খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
ইইউর সব উদ্বেগ ও প্রত্যাশার বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব উদ্বেগ ও প্রত্যাশার বিষয় সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং একে একে সেগুলোর সমাধানে কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতার বার্তা পৌঁছে দিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং বিদ্যমান নন-ট্যারিফ (অশুল্ক) বাধাগুলো অপসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়াও এলডিসি গ্রাজুয়েশন পেছানো ও বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এফটিএ চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উত্থাপিত বিভিন্ন উদ্বেগ দূর করতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। এসব বিষয়ে ইতোমধ্যে কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে যাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কমে এবং অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা আরও শক্তিশালী হয়।
তিনি বলেন, ইইউর সব উদ্বেগ ও প্রত্যাশার বিষয় সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং একে একে সেগুলোর সমাধানে কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশ তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সম্পূর্ণ সক্ষম— এ বার্তা পৌঁছে দিতেই সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ পুরোপুরি তৈরি হবে, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর হবে, জ্বালানি সংকটের সমাধান হবে এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প-কারখানাগুলো দক্ষ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। এসব সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী ।
এ সময় ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে অনুসন্ধানমূলক আলোচনা শুরুর জন্য ইইউ প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশকে একটি প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও অশুল্ক বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা (এনটিবি) দূর করা, ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও উন্নত করা এবং এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যিক সুবিধা মসৃণভাবে অব্যাহত রাখতে দ্রুত ও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, সময়মতো প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ-ইইউ এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হবে।
বৈঠকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
কৃষি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় এআইভিত্তিক বাজার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
কৃষি ও বাজার ব্যবস্থাপনাকে আরও তথ্যনির্ভর ও কার্যকর করতে সরকার এআইভিত্তিক বাজার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়া, আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানির প্রয়োজনীয়তা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শাকসবজি রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে সিলেটে একটি আধুনিক প্যাকেজিং সেন্টার স্থাপন, কৃষকদের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উৎপাদন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং পণ্য অনুসরণ ব্যবস্থা (ট্রেসেবিলিটি) নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সিলেটে বিপুল পরিমাণ শাকসবজি উৎপাদিত হলেও প্যাকেজিং ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে রপ্তানির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এসব সমস্যা দূর করা গেলে সিলেট দেশের প্রধান শাকসবজি রপ্তানি অঞ্চলে পরিণত হবে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিজ্ঞানসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
পণ্যের মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বাজারব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। তবে সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার একটি কার্যকর মূল্য নির্ধারণ কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।
এ বছর রপ্তানি বাড়বে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ ও অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানিতে প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলেও জানান তিনি।
বাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি এআইভিত্তিক বাজার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, এআইভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরও প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে। এর ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকার আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, বাণিজ্যমন্ত্রী তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে ছাগলের খাদ্য বিতরণ, সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সদর কৃষি অফিস আয়োজিত পার্টনার কংগ্রেস কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
টেকসই উত্তরণের লক্ষ্যেই এলডিসি প্রস্তুতিকাল বাড়াতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়াতে চাইলেও এর উদ্দেশ্য উত্তরণ বিলম্বিত করা নয়; বরং একটি টেকসই, স্থিতিশীল ও সুশৃঙ্খল উত্তরণ নিশ্চিত করা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশস প্রিপেয়ার্ডনেস ফর এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অ্যান্ড দ্য র্যাশনাল ফর এক্সটেনশন অব দ্য প্রিপারেটরি পিরিয়ড’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সেমিনারটির আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, ‘উত্তরণের এই অতিরিক্ত সময় আমরা কোনো বিলম্বের জন্য চাই না; বরং একটি টেকসই, স্থিতিশীল এবং কার্যকর অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য চাই।’
তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বর্তমান সরকার জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (ইউএনসিডিপি) কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর আবেদন জানায়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রস্তুতিমূলক সময়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতা, ভূরাজনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নসহ একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এসব কারণে সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তাই সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা।
