বিমান
মঙ্গলবারের ঢাকা-দাম্মাম ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান
নিরাপত্তাজনিত কারণে মঙ্গলবারের ঢাকা-দাম্মাম ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
সোমবার (১২ অক্টোবর) এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা থেকে সৌদি আরবের দাম্মামগামী মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা ১০ মিনিটের বিজি-৩৪৯ ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয়েছে।
ফ্লাইটটির সংশোধিত সময়সূচি বুধবার দুপুরের মধ্যে জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্লাইট স্থগিতের কারণে যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান। একই সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।
৩ দিন আগে
বোয়িং চুক্তিতে কোনো গোপন এজেন্ডা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বোয়িংয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তির পেছনে কোনো গোপন এজেন্ডা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বাংলাদেশ বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখবে বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমান চলাচলের কেন্দ্র হতে হলে আমাদের বহর সম্প্রসারণ করতে হবে। এর পেছনে কিছুই নেই...কোনো গোপন এজেন্ডাও নেই। বাংলাদেশ প্রয়োজনের ভিত্তিতেই এটি করেছে। আমাদের বহর সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
এ সময় আন্তঃসরকারি সংস্থা অনুবিভাগের সচিব এম ফরহাদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পররাষ্ট্রসচিব (জনকূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকার বিষয়) এ কে এম শহীদুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
হুমায়ুন কবির দেশের বিমান চলাচল খাতের স্বার্থে বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজের সমন্বয়ে একটি বহর রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া সদ্য সমাপ্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণকে ‘সফল ও অর্থবহ’ হিসেবে বর্ণনা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। নিউইয়র্কে চার দিনের সফরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা ও কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই হয়।
চুক্তি সইয়ের কিছুক্ষণ আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, বিশ্বের সেরা বাণিজ্যিক উড়োজাহাজগুলোর আরও ১১টি কেনার চুক্তির জন্য বোয়িং ও বিমানকে অভিনন্দন। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য এটি আরেকটি লাভজনক চুক্তি!
এপ্রিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে সরকার। দুই পক্ষই তখন ঘোষণা দেয়, ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিটি বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ ক্রয়াদেশ।
১৭ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে যানবাহনে আঘাত করে আগুন ধরে যায়। এ দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মায়ামিতে পৌঁছানোর পর স্থানীয় সময় রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রানওয়ে ছেড়ে যায়। পরে বিমানবন্দরসংলগ্ন গুদাম ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ব্যবহার করেন এমন একটি সড়কের ওপর দিয়ে গিয়ে কয়েকটি যানবাহনে আঘাত করে।
মায়ামি-ডেড কাউন্টির কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে জানান, এ দুর্ঘঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তবে পাঁচজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিমানের পাইলটরা বেঁচে আছেন কি না কিংবা নিহত সবাই বিমানটির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের ভেতরে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মায়ামি-ডেড রেসকিউ ফায়ার বিভাগের প্রধান রে জাদাল্লাহ বলেন, দুর্ঘটনায় পাইলট ও কো-পাইলট ককপিটে এবং কয়েকজন যাত্রী বিমানের যাত্রীবাহী অংশের ভেতরে আটকা পড়েন। একটি যাত্রীবাহী অংশের নিচে আটকে পড়া একজনকেও উদ্ধারকারীদের বের করে আনতে হয়েছে।
ঘন কালো ধোঁয়ায় আকাশ ছেয়ে যাওয়ার পর ব্যস্ত এই বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল বেশ কিছু সময় বন্ধ ছিল। দুর্ঘটনার পরপরই প্রায় ২০০ জরুরি উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। বিমানের ইঞ্জিনের জটিল অংশে আগুন ধরে যাওয়ায় প্রচণ্ড ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছে দমকল বিভাগ।
দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এতে আবহাওয়ার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় বজ্রঝড় এবং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৮ কিলোমিটার বেগে বায়ু প্রবাহ ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্তে মায়ামিতে একটি দল পাঠাচ্ছে সংস্থাটি। এই তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে অ্যামাজন।
