পরিশোধ
চীনের ঋণের শর্ত শিথিল-পরিশোধের সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
ঋণের শর্ত শিথিলসহ সুদহার কমানো ও পরিশোধের সময় বাড়ানোর বিষয়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ আলোচনা করবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমাদের দেশের অনেক প্রকল্পে তাদের বিনিয়োগ আছে। সেগুলো প্রধানত ঋণভিত্তিক। কিছু প্রকল্প চলমান আছে। আমাদের আরও কিছু বিষয় আছে। এর মধ্যে ঋণের শর্তাবলি নিয়ে আমরা কথাবার্তা বলব। যেমন ঋণের সুদের হার কমানো এবং পরিশোধের সময় বাড়ানোর বিষয়ে কথা বলব।’
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আসন্ন চীন সফর নিয়ে ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ভারত-চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে বাংলাদেশের: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ বলেন, ‘আমরা চাইব যখন এলডিসি থেকে গ্রাজুয়েট করবে বাংলাদেশ তখন চীন যেন ইউরোপের মতো আগামী তিন বছর আমাদের কোটা ও শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়। তবে এখনো চীন আমাদের সব পণ্যেই শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে। আমাদের গ্রাজুয়েশনের পরে তাদের কাছে থেকে আলাদাভাবে সেই সুবিধাটা নিতে হবে।’
তিনি বলেন, এই সফরে আলোচনায় প্রাধান্য পাবে অর্থনৈতিক বিষয়। এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যবসা ও বাণিজ্য। অফিসিয়ালি চীন আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক বন্ধু। তবে ক্ষেত্র বিশেষে ভারতকে বড় ব্যবসায়িক অংশীদার বলা হয়। কারণ আন-অফিসিয়াল ব্যবসা আছে প্রচুর।
উপদেষ্টা বলেন, প্রধানত আমদানিভিত্তিক প্রচুর ব্যবসা আছে আমাদের। আমদানিগুলো এজন্য প্রয়োজনীয়, যা আমাদের রপ্তানির জন্য সেগুলোর ওপর নির্ভরশীল। এজন্য চীনের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।
কালচারাল বিষয় উল্লেখ করেন উপদেষ্টা বলেন, চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছর পূতি উপলক্ষে চীন ও বাংলাদেশে কিছু অনুষ্ঠানের বিষয়ে আলোচনা হবে।
চীনের ৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তার প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কথাবার্তা বলব। দেখি তারা কতটুকু সহায়তা দিতে পারে। যদি প্রকল্প ঋণ ত্বরান্বিত করা যায়, তাহলে সেটাও সুবিধা হতে পারে। আলোচনায় অর্থনৈতিক বিষয়াবলি আসবে। আর পাঁচ বিলিয়ন ডলারের আলোচনা আছে তা বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগে দক্ষতা ও নেটওয়ার্ক কাজে লাগানোর আহ্বান পররাষ্ট্র উপদেষ্টার
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রকল্প ঋণের বিষয়ে কমিটমেন্ট ফি তুলে দেওয়া ও সুদহার নিয়েও আলোচনা করা হবে। বিভিন্ন প্রকল্প ঋণে সুদের হার ভিন্ন ভিন্ন হলেও সাধারণভাবে এটি কমানোর অনুরোধ করবে বাংলাদেশ। অর্থনীতির উপর চাপ কমাতে প্রকল্প ঋণগুলো পরিশোধের সময়সীমা ১৫ থেকে ২০ বছরের পরিবর্তে বাড়িয়ে ৩০ বছর করার চেষ্টা করা হবে। আর কমিটমেন্ট ফি যাতে তুলে দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা করব।’
গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে চীনের উদ্যোগের বিষয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, আলোচনা চলমান আছে, তা আমরা ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখব।
জেডিআই নিয়ে তিনি বলেন, এটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে এখনি সমঝোতা স্মারক হবে কিনা, তা বলতে পারছি না।
বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বেইজিং ও সাংহাইয়ে পৃথক গবেষণা সংগঠনে বক্তব্য দেবেন তিনি। এছাড়া কয়েকটি প্রযুক্তি কারখানা পরিদর্শনও করবেন তিনি।
আরও পড়ুন: প্রবাসীদের বাংলাদেশের নয় স্থানীয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান পররাষ্ট্র উপদেষ্টার
৭২ দিন আগে
ডিএসসিসির আরোপিত জরিমানার ১৩৭১৩৯২ টাকা পরিশোধ করেছে ঢাকা ওয়াসা
