এসএসসি
এসএসসির খাতায় উত্তর লিখে দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত, পটুয়াখালীতে দুই শিক্ষককে অব্যাহতি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে কথিত ‘সিক বেডে’ এক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার সুযোগ করে দেওয়া এবং প্রকাশ্যে গণিত পরীক্ষার খাতায় উত্তরপত্র লিখে সরবরাহ করার ঘটনায় খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রাথমিকভাবে পরীক্ষার সকল দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনসহ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গত ৩ মে গণিত পরীক্ষার দিন অসাদুপায় অবলম্বনের দায়ে খেপুপাড়া মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ভিজিলেন্স টিম বহিষ্কার করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তদন্তে বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক জহিরুল ইসলাম (সমাজবিজ্ঞান) ও মেজবা উদ্দিন ওই শিক্ষার্থীকে অঙ্কের সমাধান সংবলিত পরীক্ষার বোর্ডের আলাদা বাড়তি খাতা সরবরাহের প্রমাণ মিলেছে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ এ ঘটনার পরই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেককে বিষয়টির তদন্তের দায়িত্ব দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসীন সাদেক তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, নকল সরবরাহ করা, কথিত ‘সিক বেড’ ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই শিক্ষকের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। শুধু তা-ই নয়, এই দুই শিক্ষকের যোগসাজশে বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীকে প্রশ্নের উত্তরপত্র লিখে সরবরাহ করা হয়েছিল। এমনকি সিসি ক্যামেরাবিহীন ওই কক্ষের মূল দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক শিক্ষক দেবাশীষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নকলে সরাসরি সহায়তার প্রমাণও মিলেছে।
গত ৬ মে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বহিষ্কৃত ওই পরীক্ষার্থীকে শিক্ষা বোর্ডের সরবরাহকৃত অতিরিক্ত খাতায় কয়েকটি অঙ্কের সমাধান লিখে দেওয়ার বিষয়ে সত্যতা খুঁজে পেয়েছেন। শিক্ষার্থীর খাতার হাতের লেখার সঙ্গে অতিরিক্ত খাতার হাতের লেখার মিল নেই। মূল খাতার অর্ধেকের বেশি খালি থাকা সত্ত্বেও কক্ষ পরিদর্শকের সই ও তারিখবিহীন গণিতের সমাধান করা বোর্ডের সরবরাহকৃত অতিরিক্ত খাতা পাওয়া যায়।
তদন্ত কর্মকর্তা পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবা উদ্দিনের হাতের লেখার নমুনা পরীক্ষাও করেন। এরপর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর কাছে পাওয়া অতিরিক্ত খাতার লেখার সঙ্গে মেজবা উদ্দিনের হাতের লেখার বহু অক্ষরের মিল পাওয়া গেছে। তারপরও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডির মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর বাবা তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান, তার সন্তানের অসুস্থতার খবর তার জানা ছিল না।
কক্ষপরিদর্শক দেবাশীষ চন্দ্র সিকদার তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন, পরীক্ষা চলাকালীন (ঘটনার দিন) শিক্ষক জহিরুল ইসলাম ৯ নম্বর কক্ষে (সিসি ক্যামেরাবিহীন) বহু নির্বাচনি প্রশ্নপত্রের পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। কিছুক্ষণ পরেই সহকারী শিক্ষক মেজবা উদ্দিন ওই কক্ষে প্রবেশ করে পরীক্ষার্থীর সৃজনশীল প্রশ্নের ছবি তুলে নেন। এক ঘণ্টা পরে বোর্ডের সরবরাহকৃত অতিরিক্ত উত্তরপত্রে প্রশ্নের সমাধান করে ওই পরীক্ষার্থীকে তা সরবরাহ করেন। কক্ষ পরিদর্শক দেবাশীষ মেজবা উদ্দিনকে বাধা দিলে তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাকে নিবৃত থাকতে বাধ্য করেন। এরপর কেন্দ্র সহকারী জহিরুল ইসলাম দাঁড়িয়ে থেকে ওই পরীক্ষার্থীকে নকলে সহায়তা করেন। এমনকি মেডিকেল সনদ ছাড়া সভাপতি কিংবা কেন্দ্রের পরামর্শ ছাড়া ‘সিক বেডে’ ক্যামেরাবিহীন কক্ষে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে কেন্দ্র সচিব মুহাম্মদ মহসিন রেজাকে অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবা উদ্দিন ও জহিরুল ইসলাম চাপ প্রয়োগ করেন বলেও উল্লেখ করেছেন দেবাশীষ।
এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব জানান, তিনি এই প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন। মেডিকেল সনদ ব্যতীত বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া ‘সিক বেডের’ কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত ওই দুই শিক্ষক তাকে চাপ প্রয়োগ করেন। বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত এবং ওই দুই শিক্ষকের এ বিষয়ে আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলেও তিনি তদন্ত টিমকে জানিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসীন সাদেক তার মতামতে উল্লেখ করেছেন, কেন্দ্র সহকারী কম্পিউটার অপারেটর জহিরুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক মেজবা উদ্দিন বহিষ্কৃত ওই পরীক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শককে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সিসি ক্যামেরাবিহীন কক্ষে মেডিকেল প্রত্যয়ন ব্যতীত ‘সিক বেডে গণিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং বোর্ডের সরবরাহ করা অতিরিক্ত উত্তরপত্রে নকল সরবরাহ করায় একই সঙ্গে অসাদাচারণ ও ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। ঘটনাটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালা-২০২৪-এর প্রবিধান-৫২ (২) (জ), ৫২ (২) (ঝ)-এর দণ্ড ও প্রবিধান ৫২-এর অপরাধযোগ্য দণ্ড ও দি পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্ট ১৯৮০-এর ৮ ও ৯ ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন তিনি।
এই প্রতিবেদনের আলোকে উপরোক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহাপরিচালক, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে গত বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদনসহ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয় অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবা উদ্দিন বলেন, ‘মূলত কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শক তাদের অপরাধ আমাদের ওপর চাপাচ্ছেন। আমাদের ওপর আনীত অভিযোগ কিংবা দায় সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। কারণ কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শকের অনুমতি ছাড়া অন্য কারও কক্ষে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, জড়িত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার কার্যক্রম থেকে তাদের অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডকে পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে প্রতিবেদন আকারে প্রদান করা হয়েছে। সরকারের নকলমুক্ত পরিবেশকে তারা সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করতে এমন অপকর্ম করেছেন বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেছেন।
১৮ ঘণ্টা আগে
এসএসসির ভুয়া প্রশ্ন দিয়ে অর্থ হাতানো চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত চলমান এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস সম্পর্কিত অনলাইন প্রতারণা-সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন এসব তথ্য দেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. সিফাত আহমেদ সজীব, মো. সালমান, মো. মেজবাউল আলম মাহি এবং মো. মহিউজ্জামান মুন্না।
এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। তার কথায়, বর্তমানের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে তাদের দেওয়া প্রশ্নের মিল নেই। প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিত তারা।
মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) সিটিটিসির অনলাইন ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নজরদারির সময় ‘এসএসসি-২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস গ্রুপ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ শনাক্ত করে। সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিটিটিসির একটি দল একই দিন রাত ৮:২০টায় ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার জিরাবো তাঁজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সিফাত আহমেদ সজিবকে গ্রেপ্তার করে।
১৪ দিন আগে
নরসিংদীতে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা, অনিশ্চয়তায় ২০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ
নরসিংদীতে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় একটি কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে ২০ জন পরীক্ষার্থীকে। যে স্বপ্ন নিয়ে তারা এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিল, সে প্রস্তুতির হোঁচট খেয়েছে প্রথম দিনের পরীক্ষাতেই।
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার কারারচর মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে ওই শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা নরসিংদী প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে তাদের অভিযোগ উপস্থাপন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওই কেন্দ্রে বিভিন্ন কক্ষে তিন শতাধিক পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে একটি কক্ষে ২০ জন পরীক্ষার্থীর হাতে দেওয়া হয় ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র, যে প্রশ্নপত্র নিয়মিত, অর্থাৎ ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য নয়। এমন সিলেবাস-বহির্ভূত প্রশ্নপত্রে প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা দিয়েছে পরীক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষার দিনই তারা আপত্তি তুললে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা তাদের ধমক দিয়ে ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু প্রশ্নপত্র সঠিক না হওয়ায় ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবাই এখন পরীক্ষায় নিশ্চিত ফেল করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে।
পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা জানান, কারারচর মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ওই কক্ষে চারটি স্কুলের মোট ২০ জন পরীক্ষার্থী প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্র বিষয়ে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ছে। স্কুল চারটি হলো: পুটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ফেমাস ইনস্টিটিউট, হাজী শমসের আলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঘাগটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়।
শমসের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী মাহিমা আক্তার মিম জানায়, ক্লাসে তার রোল নম্বর ছিল ১ এবং সে এসএসসির আগে স্কুলের টেস্ট পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে পাস করে। তবে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ায় সে বাংলায় এখন ২০ নম্বরও পাবে না বলে ধারণা করছে। তার মতো এমন বাকি পরীক্ষার্থীরাও বাংলায় ফেল করবে বলে আশঙ্কা করছে।
ভুক্তভোগী নাদিরা সুলতানা, উম্মেহানি, নাজির আহমেদ, বিশাল দাস, সম্রাট ভূইয়া, সিয়াম হোসেন, আমিনুল, অভি, সাকিব, মো. শাহপরান জানায়, পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েই তারা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রশ্নপত্র ভুলের বিষয়টি জানিয়েছে, কিন্তু কেন্দ্রের দায়িত্বরত শিক্ষকরা তাদের ধমকিয়ে ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে বলেন এবং এ বিষয়টি বাইরের কাউকে না জানাতে অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. রাশেদুজ্জামান জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ আমরা সকলেই জেনেছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রে দায়িত্বরতদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পরে ঊর্ধ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৬ দিন আগে
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু, পরীক্ষার্থী ১৮ লাখ ৫৭ হাজার
সারা দেশে আজ মঙ্গলবার থেকে চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দেশব্যাপী ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে সকাল ১০টা থেকে এই পরীক্ষা শুরু হয়।
৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৭৪২টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ জন এবং ছাত্রী ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৫ জন।
অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬৫৩টি কেন্দ্রে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৫০৯ জন ছাত্র এবং ৩৩ হাজার ১৫১ জন ছাত্রী।
