ফিলিস্তিনি
ফিলিস্তিনিদের হত্যার প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ফিলিস্তিনিদের নির্বিচারে হত্যার প্রতিবাদে ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর শাখা। এ সময় ইসরায়েলি সকল পণ্য বর্জনের আহ্বান জানানো হয় মানববন্ধন থেকে।
বুধবার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এই কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। এতে মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
মানবিবন্ধনে বক্তারা বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপরে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালাচ্ছে। তারা আমাদের হাজার হাজার ভাই-বোনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে।
তারা বলেন, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা, বিদ্যুৎ ও পানিসহ সবদিক থেকে নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে আমাদের ভাইয়েরা। এছাড়া খাদ্যের অভাবে ফিলিস্তিনিরা হাহাকার করছে, মৃত্যুবরণ করছে। এই অবস্থায় একজন মুসলিম হিসেবে আমরা নিশ্চুপ থাকতে পারি না।
তারা আরও বলেন, দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী ও তার দোসর আমেরিকা ও ভারতের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। একইসঙ্গে তাদের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। ইসরায়েলের সকল পণ্য বর্জন করতে হবে।
আরও পড়ুন: ধর্ষকদের শাস্তি ও নারীদের নিরাপত্তার দাবিতে জাবিতে মানববন্ধন
আমাদের প্রতিটি স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলন ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান নেতারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) সভাপতি তারেক মনোয়ার, সিলেট জেলা পূর্ব সভাপতি মারুফ আহমদ, সিলেট জেলা পশ্চিম সভাপতি মনিরুজ্জামান পিয়াস।
মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন সিলেট মহানগর সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম সাজু। এছাড়াও মানববন্ধনে সিলেট মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৯ দিন আগে
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ, সুপেয় পানির সংকটে পড়তে যাচ্ছেন গাজাবাসী
খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের মানবিক সহায়তা বন্ধের পর এবার গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে ইসরায়েল। এতে উপত্যকাটির অনুর্বর এলাকায় খাবার পানি পরিশোধনে একটি বিলবণীকরণ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। ফিলিস্তিনিদের অনাহারে মারতে ইসরায়েল এই নীতি গ্রহণ করেছে বলে দাবি করেছে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।
স্থানীয় সময় রবিবার (৯ মার্চ) এক বিবৃতিতে গাজায় বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের মেয়াদ বাড়াতে হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।-খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি)।
২০ লাখের বেশি বাসিন্দার গাজা উপত্যকায় গেল সপ্তাহে পণ্য সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। যুদ্ধের প্রথম দিকেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। বিলবণীকরণ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রমজানে উপত্যকাটির বাসিন্দারা নিরাপদ পানি থেকে বঞ্চিত হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গাজায় গত ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ কার্যকর হয়। আর এ ধাপে ৩৩ ইসরায়েলি জিম্মিকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে আটক কয়েকশ ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। গত ১ মার্চ প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের মেয়াদ আরও বাড়াতে হামাসকে চাপ দিচ্ছে ইসরায়েল।
এদিকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে হামাসের হাতে থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের অর্ধেককে মুক্তি করে নিতে চাচ্ছে তারা। কিন্তু হামাস চাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শুরু করতে, যেটা আরও কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাও প্রত্যাহার চাচ্ছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনটি।
হামাসের কাছে বর্তমানে ২৪ জীবিত জিম্মি ও ৩৫টি ইসরায়েলি মরদেহ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আলোচনা এগিয়ে নিতে সোমবার একটি প্রতিনিধি দল কাতারে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।
আরও পড়ুন: গাজায় মানবিক সহায়তা বন্ধের নির্দেশ দিলেন নেতানিয়াহু
রবিবার হুঁশিয়ারি করে হামাস জানিয়েছে, খাদ্য ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হলে জিম্মিদের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। বিপরীতে সব ধরনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল।
