জ্বালানি সংকট
অবশেষে ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ কুতুবদিয়ায়, সচল হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি
কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তার পর ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছে ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’। এতে করে রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পুনরায় উৎপাদন শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে জাহাজটি তেল নিয়ে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত বলেন, ‘সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। আবহাওয়াসহ অন্যান্য সবকিছু ঠিক থাকলে রিফাইনারিতে তেল সরবরাহ হলে বৃহস্পতিবার বিকেল বা সন্ধ্যা থেকে পাঁচটি ইউনিটে পুরোদমে উৎপাদনে যাওয়া যাবে।’
মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে মার্চ ও এপ্রিলজুড়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় কাঁচামালের অভাবে রিফাইনারির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নির্ধারিত জাহাজগুলো না আসায় অপরিশোধিত তেলের মজুত দ্রুত কমে যায়, ফলে কর্তৃপক্ষকে প্রথমে উৎপাদন কমাতে এবং পরে পুরোপুরি বন্ধ করতে হয়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেলের চালান নিয়ে জাহাজটির মূলত সৌদি আরবের রাস তানুয়া বন্দর থেকে ছাড়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাহাজটি ২৪ এপ্রিল ইয়ানবু বন্দর থেকে রওনা হয়।
বিকল্প এই রুট এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কারণে আমদানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। চালানটির মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৮৪ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ হাজার ৮৪ কোটি টাকা), যেখানে প্রতি ব্যারেল তেলের মূল্য পড়েছে ১২৬ দশমিক ২৮ ডলার। পাশাপাশি লজিস্টিক পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৬০৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
দেশীয় জ্বালানি বাজারের জন্য রিফাইনারিটির পুনরায় সচল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে ডিজেল, পেট্রোলসহ বিভিন্ন জ্বালানির মাধ্যমে ইআরএল দেশের মোট জ্বলানি তেলের চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে। অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম সরাসরি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে থাকে সরকার।
১০ ঘণ্টা আগে
জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত রংপুরের জনজীবন
তীব্র জ্বালানি সংকট ও অব্যাহত লোডশেডিংয়ে রংপুর অঞ্চলের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একদিকে কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সেচ সংকটে কৃষিতে দেখা দিয়েছে হাহাকার। পরিবহন খাত অচল হয়ে পড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ ও তেলের সংকটে কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ পাম্পগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ধান ও ভুট্টাখেতে প্রয়োজনীয় পানি দিতে না পারায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অনেক খেতে ধানের শীষে চিটা দেখা দিচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।
শিল্প খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড, গাইবান্ধার বিসিক শিল্পনগরীসহ রংপুর বিভাগের মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। উদ্যোক্তারা জানান, ব্যাংক ঋণ নিয়ে গড়া এসব প্রতিষ্ঠান এখন অস্তিত্ব সংকটে। উৎপাদন না থাকলেও শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের দেউলিয়া হওয়ার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
শিক্ষা খাতেও চলছে চরম অস্থিরতা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা জানান, চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছে না। শিক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পরীক্ষার ফলাফলে। প্রচণ্ড গরমে অনেক শিক্ষার্থী কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন অটোরিকশা ও অটোভ্যানচালকরা। সারা দিন কাজ শেষে গাড়ি চার্জ দেওয়ার মতো বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না তারা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকায় তাদের উপার্জনের পথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
রংপুর অঞ্চলের ফিলিং স্টেশনগুলোর চিত্র আরও ভয়াবহ। তেলের পাম্পগুলো ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ পাম্প সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন বন্ধ থাকছে। যে দু-তিন দিন তেল দেওয়া হয়ে থাকে, সেখানেও উপচে পড়া ভিড়। অনেক পাম্পে দেখা দেখা গেছে, তেল দেওয়া শুরুর আগেই দেড় থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। যারা তেল পাচ্ছেন, তা-ও আবার চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় অনেক পাম্পে গ্রাহক-মালিকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা, মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
