চিকিৎসক
শিশু হাসপাতালে চিকিৎসকের ধূমপান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বরখাস্ত
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনকালে এক চিকিৎসককে তার কক্ষে ধূমপান করতে দেখে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ নির্দেশের পর চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শিশু হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী।
১ দিন আগে
চিকিৎসক বদলিতে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচিত হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়নে রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো ধরনের প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অটোমেশন পদ্ধতিতে চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়ন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অটোমেশন পদ্ধতিতে চিকিৎসকদের তাদের পছন্দ, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন করা হচ্ছে। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে ব্যক্তিগত পরিচয়, রাজনৈতিক বিবেচনা কিংবা অন্য কোনো প্রভাবের সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, অটোমেশন পদ্ধতির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে পুরো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এ ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকার এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে চায়।
এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়ন করা হলেও অতীতে, বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে এ ক্ষেত্রে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে।
অতীতে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও ভঙ্গুর অবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে দলীয় বিবেচনায় বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়েছিল। এসব তথ্য সংবাদমাধ্যমেও বারবার উঠে এসেছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ ন ম বজলুর রশিদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেনসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
চিকিৎসকদের বদলি-পদায়নে অটোমেশন চালু
স্বাস্থ্য খাতে বদলি ও পদায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অটোমেশন পদ্ধতি চালু করেছে সরকার। প্রথম ধাপে ৯৫ জন জুনিয়র কনসালট্যান্টকে বদলি ও পদায়ন করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সব পদের বদলি ও পদায়ন পর্যায়ক্রমে অটোমেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে অটোমেশন ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন।
এ উদ্যোগকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা উপজেলা লেভেলে ৯৫ জন চিকিৎসককে অটোমেশন পদ্ধতিতে বদলি করতে চাচ্ছি, যেখানে কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকবে।
চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমরা পরবর্তীতে করব। ডাক্তারদের সেন্টিমেন্ট অনুযায়ী যার যার উপজেলায় দেওয়ার একটা নির্দেশনা আছে। অটোমেশনের যদি অন্যখানে পড়ে, আমরা খুঁজে দেখব কার উপজেলা কোনটা, নিজ নিজ উপজেলায় আমরা দেব।’
এ প্রক্রিয়ায় ৯৫ জন চিকিৎসককে বদলির ফলাফল দেখে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুরো মন্ত্রণালয়কে আমরা অটোমেশন পদ্ধতিতে আনতে পারি।
এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই স্বাস্থ্য খাতে বিরাট পরিবর্তন, সংস্কার এবং অনিয়ম থেকে নিয়মে ফেরত আনার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা বদলি-পদায়ন অটোমেশন চালু করছি।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ডা. উম্মেহানী বলেন, সরকারি কার্যক্রমে অটোমেশন নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও গতিশীল করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।
সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী বদলি ও পদায়ন পরিচালিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
৩ দিন আগে
প্রসূতির মৃত্যু: চিকিৎসক, দালালসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি
নওগাঁয় বেসরকারি এক হাসপাতালে প্রসূতির পেটে গজ কাপড় রেখেই অস্ত্রোপচার শেষ করা এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসক ও দালালসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে নওগাঁ সদর ১ নম্বর আমলী আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এই আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ফাবলিহা সাদিয়া শাফীন (২৯), অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগকারী চিকিৎসক মো. আখেরুজ্জামান রবি (৩৩), হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রিপন আলী (৩৭), অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ সালমা বিবি নাজমা (৩২) এবং দালাল মো. রাশেদুল ইসলাম হিরু (৩৩) ও মো. নাহিদ বাবু (২২)।
জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল নওগাঁ শহরের দক্ষিণ সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা প্রসূতি রাহী মুনী সন্তান প্রসবের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে এক দালাল ভালো সিজারিয়ান সেকশনের প্রলোভন দেখিয়ে আট হাজার টাকার চুক্তিতে তাকে শহরের বেসরকারি মেট্রো হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই দিন রাতেই চিকিৎসক ফাবলিহা সাদিয়া শাফীন তার অস্ত্রোপচার করেন।
