জাতীয় সংসদ
সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থী মনোনয়নের চূড়ান্ত বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি। আজ শুক্রবার থেকে দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সামনে আগ্রহী প্রার্থীরা সাক্ষাৎকার দিতে শুরু করেছেন।
এদিন বিকেলে বিএনপির চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ড এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু করে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, যারা সংরক্ষিত আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছিলেন, আজ বিকেলে তাদের সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রথম দিনে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর এবং ফরিদপুর বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। চারশরও বেশি প্রার্থী এই সাক্ষাৎকারে অংশ নিচ্ছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা এবং ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার শনিবার বিকেল ৩টায় শুরু হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মনোনয়নের মানদণ্ড সম্পর্কে আলোকপাত করে রিজভী বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, আমাদের এক ভয়াবহ দুঃসময় পার করে আমরা আজকের গণতন্ত্র উত্তরণের এই পর্যায়ে পৌঁছেছি এবং গণতন্ত্র সচল ও শক্তিশালী করতে এটাকে এগিয়ে নিতে হবে। সেই ক্ষেত্রে মহিলারা যে অবদান রেখেছেন বিগত ১৫-১৬ বছরের আন্দোলনে, নিঃসন্দেহে তাদের সেই অবদানকেও মূল্যায়ন করা হবে।’
বিএনপি নেতা আরও জানান, সেক্ষেত্রে আপনারা জানেন, অনেক মহিলা নেত্রী আমাদের, তাদের নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে, তারা শর্টগানের গুলি খেয়েছেন, তাদের বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে, তাদের সন্তানদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণে এবং রাজনৈতিক আদর্শের কারণে, এই পৈশাচিক বিভীষিকা তো ১৬-১৭ বছর ধরেই চলেছে। দল এসব বিষয় বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, এর বাইরে পাশাপাশি সংসদে কথা বলা এবং আইন প্রণয়নের ব্যাপারে যে জ্ঞান থাকা দরকার, যে শিক্ষা থাকা দরকার, এই বিষয়গুলো এখানে বিবেচিত হবে বলে আমি মনে করি। সবকিছু বিবেচনা করেই আমাদের যে মনোনয়ন বোর্ড, তারা চূড়ান্ত করবেন, কারা মহিলা সংসদ সদস্য হবেন।
এর আগে, গত ৮ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল এবং আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আসন বণ্টন অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৩৬টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি আসন পাবে।
শুক্রবার দুপুর থেকেই বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকরা গুলশান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। নিরাপত্তাকর্মীরা কেবল প্রার্থীদের কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন। কার্যালয়ের ভেতরে প্রার্থীদের বসার জন্য একটি স্থান নির্ধারণ করা ছিল। সেখানে তাদের বসানো হচ্ছে।
৩ ঘণ্টা আগে
স্বল্প সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তিকরণ সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায় অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ’ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য রাখেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ববর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশগুলো নিষ্পত্তির আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও শবে বরাতের দীর্ঘ ছুটির কারণে কার্যদিবস কম থাকলেও সংসদ সচিবালয়, আইন মন্ত্রণালয়, বিজি প্রেস ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিনরাত পরিশ্রমে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে।
সময়ের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিধি মোতাবেক জাতীয় সংসদের স্পিকারের বিশেষ এখতিয়ারে বিলগুলো উত্থাপন ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, স্থায়ী কমিটিগুলো এখনও গঠিত না হওয়ায় একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’র মাধ্যমে এই ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা হয়েছে।
কমিটির সুপারিশ ও পাসের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, ৯৮টি অধ্যাদেশ অবিকল অবস্থায় সর্বসম্মতিক্রমে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অবশিষ্ট অধ্যাদেশগুলো সংশোধিত আকারে অথবা রহিত ও হেফাজতকরণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বিল সংখ্যা নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার প্রশ্ন ও ভুল বোঝাবুঝির জবাবে মন্ত্রী বলেন, আইনমন্ত্রী ফ্লোরে জবাব দিয়েছেন যে ৯১টার মধ্যেই কিন্তু বাকি ১৭টা অন্তর্ভুক্ত। কারণ কোনো কোনো অধ্যাদেশ জারি হওয়ার ১৫-২০ দিন, এক মাস, দুই মাস পরে দ্বিতীয় সংশোধনী আনা হয়েছে, কোথাও কোথাও তৃতীয় সংশোধনীও আনা হয়েছে। মূলত অধ্যাদেশ একটাই। যখন বিল আকারে উত্থাপন করা হয় জাতীয় সংসদে, সব অধ্যাদেশগুলোকে এক করে একটা বিল আকারেই উত্থাপন করা হয়েছে। এটা হয়তো বিরোধী দলীয় নেতা খেয়াল করেননি।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর' বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উদার। কিউরেটর নিয়োগ ও পদত্যাগ-সংক্রান্ত বিধিগুলো আরও স্বচ্ছ ও যৌক্তিক করার সুযোগ রয়েছে।
