জাতীয় সংসদ
জাতীয় সংসদ গবেষণা নীতিমালা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ গবেষণা নীতিমালা (সংশোধিত)-২০২৬-এর গবেষণা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি সাঈদ আল নোমানের সভাপতিত্ব এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় কমিটির সদস্য সংসদ সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, মহাপরিচালক আ.ন.ম. খলিলুর রহমান খান, পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. নাজমুন হক, উপসচিব মো. ফয়সাল মোর্শেদ, উপসচিব ড. মো. ওহিদুজ্জামান এবং উপপরিচালক মো. আলী আকবর অংশ নেন।
সভার শুরুতে কমিটির সভাপতি উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানান। পরে জাতীয় সংসদের গবেষণা বরাদ্দ ও গবেষণা নীতিমালার আলোকে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়।
গবেষণার জন্য প্রস্তাব আহ্বানের লক্ষ্যে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার একটি করে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়ে সভায় আলোচনা করা হয়।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ গবেষণা নীতিমালা (সংশোধিত)-২০২৬-এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অনুযায়ী জাতীয় সংসদের কার্যক্রম, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া, সংসদীয় কার্যক্রম এবং সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণার বিষয় ও ক্ষেত্র নির্ধারণ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনা শেষে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার একটি করে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় গবেষণা প্রস্তাব আহ্বানের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া গবেষণার বিষয় নির্বাচন ও গবেষণা প্রস্তাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে চারটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। বিষয়গুলো হলো—বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে কার্যকর সংসদীয় কমিটি ব্যবস্থা: বর্তমান অবস্থা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং সংস্কারের রূপরেখা; পোস্ট লেজিসলেটিভ স্ক্রুটিনি: বাংলাদেশের প্রয়োজনীয়তা ও কাঠামো; জনগণের সঙ্গে সংসদের সংযোগ: বর্তমান অবস্থা ও উন্নয়নের উপায় এবং ‘পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের কার্যকারিতা।
বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২২ ঘণ্টা আগে
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এমপিরা ভোট দিতে পারবেন না: চিফ হুইপ
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন না হওয়ায় আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ ভোট দিলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয় নাই, সুতরাং এটা কার্যকর হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ ভোট দিতে পারবেন না। ভোট দিলে তাদের সদস্যপদ বাতিল হবে।’
জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রস্তুতিমূলক সভায় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ছাড়াও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং হুইপ জি কে গউছ, হুপ রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্রকাঠামোর সর্বক্ষেত্র ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে হবে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে ২০২৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ ব্যবহার, যাবতীয় লজিস্টিক সহায়তা প্রদান এবং সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ-সংক্রান্ত সভার কার্যবিবরণী প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে যাবতীয় লজিস্টিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করারও পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরে সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিএনপির দলীয় প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীকে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দিয়েছে দল। তিনি প্রার্থী ঘোষণা করবেন।
বিরোধী দল থেকে ইতোমধ্যে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতিমূলক সভাটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ভোট সংসদের ভেতরেই হবে এবং সেখানে একটি ব্যালট বাক্স থাকবে। সংসদ সদস্যরা তাদের বিভাগ, আসন নম্বর ও জাতীয় নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন।
তিনি বলেন, ভোট শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে ৩৪৯টি ভোট দেওয়া হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফলাফল তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হবে। আর যদি দেখা যায় একটি ভোট বাকি আছে, তাহলে সেটির জন্য বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। এরপর ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত), সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং স্পিকারের (ভারপ্রাপ্ত) ভোট দেওয়ার সময় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এরপর ভোট শেষ হওয়ার পর ভোট গণনা থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রক্রিয়াও সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য স্পিকারের পরামর্শে সিইসি এক দিনের বৈঠক ডাকবেন বলেও জানান চিফ হুইপ।
