গণভোট
জাতীয় বেইমান হবেন না, গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করব: শফিকুর রহমান
সরকারের উদ্দেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় বেইমান হবেন না। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে, অন্যথায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই সমাবেশের আয়োজন করে।
জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। পরিষ্কার কথা—আমরা জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি; লাড়াই আমরা করে যাব, গণভোট বাস্তবায়নে (সরকারকে) বাধ্য করব ইনশাআল্লাহ। এর থেকে এক চুল পরিমাণ আমরা সরব না। এই আবু সাঈদের রক্তে ভেজা রংপুরে আরেকবার এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করে গেলাম।
তিনি বলেন, যে বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ করার জন্য আমাদের সন্তানেরা লড়াই করেছিল, সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বাংলাদেশের একটা জায়গায় শুধু দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ভোট দেবেন দুটো—একটি আমার দলকে, আরেকটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’। তিনি প্রথমটা রক্ষা করেছেন, দ্বিতীয়টা রক্ষা করেন নাই।
শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকারি দল নির্বাচনের আগে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও’ আন্দোলন করেছে। কিন্তু তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে ১০ টাকারও কোনো বরাদ্দ নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, আগামীতে আপনাদের সহযোগিতা, দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থনে ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।
সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সীমান্ত। সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ করছে না, প্রতিরোধ করার জন্য বিজিবির সৈনিকদের সঙ্গে সমানতালে জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। আমরা এই সংগ্রামী বীরদের অভিনন্দন জানাই। সরকারের মুখ থেকে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসে নাই। কার ভয়ে, কাকে খুশি করার জন্য, কোন দেশের শাসক আপনারা ঠিক? বাংলাদেশের জনগণের নাড়ির পালস বুঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায় আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কী হয়, সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে সবারই সেই ছবক গ্রহণ করা উচিত। অতএব সাফ কথা—তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাইপানাই বুঝি না, তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
রংপুর বিভাগীয় এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলী আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়াও সমাবেশের শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
৫ দিন আগে
হাইকোর্টের রায় বহাল, সংবিধানে ফিরল গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশকিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের অধিকার ফিরেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
নির্ধারিত দিনে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
শুনানির পরপরই অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, চার সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেছেন। সেই রায়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বদরুদ্দুজা মজুমদার সাহেবসহ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যে আপিল করা হয়েছিল, সেগুলো ডিসমিস করে দিয়েছেন। অর্থাৎ হাইকোর্টের রায়টি বহাল থাকল।
তিনি বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, হাইকোর্ট বিভাগ পঞ্চদশ সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের যে প্রক্রিয়া করা হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে যখন এই সংশোধনীটা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়, হাইকোর্ট ডিভিশন চারটি বিষয়ের ওপর তার অবজারভেশন দিয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে ফিরে আসা।
গণভোট ফিরে আসা এবং সংবিধানের ৭-এর ক, খ এবং সুপ্রিম কোর্টের রিটের যে ক্ষমতা, সেই সম্পর্কে তো আল্টিমেটলি এই রায়ের ফলে হাইকোর্টের যে রায় সেই রায়টি বহাল থাকল। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসলো আর বাকিগুলো এখন সংসদে পরে যেটা হাইকোর্ট ছেড়ে দিয়েছিল সেটা আল্টিমেটলি সংসদে সিদ্ধান্ত হবে।
এর আগে, বুধবার (৮ জুলাই) তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষ হয়। টানা তিন দিন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করা হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে ছিলেন ড. শরীফ ভূঁইয়া। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।
তার আগে, গত ৩ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করা হয়। আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চাওয়া হয়েছে।
রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এ আপিল করেন।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনেন উচ্চ আদালত। তবে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল করা হয়নি ওই রায়ে।
আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, গণতন্ত্র হচ্ছে আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। এই গণতন্ত্র বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপক্ষে এবং প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন হয়নি। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে জন্ম নেয়নি। যার ফলশ্রুতিতে হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান।
রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে এ রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেন, অনুচ্ছেদ দুটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছে, যেটি হচ্ছে গণতন্ত্র। পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ ক, ৭ খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেছেন আদালত। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।
রায়ে আদালত বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতির বিষয়, ২৬ মার্চের ভাষণের বিষয়গুলো রয়েছে।
গণভোটের বিষয়ে রায়ে হাইকোর্ট বলেন, গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা হয়, যেটি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ ছিল। এ বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হলো।
হাইকোর্টের রায়ে ৭ ক, ৭ খ এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদও বাতিল করা হয়েছে। ৭ ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ এবং ৭ খ সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করার কথা বলা ছিল। এদিকে ৪৪ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ বিষয়ে বলা আছে। এই অনুচ্ছেদের ২ ধারা বলছে, এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোনো আদালতকে তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ওইসব বা এর যেকোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করতে পারবেন। এই অনুচ্ছেদটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে রায়ে।
গত বছরের ১৯ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
৭ দিন আগে
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ-গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ঝালকাঠিতে ১১ দলের গণমিছিল
ঝালকাঠিতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে গণমিছিল করেছে ১১ দলীয় জোট।
রবিবার (৩ মে) শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড় এলাকায় আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে এ মিছিল বের করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান, নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ও এনসিপি জেলা শাখার আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মানানসহ অন্যান্য নেতারা।
বক্তারা বলেন, চলমান জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এছাড়া বক্তারা দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের দাবি জানান। অন্যথায়, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
পরে ফায়ার সার্ভিস মোড় এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
৭৪ দিন আগে
গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টার ব্যাপারে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী
গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোরের শার্শা উপজেলায় ঐতিহাসিক উলশী খালের পুনর্খনন কাজ উদ্বোধনের পর খালের পাড়ে এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এ সতর্কবাণী দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই সনদের অর্থ ভিন্নভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা, আপনাদের সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। যারা গণভোটের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চায়, যারা জুলাই সনদের অর্থ ভিন্নভাবে তাদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য উপস্থাপন করতে চায়, এরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়।’
তারেক রহমান বলেন, ‘এই বিশৃঙ্খলা যদি সৃষ্টি করতে পারে তারা, তাহলে জনগণের যে কর্মসূচি— ফ্যামিলি কার্ডের যে কর্মসূচি, মা-বোনদের যে কর্মসূচি, কৃষকদের কৃষি কার্ডের যে কর্মসূচি, খাল খননের যে কর্মসূচি, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য মিল-কারখানা চালু করার যে কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার যে কর্মসূচি— সকল কর্মসূচি ব্যাহত হবে, এই বিশৃঙ্খলা যদি প্রশ্রয় পায়।’
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণকেই নিশ্চিত করতে হবে যেন কেউ জাতির অগ্রগতিকে নস্যাৎ করার সুযোগ না পায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ তার সরকার পর্যায়ক্রমে এবং অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ এবং সতর্ক থাকি, তবে কেউ বাংলাদেশের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারবে না।’
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করার চেষ্টার বিরুদ্ধে তারা কেমন জবাব দিতে পারে, তা সেদিন মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট মানুষ যেভাবে উপযুক্ত জবাব দিয়েছিল, ভবিষ্যতে কেউ যদি তাদের ভাগ্য নিয়ে খেলার চেষ্টা করে, তবে তারা আবারও একইভাবে জবাব দেবে।
৮০ দিন আগে
ভোট মানেন, কিন্তু গণভোট মানেন না, এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা: এমপি কামাল
জাতীয় সংসদ নির্বাচন মেনে নিয়ে গণভোট অস্বীকার করা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ কামাল হোসাইন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা দাবি করেছি, গণভোট আগে হবে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরে হবে। কিন্তু আপনারা (বিএনপি) দুই ভোট একসঙ্গে করার প্রস্তাব দিয়ে এখন সংসদ নির্বাচন মেনে নিচ্ছেন, অথচ গণভোট মানছেন না। এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।’
