খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এগিয়ে নেওয়া এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপের বাজারে বাণিজ্যিক সুবিধা সম্প্রসারণে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ সহযোগিতা চান বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
এছাড়া কৃষি, পাটশিল্প, জ্বালানি, বন্দর ও পানি ব্যবস্থাপনায় ডাচ প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ কাজে লাগিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের পক্ষ থেকেও কৃষি ও শিল্পপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বন্দর অবকাঠামো এবং পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে নেদারল্যান্ডসকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে তুলে ধরেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে প্রচলিত বাণিজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং টেকসই বিনিয়োগের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও সম্ভাবনাময় বাজারের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানো গেলে উভয় দেশই উপকৃত হবে বলেও মত দেন তিনি।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার। এ বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন।
এ লক্ষ্যে ইইউর সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে কারিগরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং শুল্কবহির্ভূত বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতে সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নেদারল্যান্ডসের উন্নত বীজপ্রযুক্তি, গবেষণা ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে আলু ও অন্যান্য সবজির গুণগত মান ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদন এবং নতুন বাজার সৃষ্টিতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি সিলেটসহ দেশের সম্ভাবনাময় অঞ্চলগুলোতে বিশেষায়িত সবজি চাষ সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে আধুনিক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
পাটশিল্পে সহযোগিতার প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের সামনে নতুন বাজার সৃষ্টি হচ্ছে।
উন্নত পাটবীজ উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, যৌথ গবেষণাগার স্থাপন এবং বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনে ডাচ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও জানান তিনি।
পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং ও মিশ্র তন্তুর কাপড় উৎপাদনের মাধ্যমে পাটশিল্পে উচ্চমূল্য সংযোজনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
কৃষিপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, শিল্পের আধুনিকায়ন, সামুদ্রিক পরিবহন ও পানি ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেলসহ উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলা অমূলক: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, চট্রগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে সেই চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলা অমূলক।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেটে সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে মতবিনিময় ও অনুদান বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বন্দরের টার্মিনাল নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে, এটি টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য হয়েছে। এছাড়া এটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হয়েছে। এরপরে সেই চুক্তি বাংলাদেশ চাইলে নবায়ন হবে অথবা সেখানেই সেই চুক্তির যবনিকাপাত করবে
তিনি বলেন, এই চুক্তিকে দেশ বিক্রির চুক্তি যারা বলছেন, সেটি সস্তা ও অমূলক একটা কথা।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক টার্মিনাল অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির সমালোচনা করছেন অনেকেই।
এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বাইরের বিনিয়োগ বা আমাদের দেশীয় বিনিয়োগকারীদের নতুন বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে হলে পণ্যের উৎপাদন খরচ এবং রপ্তানি খরচ পৃথিবীর অন্যান্য জায়গার তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে আসতেহবে।
বাংলাদেশকে যদি সরকার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার স্থানে নিয়ে যেতে না পারে, কীভাবে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে?— প্রশ্ন রাখেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, এ কারণেই চট্টগ্রাম পোর্টের মধ্যে এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধি করতে চায় সরকার। বাংলাদেশের এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধির উদ্দেশ্য নিয়ে এই চুক্তিটি করা হয়েছে।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, সরকার নিশ্চিত হয়েছে যে, যারা বন্দরে কাজ করছে তাদের কারও কর্মচ্যুতি ঘটবে না। আজকে যে বেতনে কাজ পাচ্ছেন আগামী দিনে এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধির কারণে তাদের প্রত্যেকের এই বেনিফিটটা বাড়বে। মানে আজকে যে পারিশ্রমিক পান সেটির পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের অবস্থান অবনমন প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীন বরাবরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে প্রধানতম পোশাক রপ্তানিকারী। চীন তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু ভিয়েতনামের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড থাকায় ভিয়েতনাম আগেও পোশাক রপ্তানিতে কখনও বাংলাদেশকে ছেড়ে গিয়েছে, আবার বাংলাদেশ সেই স্থান দখল করেছে।
তিনি বলেন, সরকার বিশ্বাস করে, আগামী দিনে পোশাক রপ্তানিকারকরা তাদের সেই অবস্থানটা আবার ফেরত নিয়ে আসবে।