বিনা অনুমতিতে অবৈধভাবে লালবাগের শহীদ আবদুল আলীম খেলার মাঠসংলগ্ন সড়ক খনন করার ঘটনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) করা জরিমানার ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৩৯২ টাকা পরিশোধ করেছে ঢাকা ওয়াসা।
ঢাকা ওয়াসা নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে জরিমানার টাকা সংগ্রহ করে তা দুইটি চেকের মাধ্যমে করপোরেশনকে পাঠানো হয়।
রবিবার (১৪ জুলাই) অঞ্চল-৩ এর আঞ্চলিক কার্যালয়ে অবস্থিত প্রকৌশল বিভাগের দপ্তরে জরিমানার অর্থ পরিশোধ-সংক্রান্ত পত্র ও দুটি চেক পাঠানো হয়। অঞ্চল-৩ এর সহকারী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব ঢাকা ওয়াসার প্রেরকের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট পত্র ও চেক দুইটি গ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: রাজস্ব আদায়ে ফের নতুন মাইলফলক সৃষ্টি: ডিএসসিসি মেয়র
উল্লেখ যে, অঞ্চল-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মিঠুন চন্দ্র শীলের সই জাল করে ও অনুমোদন না নিয়ে গত ৮ জুলাই লালবাগের শহীদ আবদুল আলীম খেলার মাঠসংলগ্ন রাস্তা খনন করায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশন খনন কাজে ওয়াসার ঠিকাদারের ব্যবহৃত মালামাল জব্দ করে। সই জাল করার অপরাধে সেদিন রাতেই লালবাগ থানায় ওয়াসা নিযুক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের প্রকৌশলী সৈয়দ আবু জাফরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পরে ৮ জুলাই অঞ্চল-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মিঠুন চন্দ্র শীল সড়ক খনন নীতিমালা-২০১৯ এর ১.৩.৫ ধারা অনুযায়ী বিনা অনুমতিতে সড়ক খনন করায় ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৩৯২ টাকা জরিমানা আরোপ করে ঢাকা ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পত্র দেয়। ঢাকা ওয়াসা গত ৯ জুলাই দক্ষিণ সিটির সে পত্র গ্রহণ করে।
ঢাকা ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বরাবরে পাঠানো দক্ষিণ সিটির সেই পত্রে তিন কার্যদিবসের মধ্যে চালান/পে-অর্ডারের মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খনন তহবিলে জরিমানার টাকা জমা দিতে অনুরোধ করা হয়। অন্যথায় বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও পত্রে উল্লেখ করা হয়।
তারই পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার (রক্ষণাবেক্ষণ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ মোস্তাকিম হোসেন তাদের নিযুক্ত ঠিকাদারকে জরিমানার অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেয় বলে জানা যায়।
আরও পড়ুন: ঢাকাবাসীর আস্থা অর্জনে ডিএসসিসি ইতিহাস রচনা করেছে: ডিএসসিসি মেয়র
ডিএসসিসি ঢাকাবাসীর আস্থার আশ্রয়স্থল: ডিএসসিসি মেয়র
২৫৭ দিন আগে
পোশাকখাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ সম্পন্ন: বিজিএমইএ
শ্রমিকদের কাছে ঈদুল আজহা আনন্দময় করতে বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছে পোশাক শিল্পখাতের উদ্যোক্তারা। ফলে শ্রমিকরা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপন করতে পারবেন।
শনিবার (১৫ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেতন-ভাতা পরিশোধের তথ্যটি নিশ্চিত করেছে বিজিএমইএ।
এতে বলা হয়, পোশাক খাতের মোট ২ হাজার ১৬০টি কারখানার মধ্যে ঢাকায় ১ হাজার ৮৩৫টি এবং চট্টগ্রামে ৩২৫টি চালু রয়েছে। এর মধ্যে সব কারখানার মে মাসের বেতন ও ঈদুল আজহার উৎসব ভাতা শতভাগ পরিশোধ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ২.৮৬ শতাংশে নেমে এসেছে
তবে এখনো মাত্র ৪টি কারখানায় উৎসব ভাতা দেওয়া প্রক্রিয়াধীন। যা শনিবারের মধ্যেই পরিশোধ করবেন।
বিজিএমইএ বলছে, তাদের জানামতে আর কোথাও বেতন-ভাতা পরিশোধ বাকি থাকার কোনো তথ্য নেই।