১৯ দিন আগে
কুমিল্লায় এসএসসি পুনর্নিরীক্ষায় ১৯০ জন পাস, জিপিএ-৫ বেড়ে ৬৭
২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে ৮৪৪ জন শিক্ষার্থীর ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করেছে ১৯০ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭ জন। এ ছাড়া, আগে জিপিএ-৫ পাওয়া ৯১ শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক গ্রেডে পরিবর্তন এসেছে।
রবিবার (১০আগস্ট) সকালে এ ফলাফল প্রকাশিত হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মো. কবির উদ্দিন।
কবির উদ্দিন বলেন, ‘গত ১০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ১১ জুলাই থেকে অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়, যা চলে ১৭ জুলাই পর্যন্ত। এ সময় মোট ৩৫ হাজার ৫৩১ জন শিক্ষার্থী ৭৫ হাজার ৮৭৭টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেন।’
আরও পড়ুন: এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়নি: ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান
তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী উত্তরপত্র পুনরায় যাচাইয়ের পর ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
চলতি বছর কুমিল্লা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৭২ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় মোট পাসের হার ছিল ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। আগে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৯০২ জন, যা এখন আরও ৬৭টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৯৬৯ জনে।
২৭২ দিন আগে
এসএসসি: যশোর বোর্ডে ফল পুনর্নিরীক্ষার আবেদন পড়েছে প্রায় ৫০ হাজার
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন পড়েছে ৪৯ হাজার ৭৭৯টি। এর মধ্যে সববেশি আবেদন পড়েছে ইংরেজিতে ১৬ হাজার ১২৮টি। আগামী ১০ আগস্ট এই পুনর্নিরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন। তিনি জানান, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫১ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তার মধ্যে পাস করে ১ লাখ ২ হাজার ৩১৯ জন।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, গত ১০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। ফলাফল প্রকাশের পরের দিন থেকেই পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন শুরু হয়। আবেদনের সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয় সাত দিন। বোর্ডের প্রকাশিত মূল ফলাফলে যেসব শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফলাফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে তারা ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করে। এ বছর ২৪টি বিষয়ে পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন পড়েছে ৪৯ হাজার ৭৭৯টি।
আরও পড়ুন: এসএসসি: যশোর বোর্ডে পাসের হার ৭৩.৬৯ শতাংশ, কমেছে জিপিএ-৫
তিনি আরও জানান, মোট আবেদনের মধ্যে ইংরেজি প্রথমপত্রে ৮ হাজার ৬৪টি, ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রে ৮ হাজার ৬৪টি, বাংলা প্রথমপত্রে ২ হাজার ১৭টি, বাংলা দ্বিতীয়পত্রে ২ হাজার ১৭টি, গণিতে ৬ হাজার ৮০৩টি, ভূগোলে ১ হাজার ১১৭টি, ইসলাম ধর্মে ১ হাজার ৭৪০টি, হিন্দু ধর্মে ৩০৪টি, উচ্চতর গণিতে ১ হাজার ৫১৫টি, বিজ্ঞানে ২ হাজার ১১৯টি, কৃষি শিক্ষায় ১ হাজার ৩৬৮টি, পদার্থবিজ্ঞানে ২ হাজার ৭০৮টি, রসায়নে ৩ হাজার ২৭২টি, জীববিজ্ঞানে ২ হাজার ১৭৬টি, পৌরনীতিতে ২৯৯টি, অর্থনীতিতে ৫৯৯টি, ব্যবসায় উদ্যোগে ১৪৩টি, হিসাববিজ্ঞানে ৫০৫টি, চারু ও কারুকলায় ২টি, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়ে ২ হাজার ৫১৭টি, গাহর্স্থ্যবিজ্ঞানে ১২১টি, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংয়ে ৩১০টি, ইতিহাসে ১ হাজার ২৬টি ও আইসিটিতে ৯৭৩টি আবেদন পড়েছে ।
ড. আব্দুল মতিন বলেন, অভিজ্ঞ পরীক্ষক দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে। যার যা প্রাপ্য ফলাফল তা নিশ্চিত করা হবে।
২৯২ দিন আগে
যশোরে ‘কেন্দ্রের ভুলে’ ৪৮ জন ফেল, সংশোধিত ফলে সবাই পাস
যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে যশোর সদর উপজেলার একটি এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভুলে রসায়নে ফেল করেছিল ৪৮ জন পরীক্ষার্থী। রসায়ন পরীক্ষার ব্যবহারিক নম্বর যোগ না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার তিন দিন পর রবিবার (১৩ জুলাই) ফলাফল সংশোধন করে প্রকাশ করা হয়। সংশোধিত ফলে দেখা যায়, ওই ৪৮ পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। তাদের মধ্যে অনেকেই জিপিএ-৫ পেয়েছে।
যশোর সদর উপজেলার পুলেরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া ৩২৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৪৮ জনের রসায়নের ব্যবহারিক নম্বর যোগ না হওয়ায় তাদের ফলাফল ফেল হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল। বিষয়টি বোর্ড কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হলে রোববার সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হয়।
ওই ৪৮ জনের একজন সাড়াপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিয়ারাজ ইসলাম। সে জানায়, জিপিএ-৫ পাব বলেই আত্মবিশ্বাস ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত ফলে ১০টি বিষয়ের মধ্যে আটটিতে জিপিএ-৫, একটিতে এ গ্রেড এবং রসায়নে ফেল দেখানো হয়। তবে সংশোধিত ফলে তার জিপিএ-৫ এসেছে।
আরও পড়ুন: ছয় বন্ধুর পাঁচজন পেল জিপিএ ৫, আরেকজনের আত্মহত্যা
মিয়ারাজ বলে, ‘এই কয়দিন বাবা-মাসহ পরিবারের কারও খাওয়া-ঘুম ছিল না। বাড়ির সবার মন খারাপ ছিল। এখন জিপিএ-৫ পেয়ে সবাই খুব খুশি।’
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, যশোর সদরের পুলেরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে এ বছর ছয়টি বিদ্যালয়ের ৩২৯ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৪৮ জন শিক্ষার্থী ছিল।
১০ জুলাই প্রকাশিত ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগের সব শিক্ষার্থীকে রসায়নে অকৃতকার্য দেখানো হয়। ফল বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দেখেন, রসায়নে সবাই ফেল করেছে।
এরপর সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলো কেন্দ্র সচিব খান জাহান আলীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ফল সংশোধনের জন্য যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে আবেদন করেন।
বোর্ডে যাচাই করে দেখা যায়, ওই শিক্ষার্থীদের রসায়ন বিষয়ের ব্যবহারিক নম্বর যুক্ত করা হয়নি। পরে কেন্দ্র থেকে পাঠানো ব্যবহারিক নম্বর যোগ করে রোববার সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হয়।
আরও পড়ুন: এসএসসি: যশোর বোর্ডে পাসের হার ৭৩.৬৯ শতাংশ, কমেছে জিপিএ-৫
কেন্দ্র সচিব খান জাহান আলী বলেন, ‘কেন বিজ্ঞান বিভাগের সবার রসায়নে ফেল দেখানো হলো তা আমরা বুঝতে পারিনি। ফল সংশোধনের আবেদন করার পর শিক্ষাবোর্ড গিয়ে সংশোধন করা হয়।’
যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবদুল মতিন বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে রসায়ন বিষয়ের ব্যবহারিক নম্বর পাঠানো হয়নি। ফলে ৪৮ শিক্ষার্থীর ফলাফল অসম্পূর্ণ ছিল এবং সবার ফল ফেল এসেছে। কেন্দ্রের ভুলেই এমনটা হয়েছে। রোববার সংশোধিত ফল দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রের এই ভুল বা অবহেলার জন্য কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৯৯ দিন আগে
এসএসসি: মেয়ের ভালো ফলেও মুখে হাসি নেই রিকশাচালক বাবার
বাবা পেশায় রিকশাচালক, নাম আবদুল কাদের। আর তার মেয়ে কোহিনুর আক্তার—এবার এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তরদা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
তবুও মেয়ের এই অসাধারণ সাফল্যে আনন্দ নেই বাবার চোখে-মুখে। কারণ, মেয়েকে আর লেখা পড়া করাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। এ অবস্থায় বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন বাবা আবদুল কাদের।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, লাকসাম উপজেলার গ্রামের একটি স্কুল উত্তরদা উচ্চ বিদ্যালয়। তার থেকে দুই কিলোমিটার দূরে খিলপাড়া গ্রাম। সেই গ্রামের আবদুল কাদের ও রেহানা বেগম দম্পতির ২ মেয়ে ১ ছেলের মধ্যে কোহিনুর মেজ। সে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছে। ৭ম থেকে তার ক্লাস রোল এক।