পনেরো মাসের যুদ্ধে গাজা ও সেখানকার সব অবকাঠামো বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের জন্য হাসপাতালসহ বেশিরভাগ স্থাপনায় বর্তমানে জেনারেটর ব্যবহার করা হচ্ছে।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, ‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। কিন্তু সর্বশেষ তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের ক্ষুধায় মারার নীতি। এরমধ্য দিয়ে তারা আন্তর্জাতিক সব নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে।’
ফিলিস্তিনিদের চলাচলের স্বাধীনতা সুরক্ষায় কাজ করা ইসরায়েলি সংস্থা গিসা জানিয়েছে, ‘ওই বিলবণীকরণ কেন্দ্র থেকে দৈনিক গড়ে ১৮ হাজার ঘনমিটার পানি পরিশোধন করা হতো। জেনারেটর ব্যবহার করে দুই হাজার ৫০০ ঘনমিটার পানি পরিশোধন করা সম্ভব, যা একটি অলিম্পিক সুইমিংপুলের সমপরিমাণ।’
১৮ দিন আগে
ট্রাম্পের গলফ রিসোর্টে হামলা
স্কটল্যান্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টার্নবেরি গলফ রিসোর্টে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ট্রাম্পের গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র সরানোর পরিকল্পনার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনপন্থি ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন‘ নামের একটি সংগঠন এই হামলা চালিয়েছে বলে দায় স্বীকার করেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৮ মার্চ) এক বিবৃতির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংগঠনটি।
ট্রাম্পের গাজা নিয়ে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য ও পরিকল্পনার কারণে ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনি মানুষ ও তাদের সমর্থকরা। এরই জেরে এই হামলা ঘটিয়েছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন সংগঠনের সদস্যরা।-খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি)।
টার্নবেরি রিসোর্টটি ভাঙচুর করার পাশাপাশি রিসোর্টের দেয়ালে লাল রং দিয়ে ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিভিন্ন গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়েছে। রিসোর্টের সবুজ মাঠে লাল রং দিয়ে লেখা হয়েছে ‘গাজা বিক্রির জন্য নয়।’
আরও পড়ুন: গাজায় মানবিক সহায়তা বন্ধের নির্দেশ দিলেন নেতানিয়াহু
সংগঠনটির কর্মীরা জানায়, ট্রাম্প গাজাকে নিজের সম্পত্তির মতো মনে করে, যা খুশি তাই করতে পারে না—তারই প্রতিবাদ এটা।
তারা বলেন, ‘আমরা ট্রাম্পকে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিতে চাই, আমাদের প্রতিরোধ থেকে তার নিজের সম্পত্তিও নিরাপদ নয়।’
ফিলিস্তিনিনের এই হামলাকে ট্রাম্প ‘বাচ্চাসুলভ, অপরাধমূলক’ কার্যক্রম হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তার পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসবে না। এই ঘটনায় স্কটল্যান্ড পুলিশ রিপোর্ট পেয়েছে বলে জানিয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলমান বলে নিশ্চিত করেছেন তারা।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে হঠাৎ হামলা চালায় হামাস। সে সময় প্রায় ১ হাজার ২০০ অবৈধ বসতিস্থাপনকারী ইসরায়েলি নিহত হন। পাশাপাশি আরও প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যান হামাস যোদ্ধারা।
এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে পরের দিন থেকে গাজাজুড়ে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। আকাশ ও স্থলপথে গত প্রায় ১৫ মাস ধরে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৪৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এরপরে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ৩৩ ইসরায়েলি জিম্মিকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে আটক কয়েকশ ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। প্রথম ধাপ শেষ হলেও দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে গাজার মানুষের ভাগ্য।
এরইমধ্যে পুর্নগঠনের নামে উপত্যকাটির বাসিন্দাদের স্থায়ীভাবে অন্যত্র সরিয়ে গাজা দখলের প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। তবে তার এই প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ফিলিস্তিনিরা।
১৯ দিন আগে
এবার অধিকৃত পশ্চিমতীরে ট্যাংক পাঠাল ইসরায়েল
দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অধিকৃত পশ্চিমতীরে ট্যাংক পাঠিয়েছে ইসরায়েল। এতে পশ্চিমতীরে অস্থিরতা বাড়বে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ফিলিস্তিনি কতৃপক্ষ।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতানিয়াহুর সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি সেনাবাহিনীকে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। পশ্চিমতীরের শরণার্থী শিবিরে সন্ত্রাসবাদ দমনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এ ছাড়াও তিনি জানান, ‘অঞ্চলটিতে ইসরায়েলের সেনারা এক বছর অবস্থান করবেন। এ সময় কোনো ফিলিস্তিনিকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’