সরকারের আহ্বানে ও বিজিএমইএ’র অনুরোধে পোশাক কারখানাগুলো ১৩ জুন থেকে ১৫ জুনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সব শ্রমিককে ছুটি দিয়েছে।
আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই শ্রমঘন পোশাক শিল্প খাতে বেতন-ভাতা দেওয়ার সুবিধার্থে সরকারি ছুটির দিনে পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট এলাকার তফসিলি ব্যাংকের শাখাসমূহ খোলা রাখতে বিজিএমইএ অনুরোধ জানিয়েছিল।
এছাড়া বিজিএমইএ রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমসহ দেশের রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে সরকারি ছুটির দিনে ইপিবি, চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ, আইসিডি কমলাপুর, ঢাকা কাস্টমস, মোংলা কাস্টমস, বেনাপোল কাস্টমস ও পানগাঁও কাস্টমস হাউজ এবং ঢাকা ও চট্রগ্রামের কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট কার্যালয় এবং একইসঙ্গে এসব কাস্টমস হাউজ ও শুল্ক স্টেশন-সংশ্লিষ্ট বন্দর, ব্যাংকের শাখা ও অন্যান্য স্টেকহোলিং প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়।
আরও পড়ুন: আরও দুই পোশাক কারখানা পেল এলইইডি সনদ
২৮৬ দিন আগে
বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া পরিশোধের জন্য বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে সরকারের বন্ড চুক্তি সই
বিদ্যুৎ খাতকে স্থিতিশীল করতে বাংলাদেশ সরকার বিশেষ বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ২ হাজার ৬২ কোটি টাকার ব্যবস্থা করেছে। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধের লক্ষ্যে সিটি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকের সঙ্গে বন্ড বিষয়ক চুক্তি করেছে সরকার।
বুধবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে সমন্বিত এ চুক্তি সই করা হয়। সিটি ব্যাংকের অনুকূলে ১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার এবং পূবালী ব্যাংকের অনুকূলে ৭৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার বন্ড চুক্তি করে সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভর্তুকির টাকা দিতে সরকারের অক্ষমতার কারণে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তাদের দেনা শোধ করতে পারছে না। যার ফলে কেউ কেউ ঋণখেলাপি হওয়ার পথে চলে গেছে।
আরও পড়ুন: রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের 'গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনি'তে রাশিয়ার রোসাটম থেকে ইউরেনিয়ামের নতুন ব্যাচ গ্রহণ
এ সংকট মোকাবিলায় সরকার ৮ শতাংশ হারে স্পেশাল বন্ড ইস্যু করছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত রেপো রেটের সমান। ভবিষ্যতে রেপো হারের যেকোনো উত্থান-পতনের সঙ্গে একইভাবে বন্ডের সুদের হার সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে।
মেয়াদ শেষে সরকার সুদসহ ব্যাংকের পাওনা মিটিয়ে দেবে এবং পরে এসব বন্ড পুনরুদ্ধার করবে। সাধারণ ১৫-২০ বছর মেয়াদি বন্ডের বিপরীতে, এই বিশেষ বন্ডগুলোর সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর, বিদ্যুৎ খাতের জরুরি প্রয়োজনেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সামিট পাওয়ার, ইউনাইটেড পাওয়ার, কনফিডেন্স পাওয়ার, বারাকা, কুশিয়ারা, ডরিন ও অ্যাক্রন পাওয়ারসহ বিদ্যুৎ খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর পাওনা পরিশোধ করা হবে এই অর্থের মাধ্যমে। অর্থ বিভাগ এ খাতের বকেয়া আরও নিরসনে ব্র্যাক ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়াসহ অন্যান্য ব্যাংকের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে চুক্তির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে।
চুক্তির গুরুত্ব নিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা আশাবাদী।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকা সত্ত্বেও মেয়াদ বাড়ছে ব্যয়বহুল ভাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের
মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন ১১ নভেম্বর
৪২৮ দিন আগে
সরকার তার তিন মেয়াদে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া বাবদ ১.০৪ লাখ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে
বর্তমান সরকারের তিন মেয়াদে ৮২টি ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার বা আইপিপি এবং ৩২টি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ক্যাপাসিটি চার্জ বা ভাড়া বাবদ মোট ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এ তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: সংসদে বাণিজ্য সংগঠন (সংশোধন) বিল, ২০২৩ উত্থাপন
বিরোধীদল গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানের এক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, এরমধ্যে ৮২টি আইপিপি’র মধ্যে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডকে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা এবং ৩২টি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে অ্যাগ্রেকো ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্টসকে সর্বোচ্চ ২৩৪১ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী ৮২টি আইপিপি পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং ৩২টি রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের নামের তালিকা এবং তাদের দেওয়া অর্থের একটি তালিকা দেন।
আরও পড়ুন: মামলাজট কমাতে সংসদে অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব (সংশোধন) বিল পাস
একতরফাভাবে আগামী নির্বাচন করতে আরপিও সংশোধন করেছে সরকার: গণতন্ত্র মঞ্চ
৫৭০ দিন আগে
ঈদের আগেই বিজিএমইএ আওতাধীন কারখানার মার্চ মাসের মজুরি পরিশোধ: বিজিএমইএ
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) আওতাধীন দুই হাজার ১৫১টি কারখানার সবকটিই ২০২৩ সালের মার্চ মাসের মজুরি পরিশোধ করেছে।
এর মধ্যে দুই হাজার ১৪৫টি কারখানায় (৯৯ দশমিক ৭২ শতাংশ) উৎসব বোনাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ।
বাকি ছয়টি কারখানায় গতকালকের মধ্যে বোনাস পরিশোধের কাজ শেষ করার কথা ছিল।
এদিকে এক হাজার ৭৬৮টি কারখানা (৮২ দশমিক ১৯ শতাংশ) এপ্রিল মাসের অগ্রিম বেতন দিয়েছে।
আরও পড়ুন: বৃদ্ধাশ্রমে ইফতার কর্মসূচির বাজেটে দান করবে বিজিএমইএ
বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শ্রমিকদের বেতন দিয়ে ঈদুল ফিতরের আনন্দ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার জন্য পোশাক শিল্পের সকল উদ্যোক্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, তারা প্রায় ৪৫০টি পোশাক কারখানাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় এনেছে, যারা তাদের শ্রমিকদের বেতন দিতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারে এবং তাদের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করেছে।
ঈদের ছুটি প্রসঙ্গে বিজিএমইএ জানায়, সরকার ও ব্যবসায়ী সংগঠনের অনুরোধে পোশাক মালিকরা পর্যায়ক্রমে ঈদ উপলক্ষে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া শুরু করেছেন, যা ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
ফারুক হাসান ছুটির দিনে ব্যাংক খোলা রাখা এবং তৈরি পোশাক কারখানায় বেতন-বোনাস প্রদানের ব্যবস্থা করায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি বাস, ট্রেন ও লঞ্চে যাতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন করতে না পারে সেজন্য নজরদারি বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এবং ঈদযাত্রায় অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রাকে যাতে যাত্রী পরিবহন না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
তিনি পোশাক শ্রমিকরা যাতে আনন্দের সঙ্গে ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নৌপরিবহন মন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