এর আগে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে মতবিনিময় ও অনুদানপ্রদান অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা হোমোজিনিয়াস (সমজাতি) একটা নেশন। দেখতে এক রকম, চালচলন এক রকম, কথাবার্তা এক রকম এবং আমাদের সম্প্রীতি সবসময়ই অটুট— এটাই আমাদের শক্তি।
সিলেটের জন্য সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা কিন ব্রিজ দেখতে যাব। সেখানে কিন সাহেবের এই ব্রিজটা থাকবে। এটা আরও শক্তিশালী করা হবে। যেহেতু এটার বয়স অনেকদিন হয়ে গিয়েছে, তার পাশেই যেন একটা দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ করতে পারি সেটার সম্ভাব্যতা আমরা যাচাই করছি।
তিনি বলেন, নগর ও নগরের বাইরের অনেক সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের টেন্ডার হয়েছে, সেগুলো এই শীত থেকে কাজ হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে রাস্তার পরিমাণ হচ্ছে প্রায় আটশো কিলোমিটার। এই আটশো কিলোমিটারের মধ্যে এতদিনে আমরা করেছি কমবেশি প্রায় সাড়ে চারশো কিলোমিটারের মতো। তাহলে বাকি আছে আরও তিনশো, সাড়ে তিনশোর মতো। তো ইনশাল্লাহ পঞ্চান্ন বছরে যেটা হয়েছে বাকিটা করতে একশো দশ বছর লাগবে না।
তিনি বলেন, আমরা আরেকটা প্রকল্প নিতে যাচ্ছি যাতে বাকিগুলির নির্মাণ কাজে আমরা হাত দিতে পারি। এটা একটা বড় প্রকল্প হবে। কারণ, যে কাজ পঞ্চান্ন বছর লেগেছে, সমপরিমাণ কাজ আগামী তিন-চার বছরে শেষ করার জন্য যে পরিমাণ সাইজের প্রকল্প লাগে, সে রকম একটা প্রকল্প নিয়ে আমরা আগাচ্ছি।
সিলেটের পানি সংকট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিলেটের পানির সমস্যা সমাধানের জন্য সিটি করপোরেশনের অধীনে একটি বড় প্রকল্প জমা আছে। টিউবওয়েল দিয়ে পানি তোলা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, এতে পানির স্তর নিচে নামতে থাকে। আমরা আরেকটা বড় প্রকল্প নিতে যাচ্ছি। যেটা দিয়ে সুরমা এবং কুশিয়ারা চেঙ্গেরখাল থেকে পানি তুলে পরিশোধন করে সেটা আমাদের ব্যবহারের জন্য নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নগরের কাষ্টঘরে এই সিটি করপোরেশনের সঙ্গেই কাজ করেন আমাদের একটা জনগোষ্ঠী আছে (হরিজন সম্প্রদায়)। আমাদের সেই ভাইবোনেরা তারা রীতিমতো মানবেতর জীবনযাপন করেন। আমি নিজে তাদের ঘরের মধ্যে গিয়েছি। এক একটা রুমের মধ্যে বাবা-মা, ছেলে, ছেলের বউ— এটা খুবই অস্বাস্থ্যকর একটা অবস্থা। তো, আমরা ইনশাল্লাহ আগামী দিনে তাদের জন্য একটা পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছি। তাদের জন্য একটা স্বতন্ত্র আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে যাতে তারা সামাজিক জীবনযাপন করতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, একইভাবে চা বাগানগুলিতে স্কুল নাই। তো সেখানে যেন সরকারিভাবে স্কুলের নির্মাণ করা হয়। আমাদের এই সিলেট সিটি করপোরেশনের এক নির্বাচনি আসনের মধ্যেই বারোটা চা বাগান আছে। সেজন্য আমরা একটা উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।
৯ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারে নিতে চায় বাংলাদেশ
ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়িয়ে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি করতে চায় বাংলাদেশ। এ জন্য বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, তৈরি পোশাক, ওষুধ ও কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আনিস মাত্তার বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে বাংলাদেশের আমদানি প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে বাংলাদেশ দেশটিতে মাত্র প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। এই বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বাজারে প্রবেশের বাধা দূর করা গেলে দুই দেশের বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি করা সম্ভব।
বৈঠকে পিটিএ, সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ), জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি আলু, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের প্রবেশের বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে এবং এসব পণ্য বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে রপ্তানি করা হয় বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। ইন্দোনেশিয়ার বাজারে এসব পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ওষুধ নিবন্ধনসহ প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমানোর জন্য দেশটির সহযোগিতা চান তিনি।
এ সময় জাকার্তায় বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য নিয়ে একটি একক প্রদর্শনী আয়োজনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর জন্য সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
এদিকে দুই দেশের মধ্যে পিটিএ নিয়ে চার দফা আলোচনা হলেও তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে ২০২৩ সাল থেকে আলোচনা থমকে আছে। ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে প্রতিযোগিতা থাকলেও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
আগামী ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনীর সময় দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের প্রস্তাব দেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও একটি প্রতিনিধিদলকে ওই প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণও জানান আনিস মাত্তা।
বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি পারতামিনাকে বাংলাদেশের সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) টার্মিনাল পরিচালনার প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশি আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে পরীক্ষাগার ও নিবন্ধন-সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে দুই দেশের পরীক্ষার ফলাফলের পারস্পরিক স্বীকৃতির প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আলু রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হলেও এসব জটিলতার কারণে তা এগোয়নি।
