জমির উদ্দিন সরকার
জমির উদ্দিন সরকারের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের প্রতি সংসদে শ্রদ্ধা
জাতীয় সংসদে সদ্যপ্রয়াত সাবেক স্পিকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ রাজনীতিক ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা।
আলোচনা শেষে তার প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদ সদস্যরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
মোনাজাত শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দিনের কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত করে সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন। এরপর দক্ষিণ প্লাজায় বাদ আছর তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জমিরউদ্দিন সরকার এমন একটা জনপদের মানুষ, যে জনপদটির অত্যন্ত দরিদ্র লোকের বাস, কিন্তু এই মানুষগুলোর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তারা এখনও তাকে তাদের অভিভাবক মনে করে। তিনি কোনোদিন কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি।’
তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের অতি প্রিয় মানুষটি শুধু উত্তরবঙ্গেই নয়, ঢাকাতেও জনপ্রিয় ছিলেন। সারা জীবনে তিনি যখন যেখানে কাজ করেছেন, পরম নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আইনের ও আইনের শাসনের প্রতি তার যে অবিচল আস্থা, গণতন্ত্রের প্রতি তার যে অবিচল আস্থা—এটা আমরা খুব কম দেখেছি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি একদিকে ইতিহাসের ছাত্র ছিলেন, সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন, পরে আইনের পেশাকে বেছে নিয়েছিলেন। যেকোনো বিষয়ে তিনি অবলীলায় অনেকক্ষণ কথা বলতে পারতেন এবং জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য রাখতে পারতেন। আমাদের সকলের কাছে তিনি অনুসরণীয়।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দলের প্রতি তার যে আনুগত্য, রাজনীতির প্রতি যে আনুগত্য, উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি তার যে আনুগত্য—এ ব্যাপারে তিনি অবিচল ছিলেন। আমাকে সবসময় একটা কথা বলতেন, “ইলেকশন করবে, ইলেকশনের মধ্যে দিয়ে যাবে। ইলেকশন ছাড়া কিন্তু কখনও গণতন্ত্রে পৌঁছানো যায় না।”’
শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার পেশাগত জীবনে এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে সফল ও বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। ব্যক্তি এবং দল হিসেবে আমি এবং আমরা তার ক্লায়েন্ট ছিলাম, বিশেষ করে আমাদের কষ্টের দিনগুলোতে, ফ্যাসিবাদী আমলে।’
তিনি বলেন, ‘আইনের যাঁতাকলে যখন আমরা পিষ্ট, তখন প্রায়ই আমরা তার কাছে যেতাম। তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েই শুধু আমাদের কাজ সারেননি, বরং আমাদের মজলুম নেতৃবৃন্দের পক্ষে আদালতে বারবার দাঁড়িয়েছেন।’
ডা. শফিকুর বলেন, ‘প্রথমবার থেকেই আমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাকে কিছু ফি দিতে চেয়েছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হইনি। তিনি বলতেন, “এটা আমার নৈতিক দায়িত্ব। এটি আমার জন্য সুযোগ।” একসঙ্গে রাজনীতি করেছি। তার এই অবদান স্মরণ করে আমার চোখে পানি আসছে। আমরা তার ঋণ পরিশোধ করতে পারব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি স্পিকার হিসেবে সংসদকে প্রাণবন্ত করে রেখেছিলেন। আইনের অঙ্গনে তিনি অনেকের গুরু। তার চলন-বলনসহ সবকিছুই ছিল শিক্ষণীয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন, আইনজীবী ছিলেন। তিনি আইন প্রণয়নকারী ছিলেন, স্পিকার ছিলেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ছিলেন। এরকম একজন সফল মানুষ আমাদের জন্য ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।’
তিনি বলেন, ‘উনার যে কর্মজীবন, আমার বয়সের সমান উনার কর্মজীবনের পরিধি। এই কর্মজীবনে তার সুনাম ছাড়া কোনো ব্যক্তি, কোনো ক্লায়েন্ট কিংবা আইনজীবী হিসেবে তার বিরুদ্ধে কোনোদিন কোনো সমালোচনা করেননি।’
প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মরহুম জমিরউদ্দিন সরকার একজন অত্যন্ত সফল আইনজীবী ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সিরিয়াসভাবে তার ক্লায়েন্টদের জন্য কাজ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘তিনি একজন সফল আইনজীবী, একজন সফল রাজনীতিবিদ। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে তিনি বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেও বিভিন্ন পদে অবদান রেখেছেন এবং এই সংসদে স্পিকার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।’
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, ‘১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পঞ্চম জাতীয় সংসদকে যারা প্রাণবন্ত করে রেখেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জনাব জমিরউদ্দিন সরকার।’
তিনি বলেন, ‘২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে তিনি স্পিকার নির্বাচিত হন। সেই সময় দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। বিশেষ করে তখন একটি ফ্যাসিবাদী দল বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল। আমরা দেখেছি, তিনি অত্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে শান্তভাবে সেই দায়িত্ব পালন করে গেছেন।’
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, ‘তিনি শুধুমাত্র একজন আইনজীবী ছিলেন না। আজকের রাজনীতিবিদদের জন্যও তিনি শিক্ষণীয়। তিনি ১২টি বই লিখেছেন। আইনজীবী ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে লেখালেখির সেই চর্চা এখন কমে গেছে। এ ক্ষেত্রে তিনি আমাদের জন্য উদাহরণ।’
সরকারি দলের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘আইন পেশায় সুনাম অর্জনের কারণে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত পাঁচবার তাকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান।’
এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ‘যারা নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, সেই স্বপ্নের সঙ্গে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের যে স্বপ্নের আবহ ছিল, সেটাকে মিলিয়ে নিয়ে সামনের দিনে আমরা যেন সেই স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়ন করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে তার অতীত জীবনের কর্মকাণ্ড, বক্তব্য এবং অনুপ্রেরণাদায়ী ভূমিকা ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে সংরক্ষণ করতে পারলে সেটি বাংলাদেশের জন্য আরও ভালো একটি উদাহরণ হবে।’
সংসদ সদস্যরা তাদের বক্তব্যে মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
সবশেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ‘জাতি একজন আইনজ্ঞ এবং একজন সাদা মনের মানুষকে হারিয়েছে। আপনাদের বক্তব্য শুনে আমিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। আমিও কয়েকটি সংসদে তার সহকর্মী ছিলাম। আপনাদের ওখানে বসেই (সংসদ সদস্যের আসনে) এই চেয়ার থেকে তিনি যখন অত্যন্ত সুন্দরভাবে এই সংসদ পরিচালনা করতেন, সেটি দেখে মুগ্ধ হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘তিনি একজন বিশিষ্ট আইনজীবী ছিলেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ, যার সম্পর্কে কখনো কারও কাছ থেকে কোনো অভিযোগ শুনতে পাইনি। জাতি এক মহান সন্তানকে হারাল।’
শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে মরহুমের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতনের পরিচালনায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা অতীতে দেখেছি, সংসদ চলাকালে কোনো সাবেক স্পিকার মারা গেলে তার ওপর শোক প্রস্তাব এনে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলোচনা করে ওই দিনের জন্য সংসদের কার্যক্রম মুলতবি করা হয়। এটা তাকে সম্মান জানানোর জন্য করা হয়। সুতরাং আর কোনো আলোচনা না করে এই বিষয়ে প্রস্তাব এনে সংসদের কার্যক্রম মুলতবি করার আহ্বান জানাই।’
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমার যেটুকু অভিজ্ঞতা, কোনো বর্তমান সংসদ সদস্য মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে সংসদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। আজ পর্যন্ত কর্মরত অবস্থায় কোনো স্পিকার মারা গেছেন বলে আমার জানা নেই। আগে কখনও এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো সদস্য, এমনকি স্পিকার মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে সংসদ মুলতবি হয়ে যায়। আজ যেহেতু একজন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্পিকার ইন্তেকাল করেছেন, সে কারণে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সংসদ মুলতবি করিনি।’
তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আলোচনা করব। আলোচনা করার পরেই আজকে সংসদের বাকি কার্যক্রম অনিষ্পন্ন রেখে মূলতবি করা হবে।’
সাবেক স্পিকার, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আজ রবিবার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
৫ দিন আগে
কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে: জমির উদ্দিন সরকার
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকাকে বৈধ করার বিধান রাখা মানেই ‘দুর্নীতিকে উৎসাহিত’ করা।
তিনি বলেন, ‘যদি ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করা যায়, তাহলে আমাদের, সৎ করদাতা এবং তাদের (কালো টাকার ধারক) মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না।’
শুক্রবার (৭ জুন) এক আলোচনা সভায় জমির উদ্দিন এসব কথা বলেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত কালো টাকা বৈধ করার কোনো সুযোগ না দিয়ে বাজেয়াপ্ত করা উচিত। ‘যদি করের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করা যায়, তাহলে সেটি অসততায় লিপ্ত হতে উৎসাহিত হবে।’
এর আগে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার বিধান রেখে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
আরও পড়ুন: লুটপাটের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এই বাজেট: ফখরুল
তবে দুই বছর আগেও ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার বিধান ছিল। তবে পরে ভালো সাড়া না পাওয়ায় এ বিধান বাতিল করা হয়।
এক বছরের বিরতির পর অর্থমন্ত্রী কর ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করে বিধানটি আবারও ফিরিয়ে এনেছেন।
সংসদের প্রাক্তন স্পিকার সরকার কালো টাকা সাদা করার বিধানটি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ‘দয়া করে সতর্ক থাকুন, যাতে একজনের উপার্জন করা অর্থ এবং অন্যজনের সহজেই পেয়ে যাওয়া অর্থের মধ্যে পার্থক্য বজায় থাকে। সহজে টাকা পাওয়ার সঙ্গে টাকা রোজগার করার মিল থাকে না... সরকারের কাছে এটাই আমার বিনীত অনুরোধ।’
সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলীর স্মরণে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপিপন্থী পেশাজীবী পরিষদ।
দেশের বিচার বিভাগে এ জে মোহাম্মদ আলীর অবদানের কথা স্মরণ করে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাবেক এই স্পিকার।
আরও পড়ুন: ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি নেতাদের আর সহ্য হচ্ছে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
৭৭০ দিন আগে
ভাষা আন্দোলন মাথা নত না করা শেখায়: জমির উদ্দিন সরকার
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের উপায় হিসেবে সারাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে তার দলকে তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারণা চালানোর উপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপি নেতা জমির উদ্দিন সরকার।
মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন জনগণকে মাথা নত না করতে শেখায়। এখান থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে জনগণ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঘুরে দাঁড়াবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এখন জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বলতে হবে বিএনপি মানেই শান্তি, গণতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের উন্নয়ন। ইনশাল্লাহ দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে।’
আরও পড়ুন: ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার সরকার বলেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের অনুপস্থিতির কারণে দেশ অরাজকতার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপি ও দলটির নেতা-কর্মীরা গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করায় দীর্ঘদিন ধরে কঠিন সময় পার করছে।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি।
সরকার আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন কোনো গতানুগতিক আন্দোলন নয়, এটি একটি আদর্শিক আন্দোলন।
তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন ছিল বাংলার পরিবর্তে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন।
তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এই ভাষা আন্দোলন আমাদের শিক্ষা দেয় যে- আমরা মাথা নত না করে আমরা আমাদের অধিকার আদায় করব। আমাদের আওয়াজ তুলতে হবে এবং আমাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বাঙালিই একমাত্র জাতি যারা জীবন দিয়েছে, রক্ত ঝরিয়েছে, মাতৃভাষার জন্য যুদ্ধ করেছে। ‘মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করা গত শতাব্দীতে বাংলা ছিল শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।’
আরও পড়ুন: বিএনপি নেতারা মুখ রক্ষায় অসংলগ্ন কথা বলছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনকারীদের নির্মমভাবে হত্যা করে পাকিস্তানিরা বাঙালিদের শহীদ মিনার দিয়েছে। ‘কিন্তু শেখ হাসিনার সুবাদে এখন বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে শহীদ মিনার তৈরির অবস্থা হয়েছে।’
বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, তাদের দলের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী খুন ও গুমের শিকার হয়েছেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে হাজার হাজার মানুষ নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীন হয়েছে। ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় ৫৩ বছর পর এখন আমরা এমন এক ক্রান্তিলগ্নে উপনীত হয়েছি যখন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে।’
‘আসুন আমরা জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনি, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসি। দেশে মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। এজন্য আমরা রাজপথে ছিলাম, রাজপথে আছি, রাজপথে থাকব।’
আরও পড়ুন: ‘বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিলে আমরা বাধা দেব কেন?’
৮৭৭ দিন আগে
সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারকে ২৭ লাখ টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ আদালতের
ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারকে চিকিৎসা ভাতা হিসেবে নেয়া ২৭ লাখ ৮৬ হাজার ৩৬৪ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত ৬ মার্চ ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক প্রদীপ কুমার রায় আগামী ৯ জুলাইয়ের মধ্যে টাকা জমা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কাগজ আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।
গত বছর ২৫ আগস্ট প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ দুর্নীতির পাঁচটি মামলা বাতিল করে রায় দেন।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, চিকিৎসা ভাতা হিসেবে উত্তোলন করা এই টাকা (২৭ লাখ ৮৬ হাজার ৩৬৪ টাকা) রায়ের কপি বিচারিক আদালত গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।
সেই রায়ের অনুলিপি বিচারিক আদালতে গত ৬ মার্চ পৌঁছায়। এখন সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী এই অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়ে তার চালান কপি আদালতে দাখিল করা হবে বলে সোমবার (১৩ মার্চ) জানান তার অন্যতম আইনজীবী মোহাম্মদ হান্নান ভূঁইয়া।
আরও পড়ুন: গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়ে আদালতের নিরাপত্তায় ১১ দফা নির্দেশনা প্রধান বিচারপতির
বিদেশে চিকিৎসার জন্য অবৈধ উপায়ে সরকারি অর্থ অনুমোদন এবং তা নগদে তুলে আত্মসাৎ, সরকারি বাসভবনের আসবাব কেনা ও তা আত্মসাৎ এবং অতিরিক্ত অর্থ তোলার অভিযোগে দুদক এ পাঁচটি মামলা দায়ের করে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান খান ও উপ-সহকারী পরিচালক এসএম খবীরউদ্দিন বাদী হয়ে ২০১০ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাগুলো দায়ের করেন।
পরবর্তীতে এই পাঁচ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আদালত অভিযোগ আমলে নেন।
এ অবস্থায় পাঁচ মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন জমির উদ্দিন সরকার। হাইকোর্ট মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেছিলেন।
শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৯ মে হাইকোর্ট বিভক্ত আদেশ দেন। পরবর্তীতে তৃতীয় বেঞ্চ রুল খারিজ করে দেন। এরপর তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করেন।
আরও পড়ুন: বিচারপ্রার্থীদের আদালতের বারান্দা থেকে দ্রুত বাড়ি ফেরানোর নির্দেশ প্রধান বিচারপতির
আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যেতে পারবেন না বিডিনিউজের সম্পাদক
১২২২ দিন আগে