টোল
পদ্মা সেতুর ‘ক্যাশলেস’ টোল আদায় ১০ কোটি টাকা ছাড়াল
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা সেতুতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থাপনা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের মাইলফলক অর্জন করেছে। চলতি বছরের ২৬ জুলাই পর্যন্ত ইটিসির মাধ্যমে মোট টোল আদায় হয়েছে ১০ কোটি ৮ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ টাকা, যা ১০ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
এছাড়া, পদ্মা সেতুতে নিয়মিত যাতায়াতকারী দূরপাল্লার বাস, বাণিজ্যিক ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়িসহ ইটিসিতে নিবন্ধিত মোট যানবাহনের সংখ্যা ১ হাজার ৮টিতে উন্নীত হয়েছে। এই পরিষেবা চালুর পর থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত মোট ৫৬ হাজার ৪০৬টি যানবাহন ইলেকট্রনিক উপায়ে (ক্যাশলেস) টোল প্রদান করে নির্বিঘ্নে সেতু অতিক্রম করেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এই যুগান্তকারী অর্জন উপলক্ষে সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা আনয়নের লক্ষ্যে এবং ইটিসির মাধ্যমে যানবাহনের টোল আদায় করতে, জনগণকে স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনা, নিবিড় তদারকি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শের কারণে পদ্মা সেতুতে আধুনিক অটোমেটেড টোল কালেকশন ব্যবস্থা অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
সেতু সচিব আরও বলেন, ‘ইটিসি সিস্টেমে ১০ কোটি টাকার বেশি টোল সংগ্রহ এবং ১ হাজারের বেশি যানবাহন নিবন্ধিত হওয়া শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি দেশের গণপরিবহন খাতকে প্রযুক্তিবান্ধব ও ক্যাশলেস করার ক্ষেত্রে এক বিরাট সাফল্য ও অগ্রগতি। আমি এই অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, কারিগরি অংশীদার, পরিবহন মালিক সমিতি এবং আস্থা রাখা সকল সেতু ব্যবহারকারীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই।’
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সেতু ব্যবহারকারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে পদ্মা সেতুর টোল আদায় প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সহজ ও দ্রুততর করা হয়েছে। যেকোনো গ্রাহক ‘ট্যাপ’, ‘বিকাশ’, ‘নগদ’, ‘উপায়’-এর মতো জনপ্রিয় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোবাইল ও ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে অতি সহজেই টোল পরিশোধ করতে পারছেন। এর ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নগদ টাকায় লেনদেনের ভোগান্তি পুরোপুরি নিরসন হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অ্যাপ এবং ট্রাস্ট ব্যাংকের TAP অ্যাপ, মিডল্যান্ড ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের অ্যাপের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর টোল পরিশোধ করা যাচ্ছে।
ব্যবহারকারীরা সংশ্লিষ্ট অ্যাপে ‘D-Toll’ অপশনের অধীনে ‘মোটরযান রেজিস্ট্রেশন করুন’-এ প্রবেশ করে গাড়ির নম্বর এবং চেসিস নম্বরের শেষ ৪ (চার) ডিজিট প্রদান করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন। নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর ‘D-Toll Top-Up’ সেবার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থ রিচার্জ করতে হবে। এরপর প্রথমবারের জন্য পদ্মা সেতুর মাওয়া টোল প্লাজার নিকটস্থ রেজিস্ট্রেশন বুথ অথবা টোল বুথে গিয়ে বিআরটিএ অনুমোদিত RFID ট্যাগ যাচাইয়ের মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
একবার নিবন্ধন সম্পন্ন হলে ব্যবহারকারীরা ইটিসি লেন ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে পদ্মা সেতু পারাপার করতে পারবেন। ইটিসি ব্যবহারের জন্য BRTA কর্তৃক প্রদত্ত RFID ট্যাগ সচল থাকলেই হবে, পৃথক কোনো RFID ট্যাগের প্রয়োজন নেই।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রুটে চলাচলকারী শীর্ষস্থানীয় বাস অপারেটর—ইমাদ পরিবহন, দোলা পরিবহন, সার্বিক পরিবহন, গোল্ডেন লাইন পরিবহনসহ অসংখ্য বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত যানবাহনের মালিকরা ইতোমধ্যে ইটিসি সুবিধা ব্যবহার করছেন।
ইটিসি লেনে চলাচলকারী যানবাহনগুলো টোল প্লাজায় থামতে হয় না, বরং প্রায় ৬০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিসীমার মধ্যে থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল পরিশোধ করে নির্বিঘ্নে অতিক্রম করতে পারে। ফলে টোল প্লাজায় অপেক্ষমাণ সময় শূন্যে নেমে এসেছে। এছাড়া, ঈদের মতো ব্যস্ত সময়গুলোতেও প্লাজা এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে না। যানবাহন না থামার কারণে অতিরিক্ত জ্বালানি অপচয় রোধ হচ্ছে, গাড়ি স্টপ-অ্যান্ড-গো না হওয়ায় কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাচ্ছে—যা টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত হচ্ছে ।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, পদ্মা সেতুর এই ইটিসি মডেলটি দেশের সামগ্রিক মহাসড়ক ও সেতু ব্যবস্থাপনায় এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে পদ্মা সেতুর শতভাগ টোল আদায়কে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য প্রধান সেতুসমূহ, এক্সপ্রেসওয়ে, টানেলেও ইটিসির মাধ্যমে ক্যাশলেস ব্যবস্থা চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সকল পরিবহন মালিক ও চালকদের দ্রুততম সময়ে নিজ নিজ যানবাহনে ইটিসি নিবন্ধন সম্পন্ন করার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে এবং জনগণের জন্য আরও দ্রুত, নিরাপদ ও বিশ্বমানের আধুনিক সড়ক সেবা নিশ্চিত করতে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।