১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দুদিন পর থেকে পশ্চিমতীরে অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধি করেছে ইসরায়েল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর হতে পশ্চিমতীরে এ পর্যন্ত ৮০০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে আট মাসের গর্ভবতী এক নারীর মৃত্যু বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি স্থগিত করল ইসরায়েল: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
পশ্চিমতীরে নিজেদের আধিপত্য দীর্ঘস্থায়ী করতে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন ফিলিস্তিনিরা। অঞ্চলটিতে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি সামরিক শাসনের অধীনে বাস করেন। এই অভিযানে গাজা উপত্যকার মতো পরিস্থিতি হতে পারে আশঙ্কা করছেন পশ্চিমতীরের ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা।
এর আগে, পশ্চিমতীরের কিছু শরণার্থী শিবির এলাকায় সেনাবাহিনীকে দীর্ঘদিন অবস্থানের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছিলেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ওই এলাকাগুলো থেকে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ প্রাণভয়ে পালিয়ে গেছেন।
কয়েক দশক আগে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর পালিয়ে আসা ফিলিস্তিনিরা এই শিবিরগুলোতে বাস করতেন। চলমান অভিযান কবে শেষ হবে, কবে নাগাদ তাদের ফিরতে দেওয়া হবে; সে বিষয়ে সুস্পষ্ট করে কিছু জানায়নি ইসরায়েল প্রশাসন।
আরও পড়ুন: পশ্চিমতীরে এক হাজার অবৈধ বসতি নির্মাণ করবে ইসরায়েল
প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ বলেছেন, ‘সেনাবাহিনী চলতি বছর পুরোটাই অবস্থান করতে পারে।’ নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘যতদিন প্রয়োজন, সেনাবাহিনী ততদিন অবস্থান করবে।’
২০০২ সালে শেষবার পশ্চিম তীরে সাঁজোয়া যান পাঠিয়েছিল ইসরায়েল। সে সময় শক্তহাতে ফিলিস্তিনি আন্দোলন দমন করেছিল তেলআবিব।
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অভিযানকে অবৈধ আগ্রাসন হিসেবে নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ আহ্বান করেছে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইসরায়েলি সেনাদের অভিযানে পশ্চিমতীরের অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।
জেনিন থেকে পালিয়ে আসা এক ফিলিস্তিনি মোহাম্মদ আল-সাদি বলেছেন, ‘পশ্চিম তীরের ভূমি আমাদের অধিকার। আমাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই।’
এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলের বাত ইয়াম ও হোলোন শহরের পার্কিং লটে তিনটি বাসে বিস্ফোরণ ঘটে।
ওই ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গভীর রাতে নিরাপত্তা পর্যালোচনা শেষে পশ্চিম তীরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন।
এছাড়াও রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক ঘোষনার মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার সময় ‘অপমানজনক অনুষ্ঠান’ করার অভিযোগ এনে ৬২০ ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তি আটকে দেয় ইসরায়েল প্রশাসন।
এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েল-হামাস দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চুক্তির মধ্যস্ততাকারী দেশ মিসর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্র তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বন্দিদের মুক্তি না দিলে কোনো চুক্তি হবেনা বলে জানিয়েছে হামাস। চুক্তির আলোচনা নিয়ে অগ্রগতি নিয়ে ইসরায়েল প্রশাসন থেকেও দেখা যায়নি কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ।
৩২ দিন আগে
দুই জিম্মিকে ছাড়ল হামাস, ইসরায়েল মুক্তি দিল ৬০২ বন্দিকে
যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ৬ জিম্মির দুজনকে মুক্তি দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। বাকিদেরও ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় সময় শনিবারে (২২ ফেব্রুয়ারি) তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে ৬০২ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল।
এই বন্দি বিনিময়ের মধ্য দিয়ে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। ওই ছয় জিম্মির মধ্যে রয়েছেন, এলিয়া কোহেন (২৭), তাল শোহাম (৪০), ওমরশেম তোভ (২২) ও ওমর ওয়েনকার্ট (২৩)।
ইসরায়েল থেকে যারা মুক্তি পেয়েছেন, তাদের মধ্যে ৫০ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। এছাড়া মুক্তি পাওয়া আরও ৬০ বন্দি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলে কারাদণ্ড ভোগ করে আসছিলেন। আরও রয়েছেন আগে বন্দিবিনিময় চুক্তিতে মুক্তি পেয়েছিলেন এমন ৪৭ জন। মুক্তি পেতে যাওয়া বাকি ৪৪৫ জন গাজায় যুদ্ধচলাকালীন আটক হয়েছিলেন।
