ভারত সফর
এমন কোনো সমস্যা নেই যা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না: ভারতীয় হাইকমিশনার
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হলে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আরও অগ্রগতি হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। সৌজন্য সাক্ষাতে সৌজন্যমূলক আলোচনা হয়। পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না, এমন কোনো সমস্যা নেই। শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষ এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণ।’
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের সময় ঘনিয়ে আসার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে দুই দেশেরই একটি করে ওয়ার্কিং গ্রুপ রয়েছে। তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। আমি আগেও বলেছি, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না—এমন কোনো সমস্যা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হলে বিষয়গুলো আরও এগোবে বলে আমি আশা করি। ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের কাজ করবে এবং যা দুই দেশের জনগণের জন্য উপকারী, সেটিই বাস্তবায়িত হবে। আমি সবকিছু ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছি।’
১৮ ঘণ্টা আগে
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অতিথি হিসেবে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমন্ত্রণপত্র এসেছে। আমরা সেটা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়েছি।’
আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ব্রিকসের সদস্য রাষ্ট্র না হলেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এ সময় ভারতে চলমান আন্দোলন, দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে আমরা আমাদের এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা এবং শান্তি বজায় থাকুক, সেটাই চাই।
ভারতের চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আমরা আশা করব, একটি গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে তারা তাদের জনগণের অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধানের দিকে এগিয়ে যাবে।
এ সময় সাংবাদিকরা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলন এবং পাকিস্তান, নেপাল ও মিয়ানমারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক—এই নীতিতেই বিশ্বাসী।
৬ দিন আগে
ভারতে শুভেচ্ছা সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আগামী ১০-১২ এপ্রিল মরিশাসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগর সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার উদ্দেশ্যে আজ মঙ্গলবার ঢাকা ত্যাগ করেন।
পথিমধ্যে নয়া দিল্লিতে যাত্রা বিরতিতে যাচ্ছেন তিনি। সেখানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়কমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে তার।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস এম মাহবুবুল আলম এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, এসব বৈঠকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহকে ভবিষ্যতে আরও ফলপ্রসূ ও টেকসই পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি রচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মাহবুবুল আলম।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করবে বাংলাদেশ। এছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদসহ অন্যান্য আসামিদের দ্রুত ফেরত চাইবে ঢাকা। মাসুদ বর্তমানে কলকাতায় গ্রেপ্তার রয়েছেন।
ভিসা সেবা পুরোপুরি চালুর বিষয়েও ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশা করবে ঢাকা। চিকিৎসা পর্যটন থেকে ভারত উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হতে পারে, সে বিষয়টিও সেখানে উল্লেখ করা হবে। এছাড়া সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সীমান্তে আর কোনো প্রাণহানি যেন না ঘটে, সে বিষয়েও জোর দেবে বাংলাদেশ।
উভয় পক্ষ জ্বালানি সহযোগিতা, অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন এবং বাণিজ্য বাধা সহজ করার পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই হবে ভারতে প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর। দিল্লিতে আগামী ৮ এপ্রিল দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এই আমন্ত্রণপত্রটি হস্তান্তর করেছিলেন। মোদি তার চিঠিতে দুই দেশের মধ্যে সংযোগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং জনযোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মরিশাস সম্মেলন ও ভারত সফরে যাবেন।
১১৩ দিন আগে
ভারত সফর সংক্ষিপ্ত, কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ: সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সাম্প্রতিক ভারত সফর ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
তিনি বলেন, ‘এ সফর ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ। আমি মনে করি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এ সফর সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।’
