আবদুল আউয়াল মিন্টু
ফেনীর তিনটি আসনেই ধানের শীষের বিজয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর ৩টি আসনেই বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা বিপুল সংখ্যক ভোটে জয়লাভ করেছেন। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।
ফেনীর ৩টি আসনের ফলাফল অনুযায়ী, ফেনী-১ আসনে রফিকুল ইসলাম মজনু, ফেনী-২ আসনে অধ্যাপক জয়নাল আবদীন (ভিপি জয়নাল) ও ফেনী-৩ আসনে আবদুল আউয়াল মিন্টু বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ফেনী-১ (ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া) আসনে মোট ১২১টি ভোটকেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থী মুন্সি রফিকুল আলম মজনু ১ লাখ ১৯ হাজার ৯০৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৭১৫ ভোট। এই আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪৯টি এবং ‘না’ ভোট ৬০ হাজার ৪৫৮টি।
ফেনী-১ আসন থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার মৃত্যুর পর এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মুন্সী রফিকুল আলম মজনুকে।
ফেনী-২ (ফেনী সদর) আসনে ১৪৬টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৮ ভোট। এই আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৩২টি, আর ‘না’ ভোট দিয়েছেন ৭২ হাজার ৫৩৩ জন।
ফেনী-২ আসন থেকে ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জয়নাল আবদিন ভিপি। তিনি প্রথমবার জাসদ থেকে এবং বিএনপি থেকে ২ বার এমপি নির্বাচিত হন।
ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে ১৬১টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক ১ লাখ ৮ হাজার ১৬০ ভোট পেয়েছেন। এখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৩২১ জন, আর ‘না’ ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ১৪টি।
ফেনী-৩ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিল্পপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু। এর আগে এ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাহবুবুল আলম তারা মিয়া ২ বার ও মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফেনীর ৩টি আসনে মোট ভোটার ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৯২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬৭ জন, নারী ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৪৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৮ জন। জেলায় ৪২৮টি ভোটকেন্দ্র ও ২ হাজার ৪৩৯টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। গড়ে ৫৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে।
এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর তিনটি আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে ফেনী-১ আসনে ৭ জন, ফেনী-২ আসনে ১১ জন ও ফেনী-৩ আসনে ৮ জন প্রার্থী ছিলেন।
মনিরা হক বলেন, ‘ফেনীর তিনটি আসনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ হয়েছে। নির্বাচনে যারা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সবার সহযোগিতায় এ ধরনের একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন শেষ করা সম্ভব হয়েছে।’
৩ দিন আগে
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে দাগনভূঞা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ফেনী–৩ (দাগনভূঞা ও সোনাগাজী) আসনে বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে থানায় জিডি করেন মিন্টুর নির্বাচনি এজেন্ট মোহাম্মদ শামসুদ্দীন।
জিডি উল্লেখ করা হয়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে দাগনভূঞা উপজেলায় ফেনী–৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন ওরফে মানিকের নির্বাচনি প্রচারণায় জামায়াত নেতা মেজবাহ উদ্দিন ধানের শীষের প্রার্থী মিন্টুকে উদ্দেশ্য করে হুমকি দিয়েছেন। এরকম আরও বিভিন্নভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিনিয়ত তাকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। এতে করে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ ব্যাপারে জামায়াত নেতা মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচনের প্রচারণাকালে আমি একটি রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছি। এখানে এটিকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নেওয়ার কিছু নেই। আমি যা বলেছি, আপনারা ভিডিওতে বক্তব্যটি শুনতে পারেন। এটি অনলাইনে পাওয়া যাবে।’
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান ধানের শীষ প্রার্থীর পক্ষে তার এজেন্ট জিডি করেছেন বলে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
৮ দিন আগে
৭৩ বছর বয়সে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন আবদুল আউয়াল মিন্টুর
৭৩ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৃতীয় মাস্টার্স ডিগ্রি (মাস্টার অব ল’জ) অর্জন করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু।
ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের কুইন মেরি কলেজ থেকে তিনি এই ডিগ্রি অর্জন করেন।
সোমবার ইউনিভার্সিটির বার্বিকান সেন্টারে গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে এলএলএম-এর সনদ গ্রহণ করেন ৭৩ বছর বয়সী এ শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: একাডেমিক ডিগ্রির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অর্জনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
আবদুল আউয়াল মিন্টু ২০১৭ সালে ইউনিভার্সটি অব লন্ডনে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ল’র ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হন। এরপর মোট চারটি কোর্সে ৫৩, ৬১, ৬২ ও ৬৪ নম্বর পেয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
এর আগেও এগ্রিকালচার অব ইকোনমিকস এবং মেরিন ট্রান্সপোর্টেশনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি।
১৯৪৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেয়া আবদুল আউয়াল মিন্টু ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৪ সালে এসএসসি ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ১৯৬৬ সালে এইচএসসি পাস করেন।
মার্কেন্টাইল মেরিন একাডেমি চট্টগ্রাম থেকে ১৯৬৮ সালে ডিপ্লোমা করেন নৌবিজ্ঞানে।
নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৭৩ সালে মেরিন ট্রান্সপোর্টেশন বিজ্ঞান বিএসসি ডিগ্রি ও ১৯৭৭ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
কৃষি ব্যবসা শুরু করার পর ১৯৯৫ সালে সোয়াচ, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এগ্রিকালচার অব ইকোনমিকসে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিন সন্তানের জনক আবদুল আউয়াল একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, মাল্টিমোড গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
আবদুল আউয়াল মিন্টু কর্মজীবনে মেরিন একাডেমি থেকে জাহাজের ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। চাকরি করেন আমেরিকান জাহাজ কোম্পানিতে। ১৯৮১ সালে জাহাজ কোম্পানির চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে শুরু করেন শিপিং লাইনের ব্যবসা। আমেরিকান লাইনেই তিনি প্রথম পাঁচ-সাত বছর শিপিং ব্যবসা করেন।
এরপর দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিল এবং প্রগতি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি ১৯৮৩ সালে বেসরকারি ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম।
এরপর ১৯৯৫ সালে কৃষি সেক্টরে ব্যবসায় হাত দেন। দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি বীজ কোম্পানি লাল তীর সিডের চেয়ারম্যান তিনি।
এই বয়সেও বাবার এমন কীর্তিতে অভিভূত ছেলে তাবিথ এম আউয়াল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘আমার বাবা আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রতিনিয়ত তার কাজের মধ্য দিয়ে আমাদের অনুপ্রাণিত করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতি, সমাজসেবা, ব্যবসা-সবকিছু সামলে এখনও জ্ঞানচর্চার জায়গায় তার বিন্দুমাত্র ছাড় নেই। বরং প্রতিবছরই যেন আমাদের জন্য সফলতার নতুন নতুন মান নির্ধারণ করে দেন তিনি। আজ বাবাকে আবারও অভিনন্দন জানাই তার তৃতীয় মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া প্যালেস্টাইন ও জর্ডানের নাগরিকেরা বাংলাদেশের একেকজন শুভেচ্ছাদূত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
নরওয়েতে বিনামূল্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের উপায়
১০৭৫ দিন আগে