তিনি জানান, জাতিসংঘের ওএইচআরএলএলএস পরিচালিত গ্র্যাজুয়েশন প্রস্তুতি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলডিসি উত্তরণের জন্য যথেষ্ট অনুকূল নয়। সে কারণেই অতিরিক্ত প্রস্তুতির সময় প্রয়োজন।
সরকার ইতোমধ্যে ২৫টি অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার নিয়ে একটি রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্কার, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ (ডিরেগুলেশন), প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন।
মন্ত্রী বলেন, ব্যবসা শুরু করতে বর্তমানে যে সময় লাগে, তা এক বছর থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে, যাতে কোনো উদ্যোক্তা ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারেন।
এছাড়া ব্যবসা নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান জটিলতা ও কাজের পুনরাবৃত্তি দূর করে ব্যবসার সময় ও ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
৮ দিন আগে
ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশের মতো দেশ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো উদাহরণ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। তিনি বলেন, নানা সংকট ও দুর্যোগের মধ্যেও এ দেশের মানুষ সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন অটুট রেখেছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে সিলেটে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও সিলেট মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘এই দেশ আবহমানকাল ধরেই সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির দেশ। এটি কোনো মুখের কথা নয়, বরং শাশ্বত সত্য। অর্থনৈতিক সামর্থ্য কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার দিক থেকে আমরা হয়তো অনেক দেশের চেয়ে পিছিয়ে আছি, কিন্তু ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো দেশ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই।’
তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঔদার্য ও একসঙ্গে বসবাসের যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা বিশ্ববাসীর জন্য অনুকরণীয়। নানা সংকট ও দুর্যোগের মধ্যেও এ দেশের মানুষ সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন অটুট রেখেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েও নতুন করে ঘুরে দাঁড়ায়। এ দেশের মানুষের এই অদম্য মানসিক শক্তি ও বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
তিনি বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ সময় সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে যারা অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান।
মন্ত্রী বলেন, মন্দির, মসজিদ, গির্জা কিংবা প্যাগোডা— যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন, উন্নয়নের জন্য যা প্রয়োজন সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করবে। সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনগুলো সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে, বাকি কাজ সরকার সম্পন্ন করবে।
আগামী দিনের নেতৃত্বের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে আসন্ন ধর্মীয় উৎসবগুলো শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১৪ দিন আগে
নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করবে কুনমিং এক্সপো: বাণিজ্যমন্ত্রী
চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো ২০২৬-এ থিম কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের ডিয়ানচি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘১০ম চায়না–সাউথ এশিয়া এক্সপো এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রপ্তানি মেলা–২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, থিম কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ শুধু সম্মানের বিষয় নয়, বরং এটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই আয়োজন দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত চলমান এই আন্তর্জাতিক মেলায় বিশ্বের ৬৮টি দেশের প্রায় ২ হাজার ৩০০ প্রদর্শক অংশগ্রহণ করছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ব্যবস্থাপনায় এবং কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহযোগিতায় এবারের মেলায় বাংলাদেশের রেকর্ডসংখ্যক ১০১টি প্রতিষ্ঠানের ১৭৫ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতসমূহের পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইলস, ওষুধশিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, প্লাস্টিক পণ্য এবং হস্তশিল্প।
এর আগে, সকাল ৯টায় থিম কান্ট্রি হিসেবে স্থাপিত বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং ইউনান প্রদেশের গভর্নর ওয়াং ইউবো। পরে মন্ত্রী প্যাভিলিয়নের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ইউনান প্রদেশের গভর্নর ওয়াং ইউবোর সভাপতিত্বে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ভাইস চেয়ারম্যান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার, লাওসের উপ-প্রধানমন্ত্রী, শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যমন্ত্রী, নেপালের ডেপুটি স্পিকার, সার্ক মহাসচিব এবং সার্ক চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আখতার হোসেন এমপি, মো. খালেদ হোসেন মাহবুব এমপি, সুলতানা জেসমিন এমপি, চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ, কুনমিংস্থ বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ইপিবি এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মেলার প্রথম দিনে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার ইয়ান ডং বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে, এক্সপোর সাইডলাইন ইভেন্ট ‘বিগ মার্কেট ফর অল: এক্সপোর্ট টু চায়না’-এ ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ চীনে বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
আগামীকাল (১২ জুন) এক্সপো প্রাঙ্গণে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন হবে, যেখানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং রপ্তানি সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মহলের সামনে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা হবে।