হালাল পণ্যের বাণিজ্য বাড়াতে হালাল সনদ ও মানের পারস্পরিক স্বীকৃতি নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সরকার-টু-সরকার সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুই পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করে।
এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিস্টিওয়াতিসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১১ দিন আগে
বিনিয়োগে প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর ওপর গুরুত্ব বাণিজ্যমন্ত্রীর
বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা ও বিনিয়োগ কার্যক্রম আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি সেবাগুলোকে আরও সুশৃঙ্খল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণবিষয়ক এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির (আইবিএ) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খানও বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে ব্যবসা নিবন্ধন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবা পাওয়ার বিদ্যমান প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনা করা হয়।
আলোচনায় অপ্রয়োজনীয় ধাপ বাদ দেওয়া, প্রক্রিয়া সম্পন্নের সময় কমানো এবং উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা ও দীর্ঘসূত্রতা কমানো গেলে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ উৎসাহিত হবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার পাশাপাশি সেবা প্রদান ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ব্যবসা ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সেবাগুলো ধীরে ধীরে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দেন, যাতে আরও বেশি স্বচ্ছতা, গতিশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।
বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর চলমান উদ্যোগ, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও সেবা প্রদান ব্যবস্থা উন্নত করার সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজনেস বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
১৭ দিন আগে
যাচাই-বাছাইয়ের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধি দাবি জানালেও যাচাই-বাছাই না করে দাম বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট সদর উপজেলায় সুরমা নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির দাবি জানালেও সরকার বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নেবে।’
এছাড়া দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশের যে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগে কোনো প্রভাব যাতে না পড়ে সে দিকে সরকারের নজর রয়েছে।’
১৮ দিন আগে
সুরমার দুই তীরে ১৭ কিলোমিটার করে বাঁধ-সড়ক নির্মাণ হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
সিলেটের নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার দীর্ঘদিনের সমস্যা মোকাবিলায় সুরমা নদীর দুই তীরে প্রায় ১৭ কিলোমিটার করে বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিলেট সদর উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা সুরক্ষিত করতে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের পাশাপাশি নদীতীর সংরক্ষণ, পুনঃখনন ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনায় একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সুরমা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে তীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে মীরের চক এলাকায় ৩০০ মিটার, মেহন্দিবাগে ৪০০ মিটার, কানিশাইলে ৫৫০ মিটার, টোকের বাজারে ৫০০ মিটার ও মীরেরগাঁওয়ে ৫০০ মিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ রয়েছে।
এর পাশাপাশি কুশিয়ারা ও বাসিয়া নদী পুনঃখনন এবং সারি ও আরশারিক নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিতে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কাজের অগ্রগতি ও মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এ জন্য স্থানীয় মসজিদের ইমাম, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে তদারকি কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, সিলেটের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় সুরমা নদীর দুই তীরে প্রায় ১৭ কিলোমিটার করে বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, সিলেটের উন্নয়ন একটি সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়। সরকার, সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
বাণিজ্যমন্ত্রী সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সিলেটের নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুসহ স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৮ দিন আগে
চীনা নারী উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বিশেষ করে ইউনান প্রদেশের নারী উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ঢাকা সফররত চীনের ইউনান প্রদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইউনানের এক্সিকিউটিভ ভাইস গভর্নর ঝাও জুনমিন।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমার হয়ে চীনের কুনমিং পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ২০০ কিলোমিটারের একটি কার্যকর সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলা সম্ভব হলে প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে।
ইউনানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য কাজে লাগিয়ে প্রদেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। প্রদেশটির প্রায় চার কোটি ৬৪ লাখ জনসংখ্যার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করতে প্রস্তাবিত বিনা মূল্যের বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও প্রদর্শনী সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দুই অঞ্চলের বাণিজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৫ সালে ইউনান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ এক দশমিক তিন বিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়েছে।
