সার সংকট
দেশে সারের সংকট নেই, মজুতও পর্যাপ্ত রয়েছে: কৃষি সচিব
দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রংপুর অঞ্চলের সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা জানান।
কৃষি সচিব বলেন, দেশের কৃষকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। বর্তমানে দেশে সারের কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। কৃষক যাতে হয়রানি ছাড়াই প্রয়োজনীয় সার পেতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখতে হবে।
তিনি বলেন, কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সারে ভর্তুকি প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বাড়ানো এবং কৃষিকে আরও লাভজনক করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
মো. সেলিম খান কৃষকদের সুষম সার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ফসলের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় ও সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ করতে হবে। অতিরিক্ত সার ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি মাটির গুণাগুণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই কৃষকদের সুষম সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
সারের বাজারে অনিয়মের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো অসাধু সার ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধভাবে সার মজুত বা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির মাধ্যমে কৃষকদের হয়রানি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকের স্বার্থে সার ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন কৃষি সচিব।
সেলিম খান কৃষি বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আরও যত্নশীল ও দায়িত্বশীল হয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন। কৃষকদের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে তা সমাধানে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় রংপুর অঞ্চলের সার সরবরাহ, মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা এবং কৃষকদের সারপ্রাপ্তির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ অঞ্চলের সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্পর্কে কৃষি সচিবকে জানান।
পরে কৃষি সচিব রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ঘনিরামপুর গ্রামের কৃষক অহিদুল ইসলাম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি বেসড ভার্মিকম্পোস্ট খামার পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি খামারের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং কৃষকের সঙ্গে কথা বলেন।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিমসহ রংপুর বিভাগের সার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
সারের সংকট সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা: খাদ্যমন্ত্রী
মজুতদার এবং গুজবকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার মঙ্গলবার বলেছেন, কেউ দেশে কৃত্রিম সার সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি বলেন, 'গত বছরের থেকে এবার সারের বরাদ্দ এক টনও কমেনি, কিন্তু চাষের জমির পরিমাণ কমেছে। এ অবস্থায় সার সংকট হওয়ার সুযোগ নেই। সার নিয়ে গুজব সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ কারণে যাদের এক বস্তা সার প্রয়োজন তাঁরা দুই বস্তা সার সংগ্রহের চেষ্টা করছে।'
আরও পড়ুন: মদিনা সনদ আমাদের সহিষ্ণুতা শিক্ষা দেয়: খাদ্যমন্ত্রী
সকালে ১০ টায় নওগাঁর মহাদেবপুরে প্রস্তাবিত রাইস সাইলো নির্মাণের মাটি ভরাট কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, যাদের সার প্রয়োজন নেই, তারাও ডিলারের কাছে গিয়ে দীর্ঘ লাইন ধরে একটা ঝামেলা তৈরি করে অঘটন ঘটনার চেষ্টা করছে। নওগাঁয় সারের সংকট যাতে না হয় সেজন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ নেয়া হয়েছে। কোথাও সারের কোন সংকট নেই।
সাধন চন্দ্র বলেন, সার, ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সাথে কেউ অনিয়ম-দুর্নীতি করলে কোন ছাড় দেয়া হবে না। প্রয়োজনে জেল-জরিমানা, ডিলারশিপ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরও পড়ুন: খাদ্যের অপচয় রোধে সতর্ক হওয়ার আহ্বান খাদ্যমন্ত্রীর
নওগাঁয় প্রস্তাবিত অত্যাধুনিক রাইস সাইলো সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নওগাঁয় ১৫ একর জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার একটি অত্যাধুনিক সাইলো। ইতোমধ্যেই এখানে মাটি ভড়াটের কাজ শুরু হয়েছে। সাইলোর নির্মাণ সম্পন্ন হলে নিরাপদ মজুতের পাশাপাশি এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হবে। অনেকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
সাইলোতে দুই বছর পর্যন্ত চাউল মজুত রাখলেও বিবর্ণ ও গুণগত মান নষ্ট হবে না বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: বাঙালি জাতির অসীম সাহসের প্রতীক পদ্মা সেতু: খাদ্যমন্ত্রী
এসময় রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিএম ফারুক হোসেন পাটোয়ারী, খাদ্যমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. সহিদুজ্জামান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলমগীর কবিরসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৪২৮ দিন আগে