যুবক
লিবিয়ায় যাওয়ার পথে তিন বছর ধরে নিখোঁজ যশোরের ৫ যুবক
উন্নত জীবনের আশায় দালালের মাধ্যমে লিবিয়া যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর তিন বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন যশোরের শার্শার পাঁচ যুবক। তারা প্রত্যেকে স্থানীয় দালালদের ৯ থেকে ১২ লাখ টাকা করে দিয়েছিলেন। তবে লিবিয়ায় পৌঁছানোর আগেই তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নিখোঁজ যুবকেরা হলেন শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা গ্রামের ইয়াসিন আরাফাত, আনোয়ার হোসেন, রানা হোসেন, শাহিন আলম ও মেহেদী হাসান।
স্বজনদের অভিযোগ, লিবিয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার তিন বছর পার হলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। উল্টো জমি-জমা বিক্রি ও ধার-দেনা করে দালালদের দেওয়া টাকা শোধ করতে গিয়ে পরিবারগুলো চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমনকি নিখোঁজদের জীবন নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন স্বজনরা। পুলিশ ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অবশেষে তারা যৌথভাবে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধান্যখোলা গ্রামের সোহাগ নামের এক দালাল লিবিয়ায় আকর্ষণীয় বেতনের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৯ থেকে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এই টাকার একটি বড় অংশ সোহাগের বাবা, মা ও বোনের হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছিল।
নিখোঁজ যুবকরা লিবিয়ায় পৌঁছানোর আগেই স্বজনদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে সোহাগ কথা বলিয়ে দেওয়া, টাকা ফেরত দেওয়া ও যুবকদের দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কিছুই হয়। একপর্যায়ে তিনি সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
এদিকে নিখোঁজ শাহিন আলমের মা আমেনা বেগম ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিশের নামে সুবিধা নিয়েও কোনো সমাধান দিতে পারেননি।
অভিযোগ অস্বীকার করে সোহাগের বাবা মফিজুর রহমান জানান, তার ছেলে তিন বছর ধরে লিবিয়ায় রয়েছেন। তিনি বিদেশে লোক পাঠালেও বর্তমানে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি নিজে কোনো টাকা নেওয়ার কথাও অস্বীকার করেন এবং ছেলের কোনো অপরাধের দায় নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
মানবাধিকার কর্মী নাজমুল ইসলাম জানান, কেবল শার্শার এই পাঁচ যুবকই নন, একই সময়ে লিবিয়া যাওয়ার পথে নড়াইল, বাগেরহাট ও ফরিদপুরের আরও অন্তত ৩৫ জন যুবক নিখোঁজ রয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সক্রিয়তার মারাত্মক ইঙ্গিত দেয়। সরকারি উদ্যোগে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে তাদের উদ্ধারের আশা দেখছেন তিনি।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সত্যতা ও জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২৩ ঘণ্টা আগে
নিখোঁজের ২৫ দিন পর যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় নিখোঁজের ২৫ দিন পর এক যুবকের কঙ্কাল, প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের পরিত্যক্ত গারোর ভিটা এলাকা থেকে এসব উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাশেদুল ইসলাম (২০) ফুলপুর উপজেলার কৃষ্ণ মহেশপট্টি গ্রামের শাহজাহানের ছেলে। খবর পেয়ে শাহজাহান ঘটনাস্থলে গিয়ে কঙ্কালের সঙ্গে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পোশাক দেখে মরদেহটি তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন।
এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন জসিম উদ্দিন (২৪), রফিক (২৮) ও মোজাম্মেল হোসেন (২৭)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা রাশেদুলকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ ও রাশেদুলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে মুঠোফোনে রাশেদুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন জসিম উদ্দিন। তার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন সকালে রাশেদুলের মোবাইল ফোন থেকে তার বাবার কাছে কল করা হয়। এ সময় এক নারীর কণ্ঠে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দুই ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে কয়েক দফা ফোন ও খুদেবার্তা পাঠানো হয়। ওই দিনই ফুলপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শাহজাহান।
অন্যদিকে ঘটনার পরই এলাকা ছেড়ে চলে যান জসিম। পরে ২৫ আগস্ট ফুলপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা করে নিহতের পরিবার। এতে জসিমকে প্রধান করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়।
এ মামলার তদন্তের একপর্যায়ে গতকাল (রবিবার) দুপুরে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে জসিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই গ্রামের রফিক ও মোজাম্মেলকে তাদের নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জসিমের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাতে চন্দ্রপুর গ্রামের গারোর ভিটা এলাকার জঙ্গলে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন হাড়, মাথার খুলি এবং প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করে পুলিশ।
শাহজাহান জানান, মাস খানেক আগে রাশেদুল, রফিক ও মোজাম্মেল একসঙ্গে শসার ক্ষেতে কাজ করেছিলেন। কাজের পারিশ্রমিক থেকে রফিক ৫০০ টাকা পেলেও রাশেদুলকে ১০০ টাকা দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, বাকি টাকা দিয়ে রফিক ইয়াবা কিনে সেবন করেন। পরে রাশেদুল পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ বিরোধের জেরে তিনজন মিলে রাশেদুলের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফুলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিকরুল ইসলাম বলেন, আসামিরা একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা হাড়ের অংশগুলো ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আজ (সোমবার) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে। আর গ্রেপ্তার তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