মঙ্গলবার (২৫ জুন) ২১-২২ জুন ভারতে তার রাষ্ট্রীয় সফর সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে প্রধানমন্ত্রী সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই সফর দুই প্রতিবেশী দেশের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে এই সফরে যান শেখ হাসিনা।
আরও পড়ুন: ভারত সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন শুরু
বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর ভারতে কোনো সরকার প্রধানের এটিই প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর।
এছাড়া, ১৫ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ছিল ভারতের রাজধানীতে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সফর, কারণ ৯ জুন মোদির শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি ছিলেন।
২ প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক আরও সংহত করতে সফরকালে ঢাকা ও নয়া দিল্লির মধ্যে ৭টি সমঝোতা স্মারক সই এবং আরও ৩টি সমঝোতা স্মারকের পুনর্নবীকরণ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিগত ১৫ বছরে একটি অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। যার সুফল দু’দেশের জনগণ ভোগ করছেন।’
তিনি বলেন, বিশেষ করে ২০২৩ সালে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এ সফরকালে ভারতের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল নবনির্বাচিত দুটি সরকার কীভাবে সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে সে বিষয়ে একটি রূপকল্প প্রণয়ন।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেহেতু নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে ঢাকা ও দিল্লি নতুনভাবে পথ-চলা শুরু করেছে, সে ধারাবাহিকতায় ‘রূপকল্প ২০৪১’ এর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ নিশ্চিত করার জন্য ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করার ব্যাপারে আমরা আলোচনা করেছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন- বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ক্রমাগত বিকশিত এবং দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
চলমান বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে মোদি বলেন, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে আরও গভীরভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
শেখ হাসিনা বলেন, মোদি আশ্বাস দিয়েছেন- বাংলাদেশ তাঁদের ‘প্রতিবেশী প্রথম’, ‘অ্যাক্ট ইস্ট’, ‘সমুদ্র ও ইন্দো-প্যাসিফিক’ নীতির কেন্দ্রে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার পথ এবং কার্যপন্থা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা আমাদের দু’দেশের এবং জনগণের কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করার বিষয়ে সম্মত হয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে আমরা অন্যান্য পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মধ্যে রাজনীতি ও নিরাপত্তা, শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং সীমান্তে হতাহতের ঘটনা শুন্যে নামিয়ে আনা, বাণিজ্য ও সংযোগ, অভিন্ন নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা ও পানি বণ্টন, জ্বালানি ও শক্তি এবং আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করি।
তিনি বলেন, ‘আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীকে তার সুবিধাজনক সময়ে যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে দ্বিপক্ষীয় সফরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
৭৬৪ দিন আগে
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ২ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শুক্রবার (২১ জুন) প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা ২৯ মিনিটে নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এর আগে দুপুর ২টায় ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
আরও পড়ুন: ২ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নয়া দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্রী কীর্তিবর্ধন সিং এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান।
এরপর দেশটির ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্যের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয়।
সড়কের দুই পাশে বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা এবং শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির প্ল্যাকার্ড দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে পালাম বিমানবন্দর থেকে হোটেল তাজ প্যালেস পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন ভাষায় নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে।
বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর এই প্রথম কোনো সরকার প্রধানের ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফর।
এ সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক হবে এবং ঢাকা ও নয়াদিল্লি বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করা হবে।