হিমাগার মালিকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। আলুসহ পচনশীল পণ্য রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা হিমাগার সচল রাখতে হয়। কিন্তু লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর চালানোর মতো প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে হিমাগারগুলোতে রাখা কৃষকের হাজার হাজার টন আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রংপুর অঞ্চলের বিদ্যুৎ বিভাগের কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সরকার বলছেন সারা দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। কিন্তু বাস্তবে তেল সংকটের কারণে বিদ্যুতের বেশিরভাগ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ ও ঠাকুরগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে কিছুটা হলেও এই অঞ্চলে চার-পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। অতি দ্রুত চলমান এই জ্বালানি সংকট দূর করতে না পারলে বিদ্যুৎ নিয়ে হাহাকার দেখা দেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেল সংকটের কারণে সবকিছুতেই এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাই কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে জ্বালানির বিকল্প পথ দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে। এ সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জেনারেল ম্যানেজার আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে অনেক বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারের উচিত দ্রুত বন্ধ কেন্দ্রগুলো চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া। জ্বালানি সংকট দূর করতে না পারলে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
রংপুর চেম্বারের পরিচালক প্রণয় কুমার বলেন, জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে এর প্রভাব পড়েছে মালামাল পরিবহন থেকে শুরু করে সবকিছুতে। এখন ব্যবসায়ীদের প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়াতে হচ্ছে। এতে করে বিপাকে পড়ছেন ক্রেতারা। পাশাপাশি বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের উচিত বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত সব সমস্যার সমাধান করা।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
১ দিন আগে
মে মাসে অপরিবর্তিত থাকবে জ্বালানি তেলের দাম
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য এক লাখ টন ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের যে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়, মে মাসে তা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য মাজেদা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে এক লাখ টন ইএন৫৯০-১০ পিপিএম ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে ১ হাজার ৭৫৭ কোটি ৯৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে এই ডিজেল কেনার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য সাপারিশ করেছে।
এর আগে, গত ২১ এপ্রিল একই কমিটির বৈঠকে দেড় লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল ও ২৫ হাজার টন অকটেন আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। এতে বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানি অব্যাহত রাখার চেষ্টা করলেও দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারেও জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। সরকার প্রয়োজনে মে মাসে মূল্য সমন্বয়ের পরিকল্পনা করলেও তার আগেই গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়।
বর্তমানে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্য মে মাসে আরও না বাড়িয়ে অপরিবর্তিত রাখা হবে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এদিকে, বৈঠকে দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করতেও কয়েকটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি লিমিটেডের আওতায় শ্রীকাইল ডিপ-১ ও মোবারকপুর ডিপ-১ কূপ খনন প্রকল্প এবং সিলেট-১২ নম্বর কূপ খননসংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া বৈঠকে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার এবং দেশীয় উৎস থেকে ৯ হাজার টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
৬ দিন আগে
সাভারে জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে বিপাকে পোশাক শিল্প
শিল্প অধ্যুষিত সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় পোশাক কারখানায় জ্বালানি তেলের সংকট, সীমাহীন লোডশেডিং ও মূল্য বৃদ্ধির কারণে স্থবিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে পোশাক কারখানাগুলোতে ব্যাপক লোডশেডিং ও জ্বালানি তেলের সংকটে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। চলমান পরিস্থিতিতে কারখানাগুলোর উৎপাদন ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাভারের হেমায়তেপুরে অবস্থিত পোশাক কারখানা একেএইচ গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম জানান, জ্বালানি সংকট ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং ব্যাপক লোডশেডিংয়ের জন্য প্রতিদিন গড়ে শতকরা ১০ শতাংশ উৎপাদন কম হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে পণ্য পরিবহনে। জ্বালানি সংকটের কারণে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, পোশাক উৎপাদন কিছুটা কম হলেও সমস্যা নেই, কিন্তু উৎপাদিত পোশাক সময়মতো শিপমেন্ট না করতে পারলে বড় সমস্যা। জ্বালানি তেলের অভাবে সকালের পণ্যবোঝাই কাভার্ড ভ্যান বিকেলে পাঠাতে হচ্ছে। কোনো কোনো সময় পথেই তেল শেষ হওয়ায় কাভার্ড ভ্যান পথে আটকে যাচ্ছে। এ কারণে সঠিক সময়ে শিপমেন্ট করা যাচ্ছে না, ফলে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান তাদের ক্রয়াদেশ ধীরে ধীরে কমিয়ে দিচ্ছে।
