নির্যাতন
যশোরে স্কুলছাত্রকে অপহরণ করে ‘দোকানে আটকে নির্যাতন’
যশোরের শার্শায় স্কুল থেকে ফেরার পথে সজিব হোসেন (১৭) নামে এক স্কুলছাত্রকে জোর করে তুলে নিয়ে দোকানঘরে আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার পর ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) উপজেলার বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুধু নির্যাতনই নয়, ওই স্কুলছাত্রের প্যান্ট খুলে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।
সজিব হোসেন বসন্তপুর গ্রামের ফরিদা খাতুনের ছেলে। সে কেরালখালী পাড়িয়া ঘোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
এ ঘটনায় রবিবার (১২ এপ্রিল) রাতে ভুক্তভোগীর মা ফরিদা খাতুন সাকিব, রিপন, রাজু, সিয়ামসহ ৫-৭ জনের বিরুদ্ধে শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা সবাই স্থানীয় বাসাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল সজিব হোসেন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। দুপুর ১টার দিকে বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল যুবক তাকে জোর করে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায় অভিযুক্ত সাকিবের দোকানের ভেতরে। সেখানে দোকানের শাটার বন্ধ করে কাঠের বাটাম ও কুড়ালের আঘাতে তাকে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে সজিবের পরিহিত প্যান্ট খুলে তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
পরে সজিবের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। মারধর ও নির্যাতনের ফলে সজিবের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। ঘটনার সময় অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ফরিদা খাতুন জানান, থানায় অভিযোগের পর বিভিন্ন ফোন নম্বর থেকে তাকে ও তার ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে অভিযুক্তরা।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে আমি ও আমার ছেলে সজিব চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১ দিন আগে
নড়াইলে প্রধান শিক্ষকের ‘নিষেধ সত্ত্বেও’ শিক্ষার্থীকে মারধর
শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে নড়াইলের লোহাগড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণ হালদার (১১)। নিষেধ করার পরও ওই দুই শিক্ষক ছেলেটিকে মারধর করেছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, কৃষ্ণ হালদারকে শিক্ষক রানী চক্রবর্তী ব্ল্যাকবোর্ডের কালি মোছার ডাস্টার দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এর আগে, গত ১ এপ্রিল বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক দীপক কুমারের বিরুদ্ধেও কৃষ্ণকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগীর পরিবার আরও জানায়, বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তারকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় তাকে মারধর করা হয়।
কৃষ্ণের বাবা উত্তম হালদার বলেন, ‘পড়া না পারার অজুহাতে আমার ছেলেকে বারবার মারধর করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
মা পল্লবী হালদার বলেন, ‘আমার ছেলে এখন আতঙ্কে রয়েছে। সে স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। মারধরের কারণে তার শরীরে অনেক ক্ষত হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাটি দুঃখজনক। দুই শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিষেধ করা সত্ত্বেও ওই শিক্ষকরা ছেলেটিকে মারধর করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
৮ দিন আগে
জাবির নারী শিক্ষার্থীকে বাসায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে হলের সামনে থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ভীতিপ্রদর্শন করে বাসায় আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের (৪৪তম ব্যাচ) এক সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অভিযুক্ত তারিকুল ইসলাম (৩২) জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা।
বিশাববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হলে তিনি তার বিভাগের এক নারী শিক্ষকের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে ওই শিক্ষক জানান, অভিযুক্তের সঙ্গে ছাত্রীর পূর্বে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল যা পরবর্তীতে ভেঙে যায়। গতকাল (মঙ্গলবার) তারিকুল ইসলাম ভুক্তভোগীর হলের সামনে গিয়ে ‘শেষবারের মতো কথা বলার’ কথা বলে তাকে বাসায় যাওয়ার জন্য চাপ দেন। ছাত্রী রাজি না হলে তাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করেন।
তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে ইফতার সামগ্রী কেনার কথা বলে ভুক্তভোগী তার বাসায় যান। সেখানে পৌঁছানোর পর তরিকুল ইসলাম তার মুখে টেপ লাগিয়ে বেঁধে মারধর করেন এবং হাতের ওপর গরম পানি ঢেলে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পুড়ে যাওয়ার ক্ষতের ওষুধ কিনতে যাওয়ার সময় তরিকুল কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। ওই সুযোগে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
পুলিশ প্রথমে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. তানভীর হোসেন জানান, ‘ভুক্তভোগী ছাত্রীর হাতে প্রায় ৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটার জায়গা পুড়ে গেছে। আমাদের কেন্দ্রে এ ধরনের বার্ন ইনজুরির পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় তাকে সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে জেনেছি। তবে এ বিষয়ে এখনও আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।’
তিনি বলেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত বলে জেনেছি। সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
সার্বিক বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, গতকাল রাতে ঘটনাটি জানতে পেরে আমাদের ফোর্স গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে জাবি মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি। পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।
৪৯ দিন আগে
খাবার আনতে দেরি হওয়ায় শিক্ষার্থীকে ‘গরম খুন্তির ছ্যাঁকা’ দিলেন মাদরাসা সুপার
মাগুরা জেলার শ্রীপুরে খাবার আনতে দেরি হওয়ায় এক শিক্ষার্থীকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মাদারাসা সুপার মাওলানা আবু সাইদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) রাতে উপজেলার নাকোল-কমলাপুর দারুল উলুম ইসলামি মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম জুনায়েদ হোসেন (১২)। সে মাগুরা শহরের আদর্শপাড়ার ভাড়া বাড়ির বাসিন্দা সুজন মিয়ার ছেলে।
নাকোল থানা পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতনের পর শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, বরং কাউকে কিছু না জানানোর জন্য ভয় দেখিয়ে মাদরাসায় আটকে রাখা হয়। আজ (বৃহস্পতিবার) জুনায়েদ পালিয়ে বাড়ি ফিরে গেলে তার বাবা সুজন মিয়া নাকোল পুলিশ ফাঁড়িতে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
সুজন মিয়া জানান, চার বছর আগে ছেলেকে হাফেজ বানানোর উদ্দেশ্যে ওই মাদরাসায় ভর্তি করেন। কিন্তু সেখানে তুচ্ছ ঘটনায়ও মাদরাসার সুপার মাওলানা আবু সাইদের নির্যাতনের শিকার হতে হতো তার ছেলেকে।
আরও পড়ুন: ভারত থেকে বাংলাদেশি যুবকের নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি
তিনি বলেন, গত রাতে সুপারের খাবার আনতে জুনায়েদকে মাদরাসার পাশে একটি বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে গৃহস্থের খাবার প্রস্তুতে দেরি হওয়ায় জুনায়েদের ফিরতেও দেরি হয়। কিন্তু এ জন্য জুনায়েদকে অপরাধী করে নির্যাতন করা হয়।
শিশু জুনায়েদ জানায়, রাত ৯টার দিকে খাবার নিয়ে মাদরাসায় ফিরলেও সুপারের ঘনিষ্ট দুই ছাত্র ওয়ালিদ ও সিজান তার হাত বেঁধে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে পরনের কাপড় খুলে ফেলে। এরপর মোমবাতির আগুনে স্টিলের খুন্তি গরম করে শরীরে ছ্যাঁকা দেয়। নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ করলে আরও মারধরের হুমকিও দেওয়া হয় তাকে।
এ বিষয়ে এ ঘটনার সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে মাদরাসার সুপার মাওলানা আবু সাইদ বলেন, রাতে তাদের মাদরাসায় তালা দিয়ে নিজ ঘরে যাই। কিন্তু কখন এটি ঘটেছে জানা নেই।
নাকোল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুকুল হোসেন জানান, শিশুটির বাবার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২২৯ দিন আগে
সংখ্যালঘু নির্যাতনের অধিকাংশ ঘটনায় সাম্প্রদায়িকতার প্রমাণ মেলেনি: পুলিশ সদর দপ্তর
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চার ব্যানারে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা ও হত্যার তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, এসব ঘটনার অধিকাংশই সাম্প্রদায়িক নয়, বরং ব্যক্তিগত, পারিবারিক, আর্থিক বিরোধ ও অন্যান্য সাধারণ অপরাধসংক্রান্ত।
ঐক্য পরিষদের সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ২৭ জন নিহত হয়েছেন এবং গত ১১ মাসে ২ হাজার ৪৪২টি সাম্প্রদায়িক হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ জানায়, নিহত ২৭ জনের ঘটনায় ২২টি হত্যা মামলা এবং ৫টি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। খুনের পেছনে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, আর্থিক লেনদেন, ডাকাতি, সন্ত্রাসী আক্রমণ এবং পারিবারিক কলহের মতো কারণ ছিল।
