হুমায়ুন কবির
মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে তেহরান উদ্বিগ্ন নয়: ইরানি রাষ্ট্রদূত
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না তেহরান। একই সঙ্গে এই চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানের বিষয়ে ঢাকার সিদ্ধান্ত নিয়েও দেশটি উদ্বিগ্ন নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা মক্কা শান্তি চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ মনে করি না। বাংলাদেশের সিদ্ধান্তও নিয়েও আমাদের উদ্বেগ নেই।’
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঢাকার ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান সম্পর্কে তেহরান অবগত আছে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা ভালোভাবেই জানি যে, আপনাদের সরকার অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে।’ ফলে আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যেকোনো সিদ্ধান্ত ইরানের জন্য উদ্বেগের কারণ হবে না বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ককে তেহরান গুরুত্ব দেয় এবং রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আমরা আগ্রহী।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের পাশাপাশি ওই অঞ্চলের বাইরের মানুষের স্বার্থেও আঞ্চলিক উত্তেজনার দ্রুত অবসান এবং স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে যে, দেশগুলো তাদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে একে অপরের ওপর নির্ভরতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
তার কথায়, ‘আঞ্চলিক দেশগুলো যে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, শান্তি চুক্তি এর ভালো প্রমাণ। এটি প্রমাণ করে যে তারা আর নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার ওপর নির্ভর করতে চায় না।’
সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
তিনি বলেন, তাই দেশগুলোর উচিত বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদেরই নেওয়া। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগগুলো বৃহত্তর কৌশলগত স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাকিস্তান ও সৌদি আরবসহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ ধরনের উদ্যোগকে ইরান প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে না।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর অন্যদের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি না করে নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা করতে সক্ষম হওয়া উচিত।
এর আগে, গেল রবিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোনো ঝুঁকি দেখছে না; বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দেশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার আলোকে উদ্যোগটিকে একটি ‘অনন্য’ ও নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছে ঢাকা।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর সেদিন সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এটি একটি অনন্য উদ্যোগ। এগুলো নতুন সুযোগ।’ বর্তমান বিশ্বের অস্থির ও সংকটময় আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো দেশকে পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে সমন্বিত ও নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘মক্কা বাংলাদেশের হৃদয়ে।’
তবে, মঙ্গলবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে ঢাকা। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনও চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পায়নি।
গত ৭ আগস্ট ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। চুক্তিতে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২ দিন আগে
মক্কা চুক্তিতে কোনো ঝুঁকি দেখছে না ঢাকা: হুমায়ুন কবির
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’ নিয়ে কোনো ঝুঁকি দেখছে না বাংলাদেশ। বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দেশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার আলোকে উদ্যোগটিকে একটি ‘অনন্য’ ও নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছে ঢাকা।
রবিবার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময় বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নেয় এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দেশের প্রমাণিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।
মক্কা চুক্তি নিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাঁচার আগে যদি মরার চিন্তা করেন, তাহলে লাভ আছে বলেন?’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি অনন্য উদ্যোগ। এগুলো নতুন সুযোগ।’ বর্তমান বিশ্বের অস্থির ও সংকটময় আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো দেশকে পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে সমন্বিত ও নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা আমাদের সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য রাখব। বাংলাদেশ সারা বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। যেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রধান থাকবে, সেখানেই বাংলাদেশের অবস্থান থাকবে।’
জাতিসংঘের অধীনে বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা নতুন কোনো বিষয় নয়।
