বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: জামায়াত আমির
১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) খুলনার শিববাড়ী মোড়ে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত লংমার্চের সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।
জামায়াত আমির বলেন, সাত দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত একের পর এক কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এ সময় প্রয়োজনে ডাক দেওয়া হলে গ্রাম-বাংলার মানুষকে ঢাকায় যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলো কোনো দলীয় বা নির্বাচনি দাবি নয়; বরং দেশের প্রত্যেক নাগরিকের দাবি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই গণহত্যাসহ গত সাড়ে ১৫ বছরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, চাঁদাবাজি বন্ধ, অর্থপাচার রোধ ও কৃষকের সার নিশ্চিত করার দাবিতে আমরা মাঠে নেমেছি।’
সরকারের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর প্রশ্ন তোলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর এখন কেন গণভোটের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
এ সময় গ্যাস ও বিদ্যুতের বিলের মাধ্যমে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ তৈরির অভিযোগ করেন তিনি।
খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশটি পরিচালনা করেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল।
এর আগে দিনের শুরুতে এক হাজারের বেশি যানবাহন নিয়ে ঢাকা থেকে খুলনা ও কুষ্টিয়ার উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হয়।
৪ দিন আগে
সমান সুযোগ নিশ্চিত হলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেবে জামায়াত: শফিকুর রহমান
সব প্রতিদ্বন্দ্বীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা অবশ্যই নির্বাচনের পথ পরিষ্কার করার চেষ্টা করব। আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানাব। যখন নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে, তখন আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কারও বলির পাঁঠা হতে চাই না; আমরা জনগণের অধিকার নিয়ে লড়তে চাই। আমরা চাই, জনগণ যাকে ভোট দিয়ে পছন্দ করবেন, তিনিই ক্ষমতায় যাবেন।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, এ নির্বাচন নিয়ে তিনি ইতিবাচক কোনো লক্ষণ দেখছেন না।
বিএনপির প্রার্থীরা যেসব এলাকায় জয়ী হতে পারবেন না, সেসব এলাকায় সরকার বরাদ্দ দেবে না—চিফ হুইপের এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচনের আগে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর শামিল।
তিনি আরও বলেন, ‘এটি লজ্জাজনক। এর মাধ্যমে আগেভাগেই জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে। এ ধরনের ভয়ভীতি ও দলীয় প্রভাবের মধ্যে নির্বাচন হলে তা সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’
নির্বাচন কমিশনে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিএনপি কর্মীকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, দলীয় পরিচয়সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কেন এ প্রতিষ্ঠানে আনা হয়েছে, তা মানুষ জানতে চায়।
এছাড়া সরকারি কর্মকর্তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করলেও জননিরাপত্তায় দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। এ নিয়ে তিনি সরকারের সমালোচনাও করেন।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আরও কয়েকজন দলীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ জেলা মৌলভীবাজারে শফিকুর রহমানের এটিই ছিল প্রথম সফর।
১১ দিন আগে
তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন বিরোধীদলীয় নেতা
তুরস্ক সফর ও সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।
এ সময় ফুলের তোড়া দিয়ে শফিকুর রহমানকে স্বাগত জানান জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এর আগে তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ স্টাডিজবিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে ৭ অক্টোবর ঢাকা ছাড়েন শফিকুর রহমান। ৯ অক্টোবর সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি।
তুরস্ক সফরকালে ৮ অক্টোবর দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার অধ্যাপক ড. নুমান কুরতুলমুসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি।
পরে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব যান জামায়াতের আমির। সেখান থেকে ঢাকায় ফিরলেন তিনি।
২৪ দিন আগে
৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ সফল করার আহ্বান জামায়াতের
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ সফল করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লং মার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গত ৬ আগস্ট ১১ দলীয় ঐক্যের পূর্বঘোষণায় দেশব্যাপী ৪টি লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম, রংপুর ও খুলনার লং মার্চ সড়কপথে এবং সিলেটের লং মার্চ রেলপথে অনুষ্ঠিত হবে। লং মার্চ কর্মসূচি শেষে আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে লং মার্চগুলো শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কমিটি গঠন এবং দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বস্তরের জনশক্তি ও দেশবাসীর প্রতি লং মার্চ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করার আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মো. রেজাউল করিম।
এছাড়া কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের প্রতিনিধি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মো. ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান আতিক এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাও উপস্থিত ছিলেন।
৭৯ দিন আগে
