জ্বালানি সংকট
বাস-মিনিবাসের ভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি
ডিজেলে মূল্য বৃদ্ধি ও পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা এবং আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসে ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। নতুন ভাড়ার হার ২২ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে চলাচলকারী বাসের যাত্রীপ্রতি প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা করা হয়েছে। অন্যদিকে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে চলাচলকারী মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ জেলায় চলাচলকারী বাস-মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৬০ পয়সা করা হয়েছে।
তবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ৮ টাকা বহাল রাখা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য বিআরটিএ অনুমোদিত আসন সংখ্যা কমিয়ে বাস বা মিনিবাসের আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে নির্ধারিত ভাড়া আনুপাতিকভাবে পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রুট পারমিট অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির কাছ থেকে আনুপাতিক ভাড়ার হার অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।
নতুন ভাড়ার হার গ্যাসচালিত বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি বাস ও মিনিবাসের দৃশ্যমান স্থানে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সরকার সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। নতুন দামে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির ফলে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা ও পেট্রোল ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন দাম গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে।
২ দিন আগে
অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকেই জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে: জাহেদ উর রহমান
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই সরকার জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ানোর কারণে মানুষের কষ্ট হচ্ছে এবং হবে। তবে সরকারকে একই সঙ্গে জ্বালানিতে ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য করতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা কমলেও সামনে আবার দাম বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দুই-তিন দিনে কিছু টাকা সামান্য দুই-তিন পার্সেন্ট কমেছে। এখনও ১০০ ডলারের বেশি ক্রুড অয়েলের দাম আছে। কিছুটা কমেছে। কিন্তু এটা আসলে সাসটেইন করার সম্ভাবনা নেই।’
আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি, সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে বাধা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তেল স্থাপনায় হামলার মতো বিষয়গুলো ভবিষ্যতে জ্বালানি বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে বলে জানান তিনি।
জনগণের কষ্ট হবে
জ্বালানির দাম বাড়ানোর কারণে জনগণের কষ্টের কথা স্বীকার করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘জনগণের কষ্ট হচ্ছে, কষ্ট হবে। আমরা আগেও যখন অয়েল নিয়ে কথা বলছি, এটা কোথায় হচ্ছে না?’
তিনি বলেন, সরকারকে একই সঙ্গে জ্বালানিতে ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় করতে হচ্ছে। সব খাতে একসঙ্গে বিপুল অর্থ ব্যয় করা সম্ভব নয়। এ কারণে সরকারকে বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভারসাম্য করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘একটা সরকারের খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ সরকার মনে করে ওয়েলফেয়ার (উন্নয়ন) খাতে ব্যয়, সেটা সোশ্যাল সেফটির (সামাজিক নিরাপত্তা) কথা আমরা বললাম। একই সঙ্গে আমরা স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় ব্যয় করতে চাই। তো সব যদি একসঙ্গে করার চেষ্টা করা হয় আসলে কঠিন হয়ে যায়। তো সরকারকে কিছু ব্যালেন্স করতে হয়েছে।’
গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির পরিকল্পনা থাকলেও আড়াই মাসেই এর প্রায় অর্ধেক দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আপনি যদি এই গতিতে ভর্তুকি গ্যাস-বিদ্যুতে দেন, তাহলে বছর শেষে এটা সোয়া ১ লাখ কোটি টাকা থেকে দেড় লাখ কোটি টাকা দাঁড়াবে।’
পরিবহন ভাড়া যৌক্তিকভাবে সমন্বয়ের চেষ্টা
ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন খরচ বাড়বে স্বীকার করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, যৌক্তিক পরিমাণে পরিবহন ভাড়া সমন্বয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে সরকার।
একই সঙ্গে নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা, ওএমএস এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ানোর বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে কনডেনসেট থেকে এসব জ্বালানি উৎপাদন হলেও তা দেশের মোট চাহিদা পূরণ করতে পারে না। ফলে আমদানি করা ক্রুড অয়েল থেকেও পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করতে হয়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরাট একটা অংশ পেট্রোল এবং অকটেন আমদানিকৃত ক্রুডের ওপর ডিপেন্ড (নির্ভর) করে, সুতরাং ওখানে তো দাম বাড়ছেই।’
তার ভাষ্য, পেট্রোল ও অকটেনের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি দাম রাখার নীতিগত কারণও রয়েছে। কারণ এসব জ্বালানি তুলনামূলকভাবে সামর্থ্যবান মানুষ বেশি ব্যবহার করেন।