‘আমরা সারা বিশ্বে এটা করছি। তাহলে আমাদের মুসলিম ভ্রাতৃত্বের জন্য কেন তা করতে পারব না?’—প্রশ্ন রাখেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসা খারাপ কিছু নয়। বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের রক্ষক হিসেবে সৌদি আরবের ভূমিকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
মক্কা চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, আলোচনাগুলো ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে। ওআইসি বৈঠকের ফাঁকে সৌদি আরব ও তুরস্কসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আসেনি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বিশ্বের অন্যতম বড় অবদানকারী দেশ। দেশের সশস্ত্র বাহিনী জাতিসংঘ ব্যবস্থায় অন্যতম বৃহৎ অবদান রেখে আসছে।
‘আমরা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছি,’ বলেন তিনি।
কোনো বাধ্যবাধকতার কারণে নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা মূল্যায়ন করেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হয় বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
চীনের সঙ্গে ‘২+২’ সংলাপের প্রস্তুতি
এ সময় চীনের সঙ্গে পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে ‘২+২’ সংলাপ শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে অদূর ভবিষ্যতে এ সংলাপ শুরু হবে। তবে এখনও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২+২’ সংলাপ বাংলাদেশের বর্তমান ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব এবং নির্বাচিত সরকারের অধীনে দেশের কৌশলগত অবস্থানের প্রতিফলন।
তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ও উন্নয়ন সহযোগী। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায় বাংলাদেশ।
এর আগে, রবিবার চীনের রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও বৈঠক করেন হুমায়ুন কবির। সম্প্রতি জেদ্দায় ওআইসি বৈঠকের ফাঁকে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল এবং উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনার বিভিন্ন বিষয়ও উঠে আসে এ বৈঠকে।
ওআইসি বৈঠকের ফাঁকে কাতারের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কুয়েতের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ ও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের ‘গুডউইল’ বা সুনাম এখন বেশ দৃশ্যমান উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ইতিবাচক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
৫ দিন আগে
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
সম্ভাব্য ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে বাংলাদেশ ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে যদি একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়, তাহলে সেটিতে যোগদান তো কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মক্কা ডিফেন্স প্যাক্টে আমরা আগ্রহ প্রকাশ করছি।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি দেশ হিসেবে বিভিন্ন উদ্যোগে আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অংশীজন ও বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন বাংলাদেশের নেতৃত্বকে বিভিন্ন জায়গায় আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।
‘আর মক্কা নিয়ে তো সবসময়ই একটা আলাদা জায়গা, মক্কা বাংলাদেশের হৃদয়ের... মানুষের হৃদয়ে,’ বলেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, তো মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে যদি একটা প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়, তাহলে ওখানে যাওয়া তো আর অস্বাভাবিক না। সুতরাং, দেখা যাক, কী হয়! তবে এটা ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতির একটি কৌশলগত কাঠামো তৈরি করেছে এবং এখন সেই ভিত্তির ওপর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন দায়িত্ব পেলেও এটি তার জন্য পুরোপুরি নতুন কোনো কাজ নয়। প্রধানমন্ত্রী তাকে নতুন দায়িত্ব দিয়েছেন এবং আগের কাজের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই তিনি এ দায়িত্ব পালন করছেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে গত ছয় মাস ধরে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন। এখন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতায় বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
১১ দিন আগে
তাড়াহুড়া নয়, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর: হুমায়ুন কবির
তাড়াহুড়া করে নয়, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে আলোচনায় অগ্রগতি হলে উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর করা হবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। তবে কোনো দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শনিবার (২২ আগস্ট) সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন হুমায়ুন কবির।
ভারত সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটু অগ্রগতি হোক। আলোচনার ভিত্তিতে এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে আমরা অবশ্যই যাব, যখন সময়টা উপযুক্ত হবে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ভারতের সঙ্গে একটি ইতিবাচক সম্পর্ক চাই। কেন রাখব না? তারা আমাদের প্রতিবেশী। আমাদের একটি কার্যকর সম্পর্ক থাকা উচিত।
তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু ভারত নয়, কোনো দেশের সঙ্গেই আমাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে আমরা কিছু করতে পারি না।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর দেড় হাজার মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসী হিসেবে ভারতে গেছেন। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলও এসেছে। আরও অনেক মামলা বিচারাধীন।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে। সুতরাং এগুলো নতুন কোনো শর্ত বা নতুন কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার বিষয় নয়; এগুলো চলমান বিষয়।
ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনাসহ অন্য অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, আরও অপরাধী আছে, যারা পালিয়ে ভারতে আছে। এটা বাংলাদেশের মানুষের স্বাভাবিক দাবি এবং তাদের অনুভূতির বিষয়। সেই প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েই ভারতের সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত হতে চাই।
তিনি বলেন, আমরা ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হব। আমরা একটি ইতিবাচক সম্পর্ক চাই। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই তা করতে হবে।
ভারত সফরে কোনো তাড়াহুড়া নেই জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি আগামীকালও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারি, তাহলে আগামী সপ্তাহে যেতে পারি, অথবা পরের সপ্তাহেও যেতে পারি। এখানে কোনো তাড়াহুড়া নেই।
প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফরের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও আলোচনা দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে আলোচনা করার বিষয় আছে, প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয় আছে। প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফর তো এমন নয় যে হুট করে গিয়ে হয়ে গেল। এটা কোনো খেলার বিষয় নয়।
তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের আগে কিছু প্রস্তুতি ও ভিত্তি তৈরি করতে হবে। আমরা সেটিই করছি।
ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব ও সদিচ্ছার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, সেখান থেকেও ইতিবাচক মনোভাব ও সদিচ্ছার ইঙ্গিত আসছে।
বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতির বিষয়টি ভারতও স্বীকার করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা দেখছেন, ভারত থেকেও এ বিষয়ে বক্তব্য আসছে। তারা স্বীকার করেছে যে বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে—বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর পলাতক শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তারা বিষয়টি লক্ষ করেছে।
এটিকে ‘একটি ভালো সূচনা’ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন আমরা দেখি, বাকি আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয় কি না। আলোচনার ভিত্তিতে এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সময় উপযুক্ত হলেই আমরা অবশ্যই ভারত সফরে যাব।
১৩ দিন আগে
বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ জনশক্তি নিতে লিথুয়ানিয়ার প্রতি আহ্বান
বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ঢাকায় ভিসা সেন্টার স্থাপনের জন্য লিথুয়ানিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত লিথুয়ানিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত ডায়ানা মিকেভিসিয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা, দক্ষ মানবসম্পদ বিনিময় এবং ঢাকায় লিথুয়ানিয়ার ভিসা সেন্টার স্থাপনসহ পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে বিদ্যমান ধারাবাহিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে লিথুয়ানিয়াকে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে ঢাকায় লিথুয়ানিয়ার একটি ভিসা সেন্টার স্থাপনের অনুরোধ জানান তিনি।
লিথুয়ানিয়ার রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে শিক্ষাখাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
১৮ দিন আগে
কৌশলগত কারণে সৌদি জোটে যোগদান, ইরানকে আঘাতের উদ্দেশ্যে নয়: হুমায়ুন কবির
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগদান কোনোভাবেই ইরানকে লক্ষ্য করে নয়; বরং সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং হুথি হুমকি মোকাবিলায় সহযোগিতার অংশ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
রবিবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে হুথিদের হুমকি মোকাবিলার জন্য। অন্যদিকে আমরা ইরানের সঙ্গেও কথাবার্তা বলছি। তাই এটিকে কোনোভাবেই ইরানকে বাদ দেওয়া বা আঘাত করার কিছু হিসেবে দেখার কারণ নেই।
তিনি বলেন, মূল বিষয়টি হলো সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ক শুধু হজ, ওমরাহ বা তীর্থযাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটিকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ নেই। ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক হবে একটি কৌশলগত সম্পর্ক। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সম্পর্ক হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরব ইসলাম ধর্মের দুটি পবিত্র মসজিদ—মক্কা ও মদিনার রক্ষক। এ কারণে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। যেকোনো সময় সৌদি আরবের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা যদি সহযোগিতা চায়, এই আত্মিক ও নৈতিক সম্পর্কের জায়গা থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবসময় সহায়তার জন্য সাড়া দেবে।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল বিশেষ দূত সার্জিও গরের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর ছিল একটি পরিচিতিমূলক ও অনুসন্ধানমূলক সফর। এটি ছিল তার বাংলাদেশে প্রথম সফর এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সার্জিও গরের বৈঠক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, ভূরাজনীতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সহযোগিতাসহ বিস্তৃত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সফর শেষে সার্জিও গর প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাংলাদেশকে তারা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
