শফিকুর রহমান
সংসদে কিছু করতে না পেরে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি: শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে জনগণের কষ্টের কথা তুলে ধরেও সংকট সমাধানে কিছু করতে না পেরে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা যখন তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকটের কথা বলি, সরকার তখন স্বৈরাচার ফিরে আসবে বলে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। অথচ দেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। আমরা সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এই সংকট সমাধানে টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের নিয়ে গঠিত একটি টিম দিয়ে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। সংসদের ভেতরে বারবার বলেও কিছু করতে না পেরে আমরা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছি।’
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ৫৫ বছর অতিক্রম করেছে। একটি জাতির জন্য এ সময় নেহাত কম নয়। কিন্তু মালয়েশিয়া ও জাপানের মতো দেশগুলো অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশ সেই জায়গায় যেতে পারেনি।
তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানিরা শোষণ ও ব্যবসা করলেও স্বাধীনতার পর তাদের মালিকানাধীন সম্পদ রাষ্ট্রের মালিকানায় চলে আসে। আদমজী জুট মিলকে একসময় বিশ্বের বৃহত্তম পাটশিল্প প্রতিষ্ঠান বলা হতো। কিন্তু এখন আদমজীর নাম-নিশানা মুছে গেছে। স্বাধীনতার পর অনেক কিছু লুটপাট হয়েছে। বর্তমানে সেখানে শিল্পপার্ক করা হলেও আদমজীর আগের গৌরব ফিরে আসেনি।
‘আমি এজন্য পাকিস্তানি বেনিয়া ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিচ্ছি না। আমি আমাদের মানসিকতা এবং বাস্তবতার উদাহরণ দিচ্ছি,’ বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, দেশে কিছু শিল্প স্থাপনা গড়ে উঠলেও তা যথেষ্ট নয়। শিল্পের মূল শক্তি হচ্ছে বিদ্যুৎ। তেল, গ্যাস ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে দেশ মারাত্মক সংকটে পড়েছে এবং শিল্প খাতেও এর প্রভাব পড়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় তাদের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এতে তারা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে খেলাপি হতে পারেন, শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারেন। একই সঙ্গে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় বিদেশি ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন।
‘আমাদের বৃহত্তম রপ্তানি খাতের এই অবস্থা হলে বাকিগুলো এখান থেকেই বুঝা যায়,’ বলেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এই সংকট সমাধানে টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের নিয়ে গঠিত একটি টিম দিয়ে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। তারা সরকারের এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মিলে সংকট সমাধানের পথ তৈরি করবেন। আমরা দেশকে ভালোবাসি, এজন্য এই অফার দিয়েছি।’
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের সংসদের ইতিহাসে বিরোধী দল কখনো সরকারি দলকে এ ধরনের সহযোগিতার প্রস্তাব দেয়নি।
শফিকুর রহমানের দাবি, এর আগে তেলের সংকট দেখা দিলে তিনি পাম্পে পাম্পে ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সংসদে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। কিন্তু সরকার সংকট অস্বীকার করেছে। বিদ্যুৎ সংকটের ক্ষেত্রেও একই অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সংসদের ভেতরে যখন আমরা দেখলাম কিছু করতে পারছি না, তখন এই দাবির সঙ্গে আরও পাঁচটি দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছি। আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপে এখন লং মার্চ করছি।’
লং মার্চ নিয়ে সমালোচনার জবাবে জামায়াত আমির বলেন, তেল সংকটের মধ্যে এত গাড়ি নিয়ে লং মার্চ করার প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। কিন্তু তারা লং মার্চ না করলেও এসব গাড়ি বসে থাকত না, চলাচল করত। বরং লং মার্চের মাধ্যমে তারা জনগণের দাবি আদায়ের আন্দোলন করছেন।