আইএমএফের শর্ত নিয়ে ব্যাখ্যা
জ্বালানির দাম বাড়ানোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো নির্দিষ্ট শর্ত আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ ধরনের কোনো শর্ত নেই।
তিনি বলেন, ‘না, এমন কোনো শর্ত আসলে নেই। আইএমএফের বেসিক নিয়ম যেটা আছে, তারা চায় না একটা সরকার খুব বেশি ভর্তুকি দিক।’
তবে জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতে বিপুল ভর্তুকি কমানোর প্রয়োজনীয়তা সরকার অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকেই বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর ব্যাখ্যা
জ্বালানিতে ভর্তুকির চাপের মধ্যেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালে বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় বেতন স্কেল সংশোধন হয়নি।
তিনি বলেন, ‘একটা বেতন স্কেল ২০১৫, আমি যদি ভুল না করি সর্বশেষ হয়েছিল। তারপর ১০-১১ বছর পার হয়ে গেছে এবং আমাদের গ্রসলি প্রায় ১০ শতাংশের মতো করে একটা ইনফ্লেশন হয় কম-বেশি। তাহলে আপনি চিন্তা করুন এটা এর মধ্যে রিভাইসড হয়নি।’
তিনি জানান, বেতন কমিশনের সিদ্ধান্ত একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারের মধ্যে সম্পদের বণ্টন করতে গিয়ে এভাবে ভারসাম্য করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্ষিপ্ত করার কারণ
প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান সফর সংক্ষিপ্ত করার কারণ হিসেবে ব্যয় সাশ্রয় ও দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কথা জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘এত দীর্ঘ সফরের চেয়ে কম সময়ের সফর ব্যয় সাশ্রয়ী। আপনারা খেয়াল করবেন খুব ছোট একটা দল নিয়ে তিনি গেছেন। একই সঙ্গে দেশ একটা নানান রকম ভাবে কিছু সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং দেশে থাকা তার জন্য নিশ্চয়ই আরও বেটার প্রাইয়োরিটি এই মুহূর্তে।’
তিনি আরও জানান, সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কোনো কথা তারা এখনও জানেন না।
৩ দিন আগে
বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে অস্থিতিশীলতা না করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সরকারের মেয়াদে কোনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া উচিত।
এছাড়া শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তিন ঘণ্টার মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ সময়মতো ঠিক করবে, তারা কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকবে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে সরকারের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এটি পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগে যে অবস্থায় ছিল, সে রকম একটা অবস্থায় ফিরে আসবে।’
সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা দেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার পর গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়। এতে শিল্পসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট সমস্যাটি ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি গত এক মাসে মোটামুটি সম্পন্ন করা হয়েছে। শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে।
২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালটি গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাগুলোও দীর্ঘদিনের বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ‘যেকোনো কিছু পরিকল্পনা করা এবং তা বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এই সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর সমাধান করা সম্ভব নয়।’
সভায় বিভিন্ন পরিকল্পিত উদ্যোগ কখন শেষ করা হবে, তার সম্ভাব্য সময়সীমাও ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তবায়নের সময় এসব সময়সীমায় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সরকারের সামনে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে।
ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাতের কোনো ক্ষতি হলে তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের স্বার্থের বিষয় নয়। এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জন করতে হলে পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
১১ দিন আগে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ না থামলে জ্বালানি সংকট নিরসন সম্ভব নয়: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে দেশের জ্বালানি সংকট পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব নয়। তবে সংকট মোকাবিলায় সরকার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘গ্যাসের সংকট আছে, জ্বালানির সংকট আছে। এই সংকট তো আন্তর্জাতিক সংকট। একক কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে এই মুহূর্তে এ সংকট নিরসন করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমেরিকা এবং ইরানের যুদ্ধ থামে।’
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর দিয়ে তেল পরিবহনের বড় একটি পথ রয়েছে। সেখানে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস আনার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে গ্যাস আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গ্যাসবাহী কার্গো আসছে।