দোহাভিত্তিক আল-জাজিরার খবর বলছে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার আগ পর্যন্ত ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
আরও পড়ুন: হামাস একটি অজ্ঞাত লাশ ফেরত দিয়েছে, অভিযোগ ইসরায়েলের
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার হামাসের সদস্যদের হাতে জিম্মি হয়েছিলেন তারা। তবে হিশাম আল-সায়েদ (৩৬) ও আভেরা মেঙ্গিস্তু (৩৯) প্রায় এক দশক আগে গাজায় প্রবেশ করার পর হামাসের হাতে আটক হয়েছিলেন।
এর আগে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বেশ কয়েকবার ভাঙনের মুখে পড়লেও ১৯ জানুয়ারি কার্যকর হওয়া চুক্তিটি শেষ হয়েছে। চুক্তির শর্তানুসারে প্রথম ধাপে ৩৩ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিকে হস্তান্তর করার কথা ছিল। এরই মধ্যে বেশির ভাগ জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। কয়েকশ ফিলিস্তানিও ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) যুদ্ধবিরতির চুক্তির আওতায় চলমান বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে জিম্মি অবস্থায় মারা যাওয়া চার ইসরায়েলির লাশ ফেরত দেয় হামাস। যাদের মধ্যে ছিল ইসরায়েলের কেফির বিবাস ও এরিয়েলের সঙ্গে তাঁদের মা জিম্মি শিরি বিবাসের মরদেহ।
আরও পড়ুন: হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি: চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা
তবে কেফির ও এরিয়েলের মরদেহ শনাক্ত করা গেলেও শিরির মরদেহের স্থলে অজ্ঞাতনামা একটি মরদেহ শনাক্ত করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। অজ্ঞাতনামা মরদেহ হস্তান্তরের মাধ্যমে হামাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বোনয়ামিন নেতানিয়াহু প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।
তবে হামাস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত শিরি ও তাঁর দুই ছেলের মরদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারের পর শিরির দেহ অন্য মরদেহের সঙ্গে মিশে গেছে বলে মনে হচ্ছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) হামাস আরেকটি মৃতদেহ হস্তান্তর করেছে। ওই মরদেহটি শিরির বলে ইসরায়েলি ফরেনসিক কর্মকর্তারা পরিচয় নিশ্চিত করেছেন বলে নিহতের পরিবার থেকে জানানো হয়েছে।
চলমান এই অস্থিরতা স্বত্তেও শনিবার ৬ জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষনা দিয়েছে হামাসের সমরিক শাখা কাশেম ব্রিগেড। আগামী সপ্তাহে আরও ৪ মরদেহ হস্তান্তরের কথা রয়েছে হামাসের।
যুদ্ধ বিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে ৬৪ ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তির কথা রয়েছে, বিনিময়ে মুক্তি পাবেন কয়েক শ ফিলিস্তিনি। তবে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
৩৪ দিন আগে
গাজায় ‘জাহান্নামের সব দরজা’ খুলে দেওয়ার হুমকি ইসরায়েলের
দুদিনের মধ্যে জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া না হলে গাজাবাসীর জন্য ‘জাহান্নামের সব দরজা’ খুলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎয। বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি এমন হুমকি দিয়েছেন।তার এই হুমকিকে পরোয়া করছে না বলেও পাল্টা জবাব দিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। এতে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও চুক্তিটি টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও মিসর।
গত ১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় আগামী শনিবারে (১৫ ফেব্রুয়ারি) তিন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্ত করে দেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে স্থানীয় সময় সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত আর কোনো ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে না বলে জানায় হামাসের সামরিক শাখা কাশেম ব্রিগেডের এক মুখপাত্র।
হামাসের এই সিদ্ধান্তকে ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির পুরোপুরি লঙ্ঘন’ বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।
হামাসকে হুমকি দিয়ে মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “হামাস যদি জিম্মি মুক্তির সময়সীমা মেনে না চলে, ‘তীব্র লড়াই’ শুরু করবে ইসরায়েল।”
আরও পড়ুন: চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ: জিম্মিদের ফেরত দিচ্ছে না হামাস
নেতানিয়াহু আরও বলেন, তিনি গাজার ভেতরে ও আশপাশে ইসরায়েলি বাহিনীকে জড়ো হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পরই গাজা সীমান্তবর্তী ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা পাঠানো ও রিজার্ভ সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেয় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।