বর্তমান এই সংকটের কারণে পোশাক কারখানাগুলোর ‘মহাবিপদের’ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পোশাক শিল্প খাত সচল রাখার জন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
সাভার পৌর এলাকায় অবস্থিত বৃহত্তর শিল্প প্রতিষ্ঠান আল মুসলিম গ্রুপ এবং জে কে গ্রুপের কারখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় নিজস্ব গ্যাসচালিত জেনারেটর দিয়ে তারা কারখানার যাবতীয় কাজ পরিচালনা করছে।
এ বিষয়ে জে কে গ্রুপের কারখানার মহাব্যবস্থাপক মাহবুব আলম জানান, জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের পোশাক কারখানায় উৎপাদন কম হচ্ছে। যেখানে প্রতিদিন ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হতো, সেখানে এখন ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। শুধু উৎপাদনই নয়, জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদিত পণ্য শিপমেন্টের জন্য চট্টগ্রামে পাঠাতে পণ্য বহনকারী কাভার্ড ভ্যান তেলের অভাবে পথিমধ্যে আটকে পড়ছে। ফলে সময়মতো পণ্য ডিপোতে পৌঁছাতে পারছে না। এ কারণে অনেক কারখানার মালিককে নিজ খরচে বিমানযোগে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। এতে করে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ব্যাপক লোডশেডিংয়ের কারণে গ্যাস দিয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়েও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পোশাক কারখানার মালিকরা।
কর্ণপাড়ার স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের স্টিচেস লিমিটেড পোশাক কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় তারাও নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে কারখানার কার্যক্রম সচল রেখেছে।
ওই কারখানার প্রধান উৎপাদন পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এভাবে আর কয়েকদিন চলতে থাকলে কারখানা চালানো কষ্টকর হয়ে পড়বে। এ কারখানায় প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক রয়েছে। প্রতিদিন এখানে ১৫ থেকে ২০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হলেও এখন সেটা কমে ১০ হাজারে নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক আকতার উজ্জামান লস্কর বলেন, চাহিদার চেয়ে বিদ্যুতের উৎপাদন কম হওয়ায় এবং চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের যোগান না পাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই উৎপাদন বাড়বে। এতে করে বিদ্যুতের সরবরাহ ঘাটতি পূরণ হবে।
৭ দিন আগে
জ্বালানি সংকট, দুর্যোগে হাওরের বোরো আবাদ বিপর্যস্ত
জ্বালানি তেলের সংকট, অতিবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বোরো আবাদ। এর মধ্যে বাজারে কাঁচা ধানের দাম নেমে এসেছে প্রতি মণ ৭০০ টাকায়, যা সরকারের নির্ধারিত দামের অর্ধেকেরও কম।
স্থানীয় আড়তগুলোতে বোরো ধান ৭০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকা। মাঠপর্যায়ে কৃষকরা আরও কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক স্থানে এখনও পানি নামেনি, কোথাও কোথাও পানি বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, ফলে যান্ত্রিকভাবে ধান কাটা ব্যাহত হচ্ছে।
জেলার প্রধান বোরো উৎপাদন এলাকা বানিয়াচং উপজেলায় ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ২৭ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম।
বানিয়াচং সদরের ধান-চাল ব্যবসায়ী বিসমিল্লাহ স্টোরের স্বত্বাধিকারী সুমন আহমদ জানান, তারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে ধান কিনছেন। তবে কৃষকদের কাছ থেকে তা আরও কম দামে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সরকারি হিসেবে, জেলায় ৯টি উপজেলায় মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০৪ হেক্টর কম। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ৪৬ হাজার ৯৫৪ হেক্টর এবং বানিয়াচং উপজেলায় সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।
বানিয়াচং উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অলক কুমার চন্দ জানান, উপজেলায় ১০৬টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লিটার জ্বালানির প্রয়োজন হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১ হাজার লিটার। এতে হারভেস্টারগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি জমিতে পানি থাকায় অনেক ক্ষেত্রে যন্ত্র নামানো যাচ্ছে না।
কৃষকরা জানান, ফুয়েল কার্ড থাকা সত্ত্বেও পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে তারা বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে জ্বালানি কিনছেন।
কুমড়ী গ্রামের কৃষক শহীদ চৌধুরী বলেন, ‘তেল সংকট ও জমিতে পানির কারণে ধান কাটতে চরম সমস্যায় পড়েছি। পাম্প থেকে এক ফোঁটা তেলও পাইনি।’