বিএনপির প্রার্থী কবে চূড়ান্ত হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলে সবাই জানতে পারবেন। মনোনয়ন ফরম দাখিলের সময়ই সবাই প্রার্থীর বিষয়ে জানতে পারবেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের জন্য একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন এবং তারা দেশবাসীকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানও জানাতে চান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের যিনি প্রার্থী তাকে আমরা মনে করছি, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অভিভাবকত্ব হিসেবে তিনি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হবেন।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়া উচিত ছিল। যেহেতু গণভোটের রায়ও সংস্কারের পক্ষে এসেছে, তাই ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত। তাহলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আরও বেশি সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হতেন।
তিনি বলেন, ‘তারপরেও যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে, এজন্য এটাকে বিনা কনটেস্টে (প্রতিযোগিতায়) দিতে চাই না। আমরা সে কারণে বিরোধী দলের জায়গা থেকে সেখানে প্রার্থী দিয়েছি।’
জুলাই সনদ অনুযায়ী, ৭০ অনুচ্ছেদে অর্থবিল ও আস্থাভোট ছাড়া অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে মত দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বিএনপি আরও দুটি বিষয় যোগ করার কথা বলেছিল—সংবিধান সংশোধন এবং জাতীয় নিরাপত্তা (যুদ্ধ পরিস্থিতি)।
৭ দিন আগে
সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নিচতলায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ সভা শুরু হয়।
সভায় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং হুইপ মো. জি কে গাউছ, রাকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর সর্বক্ষেত্রে ফ্যাসিস্টমুক্ত করতে হবে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ।
সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য জাতীয় সংসদ কক্ষ ব্যবহার, প্রয়োজনীয় সব ধরনের লজিস্টিক সহায়তা এবং সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাসহ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৩ আগস্ট। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সাড়ে তিন দশক পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপি প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এরই মধ্যে বিরোধী জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে তাদের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট হয়। সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। স্থানীয় সরকার ও সংসদ নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোট হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয় প্রকাশ্যে।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে ইসি। এরইমধ্যে নিয়ম অনুযায়ী সংসদের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
৮ দিন আগে
জনপ্রত্যাশা পূরণে সবার মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, পেশাজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকের মাঝে বাইরে বের হয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হয়ে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নবযাত্রা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর বিবর্তনমূলক প্রক্রিয়ায় যেসব গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সেগুলো ধারণ করা হবে। এজন্য সব রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা উদার এবং ওপেন, আমরা সবার কথা শুনব। সর্বত্র যা যা সংশোধনের প্রয়োজন, সে সমস্ত সংশোধনীগুলো আমরা ধারণ করে সেভাবে আমরা রিপোর্ট প্রণয়ন করব।’
কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে আসবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিল যখন আসবে, সংবিধান সংশোধনী বিল পার্লামেন্টে আলোচনা করে আমরা সমঝোতার ভিত্তিতে সেই সংশোধনীটা গ্রহণ করতে চাই। যে সংশোধনী জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো সংশোধনী প্রস্তাবে রাখার চেষ্টা করবে কমিটি।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের এই নবযাত্রা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর যে আমরা বিবর্তনমূলক কার্যে যাচ্ছি এবং রাষ্ট্র কাঠামোর যে গণতান্ত্রিক সংস্কার আমরা করতে চাই, তার সবগুলো আমরা এখানে অ্যাড্রেস করব, ধারণ করব। যেটা আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল, সেটা এখনও আছে।’
প্রথম বৈঠকে যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে তাদের তালিকা প্রণয়ন এবং মতবিনিময়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করলেও তাদের মতামত নেওয়া হবে। কত দিনের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন তৈরি হবে, তা এখনই বলতে পারেননি সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, সময়টা এখন নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না।
সংবিধান সংশোধন কমিটিতে প্রতিনিধিত্বের জন্য সরকার বিরোধী দলকে পাঁচজনের নাম দিতে অনুরোধ করলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো নাম দেয়নি।
এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যে পাঁচটি নাম দেওয়ার কথা ছিল সে নামগুলো আমরা এখনও পাইনি। আমি আশা করি, তারা অনুধাবন করবেন এবং একপর্যায়ে তারা তাদের নাম দিবেন। তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করব।’
