আবদুল আউয়াল মিন্টু
পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হবে: পরিবেশমন্ত্রী
কৃষিজমির উর্বর মাটি রক্ষা, বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং টেকসই নির্মাণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
রবিবার (১৬ আগস্ট) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বৃদ্ধি ও সরকারি নির্মাণকাজে ব্লক ব্যবহারের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও নির্মাণ খাতের বাস্তব প্রয়োজনের মধ্যে সমন্বয় রেখে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, সরকারি প্রকৌশল দপ্তর, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অংশীজনকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষা করে বিনিয়োগ বাড়ানোর পক্ষে। তাই ইটভাটার মালিকদের দ্রুততম সময়ে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তর হতে হবে।
আজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বৃদ্ধি, সরকারি নির্মাণকাজে ব্লক ব্যবহারের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ইটশিল্পের সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে পৃথক দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম সভায় সরকারি নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কারকাজে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, সরকারি প্রকৌশল দপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কংক্রিট ব্লক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
পরিবেশবান্ধব ব্লকের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে কাঁচামাল আমদানির শুল্ক ও কর যৌক্তিকীকরণ, উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট কমানো, কাঁচামাল কেনায় পরিশোধিত ভ্যাটের রেয়াত এবং শিল্পবর্জ্য ও নির্মাণবর্জ্য পুনর্ব্যবহারে প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়।
এসব বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় ব্লকের মান নিশ্চিত করতে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পাশাপাশি গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সরকারি প্রকৌশল দপ্তরকে মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবীক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা এবং প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান ও রাজমিস্ত্রিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
দিনের দ্বিতীয় সভায় ইটশিল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ অটো ব্রিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়।
সভায় ইটশিল্পের বিদ্যমান সমস্যা, পরিবেশগত মান ও আইন পরিপালন, কাঁচামাল ও জ্বালানি ব্যবহার এবং অধিকতর পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থায় রূপান্তরের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রচলিত ইটভাটার পরিবেশগত প্রভাব কমানো, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ইট উৎপাদনে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ইট ও পরিবেশবান্ধব ব্লক উৎপাদনের প্রসারে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।
ইটশিল্পের প্রতিনিধিরা খাতটির সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার বিষয়ে তাদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে সভায় জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ কংক্রিট ব্লক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতি, বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ অটো ব্রিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
১০ দিন আগে
হাতির আবাসস্থল রক্ষা হলে মানুষের ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত হবে: পরিবেশমন্ত্রী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, হাতির আবাসস্থল রক্ষা মানে শুধু হাতিকে রক্ষা করা নয়; এর মাধ্যমে বন, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত হয়।
তিনি বলেন, হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বন বিভাগের মাঠকর্মী, বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষার্থী, তরুণ প্রজন্ম, গবেষক, গণমাধ্যমকর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে বিশ্ব হাতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ বছরের বিশ্ব হাতি দিবসের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ‘ব্রিঙ্গিং দ্য ওয়ার্ল্ড টুগেদার টু হেল্প এলিফ্যান্টস’ যার বাংলা প্রতিপাদ্য ‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি’। হাতি ও এর আবাসস্থল সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, একসময় দেশে প্রচুর হাতি থাকলেও বর্তমানে এ প্রাণীর সংখ্যা ক্রমেই কমছে। আবাসস্থল দখল ও ধ্বংস, বন উজাড়, অবৈধ শিকার এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ হাতির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, হাতি রক্ষার সঙ্গে বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই হাতির আবাসস্থল রক্ষা করা গেলে শুধু একটি বিপন্ন প্রাণীই রক্ষা পাবে না, একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য এবং মানুষের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বন্যহাতির সংখ্যা ২৬৮টি, পরিযায়ী বন্যহাতি ৯৩টি এবং পোষা হাতি ৯৬টি। ২০২৭ সালের মধ্যে পুনরায় হাতি জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাতি সংরক্ষণে ৪০টি অগ্রাধিকার কার্যক্রম
হাতি সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে পরিবেশমন্ত্রী জানান, হাতি সংরক্ষণে ‘বাংলাদেশ এলিফ্যান্ট কনজাভেশন অ্যাকশন প্ল্যান (২০১৮-২০২৭)’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে ৪০টি অগ্রাধিকার কার্যক্রম চিহ্নিত রয়েছে। এসব কার্যক্রম বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মানুষ-হাতি সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা, ২০২১’ অনুযায়ী নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ৩ লাখ টাকা, আহত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং জানমালের ক্ষতির জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ২০১২ সাল থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত নিহত ৩২২ জনের পরিবার, আহত ১৬৯ জন এবং ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতির শিকার ৩ হাজার ২১৫টি পরিবারকে মোট প্রায় ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
হাতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুততম সময়ে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য বন অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।
মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে ১৫৯টি ইআরটি
মানুষ-হাতি সংঘাত মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, হাতি অধ্যুষিত এলাকায় এ পর্যন্ত ১৫৯টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করা হয়েছে।
এসব দল হাতির আগমন সম্পর্কে দ্রুত সতর্কবার্তা প্রদান, প্রাণীটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপদ উপায়ে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাত কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
‘হাতি সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। স্থানীয় জনগণকে বাদ দিয়ে হাতি সংরক্ষণ কখনোই টেকসই হবে না,’ বলেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল তার সংসদীয় আসনের এলাকায় হাতির আক্রমণ ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অপর বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষায় হাতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজন্য হাতি রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি মনে করিয়ে দেন, মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, হাতি শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বেই বিপন্ন। হাতি রক্ষা হলে এর সুফল কতটা বিস্তৃত হবে, তা সাধারণভাবে অনুধাবন করা কঠিন। ফলে নতুন প্রকল্প অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
তিনি সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সরকারের সঙ্গে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরণ্যক ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আব্দুল মোতালেব হাতি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে হাতি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
১৪ দিন আগে
বৃহস্পতিবার পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
আগামীকাল ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষে বুধবার (৮ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, এবারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। ঢাকায় পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি দেশের সাতটি বিভাগীয় সদরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হবে। এবার জাতীয় বৃক্ষমেলায় মোট ১২০টি স্টল থাকবে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে জাতীয় পর্যায়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।
আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, এই কর্মসূচির আওতায় স্যাটেলাইটভিত্তিক জিআইএস ও রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমে রোপিত গাছের অবস্থান ও প্রবৃদ্ধি ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। সারা দেশে রোপণ করা গাছের তথ্য সংরক্ষণ এবং টিকে থাকার হার পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ ও ট্রি মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হবে। এ জন্য একটি অ্যাপও তৈরি করা হবে।
তিনি জানান, দুর্গম চরাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা ও বনাঞ্চলের বনসৃজন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। গ্রামীণ নারী ও যুবকদের নার্সারি ব্যবসা ও বৃক্ষরোপণ-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে স্বাবলম্বী করা হবে এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে।
মন্ত্রী বলেন, চলতি বছর বন অধিদপ্তরের মাধ্যমে বৃক্ষহীন এলাকা, রাস্তা, খাল-বাঁধ ও উপকূলীয় অঞ্চলে এক কোটি ৫০ লাখ স্থানোপযোগী দেশীয় প্রজাতির চারা রোপণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জবরদখলমুক্ত বনভূমির চার হাজার ৮০০ হেক্টর এলাকায় নতুন বনায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
৪৯ দিন আগে
ফেনীর তিনটি আসনেই ধানের শীষের বিজয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর ৩টি আসনেই বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা বিপুল সংখ্যক ভোটে জয়লাভ করেছেন। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।
ফেনীর ৩টি আসনের ফলাফল অনুযায়ী, ফেনী-১ আসনে রফিকুল ইসলাম মজনু, ফেনী-২ আসনে অধ্যাপক জয়নাল আবদীন (ভিপি জয়নাল) ও ফেনী-৩ আসনে আবদুল আউয়াল মিন্টু বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ফেনী-১ (ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া) আসনে মোট ১২১টি ভোটকেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থী মুন্সি রফিকুল আলম মজনু ১ লাখ ১৯ হাজার ৯০৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৭১৫ ভোট। এই আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪৯টি এবং ‘না’ ভোট ৬০ হাজার ৪৫৮টি।
ফেনী-১ আসন থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার মৃত্যুর পর এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মুন্সী রফিকুল আলম মজনুকে।
ফেনী-২ (ফেনী সদর) আসনে ১৪৬টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৮ ভোট। এই আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৩২টি, আর ‘না’ ভোট দিয়েছেন ৭২ হাজার ৫৩৩ জন।
ফেনী-২ আসন থেকে ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জয়নাল আবদিন ভিপি। তিনি প্রথমবার জাসদ থেকে এবং বিএনপি থেকে ২ বার এমপি নির্বাচিত হন।
ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে ১৬১টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক ১ লাখ ৮ হাজার ১৬০ ভোট পেয়েছেন। এখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৩২১ জন, আর ‘না’ ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ১৪টি।