আগামী অধিবেশনে এটি আরও আলোচনা ও সংশোধনের মাধ্যমে পুনরায় উপস্থাপন করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও আইসিটি আইন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমি নিজে গুমের শিকার। আমরা চাই না, তাড়াহুড়ো করে কোনো ত্রুটিপূর্ণ আইন পাস হোক, যাতে অপরাধীরা আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যায়। কিছু অসঙ্গতি দূর করে সকল অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই আইনগুলোকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করা হবে যাতে ভুক্তভোগীদের জন্য সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
তিনি আরও বলেন, সংসদীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী বিরোধী দল বিধি মোতাবেক ওয়াকআউট করতেই পারে। তবে সংসদের বাইরে গিয়ে অসত্য তথ্য বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হলে তা জাতির সামনে পরিষ্কার করা সরকারের দায়িত্ব।
তিনি উল্লেখ করেন, স্পিকার বিরোধী দলীয় সদস্যদের নজিরবিহীনভাবে দীর্ঘ সময় কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন এবং তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তিগুলোও রিপোর্টে হুবহু সংরক্ষণ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ওয়াকআউট করা যৌক্তিক হয়নি বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
৫ দিন আগে
স্থায়ী আইনে রূপ নিল ৯১ অধ্যাদেশ, আজই পাস হলো ২৪টি
জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা মোট ৯১টি অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে পরিণত করতে বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে আজকের অধিবেশনে ২৪টি বিল পাস হয়।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’, ‘সাইবার নিরাপত্তা বিল, ২০২৬’, ‘জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ এবং ‘জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’সহ মোট ২৪টি বিল পাস হয়।
এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপ দিতে ৬৭টি বিল পাস করা হয়েছিল। যার মধ্যে ৫ এপ্রিল ২টি, ৬ এপ্রিল ৭টি, ৭ এপ্রিল ১৪টি, ৮ এপ্রিল ১৩টি এবং ৯ এপ্রিল ৩১টি বিল পাস হয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি ৯৮টি বিলকে তাদের মূল আকারে এবং ১৫টি বিল সংশোধিত আকারে অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল। এই ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি গত ২ এপ্রিল সংসদে তাদের প্রতিবেদন পেশ করে।
বাকি ২০টি অধ্যাদেশের মধ্যে বিশেষ কমিটি ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করে এবং ১৬টি নতুন বিল শক্তিশালী আকারে পুনরায় ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে মোট ৯১টি বিল সংসদে পাস করে অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে পরিণত করা হয়।
আজ (শুক্রবার) পাস হওয়া ২৪টি বিলের মধ্যে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’সহ কয়েকটি বাদে বাকি সবগুলোই সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। কারণ এসব বিলের ধারার ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংসদে কোনো আলোচনার প্রয়োজন পড়েনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন এবং পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পাস হওয়া ২৪টি বিলের মধ্যে রয়েছে— নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) বিল, জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন বিল এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিল।
অন্যান্য বিলের মধ্যে রয়েছে— আমানত সুরক্ষা বিল, আবগারি ও লবণ বিল, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, অর্থ (অর্থবছর ২০২৫-২৬) বিল, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) বিল এবং জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল।
বাকি বিলগুলো হলো— সাইবার নিরাপত্তা বিল, মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬।
৭ দিন আগে
সংসদ থেকে আবারও বিরোধী দলের ওয়াকআউট
যৌক্তিক বাধা সত্ত্বেও সংসদে পাস হওয়া গণবিরোধী বিলের দায় এড়াতে ফের জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছে বিরোধী দল।
ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ৫টা ৫৬ মিনিটে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।
বিলগুলো পাস হওয়ার পর সংসদে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, বিরোধীদলের যৌক্তিক বাধা স্বত্ত্বেও যে কয়টি গণবিরোধী বিল আজকে পাস হয়েছে। আমরা তার দায় নিতে চাই না। এই জন্য আমরা এখন সংসদ থেকে ওয়াকাআউট করছি।’ এরপরই জোটের সংসদ সদস্যদের নিয়ে অধিবেশন থেকে বের হয়ে যান তিনি।
