বেনাপোল
ভারতে পাচারের শিকার ভুক্তভোগীদের জন্য বেনাপোলে ‘হাফওয়ে শেল্টার হোম’ চালু
ভারতে পাচারের শিকার নারী, পুরুষ ও শিশুদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে বেনাপোলে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘হাফওয়ে শেল্টার হোম’ নামের একটি আশ্রয়কেন্দ্র।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে বেনাপোলে হোটেলে সান রুফে আয়োজিত হাফওয়ে শেল্টার হোমের এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) পরিচালিত ‘গ্লোবাল অ্যাকশন এগেইনেস্ট ট্রাফিকিং ইন পারসন্স অ্যান্ড স্মাগলিং অব মাইগ্রেন্টস’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রাইটস যশোর।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের জন্য লিঙ্গ-সংবেদনশীল ও প্রতিবন্ধী-বান্ধব সুরক্ষা সেবা নিশ্চিত করাই এই শেল্টার হোমের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
এখানে ভুক্তভোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী, অস্থায়ী আবাসন, নিরাপদ আশ্রয়, খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা, আইনি সহায়তা এবং মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোলের ভবেরবেড় এলাকায় স্থাপিত এই শেল্টার হোমটিতে একসঙ্গে ৩০ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণত ভুক্তভোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী দুই থেকে সাত দিন পর্যন্ত এখানে রাখা হবে। কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য একজন ব্যবস্থাপব, একজন ‘হোম মাদার’, দুজন মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলরসহ ৯ সদস্যের একটি দক্ষ টিম নিয়োজিত রয়েছে।
রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থাটির প্রোগ্রাম ডিরেক্টর প্রদীপ দত্ত। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর তাসনীম বিনতে করিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বেনাপোল পৌর প্রশাসক ফজলে ওয়াহিদ, প্রেসক্লাবের বেনাপোলের সভাপতি আলহাজ মহসিন মিলন, বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন।
শেল্টার হোমের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন রাইটস যশোরের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এস এম আজহারুল ইসলাম। এ সময় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
ভারতে তিন বছর কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন ৬ নারী
ভারতে তিন বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশি ৬ নারী।
বুধবার (১৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে ভারতীয় পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
ফেরত আসারা হলেন— নুসরাত মন্ডল, ফাতেমা জিন্নাত, মিম আক্তার, সাদিয়া আক্তার, রিপা খাতুন ও আরোহী মন্ডল। তারা যশোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল ও চাঁদপুর জেলার বাসিন্দা।
ফেরত আসা ফাতেমা জিন্নাত বলেন, ভালো কাজের আশায় দালালের মাধ্যমে তারা ২০২৩ সালে সীমান্তপথ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতের হায়দারাবাদ গিয়েছিলেন। সেখানে বাসা-বাড়িতে এবং বিউটি পার্লারে কাজ করার সময় সেদেশের ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন তারা। পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে পাঠায়। অনুপ্রবেশের অভিযোগে আদালত তাদের তিন বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। কারাভোগ শেষে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা দায়িত্ব নিয়ে তাদের শেল্টার হোমে রাখে। পরে উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তারা আজ (বুধবার) বেলা ১১টার দিকে দেশে ফেরেন।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মুর্তজ আলী জানান, ভারত ফেরত ছয় নারীকে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের জ্যেষ্ঠ প্রোগ্রাম কর্মকর্তা মুহিত হোসেন বলেন, ফেরত আসাদের বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে গ্রহণ করে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
২২ দিন আগে
রবিবার থেকে বেনাপোলে ২ শ্রমিক সংগঠনের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা
দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে পণ্য লোড-আনলোড কাজে নিয়োজিত দুটি শ্রমিক সংগঠন অনির্দিষ্টকালের জন্য আগামী রবিবার (১৪ জুন) থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এর আগে, বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন এবং বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত আবেদনপত্র বেনাপোল বন্দরের পরিচালকের মাধ্যমে জমা দিয়েছেন।
