সামাজিক স্থিতিশীলতা
সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেছেন, অতীতের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজনের রাজনীতির কারণে দেশে এমন এক সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিবেশও বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।
বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সৌজন্যে আয়োজিত ‘ইসলামিক প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, একসময় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের পরিচয়, টুপি, দাড়ি কিংবা নামাজ আদায়ের মতো ধর্মীয় অনুশীলনকেও কিছু মহল সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করেছিল যা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির সংস্কৃতির পরিপন্থী।
তিনি বলেন, যারা ভোটারবিহীনভাবে গণবিচ্ছিন্নভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা জনগণের মধ্যে বিভিন্ন কারণে বিভেদ তৈরি করত।
তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভোটারবিহীন ও গণবিচ্ছিন্ন শাসনব্যবস্থা জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছিল। ধর্মীয় বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা ছিল তার অন্যতম অংশ।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে নানা ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতির মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। ইসলামসহ সকল ধর্মই অন্যের বিশ্বাসকে সম্মান করার শিক্ষা দেয়। তাই সমাজে বিভাজন ও সংঘাত সৃষ্টি করার কোনো সুযোগ নেই।
ইসলামিক প্রতিযোগিতার আয়োজন মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিভা, যুক্তিবোধ ও নৈতিক শিক্ষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তথ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ভারসাম্যপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণ ও অর্থনৈতিক সংকট বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে সময় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। আগামী দুই বছর দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখা গেলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। তাই সকল নাগরিককে বিভেদ ও অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় সংসদে গঠনমূলক বিতর্ককে গণতন্ত্রের অংশ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সংসদের বিতর্ক ও মতপার্থক্য যেন কোনোভাবেই রাজপথে সংঘাত বা বিশৃঙ্খলার কারণ না হয় সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চাকারীদের সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজে শান্তি, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে আলেম-উলেমা ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, বায়তুল মোকাররমের খতিব আল্লামা মুফতি আব্দুল মালেক, হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমীসহ আলেম-উলেমা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
১৭ দিন আগে
সামাজিক স্থিতিশীলতা এখন অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ: পরিকল্পনামন্ত্রী
নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
তিনি বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং অর্থনীতির জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
মঙ্গলবার ঢাকার এনইসি সম্মেলন কক্ষে ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (ডিজেএফবি) আয়োজিত ‘উন্নয়ন সংলাপে’ মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: রাস্তা নয়, হাওরাঞ্চলে ফ্লাইওভার নির্মাণ হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সমাজে দুর্নীতি দৃশ্যমান। সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি কমাতে অনেক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যে কোনও প্রকল্প অনুমোদিত হলেই বাস্তবায়নের দায়িত্ব চলে যায় নির্বাহী বিভাগের কাছে। তাই আমি চাইলেও অনেক কিছু করতে পারি না।’
তবে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে দুর্নীতি কিছুটা কমেছে বলেও জানান মন্ত্রী।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘ডলারের দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে না গেলে খুশি হব।’
আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কার ছাঁচে বাংলাদেশকে মূল্যায়ন করবেন না: পরিকল্পনামন্ত্রী
সবাই মিলে জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী
১৩৬২ দিন আগে