২৯ দিন আগে
কৃষিপণ্যের অপচয় রোধে দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্ভাবনের বিকল্প নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, কৃষিপণ্যের অপচয় রোধে দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ‘হোম সলিউশন’ উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। সরকার লিচু সংরক্ষণে আধুনিক ও স্বল্প খরচের কার্যকর সমাধান বের করতে গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৫ জুন) পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মিরকামারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ‘লিচু উৎসব ও কৃষি বাণিজ্য মেলা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষকরা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা রাখেন। কৃষির সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। ছোট শিশুদের মধ্যেও কৃষির প্রতি যে ভালোবাসা দেখেছি, তা সত্যিই অনন্য।’
তিনি বলেন, আগে পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব হতো না। কিন্তু স্বল্প খরচে ব্লোয়ার ও এক্সজস্ট ফ্যান ব্যবহার করে এখন কয়েক মাস সংরক্ষণ করা যাচ্ছে। একইভাবে লিচু ও আলুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের জন্যও দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর কম খরচের সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
লিচুর পচন ও ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে কৃষি মন্ত্রণালয়কে গবেষণার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গরম আবহাওয়া কিংবা কীটনাশকের কোনো ত্রুটির কারণে সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। একটি লিচুও যেন নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে কার্যকর সমাধান বের করতে হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বছরে প্রায় চার কোটি টন চাল উৎপাদন করছে এবং পেঁয়াজ উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা আরও ১০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হলে অনেক কৃষিপণ্য বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ।
এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী মেলার উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। মেলায় স্থানীয় কৃষিপণ্য, লিচু, কৃষি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রদর্শিত হয়।
৩৫ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি বাড়াতে খাতভিত্তিক পরিকল্পনা করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে খাতভিত্তিক পরিকল্পনা করতে হবে।
রবিবার (২৪ মে) সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার দপ্তরে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যে নামটি প্রতিনিধিত্ব করা হয়, সেটি হলো বাংলাদেশ। সঙ্গত কারণে দেশের ভাবমূর্তি, রপ্তানি সক্ষমতা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি এখনও তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। তবে সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটপণ্য, খাদ্যপণ্য এবং সৌদি ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি পোশাক রপ্তানির বড় সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে খাতভিত্তিক পরিকল্পনা নিতে হবে।
প্রবাসী কর্মীদের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া মানুষ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেন। তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ব্যক্তি, পরিবার ও দেশ—সবাই উপকৃত হবে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে।
উপস্থিত প্রতিনিধিদলের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোন খাতে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, কোথায় নীতিগত সহায়তা দরকার এবং কোথায় আর্থিক বা খাতভিত্তিক সহযোগিতা দরকার—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে। বাস্তবসম্মত প্রস্তাব পেলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
বৈঠকে সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী বলেন, সৌদি আরবের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার জন্য বড় ধরনের রপ্তানি ও বাণিজ্য সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ২০২৭ সালের মধ্যে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রপ্তানি ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।
প্রতিনিধিদলটি জানায়, সৌদি ভিশন ২০৩০, ওয়ার্ল্ড এক্সপো এবং বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শিক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গ্রিন টেকনোলজি, পরিবেশ, মরুভূমি বনায়ন, কৃষি ও খাদ্য খাত এবং ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক অর্থায়নের মতো খাতে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও খাতভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
৪৭ দিন আগে
দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চায় জোর দেওয়া হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ এখন আর কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকায় স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘টেকসই সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বাণিজ্য প্রতিযোগিতার জন্য দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় বাংলাদেশ একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। শক্তিশালী রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষমতার মাধ্যমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা শুধু উৎপাদন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করবে না, বরং নির্ভর করবে টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, শ্রমমান, পরিবেশগত দায়বদ্ধতা এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চার ওপর।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং ভোক্তারা সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন এবং ডিউ ডিলিজেন্স প্রক্রিয়ার ওপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে টেকসই উন্নয়ন-সম্পর্কিত নতুন বিধিবিধান ও প্রত্যাশা বাড়ছে যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে এখন কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, সুশাসন এবং জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়ন-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহে দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চা শক্তিশালী করা গেলে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল ও প্রতিযোগিতামূলক উৎস দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে উচ্চমূল্যের ও উদীয়মান বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়বে, টেকসই ও গুণগত বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পাবে।