বিরোধীদের এ পদক্ষেপের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি ধন্যবাদ জানানোর জন্য উঠছি। আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ফাস্ট রিডিং, সেকেন্ড রিডিং, থার্ড রিডিং, সব রিডিংয়ে উনারা সহায়তা করেছেন। কেউ কেউ হাত তুলে সমর্থনও দিয়েছেন। সমস্ত প্রক্রিয়া অংশগ্রহণের পরে ওয়াকআউটের কোনো মানে আছে কিনা এটা জানার জন্য। সমস্ত প্রক্রিয়া তারা অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি মাগরিবের নামাজের পর তারা আবার অংশ নেবেন।
এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিরোধিতা করে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের প্রশ্নে সংসদে আলোচনা হলেও তা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ওয়াকআউট করেছিল বিরোধী দল।
৮ দিন আগে
অধ্যাদেশ অনুমোদন ও বাতিলে সংসদে ১২টি বিল পাস
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশ অনুমোদন এবং কিছু ক্ষেত্রে বাতিলের উদ্দেশ্যে জাতীয় সংসদে ১২টি বিল পাস করা হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি অধ্যাদেশ অবিকল রেখে বিল হিসেবে পাস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিলগুলো পাস হয়।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে ৯টি বিলের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আনা বিধানগুলো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, তিনটি বিল পাস করা হয়েছে আগের অধ্যাদেশগুলো পুরোপুরি বাতিলের মাধ্যমে। যে ৩টি বিল অধ্যাদেশ বাতিলের জন্য পাস করা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রবর্তন) বিল, ২০২৬’। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারিকৃত সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশটি বাতিল করে ২০০৯ সালের মূল ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’ পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো সংসদে উত্থাপন করেন। স্পিকার বিলগুলো ভোটের জন্য পেশ করলে সংসদ সদস্যরা কণ্ঠভোটে সেগুলো পাস করেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশ বহাল রেখে পাস হওয়া ৯টি বিলের মধ্যে রয়েছে— জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সংশোধন) বিল, শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) বিল, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) বিল, সরকারি ক্রয় (সংশোধন) বিল, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) বিল, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) বিল এবং আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) বিল।
এছাড়া আগের অধ্যাদেশ বাতিল করতে পাস হওয়া অন্য দুটি বিল হলো— ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’। এই দুটি বিলের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারিকৃত সংশ্লিষ্ট দুটি অধ্যাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
৮ দিন আগে
হাম মোকাবিলায় ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, ২.১৯ কোটি ডোজ টিকা নিশ্চিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় অব্যবহৃত মহামারি তহবিল থেকে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তায় প্রায় ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রোমিন ফারহানার করা হাম নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
স্বাস্থমন্ত্রী বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অব্যবহৃত মহামারি তহবিল থেকে ৬০৪ কোটি টাকা জরুরি কেনাকাটার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। গ্যাভির সহায়তায় ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৪১৯ কোটি টাকার অতিরিক্ত টিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং বিলম্ব এড়াতে সরকার প্রচলিত টেন্ডার প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সরাসরি ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করছে।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফ এখন পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যুকে সরাসরি হামের কারণে হয়েছে বলে যাচাই করে নিশ্চিত করেছে।
টিকাদান কর্মসূচির পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ৫ এপ্রিল থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান শুরু হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রাথমিক তালিকায় ঢাকা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ না থাকলেও সরকার আগাম পদক্ষেপ হিসেবে রাজধানীজুড়ে এই কর্মসূচি চালাচ্ছে।
পূর্ববর্তী অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমান প্রশাসন প্রায় শূন্য টিকার মজুদ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল উল্লেখ করে সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে নেওয়া জরুরি আর্থিক পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, স্টোরেজ বা মজুদ দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘কোল্ড চেইন’ মান বজায় রাখতে এখন মাল্টি-ডোজ ভায়াল (একই শিশিতে একাধিক ডোজ) ব্যবহারের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের সব বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে হামে আরও বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেন। তিনি বেশ কিছু রুটিন টিকার ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জবাবে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে। টিকার মজুত এখন স্থিতিশীল হচ্ছে এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমরা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