এছাড়া ৩ জন আত্মহত্যা করেছেন এবং ১১ জনের লাশ উদ্ধার করা হলেও এখনো তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে এসব ঘটনায় ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ১৫ জন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে এবং ১৮ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে সাম্প্রদায়িক কোনো উদ্দেশ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ২০টি ঘটনার কথা বলা হলেও পুলিশ জানায়, এর মধ্যে ১৬টি ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং ২৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনটি ঘটনায় কোনো অভিযোগ হয়নি। রাজশাহীর তানোর ও মাগুরার দুটি ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা মেলেনি বলেও জানায় পুলিশ।
গত বছরের ৪ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত ২০১০টি সহিংসতার কথা বলা হলেও পুলিশ ৫৬টি জেলায় যাচাই করে ১৪৫৭টি ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। এসব ঘটনায় ৬২টি মামলা এবং ৯৫১টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
পুলিশ জানায়, ১৭৬৯টি সহিংসতার মধ্যে ১৪৫২টি ঘটনার সময়কাল ছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। এদের ১২৩৪টি ছিল রাজনৈতিক বিরোধজনিত। এছাড়া পূজা মণ্ডপ ও উপাসনালয় সংক্রান্ত ১২৭টি সহিংসতার মধ্যে ৬৬টি মামলায় ৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মন্দির ও পারিবারিক মন্দিরে চুরি, প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও জমি দখলসংক্রান্ত ৬০টি অভিযোগ নিয়ে পুলিশ জানায়, ২০টি চুরির ঘটনায় ১৪টি মামলা ও ৫টি জিডি হয়েছে। ২৪টি প্রতিমা ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় ১৮টি মামলা হয়েছে এবং ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অগ্নিসংযোগের ৪টি ঘটনায় কোনো নাশকতার প্রমাণ মেলেনি। জমি সংক্রান্ত ছয়টি অভিযোগের কোনোটিই দখলের ঘটনা হিসেবে প্রমাণিত হয়নি। খিলক্ষেতে রেলওয়ের জায়গায় উচ্ছেদ, বগুড়ায় শ্মশানঘাটে ভাঙচুরসহ অন্যান্য ঘটনাগুলো প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মীমাংসা করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২৭৪ দিন আগে
পড়া না পারায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি
পড়া না পারায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে নাসির উদ্দিন নামে একজন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বুধবার (৩০ এপ্রিল) ঝিকরগাছা উপজেলার নওয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে। ওই ছাত্রীকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ মে) যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীকে দেখতে জেনারেল হাসপাতালে যান। এ সময় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ওই ছাত্রীর মা আমেনা বেগম বলেন, ‘প্রতিদিনের ন্যায় তার মেয়ে বিদ্যালয়ে যায়। পরে তিনি খবর পান পড়া না পারার কারণে প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন তার মেয়েকে তলপেটে তিনটি লাথি মেরে গুরুতর আহত করেছেন। এ খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত স্কুলে ছুটে যান ও অচেতন অবস্থায় তার মেয়েকে নিয়ে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আরও পড়ুন: ২ কিশোরীকে কক্সবাজারে হোটেলে আটকে নির্যাতন, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
এদিকে হাসপতালে কর্তব্যরত একজন চিকিৎসক জানান, মেয়েটি তলপেটে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে গোপনাঙ্গ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেয়েটির চিকিৎসা চলছে দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবে।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিনের ব্যবহৃত মোবাইলে ফোন করলে তার বড় মেয়ে নাসরিন ফোন রিসিভ করে বলেন, বাবা অসুস্থ, তাই কারও সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। এ সময় তিনি অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমার বাবা এ ধরনের কোন অপরাধ করেননি।
শিক্ষার্থীর মা আমেনা বেগম প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার কথা জানিয়েছেন।
৩৪৭ দিন আগে
চুরির অভিযোগে ২ যুবকের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, দোকান মালিক আটক