৩৮ দিন আগে
ফ্লাইটে নারী যাত্রীর মৃত্যু, মাসকাটে বাংলাদেশ বিমানের জরুরি অবতরণ
জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে অসুস্থ হয়ে ছানোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক নারী যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ কারণে ফ্লাইটটি ওমানের মাসকাট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম খলিল ইউএনবিকে জানান, ফ্লাইটে থাকা ছানোয়ারা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে মাসকাটে অবতরণ করে। পরে ওই যাত্রীর মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, মাসকাট বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি অবতরণের পর মরদেহ নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ওমানের স্থানীয় আইন ও বিধি অনুযায়ী, উড়োজাহাজ থেকে মরদেহ নামাতে রয়্যাল ওমান পুলিশের অনুমতি প্রয়োজন। এ কারণে কিছুটা আইনি জটিলতা তৈরি হয়।
বিমান সূত্র জানায়, মরদেহ নামানোর অনুমতির জন্য রয়্যাল ওমান পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অনুমতি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহটি উড়োজাহাজ থেকে নামানো হয়। এরপর ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ফ্লাইটটি দীর্ঘ সময় মাসকাটে আটকে থাকায় অন্যান্য যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়েন।
বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি বুধবার বেলা ১১টায় সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
৫০ দিন আগে
২১ নতুন উড়োজাহাজ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন গ্রুপ হওয়ার পথে ইউএস-বাংলা
বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের লিজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহরে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন বহরে থাকবে ১৫টি অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ, যা ২০২৭ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে যুক্ত হবে।
রাজধানীর শেরাটন ঢাকায় বুধবার (২৯ জুলাই) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি বলেন, ‘একটি অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইন হিসেবে যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা আজ বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা ও মানসম্মত সেবার প্রতি তাদের অঙ্গীকারই এ সাফল্যের ভিত্তি।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। ক্রমবর্ধমান এই চাহিদা পূরণে ইউএস-বাংলার ২১টি নতুন বোয়িং বিমান যুক্ত করার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও পর্যায়ক্রমে ১৪টি নতুন বোয়িং বিমান বহরে যুক্ত করছে। এতে দেশের এভিয়েশন খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশি-বিদেশি যাত্রীদের ভ্রমণসেবা উন্নত হবে।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘বোয়িং ৭৩৭ বিমান লিজ নেওয়ার এই চুক্তি শুধু একটি এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণ নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, পর্যটন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি উচ্চমানের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগিহ বলেন, ‘ইউএস-বাংলা আধুনিক ও জ্বালানিসাশ্রয়ী বোয়িং বিমান যুক্ত করে প্রবৃদ্ধির নতুন ধাপে প্রবেশ করছে। এটি বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের আস্থা এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।’
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইউএস-বাংলা গ্রুপ ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথের বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ যাত্রী এখনও বিদেশি এয়ারলাইন্স বহন করছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুটে দেশীয় এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে রাখা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি সফল এয়ারলাইন্স পরিচালনা করা নয়; বরং ইউএস-বাংলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক এভিয়েশন গ্রুপে পরিণত করা। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, দক্ষ জনবল তৈরি, কার্গো, এমআরও, ফ্লাইট ক্যাটারিং এবং এভিয়েশন প্রশিক্ষণসহ একটি সমন্বিত এভিয়েশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে।’