অন্যদিকে ঝাও জুনমিন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম ইউনানের বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা নীতির আওতায় এসেছে। এর আওতায় বাংলাদেশি পণ্যের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস, প্রদর্শনী কেন্দ্র ও শুল্ক-সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো দ্রুতই কার্যকর হবে।
তিনি আরও জানান, ইউনানের বাণিজ্য বিভাগ ও বাংলাদেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শনের জন্য ইউনানে স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। এ সুবিধা কাজে লাগাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, ফল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য ইউনানে রপ্তানি এবং ইউনান থেকে ফুল, সার ও পশুখাদ্য আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ স্থাপিত হলে দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্যের বাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলেও মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের পাটের গুণগত মান ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠারও প্রস্তাব দেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে জ্বালানি, ই-কমার্স ও প্রযুক্তিখাতে দুই পক্ষের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে, বিশেষ করে ইউনানের নারী উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
সিলেটের পুরনো কারাগারকে পার্ক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী কুনমিংয়ের আধুনিক পার্কগুলোর আদলে সিলেটে একটি আধুনিক পার্ক গড়ে তুলতে ইউনান কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান।
ঝাও জুনমিন বাংলাদেশের এসব প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কানেক্টিভিটি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে দুই পক্ষের সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২১ দিন আগে
বছরজুড়ে বাজার স্থিতিশীল রাখতে নজরদারি জোরদার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার নজরদারি আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, শুধু রমজান মাস নয়, সারা বছর নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ী সংগঠন, আমদানিকারক, উৎপাদক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা–সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাজারে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। কেউ বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে বা অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
সভায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, রমজান মাসে ভোগ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। তবে সরকারের বাজার ব্যবস্থাপনা শুধু রমজানকেন্দ্রিক নয়। সারা বছরই পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক ও মূল্য সহনীয় রাখাই সরকারের লক্ষ্য।
সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের কারণে বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। পণ্য পরিবহনেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টিসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবও কয়েকটি এলাকায় বাজারে পড়েছে। তবে শীতকাল সামনে থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন সবজি বাজারে আসতে শুরু করবে এবং সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে নিয়মিত বাজার পরিস্থিতির খোঁজ রাখার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্যের দামে দুই-চার টাকার অস্বাভাবিক ওঠানামা সামগ্রিক হিসাবে খুব বড় মনে না হলেও তা সাধারণ মানুষের মধ্যে বাজার নিয়ে আস্থার সংকট সৃষ্টি করতে পারে। তাই বাজারে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি মানুষের আস্থা ধরে রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী জানান, বাজারে মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নজরদারি ও মনিটরিং কার্যক্রম বাড়ানো হবে। আমদানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে পণ্যের মজুত, আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হবে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে দেশকেও এর অর্থনৈতিক চাপ বহন করতে হয়। সরকার ভোক্তাদের ওপর পুরো চাপ একবারে না দিয়ে একটি অংশ বহন করলে শেষ পর্যন্ত তা রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার ওপরই পড়ে। তাই জ্বালানির দক্ষ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাজার ও ব্যবসা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে বিদ্যমান কর কাঠামোর বিভিন্ন দিকও পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত পণ্য এবং যেসব পণ্যের ঋণপত্র বা এলসি ইতোমধ্যে খোলা হয়েছে কিংবা যেগুলো জাহাজীকরণ পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলোর তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
আমদানি পরিস্থিতি ইতিবাচক
সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পক্ষ থেকে নিত্যপণ্যের চাহিদা, আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির একটি চিত্র উপস্থাপন করা হয়। এতে জানানো হয়, গত বছরের তুলনায় দেশে নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসি খোলার পরিস্থিতি ইতিবাচক।
কমিশনের তথ্যানুযায়ী, দেশে মসুর ডালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় সাত লাখ মেট্রিক টন। গত বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪২ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল আমদানি হয়েছিল। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে এক লাখ ছয় হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছেছে।
ভোজ্যতেলের কাঁচামাল বা সিড আমদানিতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে দুই লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টন সিড আমদানি হয়েছিল। চলতি বছর তা বেড়ে তিন লাখ ৮৬ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে।
