শিক্ষক নিয়োগ
ঢাবির আইবিএতে পরিচালকের মেয়ের জন্য নিয়োগের শর্ত শিথিলের অভিযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) শিক্ষক নিয়োগে পরিচালকের মেয়েকে সুবিধা দিতে যোগ্যতা শিথিল করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আইবিএর বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর মেয়েকে নিয়োগ দিতে প্রভাষক পদে আবেদনের যোগ্যতার শর্ত কৌশলে শিথিল করে প্রশাসনের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
‘ইন্টিগ্রেটেড রুলস অ্যান্ড কোয়ালিফিকেশনস ফর অ্যাডভারটাইসড টিচিং পজিশনস’ অনুযায়ী, প্রভাষক পদে আবেদনের জন্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—উভয় পর্যায়ে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৫০ (৪.০০ এর মধ্যে) অথবা প্রথম শ্রেণি থাকতে হবে। গত ১৩ মে আইবিএর প্রভাষকের ৭টি শূন্য পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সেই নিয়ম মেনেই পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে আইবিএর পরিচালকের মেয়ে নূর জাহান আব্দুল্লাহ আবেদন করেন। তিনি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) থেকে ‘সেকেন্ড ক্লাস অনার্স (আপার ডিভিশন)’ ফলাফল নিয়ে ইতিহাস, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বিএ (স্নাতক) সম্পন্ন করেছেন। তাই ঢাবির নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা শর্ত তিনি পূরণ করতে পারেননি।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ১৩ মে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে আবেদনকারীদের নাম ও যোগ্যতা উল্লেখ করে আইবিএ পরিচালক একটি তালিকা উপ-উপাচার্যের (শিক্ষা) কাছে পাঠান। তবে কারা বিজ্ঞাপনের শর্ত পূরণ করেছেন এবং কারা করেননি, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট মন্তব্য না থাকায় উপ-উপাচার্য সেটি ফেরত পাঠান। পরে পরিচালক সেপ্টেম্বরে আরেকটি তালিকা উপ-উপাচার্যের দপ্তরে পাঠান। এখন পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ায় আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এর মাঝেই অভিযোগ ওঠে, বিজ্ঞপ্তির শর্তের কারণে পরিচালকের মেয়ে বাদ পড়ার আশঙ্কায় আইবিএ থেকে গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রভাষকের দুটি পদে নিয়োগের জন্য নতুন চাহিদাপত্র কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।
আরও অভিযোগ পাওয়া যায়, পরিচালকের মেয়েকে সুযোগ দিতে নতুন চাহিদাপত্রে যোগ্যতার মাপকাঠি পরিবর্তন করে ‘সিজিপিএ ৩.৫০ অথবা প্রথম শ্রেণি অথবা ৬৫ শতাংশের বেশি নম্বর’ লেখা হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে পরিচালকের মেয়ের স্নাতকে পাওয়া নম্বরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নতুন এই শর্তটি আগের বিজ্ঞপ্তিতে ছিল না এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার পরিপন্থি।
এছাড়া চাহিদাপত্রে বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতাও এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পরিচালকের মেয়ের ডিগ্রির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
১৩ মে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ‘অর্থনীতি’ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন চাহিদাপত্রে নির্দিষ্ট করে অর্থনীতি, বিজনেস অ্যানালিটিক্স, বিজনেস ল ও এন্টারপ্রেনারশিপ চাওয়া হয়েছে। নূর জাহানের স্নাতক অর্থনীতিতে ও স্নাতকোত্তর এন্টারপ্রেনারশিপে হওয়ায় নতুন চাহিদাপত্রটি মূলত তাকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মূলত নিয়োগের শর্ত ও মানদণ্ড ঠিক করে ইনস্টিটিউশনের ‘কো-অর্ডিনেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিএন্ডডি)’ কমিটি। জ্যেষ্ঠতম এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষকের সমন্বয়ে কমিটিটি গঠন করা হয়, যার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিচালক।
নতুন এই চাহিদাপত্রের শর্তের বিষয়ে আইবিএর একটি সূত্র জানায়, ‘চাহিদা অনুযায়ী সিঅ্যান্ডডি এটা অনুমোদন দিয়েছে, বাকিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ইচ্ছা।’ ফলে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুমোদন পেলেই চূড়ান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে।
এদিকে রেজিস্ট্রার ভবনের আরেকটি সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বরে পাঠানো নতুন শর্তযুক্ত চাহিদাপত্রটি অনুমোদনের জন্য উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) বরাবর পাঠানো হয়েছিল। তিনি নিজস্ব কোনো মতামত না দিয়ে সেটি সরাসরি উপাচার্যের কাছে পাঠান। কিন্তু উপাচার্য সেখানে উপ-উপাচার্যের কোনো মন্তব্য বা মতামত না দেখে ফাইলটি ফেরত পাঠান। ফাইলটি বর্তমানে সেখানেই আটকে আছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে তিন দিন চেষ্টা করেও আইবিএ পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা যায়নি। তার মুঠোফোনে বার্তা পাঠালে তিনি অসুস্থ বলে জানান।