বিরোধী দল নাম না দিলেও তাদের সংসদ সদস্যদের মতামত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। কমিটির বৈঠকে উপস্থিত হয়ে অথবা বৈঠকের বাইরে লিখিতভাবে প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘এ ছাড়াও নাম যদি না-ও দেয়, আমরা সকল বিরোধীদলীয় দলের সদস্য যারা আছেন, তাদের পরামর্শ আমরা গ্রহণ করব। তারা যদি মিটিংয়ে এসে দেয় ভালো, মিটিংয়ের বাইরে দিলেও আমরা সেটা গ্রহণ করব। লিখিতভাবে যদি দেয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এইভাবে আমরা একটা গ্রহণযোগ্য সংশোধনী আনতে চাই। জনপ্রত্যাশার সবকিছু আমরা ধারণ করতে চাই। সবার সাথে আলাপ আলোচনা করেআমরা সেই রিপোর্টটা প্রণয়ন করতে চাই।’
তিনি জানান, জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান-সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হবে। যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো সংশোধনী প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর যেসব বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত দিয়েছে, সেগুলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ হিসেবে বিবেচনায় রাখা হবে।
এছাড়া জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে থাকা সংবিধান সংশোধনের অঙ্গীকারগুলোও পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
কমিটির কাজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কমিটির সামনে চ্যালেঞ্জ নেই। আমাদের প্রত্যাশা আছে। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। এটাকে আমি চ্যালেঞ্জ বলতে চাই না।’
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। শহিদদের আকাঙ্ক্ষা ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আর সে জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সংবিধানেই নিশ্চিত করতে হবে।
১৫ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংসদের সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়নে উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপন বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সভায় জাতীয় সংসদের বিদ্যমান সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিশ্বের উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সাউন্ড সিস্টেমের ওপর বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এ সময় গণপূর্ত অধিদপ্তর সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত বিকল্প, কারিগরি সক্ষমতা এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে।
উপস্থাপনায় আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, কার্যকারিতা এবং জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের সঙ্গে সর্বোচ্চ সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে উপস্থিত অতিথিরা তাদের মতামত এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সরকার দলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৩ দিন আগে
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে জাতীয় সংসদে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান তিনি।
আজ (শুক্রবার) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিকট পদত্যাগপত্র প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম, এমপি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় বাংলাদেশ হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চীফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।
২৫ দিন আগে
এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও সিইসিকে জামায়াতের চিঠি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে গতকাল বুধবার দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়ে জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে নির্বাচন কমিশনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই চিঠিটি পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গত ২২ জুলাই জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এতে আরও বলা হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাখিল করা হলো।
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের অনুলিপি জাতীয় সংসদের স্পিকারের দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৬ দিন আগে
ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, ২০৩৪ সালের মধ্যে ৯ কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য
সরকারের পর্যায়ক্রমিক সব কল্যাণমুখী নাগরিক সুবিধা একটি একক কার্ডের আওতায় আনতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ২০৩৪ সালের মধ্যে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী রূপরেখা তুলে ধরেছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং প্রথম বাজেট সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকদের দায় মেটাতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ এবং রাষ্ট্র উভয়ই দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড কিংবা ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য দেওয়া বিশেষ কার্ডের মতো সুযোগ-সুবিধাগুলো জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের কোনো করুণা বা দয়া নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের পরম দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতে আলাদা আলাদা সব কার্ডের সমন্বয়ে এই সর্বজনীন বা ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা একক পরিচয় ও কার্ডে সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন।
