চিকিৎসক
অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযাগ, রংপুরে চিকিৎসকের ওপর হামলা
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘চিকিৎসকের অবহেলায়’ দুর্ঘটনায় আহত এক বৃদ্ধ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) রাতে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা চিকিৎসকের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গতকাল (বুধবার) রাত ১০টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার খেজমতপুর বাজার এলাকায় হাইওয়ে সড়ক পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত হন আব্দুর রউফ (৮০) নামের এক পথচারী। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক ডা. নাজমুন নাহার ও কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা বাহারুল ইসলাম সময়মতো চিকিৎসা দেননি। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় অবহেলায় ফেলে রাখার কারণেই আব্দুর রউফের মৃত্যু হয়েছে।
রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকের ওপর চড়াও হন। এ সময় হাসপাতালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে ডা. নাজমুন নাহার বলেন, রোগীকে হাসপাতালে আনার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে রোগীর অবস্থা গুরুতর ছিল। আমাদের ওপর হামলার ঘটনাটি দুঃখজনক।
১৫ দিন আগে
রাজধানীতে বাসা থেকে চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর শাহবাগে একটি বাসা থেকে এ বি এম আবিদ হাসান জিসান (২৬) নামে এক চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে শাহবাগের হাবিবুল্লাহ রোডের ইউরেকা সালেহা প্যালেস নামের একটি বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জিসানের গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পলাশপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম আহসান হাবিব।
নিহতের সহকর্মী হাফিজুর জানান, জিসান ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে ইন্টার্নশিপ শেষ করেছেন। বর্তমানে তিনি ধানমণ্ডির পপুলার হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।
তিনি আরও জানান, আমরা কয়েকজন সহকর্মী মিলে শাহবাগের হাবিবুল্লাহ রোডের ইউরেকা সালেহা প্যালেস নামের একটি বাসায় ভাড়া থাকি। আজ দুপুরে তার রুমমেট দীপ্ত সিংহ তাকে অস্বাভাবিক অবস্থায় বিছানায় দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে কী কারণে এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানতে পারেননি তার সহকর্মীরা। মৃত্যুর আগে তিনি কিছু সেবন করেছিলেন কি না, সেটিও জানেন না তারা। তবে জিসান উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন সহকর্মীরা।
দীপ্ত সিংহ বলেন, সকালে রুম থেকে বের হওয়ার সময়ে দেখেছিলাম জিসান তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিল।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
২৫ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় অস্ত্রোপচারের সময় শিশুর মৃত্যু, দুই চিকিৎসক হেফাজতে
কুষ্টিয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে অ্যানেসথেশিয়া প্রয়োগের পর অস্ত্রোপচারের সময় তাসনিয়া আফরিন (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্রোপচারের সময় উপস্থিত দু্ই চিকিৎসককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে শহরতলীর মোল্লা তেঘরিয়া এলাকায় অবস্থিত একতা প্রাইভেট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
তাসনিয়া আফরিন কুমারখালী উপজেলার সানপুকুরিয়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে ছিল।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতার চাপে অস্ত্রোপচারের সময় উপস্থিত দু্ই চিকিৎসককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
নিহতের স্বজনরা জানান, চার-পাঁচ দিন আগে বাড়ির সিঁড়ি থেকে পড়ে তাসনিয়ার বাঁ হাত ভেঙে যায়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গতকাল (সোমবার) বিকেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে কুষ্টিয়া শহরের একতা প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর হাতে অস্ত্রোপচারের জন্য সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাসনিয়াকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক আবদুল হাদী এবং অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের জন্য তাহেরুল আল আমীন উপস্থিত ছিলেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাসনিয়ার মৃত্যু হয়।
এ খবর অপারেশন থিয়েটারের বাইরে থাকা স্বজনদের কাছে পৌঁছালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। এ সময় স্থানীয় লোকজনও ভাঙচুরে অংশ নেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত ১১টা পর্যন্ত পুলিশ ও সেনা সদস্যরা সেখানে অবস্থান করেন। পরে অবরুদ্ধ দুই চিকিৎসককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
শিশুটির খালু আতিয়ার রহমান বলেন, অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগে চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই তাসনিয়ার মৃত্যু হয়েছে। আমি এর কঠিন বিচার চাই।