তার পর থেকেই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। অবস্থার আরও অবনতি হলে পরদিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে গজ কাপড় বের করে। এতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ৯ এপ্রিল সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম মেট্রো হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং এটি একটি অনিবন্ধিত হাসপাতাল বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা গত ১৩ এপ্রিল আদালতের নজরে আসে। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
গত ২২ আগস্ট পিবিআই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল (বুধবার) আদালত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এসব আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
১০ দিন আগে
হবিগঞ্জে চিকিৎসক-নার্সদের মারধরের অভিযোগ
রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের মারধর এবং হাসপাতালের আসবাব ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, তানজিলা (২১) নামের এক রোগী স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি ছিলেন। সেখান থেকে তাকে সিলেটে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে রোগীর স্বজনরা তাকে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
তিনি আরও জানান, রোগীর শ্বাসকষ্ট থাকায় তাকে প্রথমে অক্সিজেন দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার জন্য আরও দুটি ওষুধের ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয় এবং একটি ওষুধ হাসপাতালে না থাকায় তার স্বজনদের বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয়। কিন্তু ওষুধ কিনে নিয়ে আসার আগেই রোগী মারা যান।
ডা. মোজাম্মেল জানান, রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে তার স্বজনরা আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মেডিকেল অফিসার ডা. মো. তরিকুল ইসলাম ও নার্সদের মারধর ও লাঞ্ছিত করেন। এ সময় তারা হাসপাতালের আসবাবও ভাঙচুর করেন।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানায় মৌখিকভাবে জানানো হলেও কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। ওই রোগী চার মাস আগে সন্তান প্রসব করেছিলেন। চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি হৃদযন্ত্রের জটিলতায় ভুগছিলেন।
হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাস জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৩ দিন আগে
চিকিৎসকরা সমাজের শ্রেষ্ঠ মানুষ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসকদের সমাজের শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে অভিহিত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সেই সঙ্গে তিনি বলেন, স্রষ্টার পরে চিকিৎসকরাই মানুষের ভরসাস্থল। মানুষের দুঃসময়ে চিকিৎসকরাই সবার আগে পাশে দাঁড়ান। করোনাকালীন মহামারি থেকে শুরু করে ডেঙ্গু ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা না ভেবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত থেকেছেন। তাদের এই মানবিক ও পেশাগত দায়িত্ববোধ দেশের মানুষের জন্য অনুকরণীয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বিশ্ব হার্ট দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এছাড়া অসংক্রামক রোগের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয় উল্লেখ করে স্বাস্থ্যন্ত্রী বলেন, হৃৎপিণ্ডের কোনো সতর্কসংকেত বা লক্ষণকে অবহেলা করা যাবে না। হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই সচেতন এবং সচেতনতার গুরুত্ব উপলব্ধি করি। কিন্তু অনেক সময় সেই সচেতনতাকে বাস্তব জীবনে কার্যকর করি না। হৃদরোগের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। হৃদয়ের কোনো সংকেত বা সতর্কবার্তাকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুধু হৃদরোগ নয়, সংক্রামক ও অসংক্রামক—সব ধরনের রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণেই জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে মন্ত্রী সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল, বিএমইউ প্রাঙ্গণে বিশ্ব হার্ট দিবসের উদ্বোধন করেন এবং দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে অংশ নেন।
বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদিরসহ আরও অনেকে। এছাড়া ডা. আ ফ খবির উদ্দিন আহমেদসহ আরও অনেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
১৯ দিন আগে
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা ৩০,৩১১, প্রয়োজন ৮৮,৯০৯: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী চিকিৎসক ও জনসংখ্যার ন্যূনতম অনুপাত পূরণ করতে দেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন হলেও সরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে মাত্র ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সংসদে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিহার (মাদারীপুর-২) লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে বেলা ৩টার দিকে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এদিন সংসদে জানান, সরকারের অর্থায়নে ২০২৬ সালে পরিচালিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য শূন্য দশমিক ৫০ জন চিকিৎসকের ন্যূনতম মান পূরণ করতে চলতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের অনুমোদিত মোট পদ রয়েছে ৪১ হাজার ৮০৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। ফলে ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য রয়েছে।