সরকার টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ সম্পর্কিত নীতি সমন্বয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার গুরুত্ব অনুধাবন করে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সবুজ শিল্পচর্চার সম্প্রসারণ-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও সংকলন, টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন উদ্যোগ এবং পরিবেশ ও সামাজিক মানদণ্ড কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণকেন্দ্রিক একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করবে এবং নীতিগত নির্দেশনা, সচেতনতা বৃদ্ধি ও সক্ষমতা উন্নয়নে সহায়তা করবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্বশীল ও টেকসই ব্যবসায়িক চর্চায় রূপান্তর কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য সরকার, বেসরকারি খাত, শিল্প সমিতি, উন্নয়ন সহযোগী এবং সুশীল সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এমন একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে বড় ও ছোট সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধাপে ধাপে দায়িত্বশীল চর্চা গ্রহণ করতে পারবে এবং একইসঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠান আয়োজন এবং বাংলাদেশে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী ইউএনডিপি এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রহিম খান, ইউএনডিপির ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ সোনালি দায়ারাত্নে, কান্ট্রি ইকনোমিক অ্যাডভাইসর ওয়াইস পেরি। অনুষ্ঠানে কী-নোট পেপার উপস্থাপন করেন পলিসি একচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ।
৫২ দিন আগে
সবুজ প্রযুক্তিনির্ভর টেক্সটাইল শিল্পে বাংলাদেশ-চীন অংশীদারত্ব জোরদারের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পকে আরও টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চীনের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ-চীন গ্রিন টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, চীনের শিল্পায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে অর্থবহ বিনিয়োগের আহ্বান জানান, যাতে উভয় দেশের জন্য ‘উভয়ের লাভজনক’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীনা প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি বন্ধ রাষ্ট্রীয় মিল-কারখানা পুনরুজ্জীবন, পাটখাতের আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সবুজ শিল্পায়নে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্যক সবুজ সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানা রয়েছে, যা দেশের উদ্যোক্তাদের পরিবেশ সচেতনতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করে টেক্সটাইল শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করতে হবে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-চীন যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ ধরনের প্রদর্শনী প্রযুক্তি বিনিময়, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং টেকসই শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
৫৭ দিন আগে
জ্বালানির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ বিষয়ে সরকার নজরদারি রাখবে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে সিলেট জেলা পরিষদের ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য যে পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে পণ্যমূল্য খুব বেশি বাড়ার কথা না। কেউ যদি বাড়তি মূল্য রাখে, তার বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে। তবে দাম বাড়বে বলে অনুমান করেও দাম বাড়িয়ে দেওয়া ঠিক না।
এ বিষয়ে সরকারের তদারকির সুযোগ রয়েছে এবং বাজার পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হবে। কেউ বাজার প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার ঘাটতির কারণে পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। সেটি কমাতে বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য একটি ডেনিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বন্দরের কাজ দ্রুত হলে ইউনিটপ্রতি খরচ কমে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধারা যদি দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তা পরিবর্তনের সুযোগ চুক্তির মধ্যেই রয়েছে।’
সরকারি কল কারখানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকারের কাজ ব্যবসা করা না। সরকার যেখানেই ব্যবসা করতে যায়, সেখানেই অদক্ষতার কারণে লোকসান হয়। এতে জনগণের টাকা অপচয় হয়।
তিনি আরও বলেন, সবগুলো লোকসানি প্রতিষ্ঠান সরকার ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগকারীদের কাছে ছেড়ে দিতে চাচ্ছে। এসব কল-কারখানা চালু করে যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাজস্ব আহরণের ব্যবস্থা করা হয় সরকার সেই চেষ্টা করছে।
বাইশটিলায় ন্যাচারাল পার্ক নির্মাণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাইশটিলা এলাকায় সিলেট জেলা পরিষদের ৪৩ একর জায়গা রয়েছে। এটিকে পর্যটক আকর্ষনীয় স্থানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে ন্যাচারাল পার্কে ক্যাবল কার থাকবে, রোপ ব্রিজ থাকবে— এরকম অনেক কিছু থাকবে। শিশু থেকে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য অনেক উপকরণ থাকবে। এটি নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান করেছে জেলা পরিষদ। এটি সিলেটের অন্য পর্যটক আকর্ষণীয় স্থান হবে। সরকার এতে অর্থায়ন করবে।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমসহ রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৬৩ দিন আগে