আরও পড়ুন: ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে হাইকমিশনের সহায়তা চায় বিজিএমইএ
৭০৭ দিন আগে
মোবাইল ব্যালেন্স থেকে পরিশোধ করা যাবে সরকারি সেবার বিল
গ্রাহকরা নিজেদের মোবাইল ব্যালেন্স ব্যবহার করে এখন থেকে ৩২টি সরকারি সেবার বিল পরিশোধ করতে পারবেন।
সম্প্রতি নিরাপদ ও সুরক্ষিত পেমেন্ট পরিশোধের মাধ্যম নিয়ে কাজ করতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে স্মার্ট বাংলাদেশের কানেক্টিভিটি পার্টনার গ্রামীণফোন ও অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)। ফলে বিভিন্ন সরকারি সেবার পেমেন্ট ‘ডিরেক্ট অপারেটর বিলিং (ডিওবি)’ এর অন্তর্ভুক্ত হবে।
ডিজিটাল মাধ্যমে গ্রহণ করা যায় এমন সেবা এবং ইউটিলিটি বিলসহ বিভিন্ন ধরনের সেবার বিল পরিশোধের সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি হলো ডিরেক্ট অপারেটর বিলিং (ডিওবি)।
এ পদ্ধতিতে মোবাইল গ্রাহকরা তাদের মোবাইল ব্যালেন্স ব্যবহার করে কয়েকটি সহজ ধাপের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ করতে পারবেন। ফলে এখন সহজে ও ঝামেলা ছাড়াই সরকারি সেবা গ্রহণ করা যাবে।
এক্ষেত্রে, বিল পরিশোধে গ্রাহকদের প্রত্যয়ন.জিওভি.বিডি পোর্টালের একপে পেমেন্ট গেটওয়েতে মোবাইল ব্যালেন্স নির্বাচন করতে হবে। মোবাইল নম্বর ও ওটিপি দেয়ার পরে গ্রাহকের মোবাইল থেকে সার্ভিস ফি কেটে নেয়া হবে। এ সেবা ব্যবহারে প্রথমেই গ্রাহককে এনআইডি ভেরিফাই করার মাধ্যমে পোর্টালে প্রোফাইল তৈরি করতে হবে।
আরও পড়ুন: উন্নত দেশগুলোকে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ১০% জলবায়ু তহবিলে বরাদ্দ করা উচিত, মোমেনের প্রস্তাব
এটুআই’র আইসিটি বিভাগের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ একপে’তে সকল ব্যাংক ও এমএফএস সেবা যুক্ত করা হয়েছে, যেনো ২৩টি ইউটিলিটি বিলসহ বিভিন্ন পাবলিক সেবার বিল পরিশোধে পিটুজি (পারসন টু গভর্নমেন্ট) পেমেন্ট নিশ্চিত করা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত দশকে এমএফএস সেবার প্রবৃদ্ধি ও এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারিত হলেও প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ১৮ শতাংশ (বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে) মানুষ ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে রয়েছেন। সরকারি ইকোসিস্টেমে পিটুজি পেমেন্টের অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে আমরা মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে নিয়ে ডিরেক্ট অপারেটর বিলিং (ডিওবি) সুবিধা চালু করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, যা সময় ও ব্যয় সাশ্রয় করবে এবং ঝামেলা কমাতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখবে। আমরা নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধিতে আরও বেশি সংখ্যক সরকারি সেবার জন্য এ সুবিধা চালু করতে আগ্রহী।’
গ্রামীণফোনের সিডিও সোলায়মান আলম বলেন, ‘এ সেবার মাধ্যমে সবাই যেনো আমাদের দেশজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক কাভারেজের মাধ্যমে সহজে সরকারি সেবা গ্রহণের সুযোগ পায়, তা নিশ্চিতেই আমরা কাজ করছি।’
তিনি বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং আমাদের গ্রাহকদের জীবন সহজ করে তুলতে আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করি, যা আমাদের মানুষের ক্ষমতায়ন ও সবাইকে তাদের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যপূরণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। এ উদ্যোগকে সম্ভব করে তোলার ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগীতার জন্য আমি এটুআই এর প্রতি কৃতজ্ঞ।’
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোতে ৩০০ বিলিয়ন ডলার জরুরি তহবিল ধার দিল ফেডারেল রিজার্ভ
৭৩৬ দিন আগে