ঘটনার রাতে চিকিৎসক তাহেরুল আল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, তাসনিয়ার শারীরিক পরীক্ষা–নিরীক্ষায় সব ঠিক ছিল। জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর সে মৃত্যুবরণ করে। হয়তো হার্ট অ্যাটাকের কারণে মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে।
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম বলেন, এটাকে আমরা ‘হাইপার সেনসিটিভ কেস’ বলে থাকি, অর্থাৎ হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে হঠাৎ পাম্পিং বন্ধ হয়ে যাওয়া। অনেক সময় মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিম্নমানের অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, নিহতের পরিবার সম্ভবত ময়নাতদন্ত করতে চাচ্ছে না। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।
একতা প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুল ইসলাম বলেন, শিশুটিকে অজ্ঞান (অচেতন করা) করানোর পরপরই তার মৃত্যু হয়। অ্যানেসথেসিস্ট বেশ কয়েক বছর ধরে সেখানে এসে কাজ করেন। অ্যানেসথেসিয়া কীভাবে প্রয়োগ হয়েছে বা কতটুকু প্রয়োগ হয়েছে, সেটা চিকিৎসকই ভালো বলতে পারবেন।
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন এস এম কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। কোনো গাফিলতির প্রমাণ মিললে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমন অভিযোগে এর আগেও তিনটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দেওয়া হয়নি। রাতেই দুই চিকিৎসককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহের কাছে না থাকায় এখনও সুরতহাল প্রতিবেদন করা সম্ভব হয়নি।
৩১ দিন আগে
দিনাজপুর মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আকস্মিক ধর্মঘটে আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রায় ৯ ঘণ্টা জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তি ও চিকসা কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
রবিবার (১২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১২টার দিকে কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউ ইউনিটে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হামলা, হৈচৈ ও চিকিৎসককে লাঞ্ছনার প্রতিবাদে রাত ৩টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে ধর্মঘট শুরু করেন। ফলে জরুরি বিভাগে আসা রোগীরা সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভর্তি বা চিকিৎসা সেবা নিতে পারেননি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল রাতে শহরের রামনগর মহল্লা থেকে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ৬৫ বছর বয়সী আব্দুস সামাদকে গুরুতর অবস্থায় জরুরি বিভাগের মাধ্যমে ভর্তি করে কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউতে নেওয়া হয়। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্বজনদের জানানো হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত দেড়টার দিকে ওই রোগী মারা যান।
এ সময় রোগীর স্বজনরা মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লা আল মুইনকে লাঞ্ছিত করেন। তাদের অশ্লীল ভাষায় গালাগালি ও হৈচৈয়ের কারণে ওয়ার্ডের অন্যান্য রোগীর চিকিৎসাও ব্যাহত হয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। অবশ্য তারা তালা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এরপর আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গেটের তালা ভেঙে নতুন রোগী ভর্তি শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চিকিৎসককে লাঞ্ছনার ঘটনায় রোগীর স্বজন ইয়াকুব আলী নামে রোগীর এক স্বজনকে আটক করেছে কোতয়ালি থানা পুলিশ।
অন্যদিকে, বারবার হামলা এবং চিকিৎসককে লাঞ্ছনার ঘটনার প্রতিবাদে কাজে যোগ দেয়নি ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। কর্মবিরতি পালন করছেন তারা। অচলাবস্থা অবসানে দুপুর ১২টার দিকে বিভাগীয় প্রধানসহ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আলোচনায় ডেকেছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান।
৪৬ দিন আগে
হামের প্রাদুর্ভাব: চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ছুটি বাতিল
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে ছুটি বাতিলের কথা বলা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, শিশুদের মাঝে হামজনিত নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় আপদকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা ও হামের টিকা দেওয়ার সুবিধার্থে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও অধিদপ্তরাধীন সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সর্বস্তরের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি (অর্জিত ছুটি ও নৈমিত্তিক ছুটি) বাতিল করা হলো।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের ব্যাপক হারে হামের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের ৫৬টি জেলায় এই রোগের সংক্রমণ ছড়িয়েছে। হামে অর্ধশতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, আগামী রবিবার থেকে জরুরি ভিত্তিতে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে গ্যাভির (ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক জোট গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভ) কাছ থেকে ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ হামের ভ্যাকসিন নিয়ে দেওয়া হবে।