তিনি বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দ্বিমত থাকতে পারে। কিন্তু যখন দেশের প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের কথা আসে, তখন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি এবং বিদেশি তাবেদারি রুখতে হলে রাষ্ট্র এবং দেশের জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী এবং শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই শক্তিশালীকরণের প্রথম ধাপই হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা।
দেশের ঋণনির্ভর অর্থনীতি সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়ে একটি টেকসই বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের বিস্তারিত রূপরেখাও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সেখানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকেই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, সরকার কেবল যুবসমাজকে ঘরে বসিয়ে না রেখে দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনশক্তি সম্পদে রূপান্তর করতে চায়। এই লক্ষ্যে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ, ব্লু ইকোনমি ও ইকোট্যুরিজম খাতে আরও ১০ লাখসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে পর্যায়ক্রমে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এছাড়া যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী গড়ে তুলতে দেশজুড়ে বিভিন্ন ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ১০ হাজার নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ার পরিকল্পনা
অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশ রক্ষায় একটি বিশাল সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশকে শুধু রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবেই শক্তিশালী করা আমাদের লক্ষ্য নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের ভূমিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বসবাসযোগ্য করে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে স্বেচ্ছাশ্রম এবং সরকারি উদ্যোগে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ বা সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির এক সুবিশাল মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যার সফল বাস্তবায়নে প্রতি বছর গড়ে ৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে। এই প্রকল্পের সফলতার জন্য দেশে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার, যার মাধ্যমে নতুন করে আড়াই লাখ তরুণ-তরুণীর বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রী আনন্দের সঙ্গে জানান, আজ সকালেই তিনি প্রাথমিক স্কুলের বাচ্চাদের একটি অনুষ্ঠানে সশরীরে এবং দেশের বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত হয়ে একযোগে প্রায় ২ লাখ গাছের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
দুর্নীতির টুঁটি চেপে হলেও নিয়ন্ত্রণে বদ্ধপরিকর সরকার
এ সময় দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ও অগ্রাধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী আমলে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের মতো বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে। এই বিপুল অর্থ পাচার ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণেই দেশের সার্বিক অবকাঠামো, রাস্তাঘাট ও জনজীবনের মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কালো অধ্যায় থেকে দেশকে বের করে আনতে বর্তমান সরকার যে কোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরতে বদ্ধপরিকর।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। আমরা বাহিনীকে এমনভাবে গড়ে তুলব, যাতে তারা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে পারে।
এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সাধারণ নাগরিক, কৃষক, শ্রমিক ও শিক্ষকদের অন্যতম প্রধান চাওয়া একটি নিরাপদ পরিবেশ। প্রত্যেক মানুষ চায় দিনশেষে কাজ শেষে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে এবং পরিবার নিয়ে স্বস্তিতে সময় কাটাতে। জনগণের এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, সরকার কোনো ধরনের উগ্রবাদ বা জঙ্গিবাদ বরদাশত করবে না এবং এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখতে বিরোধী দলেরও সমর্থন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনি ৩১ দফাকে জনগণের ম্যান্ডেট উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের রায়ে এটি এখন সমগ্র দেশের উন্নয়ন রূপরেখায় পরিণত হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা এবং ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ এবং পাঁচ বিভাগে পাঁচটি ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিহিংসা নয়—ন্যায়পরায়ণতাই হবে রাজনীতির ভিত্তি।
৩৪ দিন আগে
জমির উদ্দিন সরকারের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের প্রতি সংসদে শ্রদ্ধা
জাতীয় সংসদে সদ্যপ্রয়াত সাবেক স্পিকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ রাজনীতিক ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা।