বরিশালের বাবুগঞ্জে দোকান থেকে লোহার পাত চুরির অভিযোগে দুই যুবককে হাত-পা বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতনের ঘটনা ঘটনায় অভিযুক্ত এক দোকানের মালিককে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— বাবুগঞ্জ উপজেলার দোয়ারিকা গ্রামের চান মুন্সির ছেলে মিঠুন (২০) ও একই গ্রামের বাবুল বেপারীর ছেলে লিংকন (২৩)। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আটক হওয়া মো. হাসান রহমতপুর ব্রিজ এলাকার সেবা ইঞ্জিনিয়ারিং নামের দোকানের মালিক ও দোয়ারিকা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার দিবাগত রাতে রহমতপুর ব্রিজের উত্তর পাশের ঢালে সেবা ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি দোকান থেকে বেশ কিছু লোহার পাত চুরি হয়। আজ (রবিবার) সকালে দোকান মালিক হাসান খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, পাশের ভাঙারি ব্যবসায়ী সাইদুল চোরাই লোহার পাত কিনেছেন। পরে সাইদুলের স্বীকারক্তি অনুযায়ী মিঠুন ও লিংকনকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করেন দোকান মালিক হাসান ও স্থানীয় কিছু লোকজন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবককে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে হাত-পা বেঁধে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। এরপর পেছনে ঘুরে ঘুরে তার পায়ে লোহার রড দিয়ে পেটাচ্ছেন এ ব্যক্তি (হাসান)। অপর যুবককে মারধর করে পাশেই একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। স্থানীয় আরও কয়েকজন লোক দুই যুবককে মারধরে সহযোগিতা করছে। উৎসুক জনতা চারপাশে দাঁড়িয়ে তা দেখছে।
ভিডিওর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে আজ (রবিবার) বিকালে অভিযুক্ত দোকান মালিক হাসানকে আটক করে পুলিশ।
আরও পড়ুন: বাবার বিরুদ্ধে চুরির অপবাদের প্রতিবাদ করায় কিশোরীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন
এ প্রসঙ্গে মো. হাসান বলেন, ‘আমার দোকানের মালামাল চুরি করে পাশের ভাঙারি দোকানে ৪-৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে। ভাঙারি দোকান মালিক ও অভিযুক্ত দুই যুবকও চুরির কথা স্বীকার করেছে।’
সেক্ষেত্রে পুলিশে না দিয়ে কেন আইন হাতে তুলে নেওয়া হলো? এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন শিকদার বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই যুবককে ছেড়ে দেয় তারা। চুরি করা যেমন অপরাধ, চোর ধরে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া আরেকটি অপরাধ।’
‘এ কারণে দোকান মালিক হাসানকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
৩৯৪ দিন আগে
ধর্ষণ-নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে খোলা হচ্ছে ‘হটলাইন’: আইন উপদেষ্টা
ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি হটলাইন খোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, ধর্ষণের মামলা তদারকির জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সেলও খোলা হচ্ছে।
রবিবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘রাস্তাঘাটে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির ব্যাপারে প্রতিকার নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের পক্ষ থেকে একটি আলাদা হটলাইন দেওয়া হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে। এটি হবে টোল ফ্রি।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘হট লাইন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। অভিযোগ জানানো যাবে। এটা তদারকি করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটা ডেডিকেটেড সেল থাকবে।’
‘একই সঙ্গে ধর্ষণের মামলাগুলো তদারকির জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে আলাদা সেল থাকবে। যেখানে মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে কালক্ষেপণ না করা হয়, সেটি দেখা হবে।’
দিনাজপুরের শিশু ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাইফুলের জামিন আপিল বিভাগে বাতিল হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: ৯০ দিনের মধ্যে ধর্ষণের বিচার করতে হবে: আইন উপদেষ্টা
আসিফ নজরুল বলেন, ‘অনেক সময় অনেক প্রত্যাশা মাফিক আমরা কাজ করতে পারি না। সেটা নিয়ে যন্ত্রণা ও আত্মদহন থাকে।’
‘বাংলাদেশে এখন যে নারীর প্রতি সহিংসতা হচ্ছে, নির্যাতন হচ্ছে, ধর্ষণ হচ্ছে— এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এই সরকারের পুরো প্রশাসন এই মামলাগুলোতে সুবিচার নিশ্চিত ও যৌন হয়রানি বন্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে বদ্ধপরিকর।’
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে আজ (রবিবার) মিটিংটা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে হয়েছে জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকেই আপনাদের মতো ডিস্টার্বড(অতিষ্ট)। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাদের আরও অনেক কঠোর হতে হবে। এখন থেকে যেকোনো ধরনের মব জাস্টিসকে কঠোরভাবে দমন করা হবে।’
৪০১ দিন আগে
নারী নির্যাতনসহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি কঠোর হস্তে দমন করুন: সরকারকে বিএনপি