১০ দিন আগে
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আদায়ের দাবি বিপজ্জনক: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এশীয় নেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায়ের দাবি বাস্তবায়িত হলে তা শুধু বিশ্ব অর্থনীতির জন্যই নয়, আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ নৌ চলাচলের নীতির জন্য বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করবে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২২ জুলাই) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক বৈঠকের শুরুতে রুবিও এ মন্তব্য করেন।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় এর প্রভাব নিয়ে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের দিকে থাকলেও রুবিও আসিয়ান নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা সব সময় আসিয়ানের সঙ্গে আছি।’
তিনি বলেন, ‘যদি আমরা মধ্যপ্রাচ্যে জলপথে টোল নেওয়ার নজির তৈরি করি, যেখানে কোনো রাষ্ট্র একটি আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ন্ত্রণ করবে, সেখানে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল নেবে এবং কেউ সেই টোল না দিলে তাদের জাহাজ হামলার শিকার হবে, তাহলে এমন সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি উদাহরণ তৈরি করবে। পরে বিশ্বের অন্য অঞ্চলগুলোতেও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।’
এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই বৈঠকে অংশ নিতে ম্যানিলায় অবস্থান করছেন। বুধবার ব্রিটেনের সদ্য নিয়োগ পাওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড. মিলিব্যান্ডও ম্যানিলায় পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে তার দপ্তর।
আসিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি রুবিও যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপানকে নিয়ে গঠিত চারদেশীয় জোট ‘কোয়াড’-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে প্রযুক্তি, মানবিক সহায়তা, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তাসহ দেশগুলোর বিভিন্ন অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে কোয়াডভুক্ত দেশগুলো একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। এতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগে তারা নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
যৌথ বিবৃতিতে কোয়াড নেতারা জানান, তারা এ বিষয়ে একমত যে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির ভিত্তি।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রুবিও বলেন, ‘কোয়াড আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ বছরের শেষের দিকে আমরা আবারও বৈঠকে বসব।’
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে ফিলিপাইনের মতো ছোট দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে ফিলিপাইন এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরোনো মিত্র।
দক্ষিণ চীন সাগরের এ আঞ্চলিক বিরোধে তাইওয়ানের পাশাপাশি আসিয়ানভুক্ত ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই জড়িত। মঙ্গলবার ম্যানিলায় শুরু হওয়া তিন দিনের বৈঠকের আলোচ্যসূচির অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল এসব আঞ্চলিক বিরোধ।
পরে রুবিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ওই বৈঠকে আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ও ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কহার কমানোর বাণিজ্য চুক্তির মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পিগট বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ও মন্ত্রী জয়শঙ্কর অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তিটি দ্রুত চূড়ান্ত করার গুরুত্বের বিষয়ে একমত হয়েছেন। চুক্তিটি এখন প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে।’
ম্যানিলা উপসাগর-সংলগ্ন কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের ফাঁকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গেও রুবিওর পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
১৫ দিন আগে
পদ্মা সেতুতে চার বছরে টোল আদায় ৩৪২৯ কোটি, ২৫১৬ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ
উদ্বোধনের পর থেকে চলতি বছরের ২৯ জুন পর্যন্ত পদ্মা সেতু দিয়ে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে টোল বাবদ আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা। আদায় হওয়া টোল থেকে সরকারের ঋণের ১৬টি কিস্তিতে ২ হাজার ৫১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা সেতু ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পরদিন থেকে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এরপর থেকে সেতুটি দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
এতে বলা হয়, ২৯ জুন পর্যন্ত সেতু দিয়ে মোট ২ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে টোল বাবদ মোট ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। একই সময়ে আদায় করা টোল থেকে সরকারের কাছে ঋণের ১৬টি কিস্তিতে মোট ২ হাজার ৫১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে কোনো কিস্তি বকেয়া নেই।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী ১ শতাংশ সুদে ৩৫ বছরের মধ্যে মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। বছরে চার কিস্তি হিসেবে মোট ১৪০ কিস্তিতে এ অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এছাড়া টোল থেকে ভ্যাট বাবদ এখন পর্যন্ত ৪৩৬ কোটি ৭ লাখ ৭৪ হাজার ২২১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ‘২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়। ওই সময়ের সমীক্ষা, নকশা ও মাওয়া-জাজিরা অ্যালাইনমেন্ট অনুমোদনের ফলে পরবর্তী সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সহজ হয়।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে পদ্মা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক, স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে চলছে।’ আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সরকারের সব ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ইউনিফায়েড ন্যাশনাল ইটিসি (ইউএনইএফ) ফ্রেমওয়ার্কসহ বিভিন্ন জনবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।
৩৭ দিন আগে
২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে উঠল পৌনে ৩ কোটি টাকা টোল
ঈদ উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে উত্তরাঞ্চলের মানুষ। এতে সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পারাপারে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। যমুনা সেতু পারাপারে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় পৌনে ৩ কোটি টাকার টোল আদায় হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে যমুনা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে ইতোমধ্যেই রাজধানী থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে উত্তরাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষ। এতে যমুনা সেতু পারাপারে দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। তবে এ পর্যন্ত মহাসড়কে কোনো যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
টোল আদায়ের বিষয়ে সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, গতকাল (সোমবার) দুপুর থেকে আজ (মঙ্গলবার) দুপুর পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৬৫৮টি গাড়ি সেতু পারাপার করেছে। এতে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। এর মধ্যে যমুনা সেতু পূর্বপাড় থেকে ১ কোটি ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং পশ্চিম পাড় থেকে ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ২০০ টাকা আদায় হয়েছে।
এ টোল আদায় আরও বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
১৪২ দিন আগে
যমুনা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা টোল আদায়
স্বজনদের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করতে কর্মস্থল থেকে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ উৎসবমুখর হয়ে বাড়ি ফিরছে। এজন্য উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতুতে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি যানবাহন পারাপার হচ্ছে।
যমুনা সেতু দিয়ে শনিবার (২৯ মার্চ) সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮ হাজারের বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তুপক্ষ। এতে উভয় টোল প্লাজায় মোট টোল আদায় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। কর্তৃপক্ষ ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এটাই সর্বোচ্চ টোল আদায়ের পরিমাণ।
টোল আদায়ের তথ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে ৩০ হাজার ৩৯৮টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯০ লাখ ৯৮ হাজার ৫৫০ টাকা। অপরদিকে, উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী লেনে ১৭ হাজার ৯৩৭টি যানবাহন থেকে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবির পাভেল জানান, স্বাভাবিক সময়ে এই সেতু দিয়ে দিনে ১০ থেকে ১৬ হাজার পর্যন্ত যানবাহন চলাচল করে। তবে ঈদ উপলক্ষে তা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে যানবাহন চলাচল বেড়ে যাওয়ায় সেতুর টোল আদায়ে উভয় টোলা প্লাজায় বুথের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এতদিন প্রত্যেক প্রান্তে ৬টি বুথে টোল আদায় করা হতো, এখন উভয়প্রান্তে ৯টি করে মোট ১৮টি বুথে আদায় করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: উদ্বোধনের পর থেকে পদ্মা সেতুতে টোল আদায় হয়েছে ১৫০০ কোটি টাকা