এ ছাড়াও হামাসের সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘শনিবারের মধ্যে বন্দিবিনিময় সম্পন্ন না করা হলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল হওয়া উচিত।’
তবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর হুমকিকে উড়িয়ে দিয়েছে হামাস। গতকাল মঙ্গলবার হামাসের এক নেতা সব ধরনের হুমকি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘কেবল যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চললেই গাজা থেকে জিম্মিদের ফেরত নিতে পারবে ইসরায়েল।’
এ পরিস্থিতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো চুক্তি বজায় রাখতে তৎপরতা শুরু করেছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য হামাসের একটি প্রতিনিধি দল মিসরে অবস্থান করছে।
এই আলোচনায় সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মিসরীয় কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েল ও গাজা একটি সমঝোতায় আসতে চলেছে। গাজায় আরও বেশি তাঁবু, আশ্রয়কেন্দ্র ও ভারী সরঞ্জাম পাঠানোতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল।
হামাসের কর্মকর্তা মাহমুদ মারদাওই বলেন, শনিবারে ৩ ইসরায়েলি বন্দি মুক্তির ক্ষেত্রে ‘ইতিবাচক ইঙ্গিত’ রয়েছে। তবে চুক্তি মেনে চলার ব্যাপারে ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা তারা পাননি।
চুক্তি বজায় রাখার এই চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলের কর্মকর্তারা।
৪৩ দিন আগে
ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ গেল অন্তঃসত্ত্বা ফিলিস্তিনি নারীর
ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী নিহত হয়েছেন।
অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের নূর-শামস শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি অভিযান চলাকালে প্রাণ হারান ওই নারী।
রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) হামাস পরিচালিত ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রালয়ের থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সুন্দুস জামাল শালাবি (২৩) নামের নিহত ওই নারীর গর্ভের সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও সফল হতে পারেনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা আহতদের হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়ায় সন্তানটিকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছে মেডিকেল টিম। হামলায় ওই নারীর স্বামীও গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন।
এদিকে, ফিলিস্তিনে কর্মরত রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, হতাহতের খবর পাওয়া গেলেও ইসরায়েলি সেনারা তাদের মেডিকেল টিমকে (শরণার্থী) শিবিরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।
আরও পড়ুন: পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১০ ফিলিস্তিনি নিহত
ফিলিস্তানের ওয়াফা নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ (রবিবার) সকালে ইসরায়েলি সেনারা পশ্চিম তীরের তুলকারেম অঞ্চলে ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও বুলডোজার মোতায়ন করে এবং বেশ কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশি চালায়।
ফিলিস্তিনে ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ বন্ধে পরিচালিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে বলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
অভিযান চলাকালে ভারী গুলিবর্ষণ ও ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার কথা আলজাজিরাকে জানায় স্থানীয় সূত্রগুলো।
গাজা ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে পশ্চিম তীরে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
অভিযানে পশ্চিম তীরের জেনিন ও তুলকারেমে গত কয়েক সপ্তাহে ২৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। সেই সঙ্গে ওই এলাকাদুটিতে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা।
৪৭ দিন আগে
ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের নিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান সৌদির
ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ‘ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব। রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি এক বিবৃতিতে এমন তথ্য জানিয়েছে। খবর আরব নিউজের।
এরআগে সৌদি ভূখণ্ডে একটি ‘ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দিয়েছিলেন ইসরাইলি কর্মকর্তারা।
নেতানিয়াহু-সমর্থক টেলিভিশন চ্যানেল ফোরটিনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনেকটা রসিকতা করে সঞ্চালকের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন নেতানিয়াহু। সেখানে ভুলবশত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের বদলে ‘সৌদি রাষ্ট্রের’ কথা বলেছিলেন তিনি। পরে তিনি নিজেই সেটা সংশোধন করেন।
