অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের মনের কথা প্রতিফলিত হয়েছে: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের মনের কথা প্রতিফলিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, তারেক রহমানের বক্তব্যকে আমি অভিনন্দন জানাই, আমি ধন্যবাদ জানাই। তিনি সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের অন্তরের কথা প্রতিধ্বনি করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংস্থা জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সেশনে।
তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের তিন প্রজন্মের যে ধারাবাহিকতা, সেটার তারেক রহমান প্রতিনিধি, তিন নম্বর প্রতিনিধি। তার বাবা ১৯৮০ সালে বক্তৃতা করেছেন, তার মা ১৯৯২ সালে বক্তৃতা করেছেন। আজকে তাদেরই জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান সেখানে বক্তব্য রেখেছেন।’
রিজভী বলেন, ‘বক্তব্য কী? বক্তব্য অন্য কিছু নয়, বলেছেন—অস্ত্রের বদলে, মারণাস্ত্রের বদলে, পরিবর্তনের হাতিয়ার হোক যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা আর মানবতা।
‘অসাধারণ বক্তব্য সেখানে দিয়েছেন। বলেছেন, প্রত্যেকটি দেশের সাথে প্রত্যেকটি দেশের সমমর্যাদার... সমমর্যাদার সাথে শ্রদ্ধাশীল সম্পর্ক থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবার পুনর্ব্যক্ত করেছেন, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা। এটা সারা বিশ্বের দাবি।
রিজভী আরও বলেন, ‘তিনি বাংলাদেশের মুসলিম... রোহিঙ্গা, যারা এখানে আজকে রিফিউজি হিসেবে আছেন, তাদের মর্যাদার ভিত্তিতে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়াও আরও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ নানাবিধ বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন তারেক রহমান।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘সারা বিশ্বের মানুষ শান্তি চায়, যুদ্ধ চায় না। যুদ্ধ হলে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, খাদ্য পণ্যের দাম বাড়ে, জ্বালানির দাম বাড়ে, গ্যাসের দাম বাড়ে। বিদ্যুৎ থাকে না, মিল-কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায়, মানুষ বেকার হয়।’
তিনি বলেন, ‘বন্ধুরা আমার, কোনো ভয় পাবেন না, ঝড় আসুক, বাতাস আসুক। আমরা আজকে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে, আজকে যারা আগুন দিয়ে, গাড়ি পুড়িয়ে বাংলাদেশের যে এখানে এই গণতন্ত্রের যে ধারাকে যারা বন্ধ করতে চাচ্ছে, বন্ধুরা আমার, তার বিরুদ্ধেই জাতীয়তাবাদী ওলামা দল সেলিম রেজা, আবুল হোসেনের নেতৃত্বে এই প্রতিবাদ সমাবেশ এবং মিছিলের আয়োজন করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে কোনো পাতানো নির্বাচন নয়, কোনো মিডনাইট নির্বাচন নয়, আমড়া কাঠের নির্বাচন নয়; অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বহুদিনের প্রত্যাশিত জনগণের ভোটে তারেক রহমানের সরকার, বিএনপির জোট সরকার ক্ষমতায়।’
রিজভী বলেন, ‘আমরা মানুষের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য, সামাজিক সুরক্ষার জন্য বিএনপির সরকার কাজ করছে। বন্ধুরা আমার, জাতীয়তাবাদী ওলামা দল সেই সরকারেরই একটি অংশ।
‘কাজেই বন্ধুরা আমার, এই দেশে দেশবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তির, তাদের কোনো অবস্থান নাই।’
তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে উপনিবেশ করতে চায়, যারা বাংলাদেশকে একটি তাবেদার রাষ্ট্র করতে চায়, জাতীয়তাবাদী ওলামা দল এবং বিএনপি এর বিরুদ্ধে রাস্তায় রাস্তায়, মোড়ে মোড়ে, পথের প্রান্তরে কঠিন ব্যারিকেড গড়ে তুলবে।’
২০ দিন আগে
নাশকতার ৩ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো রিজভীকে
নাশকতার অভিযোগে পল্টন ও বাড্ডা থানার পৃথক তিন মামলায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম তোফাজ্জল হোসেন আবেদন মঞ্জুর করেন।
রিজভীর আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেজবাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী শেখ শাকিল আহম্মেদ রিফন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কাকরাইলের বিজয়নগরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে ২০০/২৫০ জন লাঠিসোটা নিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িরচালক আয়নাল বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন খান।
এ মামলাটির চার্জ শুনানির জন্য আগামী ২৯ মার্চ তারিখ ধার্য রয়েছে।
এছাড়া ২০১৩ সালে পার্টি অফিসের সামনে নাশকতার অভিযোগে পল্টন থানায় এবং ২০১৫ সালের বাড্ডা থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এই তিন মামলাই বিচারাধীন।
আরও পড়ুন: নয়াপল্টনে সংঘর্ষ: রিজভী, এ্যানিসহ কারাগারে ৪৪৫ বিএনপি নেতাকর্মী
এর আগে রবিবার তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এদিন রাজধানীর শাহবাগ, রমনা ও পল্টন থানার নাশকতায় পৃথক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
গত বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন অনেকে। পরে বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান চালানো হলে সেখানে অনেক ককটেল পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ।
অভিযান চলাকালে নয়াপল্টন থেকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৪৭৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত দেড় থেকে দুই হাজার বিএনপির নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।
আরও পড়ুন: রিজভী ও ইশরাকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
পুলিশের বিরুদ্ধে রিজভীর মামলার আবেদন খারিজ
১৩৮৬ দিন আগে