সেইসঙ্গে উভয়পাড়ের টোলপ্লাজা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এই কর্মকর্তা আরও জানান, গত বছর কোরবানির ঈদে যমুনা সেতু দিয়ে ৫১ হাজার ৮৯১টি যানবাহন পারাপারে টোল আদায় হয়েছিল রেকর্ড ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৩১ হাজার ৪৫০ টাকা, যা যমুনা সেতুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। মহাসড়কের কোথাও এখনও তেমন যানজট পরিলক্ষিত হয়নি।’ মহাসড়কজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।
৪৯৫ দিন আগে
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: এক মাসে ১০ লাখ যান চলাচল, প্রত্যাশার চেয়ে ৫০% বেশি
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহন চলাচলের সংখ্যা ও টোল আদায় সব প্রত্যাশা ও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। গত ২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৩০ হাজারেরও বেশি যানবাহন এটি ব্যবহার করছে।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এম এস আখতার জানান, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৯ লাখ ৬২৭টি যানবাহন এই এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করেছে। এ সময়ে টোল আদায় করা হয়েছে ৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাইভেটকার, ট্যাক্সি, স্পোর্টস ইউটিলিটি যানবাহন, মাইক্রোবাস (১৬ আসনের কম) এবং হালকা ট্রাক (৩ টনের কম) যা ক্যাটাগরি-১ এর অন্তর্ভুক্ত। এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে এসব যানবাহনকে ৮০ টাকা টোল দিতে হয়। প্রথম মাসে, এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করা যানবাহনগুলোর মধ্যে ৮ লাখ ৯২ হাজার ২৫০টি এই ক্যাটাগরির ছিল, যা মোট যানবাহনের ৯৯ শতাংশেরও বেশি।
ক্যাটাগরি-২ এর অন্তর্ভুক্ত মাঝারি ধরনের যানবাহনের (৬ চাকা পর্যন্ত) টোল ৩২০ টাকা। এই ক্যাটাগরির ১ হাজার ৪৬৮টি যানবাহন এক্সপ্রেসওয়েটি ব্যবহার করেছে।
ছয়টির বেশি চাকার ট্রাককে ক্যাটাগরি-৩ হিসেবে শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এগুলোর টোল ৪০০ টাকা। প্রথম মাসে এক্সপ্রেসওয়েতে এই ক্যাটাগরির গাড়ি চলেছে মাত্র ৪৯টি।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে ৯টি মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন, প্রথমে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
এ ছাড়া ক্যাটাগরি-৪-এ সব ধরনের বাস (১৬ সিট বা তার বেশি) রয়েছে। এই ক্যাটাগরির মোট ৬ হাজার ৮৬০টি গাড়ি ১৬০ টাকা করে টোল দিয়েছে। উদ্বোধনের পর থেকে এই সময়ের মধ্যে এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করা মোট যানবাহনের শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ ছিল এই ক্যাটাগরির যান।
আখতার বলেন, ‘আমরা খুশি কারণ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে আমাদের প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বেশি যানবাহন ব্যবহার করছে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২ সেপ্টেম্বর তার বহরের ২৫টি গাড়ির জন্য ২ হাজার টাকা টোল পরিশোধ করে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট অংশটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। পরের দিন বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত যানবাহন চলাচলের জন্য রুট খুলে দেওয়া হয়। এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট যেতে ১০ থেকে ১২ মিনিট সময় লাগে।
আখতার আরও বলেন, ‘যদিও আমরা আশা করেছিলাম যে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ হাজার যানবাহন এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করবে। এখন সেই সংখ্যা ৩০ হাজারেরও বেশি হয়েছে। এটি প্রত্যাশার চেয়ে ৫০ শতাংশেরও বেশি।’
এক প্রশ্নের জবাবে প্রকল্প পরিচালক বলেন, বিমানবন্দর থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত নগরীর বাসিন্দারা রাস্তায় যানবাহন চালিয়ে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। ‘এক্সপ্রেসওয়ে সম্পূর্ণরূপে চালু হলে এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হলে আমরা উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাব।’
আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে দুই বাসের সংঘর্ষ, আহত ৬
প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি রাজধানীর কাওলা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত কুড়িল-বনানী-মহাখালী-তেজগাঁও-মগবাজার-কমলাপুর-সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী হয়ে চলবে।