সঠিক তদন্তের পর বীমার দাবি পরিশোধ নিশ্চিত করুন: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বীমা খাতের অসঙ্গতি রোধে যথাযথ তদন্ত করে বীমা দাবি পরিশোধ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) জাতীয় বীমা দিবস-২০২৩ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। ‘বীমায় সুরক্ষিত থাকলে, এগিয়ে যাবো সবাই মিলে’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘নিশ্চিত করুন যে আপনি যথাযথ তদন্ত ও পরীক্ষার পরে দাবির অর্থ প্রদান করছেন। দাবির অর্থ প্রদানে অসঙ্গতির অভিযোগ রয়েছে, যেখানে অসাধু ব্যক্তিরা তাদের বীমার আইটেমের বিপরীতে মোটা অংকের অর্থ দাবি করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বীমা খাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষের প্রতি আমার অনুরোধ, যে কোনো ঘটনায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য তদন্ত নিশ্চিত করতে সজাগ থাকুন।’
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির বাড়িতে ১৬ পদের মাছে আপ্যায়িত প্রধানমন্ত্রী
তিনি কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির চাপের কাছে নতি স্বীকার করে যথাযথ তদন্ত ছাড়া কোনো টাকা না দেয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বীমার সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষকে আন্তরিকভাবে এই খাতের বিভিন্ন অসঙ্গতি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দয়া করে কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। অনেক মানুষ আমাদের কাছে, আমার কাছে, মন্ত্রীদের কাছে বা অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে আসে আনুকূল্য পাওয়ার জন্য। কিন্তু প্রকৃত ক্ষতিটা আপনাদেরই খুঁজে বের করতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, যে কোনো ব্যক্তি তার বীমার পণ্যের জন্য মোটা অংকের অর্থ দাবি করতে পারেন, তবে যথাযথ তদন্ত ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘কেন তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না? তাহলে আমার কি মনে করা উচিত যে তদন্তকারীরাও এর সুবিধাভোগী? আমি সন্দেহ করি যে তারাও এতে জড়িত আছে।’
তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি চান না বীমা সংস্থাগুলো খারাপ নাম অর্জন করুক। কারণ তিনিও এই পরিবারের সদস্য। তিনি বলেন, ‘আমাকে এটা রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।’
আইডিআরএ (বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস কে কবির হোসেন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সেলিম উল্লাহ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে দেশের বীমা খাতের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
আরও পড়ুন: জাতীয় উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
৭৫৮ দিন আগে
তিন মোবাইল কোম্পানিকে পরিশোধ করতে হবে আড়াই হাজার কোটি টাকা
তিন মোবাইল অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবির কাছে পাওনা দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
এছাড়া সরকার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) এই টাকা দিতে হবে।
আরও পড়ুন: বিচারকের বিরুদ্ধে অশ্লীল স্লোগান: ২১ আইনজীবীকে হাইকোর্টে তলব
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রায়ে গ্রামীণফোনের এক হাজার ৪০০ কোটি, রবির ৫০০ কোটি ও বাংলালিংকের ৬৫০ কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধের আদেশ দেয়া হয়।
আদালতে সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, বিটিআরসির পক্ষে ব্যারিস্টার রেজা-ই রাকিব ও মোবাইল কোম্পানির পক্ষে ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান শুনানি করেন।