আবেদনপত্রে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদার গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের সংগঠনের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি, সমন্বয় বা কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা করেননি। এ বিষয়ে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সন্তোষজনক সমাধান পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায়ও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু ও বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী বলেন, ইতোপূর্বে কয়েকবার কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বন্দর পরিচালকের আশ্বাসে তা স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তারা আগামী রবিবার থেকে বন্দরে শ্রমিক দ্বারা পরিচালিত সব ধরনের পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বেনাপোল বন্দরের ডিরেক্টর শামীম হোসেন বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দরের দুইটি শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন দাবি সম্বলিত একটি আবেদন পত্র বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর আমার মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। সেটি ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করি, এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২৮ দিন আগে
ভারতে ১৭ মাস কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৩৬ যুবক
ভারতে ১৭ মাস কারাভোগের পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৩৬ বাংলাদেশি যুবক।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত ৯টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
ফেরত আসারা বগুড়া, খুলনা, নাটোর, চট্টগ্রাম, ঢাকা, কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা আলী জানান, ভারতে গার্মেন্টসে ভালো কাজের আশায় ৩৬ বাংলাদেশি যুবক অবৈধপথে দালালের মাধ্যমে ভারতের চেন্নাই গিয়েছিলেন। পরে অনুপ্রবেশের দায়ে সেদেশের পুলিশের হাতে আটক হন তারা। এরপর দেশটির আদালত তাদের ১৭ মাস সাজা দিয়ে চেন্নাই কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়। কারাভোগ শেষে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের শেল্টার হোমে রাখে। পরে উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তারা দেশে ফেরেন।
ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ নামে একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের গ্রহণ করে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।
ফেরত আসা এক যুবক বলেন, ভালো কাজের আশায় দালালের মাধ্যমে ভারত গিয়েছিলাম। সেখানকার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরে খুব ভালো লাগছে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের মাঠ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ফেরত আসা যুবকদের গার্মেন্টসে কাজ দেওয়ার কথা বলে দালাল চক্র তাদের ভারতে নিয়ে যায়। পরে তারা সেখানে প্রতারণার শিকার হন। আজ (শুক্রবার) তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান এ মাঠ কর্মকর্তা।
৪১ দিন আগে
ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে ফিরলেন ২ নারী
ভারতে দুই বছর কারাভোগ শেষে বাংলাদেশি দুই নারীকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ৯টার দিকে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা নারীরা হলেন— হ্যাপি খান (৪৩) ও মারিয়া হাওলাদর (২৬)। তারা বাগেরহাট জেলার খেজুর বাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা আলী জানান, জীবিকার সন্ধানে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তারা দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতের নয়া দিল্লিতে গিয়েছিলেন। সেখানে বাসা বাড়িতে কাজ করার সময় পুলিশের হাতে আটক হন তারা। এরপর অনুপ্রবেশের দায়ে সে দেশের আদালত তাদের দুই বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়।
তিনি আরও জানান, কারাভোগ শেষে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের দায়িত্ব নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখে। পরে উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে তারা দেশে ফেরেন।
ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা থানা থেকে তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার যশোরের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর শফিকুল ইসলাম জানান, ফেরত আসাদের বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে গ্রহণ করে আজ (বুধবার) নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
৫৭ দিন আগে
শার্শায় প্রেম-বিয়ের পর যুবক নিখোঁজ: এক মাস পর মিলল মরদেহ
যশোরের শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামে প্রেমের সূত্র ধরে বিয়ের পর ইকরামুল কবির (২৬) নামে এক যুবক নিখোঁজ ছিল। তবে এক মাস পর মরদেহ উদ্ধার করে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় অভিযুক্তদের বাড়ির গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত ইকরামুল কবির উপজেলার পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসতপুর পূর্বপাড়া এলাকার আল ফুয়াদের স্ত্রী মুন্নী আক্তারের (২২) সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ইকরামুল কবিরের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। গত ৮ এপ্রিল ইকরামুল মুন্নীর কাছে পাওনা টাকা আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন। এরপর থেকেই তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