তবে যাত্রী সংকটের ভয়ে সরকারি-বেসরকারি পরিবহনগুলো এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করছে না। এমনকি মহাখালীর আন্তঃজেলা বাসগুলোও এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে না। কারণ, বাস স্টেশনগুলোর কাছাকাছি র্যাম্পগুলো এখনও চালু হয়নি। ফলে নগরীর অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ কমছে না।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, মহাখালী র্যাম্পের পাশাপাশি এক্সপ্রেসওয়ের অন্যান্য র্যাম্পের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ হবে।
তিনি আরও বলেন, একবার সেগুলো সম্পন্ন হলে, এক্সপ্রেসওয়েতে বর্তমানের চেয়ে যান চলাচল আরও বাড়বে, এক্সপ্রেসওয়ের নিচে রাস্তায় পরিবহনের চাপ কমবে।
বুয়েটের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, এক্সপ্রেসওয়ে আংশিকভাবে চালু হওয়ার পরও রাস্তায় যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের সমস্যা দৃশ্যমানভাবে কমেনি। তিনি বলেন, কমার কোনো সুযোগও নেই।
আরও পড়ুন: এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: প্রথম তিন সপ্তাহে ৫ কোটি টাকার বেশি টোল আদায়
এক্সপ্রেসওয়ের ল্যান্ডিং পয়েন্টগুলোর নিকটবর্তী রাস্তাগুলো ব্যস্ততম সময়ে তীব্র যানজটের কবলে পড়ে। তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের জন্য গণপরিবহনের বিকল্পগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি না করা পর্যন্ত সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।
এক প্রশ্নের জবাবে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পুরোপুরি চালু হলে প্রকল্পের প্রকৃত প্রভাব অর্থাৎ ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব নির্ধারণ করা যেতে পারে।
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) আবু সালেহ মো. রায়হান ইউএনবিকে বলেন, বিমানবন্দর থেকে বনানী পর্যন্ত যানবাহন চলাচল কিছুটা হলেও সহজ হয়েছে কারণ বেশিরভাগ ব্যক্তিগত গাড়ি এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করছে।
যুগ্ম কমিশনার আরও বলেন, যদিও ফার্মগেটের ইন্দিরা রোড এবং তেজগাঁও শিল্প এলাকার লাভ রোডের মতো র্যাম্পের কিছু এক্সিট পয়েন্টে প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান। তবে সংশ্লিষ্ট রাস্তায় কিছু প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার পরে সেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
আরও পড়ুন: জধানীতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে গার্ডারের আঘাতে শ্রমিকের মৃত্যু
১০৩৭ দিন আগে
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: প্রথম তিন সপ্তাহে ৫ কোটি টাকার বেশি টোল আদায়
ঢাকা (এম জাহাঙ্গীর আলম), ২৫ সেপ্টেম্বর (ইউএনবি)-
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পর থেকে ৫ কোটি টাকার বেশি টোল আদায় করেছে কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক এএইচএমএস আখতার জানান, রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ১৫২টি যানবাহন চলাচল করেছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার গাড়িবহরে থাকা ২৫টি গাড়ির জন্য প্রতিটি গাড়ির জন্য ৮০ টাকা হারে দুই হাজার টাকা টোল পরিশোধের মধ্য দিয়ে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিমানবন্দর-ফার্মগেট অংশের উদ্বোধন করেন।
আরও পড়ুন: যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
গত ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় বিমানবন্দর থেকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ফার্মগেট পর্যন্ত অংশটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেটে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিট।
প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এম এস আখতার বলেন, আমরা আগে ধারণা করেছিলাম প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ হাজার যানবাহন এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করবে।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ হলে রাজধানীর কাওলা থেকে কুড়িল-বনানী-মহাখালী-তেজগাঁও-মগবাজার-কমলাপুর-সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী হয়ে কুতুবখালী এলাকা পর্যন্ত চলাচল করবে।
আখতার ইউএনবিকে বলেন, আমরা আশা করছি এটি সম্পন্ন হলে প্রতিদিন প্রায় ৮০ হাজার যানবাহন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে পারবে।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রকল্প পরিচালক বলেন, এক্সপ্রেসওয়ের নকশা অনুযায়ী যানবাহন ৮০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে চলতে পারে, কিন্তু তারা র্যাম্পে ৬০ কিলোমিটার/ঘণ্টা এবং ৪০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রেখেছে।
তারা এখনও গতিসীমা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ শুরু করতে পারেনি। যদিও ইতোমধ্যে এক্সপ্রেসওয়েতে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং অন্যান্য সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে বাস চলাচল শুরু করেছে। যাত্রীরা এখন মাত্র ৩৫ টাকায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পার হচ্ছেন।
এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের খেজুর বাগান থেকে জসিমউদ্দিন রোড পর্যন্ত নতুন বাস রুটের ঘোষণা দেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে তিনটি ডিপো থেকে মোট আটটি বাস চলাচলের কথা ছিল। এক্সপ্রেসওয়ের উভয় প্রান্ত থেকে যাত্রীরা বাসে উঠতে পারবেন।
তবে এক্সপ্রেস হাইওয়েতে চলাচলকারী বিআরটিসি বাসের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২টিতে।
উত্তরা-ফার্মগেট বিআরটিসি বাস রুটের ফার্মগেট বাস কাউন্টারে কর্মরত বিআরটিসি বাস কাউন্টারের কর্মী বিশ্বজিৎ বলেন, যাত্রী সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীরা সন্তুষ্ট, আমরাও সন্তুষ্ট।
তিনি আরও বলেন, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে এক্সপ্রেসওয়েতে আটটি দোতলা বাস চলাচল শুরু করে।
আরও পড়ুন: ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে চালু হলো বিআরটিসির বাস
বিশ্বজিৎ জানান, ফার্মগেট বাস কাউন্টার থেকে উত্তরা পর্যন্ত প্রতি ১০ মিনিটে একটি করে বাস চলাচল করছে। এক্সপ্রেসওয়ের উভয় প্রান্তে যানজটের কারণে বাসগুলে কখনও কখনও দেরি করে।
তিনি বলেন, যাত্রীদের সেবা আরও উন্নত করতে আমরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। যাত্রী সংখ্যা বাড়ানোর জন্য রুটে বাসের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, শিগগিরই বাসের সময়সূচি কঠোরভাবে বজায় রাখা যেতে পারে।
তানজিলা রহমান নামে এক যাত্রী রবিবার বিকালে ফার্মগেট বিআরটিসি এক্সপ্রেসওয়ে বাস কাউন্টার থেকে উত্তরায় যাওয়ার জন্য টিকিট কিনছিলেন।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি সকালে একটি চাকরির সাক্ষাৎকারের জন্য এসেছিলেন এবং তিনি বিমানবন্দর থেকে মাত্র ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে ইন্দিরা রোডে পৌঁছেন। আমি পরিষেবাটি খুব ভালো লেগেছে। বিমানবন্দর থেকে এখানে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম সময় লেগেছে। আমি একই পথ দিয়ে ফিরে যাচ্ছি।
রায়হান নামে আরেক যাত্রী জানান, আগে বাসা থেকে কারওয়ানবাজারে অফিসে পৌঁছাতে অন্তত দেড় ঘণ্টা পথ পাড়ি দিতে হতো। তিনি বলেন, এটি তার জন্য একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা যে এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে তিনি মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে তার অফিসে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
আরেক যাত্রী রাফিউজ্জামান রিয়ন বলেন, লোকাল বাসে অনেক বেশি স্টপেজ থাকে, অনেক বেশি সময় লাগে এবং তারা প্রায়ই বেশি ভাড়া আদায় করে।
তিনি বলেন, বিআরটিসি এক্সপ্রেসওয়ে রুটে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়, তাই ফি ন্যায্য থাকে। বিআরটিসি বাসের সিটকে আরও আরামদায়ক করে তুলতে পারে। এছাড়াও, যদি এই রুটে আরও কয়েকটি স্টপ থাকে তবে এটি আরও বেশি সংখ্যক যাত্রীকে সহায়তা করবে।
ইউএনবির প্রতিবেদক তৌফিক হোসেন মবিন একটি এক্সপ্রেসওয়ে বাসে চড়েছিলেন। দুপুর ১টা ১০ মিনিটে ফার্মগেট থেকে উত্তরার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বিজয় সরণিতে যানজটের কারণে বাসটি প্রথমে ধীর গতির ছিল, এক্সপ্রেসওয়েতে উঠতে ২৩ মিনিট সময় লেগেছিল।
এরপর বাসটি এক্সপ্রেসওয়ের শেষ প্রান্তে পৌঁছাতে মাত্র ১৭ মিনিট সময় নিলেও অপর প্রান্তে যানজটের কারণে তিনি আবার ধীরগতিতে চলতে থাকে এবং দুপুর ১টা ৫১ মিনিটে বিমানবন্দরে বাস থেকে নেমে যান।
আরও পড়ুন: ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ার পর ল্যান্ডিং পয়েন্টগুলোতে যানজট
১০৪৬ দিন আগে
উদ্বোধনের অপেক্ষায় বঙ্গবন্ধু টানেল, টোলের হার চূড়ান্ত
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের প্রাথমিক নির্মাণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।
মূল টানেলটি যানবাহন চলাচলের জন্য পুরোপুরি সজ্জিত ও প্রস্তুত। এটি দেশের প্রথম পানির নিচের টানেল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রামে টানেলটি উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী টানেলের আনোয়ারা প্রান্তে সমাবেশে ভাষণ দেবেন।
পরের দিন থেকে সুড়ঙ্গটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। যা এই অঞ্চলের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পরিবহন মাইলফলক হবে।
এ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, টানেলের প্রাথমিক নির্মাণকাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে টানেলের মধ্যে প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করা হয়েছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, এই অসাধারণ প্রকল্পের উদ্বোধন পানির নিচে টানেলের যুগে বাংলাদেশের প্রবেশের সূচনা করছে।
তিনি বলেন, এই ‘স্মরণীয় অর্জন’ দেশের অভ্যন্তরে যোগাযোগের একটি নতুন যুগের সূচনা করবে, যা জাতির জন্য গর্বের বিষয়।
সেতু বিভাগের সচিব মনজুর হোসেন ইউএনবিকে বলেন, প্রাথমিকভাবে টানেলটি যানবাহন চলাচলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
