কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর
শাহ আমানতে এক ফ্লাইটে ১,৮০২ কার্টন সিগারেট, ১৩ আইফোন জব্দ
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি১৪৮ ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৮০২ কার্টন বিদেশি সিগারেট ও ১৩টি আইফোন জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। জব্দ পণ্যের শুল্ক-করসহ মোট মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ টাকা।
এক বিজ্ঞপ্তিতে সিআইআইডি জানিয়েছে, অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আসা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৮টা ১৮ মিনিটে দুবাই থেকে বিজি১৪৮ ফ্লাইটটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর যাত্রী ও ব্যাগেজের ওপর বিশেষ নজরদারি শুরু করা হয়।
অভিযানে যাত্রী এমডি মঈনুল আবদিনের কাছ থেকে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের ২৪৯ কার্টন ও মন্ড ব্র্যান্ডের ১৫ কার্টন, অর্থাৎ মোট ২৬৪ কার্টন সিগারেট এবং চারটি আইফোন জব্দ করা হয়।
একই ফ্লাইটের যাত্রী আবদুল মান্নানের কাছ থেকে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের ২৩৩ কার্টন ও মন্ড ব্র্যান্ডের ১৩ কার্টন, মোট ২৪৬ কার্টন সিগারেট এবং চারটি আইফোন জব্দ করা হয়।
অপর যাত্রী নুরুল আলম রিয়াদের কাছ থেকে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের ২৬৫ কার্টন ও ইস্যি ব্র্যান্ডের সাত কার্টন, মোট ২৭২ কার্টন সিগারেট এবং পাঁচটি আইফোন জব্দ করা হয়।
এদিকে বিমানবন্দরের ২ নম্বর ব্যাগেজ বেল্টে একই ফ্লাইটে আসা মালিকানাবিহীন ব্যাগেজ থেকে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের আরও ১ হাজার ২০ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়।
সিআইআইডি জানায়, সব মিলিয়ে এক ফ্লাইট থেকেই ১ হাজার ৮০২ কার্টন বিদেশি সিগারেট ও ১৩টি আইফোন জব্দ করা হয়েছে।
জব্দ সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৪ লাখ ৮ হাজার টাকা। ৬২১ শতাংশ টিটিআই অনুযায়ী এর বিপরীতে প্রযোজ্য শুল্ক-কর প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ ৩ হাজার ৬৮০ টাকা বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ১৩টি আইফোনের আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। ৫৮ শতাংশ টিটিআই অনুযায়ী এগুলোর প্রযোজ্য শুল্ক-কর প্রায় ৭ লাখ ২৩ হাজার ৭১০ টাকা।
সিগারেট ও মোবাইল ফোনের শুল্ক-করসহ জব্দ পণ্যের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ টাকা।
সিআইআইডি বলেছে, একই ফ্লাইটের একাধিক যাত্রীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সিগারেট ও আইফোন এবং মালিকানাবিহীন ব্যাগেজে আরও ১ হাজারের বেশি কার্টন সিগারেট পাওয়ার ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানকে সাম্প্রতিক সময়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একযোগে সবচেয়ে বড় সিগারেটের চালান আটকের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
চোরাচালান প্রতিরোধ, রাজস্ব সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে অবৈধ পণ্য আনার অপচেষ্টা রোধে সিআইআইডির গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
২ দিন আগে
চট্টগ্রামে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা সাড়ে ১১ কোটি টাকার গার্মেন্টস ফেব্রিক জব্দ
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের আনা বিপুল পরিমাণ গার্মেন্টস ফেব্রিক জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। যার বাজার মূল্য ১১ কোটি ৪৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা।
বুধবার (৪ জানুয়ারি) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. বশীর আহমেদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অধিদপ্তর জানিয়েছে যে খোলা বাজারে বিক্রির লক্ষ্যে গোল্ডটেক্স গার্মেন্টসের আরও চারটি চালানে ১০৮ দশমিক ৪৭ টন ফেব্রিক পাওয়া গেছে। যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য তিন কোটি ৮১ লাখ টাকার বেশি।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৩ অক্টোবর নগরীর উত্তর হালিশহরে স্পীডওয়ে লজিস্টিকসের ভাড়া গুদামে অভিযান চালিয়ে ঢাকার সাভারের ডিইপিজেডের গোল্ডটেক্স গার্মেন্টস লিমিটেডের আমদানি করা ১০৭ দশমিক ২৬ টন ফেব্রিক্স আটক করা হয়। যার বাজার মূল্য ছিল ১০ কোটি টাকা। এ ঘটনায় সিএন্ডএফ এজেন্ট স্প্রীডওয়ে লজিস্টিকের মালিক মো. খসরুল আলম আকনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নগরীর হালিশহর থানায় ফৌজদারি মামলাসহ চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেটে মামলা করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম কাস্টমসের শুল্কায়ন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে ১২ ঘন্টা
আরও জানা যায়, এর ধারাবাহিকতায় একই আমদানিকারকের খালাসের অপেক্ষায় থাকা আরও চারটি চালান চট্টগ্রাম বন্দরে চিহ্নিত করা হয়। চার কনটেইনারের চালানগুলো কাস্টম হাউসের অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) কর্মকর্তা ও বন্দর প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ফোর্স কিপডাউন করে কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
এ চালান গুলোর তিনটি বিএলের শিপিং এজেন্ট এমসিসি ট্রান্সপোর্ট (মার্কস বাংলাদেশ লিমিটেড) এবং একটি বিএলের শিপিং এজেন্ট ইউরোম্যাক্স লজিস্টিকস লিমিটেডের।
মহাপরিচালক মো. বশীর আহমেদ জানান, তদন্তকালে দেখা গেছে প্রাপ্ত সব দলিলাদি আমদানিকার গোল্ডটেক্স গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ইস্যু হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাইপূর্বক ইমপোর্ট পাস (আইপি) ইস্যু করা হয়। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চিঠি দিয়ে কাঁচামাল আমদানির বিষয়টি অস্বীকার করলেও বেপজা থেকে আইপি গ্রহণসহ আমদানি দলিলাদির আলোকে বিষয়টি স্পষ্ট যে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গোল্ডটেক্স গার্মেন্টস লিমিটেড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে বন্ড সুবিধায় শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে পণ্যচালানগুলো খালাস নেয়ার অপচেষ্টা করেছেন।
আরও পড়ুন: ৩৩০টি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে এনবিআর
তিনি আরও বলেন, বন্ড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের বা ব্যক্তি বন্ড সুবিধায় আনা পণ্যের অবৈধ মজুদ, সরবরাহ ও খোলা বাজারে বিক্রি বা বিক্রির চেষ্টা চোরাচালান বলে গণ্য। এসব পণ্য চোরাই পথে খোলাবাজারে বিক্রির চেষ্টা রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। যা দ্য কাস্টমস অ্যাক্ট ১৯৬৯ অনুযায়ী একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে কাস্টম হাউসে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিএলগুলোর বিপরীতে কোনো বৈধ এলসি বা সেলস কনট্রাক্টের মাধ্যমে ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো না হওয়ায় অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ অনুযাযী মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
আরও পড়ুন: ৩১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তামাবিলসহ তিন শুল্কস্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ
১৩২২ দিন আগে