এছাড়াও দুই দেশের মধ্যে একটি সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে আলোচনা হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত এক দশক ধরে অসংখ্য আন্তঃসীমান্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে সেনাপ্রধানের শ্রদ্ধা
গত ৯ জুন মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হওয়ার পর ১৫ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ভারতে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সফর।
শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সফরকালীন আবাসস্থলে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
শনিবার সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে লাল গালিচা সংবর্ধনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বরণ করে নেওয়া হবে। এসময় বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত বাজানো হবে। এরপর সেখানে শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে।
এরপর তিনি রাজঘাটে ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাবেন। সেখানে পরিদর্শক বইয়েও সই করবেন তিনি।
একই দিনে হায়দরাবাদ হাউজে মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা।
বৈঠক শেষে উভয় প্রধানমন্ত্রী সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রী সংবাদ বিবৃতি দেবেন।
এরপর হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে প্রধানমন্ত্রী মোদির দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তারা।
বিকালে সচিবালয়ে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন শেখ হাসিনা।
এরপর সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি।
একই দিনে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট দিল্লির পালাম বিমানবন্দর ত্যাগ করে রাত ৯টায় ঢাকায় অবতরণের কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন: রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখায় প্রবাসীদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিনন্দন
৭৬৮ দিন আগে
শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে: গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা
ঈদুল আজহার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের মধ্য দিয়ে নতুন মেয়াদে দুই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কের নতুন সূচনা হবে এবং আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দুই দেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা।
শুক্রবার এক গোলটেবিল বৈঠকে তারা বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন সারা বিশ্বের জন্য একটি উদাহরণ এবং এই সম্পর্কের সৌন্দর্য হলো ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মোকাবিলা করা।
ভোরের কাগজ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় ‘বাংলাদেশ ভারতের নতুন সরকার: সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন দিগন্তের নতুন সূচনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে ছিলেন- সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সাহাব আনাম খান, ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্ট অব বাংলাদেশের (ডিক্যাব) সভাপতি নুরুল ইসলাম হাসিব, বাংলা ট্রিবিউনের বিশেষ প্রতিনিধি শেখ শাহরিয়ার জামান এবং ভারত থেকে অনলাইনে যুক্ত হন প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার সভাপতি গৌতম লাহিড়ী, টেলিগ্রাফের হেড অব পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স দেবদীপ পুরোহিত।
শুক্রবার (১৪ জুন) সকালে রাজধানীতে ভোরের কাগজের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, তা পৃথিবীর আর কোথাও নেই। দুই দেশের এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিশ্বে দৃষ্টান্ত। দুই দেশের এই সম্পর্ক আরও নতুন উচ্চতায় এগিয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফর ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
গত ১৫ বছরের অর্জন তুলে ধরে শাহরিয়ার আলম বলেন, 'এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা খুবই আনন্দিত।’
তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময়কার ৩৩ দফা যৌথ বিবৃতি ছিল, যেখানে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ), জ্বালানি সহযোগিতা, জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, বিস্তৃত সংযোগ এবং অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: তিস্তা নদীর উন্নয়নমূলক প্রকল্পে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফর এসব ক্ষেত্রে সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে জানান শাহরিয়ার আলম।
যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) পরবর্তী বৈঠক শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ২০২২ সালের আগস্টে নয়াদিল্লিতে জেআরসির ৩৮তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে পানি সম্পদ খাতে সহযোগিতা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত জেআরসি অভিন্ন নদী ব্যবস্থা থেকে সর্বাধিক সুবিধা অর্জনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক কার্যকর যৌথ প্রচেষ্টা নিশ্চিত করতে যোগাযোগ বজায় রাখার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। জেআরসির নেতৃত্বে রয়েছেন দুই দেশের পানিসম্পদমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২১-২২ জুন অনুষ্ঠেয় দ্বিপক্ষীয় এই সফরে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক, চুক্তি সই রয়েছে হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া সহযোগিতার কয়েকটি ক্ষেত্র নিয়ে ঘোষণাও আসতে পারে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সঞ্চালক শ্যামল দত্ত বলেন, সম্পর্ককে আরও গভীর করতে দুই দেশের নতুন নির্বাচিত নেতৃত্বের ইচ্ছা রয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী ভারত সরকারের নতুন মেয়াদে অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি দেখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করছি আমাদের ন্যায্য হিস্যা পাব।’
এর আগে ২০২২ সালে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের প্রাপ্ত পানির সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য একটি সমীক্ষা পরিচালনার জন্য একটি যৌথ কারিগরি কমিটি গঠনকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই নেতা।
বাংলাদেশ ভারতের সবচেয়ে বিশ্বস্ত প্রতিবেশী এ বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে শমসের বলেন, ‘১৯৭১ সালে যদি আমরা রক্ত ভাগাভাগি করতে পারি, আমার বিশ্বাস আমরা পানি ভাগাভাগি করতে পারব।’
বৈঠকে অধ্যাপক ইমতিয়াজ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই উপনিবেশমুক্ত হওয়ার ফলে উপকৃত হচ্ছে এবং দুই দেশকে এগিয়ে যেতে থাকা এই সম্পর্কে নতুন মাত্রা আনতে হবে।
আরও পড়ুন: গঙ্গা চুক্তি নবায়ন ও তিস্তা চুক্তি সই করতে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির আহ্বান
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কিছু আনতে হবে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার পানি বণ্টন ও সীমান্ত হত্যা ইস্যুতে কথা বলে আসছি।’
জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক ইমতিয়াজ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের মনের বিকাশের প্রয়োজন।
এ সময় 'তিস্তা রিভার কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রজেক্ট' প্রকল্পের কথা বলেন তিনি। এ প্রকল্পে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ধারণার বিষয়ে চীন আগ্রহ দেখিয়েছে।
একই প্রকল্পে ভারতের আগ্রহ নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন অধ্যাপক ইমতিয়াজ।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, সংঘাতের ভূ-রাজনীতিকে সহযোগিতার ভূ-রাজনীতিতে রূপান্তর সম্ভব। কারণ, বাণিজ্যসহ অনেক ক্ষেত্রেই চীনের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে।’
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ বলেন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে নেতৃত্বের ভূমিকা নেওয়ার ইচ্ছা আছে ভারতের। এটি দেশটির জন্য সবাইকে একত্রিত করে নেতৃত্ব গ্রহণের একটি সুযোগ।
তিনি বলেন, ‘তিস্তায় পর্যাপ্ত পানি নাও থাকতে পারে, কিন্তু ব্যবহারের জন্য যা পাওয়া যায় তা ভাগ করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে সমস্যা সেখানেই সমাধান খুঁজতে হবে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহী ভারত: হাছান মাহমুদ
তিস্তা প্রকল্প প্রসঙ্গে সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি চীনের নিজস্ব প্রস্তাব নয়, তবে বাংলাদেশের অনুরোধে তারা আগ্রহ দেখিয়েছেন।
বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক সাহাব বলেন, বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে বিশাল লাইন অব ক্রেডিটস (এলওসি) পাচ্ছে তবে এর বাস্তবায়ন ধীর গতিতে চলছে।
তিনি বলেন, 'বিশাল এলওসি আসছে, যা খুবই আকর্ষণীয়। টাকা তো আছেই। রাজনৈতিক অঙ্গীকারও তো আছে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমি মনে করি দুটি দেশকে আরও বাস্তববাদী হতে হবে।’
এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, চীনের প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি খুবই দ্রুত, এমনকি এক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও খুব দ্রুত গতির। যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী দেশ এবং চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার।
প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার সভাপতি গৌতম লাহিড়ী বলেন, দুই দেশ বহু বছর পর স্থলসীমানা সমস্যার সমাধান করেছে এবং তিস্তা বিষয়ে সমস্যার সমাধানও হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সিইপিএ নিয়ে আলোচনায় অগ্রসর হওয়া দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আমাদের সময় নষ্ট করা উচিত নয়। আমাদের দ্রুত এগোতে হবে।’
পানি ব্যবস্থাপনার জন্য উদ্যোগ প্রয়োজন এবং বন্যা এড়াতে যৌথভাবে তিস্তায় ড্রেজিংয়ের চেষ্টা করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন গৌতম।
