নতুন যুগ
হুন্দাই তুসন: প্রতিশ্রুতির এক নতুন যুগের সূচনা
হুন্দাইয়ের জনপ্রিয় এসইউভি তুসন-এ আরও অনেক বেশি প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করল বাংলাদেশে হুন্দাইয়ের অনুমোদিত ম্যানুফ্যাকচারার ও ডিস্ট্রিবিউটর ফেয়ার টেকনোলজি।
সোমবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ফেয়ার টেকনোলজি’র ডিরেক্টর ও সিইও মুতাসসিম দায়ান ঘোষণা করেন, আমরা বাংলাদেশের বাজারে হুন্দাই তুসন-এর নতুন দাম নির্ধারণ করেছি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
মুতাসসিম দায়ান বলেন, বাজারে মুদ্রাস্ফীতির প্রবণতা থাকলেও আমরা তুসন-এর দাম ১০ লাখ টাকার বেশি কমিয়েছি। এই পদক্ষেপ স্থানীয় উৎপাদনে হুন্দাইয়ের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রতিফলনই শুধু নয়; বরং জনপ্রিয় এই এসইউভি’টি কিনতে আগ্রহী গ্রাহকদের প্রতি আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকারেরও বহিঃপ্রকাশ।
হুন্দাই তুসন-এর প্রত্যেক গ্রাহকের জন্য ফেয়ার টেকনোলজির ‘আরও প্রতিশ্রুতি’-এর নীতি তুলে ধরে দায়ান জানান, ১ দশমিক ৬-লিটার টার্বো ইঞ্জিনের দারুণ এই এসইউভিতে আমরা আরও অনেক আকর্ষণীয় অফার নিয়ে এসেছি।
আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধু স্বদেশে ফিরে আসার পরই আমাদের নবযুগের সূচনা হয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তিনি জানান, যার মধ্যে রয়েছে এক লাখ কিলোমিটার বা ৫ বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টি এবং একই সময়ে দশটি ফ্রি সার্ভিস। এছাড়াও থাকছে তিন বছর বা ৪০ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সর্বাচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত নিশ্চিত বাইব্যাক সুবিধা।
সংবাদ সম্মেলনে ফেয়ার গ্রুপের হেড অব কমিউনিকেশন হাসনাইন খুরশেদ, হেড অব মার্কেটিং জেএম তসলিম কবীর, ফেয়ার টেকনোলজি’র হেড অব সেলস আবু নাসের মাহমুদ, ম্যানেজার- সেলস অপারেশনস আতাউর রহমান ও প্রোডাক্ট ম্যানেজার রুবাইয়াত উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
ফেয়ার টেকনোলজি, হুন্দাই-এর ডিরেক্টর ও সিইও জনাব মুতাসসিম দায়ান বলেন, বিশ্ববাজারে তুমুল জনপ্রিয় হুন্দাই তুসন ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেছে। দাম কমানো এবং ওয়ারেন্টি ও ফ্রি সার্ভিস সুবিধা বাড়ানোর কারণে তাদের মধ্যে চাহিদা আরও বাড়বে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
ফিউচারিস্টিক ও হাই-টেক ইমেজের হুন্দাই তুসন-এর প্রাণবন্ত স্পোর্টিনেস ও পরিশীলিত ডিজাইন ক্রেতাদের হৃদয় জয় করে এসইভি জগতে ট্রেন্ড-সেটার হয়ে উঠেছে। থ্রি-ডি প্যারামেট্রিক জুয়েল প্যাটার্ন রেডিয়েটর গ্রিল, হিডেন সিগনেচার ডে-টাইম রানিং ল্যাম্প (ডিআরএল), মাল্টি ফোকাল এলইডি হেড ল্যাম্প, অ্যারো-ডায়নামিক শেপ, প্যানোরামিক সানরুফ আর ১৯ ইঞ্চি ডায়মন্ড-কাট অ্যালয় রিম এবং লেদার সিট ও ছয়টি এয়ার ব্যাগ এর মতো বৈশিষ্ট্য নিয়ে হুন্দাই তুসন অতুলনীয় স্বাচ্ছ্বন্দ্য আর নিরাপদ যাত্রার প্রতিশ্রুতি দেয়।
তুসন- এর ১ দশমিক ৬ লিটার ইঞ্জিন ফোর হুইল ড্রাইভের পাওয়ার আউটপুট হলো ১৮০ পিএস/৫৫০০ আরপিএম, যা ড্রাইভিংয়ের সময় ভালো পারফর্মন্স দেয়।