‘এভাবেই একদিন জনগণের দাবি পূরণ হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে,’ বলেন তিনি।
‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে’
চব্বিশের বিপ্লবের পর জনগণ দেশের আমূল সংস্কার চেয়েছিলেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, সেই সংস্কারের লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল জামায়াত। জনগণ সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’র পক্ষে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘কিন্তু সরকার ক্ষমতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের দেওয়া ওয়াদার বরখেলাপ করেছে। তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের ভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করার শক্তি আমাদের কারও নেই। জনগণ চায় তাদের রায়ের বাস্তবায়ন। আমরা সেই দাবিগুলো নিয়েই আন্দোলন করছি।’
১৯৭০ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, সেই নির্বাচনের রায় অমান্য করার কারণেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং সংসদ অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান সরকার তাতে রাজি না হওয়ায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।
জনগণের অধিকারের পাহারাদারি করাই বিরোধী দলের কাজ
বিরোধী দলের ভূমিকা সম্পর্কে জামায়াত আমির বলেন, ‘বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কাজ হলো জনগণের অধিকারের পাহারাদারি, চৌকিদারি করা, ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করা। বিরোধী দলের হাতে কখনো স্বৈরশাসন কায়েম হয় না।’
তিনি বলেন, তারা সাড়ে ১৫ বছর স্বৈরশাসকের কবলে ছিলেন। এ সময়ে তাদের অনেক নেতাকে হারাতে হয়েছে। অনেকে গুম হয়ে এখনো ফিরে আসেননি। স্বজনরা জানেন না তাদের প্রিয়জনরা বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন।
সাংবাদিকদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সবসময় আপনাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাই। কিন্তু মাঝে মাঝে উল্টাপাল্টা দু-একজন করেন। আমাদের বক্তব্য কাঁটছাঁট করে প্রচার করা হয়। তারপরেও আমরা মিডিয়ার ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল। কখনো মিডিয়াকে আঘাত করে কথা বলি না।’
তিনি বলেন, ‘এটা হচ্ছে সমাজের সবচেয়ে পাওয়ারফুল পিলার। এটা সততার উপরে থাকলে রাষ্ট্রের অবশিষ্ট তিনটি স্তম্ভ সোজা পথে চলতে বাধ্য।’
একটি সুন্দর দেশ গঠনে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।
বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যেখানেই অসংগতি দেখব সেখানেই কথা বলব। তাই বলে বগুড়ার জন্য আমাকে কথা বলতে হবে, এটা ভাবিনি। বগুড়া সবসময় অবহেলিত, বঞ্চিত। বগুড়া তার পাওনা বুঝে পাক, এটা আমি চাই।’
মতবিনিময়কালে বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, ইফসুর মহাসচিব ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজসহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় শেষে শফিকুর রহমান হোটেল মমইন কনভেনশন সেন্টারে বগুড়া জেলা ও মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে যোগ দেন।
এর আগে শুক্রবার রাতে বগুড়ায় এসে সার্কিট হাউজে রাতযাপন করেন তিনি। তারপর আজ শনিবার সকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মানিকপোটল (মরিচতলা) গ্রামে বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন শফিকুর রহমান।
এ সময় তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ফাতিহা পাঠ করেন এবং শহিদ আব্দুল মালেকের শাহাদাত কবুলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। পরে স্থানীয় মাদরাসায় শহিদ আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
আমিরের আগমন উপলক্ষে স্থানীয় মাদরাসা মাঠে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশ ভালো নেই। বিদ্যুৎ এবং সার সংকট চরমে। দেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। আমরা জনগণের কষ্টের কথা জাতীয় সংসদে বলার চেষ্টা করছি, সরকার আমাদের কথা বলতে দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে নেমেছি।’
