সুমাইয়া
এক বছরেও শেষ হয়নি কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যার বিচার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন রিনথী ও তার মা তাহমিনা বেগম হত্যার এক বছর পূর্ণ হলেও এখনও শেষ হয়নি বিচারিক কার্যক্রম। আসামি গ্রেপ্তার ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পরও মামলাটি এগোচ্ছে ধীরগতিতে। এ পর্যন্ত পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে।
গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরের কালিয়াজুড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সুমাইয়া ও তার মা তাহমিনা বেগমকে হত্যা করা হয়। পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে ওই দিনই অভিযুক্ত মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ঝাড়ফুঁকের সূত্রে সুমাইয়ার পরিবারের সঙ্গে মোবারকের পরিচয় হয়। ঘটনার আগে এক মাস ধরে তিনি ওই বাসায় যাতায়াত করেন।
স্বীকারোক্তিতে মোবারক আরও জানান, সুমাইয়াকে ঝাড়ফুঁক করার সময় ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। বিষয়টি মা তাহমিনা বেগম দেখে ফেলায় প্রথমে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে সুমাইয়াকেও হত্যা করা হয়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন সুমাইয়ার পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এক বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
সুমাইয়ার সহপাঠী মেহেদি হাসান শাহিন বলেন, ‘আমাদের বান্ধবী সুমাইয়া ধর্ষণ ও হত্যার এক বছর হলেও এখনও কোনো দৃশ্যমান ফলাফল দেখা যায়নি। আমরা আশা করি, ধর্ষক যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়।’
আরেক সহপাঠী মুনিয়া আফরোজ বলেন, ‘পুরো একটা বছর শেষ হয়ে গেছে, সুমাইয়া ও তার মায়ের হত্যাকাণ্ডের। আদালতে তারিখের পর তারিখ পিছিয়েছে, কিন্তু এখনও কোনো রায় আমরা পাইনি। ভবিষ্যতে পাব কি না, তা নিয়েও সন্দিহান। তবুও আমরা বিচার বিভাগের ওপর ভরসা রাখতে চাই। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানাই।’
সুমাইয়ার সহপাঠী হুমাইরা তাসনিম প্রমি বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধ চাই না, কারও বিরুদ্ধে অন্যায় কিছু চাই না। আমরা শুধু চাই এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য সামনে আসুক এবং যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’
সুমাইয়ার বড় ভাই মো. আল আমিনও দ্রুত বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘(আদালতের) পরবর্তী তারিখ আগামী মাসের ১৭ তারিখ। পরে আরও বিস্তারিত জানাতে পারব।’
নিহত পরিবারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল হোসাইন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাঁচজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনটি শুনানি হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে। আগামী মাসের ১৭ তারিখ মামলার শুনানি রয়েছে। আশা করছি, এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম খুব দ্রুত শেষ হবে। ’
৯ দিন আগে
বাড়িতে মায়ের লাশ রেখে এসএসসি পরীক্ষা দিলো সুমাইয়া!
মরণঘাতী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মায়ের মৃত্যুর সংবাদে অজ্ঞান হয়ে পড়ে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার।
পরিবারের লোকজন উপায় না পেয়ে তাকে পানছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেবা শুশ্রূষা ও জ্ঞান ফেরাতে চলে চিকিৎসা।
আরও পড়ুন: বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার
কারণ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ শনিবার সকাল ১১ টায় তার এসএসসি’র বাংলা ২য় পত্রের পরীক্ষা।
অসুস্থ ছাত্রীকে দেখতে গিয়ে পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনচারুল করিম জানতে পারেন মেয়েটির বাবা রফিকুল ইসলাম মৃত। স্ত্রী ফাতেমা বেগমের দাফন কাফনের আয়োজন করছেন।
তাই সুমাইয়া আক্তারকে স্যালাইন লাগানো অবস্থায় নিজের গাড়িতে করে পরীক্ষা শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিট পর কেন্দ্রে নিয়ে পরীক্ষার দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এর এমন মহানুভতায় পানছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মিজ বেলী চাকমা জানান, সুমাইয়া আক্তার বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী হলেও আমার বিদ্যালয়ে তার পরীক্ষা কেন্দ্র। এছাড়া মো. আনচারুল যা করেছেন তা প্রশংসনীয়। এমন উদ্যোগ সকলেই নিয়ে কাজ করতে পারে না।
তাঁর এই মহতি কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনচারুল করিম বলেন, একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীর মা মারা যাওয়ায় পরীক্ষা দিচ্ছে না এমন খবরে হাসপাতালে ছুটে গিয়ে তাকে সান্ত্বনা দিই। অশ্রæসিক্ত চোখে কেন্দ্রে ঢুকে বারবার কেঁদেছে সুমাইয়া।
প্রশ্নপত্র হাতে নিয়ে একহাতে চোখ মুছে ও অন্য হাতে খাতায় লিখেছে। মাঝে মাঝে ফুঁপিয়ে কেঁদেও উঠেছে।
তবু তার পাশে থেকে পরীক্ষা সম্পন্ন করিয়েছি।
আরও পড়ুন: বাগেরহাটে ছাত্রাবাস থেকে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড: আরও ২ লাশ শনাক্ত
১৪৫৯ দিন আগে