জ্বালানি সংকট
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিচলিত না হয়ে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিচলিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাহুল্যতা বর্জন এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে অমিতব্যয়িতা পরিহার করার অনুরোধ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সব দেশে তেল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও আমরা জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এখন পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তটি নিইনি। এ খাতে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকার চেষ্টা করছে আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে।
তিনি বলেন, জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কারণ বর্তমান সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার।
তিনি আরও বলেন, আমি আশ্বস্ত করতে চাই, জনগণের বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে আমরা যেন সবাই রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে, এমনকি পারিবারিক পর্যায়ে অমিতব্যায়িতা পরিহার করি, তার জন্য আমি দেশের সব মানুষকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে কারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি, দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসনকাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
দেশে বর্তমানে এক বিশাল সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে। কর্মক্ষম এই জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করাই এই মুহূর্তের বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারপ্রধান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায়ও বিপর্যয় নেমে আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরেনি দুঃখজনকভাবে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দেশে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক এবং কর্মমুখী করতেই হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার কাজটিও আমরা ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে না পারলে আমাদের কোনো উদ্যোগই সহজে সফল হবে না। এভাবে প্রতি খাতকে চিহ্নিত করে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে সরকার।
৯ ঘণ্টা আগে
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এশীয় দেশগুলোকে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি জাপানের
ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ বিলিয়ন (১০০০ কোটি) মার্কিন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) এশীয় নেতাদের সঙ্গে ‘এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেক) প্লাস অনলাইন সামিটে’ অনলাইন বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সহযোগিতা কাঠামোর ঘোষণা দেন।
সানায়ে তাইকাচির বরাত দিয়ে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জাপান পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, বিশেষ করে চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে। টোকিও সাপ্লাই চেইনের মাধ্যমে প্রতিটি এশীয় দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং আমরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।
জাপানের এই সহযোগিতা কাঠামোর লক্ষ্য হলো এশীয় দেশগুলোকে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সংগ্রহে সহায়তা করা, সাপ্লাই চেইন বজায় রাখা এবং জ্বালানি মজুদ বৃদ্ধি করা।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের মুখে এশিয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কারণ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী তেল ও গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশই এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে যায়।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ১০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট ‘আসিয়ান’-ভুক্ত দেশগুলোর এক বছরের অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণের সমান।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বাংলাদেশসহ ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়ার নেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
এই প্রকল্পের অর্থায়ন আসবে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি), নিপ্পন এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন্স্যুরেন্স (এনইএক্সআই), জাইকা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই উদ্যোগ জাপানের অভ্যন্তরীণ তেল সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানের নিজস্ব মজুদে ২৫৪ দিন ব্যবহারের মতো তেল ছিল। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে কর্তৃপক্ষকে সেই মজুদ ব্যবহার করতে হচ্ছে। গত মাসে জাপান তার মজুদ থেকে রেকর্ড ৫০ দিনের তেল ছেড়েছে এবং মে মাসের শুরুতে আরও ২০ দিনের তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