এ সময় জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল বাছেদ, ধুনট উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
১৩ ঘণ্টা আগে
জাতীয় বেইমান হবেন না, গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করব: শফিকুর রহমান
সরকারের উদ্দেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় বেইমান হবেন না। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে, অন্যথায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই সমাবেশের আয়োজন করে।
জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। পরিষ্কার কথা—আমরা জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি; লাড়াই আমরা করে যাব, গণভোট বাস্তবায়নে (সরকারকে) বাধ্য করব ইনশাআল্লাহ। এর থেকে এক চুল পরিমাণ আমরা সরব না। এই আবু সাঈদের রক্তে ভেজা রংপুরে আরেকবার এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করে গেলাম।
তিনি বলেন, যে বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ করার জন্য আমাদের সন্তানেরা লড়াই করেছিল, সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বাংলাদেশের একটা জায়গায় শুধু দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ভোট দেবেন দুটো—একটি আমার দলকে, আরেকটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’। তিনি প্রথমটা রক্ষা করেছেন, দ্বিতীয়টা রক্ষা করেন নাই।
শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকারি দল নির্বাচনের আগে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও’ আন্দোলন করেছে। কিন্তু তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে ১০ টাকারও কোনো বরাদ্দ নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, আগামীতে আপনাদের সহযোগিতা, দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থনে ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।
সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সীমান্ত। সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ করছে না, প্রতিরোধ করার জন্য বিজিবির সৈনিকদের সঙ্গে সমানতালে জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। আমরা এই সংগ্রামী বীরদের অভিনন্দন জানাই। সরকারের মুখ থেকে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসে নাই। কার ভয়ে, কাকে খুশি করার জন্য, কোন দেশের শাসক আপনারা ঠিক? বাংলাদেশের জনগণের নাড়ির পালস বুঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায় আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কী হয়, সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে সবারই সেই ছবক গ্রহণ করা উচিত। অতএব সাফ কথা—তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাইপানাই বুঝি না, তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
রংপুর বিভাগীয় এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলী আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়াও সমাবেশের শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
৬৩ দিন আগে
রাজনীতিকে পেশা নয়, কর্তব্য হিসেবে নিয়েছি: শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, রাজনীতিকে আমরা কর্তব্য হিসেবে নিয়েছি। যারা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে, তারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, লুণ্ঠন ও মামলাবাজি করে। গত ১৫ বছর এদেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এসব টাকার মালিক এ দেশের জনগণ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের কপালে ভালো পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে না। চাঁদাবাজ, মামলাবাজদের ভয়ে সাধারণ মানুষ অস্থির। বংশানুক্রমিকভাবে রাজার ছেলে রাজা হবে—এ ধারণা পরিবর্তন করতে চাই।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতি আমাদের আগাগোড়া খেয়ে ফেলেছে। এর জন্য সাধারণ মানুষ নয়, যারা বিগত দিনে দেশ শাসন করেছেন, মূলত তারাই এর জন্য দায়ী। আমাদের দেশের মানুষের হাতের ছোঁয়ায় অন্য দেশের কপাল বদলে যায়, কিন্তু এ দেশের কপাল বদলায়নি শুধুমাত্র অসৎ নেতৃত্বের কারণে। ভোটের সময় এরা জনগণের কাছে যায় পীর-দরবেশ সেজে, বসন্তের কোকিল হয়ে সুবাতাস উপভোগ করার জন্য। উন্নয়নের গঙ্গা বইয়ে দেয়। পরে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য ময়দানে নেমেছি। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতি চাঁদাবাজদের হাত বন্ধ করে দেব। ব্যবসায়ীদের রাতের ঘুম হারাম হবে না, ফুটপাতের হকারদের চোখের পানি ফেলতে হবে না। আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জনগণের সম্পদের পাহারাদার হব। জনগণের তহবিলের অপব্যবহার করব না। প্রত্যেক সাংসদ প্রতি বছর নিজের এবং পরিবারের সকল সদস্যের সম্পদের হিসাব দেবেন। সরকারি প্লট ও ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেব না। প্রয়োজনে রিকশায় বা পায়ে হাঁটব।
এই রাজনীতিক আরও বলেন, তরুণরা বেকার ভাতা চায় না, মর্যাদার কাজ চায়। এজন্য গ্রামে কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা তৈরি হয়ে যাও, আগামী দিনের বাংলাদেশ তোমাদের হাতে তুলে দিতে চাই।
মায়ের জাতিকে সম্মান করার অনুরোধ জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, কিছু কিছু রাজনৈতিক ভাই-বন্ধু কীভাবে বলেন— বোরকা, নেকাব, হিজাব পরে আসলে তা খুলে ফেলবেন? বলতে বলতে তারা একদিন পুরো কাপড়ই খুলে ফেলবেন। এরা কী কোনো মায়ের গর্ভ থেকে দুনিয়াতে আসেনি? যদি এসে থাকে, তবে তাদের বলব, মায়ের জাতিকে সম্মান দেওয়া শিখুন; আপনার মাকে সম্মান করুন; তা হলেই দেশের ৯ কোটি মাকে সম্মান করতে পারবেন।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াতের আমির বলেন, অনেক হয়েছে, এসব আর বরদাশত করা হবে না। প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু মায়ের ইজ্জত কেড়ে নিতে দেব না। হাদি, আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদসহ সকল শহিদের হত্যাকারীদের ন্যায়বিচার করা হবে।
সরকারি কর্মচারীদের প্রতি নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা কেবল জামায়াতের বিজয় চাই না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।
জেলা জামায়াতের আমির মখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, কাজী মহসিন আহমেদ, ড. আহমদ আব্দুল কাদেরসহ স্থানীয় ও কেদ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
২১৭ দিন আগে
সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে: শফিকুর রহমান
সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, এই বাংলাদেশে যারা মাইনরিটির (সংখ্যালঘু) অধিকার নিয়ে বেশি হাল্লাচিল্লা করতেন, সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকার আপনাদের পাশে সাঁওতাল পল্লীতে (গাইবান্দার সাহেবগঞ্জ) কী করেছে, আপনারা কি দেখেন নাই? তারা কি আমাদের ভাইবোন না? তারা কি এ দেশের নাগরিক না? আমরা তাদের কথা দিচ্ছি, আমরা সবাইকে বুকে ধারণ করে সামনে আগাব। আমরা সকলের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করব।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের এটিম মাঠে নওগাঁ জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, কোনো পরিস্থিতি হলেই যারা মুসলমান নন, তারা ভয়ের সংস্কৃতিতে থাকবেন কেন? সেই ভয়ের সংস্কৃতিকে আমরা গুড়িয়ে একাকার করে দিতে চাই। সেই পরিবেশ আমরা রাখব না। এদেশ আমাদের সকলের। সবাইকে নিয়েই আমরা চলব।
নারীদের ঘরে ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘মায়েদের জন্য ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে—সব জায়গায় মর্যাদা আর নিরাপত্তা—এই দুইটা জিনিস নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম সাহস করবে না নারী জাতির কারও দিকে চোখ তুলে তাকানোর, সেই পরিবেশ তৈরি করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই অবস্থা দেখে অনেকে বেসামাল। ভাই, মাঘ মাসে মাথা গরম করবেন, চৈত্র মাস সামনে। এখনি যদি মাথা গরম করেন, চৈত্র মাসে কী করবেন? মাথা ঠান্ডা রাখেন। মানুষ কী ভাবছে, কান পেতে শোনেন। দেশ বাঁচলে আপনিও বাঁচবেন। এই ভোটটা আগামীতে হবে ইনশাআল্লাহ ইনসাফের প্রতীক।’
শফিকুর রহমান বলেন, নারীদের হুমকি-ধমকি, গায়ে হাত এগুলো যদি বন্ধ না রাখেন, তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, জুলাইয়ের ১৫ তারিখে মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়ার জন্য যেভাবে যুবক ভাইয়েরা গর্জে উঠেছিলেন। আবার বিস্ফোরিত হবে, গর্জে উঠবে। মায়ের অপমান সহ্য করবে না।