৯ দিন আগে
সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন বিল-২০২৬ পাস
সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত কোনো ব্যক্তি বা সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান অন্তর্ভুক্ত করে বিদ্যমান আইনকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় সংসদে এ বিল পাস হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর স্থলাভিষিক্ত হবে।
নতুন বিলে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ১৮ ও ২০ ধারায় উল্লেখযোগ্য সংশোধনী আনা হয়েছে। এর ফলে সরকারের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মাধ্যমে কোনো সংগঠনের কেবল অস্তিত্বই নয়, বরং তার সম্পূর্ণ কার্যক্রম ও অনলাইন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
সংশোধিত ১৮ ধারা অনুযায়ী, কোনো সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলভুক্ত করার পাশাপাশি ওই সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সুষ্পষ্ট ক্ষমতা সরকারের থাকবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, কার্যকর শাস্তি নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো মোকাবিলার জন্য ২০০৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনটি প্রণীত হয়েছিল। এই আইনে যৌক্তিক কারণে সন্ত্রাসবাদে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তাকে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তফসিলভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
তবে বিদ্যমান আইনে সংশ্লিষ্ট সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সুষ্পষ্ট কোনো বিধান ছিল না। এই ফাঁক পূরণ করে আইনটিকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। এর আগে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ২০২৫ সালের ১১ মে ধারা ১৮ ও ২০ সংশোধনের লক্ষ্যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।
নতুন বিধান অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি, প্রকাশনা এবং মুদ্রণ সামগ্রী বিতরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া গণমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সব ধরনের অপপ্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ সত্তাগুলো কোনো ধরনের র্যালি, সভা, সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন বা জনসমক্ষে বক্তব্য দিতে পারবে না।
বিলে একটি ‘রদ ও হেফাজত’ ধারাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ রদ হয়ে যাবে, তবে ওই অধ্যাদেশের অধীনে গৃহীত সব কার্যক্রম নতুন আইনের অধীনে বৈধ বলে গণ্য হবে।
৯ দিন আগে
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করে সংসদে বিল পাস
সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থায় সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করে একটি বিল পাস হয়েছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এ প্রস্তাবটি বিল আকারে পাস হয়। এটি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পাস হওয়া প্রথম বিল।
‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ শীর্ষক এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
বিলের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির দাবি এবং বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান বয়সসীমা দুই বছর বাড়িয়ে ৩২ বছর করা হয়েছে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, অপরিবর্তিত উচ্চতর বয়সসীমায় যেসব পদের নিয়োগ বিধিমালায় বয়সসীমা ইতোপূর্বে ৩২ বছরের বেশি (যেমন: ৩৫, ৪০ বা ৪৫ বছর) নির্ধারিত আছে, সেক্ষেত্রে আগের উচ্চতর বয়সসীমাটিই বহাল থাকবে। অর্থাৎ, এই আইনের ফলে কারও সুযোগ কমবে না।
প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের বয়সসীমা বাড়ানোর ফলে চাকরিপ্রার্থীদের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, শিক্ষিত বেকার যুবকদের দেশ গড়ার কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার পথ সুগম হবে এবং সর্বোপরি দেশের বেকার সমস্যার সমাধান হবে। বয়সসীমা বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত শ্রমবাজার এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) ইতোমধ্যে বিসিএসের সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর রেখে সার্কুলার জারি করেছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাই উক্ত অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করা প্রয়োজন।
১২ দিন আগে
বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘সত্যকে মিথ্যা বানাতে দক্ষ’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। অন্যদিকে ‘মিথ্যা’ শব্দটিকে অসংসদীয় আখ্যা দিয়ে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে তা বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সপ্তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেন।