১ দিন আগে
নওগাঁয় স্টুডিও থেকে জাল টাকা ও তৈরির সরঞ্জামসহ যুবক গ্রেপ্তার
নওগাঁয় কম্পিউটার ও প্রিন্টারের মাধ্যমে জাল টাকা তৈরির অভিযোগে তারিকুল ইসলাম মল্লিক (৩৮) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে এক হাজার টাকা মূল্যমানের ৪৭টি জাল নোট ও জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার পয়না বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার তারিকুল ইসলাম মল্লিক নওগাঁ সদর উপজেলার বলিহার ইউনিয়নের পয়না বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই বাজারে ‘মল্লিক ডিজিটাল স্টুডিও ল্যাব প্রিন্ট অ্যান্ড ফটোকপি টেলিকম ’ নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, সদর থানা এলাকার পয়না বাজারের একটি দোকানে কম্পিউটারের মাধ্যমে জাল টাকা তৈরি করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ‘মল্লিক ডিজিটাল স্টুডিও ল্যাব প্রিন্ট অ্যান্ড ফটোকপি টেলিকম’ নামের ওই দোকানে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ । এ সময় সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে তারিকুল ইসলাম মল্লিকের দেহ তল্লাশি করে এক হাজার টাকা মূল্যমানের ৪৭টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি কম্পিউটার মনিটর, দুটি সিপিইউ, একটি কালার প্রিন্টার ও একটি স্ক্যানার জব্দ করে পুলিশ।
তারিকুলের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এছাড়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, জাল নোট তৈরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং জাল নোট বাজারে ছড়ানো হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
১ দিন আগে
প্রেম নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাত, রাজধানীতে যুবক নিহত
রাজধানীর সবুজবাগে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে মো. সাইফ উদ্দিন সিফাত (২৮) নামে এক যুবক নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে সবুজবাগের আদর্শপাড়া বরইতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সিফাতের বাড়ি রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকায়। তার বাবার নাম জয়নাল আবেদীন।
সিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে আসা তার বন্ধু হাসান জানান, নাজিফা শেখ নেহা নামে এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে জয় ও আরও ২ থেকে ৩ জনের সঙ্গে সিফাতের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা সিফাতকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
হাসান আরও জানান, নেহার সঙ্গে আগে সিফাতের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে জয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান তিনি। গতকাল (রবিবার) সিফাত মোটরসাইকেলে করে নেহার সঙ্গে দেখা করতে গেলে বিষয়টি জয় দেখতে পান। এরপর তিনি আরও কয়েকজনকে নিয়ে সিফাতের ওপর হামলা চালান।
এ ব্যাপারে নাজিফা শেখ নেহা জানান, বিকেলে সিফাত আদর্শপাড়া এলাকায় তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। এ সময় স্থানীয় জয়, রাজিব, ইয়াসিনসহ ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল সিফাতকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। হামলার পর সিফাতকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নাজিফা আরও জানান, গত দুই বছর ধরে সিফাতের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের কথাবার্তা চলছিল।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
১ দিন আগে
নাটোরে শিশু ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন
নাটোরের সিংড়ায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে আবু বকর সিদ্দিক (২১) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাটোরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা জজ শারমিন আখতার এ রায় দেন।
রায়ে আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে তা আদায় করে তা ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আব্দুল কাদের মিয়া জানান, গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি সিংড়া উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে রাস্তা থেকে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে একই এলাকার বখাটে যুবক আবু বকর সিদ্দিক।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা ইমরান আলী বাদী হয়ে সিংড়া থানায় মামলা করলে তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। ঘটনার মাত্র দেড় বছরের মধ্যে নিম্ন আদালতে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করা হয় বলে জানান বিশেষ পিপি।
১ দিন আগে
ঝিনাইদহে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে যুবক নিহত: জোড়া মামলায় আসামি ২ শতাধিক
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে হাবিব নামে এক ব্যক্তি নিহত ও সুমন নামে আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় ২ শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে এ ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা করা হয়। কালীগঞ্জ থানার বারোবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে মামলা দুটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ।
পুলিশ সূত্র জানায়, গরু চুরির অভিযোগে প্রথম মামলাটি করেছেন গরু চুরিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাদুরগাছা গ্রামের বিধবা নিলুফা ইয়াসমিন। এতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সংঘবদ্ধ পিটুনিতে গুরুতর আহত সুমনের ভাই ও যশোর শহরের আরাপপুরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে দুই শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলাটি করেছেন।
উল্লেখ্য, গেল শুক্রবার ভোর রাতে বাদুরগাছা গ্রামের বিধবা নিলুফা বেগমের বাড়িতে গরু চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হন হাবিব ও সুমন। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের একটি বাঁশের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করে।
