শিশু একাডেমি
শৈশবে সুন্দরবনে বাঘের পায়ের ছাপ দেখার স্মৃতিচারণ প্রধানমন্ত্রীর
শৈশবের স্মৃতি স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মা-বাবা ও ছোট ভাইকে নিয়ে তিন দিনের পারিবারিক সফরে সুন্দরবনে গিয়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের পায়ের তাজা ছাপ দেখেছিলেন তিনি, যা এখনও তার মনে পড়ে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে শিশুদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এক শিশু প্রধানমন্ত্রীর শৈশবের প্রিয় স্মৃতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বাবা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একবার তাকে, তার ছোট ভাই ও তাদের মা বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সুন্দরবনে গিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দরবনে আমরা হিরণ পয়েন্ট নামের একটি জায়গায় নেমেছিলাম, যেটি ছোট একটি দ্বীপের মতো। সেখানে একটি পুকুর ছিল। ওখানকার লোকজন আমাদের বলেছিলেন, আগের রাতে একটি বাঘ পানি খেতে পুকুরে এসেছিল। পুকুরের পাশের কাদায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একেবারে তাজা পায়ের ছাপ ছিল। সেই স্মৃতি এখনও মনে পড়ে।’
শৈশবে বড় হয়ে কী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ওই বয়সে তার নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য ছিল না।
তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, তখন আমার আসলে কোনো স্বপ্ন ছিল না। তোমাদের মতো ছোট থাকাকালে শুধু ভাবতাম, বড় হয়ে সব খেলনা কিনে নেব।’
শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশুদের তাদের সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে এবং সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি, কোরআন তিলাওয়াত, খেলাধুলা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘তোমাদের শুধু লেখাপড়া করলেই হবে না। পাশাপাশি তোমাদের মধ্যে থাকা অন্যান্য গুণ ও প্রতিভা বিকাশের এবং সেগুলো চর্চা ও প্রকাশের সুযোগও থাকতে হবে।’
প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, শিশুরা শিক্ষা, বিজ্ঞান মেলা, খেলাধুলা ও অন্যান্য উপকারী কাজে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানো এড়িয়ে চলা উচিত।
একপর্যায়ে শিশুদের করা প্রশ্নের ধরন দেখে প্রধানমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, কিছু প্রশ্ন হয়তো বড়রা তৈরি করে দিয়েছেন। তিনি শিশুদের মনে আসা যেকোনো প্রশ্ন করতে উৎসাহ দেন।
কোন কোন স্কুলে পড়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, তিনি দুটি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন—শাহীন স্কুল ও ল্যাবরেটরি স্কুল।
খেলার মাঠ ও ইনডোর স্টেডিয়াম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সরকার প্রতিটি ইউনিয়ন বা উপজেলায় শিশুদের খেলাধুলার জন্য খোলা মাঠ তৈরির পরিকল্পনা করছে। তবে সব জায়গায় স্টেডিয়াম নির্মাণ ব্যয়বহুল হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব খোলা জায়গা অভিভাবকরাও হাঁটাচলা ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ব্যবহার করতে পারবেন।
শিশুদের সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিনিময়ে অংশগ্রহণ বাড়ানোর আগ্রহের কথাও জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিল্প প্রতিযোগিতা, কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা এবং ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনে বাংলাদেশের শিশুরা ভালো করেছে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে খেলাধুলা, বিজ্ঞান মেলা, কুইজ প্রতিযোগিতা ও গণিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুরা যাতে ভালো ফলাফল নিয়ে দেশে ফিরতে পারে, সে জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিতে চায়।
১৩ দিন আগে
বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সঙ্গে কাজ করবে সেভ দ্য চিলড্রেন
খেলার মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষাদান পদ্ধতি দেশব্যাপী প্রচলিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এবং সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে।
এই সমঝোতা স্মারক সইয়ের মাধ্যমে আশা করা হচ্ছে যে, লেগো ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে সেভ দ্য চিলড্রেন-এর প্রকল্প চ্যাম্পিয়নিং প্লে- এর সহায়তায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি দেশব্যাপী শিশুদের জন্য খেলার মাধ্যমে শেখার পদ্ধতি প্রচলনে ও সুষ্ঠু খেলার পরিবেশ তৈরিতে নেতৃত্ব দেবে।
বুধবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে এই সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সেভ দ্য চিলড্রেন-এর শিক্ষা সেক্টরের পরিচালক আরতি বিনোদ অতিথিদের স্বাগত জানান এবং প্রকল্প পরিচালক শাহীন ইসলাম চ্যাম্পিয়নিং প্লে প্রকল্পের উদ্দেশ্য এবং এর মূল কাজগুলো শেয়ার করেন। চ্যাম্পিয়নিং প্লে প্রকল্প গাইবান্ধায় শিশুদের জন্য খেলার মাধ্যমে শেখার পদ্ধতি পরিচিত করার উদ্দেশে বিদ্যালয়ে ও বাড়িতে ‘ম্যাজিক ব্যাগ’ নামে একটি ব্যাগ সরবরাহ করে থাকে। যার মধ্যে বিভিন্ন খেলার উপকরণ দেয়া হয় এবং সেগুলো দিয়ে খেলতে খেলতে শিশুর হাতেখড়ি হয়।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে ‘সেনাবাহিনীর হামলা’য় সেভ দ্য চিলড্রেনের ২ কর্মী নিখোঁজ
এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৭১টি লার্নিং সেন্টারের জন্য ‘ম্যাজিক ব্যাগ’ সরবরাহ করবে। সেভ দ্য চিলড্রেনের চ্যাম্পিয়নিং প্লে প্রজেক্ট বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কর্মকর্তাদের খেলার উপকরণের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে ওরিয়েন্টেশনও প্রদান করবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক শিশু সাহিত্যিক আনজীর লিটন বলেন, ‘সেভ দ্য চিলড্রেনের চ্যাম্পিয়নিং প্লে প্রকল্পের ‘ম্যাজিক ব্যাগ’ আমরা বাংলাদেশ শিশু একাডেমির প্রাক-প্রাথমিক সেন্টারে ব্যবহারের আগ্রহ প্রকাশ করেছি। শিশুর শৈশবকে সহজ ও সুন্দর করবে এটি। আমি আশা করছি এই যৌথ কাজের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব লাকী ইনাম।
তিনি বলেন, ‘সেভ দ্য চিলড্রেনের চ্যাম্পিয়নিং প্লে প্রজেক্টের দেওয়া ম্যাজিক ব্যাগের সহায়তায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর শিশুরা খেলার মাধ্যমে শিখতে পেরে আনন্দিত হবে। আমি আশা করছি যে, ভবিষ্যতে সেভ দ্য চিলড্রেনের সঙ্গে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি যৌথভাবে আরও গঠনমূলক কাজ করবে।’
সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অনো ভ্যান ম্যানেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সঙ্গে আরও কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্য চিলড্রেনের চ্যাম্পিয়নিং প্লে প্রকল্পের ব্যবস্থাপক, রেহনুমা আখতার এবং চ্যাম্পিয়নিং প্লে প্রকল্পের কর্মকর্তা, জেনেল গোমেজ।
আরও পড়ুন: অনলাইনে ফ্রি স্বাস্থ্য পরামর্শ সেবা পাইলটিং করছে সেভ দ্য চিলড্রেন
১২৫১ দিন আগে