তিনি জানান, নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান রুটে ফ্লাইট বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ব্যাঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, কলম্বো, কাঠমান্ডু, জহুর বাহরু, পেনাং, কুনমিং, শেনজেন, বেইজিং, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম ও সালালাসহ একাধিক নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ স্থায়ীভাবে মোতায়েন করে এসব অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য নতুন বিমানবন্দর, প্রতিযোগিতামূলক নীতিমালা, দক্ষ জনবল, আধুনিক এমআরও সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের এভিয়েশন প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইউএস-বাংলা নিজস্ব অর্থায়নে পাইলট ও এয়ারক্রাফট প্রকৌশলী তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক মানের একটি এভিয়েশন প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং দেশে অত্যাধুনিক ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে।
ইউএস-বাংলার মতে, এ বহর সম্প্রসারণ শুধু প্রতিষ্ঠানটির প্রবৃদ্ধিই নয়, দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন, পর্যটন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াসহ দূরপাল্লার গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্যে নতুন প্রজন্মের ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনাও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
৭৮ দিন আগে
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও প্রাধান্যভিত্তিক সেবাসহ বিশেষ সুবিধা: বিমানমন্ত্রী
প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিট, বলাকা লাউঞ্জ ব্যবহার, প্রায়োরিটি চেক-ইন ও বোর্ডিংসহ বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘প্রবাসী কার্ড বিতরণে বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের করণীয়’ শীর্ষক অবহিতকরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উপস্থিত ছিলেন।
আফরোজা খানম বলেন, ‘প্রবাসী ভাইদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিট এবং বলাকা লাউঞ্জ ব্যবহারে বিশেষ ডিসকাউন্ট প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের সুবিধার্থে শাটল বাস সার্ভিস চালু করেছি। প্রবাসীদের জন্য হয়রানিমুক্ত বিমানসেবা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের হোটেল-মোটেলেও প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের জন্য প্রায়োরিটি চেক-ইন ও বোর্ডিং সুবিধার ব্যবস্থাও করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমেই এসব সুবিধা পাওয়া যাবে।
সভার শুরুতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত প্রবাসী কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র তুলে ধরেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও এর অধীন সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৮৬ দিন আগে
ডিসেম্বরে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল চালুর কথা ভাবছে সরকার: বিমান প্রতিমন্ত্রী
চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর অথবা নতুন বছরের শুরুতে সরকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, যেকোনো মূল্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী বাজেট ঘোষণার পর কক্সবাজার বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনা এবং কিছু বিমান লিজ নেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। এছাড়া দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে লাভজনক করতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও করছে সরকার।
১৭৫ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে ৬ রুটে বিমান চলাচল সাময়িক বন্ধ
মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটগুলোর মধ্যে আবুধাবি, শারজাহ, দুবাই, দোহা, কুয়েত ও দাম্মাম রুটের সকল ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত রুটগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত থাকবে।
বুধবার (৪ মার্চ) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
উল্লিখিত ৬টি রুট ব্যতীত বিমানের মধ্যপ্রাচ্যগামী অন্যান্য রুটের (জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, মাস্কাট) ফ্লাইটগুলো যথারীতি পরিচালিত হচ্ছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়া এই রুটগুলোর যাত্রীরা, যারা স্থগিত থাকাকালীন সময়ে যাত্রার জন্য টিকিট সংগ্রহ করেছেন, তারা কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই টিকিট রিফান্ড করতে পারবেন অথবা বিনামূল্যে যাত্রার তারিখ পরিবর্তন করতে পারবেন।
যাত্রীরা দেশে ও বিদেশে বিমানের যেকোনো সেলস সেন্টার অথবা ক্রয়কৃত টিকিট প্রদানকারী ট্রাভেল এজেন্সি থেকে উল্লিখিত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। তাছাড়া, বিমানের ফ্লাইটগুলো সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য জানতে যাত্রীরা বিমানের কলসেন্টার ১৩৬৩৬ (অভ্যন্তরীণ) বা +৮৮০৯৬১০৯ ১৩৬৩৬ (আন্তর্জাতিক) নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।
যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় যেকোনো হালনাগাদ তথ্য যাত্রীদের যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
২২৫ দিন আগে