তিনি বলেন, ‘শুধু রাজার ছেলে রাজা নয়, বংশ পরম্পরায় নেতা নয়, বরং আজকে যিনি কঠোর পরিশ্রম করে রিকশা চালিয়ে নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তার ছেলেরও যে মেধা আছে সেই মেধাকে বিকশিত করে আগামীর প্রধানমন্ত্রী যেন বের হয়ে আসে। তাহলে ওরা বুঝবে, দুঃখি মানুষের কষ্ট। আর এভাবেই জমিদারি প্রথার রাজনীতি ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।’
সরকার গঠন করলে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতবাজদের জামায়াত প্রশ্রয় দেবে না উল্লেখ করে দলটির আমির বলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকার চাঁদাবাজি আমরা করি না। চাঁদাবাজি আমরা কাউকে করতে দেব না। দুর্নীতি আমরা পছন্দ করি না। বগলের নিচে দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দেব না। ব্যাংক ডাকাতি আমরা করি না। কোনো ব্যাংক ডাকাতের সঙ্গে আমাদের আপোষ হবে না। মামলাবাজি আমাদের খাসলত (স্বভাব) নয়। মামলা বাণিজ্য যারা করেছেন তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, ৫৪ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা নিজেদের পকেট পুরেছেন। ব্যাংক, বিমা লুট করেছেন। বড় বড় মেগা প্রকল্পের মেগা দুর্নীতি করেছেন। দুর্নীতির টাকা দেশে রাখতে পারে নাই। সেই টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। ক্ষমতায় এলে এই সব চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে আনা হবে।
উত্তরবঙ্গে কৃষির রাজধানী উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সারা দেশের মধ্যে নওগাঁ জেলায় দশ ভাগের এক ভাগ উৎপন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু এই জেলা তার ন্যায্য পাওনা পায়নি। নওগাঁ শহরের ভেতর দিয়ে চলা প্রধান সড়কটি চার লেন হওয়া দরকার। জামায়াত ক্ষমতায় এলে এই সড়কটি চার লেন করা হবে। এই জেলায় ব্যাপক পরিমাণে ধান ও ফল উৎপন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু কৃষকেরা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় না। উৎপাদিত ফল সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার তৈরি করা হবে। ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা হবে। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো সংরক্ষণ করে পর্যটন শিল্পকে আরও বিকশিত করা হবে।
নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির ও নওগাঁ-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন নওগাঁর বিভিন্ন আসনের প্রার্থীসহ অন্যান্য নেতারা।
২১৯ দিন আগে
জামায়াতের আমির জানতেন তার ছেলে জঙ্গি সংগঠনের সদস্য: সিটিটিসি প্রধান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান নতুন গঠিত জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র সঙ্গে তার ছেলে ডা. রাফাত সাদিক সাইফুল্লাহর জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান আসাদুজ্জামান এ দাবি করেছেন।
সিটিটিসি প্রধান বলেন, জামায়াতের আমির জানতেন যে তার ছেলে জঙ্গিবাদে জড়িত। ‘কিন্তু তিনি নীরব ছিলেন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এ তথ্য জানাননি।’
তিনি বলেন, ‘যদি কেউ জঙ্গিবাদে জড়ানোর পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়, পরিবার আবেদন করে, তাহলে বিবেচনা করা যেতো। কিন্তু তিনি (শফিকুর রহমান) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে না জানিয়ে পুরো বিষয়টি গোপন করেছিলেন।’
গত ৯ নভেম্বর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে শফিকুর রহমানের ছেলে রাফাতসহ তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: হাজিগঞ্জে ১১ নারী ‘জামায়াত কর্মী’ আটক
রাফাত আনসার আল ইসলামের সদস্য ছিলেন এবং তাদের নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ায় যোগ দেয়ার জন্য কিছু সমর্থক সংগ্রহ করেছিলেন।