৫৬ দিন আগে
জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই চিকিৎসকদের সেবায় এগিয়ে আসতে হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই চিকিৎসকদের সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ট ফেইলিউর বিভাগ এবং বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি আয়োজিত ‘ব্রিজ দ্য গ্যাপ বিটুইন ড্রাগস, ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্জারি ইন হার্ট ফেইলিউর’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক হার্ট ফেইলিউর কনফারেন্সের সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। জনগণের প্রতি সেই দায়বদ্ধতা থেকেই চিকিৎসকদের সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, হৃদরোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক ব্যাধি ও সংক্রামক ব্যাধির প্রতিকার বা প্রতিরোধের জন্য সরকারের যে প্রতিষ্ঠিত কাঠামো রয়েছে, সেই কাঠামোকে আরও কার্যকর, সমন্বিত এবং জনমুখী করতে হবে, যাতে করে চিকিৎসাসেবা দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. শফিউদ্দিন।
জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে হৃদরোগীদের চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজেস (এনআইসিভিডি) প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে এটি হৃদরোগ চিকিৎসায় অন্যতম প্রধান বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, হার্টের রোগের বিভিন্ন ক্যাটাগরি রয়েছে যা পুষ্টিগত গুণাগুণ কিংবা নারী-পুরুষ ও ধনী-দরিদ্র কোনো শ্রেণিভেদে নির্ধারিত হয় না; এ রোগ সবার হয়।
জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে হৃদরোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা হৃদরোগীর সংখ্যার তুলনায় কম। উপস্থিত চিকিৎসকদের হৃদরোগবিদ্যার টেকনিক্যাল এক্সপার্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারাই নির্ধারণ করবেন কীভাবে আপনারা হৃদরোগীদের সেবা দেবেন। দেশের নীতি-নির্ধারকদের আপনারাই রাস্তা দেখাবেন, কীভাবে এই সেক্টরে উন্নয়ন হবে।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের মধ্যে সম্ভাবনা রয়েছে। আপনারা যারা হৃদরোগবিদ্যার প্রশিক্ষক রয়েছেন জুনিয়র ডাক্তারদের বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তাদের দায়িত্ব নিতে হবে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দক্ষ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা বৃদ্ধি, চিকিৎসা অবকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে হৃদরোগীদের জন্য বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আপনাদেরই দায়িত্বশীল এবং অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রখ্যাত কয়েকজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের স্মরণ করেন এবং প্রথমবারের মতো এ ধরনের সম্মেলন আয়োজনের জন্য আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, এ ধরনের সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, হৃদরোগবিদ্যায় প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সর্বোপরি, হৃদরোগীদের সেবার মানোন্নয়নের জন্য এটি একটি শক্তিশালী ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এবং সরকারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
চিকিৎসাকে মহান পেশা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পেশার মহত্ত্বই সমাজে অন্যদের থেকে তাদের আলাদা মর্যাদা দেয়। তিনি চিকিৎসকদের মানবিকতার ব্রত নিয়ে রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান। দেশের চিকিৎসাখাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য চিকিৎসকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সম্মেলনের সমাপনী পর্বের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বাংলাদেশ হার্ট ফেইলিউর অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি ঘোষণা করা। এ কমিটিতে সভাপতি হিসেবে অধ্যাপক ডা. আতাহার আলী, সাধারণ সম্পাদক ডা. ডিএমএম ফারুক ওসমানী খোকন এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ডা. এস এম ই বাকেরের নাম ঘোষণা করা হয়।
দুইজন প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কে এম এইচ এস সিরাজুল হক এবং অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামকে হৃদরোগবিদ্যায় বিশেষ অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ ছাড়াও ডা. শহিদুল হকের হার্ট ফেইলিউরের ওপর লিখিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ। সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল জুরিখ থেকে আগত অধ্যাপক ড. রবার্ট মানকা, যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ হাসপাতালের হার্ট ফেইলিউর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক থেরেসা এ. ম্যাকডোনাঘ, রয়্যাল প্যাপওর্থ হাসপাতালের অ্যাডভান্সড হার্ট ফেইলিউর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক স্টিফেন পেটিট, এবং অধ্যাপক ফ্র্যাঙ্ক রুশিৎসকাসহ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বৈজ্ঞানিক সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।