তিনি বলেন, মহেশখালীর গভীর সমুদ্রের টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। ত্রুটি মেরামতের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে।
রিজভী বলেন, জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার প্রয়োজনে আরও ভর্তুকি দিয়ে গ্যাস ও জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা করছে। এ জন্য আরও ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
দেশের মূল্যস্ফীতি কমেছে দাবি করে তিনি বলেন, আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছে। বর্ষা শেষে শরৎকালে সাধারণত খাদ্যপণ্য, শাকসবজি, চাল-ডাল ও লবণের দাম বাড়লেও সরকারের বাজার হস্তক্ষেপের কারণে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম তেমন বাড়েনি।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। মানুষের সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যের মধ্যে ইতোমধ্যে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সরকার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে রিজভী বলেন, কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন সেখানে বাংলাদেশের শ্রমিকরা যেতে পারবেন।
‘একটি জাতির কর্মসংস্থান যদি সামগ্রিকভাবে নিশ্চিত হয়, তাহলে সেই জাতি চূড়ান্ত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যায়’ মন্তব্য করে এক্ষেত্রে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন রিজভী।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পরিবারের নারী অভিভাবককে দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের সার্বিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নারীরা হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালনসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন। ফলে তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া পরিবারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রিজভী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেটি বিএ ও বিএ (অনার্স) পর্যন্ত অবৈতনিক করার ঘোষণা দিয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীরা যদি ক্ষমতায়িত না হয়, নারীর ক্ষমতায়ন যদি না হয়, তাহলে সভ্যতা সম্পূর্ণ হয় না—এই দর্শনকে মাথায় রেখেই শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৪৮ বছর আগে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই দর্শনকে ধারণ করেই জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এগিয়ে এসেছে এবং তারা সামনের দিকে অগ্রসর হবে।
রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল দেশের অন্যতম শক্তিশালী নারী সংগঠন। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংগঠনটি প্রতিবাদ করেছে এবং নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, মতপ্রকাশের কারণে রাতে নারীদের গ্রেপ্তার করা হলে কিংবা নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীরা সংশ্লিষ্ট পরিবারের পাশে ছুটে গেছেন। খাদিজা, মিতু, নুসরাত, রূপাসহ অসংখ্য নারী নির্যাতনের ঘটনায় সংগঠনটি রাজপথে প্রতিবাদ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ সময় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় উল্লাস প্রকাশকারীদের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, যারা নারীদের ওপর হামলা চালায় এবং এ ঘটনায় উল্লাস করে, তারা ‘কাপুরুষ’ ও ‘বর্বর’।
তিনি বলেন, ‘যে মহিলা জুলাই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান রেখেছেন, তার ওপর আঘাত করা—এটা সবচেয়ে ঘৃণ্য, নিকৃষ্টতম কাপুরুষোচিত কাজ।’
ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানান রিজভী। তিনি বলেন, সংসদেও সব দল মিলে এ ঘটনার প্রতিবাদ করেছে।
১৬ দিন আগে
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জ্বালানির জন্য মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শুধু গ্যাস কিংবা তেলের ওপর নির্ভর না করে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বহুমুখী সোর্সিং নিয়ে কাজ করছে সরকার।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে চিটাগং জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকা (সিজেএফডি)-এর ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জ্বালানির জন্য মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা তৈরি হয়েছিল। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শুধু গ্যাস কিংবা তেলের ওপর নির্ভর না করে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বহুমুখী সোর্সিং নিয়ে কাজ করছে সরকার।’
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মাতারবাড়ীতে এক লাখ টন জ্বালানি মজুতের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে আরও দুটি এফএসআরইউ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে রেলপথের কর্ড লাইনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা করা হলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে রেলপথ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এটি বাস্তবায়ন হলে মাত্র দুই ঘণ্টায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাতায়াত করা সম্ভব হবে।
প্রযুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রযুক্তিতে গুরুত্ব দিতে পারলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে। আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে।’