জাপানে বর্তমানে ন্যাপথার (অপরিশোধিত তেল থেকে উৎপাদিত পেট্রোকেমিক্যাল এবং প্লাস্টিকের প্রধান কাঁচামাল) ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই উদ্বেগ বিশেষ করে হাসপাতালগুলোতে প্রকট। সিরিঞ্জ, গ্লাভস এবং ডায়ালাইসিস সরঞ্জামের মতো জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী তৈরিতে এই পদার্থটি ব্যবহৃত হয়।
এদিকে, শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তাকাইচি বলেছেন, ন্যাপথার সরবরাহে তাৎক্ষণিক কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। তবে বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যার চাপে থাকা দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ন্যাপথার ঘাটতিতে আরও সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়েও তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশগুলোর সরকার জনগণকে গাড়ি শেয়ার করা এবং এসি ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার আহ্বান জানিয়েছে। ইতোমধ্যে ফিলিপাইন জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
জাপানের আয়োজিত এই সম্মেলনে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র আসিয়ান দেশগুলোকে তাদের পারস্পরিক জ্বালানি ভাগাভাগি চুক্তি সক্রিয় করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এশিয়ার কোনো একক দেশ এই ধরনের সাপ্লাই চেইন বিপর্যয় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না।
১৩ ঘণ্টা আগে
আগামী ২ মাস দেশে জ্বালানি সংকট হবে না: যুগ্ম সচিব
আগামী ২ মাস দেশে কোনো জ্বালানি সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রায় ৫ লাখ লিটার অবৈধভাবে মজুদ করা তেল উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। আজকের দিনে ডিজেল মজুদ রয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ টন, ফার্নেস অয়েল আছে ৭৭ হাজার ৫৪৬ টন, অকটেন ৩১ হাজার ৮২১ টন, পেট্রোল ১৮ হাজার ২১১ টন এবং জেট ফুয়েল আছে ১৮ হাজার ২২৩ টন।
মজুদের যে পরিসংখ্যান দেওয়া হলো, এটা দিয়ে কতদিন চলবে—এ বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, আমি আগেই আপনাদের বলেছি, অকটেন এবং পেট্রোলের যে মজুদ আছে তাতে আমাদের আগামী দুই মাসেও কোনো অসুবিধা হবে না। একই কথা এখনও আপনাদের বলছি যে পর্যাপ্ত মজুদ আছে আমার কাছে; আর ডিজেল আজকের দিনে খুবই পর্যাপ্ত। আমাদের এপ্রিল মাস তো বটেই, ইনশাল্লাহ মে মাসেও কোনো সমস্যা নেই। এটা আগে কিন্তু বলিনি, আগে এপ্রিল মাস পর্যন্তই বলেছি।
তিনি বলেন, আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছি যে, যুদ্ধ পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে, তো আমরা আমাদের যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি তাতে আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে এটুকু মোটামুটি নিশ্চিত করেছি। আপনাদের মাধ্যমে সর্বস্তরের জনগণকে আশ্বস্ত করছি যে, আমাদের ইনশাল্লাহ আগামী দুই মাসে কোনো জ্বালানি সংকট নেই।
ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) অপরিশোধিত তেল সংকটের বিষয়ে যুগ্ম সচিব বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারি আমাদের জ্বালানি তেলের একমাত্র শোধনাগার, যেখানে আমরা বছরে প্রায় ১৫ লাখ টনের মতো তেল পরিশোধন করি। এখন এই ১৫ লাখ টন আসলে আমাদের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার পাঁচ ভাগের এক ভাগের মতো। তো আমি প্রথম দিন থেকে বলছি যে, আমরা পরিশোধিত তেল আমদানি করি। আপনারা জানেন যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় অপরিশোধিত তেলের যে অংশ হরমুজ দিয়ে আসে, সৌদি আরব এবং আরব আমিরাত থেকে তা ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে মার্চ মাসে আমাদের যে শিডিউলটা ছিল, সেটা আমরা আনতে পারিনি। আর এপ্রিল মাসেও একই অবস্থা চলছে। কিন্তু আমাদের কাছে মোটামুটি আগের যে মজুদ ছিল, সেটা দিয়ে আমরা ইআরএলকে চালু রেখেছি।
তিনি জানান, ইআরএলের চারটি ইউনিট আছে। ওই চারটি ইউনিটের মধ্যে আপনারা জানবেন যে, একেকটা একেক ধরনের উৎপাদন করে। দুইটি ইউনিট পুরোদমে এখনও চালু আছে। আমরা খুব সীমিত পর্যায়ে হলেও পরবর্তী যে চালানটা পাব, আশা করছি ২০ তারিখ নাগাদ আমাদের অপরিশোধিত তেলের একটা জাহাজ সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে রওনা হয়ে লোহিত সাগর হয়ে ভিন্ন চ্যানেলে এপ্রিলের শেষ দিকে বা মে মাসের এক-দুই তারিখের মধ্যে এসে পৌঁছাবে। তো সে পর্যন্ত আমরা সীমিত পরিসরে আমাদের ইআরএল চালু রাখব।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, আপনাদের মাধ্যমে একটু জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, ইআরএলের বিষয়টা আমাদের জ্বালানি তেলের সরবরাহ চ্যানেলে খুব প্রভাব বিস্তার করে না। কারণ আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিশোধিত তেল আমাদের হাতে আছে। ইআরএলের কাজ তো পরিশোধন করা। ফলে পরিশোধিত তেল যখন আমার হাতে আছে, ইআরএলের বিষয়টা আমার সরবরাহ চ্যানেলে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