দেশে নারীদের হেনস্থা ও নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে সব নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি কঠোর হস্তে দমন করার ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। এক বিবৃতিতে নানা ধরনের হয়রানিসহ নারীর প্রতি সহিংসতায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (৭ মার্চ) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ নিন্দাজ্ঞাপন করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতিসহ সব ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের পাশাপাশি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। শিক্ষাক্ষেত্রেও নারীরা যে, অগ্রগামিতা দেখাচ্ছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দেশের ন্যায় বিদেশেও নারীরা প্রশসংনীয় ভূমিকা রেখে দেশের সম্মান বৃদ্ধি করছে।’
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী, ‘শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার নারীদের হেনস্থা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ষণ ও নির্যাতন করে নারীদের হত্যা করা হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে এর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে।’
‘আওয়ামী সরকার নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি এবং বিচারহীনতার কারণে নির্যাতনকারীরা আরও উৎসাহিত ও বেপরোয়া হয়েছে, যা বর্তমানেও চলমান।।’
আরও পড়ুন: নির্বাচনি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকুন: তারেক রহমান
এসব ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘রাস্তাঘাটে ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে নারীদের বিভিন্নভাবে হেনস্থা করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের প্রবণতা বিপজ্জনক। এই সব ঘটনা ঘটিয়ে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে।’
এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক বলেন, ‘নারীদের সম্মান রক্ষা ও নারী স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব, যা নারীদের সংবিধান-স্বীকৃত অধিকার। নারী নির্যাতনসহ দেশের সার্বিক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ এখন চরম উদ্বিগ্ন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও বিরোধিতা করছি এবং একই সঙ্গে সবাইকে সচেতনভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকারকে নারী নির্যাতনসহ সব নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি কঠোর হস্তে দমন করে দেশে ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
৪০৩ দিন আগে
চাঁদপুরে ভাগ্নিকে পৈশাচিক ‘নির্যাতন’, মামা-মামি আটক
চাঁদপুরে ভাই রাজিয়া ও বোন রিফাতকে দেখাশোনার জন্য আনা ভাগ্নি রুজিনাকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে মামা-মামির বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) বিকালে চাঁদপুর শহরের মাদরাসা রোডের মামা রুবেল মোল্লার বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় মামা-মামিকে আটক করেছে পুলিশ। এরা হলেন— ওই বাড়ির রুবেল মোল্লা ও তার স্ত্রী রোকেয়া। রুবেল ঢাকায় বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন।
নির্যাতনের শিকার রুজিনা চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের আলী আহম্মদ ভুঁইয়ার মেয়ে। র্নিযাতিত রুজিনা রুবেলের আপন ভাগ্নি।
স্থানীয়রা জানায়, আপন মামাতো বোন শিশু রাজিয়া ও মামাতো ভাই প্রতিবন্ধী রিফাতকে দেখাশুনা করার জন্য গত ৬ মাস পূর্বে রুজিনাকে (২০) আনা হয় চাঁদপুর শহরের মাদরাসা রোডের মামা রুবেল মোল্লার বাসায়। আনার পর থেকে কারণে-অকারণে ভুল ধরে রুজিনার ওপর অমানবিক ও পৈশাচিক নির্যাতন চালায় মামি রোকেয়া বেগম। নির্যাতন সইতে না পেরে মামার বাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে রুজিনা। পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন দেখতে পায়। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ এসে মামা ও মামিকে আটক করে।
ওই এলাকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী মোরশেদ আলম ও ফরহাদ হোসেন জানান, রুজিনা রাস্তার পাশে কান্না করতে থাকে। সে জানায়— তাকে কথায় কথায় নির্যাতন করা হয়, এজন্য মামার বাসা থেকে পালিয়ে এসেছে। পরে তার অবস্থা দেখে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কাউসার রুবেল মোল্লা ও তার স্ত্রী রোকেয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
আরও পড়ুন: বাবার বিরুদ্ধে চুরির অপবাদের প্রতিবাদ করায় কিশোরীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন
রুজিনা বলেন, ‘গত ৬ মাস পূর্বে তাকে মামার বাসায় কাজ করার জন্য আনা হয়। কাজ করার সময় কারণে-অকারণে তার মামি মারধর করতেন। কোনো ভুল হলেই মারধর করতেন ও গালমন্দ করতেন। কাজ করলে ভুল হতেও পারে। আমাকে পুঁতা, কাঠ ও দা দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। গত ৪ মাস এইভাবে মারধর করে।’
‘মামা কয়েকবার ওষুধ এনে দিয়েছে, কিন্তু জখম ভালো হয় না।’
৪০৪ দিন আগে