নিজ অঞ্চলের প্রতি আন্তরিকতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আঞ্চলিকতার টান সবার মধ্যেই থাকে। তবে সবাই একসঙ্গে থাকলে খুব সহজেই সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। নিজেদের এবং দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এদিন উৎসবমুখর পরিবেশে সিজেএফডির ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে সংগঠনের সদস্যদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কেক কাটা ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিজেএফডির সভাপতি শামীম জাহাঙ্গীর।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘সিজেএফডি শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের আত্মার বন্ধন হিসেবে কাজ করবে। দল-মত নির্বিশেষে সংগঠনের সদস্যরা সুখে-দুঃখে মিলেমিশে একসঙ্গে থাকেন—এটাই সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়।’
প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের দেশ ও মানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের স্বার্থের পাশাপাশি দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দীন আহমদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন। সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নানা চড়াই-উৎরাই ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে ঢাকায় বসবাসরত চট্টগ্রামের সাংবাদিকরা কাজ করে যাচ্ছেন।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চট্টগ্রামবাসীকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো প্রয়োজনে সিজেএফডির পাশে থাকার প্রত্যাশা রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিজেএফডির জ্যেষ্ঠ সদস্য ফাহিম আহমদ, সন্তোষ শর্মা, তৌহিদ আলম, আনিস আলমগীর, মামুন আব্দুল্লাহ, নাসের, শাহেদ সিদ্দিকী, মেজবাহ উদ্দিন জঙ্গি, শাহীনুর আলম চৌধুরী, মোস্তফা কামাল ও সাইদ ইসলাম দিলাল।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন তরুণ উদ্যোক্তা সাহওয়াজ জামাল নিজাম সনি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সেলিম রহমান, অল কমিউনিটি ক্লাবের পরিচালক আবু তাহের আশরাফ এইচ চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাকিব।
বক্তারা বলেন, ঢাকায় কর্মরত চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে প্রতিষ্ঠিত চিটাগং জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের কল্যাণ ও পেশাগত উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও সংগঠনটি আরও বৃহৎ পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান।
সিজেএফডির ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনে সংগঠনের সদস্য, সাবেক ও বর্তমান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
৪৮ দিন আগে
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর তিন নির্দেশনা
জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এগুলো হলো—গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন, দেশে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সৌরবিদ্যুৎকে সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও লাভজনক করতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়ন।
সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ সংক্রান্ত এক সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবনে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে। এই কারণে তিনি বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন।
সভায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও ওয়ালটন গ্রুপ পৃথক উপস্থাপনায় আবাসিক ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। তাদের উপস্থাপনায় বলা হয়, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
এ সময় আরও জানানো হয়, ভোক্তাদের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে এর অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সুবিধাগুলো ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে। উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়, সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, লিফটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র পরিচালনা করা সম্ভব।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, গ্রুপটির সোলার ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বিভাগের এজিএম তওহিদুল আহাদ, ওয়ালটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৫৩ দিন আগে
জ্বালানির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ বিষয়ে সরকার নজরদারি রাখবে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে সিলেট জেলা পরিষদের ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য যে পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে পণ্যমূল্য খুব বেশি বাড়ার কথা না। কেউ যদি বাড়তি মূল্য রাখে, তার বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে। তবে দাম বাড়বে বলে অনুমান করেও দাম বাড়িয়ে দেওয়া ঠিক না।
এ বিষয়ে সরকারের তদারকির সুযোগ রয়েছে এবং বাজার পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হবে। কেউ বাজার প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার ঘাটতির কারণে পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। সেটি কমাতে বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য একটি ডেনিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বন্দরের কাজ দ্রুত হলে ইউনিটপ্রতি খরচ কমে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধারা যদি দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তা পরিবর্তনের সুযোগ চুক্তির মধ্যেই রয়েছে।’