ফেনী-৩ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিল্পপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু। এর আগে এ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাহবুবুল আলম তারা মিয়া ২ বার ও মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফেনীর ৩টি আসনে মোট ভোটার ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৯২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬৭ জন, নারী ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৪৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৮ জন। জেলায় ৪২৮টি ভোটকেন্দ্র ও ২ হাজার ৪৩৯টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। গড়ে ৫৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে।
এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর তিনটি আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে ফেনী-১ আসনে ৭ জন, ফেনী-২ আসনে ১১ জন ও ফেনী-৩ আসনে ৮ জন প্রার্থী ছিলেন।
মনিরা হক বলেন, ‘ফেনীর তিনটি আসনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ হয়েছে। নির্বাচনে যারা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সবার সহযোগিতায় এ ধরনের একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন শেষ করা সম্ভব হয়েছে।’
১৯৪ দিন আগে
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে দাগনভূঞা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ফেনী–৩ (দাগনভূঞা ও সোনাগাজী) আসনে বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে থানায় জিডি করেন মিন্টুর নির্বাচনি এজেন্ট মোহাম্মদ শামসুদ্দীন।
জিডি উল্লেখ করা হয়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে দাগনভূঞা উপজেলায় ফেনী–৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন ওরফে মানিকের নির্বাচনি প্রচারণায় জামায়াত নেতা মেজবাহ উদ্দিন ধানের শীষের প্রার্থী মিন্টুকে উদ্দেশ্য করে হুমকি দিয়েছেন। এরকম আরও বিভিন্নভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিনিয়ত তাকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। এতে করে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ ব্যাপারে জামায়াত নেতা মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচনের প্রচারণাকালে আমি একটি রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছি। এখানে এটিকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নেওয়ার কিছু নেই। আমি যা বলেছি, আপনারা ভিডিওতে বক্তব্যটি শুনতে পারেন। এটি অনলাইনে পাওয়া যাবে।’
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান ধানের শীষ প্রার্থীর পক্ষে তার এজেন্ট জিডি করেছেন বলে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
১৯৯ দিন আগে
৭৩ বছর বয়সে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন আবদুল আউয়াল মিন্টুর
৭৩ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৃতীয় মাস্টার্স ডিগ্রি (মাস্টার অব ল’জ) অর্জন করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু।
ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের কুইন মেরি কলেজ থেকে তিনি এই ডিগ্রি অর্জন করেন।
সোমবার ইউনিভার্সিটির বার্বিকান সেন্টারে গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে এলএলএম-এর সনদ গ্রহণ করেন ৭৩ বছর বয়সী এ শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: একাডেমিক ডিগ্রির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অর্জনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
আবদুল আউয়াল মিন্টু ২০১৭ সালে ইউনিভার্সটি অব লন্ডনে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ল’র ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হন। এরপর মোট চারটি কোর্সে ৫৩, ৬১, ৬২ ও ৬৪ নম্বর পেয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
এর আগেও এগ্রিকালচার অব ইকোনমিকস এবং মেরিন ট্রান্সপোর্টেশনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি।
১৯৪৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেয়া আবদুল আউয়াল মিন্টু ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৪ সালে এসএসসি ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ১৯৬৬ সালে এইচএসসি পাস করেন।
মার্কেন্টাইল মেরিন একাডেমি চট্টগ্রাম থেকে ১৯৬৮ সালে ডিপ্লোমা করেন নৌবিজ্ঞানে।
নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৭৩ সালে মেরিন ট্রান্সপোর্টেশন বিজ্ঞান বিএসসি ডিগ্রি ও ১৯৭৭ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
কৃষি ব্যবসা শুরু করার পর ১৯৯৫ সালে সোয়াচ, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এগ্রিকালচার অব ইকোনমিকসে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিন সন্তানের জনক আবদুল আউয়াল একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, মাল্টিমোড গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
আবদুল আউয়াল মিন্টু কর্মজীবনে মেরিন একাডেমি থেকে জাহাজের ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। চাকরি করেন আমেরিকান জাহাজ কোম্পানিতে। ১৯৮১ সালে জাহাজ কোম্পানির চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে শুরু করেন শিপিং লাইনের ব্যবসা। আমেরিকান লাইনেই তিনি প্রথম পাঁচ-সাত বছর শিপিং ব্যবসা করেন।
এরপর দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিল এবং প্রগতি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি ১৯৮৩ সালে বেসরকারি ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম।
এরপর ১৯৯৫ সালে কৃষি সেক্টরে ব্যবসায় হাত দেন। দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি বীজ কোম্পানি লাল তীর সিডের চেয়ারম্যান তিনি।
এই বয়সেও বাবার এমন কীর্তিতে অভিভূত ছেলে তাবিথ এম আউয়াল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘আমার বাবা আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রতিনিয়ত তার কাজের মধ্য দিয়ে আমাদের অনুপ্রাণিত করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতি, সমাজসেবা, ব্যবসা-সবকিছু সামলে এখনও জ্ঞানচর্চার জায়গায় তার বিন্দুমাত্র ছাড় নেই। বরং প্রতিবছরই যেন আমাদের জন্য সফলতার নতুন নতুন মান নির্ধারণ করে দেন তিনি। আজ বাবাকে আবারও অভিনন্দন জানাই তার তৃতীয় মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া প্যালেস্টাইন ও জর্ডানের নাগরিকেরা বাংলাদেশের একেকজন শুভেচ্ছাদূত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
নরওয়েতে বিনামূল্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের উপায়
১২৬৬ দিন আগে