সাখাওয়াত হোসেন জানান, দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে কতজন চিকিৎসক প্রয়োজন, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বাস্থ্যকর্মী-সংক্রান্ত মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়।
তবে দেশে চিকিৎসকের মোট সংখ্যা ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা এক নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদ পূরণ ও চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৪৪তম ও ৪৮তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী সার্জন নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।
সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদগুলো ধীরে ধীরে পূরণ করতে সরবার চলমান নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টি করা হবে।
৪১ দিন আগে
রাজনীতি করতে গিয়ে যেন দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন না ঘটে, চিকিৎসকদের প্রধানমন্ত্রী
চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন না ঘটায় বা বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে নিজেদের গুনগত মান বজায় রাখতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি ভবনে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সকল কাজকেই প্রভাবিত করে, সেহেতু শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী—সবাই যার যার মতাদর্শ অনুসারে রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত থাকবেন বা সচেতন থাকবেন, এটা কোনো অযৌক্তিক বিষয় নয়।’
তিনি বলেন, ‘তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন না ঘটায় বা বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়, সেটি হচ্ছে মোস্ট ইম্পর্টেন্ট (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)। এই ব্যাপারে এখানে উপস্থিত ড্যাবের সকল চিকিৎসককে আমি সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানাব।’
তারেক রহমান বলেন, প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন এখন প্রতিটি সেক্টরে এবং সামগ্রিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশে সময়ের একটি কঠিন দাবি বা ‘স্ট্রং ডিমান্ড’ হয়ে উঠেছে।
তার কথায়, ‘প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন খুব সম্ভবত প্রতিটি সেক্টরে সামগ্রিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশে এখন সময়ের একটি কঠিন দাবি বা খুব স্ট্রং ডিমান্ড, এটা আমরা সকলেই সেটি অনুভব করতে পারি, বিশেষ করে ৫ই আগস্টের পর থেকে।’
রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’, অর্থ্যাৎ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। তিনি বলেন, মানুষকে শুরুতেই রোগের উৎপত্তির কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন করা গেলে অনেক রোগেরই নিরাময় করা সম্ভব।
‘বর্তমান সরকার মনে করে, মানুষকে যদি শুরুতেই রোগের উৎপত্তির কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন করা যায়, তাহলে খুব সম্ভবত সহজেই রোগের, অনেক রোগেরই নিরাময় করা সম্ভব। এই প্র্যাকটিসটি ইউরোপে এখন ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে।’
৭১ দিন আগে
চিকিৎসকদের মানবিক মানুষে রূপান্তর হওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন চিকিৎসকদের আরও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগমুক্ত করা সম্ভব নয়; রোগ নিরাময়ের পাশাপাশি এখন প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম)-এ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্বখাতে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এম এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন শুধু রোগ নিরাময় নয়, বরং রোগ প্রতিরোধের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এর জন্য একদম জিরো (শূন্য) বয়স থেকে উদ্ভাবনী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৮০ দিন আগে
ইয়াবাসহ রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক আটক
নরসিংদীর রায়পুরায় ৫০ পিস ইয়াবাসহ রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইসমাঈল আল রাজিবকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার তুলাতুলি মোড় এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ডা. ইসমাঈল আল রাজিব রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। প্রায় ৯ মাস আগে তিনি হাসপাতালের আরএমও হিসেবে দায়িত্ব পান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জান্নাতুল নাঈম বলেন, হাসপাতালের আরএমও ডা. ইসমাঈল আল রাজিব ইয়াবাসহ আটক হয়েছেন। পুলিশের তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা জানা যাবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একজন ডাক্তার হয়ে মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদক সেবন করলে তিনি কখনোই চিকিৎসা দিতে পারবেন না। ঘটনা সত্য বলে প্রমাণিত হলে তিনি শুধু আইনের চোখে অপরাধী নন, আমাদের চিকিৎসার দিক দিয়েও নিয়ম ভঙ্গ করেছেন।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে ডা. ইসমাঈলকে আটক করে। পরে তার শরীর তল্লাশি করে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তিনি থানা হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
৮৫ দিন আগে