তিনি বলেন, ভারত বিশ্বাস করে যে বাংলাদেশ এমন কিছু করবে না যা ভারতের স্বার্থের ক্ষতি করতে পারে এবং বাংলাদেশের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ হওয়ার লক্ষ্য পূরণে ভারতের সহযোগিতা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: তৃতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির শপথ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন সফর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন গৌতম।
ভারতের টেলিগ্রাফের হেড অব পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স দেবদীপ পুরোহিত বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক বিভিন্ন মানুষ বিভিন্নভাবে দেখে। এরই মধ্যে ভারতের কাছে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন ৩৬০ ডিগ্রিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
তিস্তা নদীর জল ভাগাভাগির বিষয়ে দেবদীপ বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে তিস্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যখন তিস্তার জল ভাগাভাগির কথা ওঠে, তখন প্রশ্ন আসে, সেচের লক্ষ্য কীভাবে পূরণ হবে। কারণ, শুকনা মৌসুমে তো নদীতে জল থাকে না। তিস্তায় পর্যাপ্ত জল না থাকায় দুই দেশ কীভাবে তিস্তাকে ব্যবহার করবে, তা নিয়ে নতুন ভাবনা-চিন্তা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘সব মিলিয়ে তিস্তাকে বাঁচাতে হবে। এ নিয়ে বিভিন্ন রকমের প্রস্তাবও আছে। চায়নাও প্রস্তাব দিয়েছে। ভারতও প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ কার সঙ্গে যাবে এটা নিয়ে আমাদের কোনো প্রশ্ন নেই।’
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের কথা উল্লেখ করে দেবদীপ পুরোহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে এসে বিজেপির প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি, কংগ্রেস প্রধান সোনিয়া গান্ধী, রাজীব গান্ধী ও প্রিয়াংকা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেছেন। সে সাক্ষাতের ছবি রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। সেই ছবি ভীষণ ভাইরাল হয়েছে। এতেই বুঝা যায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের সোনালি অধ্যায় চলছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে বর্ণনা করে তিনি আরও বলেন, ‘কলকাতার সঙ্গে বাংলাদেশের অন্যরকম সম্পর্ক। সেই সম্পর্ক পরের ধাপে নিতে আমাদের দৃঢ় বাস্তববাদী মনোভাব দরকার।
আরও পড়ুন: তৃতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন মোদি
৭৭৫ দিন আগে
ভারত সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন প্রধানমন্ত্রী: কাদের
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ভারত সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সেখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন, বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানা যাবে।’
সোমবার (১০ জুন) ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের সংসদ সদস্য এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সারাদেশে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে তিন দিনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে নিবন্ধিত সব দলকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
২১ জুন বিকাল ৩টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট থেকে একটি শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে শেষ হবে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২৩ জুন বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনা প্লাটিনাম বর্ষপূর্তি কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
একই দিন বিকাল ৩টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে।
এছাড়া রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং হাতিরঝিলে নৌকা বাইচ ও সাইকেল র্যালির আয়োজন করা হবে।
প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে দেশের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দলটির ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হবে বলে জানান দলটির সাধারণ সম্পাদক।
৭৭৯ দিন আগে
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহো এখন ঢাকায়
ভারত সফর শেষে এবার ঢাকায় পা রেখেছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের কিংবদন্তি ও ২০০২ সালের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দলের সদস্য রোনালদিনহো।
তিনবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলার বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
আরও পড়ুন: এএফসি মহিলা এশিয়া কাপ: অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ব্রাজিলিয়ান আইকন সরাসরি হোটেল রেডিসনে পৌঁছান। এদিকে তাকে স্বাগত জানানোর জন্য নতুন করে সাজানো হয়েছিল হোটেল রেডিসন।
হোটেলে বিশ্রাম নেওয়ার পর রোনালদিনহো বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা।
বাংলাদেশে সংক্ষিপ্ত অবস্থানকালে হোটেল রেডিসনে বাংলাদেশের পুরুষ ও নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও সাবিনা খাতুনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ব্রাজিলিয়ান সুপার স্টার।