তিনি বলেন, চলমান প্রচেষ্টায় ফায়ার সার্ভিস এবং থানা ভবনের মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপনসহ বিভিন্ন দিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। টানেল প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৯৮ শতাংশ।
তিনি আরও বলেন, উদ্বোধনের পরও আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: ২৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী: কাদের
তিনি বলেন, একটি পুলিশ স্টেশন, একটি ডাম্পিং এলাকা এবং একটি স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং এর জন্য জায়গা সহজেই পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, যারা এই অভিযানের সঙ্গে জড়িত এবং যারা রক্ষণাবেক্ষণ করবেন তাদের নিজস্ব গাড়ি থাকবে।
সচিব বলেন, নিরবচ্ছিন্ন পরিবহন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে টানেল এলাকার অভ্যন্তরে এবং এর আশেপাশে যানবাহন চলাচল পরিচালনার জন্য ট্রাফিক বিভাগ একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।
টানেলের অভ্যন্তরে যানবাহনগুলো ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম হবে।
টানেলে কী ধরনের যানবাহন চলবে তা ঠিক করা হয়েছে। টোলও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেতু সচিব।
সেচিব বলেন, টানেলের ধারণাটি আমাদের কাছে নতুন। এজন্য এর কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এটি অন্যান্য সেতু বা রাস্তা থেকে আলাদা। সেক্ষেত্রে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে টানেলেটি নিরাপদ থাকবে এবং যারা এটি ব্যবহার করবে তারাও নিরাপদ থাকবে।
হোসেন আরও বলেন, এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমি মনে করি না যে এই মুহূর্তে দুই বা তিন চাকার গাড়ির জন্য এটি নিরাপদ।
টানেলের প্রকল্প পরিচালক হারুন-অর-রশিদ ইউএনবিকে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল চালু হলে চট্টগ্রাম শহরের পরিধি বাড়বে।
টানেলের এক প্রান্ত চট্টগ্রাম শহর এবং অপর প্রান্ত আনোয়ারা উপজেলার দিকে। টানেলের উন্নয়ন আনোয়ারাকে একটি ক্রমবর্ধমান শহরে রূপান্তরিত করছে। একই সঙ্গে আনোয়ারা উপজেলায় জমির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
আরও পড়ুন: নির্ধারণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু টানেলের টোল হার
আনোয়ারা উপজেলায় টানেলের টার্মিনাসে যাওয়ার রাস্তার দু'পাশে গড়ে উঠছে ছোট-বড় অসংখ্য শিল্প কারখানা। টানেলটি চালু হলে কর্ণফুলী নদী পারাপারের সময় কমে দাঁড়াবে মাত্র ৩ মিনিটে।
যেহেতু সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। টানেলটি রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের পাশাপাশি পর্যটন নগর কক্সবাজারের মধ্যে সড়ক যোগাযোগে একটি রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত।
মূল টানেলটির দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার এবং দুটি চার লেনের প্রতিটির দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার।
এ ছাড়া মূল টানেলের পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার লিংক রোড এবং আনোয়ারা প্রান্তে ৭২৭ মিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার থাকবে।
টানেলটি কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ১৮ থেকে ৩১ মিটার গভীরে অবস্থিত।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত প্রথম বা উত্তর টানেলের বোরিং শুরু করেন।
২০১১ সালে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ২০১৪ সালে একটি সমঝোতা স্মারকের পর ২০১৫ সালের ৩০ জুন ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
ঠিকাদার নিয়োগের পর ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজ শুরু হয়।
বাংলাদেশ ও চীন সরকারের (জিটুজি) যৌথ অর্থায়নে মোট ১০ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
টানেলের নির্মাণকাজ করছে চায়না কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি)।
কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়ে চীনের সাংহাইয়ের অনুরূপ ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ ধারণা তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
৩ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু টানেল ব্যবহারে মোট ১২ ধরনের যানবাহনে টোল চার্জ দিতে হবে। প্রাইভেটকারের ক্ষেত্রে ন্যূনতম টোল ফি ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পিকআপ ট্রাককে প্রতি ক্রসিংয়ে ২০০ টাকা এবং মাইক্রোবাসে ২৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হবে।
৩১টির কম আসনের বাসগুলোর ৩০০ টাকা এবং ৩২টির বেশি আসনের বাসগুলোর ৪০০ টাকা টোল দিতে হবে।
পাঁচ টন পর্যন্ত পণ্য বহনে সক্ষম ট্রাকের জন্য টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ টাকা। আট টনের ট্রাকে ৫০০ টাকা এবং ১১ টনের ট্রাকে ৬০০ টাকা দিতে হবে। তিন এক্সেল কনটেইনার ট্রেইলারের জন্য ৮০০ টাকা।
চার এক্সেলের একটি ট্রেলারের জন্য ১ হাজার টাকা। তবে প্রতিটি অতিরিক্ত এক্সেলের জন্য অতিরিক্ত ২০০ টাকা দিতে হবে।