দেশে চিনির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২০ থেকে ২১ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে শুধু রমজান মাসেই প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন চিনির চাহিদা তৈরি হয়। কমিশন জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে নিত্যপণ্যের আমদানি ও পাইপলাইন পরিস্থিতি ইতিবাচক রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ট্রেসেবিলিটি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত পণ্য সরবরাহের বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। ডিম ও পোল্ট্রিসহ গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপণ্যকে এ কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারের মূল উদ্দেশ্য বাজারে পর্যাপ্ত পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা, যৌক্তিক মূল্য বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের আস্থা শক্তিশালী করা। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ব্যবসায়ী নেতাদের পরামর্শ বাজার ব্যবস্থাপনা ও নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।
সভায় ব্যবসায়ী নেতারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন, সরবরাহ ও বাজারমূল্য-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম এবং ডাল, তেল, খেজুর, ডিম ও চিনি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
২৭ দিন আগে
টিসিবির ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে ৩৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি সাশ্রয়ের আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে চলতি অর্থবছরে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি সাশ্রয় হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) টিসিবির সম্মেলনকক্ষে সংস্থাটির কার্যক্রমের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার, সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ভর্তুকির অপচয় আরও উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এখনও পুরোপুরি নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকর হয়ে ওঠেনি। উৎপাদক পর্যায় থেকে পণ্য শহর বা রাজধানীর খুচরা বাজারে পৌঁছানোর পর অনেক ক্ষেত্রে দামের বড় ব্যবধান তৈরি হয়। আবার সাময়িক সরবরাহ ঘাটতিও বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এ পরিস্থিতিতে স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিতে টিসিবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে টিসিবির সেবায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে সরকারি ভর্তুকির সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে টিসিবির সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে নেওয়া বিভিন্ন ডিজিটাল উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল টিসিবি কার্ড, ‘উপকারী’ মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন ডিলার ব্যবস্থাপনা, অল-ইন-ওয়ান পিওএস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)ভিত্তিক রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা।
৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারী বাদ
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে প্রায় ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারীকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি যাচাইকৃত ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরি করা হয়েছে।
সরকারি ভর্তুকি যেন প্রকৃত ও যোগ্য উপকারভোগীর কাছেই পৌঁছে, তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ডেটাবেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
বর্তমানে প্রায় ৭৯ লাখ উপকারভোগী টিসিবির সেবার আওতায় রয়েছেন। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
৩২ দিন আগে
ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
দেশের মানুষের নিরাপদ, বিশুদ্ধ ও মানসম্মত পণ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে প্রযুক্তি, জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার দিক থেকে আরও শক্তিশালী করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একজন মানুষ তার কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে যেন ভেজাল, নিম্নমানের বা ক্ষতিকর পণ্য কিনতে বাধ্য না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। দেশের ১৭ থেকে ১৮ কোটি মানুষের ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় অধিদপ্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, অধিদপ্তরকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে প্রশিক্ষণ, জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান সেবাগুলো পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের আকার বা পরিচিতির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের জীবনে ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বাস্তব প্রভাব। সে বিবেচনায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কাজের গুরুত্ব অনেক বেশি।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের কাঠামো, জনবল ও সেবা কার্যক্রম নিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (বিআইডিএস) দিয়ে গবেষণা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, গবেষণার সুপারিশের আলোকে অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও জনবান্ধব করা হবে। খুব শিগগিরই বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, যার মাধ্যমে ভোক্তারা প্রতিষ্ঠানটির সেবা আরও সহজে ও কার্যকরভাবে পাবেন।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অধিদপ্তরের বর্তমান কার্যক্রম, প্রযুক্তির ব্যবহার, জনবল কাঠামো, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ভোক্তা সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
৩২ দিন আগে