পরে তিনি বুধবার রাত ১১টায় রাজধানী ত্যাগের আগে একই হোটেলে নির্বাচিত অতিথিদের মিলন ও শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
এর আগে তিন দিনের সফরে রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় পৌঁছান।
রোনালদিনহো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে দেখা করে তাকে একটি জার্সি উপহার দেন।
ভারতীয় ক্রীড়া উদ্যোক্তা শত্রু দত্তের আমন্ত্রণে রোনালদিনহো কলকাতা সফর করেন।
আরও পড়ুন: মালদ্বীপকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশ
ফিফা বিশ্বকাপ: মালদ্বীপের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিলেন সাদ
১০১৫ দিন আগে
নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে: ভারত সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার বলেছেন, তিন বছর পর তার সাম্প্রতিক ভারত সফর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে।
গত সপ্তাহে ভারতে তার সরকারি সফর নিয়ে বুধবার বিকালে সরকারি বাসভবন গণভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা গোটা সফরজুড়ে ভালো প্রতিবেশী হিসেবে সমতা ও সম্মানের ভিত্তিতে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে ভারতের আন্তরিকতা ও অঙ্গীকার লক্ষ্য করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানে তার সফরের সময় (৫-৮ সেপ্টেম্বর) গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সময় চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হবে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সর্বোপরি পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে, এই সফর উভয় দেশকে একটি নতুন পথে এগিয়ে যাওয়াকে ত্বরান্বিত করবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি উভয় দেশের
জনগণের কল্যাণে এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়া শিগগিরই একটি সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা ও নয়াদিল্লি প্রতিবেশী দেশ হিসেবে উভয়ই আন্তরিকতা তুলে ধরে সমতা ও সম্মানের ভিত্তিতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে।
তিনি আরও বলেন, তিস্তার পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদেশের পাটপণ্যের ওপর থেকে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন, ভারত হয়ে নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এসময় প্রধানমন্ত্রী তার সফরের অনেকগুলো অর্জন তুলে ধরেন- কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টনের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে যার মাধ্যমে বাংলাদেশ নদী থেকে ১৫৩ কিউসেক পানি প্রত্যাহার করতে পারবে, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে ঐকমত্য, ভারত ভুটানের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ও অন্যান্য আন্তসীমান্ত রেল যোগাযোগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সম্মত হওয়া এবং চিনি, পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের মতো অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যদ্রব্য রপ্তানি বন্ধ করার আগে বাংলাদেশকে আগাম বার্তা দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশের মুজিবনগর থেকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পর্যন্ত ঐতিহাসিক ‘স্বাধীনতা সড়ক’ উদ্বোধনের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
পড়ুন: শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যাবে: দোরাইস্বামী
অভিন্ন নদীগুলোর দূষণের ক্ষেত্রে নদীগুলোর পরিবেশ ও নাব্যতা উন্নত করার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়া হবে, রেল পরিষেবার মান বাড়ানোর জন্য তথ্য-প্রযু্ক্তির সমাধান বিনিময় এবং ২০২২ সালের মধ্যে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি সাক্ষরের জন্য কাজ শুরু করতে দু’দেশের বাণিজ্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সফরকালে, দুই পক্ষ সাতটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সাক্ষর করেছে যার মধ্যে রয়েছে-
সুরমা-কুশিয়ারা প্রকল্পের আওতায় কুশিয়ারা নদী থেকে বাংলাদেশে ১৫৩ কিউসেক পানি প্রত্যাহার, বৈজ্ঞানিক ও শিল্প গবেষণা কাউন্সিল (সিএসআইআর) -এর মধ্যে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা।
তিনি আরও যোগ করেন, ভারত এবং বাংলাদেশ বৈজ্ঞানিক ও শিল্প গবেষণা কাউন্সিলের (বিসিএসআইআর) মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, ভারতের ভোপালে ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমি এবং বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হয়েছে, রেলপথ মন্ত্রণালয় (রেলওয়ে বোর্ড), সরকারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হয়েছে। ভারত এবং রেল মন্ত্রণালয়, ভারতে বাংলাদেশ রেলওয়ে
কর্মীদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার, রেল