১ দিন আগে
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) মার্কিন ডলার তহবিল চেয়েছেন। এই অর্থ সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংসদ সচিবালয়ের অফিস থেকে ‘এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেক) প্লাস অনলাইন সামিটে’ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ সহায়তা চান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান এই সম্মেলনের সম্মিলিত আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকা উচিত। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ তার জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহের চেষ্টা করছে। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই আহ্বানে দ্রুত ও ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিশ্ব সম্প্রদায়ের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এবং অভিন্ন ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। কোনো রাষ্ট্রই, তা আকারে যত বড় বা শক্তিশালীই হোক না কেন, বিচ্ছিন্নভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না। আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে, সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে সহায়তা করতে এশিয়ার দেশগুলোর একটি সমন্বিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তারেক রহমান বলেন, জ্বালানি সংকট ইতোমধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে আমরা একগুচ্ছ স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা নিয়েছি। গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে— সরকারি অফিস ও বাজারের সময়সীমা কমানো, জরুরি আমদানি এবং উৎসের বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, এবং জ্বালানির মজুদ রোধে ‘ফুয়েল অ্যাপের’ মতো উদ্যোগের মাধ্যমে জ্বালানি রেশন ও খুচরা বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ আনা।
এই সংকটের ব্যাপকতা ও পরিণতি ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেওয়া এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নিরলস কাজ করেছে। আজ আমাদের কষ্টার্জিত সেই অর্জনগুলো বিপন্ন এবং তা স্থবির হয়ে যাওয়ার বাস্তব হুমকির মুখে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একা এই ঝুঁকির সম্মুখীন নয় এবং কোনো দেশের একার পক্ষে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভবও নয়। তিনি বলেন, এই মুহূর্তটি চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে একটি চূড়ান্ত ও সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপের দাবি রাখে; বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে এর মারাত্মক অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব থেকে রক্ষা করতে হবে।
সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলন আয়োজনের জন্য তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা ভার্চুয়ালি এই সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।
ভারত, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, তিমুর-লেস্তে, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, কম্বোডিয়া এবং ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিরা এই অনলাইন সম্মেলনে অংশ নেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে যোগ দেন।
১ দিন আগে
ইস্টার্ন রিফাইনারি সীমিত সক্ষমতায় চললেও জ্বালানির সংকট হবে না: মন্ত্রণালয়
যুদ্ধজনিত কারণে ক্রুড অয়েল আমদানিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় দেশের একমাত্র শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সীমিত সক্ষমতায় (লো-ফিডে) চালু রয়েছে। তবে বিকল্প উৎস থেকে সরকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি জোরদার করায় দেশে জ্বালানির কোনো সংকট হবে না বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইআরএল মূলত সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডিএনওসি থেকে মারবান ক্রুড অয়েল আমদানি করে পরিশোধন করে থাকে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল উৎপাদন হয়, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ডিজেলের চাহিদা ছিল ৪৭ লাখ ৪২ হাজার টন, যার মধ্যে ইআরএল থেকে সরবরাহ হয়েছে ৭ লাখ ৩২ হাজার ২৩০ টন, অর্থাৎ প্রায় ১৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। একই সময়ে পেট্রোলের মোট চাহিদার ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ ইআরএল থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। ওই অর্থবছরে পেট্রোলের মোট চাহিদা ছিল ৪ লাখ ৮৯ হাজার টন, যার মধ্যে ইআরএল সরবরাহ করেছে ৫৮ হাজার ৩০৯ টন।
