আবদুস সালাম
সরকারের সমালোচনা করুন, তবে অহেতুক প্রতিবন্ধকতা নয়: ডিএসসিসি প্রশাসক
সরকারের ভুল-ত্রুটির সমালোচনা করার পাশাপাশি দেশকে এগিয়ে নিতে সাংবাদিকদের ইতিবাচক পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম। সেই সঙ্গে সরকারের যাত্রাপথে অহেতুক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার জন্য বলেছেন তিনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিবি ভবনে দ্য ডেইলি বাংলাদেশ ডায়েরির পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সরকারের ভুল-ত্রুটির সমালোচনা করতে হবে। তবে সমালোচনার পাশাপাশি ইতিবাচক পরামর্শ দিতে হবে, যাতে সরকারের যাত্রাপথে অহেতুক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায়।
সাংবাদিকতা সমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং সংবাদপত্রকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রতি, জনগণের প্রতি ও সমাজের প্রতি সাংবাদিকদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে সাংবাদিকদের অবিস্মরণীয় ভূমিকা ছিল। সমাজের অনিয়ম ও ত্রুটি তুলে ধরে সমালোচনার মাধ্যমে তারা সমাজকে সঠিক পথে নিতে ভূমিকা রাখেন।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আবদুস সালাম বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরের বেশি সময় পার হলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দেশ এখনও পৌঁছাতে পারেনি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খেয়েছে।
দীর্ঘ ১৭ থেকে ১৯ বছর আন্দোলন-সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্রের যাত্রা নতুন করে শুরু হয়েছে উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, এই যাত্রা যাতে ব্যাহত না হয় এবং দেশ আবার গণতন্ত্রের পথ থেকে ছিটকে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
দেশকে এগিয়ে নিতে ইতিবাচক সমালোচনা প্রয়োজন জানিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তবে সরকারের যাত্রাপথে অহেতুক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা উচিত নয়। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। কীভাবে এসব সমস্যার সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে সরকারকে ইতিবাচক পরামর্শ দিতে হবে।
ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে আবদুস সালাম জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় নগর ব্যবস্থাপনা অনেকটাই বিশৃঙ্খল অবস্থায় ছিল। তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা, হকার ও জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। পুরান ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় পদ্ধতিগত উন্নয়ন হয়নি। অনেক ড্রেনও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা হারিয়েছে। ফলে ধানমন্ডি, নিউমার্কেট ও গ্রিন রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে।
ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এলাকাকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে এক এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় যেতে না পারে। নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার রিকশা ঢাকায় প্রবেশ ঠেকানোর পাশাপাশি রিকশাগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, তিন মাসের কর্মসূচি শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বাড়ি, আঙিনা, ছাদ ও আশপাশের ড্রেন পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। সেই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর গুরুত্বের ওপরও জোর দেন আবদুস সালাম।
এছাড়া তিনি জনসচেতনতা তৈরিতে সাংবাদিক, সম্পাদক ও সংবাদপত্রের মালিকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সবাই মিলে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে এবং ঢাকা একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে পরিণত হবে।
৩ দিন আগে
মাগুরায় পুলিশের নির্যাতনে পরিবহন শ্রমিকের মৃত্যুর অভিযোগ
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে ওয়াপদা টিকেট কাউন্টারের এক কর্মচারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৬ জুলাই) বিকালে ওয়াপদা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুস সালাম (৪৫) জেলার শ্রীপুর উপজেলার রায়নগর গ্রামের আছির উদ্দিনের ছেলে।
এ ঘটনায় মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার চৌগাছি গ্রামের রাশেদ নামে এক ব্যক্তি ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওয়াপদা বাসস্ট্যান্ডে যায়। এ সময় কে.লাইন টিকেট কাউন্টারে কর্মচারী আবদুস সালামের সঙ্গে ওই যাত্রীর বসচা হয়। তাদের কাছ থেকে টিকেট ক্রয় না করায় আবদুস সালাম ও মামুন নামে কয়েকজনে রাশেদ নামের ওই যাত্রীকে মারধর করে।
এ ঘটনার পর হয়রানির শিকার ওই যাত্রী পুলিশের ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহায়তা চাইলে নাকোল ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জামাল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাউন্টারের কর্মচারী আবদুস সালামকে আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায় এবং মারধর করেন। এর কিছুক্ষণ পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হলে পথেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার পর নিহতের স্বজন এবং ওয়াপদা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কর্মরতরা ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই জামালের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রায় এক ঘণ্টা মাগুরা-ফরিদপুর সড়ক অবরোধ করে।
মাগুরা পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রীপুর থানায় নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পড়ুন: চট্টগ্রামে ইয়াবা উদ্ধার, পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪
খুলনায় মাদকসহ ৪ পুলিশ গ্রেপ্তার
১৫২২ দিন আগে