সরকারি কল কারখানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকারের কাজ ব্যবসা করা না। সরকার যেখানেই ব্যবসা করতে যায়, সেখানেই অদক্ষতার কারণে লোকসান হয়। এতে জনগণের টাকা অপচয় হয়।
তিনি আরও বলেন, সবগুলো লোকসানি প্রতিষ্ঠান সরকার ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগকারীদের কাছে ছেড়ে দিতে চাচ্ছে। এসব কল-কারখানা চালু করে যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাজস্ব আহরণের ব্যবস্থা করা হয় সরকার সেই চেষ্টা করছে।
বাইশটিলায় ন্যাচারাল পার্ক নির্মাণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাইশটিলা এলাকায় সিলেট জেলা পরিষদের ৪৩ একর জায়গা রয়েছে। এটিকে পর্যটক আকর্ষনীয় স্থানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে ন্যাচারাল পার্কে ক্যাবল কার থাকবে, রোপ ব্রিজ থাকবে— এরকম অনেক কিছু থাকবে। শিশু থেকে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য অনেক উপকরণ থাকবে। এটি নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান করেছে জেলা পরিষদ। এটি সিলেটের অন্য পর্যটক আকর্ষণীয় স্থান হবে। সরকার এতে অর্থায়ন করবে।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমসহ রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৪০ দিন আগে
অবশেষে ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ কুতুবদিয়ায়, সচল হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি
কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তার পর ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছে ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’। এতে করে রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পুনরায় উৎপাদন শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে জাহাজটি তেল নিয়ে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত বলেন, ‘সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। আবহাওয়াসহ অন্যান্য সবকিছু ঠিক থাকলে রিফাইনারিতে তেল সরবরাহ হলে বৃহস্পতিবার বিকেল বা সন্ধ্যা থেকে পাঁচটি ইউনিটে পুরোদমে উৎপাদনে যাওয়া যাবে।’
মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে মার্চ ও এপ্রিলজুড়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় কাঁচামালের অভাবে রিফাইনারির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নির্ধারিত জাহাজগুলো না আসায় অপরিশোধিত তেলের মজুত দ্রুত কমে যায়, ফলে কর্তৃপক্ষকে প্রথমে উৎপাদন কমাতে এবং পরে পুরোপুরি বন্ধ করতে হয়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেলের চালান নিয়ে জাহাজটির মূলত সৌদি আরবের রাস তানুয়া বন্দর থেকে ছাড়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাহাজটি ২৪ এপ্রিল ইয়ানবু বন্দর থেকে রওনা হয়।
বিকল্প এই রুট এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কারণে আমদানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। চালানটির মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৮৪ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ হাজার ৮৪ কোটি টাকা), যেখানে প্রতি ব্যারেল তেলের মূল্য পড়েছে ১২৬ দশমিক ২৮ ডলার। পাশাপাশি লজিস্টিক পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৬০৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
দেশীয় জ্বালানি বাজারের জন্য রিফাইনারিটির পুনরায় সচল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে ডিজেল, পেট্রোলসহ বিভিন্ন জ্বালানির মাধ্যমে ইআরএল দেশের মোট জ্বলানি তেলের চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে। অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম সরাসরি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে থাকে সরকার।
১৪২ দিন আগে
জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত রংপুরের জনজীবন
তীব্র জ্বালানি সংকট ও অব্যাহত লোডশেডিংয়ে রংপুর অঞ্চলের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একদিকে কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সেচ সংকটে কৃষিতে দেখা দিয়েছে হাহাকার। পরিবহন খাত অচল হয়ে পড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ ও তেলের সংকটে কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ পাম্পগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ধান ও ভুট্টাখেতে প্রয়োজনীয় পানি দিতে না পারায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অনেক খেতে ধানের শীষে চিটা দেখা দিচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।
শিল্প খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড, গাইবান্ধার বিসিক শিল্পনগরীসহ রংপুর বিভাগের মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। উদ্যোক্তারা জানান, ব্যাংক ঋণ নিয়ে গড়া এসব প্রতিষ্ঠান এখন অস্তিত্ব সংকটে। উৎপাদন না থাকলেও শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের দেউলিয়া হওয়ার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