কোহিনুর আক্তার বলেন, ‘বাবার তেমন সামর্থ্য নেই। দুপুরে খাবারের জন্য কিছু টাকা পেতাম। তা দুই মাস না খেয়ে জমিয়েছি। সেই টাকা দিয়ে এক মাস প্রাইভেট পড়েছি। পরে টাকা না থাকায় আর প্রাইভেটে যাইনি। এদিকে কতদিন দুপুরে কিছু না খেয়ে থাকা যায়? পরে প্রাইভেটে না যাওয়ায় স্যাররা কারণ জানতে চান। টাকা না থাকার কথা বলায় তারা বিনামূল্যে পড়িয়েছেন। আল্লাহর রহমত,বাবার মা‘র দোয়া আর স্যারদের সহযোগিতা এ রেজাল্ট পেয়েছি। ভবিষ্যতে চিকিৎসত হতে চাই। কারণ আমার গ্রামে একটি মাত্র ফার্মেসি আছে। কেউ অসুস্থ হলে দূরে লাকসাম নিতে হয়। চিকিৎসক হয়ে গ্রামের মানুষের সেবা করতে চাই।’
আবদুল কাদের বলেন, ‘আমার যে আয় তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন, সেখানে কিভাবে মেয়েকে আরও পড়ালেখা করাবো তা নিয়ে টেনশনে রয়েছি। সহযোগিতা পেলে মেয়েটিকে আরও পড়াতে পারবো।’
উত্তরদা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. মাসুদুল হক বলেন, ‘কোহিনুর মেধাবী শিক্ষার্থী। সে মোট ১১৯৩ নম্বর পেয়ে এসএসসি পাশ করেছে। তার বাবার পক্ষে মেয়ের লেখাপড়ায় যোগান দেওয়া দুষ্কর। সে সহযোগিতা পেলে দেশের গৌরব বৃদ্ধি করবে।’
৩০০ দিন আগে
এসএসসি: যশোর বোর্ডে পাসের হার ৭৩.৬৯ শতাংশ, কমেছে জিপিএ-৫
২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১৫ হাজার ৪১০ জন শিক্ষার্থী। বিগত বছরগুলোর তুলনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুর ২টায় যশোর শিক্ষা বোর্ড কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর যশোর বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৪১০ জন শিক্ষার্থী। অথচ, গত বছর এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ, আর ২০ হাজার ৭৬১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
গতবছরের তুলনায় এবার পাসের হার ১৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমেছে এবং জিপিএ-৫’র সংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ৩৪১টি।
গত বছরের দেশসেরা ফলাফল করা যশোর বোর্ড এবার সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। বোর্ডের আওতাধীন ১০টি জেলার মধ্যে যশোর জেলা এবার পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
যশোর বোর্ডের অধীনে থাকা ৩৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৫টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করেছে। তবে দুইটি স্কুলে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি।
আরও পড়ুন: সর্বোচ্চ পাসের হার রাজশাহী বোর্ডে, সর্বনিম্ন বরিশালে
ফলাফলের বিষয়ে যশোর বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোসাম্মাৎ আসমা বেগম বলেন, এ বছরের ফলাফলে আমরা সন্তুষ্ট। কারণ শতভাগ পাসের আইওয়াস এবার নেই। যারা পাস করেছে, তারা পরীক্ষা দিয়ে নিজ যোগ্যতায় পাস করেছে।
তিনি আরও জানান, ফলাফল আরও ভালো করার লক্ষ্যে বোর্ডের চলমান নানা উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে যশোর বোর্ডকে আবারও সেরা অবস্থানে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এস. এম. মাহাবুবুল ইসলাম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
৩০৩ দিন আগে
চট্টগ্রাম বোর্ডের পাশের হার ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় কমেছে পাসের হার। এবার পাসের হার ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ।
যা গতবছর ছিল ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৮৪৩ জন, গত বছর পেয়েছে ১০ হাজার ৮২৩ জন। পাস করেছে ১ লাখ ১ হাজার ১৮১ জন। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ, গতবারের চেয়ে ২ শতাংশ কমেছে৷ ব্যবসায় শিক্ষায় ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ।
জিপিএ-৫ পাওয়া ১১ হাজার ৮৪৩ জনের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ১০ হাজার ৪৫৮ জন, ব্যবসায় শিক্ষায় ১ হাজার ২৪৭ জন এবং মানবিকে ১৩৮ জন শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (১০ মে) দুপুরে শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এ পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম ছাড়াও কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেয়। সব মিলিয়ে এবার ১ লাখ ৪০ হাজার ৯২৭ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এর আগেরবার অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯০ জন পরীক্ষার্থী।
৩০৩ দিন আগে