রবিবার (২২ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা ও পৌর জামায়াত আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই মায়ের যমজ সন্তান—এর মধ্যে এক সন্তান বৈধ, আরেক সন্তান অবৈধ হয় কীভাবে? জাতি জানতে চায়।
জুলাই সনদের প্রসঙ্গ তুলে কামাল হোসাইন বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। আপনারা যদি এ নিয়ে টালবাহানা করেন, তাহলে জনগণ ভালো করেই জানে কীভাবে দাবি আদায় করতে হয়।
জুলাই আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের হাজারো শহিদ, চোখহারা, হাতহারা, পাহারা প্রায় পাঁচ হাজার পঙ্গুত্ববরণকারী গাজী ভাই-বোন এখনও জীবিত আছেন। তারা আপনাদের ক্ষমা করবে না, ছাড় দেবে না। শহিদদের এই জমিনে আর কোনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখল, অনিয়ম ও দুর্নীতি চলবে না।
তিনি আরও বলেন, ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ৭০ শতাংশের রায় উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। আমরা চাই না জুলাই বারবার ফিরে আসুক।
উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মিলনায়তন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শুরুতে সংবর্ধিত অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং পরে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
শাহরাস্তি উপজেলা জামায়াতের আমির মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে এবং পৌর আমির মাওলানা জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা আবুল হোসাইন, নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি জামাল হোসেন, জেলা শূরা ও কর্ম পরিষদের সদস্য সহকারী অধ্যাপক মো. শাহ আলম ও ইব্রাহিম খলিল।
এছাড়া বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকী, কাউসার আলম, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির বাদশা ফয়সাল, সেক্রেটারি মাওলানা মাঈন উদ্দিন, পৌরসভার নায়েবে আমির মাস্টার সিরাজুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাওলানা আলমগীর হোসেন প্রমুখ।
১১৬ দিন আগে
শপথের প্রয়োজন নেই, ‘হ্যাঁ’ অটোমেটিক কার্যকর হবে: পানি সম্পদমন্ত্রী
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, গণভোটে জয়যুক্ত ‘হ্যাঁ’ শপথের প্রয়োজন নেই। ‘হ্যাঁ’ অটোমেটিক জাতীয় সংসদে বসা মাত্রই কার্যকর হবে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে লক্ষ্মীপুর শহিদ মিনারে ভাষা আন্দোলনে শহিদদের শ্রদ্ধা জানানো শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে। সংসদের শপথ হয়েছে, আমরা শপথ নিয়েছি। হ্যাঁ-না ভোট হয়েছে। সেখানে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। ‘হ্যাঁ’ শপথের প্রয়োজন নেই। ‘হ্যাঁ’ অটোমেটিক জাতীয় সংসদে বসা মাত্রই কার্যকর হবে।
মব সংস্কৃতির বিষয়ে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, মব কালচার থেকে সরে আসা উচিত। মব মানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হলে বাংলাদেশ গড়াতে বাধা হতে পারে। যারা বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে বাধা দেবে তারা দেশের শত্রু হিসেবে পরিণত হবে। তাই মব কালচার থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপীসহ আরও অনেকে।
১৪৫ দিন আগে
গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ। একই সঙ্গে ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত গণভোটের ফলাফল বাতিলেরও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট দায়ের করা হয়। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রিটকারী এই আইনজীবী।
এদিকে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত এই গণভোটে মোট ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। বিপক্ষে অর্থাৎ ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯১ আসনে প্রার্থী দেয় সরকার গঠন করা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তবে তাদের কোনো প্রার্থীকেই জামানত হারাতে হয়নি।
অন্যদিকে, বিরোধী দলের আসনে বসতে যাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। এর মধ্যে তিন প্রার্থী নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন। বিগত সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবার ১৯৮ আসনে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। দলটির প্রার্থীদের মধ্যে কেবলমাত্র পাঁচজন তাদের জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন, বাকি সবাই জামানত হারিয়েছেন।
এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তাদের মধ্যে তিনজন জামানত হারিয়েছেন। এ ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি, বাসদ, নাগরিক ঐক্যসহ বাকি দলগুলোর বেশিরভাগ প্রার্থীই তাদের জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
১৪৯ দিন আগে
গণভোট ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে গণভোটের ফলাফলের গেজেটও প্রকাশ করা হয়।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এই গেজেট দুটি ইস্যু করেন।
গেজেটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামের পাশাপাশি তাদের পিতা বা স্বামীর নাম, মাতার নাম এবং ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে। এখন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনে নির্বাচন আগেই স্থগিত করা হয়েছিল।
গতকাল (শুক্রবার) ইসি ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফল স্থগিত রাখে।
নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এছাড়া যে দুইটি আসনের (চট্টগ্রাম-২ ও ৪) ফলাফল স্থগিত আছে, সেখানেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপির জোটসঙ্গীদের মধ্যে বিজেপি (আন্দালিব রহমান পার্থ), গণঅধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলন ৩টি আসনে জয়ী হয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী জিতেছে ৬৮টি আসনে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের অন্য শরিকরা ৯টি আসনে জয় পেয়েছে, যার মধ্যে এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসন পেয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের পৃথক গেজেট অনুযায়ী, গণভোটে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন ভোটার সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। অপরদিকে, ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন। গণভোটে বাতিল হওয়া ব্যালটের সংখ্যাও ছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি।
সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান। তবে দ্বাদশ সংসদের স্পিকারের অনুপস্থিতি বা পদত্যাগের কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) অথবা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি এই শপথ পাঠ করাবেন।
সংবিধানের ১৪৮ (২) (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে যদি স্পিকার শপথ পাঠ করাতে না পারেন, তবে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সেই শপথ পাঠ করাবেন।
১৫২ দিন আগে
রাজশাহীর ৬টি আসনে ৪টিতে বিএনপি, দুটিতে জামায়াত বিজয়ী
রাজশাহী জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৪টিতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বাকি দুটি আসনে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। জেলার ৬টি আসনে পোস্টাল ভোটসহ বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের মোট ১৬০টি কেন্দ্রের মধ্যে সবগুলো কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৬ ভোট। বিএনপির প্রার্থী শরীফ উদ্দীন পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯০২ ভোট। ১ হাজার ৮৮৪ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মুজিবুর রহমান।
অপরদিকে, রাজশাহী-২ (সদর) আসনে মোট কেন্দ্র ১১৬টি। এর মধ্যে সবকয়টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৪৭ ভোট। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৪৬৬ ভোট।
এছাড়া, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে মোট কেন্দ্র ১৩১টি। সবয়কটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৬৮ ভোট। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫৬৫ ভোট।
অন্যদিকে, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১২২টি। এর মধ্যে ১২২টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী সরদার পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ২৪৮ ভোট। বিএনপি প্রার্থী ডি এম ডি জিয়াউর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৭৫৯ ভোট। ৮ হাজার ৪৪৯ ভোটের ব্যবধানে ডা. আব্দুল বারী সরদার বিজয়ী হয়েছেন।
এছাড়াও, রাজশাহী ৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৩২টি। সবগুলো কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম মণ্ডল পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৬১২ ভোট। এখানে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৮৭৩ ভোট।
রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১১৯টি। সবগুলো কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭২ ভোট। জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী নাজমুল হক পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯৬৫ ভোট।
১৫৩ দিন আগে
ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এবার শুরু হয়েছে গণনা।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয় ভোটগ্রহণ। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় দেশের সব ভোটকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা।
আজ সকালে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের সামনে ভিড় বাড়তে থাকে। দেশের সব জেলায় এদিন কমবেশি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমূখর পরিবেশেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অবশ্য ব্যতিক্রম যে কিছু ছিল না, তা নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোটখাট হাতাহাতি, সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণের মতো খবর পাওয়া গেছে। দেশের চার স্থানে ভোট দিতে গিয়ে চারজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায়, তবে সেগুলোর কোনোটিই সহিংসতার কারণে মৃত্যুর ঘটনা ছিল না। সবগুলো মৃত্যুই ঘটেছে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে।
কোনো কোনো ভোটকেন্দ্রের সামনে থেকে প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের টাকাসহ আটক করে জরিমানাসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন কোনো কোনো প্রার্থী।
এর আগে, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।
এ বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯টি কেন্দ্রের ভোট প্রদানের তথ্য আমরা পেয়েছি। আমরা যে খবর পেয়েছি, সে অনুযায়ী ভোট প্রদানের হার ৩২.৮৮ শতাংশ।’
কিছু স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আখতার আহমেদ বলেন, সেগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা জেনেছি। এখন পর্যন্ত কোনো ভোট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়নি, সবগুলো কেন্দ্রের ভোট চলমান আছে।’
শেরপুর-৩ আসন ছাড়া সব আসনে একযোগে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে সেখানে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।
১৫৪ দিন আগে