টানেলটি যানবাহন চলাচলের জন্য চালুর দিন থেকে টোল হার কার্যকর হবে।
আরও পড়ুন: অক্টোবর-নভেম্বরে দুই ভাগে বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন: সেতুমন্ত্রী
১০৪৭ দিন আগে
নির্ধারণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু টানেলের টোল হার
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের টোল হার নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) যানবাহনের শ্রেণি অনুযায়ী টোল হার চূড়ান্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সেতু বিভাগ।
টানেলটি চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে শুরু হয়ে ৩ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ আনোয়ারা উপজেলাকে যুক্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু টানেলে মোট ১২ ধরনের যানবাহনের জন্য টোল দিতে হবে। এই টানেলে মোটরসাইকেল চলতে পারবে না। টানেল যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার দিন থেকে এই টোল হার কার্যকর হবে।
আরও পড়ুন: অক্টোবর-নভেম্বরে দুই ভাগে বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন: সেতুমন্ত্রী
তবে এখনো ট্যানেল খুলে দেওয়া বা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ হয়নি।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ৩ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু টানেলে সর্বনিন্ম টোল ২০০ টাকা। প্রাইভেটকার পারাপারে এই টোল দিতে হবে।
প্রতিবার পিকআপ পারাপারে টোল লাগবে ২০০ টাকা। মাইক্রোবাসের টোল ২৫০ টাকা। ৩১ আসনের কম বাসের টোল ৩০০ টাকা।
৩২ আসনের বেশি বাসের টোল ৪০০ টাকা। ৩ এক্সেল বিশিষ্ট বড় বাসের টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা।
৫ টন পর্যন্ত পণ্য বহনে সক্ষম ট্রাকের টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ টাকা। ৮ টনের ট্রাক পারাপারে ৫০০ টাকা এবং ১১ টনের ট্রাকে ৬০০ টাকা টোল দিতে হবে।
৩ এক্সেলের ট্রেইলারে টোল লাগবে ৮০০ টাকা। ৪ এক্সেলের ট্রেইলারে দিতে হবে ১ হাজার টাকা। পরবর্তী প্রতি এক্সেলের জন্য বাড়তি ২০০ টাকা দিতে হবে।
আরও পড়ুন: ২০২৩ সালে পাইপলাইনে ভারত থেকে জ্বালানি তেল আমদানি শুরু: প্রধানমন্ত্রী
এদিকে কর্ণফুলী আমানত শাহ সেতুর তুলনায় যানবাহনের শ্রেণি অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু টানেলে আড়াই থেকে ৬ গুণ টোল দিতে হবে। আমানত শাহ সেতুতে প্রাইভেটকারের টোল ৭৫ টাকা।
সেতুতে ৩১ আসনের কম বাসের টোল ৫০ টাকা। টানেলে তা ৩০০ টাকা। ফলে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টানেলকে প্রতিযোগিতায় পড়তে হবে সেতুর সঙ্গে।
১১১৯ দিন আগে
পদ্মা সেতুতে পরীক্ষামূলক চালু হলো ইলেকট্রনিক টোল আদায় ব্যবস্থা
পদ্মা সেতুতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন সিস্টেম (ইটিসিএস) পরীক্ষামূলক শুরু হয়েছে।
বুধবার থেকে সয়ংক্রিয় এই টোল আদায়ের আওতায় আনা হয়েছে ১৪টি বুথ। আর বাকি তিন বুথে মোটরসাইকেলের জন্য আগের মত ম্যানুয়ালি রাখা হয়েছে।
এছাড়া সেতুর যান চলাচল পর্যবেক্ষণে মাওয়া প্রান্তে চালু হয়েছে পদ্মা ব্রিজ ট্রাফিক মনিটরিং সেন্টার।
রেডিও ফিকিউয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) পদ্ধতিতে চলন্ত অবস্থায় টোল আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই পদ্ধতির জন্য রেজিস্ট্রেশন করা গাড়ি টোল প্লাজার সামনে আসতেই ১ নম্বর বুথ থেকে স্ক্যানারে গাড়ি শনাক্ত করে। নির্ধারিত টোল কেটে ব্যারিয়ার উঠে এবং স্ক্রিনে ব্যালেন্স দেখা যায়।
আরও পড়ুন: ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে টোল আদায় ৬৬০.২৪ কোটি টাকা: কাদের
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেতু সচিব স্মার্ট পদ্ধতিতে টোল পরিশোধ করে টোল প্লাজা অতিক্রম করেন। ২ নম্বর বুথের নাম হাইব্রিড। আরএফআইডি, টাচ অ্যান্ড গো এবং ক্যাশ- এই তিন পদ্ধতিতে টোল পরিশোধের সুযোগ থাকবে এখানে। আর ৩ থেকে ৭ নম্বর এই পাঁচটি বুথে টাচ অ্যান্ড গো এবং ক্যাশ পদ্ধতি চালু হয়েছে।
দুই পারে একই রকম ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আর সেতুর যান চলাচল পর্যবেক্ষণে মাওয়া প্রান্তে চালু হয়েছে পদ্মা ব্রিজ ট্রাফিক মনিটরিং সেন্টার।
সেতু সচিব মো. মঞ্জুর হোসন বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে স্মার্ট টোল আদায় শুরু হওয়ায় দুই পারে দুইটি বুথ বাড়ানো হয়েছে। তাই এখন সেতুর দুই পারে প্রবেশ পথে ১৭টি টোল বুথ চালু। ইলেকট্রনিক টোলের আওতায় আনা হয়েছে ১৪টি টোল বুথ।
মাওয়া প্রান্তের পদ্মা সেতু উত্তর থানার পূর্ব পাশে ইটিসিএস রেজিস্ট্রেশন বুথ চালু হয়েছে। পুরোপুরি এই পদ্ধতি চালু হলে যানবাহনগুলোকে অপেক্ষায় থাকতে হবে না, জটলামুক্ত থাকবে টোলপ্লাজা। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে সেতু ব্যবহাকারীরা।
প্রসঙ্গত, সেতুর মাওয়া প্রান্তের ৮নং এবং জাজিরা প্রান্তের ৮নং ও ৯নং মোট তিনটি বুথে মোটরসাইকেলের জন্য আগের মত ম্যানুয়ালি কম্পিউটারে টোল আদায় হবে।
আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতুতে পৌনে ৩ কোটি টাকা টোল আদায়
১১২৮ দিন আগে