সংঘবদ্ধ পিটুনির একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই হাবিবের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে মুমূর্ষু অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলা ও তদন্তের বিষয়ে এসআই আবুল কালাম আজাদ জোড়া মামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, ‘দুই শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করবে।’
১৬ দিন আগে
নরসিংদীতে ট্রেনের ছাদ থেকে নামতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু
নরসিংদী রেলস্টেশনে তিতাস কমিউটার ট্রেনের ছাদ থেকে নামতে গিয়ে দুই বগির মাঝে পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম মো. আমীর হোসেন (২৮)। তিনি নরসিংদী সদর উপজেলার নগর বানিয়াদী গ্রামের মৃত সামসুল হকের ছেলে।
রেলওয়ে পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই বন্ধুর সঙ্গে আমীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কেল্লা শাহের মাজারে গিয়েছিলেন। তারা রাতভর সেখানে থেকে শুক্রবার সকালে তিতাস কমিউটারের ছাদে উঠে নরসিংদী ফিরছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি নরসিংদী রেলস্টেশনে পৌছায়।
এ সময় ভিড়ের মধ্যেই ছাদে উঠা লোকজন স্টেশনে নামছিল। ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে কোথাও টান লেগে আমীর নিয়ন্ত্রণ হারান এবং ট্রেনের দুই বগির মাঝখানে পড়ে যান। এ সময় ট্রেনটি তাকে অন্তত ৩০ গজ দূরে টেনে নিয়ে যায়।
রেলস্টেশনে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতাল নেওয়া হয়। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, ট্রেনে কাটা পড়া ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার মরদেহ রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আমীরের ঠিক আগে ট্রেনের ছাদ থেকে নেমেছেন তার বন্ধু আক্রাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘একসঙ্গেই আমরা তিন বন্ধু কেল্লা শাহর মাজারে গিয়েছিলাম। ভোরে ট্রেনে উঠার সময় ভিড়ের কারণে ভেতরে যেতে না পেয়ে ট্রেনের ছাদে উঠি। নরসিংদী আসার পর দুজন ছাদ থেকে নামতে পারলেও আমীর পারেনি। চলতে শুরু করা ট্রেনের দুই বগির মাঝে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।’
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, আমীরের পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
২৫ দিন আগে
গাবতলীতে মাছবাহী গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণে যুবক নিহত
রাজধানীর গাবতলীতে মাছবাহী ফ্রিজিং গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ইমরান হোসেন (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গাড়িচালক মো. ফারুক হোসেন (৪০) আহত হয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে গাবতলীর দীপনগর মাছের আড়তের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমরানের বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়। তার বাবার নাম সারোয়ার মোল্লা। নিহত ও আহত দুজনই দীপনগরের একটি রেফ্রিজারেটরের দোকানে কাজ করতেন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১১টার দিকে ইমরানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ফারুক হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত ইমরানের মামাতো ভাই সবুজ জানান, দীপনগর এলাকায় একটি রেফ্রিজারেটরের দোকানের সামনে মাছবাহী ফ্রিজিং গাড়ি মেরামত ও গ্যাস ভরার কাজ চলছিল। এ সময় হঠাৎ গাড়িটির সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এতে ইমরান ও ফারুক হোসেন আহত হন। পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক ইমরানকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, ইমরানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত ফারুক জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
৩০ দিন আগে
খুলনায় অস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার
খুলনা নগরীতে শিবলী হোসেন রুবেল (৪৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে একটি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা।
বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহদুজ্জামান মিয়া।
গ্রেপ্তার রুবেল রূপসা উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ৪ আগস্ট ভোর পৌনে ৪টার দিকে নগরীর দোলখোলা মোতলেবের মোড়ে আব্দুল হক হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। ওই ঘটনার সূত্র ধরে নগর গোয়েন্দা পুলিশ সিসি টিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযু্ক্তির সহায়তায় রুবেলকে নিরালা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানের সময় তার শয়নকক্ষ থেকে শপিং ব্যাগের মধ্যে প্যাচানো অবস্থায় একটি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার রুবেল খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ ও আশিক গ্রুপের সদস্য। তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘খুলনায় কোনো সন্ত্রাসীর স্থান হবে না। গ্রেপ্তার রুবেল খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ ও অপর সন্ত্রাসী আশিক গ্রুপের সদস্য। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানায় তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
৩২ দিন আগে
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত
খুলনা নগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে ইসমাইল (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে সোয়া ১২টার দিকে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া বড় খালপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইসমাইল ওই এলাকার শাজাহানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল রাতে ইসমাইল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ইসমাইলের মাথায় গুলি করেছে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়েও আঘাত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহত ইসমাইলের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
৩৯ দিন আগে