এদিকে, বন্যার আশঙ্কায় হাওরাঞ্চলে দ্রুত ধান কাটার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে হাওরের প্রায় ৮০ শতাংশ ধান হারভেস্টারের মাধ্যমে কাটা হলেও চলতি মৌসুমে জ্বালানি সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা কৃষি পুনর্বাসন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলার ৬টি উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমির বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বানিয়াচংয়ে ২৪৮ হেক্টর, আজমিরীগঞ্জে ১৫৪ হেক্টর, হবিগঞ্জ সদরে ৯০ হেক্টর, লাখাইয়ে ২৫ হেক্টর, নবীগঞ্জে ২০ হেক্টর এবং চুনারুঘাটে ১৯ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাওরাঞ্চলের বোরো উৎপাদন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
৮ দিন আগে
জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের জ্বালানি তেলের রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
পুলিশসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত বাহিনীর ওপর আরোপিত জ্বালানি তেলের সীমাবদ্ধতা বা রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনগণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দুই দিন আগেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে সংসদকে অবহিত করেন তিনি।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্লোর নিয়ে এসব কথা জানান।
এদিন কুমিল্লার একজন কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার ঘটনা ও পুলিশের টহল কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তেল সংকট ও রেশনিংয়ের বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেন মনিরুল হক চৌধুরী।
তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি তেলের রেশনিংয়ের অজুহাতে পুলিশ রাতে টহল কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। কুমিল্লার একজন কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বলছে, জ্বালানি তেলের কারণে তারা ঠিকমতো টহল দিতে পারছেন না।
এরপর ফ্লোর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বিষয়টি আমরা এরই মধ্যে অ্যাড্রেস করেছি। পুলিশসহ ইমার্জেন্সি বাহিনী যারা আছে—পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার ব্রিগেড, তাদের ওপর থেকে যে এমবার্গো (নিষেধাজ্ঞা) ছিল, তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুই দিন আগেই এ সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করেছি এবং বিষয়টি ক্লিয়ার করে দেওয়া হয়েছে। আশা করি এ সমস্যা আর হবে না।
১০ দিন আগে
নাটোরে জ্বালানি তেল মজুদের দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা
নাটোরে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা ১ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে তেলের ডিলার মুকুল হোসেনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.আশিকুর রহমান গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সহায়তায় নলডাঙ্গা উপজেলার পীরগাছা বাজারে এ অভিযান চালান।
অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা ৫০০ লিটার ডিজেল ও ৫০০ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়। এ সময় জ্বালানি তেলের ডিলার মুকুল হোসেনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন তিনি।
পরে উদ্ধার করা তেল সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষক ও মোটরসাইকেলচালকদের মাঝে বিক্রির নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমান আদালত।
১২ দিন আগে
দেশে তেলের সংকট নেই, এটি সৃষ্টি করা হয়েছে: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে তেলের সংকট নেই। তবে কিছু মানুষ অনৈতিক ব্যবসা করছে বলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে মির্জা রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন আয়োজিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন এবং এলজিইডি ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকল্পে ঢেউটিন, চেক ও বরাদ্দপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ সমগ্র বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দেশে সরবরাহের জন্য তেলের সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। এ সমস্যাটা তৈরি করা হয়েছে। কিছু মানুষ এখানে অনৈতিক ব্যবসা শুরু করেছে। যে ব্যবসাটা দেশের জন্য জাতির জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু মানুষ তেল নিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করছে, এটা করতে দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের কৃষকরা সবসময়ই মার খায়। এবারও তারা আলুতে বিশাল মার খেয়েছে। তারা দাম পায়নি। তাদের উৎপাদন খরচটাও ওঠেনি। আমরা আমাদের এসব কৃষক ভাইদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছি। ইতোমধ্যেই তাদের কৃষক কার্ড দেওয়ার কাজ চলছে। এছাড়াও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য যাতে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারেন সেজন্য কৃষিভিত্তিক এলাকাগুলোতে আমরা কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য কৃষি জোন ও কৃষি হিমাগার তৈরি করব। কৃষক বাঁচলে তবেই আমরা বাঁচব।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন করে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছে দেশ। অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।