আলোচনা শেষে তার প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদ সদস্যরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
মোনাজাত শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দিনের কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত করে সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন। এরপর দক্ষিণ প্লাজায় বাদ আছর তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জমিরউদ্দিন সরকার এমন একটা জনপদের মানুষ, যে জনপদটির অত্যন্ত দরিদ্র লোকের বাস, কিন্তু এই মানুষগুলোর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তারা এখনও তাকে তাদের অভিভাবক মনে করে। তিনি কোনোদিন কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি।’
তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের অতি প্রিয় মানুষটি শুধু উত্তরবঙ্গেই নয়, ঢাকাতেও জনপ্রিয় ছিলেন। সারা জীবনে তিনি যখন যেখানে কাজ করেছেন, পরম নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আইনের ও আইনের শাসনের প্রতি তার যে অবিচল আস্থা, গণতন্ত্রের প্রতি তার যে অবিচল আস্থা—এটা আমরা খুব কম দেখেছি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি একদিকে ইতিহাসের ছাত্র ছিলেন, সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন, পরে আইনের পেশাকে বেছে নিয়েছিলেন। যেকোনো বিষয়ে তিনি অবলীলায় অনেকক্ষণ কথা বলতে পারতেন এবং জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য রাখতে পারতেন। আমাদের সকলের কাছে তিনি অনুসরণীয়।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দলের প্রতি তার যে আনুগত্য, রাজনীতির প্রতি যে আনুগত্য, উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি তার যে আনুগত্য—এ ব্যাপারে তিনি অবিচল ছিলেন। আমাকে সবসময় একটা কথা বলতেন, “ইলেকশন করবে, ইলেকশনের মধ্যে দিয়ে যাবে। ইলেকশন ছাড়া কিন্তু কখনও গণতন্ত্রে পৌঁছানো যায় না।”’
শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার পেশাগত জীবনে এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে সফল ও বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। ব্যক্তি এবং দল হিসেবে আমি এবং আমরা তার ক্লায়েন্ট ছিলাম, বিশেষ করে আমাদের কষ্টের দিনগুলোতে, ফ্যাসিবাদী আমলে।’
তিনি বলেন, ‘আইনের যাঁতাকলে যখন আমরা পিষ্ট, তখন প্রায়ই আমরা তার কাছে যেতাম। তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েই শুধু আমাদের কাজ সারেননি, বরং আমাদের মজলুম নেতৃবৃন্দের পক্ষে আদালতে বারবার দাঁড়িয়েছেন।’
ডা. শফিকুর বলেন, ‘প্রথমবার থেকেই আমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাকে কিছু ফি দিতে চেয়েছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হইনি। তিনি বলতেন, “এটা আমার নৈতিক দায়িত্ব। এটি আমার জন্য সুযোগ।” একসঙ্গে রাজনীতি করেছি। তার এই অবদান স্মরণ করে আমার চোখে পানি আসছে। আমরা তার ঋণ পরিশোধ করতে পারব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি স্পিকার হিসেবে সংসদকে প্রাণবন্ত করে রেখেছিলেন। আইনের অঙ্গনে তিনি অনেকের গুরু। তার চলন-বলনসহ সবকিছুই ছিল শিক্ষণীয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন, আইনজীবী ছিলেন। তিনি আইন প্রণয়নকারী ছিলেন, স্পিকার ছিলেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ছিলেন। এরকম একজন সফল মানুষ আমাদের জন্য ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।’
তিনি বলেন, ‘উনার যে কর্মজীবন, আমার বয়সের সমান উনার কর্মজীবনের পরিধি। এই কর্মজীবনে তার সুনাম ছাড়া কোনো ব্যক্তি, কোনো ক্লায়েন্ট কিংবা আইনজীবী হিসেবে তার বিরুদ্ধে কোনোদিন কোনো সমালোচনা করেননি।’
প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মরহুম জমিরউদ্দিন সরকার একজন অত্যন্ত সফল আইনজীবী ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সিরিয়াসভাবে তার ক্লায়েন্টদের জন্য কাজ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘তিনি একজন সফল আইনজীবী, একজন সফল রাজনীতিবিদ। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে তিনি বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেও বিভিন্ন পদে অবদান রেখেছেন এবং এই সংসদে স্পিকার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।’
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, ‘১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পঞ্চম জাতীয় সংসদকে যারা প্রাণবন্ত করে রেখেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জনাব জমিরউদ্দিন সরকার।’
তিনি বলেন, ‘২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে তিনি স্পিকার নির্বাচিত হন। সেই সময় দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। বিশেষ করে তখন একটি ফ্যাসিবাদী দল বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল। আমরা দেখেছি, তিনি অত্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে শান্তভাবে সেই দায়িত্ব পালন করে গেছেন।’
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, ‘তিনি শুধুমাত্র একজন আইনজীবী ছিলেন না। আজকের রাজনীতিবিদদের জন্যও তিনি শিক্ষণীয়। তিনি ১২টি বই লিখেছেন। আইনজীবী ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে লেখালেখির সেই চর্চা এখন কমে গেছে। এ ক্ষেত্রে তিনি আমাদের জন্য উদাহরণ।’