সিটিটিসি প্রধান দাবি করেছেন, সম্প্রতি বাড়ি ছেড়ে আসা একদল যুবক রাফাতের নেতৃত্বে বান্দরবানে যায়, সেখান থেকে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি সশস্ত্র গ্রুপ কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) এর সঙ্গে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের জন্য সিলেটে যায়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানকে ১৩ ডিসেম্বর জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৭ ডিসেম্বর ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, জামায়াত প্রধানের দ্বারা নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়াকে সমর্থন ও অর্থায়ন করার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।
এদিকে ঢাকার আদালত থেকে দুই জঙ্গির পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সিটিটিসি প্রধান আজ (বৃহস্পতিবার) বলেন, ‘এখনও বলার সময় আসেনি। তারা এখনও দেশ থেকে পালাতে পারেনি।’
আরও পড়ুন: নতুন জঙ্গি সংগঠনকে মদদ দিচ্ছেন জামায়াতের আমীর: ডিএমপি কমিশনার
রাজশাহীতে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে ২ পুলিশ আহত
১৩৬০ দিন আগে
মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান মারা গেছেন
মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স কো. লিমিটেডের উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান (মুন্না) গত মঙ্গলবার (২৩শে আগস্ট) ইন্তেকাল করেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি তাঁর মা, স্ত্রী, একমাত্র মেয়ে, নাতি-নাতনি এবং আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
শফিকুর রহমান স্কাইওয়েজ টেকনো সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান, এস রহমান অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং কমফোর্ট রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিবি ১৯৯১-১৯৯৬) একজন নির্বাহী সদস্য এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি ২০০২-২০০৫) উপদেষ্টা ও গ্রাউন্ডস অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিস কমিটি এবং বিসিবির (২০০৩-২০০৫) চেয়ারম্যান ছিলেন।
তিনি চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম, নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু ও পিচ তৈরি করেন।
তিনি ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি (২০০১-২০০৬) ছিলেন।
আরও পড়ুন: প্রত্যাশা কম রেখেই এশিয়া কাপ খেলতে উড়াল টাইগার দলের
এসময়ে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব ২০০১-২০০২ ও ২০০২-২০০৩ মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে টানা দুই বছর চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল।
এছাড়াও তিনি ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক (১৯৮৫) ও ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের ক্রিকেট সেক্রেটারি (১৯৭৫-১৯৮০) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব ১৯৭৫-১৯৭৬ সালে ঢাকা ক্রিকেট লীগ চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করে এবং ১৯৭৬-১৯৭৭ সালে রানার্সআপ হয়।
শফিকুর রহমান আব্দুর রাজ্জাক রাজ, অলোক কাপালি, মঞ্জুরুল রানা, সাকিব আল হাসান, আফতাবদের মতো ক্রিকেট খেলোয়াড়দের তৈরি করেছেন।
তিনি ১৯৭৫ সাল থেকে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক দেয়ার মাধ্যমে ক্লাব ক্রিকেটে পেশাদারিত্ব আনার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
শফিকুর রহমান ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব, ঢাকা ক্লাব লিমিটেড ও গুলশান ক্লাব লিমিটেডের আজীবন সদস্য ছিলেন। এছাড়াও তিনি ক্যাডেট কলেজ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।
ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ এই ক্রীড়া সংগঠক ক্রিকেট বোর্ডে অনেক ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বিসিবির কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন এবং ২০০৭ সালে গঠিত বিসিবির অন্তর্বর্তী কমিটিরও সদস্য ছিলেন। তিনি বোর্ডের গ্রাউন্ডস অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিস কমিটির দীর্ঘদিনের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং প্রথম বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন।
আরও পড়ুন: আমি আমার ভূমিকা সম্পর্কে পরিষ্কার: শ্রীধরন শ্রীরাম
ডমিঙ্গো পদত্যাগ করেননি: বিসিবি
১৪৭৭ দিন আগে