ম্যানচেস্টার ফ্লাইট স্থগিতের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিল বিমান কর্তৃপক্ষ
আগামী ১ মার্চ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ঢাকা-ম্যানচেস্টার–ঢাকা রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এক সংবাদ বার্তায় এ প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যাখ্যায় বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িকভাবে স্থগিত করা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য ও আলোচনা পরিলক্ষিত হয়েছে, যা বিমান কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে, ম্যানচেস্টার রুট সংক্রান্ত বিমানের অবস্থান ও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্মানিত যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করার লক্ষ্যে নিচে বিমানের বক্তব্য তুলে ধরা হলো।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত মূলত বহর ও অপারেশনাল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ম্যানচেস্টার রুটটি বিমানের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইউরোপ, হজ ও মধ্যপ্রাচ্য রুটে একই শ্রেণির সীমিতসংখ্যক ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ (বি৭৮৭ ও বি৭৭৭) ব্যবহৃত হয়, ফলে ম্যানচেস্টারের মতো দীর্ঘপথের রুটে একটি উড়োজাহাজ একাধিক দিন ব্যস্ত থাকায় বহর ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হয়। হজ মৌসুমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক যাত্রী পরিবহনের জন্য অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করতে হয়, ফলে অন্যান্য রুটের ফ্রিকোয়েন্সি সমন্বয় করা অপারেশনালভাবে প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে প্রবাসী শ্রমিক ও ওমরা যাত্রীদের চাহিদা অত্যন্ত বেশি থাকায় সীমিত বহরকে অধিক চাহিদাসম্পন্ন ও কার্যকর রুটে ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এর সঙ্গে বিমানের নিয়মিত সি-চেক, ইঞ্জিন ওভারহল এবং কাঠামোগত পরিদর্শনের সময় এক বা একাধিক বিমান সপ্তাহ বা মাসের জন্য অপারেশনের বাইরে চলে যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ এর কারণে উড়োজাহাজের সংকট দেখা দেয়। তাছাড়া সারা বিশ্বে ক্রুয়ের সংকট বিদ্যমান যা বিমানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, তাই দীর্ঘপথের ফ্লাইট পরিচালনার পরিবর্তে তুলনামূলকভাবে স্বল্পপথের ফ্লাইট পরিচালনা করলে ক্রু ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে, যাত্রীসেবার ধারাবাহিকতা ও অপারেশনাল স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি সীমিত বহরের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিমান কর্তৃপক্ষ ঢাকা-সিলেট–ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
তবে সম্মানিত যাত্রীদের সম্ভাব্য অসুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে লন্ডন রুটে ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি করে সপ্তাহে মোট ৫টি ফ্লাইট পরিচালনার করছে। এর মধ্যে ৪টি ফ্লাইট সিলেট হয়ে লন্ডন এবং ১টি ফ্লাইট সরাসরি ঢাকা থেকে লন্ডন পরিচালিত হচ্ছে।
তাছাড়া, যাত্রীদের সুবিধার জন্য ইতোমধ্যে ম্যানচেস্টার ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিতের সময় পূর্বঘোষিত ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে পরিবর্তন করে আগামী ০১ মার্চ ২০২৬ তারিখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যানচেস্টার রুটের সম্মানিত যাত্রীদের জন্য কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই টিকিট রিফান্ড করে ফ্লাইট পরিবর্তনের সুযোগ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে, এই রুটের যাত্রীরা যাত্রাপথ পরিবর্তন করে লন্ডন হয়ে গমন, কিংবা আগের যেকোনো সুবিধাজনক তারিখে ফ্লাইট পরিবর্তন করার সুযোগ পাবেন- এসব ক্ষেত্রেও কোনো অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হবে না।
ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত থাকার কারণে যে সকল যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষ অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের নিকট আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সকলের সহযোগিতা ও সহানুভূতি একান্তভাবে কামনা করেছে।
বিমানে ইতোমধ্যে উড়োজাহাজ ক্রয় ও ক্রু নিয়োগের কাজ চলমান রয়েছে, যা সম্পন্ন হওয়া সাপেক্ষে ভবিষ্যতে ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বিবেচনা করা হবে এবং তা যথাসময়ে সকলকে জানানো করা হবে।
২৬৬ দিন আগে