সরকারি দলের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘আইন পেশায় সুনাম অর্জনের কারণে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত পাঁচবার তাকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান।’
এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ‘যারা নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, সেই স্বপ্নের সঙ্গে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের যে স্বপ্নের আবহ ছিল, সেটাকে মিলিয়ে নিয়ে সামনের দিনে আমরা যেন সেই স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়ন করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে তার অতীত জীবনের কর্মকাণ্ড, বক্তব্য এবং অনুপ্রেরণাদায়ী ভূমিকা ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে সংরক্ষণ করতে পারলে সেটি বাংলাদেশের জন্য আরও ভালো একটি উদাহরণ হবে।’
সংসদ সদস্যরা তাদের বক্তব্যে মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
সবশেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ‘জাতি একজন আইনজ্ঞ এবং একজন সাদা মনের মানুষকে হারিয়েছে। আপনাদের বক্তব্য শুনে আমিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। আমিও কয়েকটি সংসদে তার সহকর্মী ছিলাম। আপনাদের ওখানে বসেই (সংসদ সদস্যের আসনে) এই চেয়ার থেকে তিনি যখন অত্যন্ত সুন্দরভাবে এই সংসদ পরিচালনা করতেন, সেটি দেখে মুগ্ধ হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘তিনি একজন বিশিষ্ট আইনজীবী ছিলেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ, যার সম্পর্কে কখনো কারও কাছ থেকে কোনো অভিযোগ শুনতে পাইনি। জাতি এক মহান সন্তানকে হারাল।’
শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে মরহুমের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতনের পরিচালনায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা অতীতে দেখেছি, সংসদ চলাকালে কোনো সাবেক স্পিকার মারা গেলে তার ওপর শোক প্রস্তাব এনে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলোচনা করে ওই দিনের জন্য সংসদের কার্যক্রম মুলতবি করা হয়। এটা তাকে সম্মান জানানোর জন্য করা হয়। সুতরাং আর কোনো আলোচনা না করে এই বিষয়ে প্রস্তাব এনে সংসদের কার্যক্রম মুলতবি করার আহ্বান জানাই।’
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমার যেটুকু অভিজ্ঞতা, কোনো বর্তমান সংসদ সদস্য মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে সংসদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। আজ পর্যন্ত কর্মরত অবস্থায় কোনো স্পিকার মারা গেছেন বলে আমার জানা নেই। আগে কখনও এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো সদস্য, এমনকি স্পিকার মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে সংসদ মুলতবি হয়ে যায়। আজ যেহেতু একজন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্পিকার ইন্তেকাল করেছেন, সে কারণে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সংসদ মুলতবি করিনি।’
তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আলোচনা করব। আলোচনা করার পরেই আজকে সংসদের বাকি কার্যক্রম অনিষ্পন্ন রেখে মূলতবি করা হবে।’
সাবেক স্পিকার, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আজ রবিবার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
৩৭ দিন আগে
টেকসই ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে: স্পিকার
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘স্ট্রেন্থেনিং পার্লামেন্টস ক্যাপাসিটি ইন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইস্যুজ (এসপিসিপিডি)’ প্রকল্পের আওতায় টেকসই, বৈষম্যহীন ও মানবসম্পদকেন্দ্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জনসংখ্যার রূপান্তর-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংসদে আলোচনায় নিয়ে আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রবিবার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে এসপিসিপিডি প্রকল্পের আওতায় ‘পার্লামেন্টস রোল ইন রিয়ালাইজিং পপুলেশন ডিভিডেন্ডস, এসডিজিস অ্যান্ড আইসিপিডি কমিটমেন্টস’ শীর্ষক অবহিতকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপির সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, এমপি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের জাতীয় প্রতিপাদ্য ‘তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’ বাস্তবায়ন নির্ভর করছে সরকার গৃহীত পদক্ষেপের ওপর। তিনি বলেন, তরুণদের উন্নয়নের মাধ্যমে জনমিতিক লভ্যাংশকে কাজে লাগাতে হবে।
স্পিকার বলেন, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) বাংলাদেশ-এর কৌশলগত সহায়তায় জাতীয় সংসদ সদস্যদের এ ফোরাম বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পার্লামেন্টারিয়ানস অন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএপিপিডি) গঠনের মাধ্যমে আইন ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর আওতায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও আইন শক্তিশালীকরণ, কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার, জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনসহ বিভিন্ন বিষয় সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে। তিনি স্বাস্থ্য, লিঙ্গসমতা, যুব উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত লক্ষ্য বাস্তবায়নেও এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
৩৭ দিন আগে