মন্ত্রণালয় (রেলওয়ে বোর্ড), ভারত সরকার এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে আইটি সিস্টেমে সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক ভারতীয় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন 'প্রসার ভারতী' এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য এফওআইএস এবং অন্যান্য আইটি অ্যাপ্লিকেশন (বিটিভি) সম্প্রচারে সহযোগিতা এবং বিটিসিএল এবং এনএসআইএল-এর মধ্যে মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার
বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী বাংলাদেশ কুশিয়ারা অভিন্ন নদী থেকে সুরমা-কুশিয়ারা প্রকল্পের আওতায় ১৫৩ কিউসেক পানি পাবে এবং এর ফলে রহিমপুর লিংক ক্যানেলের মাধ্যমে পাঁচ হাজার হেক্টর জমি সেচ সুবিধা পাবে।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি, সবুজ অর্থনীতি, সাংস্কৃতিক এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছে।
‘আমরা বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তে ভারতের প্রস্তাবিত দ্বিতীয় গেটের নির্মাণ কাজ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেষ করতে সম্মত হয়েছি। এই ভালো কাজটি শুরু করতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল শিগগিরই ভারত সফর করবে,’ তিনি যোগ করেন।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে জ্বালানি (ডিজেল) পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের শিলিগুড়ি হয়ে বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরে প্রবাহিত হবে।
তিনি যোগ করেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প’ এর অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৯ এপ্রিল, ২০১৮ সালে একটি সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হয়।
‘এই প্রকল্পের আওতায় ভারত সরকারের অর্থায়নে মোট ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার (বাংলাদেশ অংশে ১২৬ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার এবং ভারতীয় অংশে পাঁচ কিলোমিটার) পাইপলাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের অংশে ১২৬
দশমিক ৫৭ কিলোমিটার পাইপলাইনের মধ্যে ১২৫ কিলোমিটার পাইপলাইন সম্পন্ন হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের চাহিদা মেটাতে প্রতিকূল অবস্থায় পাইপলাইন নির্মাণের ফলে জ্বালানি পরিবহন খরচ সাশ্রয় হবে এবং ভারত থেকে সহজে, দ্রুত এবং ডিজেল আমদানি করা যাবে।
পড়ুন: জি-২০ সম্মেলনে বাংলাদেশকে অতিথি দেশ হিসেবে আমন্ত্রণ জানাবে ভারত
তিনি বলেন, এখন রেলওয়ে ওয়াগনের মাধ্যমে ভারত থেকে বছরে ৬০-৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয় এবং একবার
পাইপলাইন নির্মাণ শেষ হলে ভারত থেকে বছরে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে, চলমান প্রকল্পের অধীনে পার্বতীপুরের স্টোরেজ ক্ষমতা ১৫ হাজার মেট্রিক টন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে স্টোরেজ ক্ষমতা ২৮ হাজার ৮০০ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে।
তিনি বলেন, জ্বালানির আমদানি উৎসকে বৈচিত্র্যময় করার লক্ষ্যে জি-টু-জি এর ভিত্তিতে ২০২২ সালের
২৮ আগস্ট ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি জ্বালানি সরবরাহকারী হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়েছে।
এলএনজি আমদানির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিশেষ করে খুলনা এলাকায় বিপুল গ্যাসের চাহিদার কথা চিন্তা করে সরকার একটি আন্তসীমান্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে
ভারত থেকে বাংলাদেশে রেগ্যাসিফাইড এলএনজি (আরএলএনজি) আমদানির কথা বিবেচনা করছে। শেষ পর্যন্ত, ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড ( আইওসিএল) এবং এইচ-এনার্জি’র প্রস্তাবের বিপরীতে পেট্রোবাংলা উভয় সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন-বাইন্ডিং সমঝোতা সাক্ষর সই করেছে।
তিনি বলেন, ‘ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। ভাষা ও সংস্কৃতির মিলের কারণে আমাদের সম্পর্ক গভীর হয়েছে।’
এ ছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন ও স্বাধীনতার পর সহযোগিতা এই বন্ধুত্বকে বিশেষ পর্যায়ে নিয়ে গেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
১৪১৪ দিন আগে
ভারতের সঙ্গে মৈত্রী রক্তের বন্ধন: তথ্যমন্ত্রী
তথ্যমন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী রক্তের অক্ষরে ও রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এ বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে।সোমবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর দপ্তরে ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
ড.হাছান বলেন, গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সফল একটি ভারত সফর করেছেন এবং এ সফরে অনেকগুলো অর্জন আছে, যেমন- কুশিয়ারা নদীর পানি আমাদের পক্ষে বন্টন, ভারতের স্থলভাগের ওপর দিয়ে তৃতীয় দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি সুবিধা যার জন্য আমরা বহুদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম, আলাপ-আলোচনার মধ্যেই ছিলাম সেটি এ সফরে সুরাহা হয়েছে, এটি একটি বড় অর্জন।
আরও পড়ুন:প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ: তথ্যমন্ত্রী
১৪১৬ দিন আগে