পূর্ব প্রান্তে সৈয়দ ফজলুল করিম (রহ.) জামিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা মাঠে আখিরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ মার্চ) রাত ১২টার দিকে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তিন দিনের এ ইজতেমার পরিসমাপ্তি ঘটে। এর আগে এদিন দুপুরে জুমার নামাজে ইজতেমা ময়দানে লাখো মানুষের ঢল নামে।
দেখা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও বিশাল মাঠ জুড়ে ইজতেমা প্যান্ডেল তৈরি হয়েছে। ইজতেমাকে ঘিরে হাজার হাজার মানুষ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে দূর দূরান্ত থেকে জমায়েত হয়েছেন ইজতেমার প্রাঙ্গণে। এছাড়াও রাস্তার দুধারে আর মাঠ প্রাঙ্গণের পাশে বিভিন্ন সামগ্রী ও খাবারের দোকান বসেছে।
বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির ব্যানারে আয়োজিত এ ইজতেমায় জুমার নামাজে ইমামতি করেন চরমোনাই পীর মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। নামাজ শেষে বিশ্ব মানবতার মুক্তি কামনায় দোয়া করা হয়। এদিকে তিন দিনের ইজতেমার আখেরি মোনাজাত শনিবার সকালে হওয়ার কথা থাকলেও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের কারণে শুক্রবার রাতে এশার নামাজের পর আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। জুমার নামাজের আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন চরমোনাই পীর মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের ছোট ভাই মুফতি ইসাহাক আবুল খায়ের।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন সরকার জানান, জুমার নামাজের খুদবা পাঠ এবং নামাজে ইমামতি করেন চরমোনাই পীর মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জুমার নামাজ আদায় করা হয়।
চেয়ারম্যান বলেন, ‘২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আখেরি মোনাজাতের সময় এগিয়ে নিয়ে শুক্রবার রাতে এশার নামাজ শেষে আখেরি মোনাজাত করা হয়। চরমোনাই পীর মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম মোনাজাতে নেতৃত্ব দেন। দোয়ায় বিশ্ব মানবতার কল্যাণ কামনা করে আল্লাহর সহায়তা ও রহমত প্রার্থনা করা হয়।’
ইজতেমার আয়োজক কমিটির সদস্য মো. আব্দুল মমেন বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব হুজুরের দোয়ার মধ্যে দিয়েই ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা ভালো ভাবেই শেষ হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার বাদ যোহর লাখো মুসল্লিদের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া তিন দিনের এ ইজতেমায় উদ্বোধনী বয়ান করেন চরমোনাই পীর মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত!
কুড়িগ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত
১১০৪ দিন আগে