সরকারের নিজ দায়িত্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারের নিজ দায়িত্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত। তার ওপর যে রায় হয়েছে এবং যেসব বিচারিক প্রক্রিয়া অপেক্ষমাণ রয়েছে, সেগুলোর মুখোমুখি তাকে হতে দেওয়া উচিত।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বাগেরহাট সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ ও তার সঙ্গী-সাথীদের তাদের দলে (জামায়াতে) নিতে গেলে অবশ্যই কেন্দ্রের অনুমতি নিতে হবে। কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়া কাউকে দলে নেওয়া যাবে না। আমাদের কাছে কেউ অনুমতি চায়নি। অতএব কাউকে তাদের দলে নেওয়া হয়নি। আমরা মনে করি না, এখনই আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে আসার উপযুক্ত।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের রাজনীতি হত্যা করেছে। তারা দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, অসংখ্য মায়ের বুক খালি করেছে। অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছে। গুম হওয়া মানুষদের সবাই এখনও ফিরে আসেনি। এ অবস্থায় খোলস বদল করে আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে চলে আসবে। এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ দুঃখ প্রকাশ করেনি। তাদের মধ্যে অনুশোচনা নেই। পাশের দেশ থেকে উসকানি অব্যাহত রেখেছে। দল ভারী করার জন্য তাদের (আওয়ামী লীগকে) রাজনীতিতে সামিল করলে তা হবে অন্যায়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, সরকারের নিজ দায়িত্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত। তার ওপর যে রায় হয়েছে এবং যেসব বিচারিক প্রক্রিয়া অপেক্ষমাণ রয়েছে, সেগুলো তাকে ফেস করতে দেওয়া উচিত। বিচার হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে। আমরা অন্যায্য বিচার চাই না।
তিনি বলেন, সংসদে কৌশলগত বিষয় এলে সরকার বিরোধী দলকে সহজে কথা বলতে দেয় না। সংসদে পদ্ধতিগতভাবে কথা বলতে গেলে মাঝে মধ্যে বাধাগ্রস্ত হতে হয়। তবে সে দাঁড়িয়ে গেলে স্পিকার তাকে বাধা দেন না। তিনি আশা করেন, সরকার এই বাধা তুলে নেবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে নানান সমস্যা আছে। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে দেশের জনগণ সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। জনগণ পাঁচ বছর সরকারি দল এবং বিরোধী দলের কার্যক্রম বিবেচনায় নেবে। পাঁচ বছর পরে জনগণ বিচারের রায় প্রদান করবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনীতিতে আসলে শারীরিক ব্যায়ামের জায়গা নেই। দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে রাজনীতিতে মাসল পাওয়ারের ব্যবহার দেখে আসছি। রাজনীতি হচ্ছে নীতির রাজা, এখানে শারীরিক কসরতের জায়গা নেই। বুদ্ধি-বিবেচনা করে রাজনীতি করতে হয়। রাজনীতির উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে সেবা দেওয়া।
তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের পর দেশে জামায়াতের চারজন খুন হয়েছেন। সুন্দর বাংলাদেশ আমাদের পেতেই হবে। তা না হলে রাজনীতিতে আমাদের ব্যর্থতাই প্রমাণিত হবে। দেশে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সরকারি দলের। দায়িত্বশীল ভূমিকা তাদেরকেই পালন করতে হবে। সরকারি দল যত আন্তরিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেবে, দেশ তত সুন্দরভাবে চলবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে যেখানে সহযোগিতা করা দরকার সেখানে সহযোগিতা করে থাকি। আর যেখানে বিরোধিতা করা দরকার সেখানে বিরোধিতা করি।
জামায়াত আমির বলেন, সরকারি দল সরকার পরিচালনা করলেও দেশের সমস্ত মানুষ সরকারকে ভোট দেয় না। মানুষ তার পছন্দমতো ভোট দেয়। এটাই গণতন্ত্রের ভাষা। এ সময় মিডিয়া পুরোপুরি স্বাধীন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিডিয়া পুরোপুরি স্বাধীন হওয়া উচিত।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাগেরহাট জেলা শাখা এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিমি এতে সভাপতিত্ব করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, খুলনা অঞ্চল পরিচালক ও সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, জামায়াত নেতা বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম প্রমুখ।
৮৯ দিন আগে
এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও সিইসিকে জামায়াতের চিঠি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে গতকাল বুধবার দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়ে জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে নির্বাচন কমিশনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই চিঠিটি পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গত ২২ জুলাই জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এতে আরও বলা হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাখিল করা হলো।
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের অনুলিপি জাতীয় সংসদের স্পিকারের দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
১০৪ দিন আগে
দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকুন: গোলাম পরওয়ার
দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিয়ে সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে দলের সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জন্য যে গণভোট হয়েছে, সেই গণভোটের রায় মেনে নিয়ে এটা কার্যকর করে সংবিধানের সেই সংস্কারটা করেন। তাহলেই সংকটটা নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। আর তা যদি না করেন, তাহলে রাজপথে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প পথ থাকবে না।
শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আইনি ব্যাপার, সরকারের ব্যাপার। সরকারই তার দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেছে। সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী সরকার জুলাই-আগস্টের সময় সাধারণ মানুষের ওপর যে নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা, হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, মৃতদেহকে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। এমনকি হ্যালিকপ্টারে করে দেশের মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে— সে ক্ষত চিহ্ন এখনও শুকায়নি। তারা যে অন্যায় করেছে তাদের বিচার হতে হবে, শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, স্বৈরাচারী সরকার সংবিধান মানেনি, তাদের মধ্যে মানবিকতা ছিল না। স্বৈরাচারী সরকারকে জনগণ দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক অধিকার হবে কি হবে না, এটা এখন জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। এটা কোনো দলের একার সিদ্ধান্ত না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানই বলে, ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অস্তিত্ব এ দেশের মানুষ আর মানে না। গণভোটের রায় এটাই প্রমাণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দিল্লিতে আশ্রয় পেয়েছেন, এ দেশের রাজনীতির যত গণ্ডগোল পাকানো, জুলুম করানো, কে ক্ষমতায় যাবে আর যাবে না, অর্থনীতি, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সংস্কৃতি— সব কিছুর রিমোট কন্ট্রোল তো ওনারাই করেছেন। সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন, বন্দি বিনিময় আইন, জেনেভা কনভেনশন, সমস্ত কিছুকে লঙ্ঘন করে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে সব ধরণের প্রযুক্তিগত সুযোগসুবিধা ব্যবহারসহ আরাম আয়েশে দিল্লিতে থাকার সুযোগ দিয়েছে। এটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলে মনে করা যাবে না।
নরসিংদী জেলা জামায়াতে ইসলামীর সংগঠক মো. ইব্রাহিম ভূঞার সভাপতিত্বে সদস্য সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আ ফ ম আব্দুস সাত্তার, কর্মপরিষদ সদস্য মশিউল আলমসহ প্রমুখ।
১১০ দিন আগে
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারপারসন ও দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বেগম জিয়ার জন্য তিনি দোয়া করেন।
ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির লেখেন, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওপরে রহম করুন, ক্ষমা করুন এবং তার প্রিয় জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন।
তিনি আরও লেখেন, তার আপনজন, প্রিয়জন ও সহকর্মীদের মহান আল্লাহ সবরে জামিল দান করুন। আমিন।
রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভোগা দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
৩০৯ দিন আগে
নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায়ে প্রয়োজনে আন্দোলনে যেতে হবে: এটিএম মা’ছুম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেছেন, জনগণ এবার কোনো ভোট ডাকাত ও লুটেরাদের ভোট দেবে না। কোনো চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করা যাবে না।
বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আল হেরা কমপ্লেক্সে জেলা জামায়াতের নির্বাচনী দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায়ে প্রয়োজনে আন্দোলনে যেতে হবে। আগামী নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে। জামায়াতের ঘোষিত ৭ দফা মেনে নিতে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাকশালের বুলেটিনখ্যাত সংবিধান দিয়ে দেশ চলতে পারে না। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচন করতে হলে নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে সংস্কার আনতে হবে। একই সঙ্গে অতীত স্বৈরাচার আমলে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিতে হবে। কাউকে আনুকূল্য বা কাউকে পাশ কাটালে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুমিল্লা অঞ্চল টিম সদস্য আব্দুস সাত্তার এবং কুমিল্লা জেলা উত্তরের আমীর অধ্যাপক আব্দুল মতিন।
জেলা আমীর মাওলানা মোবারক হোসেন আকন্দের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক জোনায়েদ হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের প্রার্থী আতাউর রহমান সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল বাতেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মো. নকিবুল হুদা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম।
দায়িত্বশীল সম্মেলনে জেলা আসন কমিটির সদস্য, উপজেলা ও পৌরসভা কমিটির নারী-পুরুষ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ফায়জুল করিম মনোয়ার, কাজী সিরাজুল ইসলাম, রাজিফুল হাসান বাপ্পী, আবুল বাশার ভূঁইয়া, মো. রোকন উদ্দিন প্রমুখ।
৪৪১ দিন আগে
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকসহ নিবন্ধন ফিরে পেল জামায়াত
রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফেরত দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে দলটির ঐতিহ্যবাহী নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লাও’ পুর্নবহাল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) নির্বাচন কমিশনের জারি করা এক গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবরের পুরোনো গেজেট বাতিল করা হয়েছে। ওই গেজেটের মাধ্যমে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছিল।
গেজেটে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে দেওয়া রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ পুর্নবহাল করা হয়েছে।
ফলে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং ঐতিহ্যবাহী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা ভালো থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন দেয় ইসি (নিবন্ধন নম্বর: ১৪) যা ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২’-এর ৯০বি অনুচ্ছেদের আওতায় ছিল।
তবে, ২০০৯ সালের এক রিট আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৩ সালে হাইকোর্টের রায়ের আলোকে ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর দলটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়।
গত ১ জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই রায় বাতিল করে। ফলে দলটির নিবন্ধন এবং প্রতীক পুনরুদ্ধারের পথ উন্মুক্ত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায়, ৪ জুন অনুষ্ঠিত ইসির বৈঠকে জামায়াতের নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তা কার্যকর হলো।
৪৯৮ দিন আগে