পরে পরিচালকের একজন সহকারী প্রতিবেদককে ফোন করে বনানীতে তার ব্যক্তিগত অফিসে গিয়ে সরাসরি কথা বলতে বলেন। প্রতিবেদক সেখানে গিয়েও আইবিএ পরিচালকের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তিনি অসুস্থ বলে তার একজন গবেষণা সহকারী জানান।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রথমত এটা প্রক্রিয়াধীন। তাই এ বিষয়ে আমার কোনো মতামত নেই। আমরা সাধারণত সিঅ্যান্ডডি কমিটির সুপারিশকে সম্মান করার চেষ্টা করি। যদি এ রকম কিছু হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামও এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, ‘এখনও আমার কাছে আসেনি।’
৩ দিন আগে
প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদানের তারিখ পরিবর্তন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর শূন্য পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের যোগদান তারিখ ২৯ অক্টোবর পরিবর্তন করে আগামী ১ অক্টোবর ধার্য করা হয়েছে এবং যোগদানের পরদিন তাদের পদায়ন করা হবে।
রবিবার (২ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখার উপসচিব জনাব রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্বাচিত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান করবেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে।
যোগদানের পরদিন পদায়ন এবং পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
৭৮ দিন আগে
প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে অক্টোবরে
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের যোগদান প্রক্রিয়া আগামী অক্টোবর মাসে শুরু হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শনিবার (১ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত এক জরুরি ভার্চুয়াল সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকের জন্য সুপারিশ করা ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষকের যোগদানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। তদন্ত ও প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রিতার কারণে তা বিলম্বিত হয়েছে। আশা করি, আসন্ন ৩০শে অক্টোবরের মধ্যে তাদের যোগদান প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
৭৮ দিন আগে
জুলাই থেকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষায় দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও পদোন্নতি জটিলতা নিরসনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে এবং আগামী জুলাই থেকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) সিলেট নগরীর জালালাবাদ গ্যাস ভবন অডিটোরিয়ামে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার নকলমুক্ত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। অতীতের মতো এবারও কঠোর নজরদারি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হবে। ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পুলিশ সদস্যরা বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন এবং সিসিটিভির মাধ্যমে কেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরপত্র মূল্যায়নে অভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ, নমুনা উত্তরপত্র পর্যালোচনা, পরীক্ষকদের মূল্যায়ন এবং অতিরিক্ত খাতা মূল্যায়নের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্ব শুধু পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তদারকি, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও পদোন্নতি জটিলতা নিরসনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে বিচারাধীন মামলার কারণে প্রায় ২৫ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে রয়েছে। আদালতের রায়ের আলোকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক পদের শূন্যতা রয়েছে এবং আগামী জুলাই থেকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন-সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসন করে নিয়মিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বিচারাধীন ৩০ হাজারের বেশি মামলাও পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হবে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি জেলার শিক্ষা পরিস্থিতি সরাসরি পর্যালোচনা, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, সুষ্ঠু পরীক্ষা পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব চৌধুরী মামুন আকবর এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।
এ সময় সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সিলেট অঞ্চলের কেন্দ্রপ্রধান এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১১২ দিন আগে
শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির প্রতিবাদে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ প্রত্যাখ্যান