উড়োজাহাজ কেনার আগে ব্যবস্থাপনায় সংস্কার, দক্ষ জনবল গড়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটি ও শিডিউল বিপর্যয়ের ঘটনায় যাত্রীসেবা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন উড়োজাহাজ কেনা বা ইজারা নেওয়ার আগে বিমানের ব্যবস্থাপনা সংস্কার, দক্ষ পাইলট-ইঞ্জিনিয়ার ও কেবিন ক্রু তৈরি করা জরুরি। তারা মনে করেন, অদক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিমান চালালে আরও সংকটে পড়বে প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যাডহক বেসিস কিংবা আমলাতন্ত্রের অদক্ষ লোক দিয়ে বিমানের কার্যক্রম পরিচালনা করলে হবে না। স্থায়ী, দক্ষ ও কমার্শিয়াল লোকজন দিয়ে তা করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ারক্রাফট কেনার ক্ষেত্রে ছোট এয়ারক্রাফট বা রিজনাল এয়ারক্রাফট ক্রয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ রিজনাল এয়ারক্রাফটে মেইনটেন্স খরচ কম।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা ঘটছে। কোনো উড়োজাহাজ মেরামতের পর উড্ডয়ন করছে, কোনোটা গ্রাউন্ডেড করা হচ্ছে। নিয়মিত শিডিউল বিপর্যয়ের পাশাপাশি বাতিল হচ্ছে ফ্লাইট। এর খেসারত দিতে হচ্ছে যাত্রী ও বিমান কর্তৃপক্ষকে।
গত এক মাসে দেশি-বিদেশি রুটে অন্তত ৯টি উড়োজাহাজে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। যদিও বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে, তবে এসব ঘটনায় যাত্রীসেবা ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিমান সুত্রে জানা যায়, যাত্রী ভোগান্তি কমাতে দুটি উড়োজাহাজ লিজ (ইজারা) নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর পাশাপাশি নতুন উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: লাগাতার কারিগরি ত্রুটি নিয়ন্ত্রণে বিমানের একাধিক পদক্ষেপ
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বাড়তি শুল্ক প্রত্যাহারে কূটনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বিমান ক্রয়ের বিষয়টি সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র থেকে জানা গেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এমন সিদ্ধান্ত জানালেও বিমান বাংলাদেশ এখনো কোনো চুক্তি করেনি বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য ও এভিয়েশন বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম ইউএনবিকে বলেন, ‘নতুন উড়োজাহাজ ক্রয় ও লিজ নেওয়ার আগে ম্যানেজমেন্ট ঠিক করতে হবে। বিমানের ব্যব্যবস্থাপনা আরও গতিশীল করতে হবে। পাশাপাশি অভিজ্ঞ পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার ও কেবিন ক্রু তৈরি করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের এয়ারক্রাফট সংকট আছে। অনেক এয়ারক্রাফট লাগবে, এটা ঠিক। তবে বিমানে পরিচালনা-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতাও লাগবে। আগে প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে হবে, তারপর এয়ারক্রাফট কিনতে হবে।’
এই এভিয়েশন বিশ্লেষক বলেন, ‘আমাদের দক্ষ পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার ও কেবিন ক্রু তৈরি করতে হবে। দেশের বাইরে থেকে পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার ও কেবিন ক্রু আনতে গেলে অনেক টাকার প্রয়োজন। বিদেশ থেকে নিয়োগ দিলে তাদের বেতন দিতে হবে প্রায় ১০ হাজার ডলার। তাই দেশেই দক্ষ জনবল তৈরী করতে হবে আগে।’
তিনি বলেন, ‘অ্যাডহক বেসিস বা ব্যুরোক্রেসির অদক্ষ ম্যানেজমেন্ট দিয়ে বিমান চালালে হবে না। স্থায়ী দক্ষ ও কমার্শিয়াল লোকজন দিয়ে বিমান চালাতে হবে।’
আরও পড়ুন: ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিমানে রেকর্ড ৯৩৭ কোটি টাকা মুনাফা
‘আরেকটি বিষয় হচ্ছে, এয়ার ক্রাফট ক্রয় করার ক্ষেত্রে ছোট এয়ারক্রাফট বা রিজনাল এয়ারক্রাফট ক্রয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ আমাদের লং রুট কম, শর্ট রুট বেশি। তাছাড়া ছোট বা রিজনাল এয়ারক্রাফটে মেইনটেন্স খরচও কম, বড় এয়ারক্রাফটে যা অনেক বেশি।’
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের জন্য কী ধরনের বিমান দরকার, সেটি আগে স্টাডি করে তারপর বিমান কিনতে যাওয়া উচিৎ। মনে রাখতে হবে, আমাদের লং রুট মাত্র ৪/৫টি দেশের সঙ্গে। শর্ট রুটই বেশি আমাদের। ১২টি ছোট এয়ারক্রাফট কিনলে ৮টি বড় এয়ারক্রাফট কেনা যেতে পারে। ছোটর মধ্যে ৭৩৭, আর বড় কিনলে ৭৭৭/৭৮৭ এয়াক্রাফট।’
একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বহরের বেশিরভাগ উড়োজাহাজ অনেক পুরনো হওয়ায় সমস্যা নিয়মিত দেখা দিচ্ছে। আরও তদারকি বাড়াতে হবে। তবে এসব ত্রুটি প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
‘যেহেতু উড়োজাহাজগুলো পুরনো, তাই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা করতে হবে। ইঞ্জিনিয়ার ও পাইলট নিয়োগে স্বজনপ্রীতি করা যারে না। যোগ্য লোক নিয়োগ দিতে হবে।’
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে ১৪টি যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং এবং ৫টি কানাডার ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ মডেলের। বোয়িংয়ের উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, ৪টি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ও দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার।
৪১৯ দিন আগে