এ নিয়ে গত মঙ্গলবার যশোরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শার্শা আমলি আদালতে মামলা করেন ইকরামুলের বাবা আব্দুর রশিদ। মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তার একমাত্র ছেলে ইকরামুল কবিরকে দীর্ঘদিন ধরে মুন্নী প্রেমের প্রস্তাব ও বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে আসছিলেন। ইকরামুলকে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। এতে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক কাজী অফিসে নিয়ে বিয়ে করেন। মুন্নী অতীতেও একাধিক যুবককে একইভাবে বিয়ে করে তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে পরে ডিভোর্স দেন। বিয়ের এক মাসের মধ্যেই ইকরামুলের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ১০ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। একইসঙ্গে ইকরামুল ও তার পরিবারের কাছে দুই বিঘা জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৮ এপ্রিল ইকরামুল নিজ গ্রাম থেকে বড় বোনের বাড়ি শার্শা থানার সেতাই গ্রামে বেড়াতে যান। রাত ১টার দিকে মুন্নী তাকে ডেকে নিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। একইসঙ্গে হুমকি দেওয়া হয়, টাকা না দিলে ইকরামুলকে জীবিত পাওয়া যাবে না। এরপর থেকেই ইকরামুলের ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
বাদী অভিযোগ করেন, ছেলের খোঁজ জানতে চাইলে মুন্নী বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ইকরামুলকে জীবিত ফেরত পেতে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে মুন্নীর স্বামী আল ফুয়াদকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় বসতপুর গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে ইকরামুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত আল ফুয়াদ ও তার স্ত্রী মুন্নীকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সূত্র ধরে মুন্নীকে টাকা ধার দেন ইকরামুল। ওই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাকে শ্বাসরোধে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করে মরদেহ গুম করে দেওয়া হয়েছিল। গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে সেই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শত শত লোক অভিযুক্তদের বাড়ির সামনে ভিড় জমান। দীর্ঘ এক মাস পর মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় লোকজন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬০ দিন আগে
বেনাপোলে ধানখেত থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
যশোরে বেনাপোলে ধানখেত থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে পোর্ট থানার বড় আঁচড়া গ্রামের হরিনাপোতা মাঠের একটি খেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় কৃষকরা মাঠে কাজ করতে গিয়ে ধানখেতে একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রাতের কোনো একসময়ে হরিনাপোতা মাঠের ধানখেতে ফেলে রাখা হয়েছে। মরদেহের গলায় কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
৭৭ দিন আগে
আমদানির বর্ধিত সময়ে বেনাপোল দিয়ে এসেছে ১২৫৯ টন চাল
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সরকারঘোষিত বর্ধিত মেয়াদের ৪০ দিনের মধ্যে তিন কার্যদিবসে ৬টি চালানে মোট ১ হাজার ২৫৯ টন মোটা চাল আমদানি করা হয়েছে। সরকারঘোষিত বর্ধিত সময় শেষ হওয়ার পর আমদানি করা এসব চালের চালান বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইর্য়াডে প্রবেশ করে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন।
গত ১১ মার্চ থেকে সোমবার (২০ এপ্রিল) পর্যন্ত ৪০ দিনের মধ্যে মাত্র ৩ কার্য দিবসে এ চাল ভারতের পেট্রাপোল বন্দর হয়ে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে।
এসব চালের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স লিটন এন্টারপ্রাইজ ও লাইবা ওভারসিস। আমদানি করা চাল বন্দর থেকে ছাড়করণের জন্য কাজ করেছে মেসার্স রাতুল ইন্টারন্যাশনাল।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, চাল আমদানির পরিমাণ অনেক কমে যাওয়ায় এবং দেশের বাজারে চালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরকার পুনরায় চাল আমদানির সময় বাড়ায়। গত ১১ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৪০ দিন এই মেয়াদ বাড়ানো হয়।
এর মধ্যে মাত্র ৩ দিনে ৬টি চালানের মাধ্যমে ১ হাজার ২৫৯ টন চাল আমদানি হয়েছে। এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ এই তিন মাসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয়েছিল ৫ হাজার ৫ টন।