চীনা বিনিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেমন চীনের বিনিয়োগ রয়েছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোরও বিনিয়োগ রয়েছে। সরকার কোনো পক্ষের সঙ্গে বিরোধে না গিয়ে সব অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চায়।
৩৩ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে আইআরসি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) একটি প্রতিনিধিদল।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়৷ বৈঠকে বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রস্তুতি, ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন আইআরসির এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক উপপরিচালক হাসিনা রহমান। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির আঞ্চলিক অ্যাডভোকেসি বিশেষজ্ঞ এবং অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিকেশন প্রধান শাবিরা নূপুর।
এ সময় বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আইআরসির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় জনগণের সক্ষমতা বাড়ানো, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সহনশীলতা গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রাণহানি ও জীবিকার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব।’
আলোচনায় উভয় পক্ষ দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি জোরদার করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমিউনিটির সক্ষমতা উন্নয়ন এবং টেকসই সহনশীলতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অগ্রাধিকারসমূহ বাস্তবায়নে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অভিঘাত মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি বাংলাদেশ ও আইআরসির মধ্যকার সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৭৮ দিন আগে
খুলনায় সুন্দরবন দিবস পালিত
বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে কেবল মানুষকে নয়; প্রকৃতিকে ভালোবাসুন, সুন্দরবনকে ভালোবাসুন- এ আহ্বান জানিয়ে খুলনায় সুন্দরবন দিবস পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দিবসটি পালন উপলক্ষে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০১ সাল থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় বেসরকারিভাবে সুন্দরবন দিবস পালিত হচ্ছে।
তারা বলেন, সুন্দরবন নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সুন্দরবনকে টিকিয়ে না রাখতে পারলে পরিবেশের বিপর্যয় নেমে আসবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুন্দরবনের ওপর প্রভাব পড়ছে।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে র্যাবের বিশেষ অভিযান
এছাড়া বিষ দিয়ে মাছ শিকারের ফলে রেনু ও পোনা পর্যন্ত মারা যাচ্ছে। এছাড়া সুন্দরবনে রাস উৎসব, মাছ, গোলপাতা, মধু সংগ্রহ এবং হরিণ ও বাঘ শিকার করা হচ্ছে। কেটে ফেলা হচ্ছে গাছ। এছাড়া, সুন্দরবনের রোগাক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন গাছ মারা যাচ্ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
তারা বলেন, সুন্দরবন আমাদের রক্ষাকবজ। এটি আমাদের মায়ের মতো। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুন্দরবন আমাদের রক্ষা করে আসছে। এজন্য সুন্দরবনকে টিকিয়ে রাখতে হবে।
সুন্দরবন সুরক্ষার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে 'সুন্দরবন দিবস' পালন করা জরুরি।
কিন্তু গত ২১ বছরেও দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পায়নি। অনেক দিবস পালন করা হয়। সভায় সুন্দরবন দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন-স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. ইউসুপ আলী।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির।
বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. নাজমুস সাদাত।
জানা গেছে, সুন্দরবন ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এর মোট আয়তন ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশের আয়তন প্রায় ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার।
বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও নানান ধরণের পাখি, চিত্রা হরিণ, কুমির, বানর ও সাপসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল সুন্দরবন।
এই বনভূমিতে বিখ্যাত সুন্দরী ও গোলপাতা গাছও পাওয়া যায়। ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনে রয়েছে পাঁচ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ, ১৯৮ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ১২৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৫৭৯ প্রজাতির পাখি, ১২৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ও ৩০ প্রজাতির চিংড়ি মাছ রয়েছে।
আরও পড়ুন: খুলনায় সুন্দরবন দিবস উদযাপন
বর্ণাঢ্য আয়োজনে খুলনায় ‘সুন্দরবন দিবস’ পালিত
১২৯৮ দিন আগে