আদালতের আদেশের বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের জন্য সরকার যে তরঙ্গ বরাদ্দ করে তার ওপর চার্জ করা হয়। এর সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত করা হয়। এই ভ্যাটযুক্ত করার কারণে তারা (তিন কোম্পানি) হাইকোর্টে এসে মামলা ফাইল করে। হাইকোর্ট তাদের রিট খারিজ করে দেয়। এর বিরুদ্ধে তারা আপিলে আবেদন করা হলে আদালত শুনানি নিয়ে তাদের আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে এখন এসব প্রতিষ্ঠান থেকে এনবিআর এবং বিটিআরসি ভ্যাটসহ তরঙ্গ বরাদ্দ ফি হিসেবে পাওনা আদায় করবে।
এর আগে, ২০১২ সালে সরকার বেশি ভ্যাট-ট্যাক্স নিচ্ছে মর্মে হাইকোর্টে রিট করে তিন মোবাইল অপারেটর কোম্পানি। তবে ওই তিন কোম্পানির রিট খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।
এরপর কোম্পানিগুলো আপিল বিভাগে আবেদন করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে মঙ্গলবার আপিল বিভাগও তাদের আবেদেন খারিজ করে দেয়।
আরও পড়ুন: এফএমসি ডকইয়ার্ড লিমিটেডের এমডির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের নির্দেশ হাইকোর্টের
৮০৮ দিন আগে
নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা কমাতে সংস্কার আবশ্যক: বক্তারা
নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীর জন্য পরোক্ষ করের বোঝার কারণে বাংলাদেশে আয় বৈষম্য বাড়ছে, অন্যদিকে ধনী ব্যক্তিরা তাদের আয় ও সম্পদের তুলনায় কম পরিশোধ করছে।
বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক ইনে আয়োজিত ‘বৈষম্য মোকাবিলা এবং রাজস্ব বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ করের ব্যবহার’ শীর্ষক নীতিগত সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: নতুন রাজনৈতিক জোটের ‘জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট’ আত্মপ্রকাশ
রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক এ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সংলাপে বক্তব্য দেন, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ, বিসিএস (ট্যাক্স) একাডেমির মহাপরিচালক এম এম ফজলুল হক, ঢাবির অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ, অর্থ বিভাগের (বাজেট) যুগ্ম সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, ইআরডি যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. রাজ্জাক মূল প্রবন্ধে ব্যাখ্যা করেন যে একটি অন্যায্য কর ব্যবস্থার কারণে উৎপাদন, কৃষি ও অন্যান্য খাতে প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও সমাজে আয় বৈষম্য বাড়ছে।
দেশের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে কর ব্যবস্থার সংস্কার না হলে এই আয় বৈষম্য আরও বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য অনেক অর্থনীতি ক্ষুদ্র জিডিপির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ তার রাজস্বের মাত্র ৩৫ শতাংশ আয় করে প্রত্যক্ষ কর থেকে। যার ৬৫ শতাংশ অপ্রত্যক্ষ কর। অন্যান্য দেশের মতো দেশের (বাংলাদেশ) অর্থনীতির আয়তন বিবেচনা করে এটি সরাসরি কর থেকে ৭০ শতাংশ রাজস্ব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
ড. রাজ্জাক বলেন, সম্প্রতি এনবিআর মোট রাজস্বের প্রত্যক্ষ করের অংশ ৩৫ থেকে ৭০ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে। যা একটি স্বাগত উদ্যোগ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চালিত করবে এবং জনসেবা প্রদানে সরকারের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা জোরদার করবে।
তবে লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।
আবদুল মজিদ বলেন, এনবিআরকে সরকারি সংস্থা নয়, রাষ্ট্রীয় সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাই এনবিআরকে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। বরং, এটি রাষ্ট্রের পক্ষে একটি স্বাধীনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত।’
তিনি কর ব্যবস্থা ও এনবিআর সংস্কার করে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর জোর দেন।
আরও পড়ুন: নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি
৮২১ দিন আগে