অধিবেশনে সভাপতিত্বে করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমরা কালকে চলে যাওয়ার পরে আমাকে ভালোবেসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটা কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যে আমি একটি অসত্য কথা এখানে বলে গেছি। আমি এটা জানতে পারলাম।
তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, আসলে আল্লাহ তা’আলা তাকে অপূর্ব দক্ষতা দিয়েছেন। জাস্ট বোতল পরিবর্তন করে মেটেরিয়াল ঠিক রেখে তিনি সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে চমৎকারভাবে পরিবেশন করতে পারেন। এ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানানোর জন্যই আমি আজ দাঁড়িয়েছি।’
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ সময় হস্তক্ষেপ করে উল্লেখ করেন যে, পয়েন্ট অব অর্ডার বর্তমান বিষয় নিয়ে হওয়া উচিত, অতীতের কার্যবিবরণী নিয়ে নয়। তিনি বলেন, এই বিষয়টি গতকালই মীমাংসা হয়ে গেছে। এটি নতুন করে তোলার প্রয়োজন নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জবাব না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আরও বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা যদি গতকাল সংসদে উপস্থিত থাকতেন, তবে তখনই তাকে উত্তর দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ফ্লোর নিয়ে ডা. রহমানের শব্দচয়নের প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বিরোধীদলীয় নেতা দুটি অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করেছেন। সেটা হচ্ছে ‘মিথ্যা’। এটা অসত্য বললে আমি আপত্তি করতাম না। আমি অনুরোধ করব, এটি এক্সপাঞ্জ করা হোক।
মন্ত্রী তার আগের দিনের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, তার কালকের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলেছিলাম বিরোধীদলীয় নেতা এখানে একটা অসত্য বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। রুল ৬২ অনুসারে বিরোধীদলীয় নেতাদের ওয়াকআউট করার অনেক পরে একজন বেসরকারি সদস্যের মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। সেটি আগে পঠিত বা উত্থাপিত হওয়া অসম্ভব। তাই আমি বলেছিলাম ওনার গতকালের বক্তব্য অসত্য ছিল।
জবাবে ডা. রহমান যুক্তি দেখান, বিভ্রান্তিটা এখানে। একই প্রস্তাব একজন স্বতন্ত্র সদস্য এনেছিলেন, যা গতকাল ভিন্ন নামে এসেছে। বিষয়বস্তু একই ছিল কিন্তু শুধু নাম বদলে গেছে। আমি আগেরটি জানতাম বলেই বলেছি, এখানে কোনও ভুল তথ্য দেইনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘মিথ্যা’ শব্দটি বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানালেও স্পিকার তাৎক্ষণিক কোনো রুলিং দেননি। বাংলাদেশের সংসদীয় রীতি অনুযায়ী ‘মিথ্যা’ শব্দের পরিবর্তে সাধারণত ‘অসত্য’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
এই উত্তেজনা মূলত গত ২৯ মার্চের একটি ঘটনা থেকে শুরু হয়। তখন বিরোধীদলীয় নেতা সংবিধান সংস্কার কাউন্সিলের বৈঠক নিয়ে একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়ে আরেকটি প্রস্তাব আনেন। সেই প্রস্তাবগুলো যখন মুলতবি ছিল, তখন গতকাল (বুধবার) সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের একই সনদ বাস্তবায়নের নতুন একটি মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করেন স্পিকার।
বিরোধী দল গত বুধবার সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে অভিযোগ করেছিল যে, সরকারের অনুকূলে তাদের মূল প্রস্তাবগুলো চেপে রাখা হচ্ছে। নতুন গৃহীত প্রস্তাবের ওপর আগামী রবিবার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
১৫ দিন আগে
স্পিকারের স্ত্রী দিলারা হাফিজের জানাজা সম্পন্ন
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্ত্রী দিলারা হাফিজের জানাজা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টায় অনুষ্ঠিত জানাজায় ইমামতি করেন সংসদ সচিবালয়ের পেশ ইমাম মো. আবু রায়হান। এতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যরা।
জানাজার আগে মরহুমার সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানাজায় উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি তাদের ৫৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের স্মৃতি চারণ করে বলেন, দিলারা হাফিজ পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তারা উভয়ই সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, রাষ্ট্রপতির পক্ষে জনবিভাগের সচিব, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম ও অন্যান্য হুইপ এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা মরহুমার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় মরহুমার আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় জানাজা শেষে দিলারা হাফিজকে বনানী সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় মন্ত্রিসভার সদস্যরা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা, বিরোধীদলীয় নেতারা, সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং ভোলা-৩ নির্বাচনি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
১৮ দিন আগে