পরে তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারকে ১ বান্ডিল টিন ও ৩ হাজার টাকা করে এবং ৮০ পরিবারকে ৬ হাজার ২৫০ টাকা করে প্রদান করেন।
এছাড়া জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৭০ পরিবারকে ১ বান্ডিল টিন ও ৬০ পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়। ৮৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৯০ লাখ টাকার বরাদ্দপত্র বিতরণ করা হয়। এ সময় মোট প্রায় ২০ কোটি টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। এর মধ্যে আরও রয়েছে ১৯৫টি মসজিদ, ৮৯টি মন্দির, ৫টি কবরস্থান, ৪টি ঈদগাহ এবং ১টি শ্মশান সহ মোট ২৯৪টি প্রতিষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোদা দাদ, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খাইরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফসহ অন্যান্য নেতারা।
১২ দিন আগে
মে মাসে বিদ্যুৎ সংকট কেটে যাওয়ার আশা
আগামী মে মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট কেটে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা এ তথ্য জানান।
উম্মে রেহানা বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন সেই তুলনায় পিছিয়ে থাকায় দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের চাপ বেড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার চাহিদা প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছানোর পূর্বাভাস থাকলেও উৎপাদন ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমিত থাকতে পারে। ফলে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গরমের তীব্রতা, শিল্পাঞ্চলে বাড়তি ব্যবহার এবং জ্বালানি সংকট—সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, গতকাল বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৬৮১ মেগাওয়াট, ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিং হয়েছে। পূর্বাভাস হিসেবে দেখেছি, আজ চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটের মতো। বিভিন্ন শিল্প এলাকায় চাহিদা বেড়েছে, বেড়েছে গরমও। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ চাহিদা অনেক বেড়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি সংকটও অনেক বেশি অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে।
১৩ দিন আগে
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১০ সদস্যের যৌথ কমিটির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সমান সংখ্যক সদস্য নিয়ে যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কমিটির সভাপতিসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম প্রস্তাব করে বিরোধী দলের কাছ থেকে পাঁচজনের নাম চেয়েছেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২০তম দিন বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী। কমিটির সভাপতি হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নাম প্রস্তাব করেন তিনি।
গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত আলোচনা প্রস্তাবের ওপর সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় যৌথভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের অভিমত উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন।
সংসদ নেতা বলেন, গতকাল বিরোধীদলীয় নেতা দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা, যার তাপ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা জানিয়েছিলেন, তাদের কাছে কিছু পরামর্শ আছে এবং সরকারি ও বিরোধী দল একসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে পারে। আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময় দেশের ও মানুষের স্বার্থে যে কারও সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত।
এই প্রেক্ষাপটে সরকারি দলের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটির নাম ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তারা হলেন— বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, মানিকগঞ্জ-২ আসনের মঈনুল ইসলাম খান শান্ত এবং শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন অপু।
এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, আশা করি, এই সংসদ জাতীয় সব সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে ইনশাআল্লাহ। এটি এই সংসদের জন্য একটি নবযাত্রা। আমরা শিগগিরই আমাদের নামগুলো পেশ করব।
সরকার ও বিরোধী দলের এই সমঝোতাকে সাধুবাদ জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, এই মাসের শেষেই সংসদ বিরতিতে যাবে। তাই আশা করি অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতা তাদের পাঁচজন সদস্যের নাম দেবেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার এবং বিরোধী দল এভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে অগ্রসর হলে দেশের যেকোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। আপনাদের এই বক্তব্যের ফলে জনগণের মনে অনেক আশার সঞ্চার হয়েছে।
১৩ দিন আগে