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে বারবার দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির প্রতিবাদে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ প্রত্যাখানের ঘোষণা দিয়েছেন মো. নূরুল হুদা নামে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।
তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল নিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। ভালো ফল অর্জন সত্বেও নিজে শিক্ষক নিয়োগে আবেদন করে দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির কাছে হার মেনেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: কোটার ভিত্তিতে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট
এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া স্বর্ণপদকও ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নূরুল হুদা।
শনিবার (১৩ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদক প্রত্যাখ্যানের এই ঘোষণা দেন।
লিখিত বক্তব্যে নূরুল হুদা বলেন, ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আর্থিক লেনদেন, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক প্রত্যাখ্যান করছি।’
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, ৯৩৩৭ জন উত্তীর্ণ
নূরুল হুদা লালমনিরহাট জেলার মৃত আহর উদ্দীনের ছেলে। তিনি জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ভর্তি হন। এলএলবিতে (সম্মান) সিজিপিএ-৩.৬৫৪ এবং এলএলএমে ৩.৬০৭ অর্জন করেন।
এলএলবি পরীক্ষার ফলাফলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে প্রথম স্থান অর্জন করায় ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদক এবং ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পান। বর্তমানে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন।
আরও পড়ুন: সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা: ১২ পরীক্ষার্থী আটক, বহিষ্কার ৩
নুরুল হুদা জানান, ২০১৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আবেদন করেন তিনি। নিয়োগ বোর্ড বসার আগে বোর্ডের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও বিভাগীয় তৎকালীন সভাপতির বিরুদ্ধে নানা অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ করেন। এসব বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া নুরুল হুদার চেয়ে যাদের জিপিএ কম এমন তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত কমিটি নিয়োগ বোর্ডকে অবৈধ ঘোষণা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত ইউজিসির তদন্ত কমিটির সামনে ২০২০ সালের ১৭-১৮ সেপ্টেম্বর উপস্থিত হয়ে আমি ও আমার স্ত্রী শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য এবং বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরি। ইউজিসির তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ১ ও ২ নম্বর পর্যবেক্ষণে শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানানো হয়।’
আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা: ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ আটক ৩৫
১০০৯ দিন আগে
এসএমএসের মাধ্যমে উত্তরপত্র দেখে পরীক্ষা: গ্রেপ্তার ১
নওগাঁয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় এক পরীক্ষার্থীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। শুক্রবার পরীক্ষা চলাকালীন জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাহারুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ সাজা দেন।
গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ আল মামুন জেলার পোরশা উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাহারুল ইসলাম বলেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন অসৎ উদ্দেশ্যে প্রশ্নফাঁস চক্রের অন্যান্য সদস্য কর্তৃক মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে সরবরাহকৃত উত্তরপত্র দেখে পরীক্ষা দিচ্ছিলো। পরে তাকে দন্ডবিধি আইন ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।
এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, দুইটি সিম ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন এর পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া তাকে যারা উত্তরপত্র সরবরাহ করছিল তাদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সির প্রস্তুতি: বরিশালে গ্রেপ্তার ৩
চাঁদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের দুই পরীক্ষার্থী নিহত, আহত ২
১৬১২ দিন আগে
শিক্ষক নিয়োগে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে: রাষ্ট্রপতি
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ রবিবার বলেছেন, যোগ্য প্রার্থীরা যাতে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পায় তা নিশ্চিতে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
২১২১ দিন আগে
আরও ১৪ জেলার শিক্ষক নিয়োগ হাইকোর্টে স্থগিত
আরও ১৪ জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম সোমবার স্থগিত করেছে হাইকোর্ট।
২৪৬৩ দিন আগে