শিক্ষা খাতেও চলছে চরম অস্থিরতা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা জানান, চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছে না। শিক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পরীক্ষার ফলাফলে। প্রচণ্ড গরমে অনেক শিক্ষার্থী কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন অটোরিকশা ও অটোভ্যানচালকরা। সারা দিন কাজ শেষে গাড়ি চার্জ দেওয়ার মতো বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না তারা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকায় তাদের উপার্জনের পথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
রংপুর অঞ্চলের ফিলিং স্টেশনগুলোর চিত্র আরও ভয়াবহ। তেলের পাম্পগুলো ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ পাম্প সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন বন্ধ থাকছে। যে দু-তিন দিন তেল দেওয়া হয়ে থাকে, সেখানেও উপচে পড়া ভিড়। অনেক পাম্পে দেখা দেখা গেছে, তেল দেওয়া শুরুর আগেই দেড় থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। যারা তেল পাচ্ছেন, তা-ও আবার চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় অনেক পাম্পে গ্রাহক-মালিকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা, মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
হিমাগার মালিকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। আলুসহ পচনশীল পণ্য রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা হিমাগার সচল রাখতে হয়। কিন্তু লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর চালানোর মতো প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে হিমাগারগুলোতে রাখা কৃষকের হাজার হাজার টন আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রংপুর অঞ্চলের বিদ্যুৎ বিভাগের কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সরকার বলছেন সারা দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। কিন্তু বাস্তবে তেল সংকটের কারণে বিদ্যুতের বেশিরভাগ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ ও ঠাকুরগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে কিছুটা হলেও এই অঞ্চলে চার-পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। অতি দ্রুত চলমান এই জ্বালানি সংকট দূর করতে না পারলে বিদ্যুৎ নিয়ে হাহাকার দেখা দেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেল সংকটের কারণে সবকিছুতেই এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাই কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে জ্বালানির বিকল্প পথ দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে। এ সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জেনারেল ম্যানেজার আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে অনেক বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারের উচিত দ্রুত বন্ধ কেন্দ্রগুলো চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া। জ্বালানি সংকট দূর করতে না পারলে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
রংপুর চেম্বারের পরিচালক প্রণয় কুমার বলেন, জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে এর প্রভাব পড়েছে মালামাল পরিবহন থেকে শুরু করে সবকিছুতে। এখন ব্যবসায়ীদের প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়াতে হচ্ছে। এতে করে বিপাকে পড়ছেন ক্রেতারা। পাশাপাশি বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের উচিত বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত সব সমস্যার সমাধান করা।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
১৪৩ দিন আগে
মে মাসে অপরিবর্তিত থাকবে জ্বালানি তেলের দাম
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য এক লাখ টন ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের যে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়, মে মাসে তা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য মাজেদা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে এক লাখ টন ইএন৫৯০-১০ পিপিএম ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে ১ হাজার ৭৫৭ কোটি ৯৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে এই ডিজেল কেনার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য সাপারিশ করেছে।
এর আগে, গত ২১ এপ্রিল একই কমিটির বৈঠকে দেড় লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল ও ২৫ হাজার টন অকটেন আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। এতে বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানি অব্যাহত রাখার চেষ্টা করলেও দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারেও জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। সরকার প্রয়োজনে মে মাসে মূল্য সমন্বয়ের পরিকল্পনা করলেও তার আগেই গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়।
বর্তমানে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্য মে মাসে আরও না বাড়িয়ে অপরিবর্তিত রাখা হবে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এদিকে, বৈঠকে দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করতেও কয়েকটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি লিমিটেডের আওতায় শ্রীকাইল ডিপ-১ ও মোবারকপুর ডিপ-১ কূপ খনন প্রকল্প এবং সিলেট-১২ নম্বর কূপ খননসংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া বৈঠকে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার এবং দেশীয় উৎস থেকে ৯ হাজার টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
১৪৮ দিন আগে