এতে রয়েছে- প্যানারোমিক সানরুফ, ড্রাইভার মেমোরি ও পাওয়ার সিট, ১০ দশমিক ২৫ ইঞ্চি ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম, বোস সাউন্ড সিস্টেম, ওয়্যারলেস চার্জার এবং ড্রাইভ মোড সিলেক্ট-এর মতো অনেক প্রিমিয়াম ফিচার।
তুসনে রয়েছে ছয়টি এয়ারব্যাগ, ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ ক্যামেরা, ফরওয়ার্ড এন্ড রিভার্স পার্কিং ডিস্টেন্স ওয়ার্নিং সিস্টেম, ওয়ার্নিং সিস্টেম সম্বলিত ব্লাইন্ড স্পট ভিউ মনিটর। অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম (এবিএস), ইলেক্ট্রনিক স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল, ডাউনহিল ব্রেক কন্ট্রোল, হিল স্ট্যাবিলিটি অ্যাসিস্ট এবং ট্রেইলার স্ট্যাবিলিটি অ্যাসিস্ট। আর এই সবই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যাত্রা।
বাংলাদেশের অটোমোবাইল খাতকে আরও এগিয়ে নিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু হাই-টেক পার্কে জনপ্রিয় এই এসইউভি উৎপাদন করছে বাংলাদেশে হুন্দাই গাড়ির প্রস্তুতকারক ও পরিবেশক ফেয়ার টেকনোলজি।
তারা ঢাকা ও চট্টগ্রামে সাতটি শোরুম ও তিনটি সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করে হুন্দাই গাড়ির বিভিন্ন মডেলের ক্রেতাদের বিশ্বমানের বিক্রয়োত্তর সেবাদান করছে। যা আরও অনেক সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া চলছে।
আরও পড়ুন: মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখের সূচনা
বাংলাদেশের প্রথম সাবমেরিন ঘাঁটি স্থাপন গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা: প্রধানমন্ত্রী
১ বছর আগে
সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিংয়ের মাধ্যমে তেল আমদানির নতুন যুগে প্রবেশ করবে দেশ
চলতি বছরেই দেশের জ্বালানি তেল আমদানি ব্যবস্থা নতুন মাত্রায় প্রবেশ করবে। এর মাধ্যমে সময় ও বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে।
মাদার ভেসেল থেকে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) এর মাধ্যমে জ্বালানি তেল খালাস করা হবে। আর এতে বছরে কমপক্ষে ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
এই এসপিএম দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে আরও লাভজনক, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করে তুলবে।
প্রকল্প কর্মকর্তা মনজেদ আলী শান্ত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এসপিএম প্রকল্পটি চলতি বছরের মধ্যে চালু করা হবে। এর মধ্যে প্রকল্পের ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পটির পৃথক পরীক্ষা চালানো হয়েছে।’
এসপিএম প্রকল্প এলাকায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, আমদানি করা পেট্রোলিয়াম মাদার ভেসেল থেকে স্টোরেজ ট্যাঙ্কে স্থানান্তর করতে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে।
আরও পড়ুন: ক্রুটির কারণে সমুদ্র তলদেশ দিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল খালাস বন্ধ
বর্তমানে সম পরিমাণ তেল লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে খালাস করতে ১১ থেকে ১২ দিন সময় লাগে। এটি খুবই সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর মাদার ভেসেল থেকে জ্বালানি বহন করার জন্য কোনো লাইটারেজের প্রয়োজন হবে না।