এছাড়া ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন ও বিটুমিনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও উপজাত হিসেবে ইআরএল থেকে পাওয়া যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মার্চ ও এপ্রিল মাসে নির্ধারিত মোট ৩ লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানি ব্যাহত হয়েছে। মার্চ মাসে নির্ধারিত ১ লাখ টনের একটি এরাবিয়ান লাইট ক্রুড কার্গো লোড সম্পন্ন হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারেনি এবং বর্তমানে রাস্তানুরা বন্দরে অবস্থান করছে। একই মাসে নির্ধারিত মারবান ক্রুডের (১ লাখ টন) দ্বিতীয় চালানের ক্ষেত্রে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ঘোষণা করা হয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, এপ্রিল মাসের জন্য নির্ধারিত ১ লাখ টন এরাবিয়ান লাইট ক্রুড কার্গো ২০ এপ্রিল লোডিং শেষে বিকল্প রুট ব্যবহার করে আগামী ২ থেকে ৩ মে’র মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। এছাড়া মে মাসে ১ লাখ টন মারবান ক্রুডের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১ লাখ টন এরাবিয়ান লাইট ক্রুড সরবরাহের জন্য সৌদি আরামকোর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে নির্ধারিত ক্রুড অয়েল সময়মতো না পৌঁছানোয় ইআরএলকে ‘লো-ফিড’ অবস্থায় চালু রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চারটি ইউনিটের মধ্যে দুটি রক্ষণাবেক্ষণে থাকলেও বাকি দুটি ইউনিট চালু রয়েছে।
তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি জোরদার করেছে। নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সরবরাহে কোনো ঘাটতি না হয়।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ক্রুড অয়েল সরবরাহে সাময়িক চাপ তৈরি হলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকবে এবং এ নিয়ে জনমনে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
১ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে: ডা. জাহেদ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা ডা. জাহেদ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম আসলে বাড়বে কি না, তা নিশ্চিত নয়। আপনারা খেয়াল করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধটা খারাপ দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আবার আমরা দেখছি, ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন যে, পরিস্থিতি ভালোর দিকেও যেতে পারে। সাম্প্রতিক অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জাহাজ চলাচলে বাধা বা অবরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। এটা যদি কার্যকর হয়, এটা যদি লম্বা সময় ধরে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি আসলেই খারাপের দিকে যাবে। তখন খুব লম্বা সময় ভর্তুকি দিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য আসলে কঠিন।
তিনি বলেন, আমরা এপ্রিল মাসে দাম বৃদ্ধি করব না। ইতোমধ্যে বলেছি, যদি এটা চলতে থাকে তাহলে দামের কিছু সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। আমি আবারও বলছি প্রয়োজন হতে পারে মানে এটা হবেই—এরকম কথা না। আমি আশা করি, কোনো ভুল ফটোকার্ড বানাবেন না। আবার ওই যে বলছি যে, ট্রাম্পের বিষয়ে তো আগাম কিছু বলা যায় না। যদি উনাদের মধ্যে একটা আলোচনা হয়ে যায়, যদি একটা চুক্তি মোটামুটি হয়ে যায়, তাহলে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে যে ইস্টার্ন রিফাইনারির বন্ধ, তেল নাই; এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের বিষয়ে যদি আমাদের জানাতেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সরবরাহে কিছুটা চাপ দেখা দিয়েছে। সাধারণত এই রিফাইনারি থেকে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়, বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেন।
তিনি বলেন, সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন জ্বালানি তেলের একটি চালান নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছাতে না পারায় পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়ে। তবে নতুন করে আরেকটি চালান মে মাসের শুরুতে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, এখন প্রশ্ন হচ্ছে সংকট হবে কি না, কারণ আমরা আমাদের পেট্রোল এবং অকটেন প্রধানত পাই আমাদের ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে। রিফাইনারিতে যে সংকট আছে, তা নিয়ে আপনারাই পত্রিকায় সংবাদ করেছেন—আর এতদিনের মতো মজুদ আছে, এতদিন রিফাইনারি চালানো যাবে। সুতরাং সরকার যে কাজটা করেছে, সরকার পেট্রোল পরিশোধন এবং আমদানি যথেষ্টই করেছে। এ কারণে একদম কোনো সমস্যা যে হবে না তা না। সরবরাহ সংকট তো খানিকটা আছে আসলে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও মজুদ বাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন লক্ষ করা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, একই যানবাহন বারবার তেল সংগ্রহ করছে বা প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি তেল কিনছে। এতে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে।
একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এক পেট্রোল পাম্পের বিক্রয়কর্মী বলেন, আগে সারা দিনে যত তেল বিক্রি হতো, এখন তা চার ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ কমানো হয়নি, তবুও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দ্রুত মজুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। শিগগিরই পাম্পভিত্তিক সরবরাহের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হবে।
১ দিন আগে
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেমে গেলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট পুরোপুরি শেষ হবে না বলে সতর্ক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মরিশাসে অনুষ্ঠিত নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে (আইওসি) বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে আমরা সবাই বিপদে আছি। এর প্রভাব আগামী দিনেও পড়বে। এমনকি জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হলেও আমাদের বহুপাক্ষিকতা হ্রাসের মতো আরও বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।
সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করসহ অন্যান্য বিশ্বনেতারা বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার ডিজেল সরবরাহের জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানায় বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ডিজেল ও সারের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য ভারতকে অনুরোধ জানায় ঢাকা। দিল্লি এই অনুরোধটি সহজভাবে এবং ইতিবাচকভাবে বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস হারানোর যে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা আমাদের নিজেদের কাজের মাধ্যমেই মোকাবিলা করতে হবে। যদি আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে শক্তিশালী থাকতে পারি, তবে বাইরে থেকে আসা ঝড়গুলো মোকাবিলা করা আমাদের জন্য অনেক সহজ হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এই সংকটের প্রভাব ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও অনেক বেশি হবে। বর্তমান সংকটের প্রভাব যদি ৭০-এর দশকের ধাক্কার চেয়েও বড় হয়, তবে আমরা কী ধরনের ঝুঁকির মুখে আছি তা কল্পনা করা যায়। এটি একটি তাৎক্ষণিক সমস্যা, তবে এর চেয়েও বড় সমস্যা হলো যে প্রেক্ষাপটে এটি ঘটছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, একটি সুশৃঙ্খল বিশ্ব যা পুরোপুরি সুশৃঙ্খল ছিল না ঠিকই, কিন্তু আমাদের বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট সুশৃঙ্খল ছিল যে, বৈশ্বিক ব্যবস্থা আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান করবে। তবে তা এখন গুরুতর চাপের মুখে পড়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বহুপাক্ষিকতার ওপর আঘাত এবং বৈশ্বিক কাঠামোর মধ্যে একতরফা পদক্ষেপের প্রবণতা বাড়ছে। এসব কাঠামো এই ইস্যুগুলো মোকাবিলায় আমাদের আর কার্যকরভাবে সাহায্য করছে না। তাই আমরা একটি বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এখন সম্মিলিত পদক্ষেপের সময়, কারণ একক কোনো দেশের পক্ষে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল বর্তমানে এক উত্তাল সময় অতিক্রম করছে। জ্বালানি সংকট অর্থনীতি ও সমাজের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতিতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
মরিশাস সরকার এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ‘ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন’ মরিশাসে এই নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এই সম্মেলনে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নেতা, নীতি-নির্ধারক এবং বিশেষজ্ঞরা পারস্পরিক দায়িত্ব ও আঞ্চলিক শাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে একত্রিত হয়েছেন।
৫ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে জ্বালানি তেল মজুদের দায়ে ৪ জনের জেল-জরিমানা
সিরাজগঞ্জে পৃথক চারটি অভিযান চালিয়ে জ্বালানি তেল মজুদ করে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করায় ৪ জনকে জেল ও জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে এ অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. আসসাদিকুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল (বৃহস্পতিবার) জেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক ৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির অভিযোগে ৪ জনকে আটক করা হয়।
তিনি আরও জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের মধ্যে দুইজনকে দুই মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর দুইজনকে ২০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা ৭০৯ লিটার ডিজেল ও ৫ লিটার মবিল উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত: আমীর খসরু