সম্মেলনের প্রাক-আয়োজনে মেডিকেল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং কার্ডিয়াক চৌম্বকীয় অনুরণন ইমেজিং (এমআরআই) বিষয়ক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
মালয়েশিয়া থেকে আগত আধুনিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. সুতান কাভেরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেশন পরিচালনা করেন, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। দেশি-বিদেশি ৮০০ জন কার্ডিওলজিস্ট এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
৬০ দিন আগে
চিকিৎসকদের সেবা সরেজমিন তদারকি করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
চিকিৎসকরা ঠিকমতো সেবা দিচ্ছেন কিনা, সেটার সরেজমিন তদারকি করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোতে আমরা সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, যে বার্তা দিয়েছেন, সে অনুযায়ী কাজ করব।
তিনি বলেন, দায়িত্বরত চিকিৎসকরা ঠিকমতো সেবা দিচ্ছেন কিনা, তা দেখতে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে যাব, দেখব। সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে। আমাদের কার্যক্রম দ্বারা যেন জনসাধারণ উপকৃত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা কোনো সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেব না।
স্বাস্থ্যসচিব মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, আমাদের বিভিন্ন বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানে প্রচুর শূন্য পদ আছে, ফলে মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা বঞ্চিত হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এছাড়া আমাদের মেডিকেল শিক্ষার মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য সচিব।
সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অধীনস্থ দপ্তর বা সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
১০০ দিন আগে
চাঁদা না পেয়ে চিকিৎসককে মারধর: বরিশালে যুবদলের দুই নেতা বহিষ্কার
বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে ইউনিয়ন যুবদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) যুবদলের কেন্দ্রীয় দপ্তরের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়ার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মৃধা।
বহিষ্কৃতরা হলেন— বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান ডালিম ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রফিক মল্লিক।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নীতি-আদর্শ ও সংহতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি বানারীপাড়া বাইশারী বাজারের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক বিভাস ঋষির কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে। চাঁদা না পেয়ে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তার ওপর হামলা করা হয়। সেই হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
১০৩ দিন আগে
বরিশালে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) চিকিৎসক ও কর্মচারীদের উপর হামলার ঘটনায় স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের নেতা হোসাইন আল সুহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার(১৯ আগস্ট) সাড়ে ১২টার দিকে নগর ভবনের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সুহান ছাত্রলীগ নেতা। শেবাচিম হাসপাতালে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের পর দুপুর ৩টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসকসহ অন্যান্যরা রবিবার দুপুর থেকে ডাকা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে ফিরেছে।
অন্যদিকে সুহানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। এর আগে স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি পেশ করা হয়। ছাত্র জনতার ব্যানারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতারা এই আন্দোলন করছে।
স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের সদস্য তাহমিদ ইসলাম দাইয়ান বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ছিল আমাদের। তাই তারা নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ সড়কে নগর ভবনের সামনে অবস্থান নেন। সেখান থেকে পুলিশ আমাদের সমন্বয়ক সুহানকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। তার সাথে আরও ৫ থেকে ৬ জনকে পুলিশ নিয়ে গেছে। কোথায় নিয়েছে আমরা তা জানি না।’
পড়ুন: স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার দাবিতে বরিশালে ফের ছাত্রজনতার বিক্ষোভ, চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার
ওসি মিজান বলেন, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগ ক্যাডার সুহান বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও পলাতক শেখ হাসিনার মামাতো ভাই খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারী।
তাকে গ্রেপ্তারের সময় স্বাস্থ্যখাত আন্দোলনের কয়েকজন সদস্য জোর করে টহল পিকআপে উঠেছিল। তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সুহানকে হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের উপর হামলা মামলার আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হবে।
এর আগে সোমবার বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে হামলা চালিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের আহত করার অভিযোগে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বাহাদুর শিকদার বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন রনিকে একমাত্র নামধারী ও অজ্ঞাত আরও ৮০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অমান্য করে জনতার উপর হামলা, হত্যা করতে আঘাত-মারধর-জখম করাসহ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষে ডা. মো. নাজমুল হুদা বলেন, পরিচালক স্যারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আমরা কর্মস্থলে ফিরেছি। গত রবিবার স্বাস্থ্য সংস্কার আন্দোলনের নামে কিছু দুষ্কৃতকারী আমাদের মেডিসিন বিভাগের ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা. দিলীপ রায় স্যারের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। পুলিশ হামলাকারী একজনকে গ্রেপ্তার করছে বলে আমাদের নিশ্চিত করা হয়েছে। আমাদের অন্যান্য দাবির বিষয়ে পরিচালক স্যার গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে পুনরায় কাজে ফিরেছি।
২৩ দিন ধরে চলা আন্দোলনের মধ্যে গত সোমবার (১১ আগস্ট) শেবাচিম হাসপাতালের জরুরী গেটে আমরণ অনশনে বসেন কয়েক শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়ে অনশন থেকে তুলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এরপর শেবাচিম হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার কোতোয়ালি মডেল থানায় বৃহস্পতিবার রাতে ৪২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়। গত রবিবার শেবাচিম হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে আন্দোলনে নামে। একই সময় ছাত্রজনতা শেবাচিমের প্রধান গেটে অবস্থানকালে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন ছাত্রজনতার ছোড়া ইটে চিকিৎসক আহত হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়। এরপর রবিবার দুপুর থেকে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে হুঁশিয়ারি দেয়।
বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে হামলা চালিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের আহত করার অভিযোগে সোমবার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বাহাদুর শিকদার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রবিবার দুপুর তিনটা থেকে শেবাচিম হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডাকা কর্মবিরতি মঙ্গলবার দুপুর তিনটার দিকে প্রত্যাহার করেছে।
এর আগে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে হাসপাতাল শাটডাউনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল শেবাচিমের চিকিৎসকরা।
২৮৩ দিন আগে
রাজশাহীতে ৯ জনের করোনা শনাক্ত, ৭ জনই ‘চিকিৎসক’
রাজশাহী মেডিকেল কলেজে (রামেক) হাসপাতালে ১৫টি নমুনা পরীক্ষায় ৯ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে ৭ জনই চিকিৎসক বলে ধারণার কথা জানিয়েছেন রামেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক খন্দকার মো. ফয়সল আলম।
সোমবার (২ জুন) রামেকের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের পিসিআর ল্যাবে এই পরীক্ষা হয়, যেখানে মোট নমুনার ৬০ শতাংশের মধ্যে কোভিড-১৯-এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়।
এ বিষয়ে অধ্যাপক খন্দকার মো. ফয়সল আলম বলেন, আক্রান্তদের বেশিরভাগই চিকিৎসক। সবাই হালকা জ্বর, সর্দি, কাশি নিয়ে এসেছেন। সরাসরি করোনা বলার মতো উপসর্গ না থাকলেও শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং সুস্থ হতে সময় নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যাদের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে সাতজন চিকিৎসক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ৬, নমুনা পরীক্ষা ১৯
তবে এ নিয়ে এখনই আতঙ্কের কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার বলে জানান এই অধ্যাপক।
তিনি আরও বলেন, ‘বয়স্ক, ডায়াবেটিস বা অন্যান্য জটিল রোগে ভোগা মানুষদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই ৬০ বছরের বেশি বয়সী যাদের উপসর্গ রয়েছে, তাদের করোনা পরীক্ষা করানো উচিত।’
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ‘রাজশাহী মেডিকেলে এখন একজন করোনায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি আছেন। বাকিদের মধ্যে অনেকেই হয়তো আক্রান্ত হলেও উপসর্গ কম থাকায় হাসপাতালে আসছেন না।’
ভর্তি থাকা রোগীর চিকিৎসা নিয়ম মেনে চলছে বলেও জানান তিনি।
৩৬১ দিন আগে