ওই সময়ে গত ১৮ জানুয়ারি ২৩২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার, যার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ১০ মার্চ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে চাল আমদানি ফলপ্রসূ না হওয়ায় পুনরায় ১১ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল ৪০ দিন সময় বৃদ্ধি করে। এবারও চাল আমদানিতে বিপর্যয় দেখা দেয়। তবে সোমবার সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে নতুন সময় বৃদ্ধির আর কোনো পরিপত্র জারি করা হয়নি।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান লিটন এন্টারপ্রাইজের মালিক লিটন হোসেন বলেন, বর্ধিত ৪০ দিনের মধ্যে মাত্র তিন দিনে ভারত থেকে ৩৪ ট্রাকে ১ হাজার ২৫৯ টন মোটা চাল আমদানি করেছি। আমদানিকৃত চালের প্রতি কেজি বেনাপোল বন্দর পর্যন্ত আনতে খরচ পড়েছে ৫০ টাকা। খোলা বাজারে এই চাল প্রতি কেজি ৫১ টাকায় বিক্রি হবে বলে জানান তিনি।
বন্দর পরিচালক শামীম হোসেন জানান, আমদানিকৃত চালের চালানগুলো বন্দর থেকে ইতোমধ্যে খালাস নেওয়া হয়েছে।
৭৮ দিন আগে
বেনাপোল বন্দরে ক্রেনের তার ছিঁড়ে শ্রমিক নিহত
বেনাপোল স্থলবন্দরে প্লেনশিট লোড করার সময় ক্রেনের তার ছিঁড়ে শাহজাহান আলী (৪৫) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেল হোসেন নামে আরও এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে বন্দরের টিটিআই মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহজাহান আলী বেনাপোল পোর্ট থানার পাঠবাড়ি গ্রামের আফতাবের ছেলে। আহত সোহেল হোসেন একই থানার সাদিপুর গ্রামের মোস্তফার ছেলে। তারা দুজনই বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৮৯১-এর সদস্য।
সোহেল জানান, রাতে স্থলবন্দরের টিটিআই মাঠে ক্রেনের সাহায্যে একটি বাংলাদেশি ট্রাকে লোহার ভারী প্লেনশিট লোড করা হচ্ছিল। এ সময় আকস্মিকভাবে ক্রেনের তার ছিঁড়ে প্লেনশিট তাদের শরীরের ওপর পড়ে। এতে তারা দুজনই পিষ্ট হন।
পরে সহকর্মীরা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহজাহান আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া সোহেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। অপরজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম আহমেদ বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ক্রেনের তার ছিঁড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শ্রমিকের অবস্থাও গুরুতর বলে জানান তিনি।
৯২ দিন আগে
বেনাপোলে চাঁদা না দেওয়ায় বাড়ি নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ
বেনাপোল পোর্ট থানায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় মাছুম হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তির বাড়ির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাইফুল বাহিনী নামের একদল দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় রবিবার (২৯ মার্চ) যশোর আদালতে সাইফুল ইসলাম, তার ভাই সুজয়ের উল্লাহ ও বিল্লাল হোসেনের নাম উল্লেখ করে একটি চাঁদাবাজির মামলা করেছেন ভুক্তভোগী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মার্চ হামলা চালিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন অভিযুক্তরা। এভাবেই ‘সন্ত্রাসী’ সাইফুল বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, মাছুম ৬.৩৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেছিলেন। ওই জমিতে গত ১৮ মার্চ সকালে শ্রমিক দিয়ে তার বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করলে সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে তার ভাই সুজয়ের উল্লাহ ও বিল্লাল হোসেনসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, লোহার পাইপ, দা ও লাঠিসোটা নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। তারা শ্রমিকদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।
এ সময় মাছুম বাধা দিলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে বলেন, ‘তুই আমাদের অনুমতি ছাড়া বাড়ি করছিস কেন? এখানে বাড়ি করতে হলে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে, তা নাহলে তোকে প্রাণে মেরে ফেলব।’
এ সময় তাদের আক্রমণের মুখে মাছুম চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে যান। এরপর সাইফুল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা ফের হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ভুক্তভোগী মাছুম জানান, বসতবাড়িতে একটি ভবন নির্মাণ করছি। শ্রমিকরা বাড়ির কলামের কাজ শুরু করলে সাইফুল ইসলামের সন্ত্রাসী বাহিনী শ্রমিকদের হুমকি-ধামকি দিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এছাড়া আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে বারবার হয়রানি করছেন সাইফুল ও তার ভাই সুজয়ের উল্লাহ। সেসব মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন। সন্ত্রাসী সাইফুল বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে আমি প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।
চাঁদা চাওয়ার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেনাপোল পোর্ট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১০১ দিন আগে