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রাথমিক উদ্দেশ্য কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়, বরং একটি টেকসই, স্বচ্ছ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি বিনির্মাণ করা।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী গণম্যান্ডেট নিয়ে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি ফিরিয়ে আনতে এবং সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে এবং আমাদের দায়িত্ব হলো একটি উন্নত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার মাধ্যমে সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটানো।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে এমন এক অর্থনীতি পেয়েছে যা কাঠামোগত দুর্বলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক খাতের চাপ, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং সুশাসনের চ্যালেঞ্জে জর্জরিত। এর জন্য জরুরি সংস্কার প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা জ্বালানি বাজার, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।
আমীর খসরু বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। তা সত্ত্বেও, নাগরিকদের কষ্ট লাঘব করতে সরকার জ্বালানির দাম বাড়ায়নি। ফলে চলতি অর্থবছরে মূল বাজেটের বাইরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে হবে। তিনি সতর্ক করেন যে, এই অপ্রত্যাশিত ব্যয় বাজেট ঘাটতি বাড়াবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এই অতিরিক্ত আমদানির জন্য প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বাজেট সহায়তা ও পেমেন্ট ব্যালেন্স স্থিতিশীল রাখতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থায়নের চেষ্টা করছে।
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক যাত্রার ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আর্থিক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ কমানো এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনতে করপোরেট বন্ড, সুকুক এবং গ্রিন বন্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে খসরু বলেন, ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে এর আওতায় আনা হবে। প্রকৃত কৃষক ও খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড চালু এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া আইসিটি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে শক্তিশালী করার কাজ চলছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে, যেখানে বিভিন্ন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে এবং সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে।
৬ দিন আগে
রাজধানীর ২ পাম্পে চালু হচ্ছে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ
জ্বালানি সংকটের মাঝে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানী ঢাকার দুটি পেট্রোল পাম্পে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘পরীক্ষামূলকভাবে আমরা দুটি ফিলিং স্টেশনে কাজ শুরু করেছি; একটি আসাদ গেটের সোনার বাংলা, আরেকটি তেজগাঁয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন। ইতোমধ্যে প্রচুর সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করছেন। আমার মনে হয় রেজিস্ট্রেশনকারীর সংখ্যা ১০ হাজার অতিক্রম করেছে।
‘তবে এই কাজটা একটু সময়সাপেক্ষ। আমরা মোটরসাইকেলে ফোকাস করে দুটি ফিলিং স্টেশনে কাজটি শুরু করেছি। আশা করি, আস্তে আস্তে ঢাকা শহর পুরোটা কভার করতে পারব। এরপর হয়তো আমরা এটি দেশব্যাপী রেপ্লিকেট (অনুকরণ) করার চেষ্টা করব।’
যুগ্ম সচিব জানান, ৮ এপ্রিল পর্যন্ত অবৈধভাবে মজুদ করা মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৭ লিটার, অকটেন ৩৬ হাজার ৬২১ লিটার এবং পেট্রোল ৮০ হাজার ৩৭৪ লিটার।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৩৪২টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মামলার সংখ্যা ৩ হাজার ১১টি। মোট জরিমানা করা হয়েছে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩৫০ টাকা। সেই সঙ্গে মোট ৩৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের মজুদের পরিমাণ ডিজেল এক লাখ ৪৩ হাজার ১৪৩ টন, অকটেন ৪ হাজার ৫৬৯ টন এবং পেট্রোল ১৬ হাজার ৮১২ টন বলেও জানান মনির হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘নিয়মিত আমদানি ও সরবরাহ অব্যাহত থাকায় অন্তত আগামী দুই মাস অকটেন ও পেট্রোলের কোনো সংকট হবে না।’
অবৈধ মজুদের পেছনে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মামলার মাধ্যমে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জ্বালানি ও খুনি সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও প্রকৃত মূল্য প্রায় ১৫৫ টাকা হওয়া উচিত। এ কারণে সরকারকে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বহন করতে হচ্ছে। তবে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। অযথা মজুদ বা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করলেই নিয়মিত সরবরাহ পাওয়া যাবে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত সরবরাহ অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং ভোক্তাদের দুর্ভোগ কমে আসবে।’
৭ দিন আগে