ইসরায়েলের এই পরামর্শের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ফিলিস্তিনের প্রতিবেশী মিসর ও জর্ডান। নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে ‘সৌদির সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেছে দেশ দুটি।
সৌদি আরব বলছে, ‘নেতানিয়াহুর মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে ভ্রাতৃপ্রতিম দুই দেশ যে বক্তব্য দিয়েছে, সেটিকে আমরা মনে রাখবো।’
মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশটি আরও জানিয়েছে, ‘ফিলিস্তিনি জনগণের কাছে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ; সেটা উপলব্ধি করার সক্ষমতা নেই এসব দখলদার উগ্র মানসিকতার লোকজনের। এই ভূখণ্ডের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক, আত্মার ও আইনগত—যেটা থেকে তাদের কখনোই বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব না।
গত মঙ্গলবারে( ৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুর্নগঠনের নামে উপত্যকাটি দখল করে ‘মধ্যপ্রাচ্যের রিভেরিয়া’ বানাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যেরও সমালোচনা করে আরব দেশগুলো। ইতালীয় রিভেরিয়া বলতে বোঝায় সুদৃশ্য সমুদ্র উপকূলকে। আর ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলে গাজা উপত্যকাটি অবস্থিত।
আরও পড়ুন: গাজা থেকে মিসর-জর্ডানে শরণার্থী বাড়াতে ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হামাসের
৪৭ দিন আগে
এবার চিকিৎসা নিতে মিসরে যাওয়ার সুযোগ পেলেন ৫০ ফিলিস্তিনি
হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসান হওয়ায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছে গাজা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার রাফাহ ক্রসিং দিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে মিসর গিয়েছেন ৫০ জন ফিলিস্তিনি।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) মিসরের একটি টেলিভিশনের খবর থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। মিসরে চিকিৎসার নিতে প্রথমধাপে ৫০ জন গুরুতর অসুস্থ রোগী রাফাহ সীমান্ত দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেছে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে রবিবার: কাতার
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ফুটেজে দেখা গেছে, সীমান্ত দিয়ে রোগীরা একে একে মিসরে প্রবেশ করার পর অ্যাম্বুলেন্সে উঠছেন।
মিসরীয় রেড ক্রিসেন্টের একটি সূত্র সিনহুয়াকে জানিয়েছে, শনিবার সকালে শেখ জুয়েইদ, আরিশ ও সুয়েজ শহরের হাসপাতালে রোগীদের পরিবহনের জন্য ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স ক্রসিংয়ের মিসরীয় অংশে রাখা হয়েছিল। পরে রোগীদের নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সগুলো সীমান্ত ত্যাগ করে।
ওইসব ফিলিস্তিনিদের নির্ধারিত হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স, বার্ন, জেনারেল সার্জারি ও শিশু বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১০ ফিলিস্তিনি নিহত
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাফাহ ক্রসিং মিসরসহ অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহের একটি মূল প্রবেশদ্বার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে গত ১৯ জানুয়ারি মিসরের দিক থেকে রাফাহ ক্রসিং পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের মে মাস থেকে ক্রসিংয়ের ফিলিস্তিন অংশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় ইসরায়েল। সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার আগপর্যন্ত তা অবরুদ্ধ করে রাখে ইসরায়েল।
৫৪ দিন আগে
ফিরে আসার আনন্দে মেতেছেন ফিলিস্তিনিরা
তাদের কাছে যা কিছু ছিল—পোশাক, খাদ্য কিংবা কম্বল—যতটুকু তারা বহন করতে পারেন, তা নিয়েই টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে হেঁটে এসেছেন। মুখে হাসি নিয়ে আলিঙ্গন করছেন প্রিয়জনদের, কত মাস পর তাদের দেখা!
গাজা উপত্যকার মূল উপকূলীয় সড়কে জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। পনেরো মাসের যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর উত্তর গাজায় ফিরে এসেছেন তারা।
ফুরফুরে মেজাজ—যদিও তারা জানতেন, ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় তাদের বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। উত্তরাঞ্চলসহ গাজা শহরের বড় একটি অংশ মাটিতে মিশে গেছে। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে বড় কথা হলো—তারা ফিরে এসেছেন, নিজ ভূখণ্ডে, আবাসভূমিতে।
আর কোনোদিন নিজ ভূখণ্ডে ফিরতে পারবেন কিনা; সেই শঙ্কাও জেগেছিল অনেকের মনে। ধারণা করেছিলেন, দেশ থেকে স্থায়ীভাবে বিতারণ করা হয়েছে তাদের।
৫৯ দিন আগে