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় ৮ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ ও চীনের একটি জিটুজি প্রকল্পের আওতায় ৯০ একরেরও বেশি জমিতে এসপিএম নির্মিত হয়েছে।
‘একবার এসপিএম চালু হয়ে গেলে, বাইরের অ্যাঙ্করেজ থেকে জ্বালানি ট্যাঙ্কে পেট্রোলিয়াম পণ্যের বহন খরচ কমে আসবে এবং বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে,’ মনজেদ বলেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এতে ১ দশমিক ৮০ লাখ লিটার অপরিশোধিত তেল এবং ১ দশমিক ০৮ লাখ লিটার পরিশোধিত তেল ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন তিনটি ট্যাঙ্ক রয়েছে।
আমদানি করা পেট্রোলিয়াম তেল সরাসরি এসপিএম-এ খালাস করার জন্য ইতোমধ্যে স্থল থেকে গভীর সমুদ্র পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে।
এসপিএম প্রতি বছর ৯ মিলিয়ন টন খালাস করার ক্ষমতা রাখে।
আরও পড়ুন: টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারীরা তেল-ডাল-চিনির সঙ্গে ৫ কেজি চালও পাবেন
অপরিশোধিত তেলের শোধনের জন্য এসপিএম প্রকল্প থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইএফএল) পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার পাইপলাইনও নির্মাণ করা হয়েছে।
এসপিএমের ৪৫ হাজার টন অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে।
প্রকল্পের কাজের অংশ হিসেবে, প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার অফশোর পাইপলাইন এবং ৫৮ কিলোমিটার অনশোর পাইপলাইন ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে ছয়টি স্টোরেজ ট্যাঙ্কের কাজও শেষ হয়েছে এসেছে।
ছয়টির মধ্যে তিনটি ট্যাঙ্কের প্রতিটির ৬০ হাজার লিটার অপরিশোধিত তেল ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। বাকিগুলোর প্রতিটি ৩৬ হাজার লিটার ডিজেল সংরক্ষণ করতে সক্ষম।
এসপিএম 'বোয়া'র নির্মাণ সম্পন্ন করেছে নেদারল্যান্ডস-ভিত্তিক ব্লু ওয়াটার। প্রকল্পটি চালুর অপেক্ষায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
দেশের প্রথম এসপিএম সিস্টেম তৈরি করছে চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মালিকানাধীন বড় মাদার ভেসেল থেকে উপকূলীয় ট্যাঙ্কগুলোতে পেট্রোলিয়াম ফেরি করার জন্য বিপিসি বর্তমানে লাইটারেজ বা ছোট জাহাজের জন্য ৫ দশামিক ৫০ মার্কিন ডলার দেয়। এখন বিপিসির খরচ কমিয়ে দেবে এসপিএম।
বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৬ মিলিয়ন টন অপরিশোধিত এবং পরিশোধিত তেল আমদানি করে। এর মধ্যে ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন টন অপরিশোধিত তেল এবং অবশিষ্ট পরিমাণ পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য।
কর্মকর্তারা জানান, মুরিং পয়েন্ট থেকে একটি ৩৬ ইঞ্চি প্রশস্ত পাইপলাইন মাতারবাড়ির কালামারছড়ার ট্যাঙ্কে অপরিশোধিত তেল বহন করে।
পরে ১৮ ইঞ্চি চওড়া পাইপের মাধ্যমে ২২০ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারিতে নিয়ে যাওয়া হয় তেল।
আগামী আগস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এসপিএম প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
১১০ কিলোমিটার পাইপলাইনটি গভীর সমুদ্রের মুরিং পয়েন্ট এবং চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল।
আরও পড়ুন: সয়াবিন ও পাম তেলের দাম কমছে, কার্যকর বুধবার
১ বছর আগে