বিএসআরএফ সংলাপ
ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতেই নতুন উপজেলা করা: মীর শাহে আলম
মোকামতলা উপজেলা গঠনের প্রসঙ্গ তুলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, আমার ইচ্ছা ছিল যে, এটা আমার সময় যদি হয়, তাহলে ইতিহাসের পাতায় আমার নামটি লেখা থাকবে যে আমার সময় শিবগঞ্জ ভেঙে নতুন একটি উপজেলা হয়েছে। এই ইতিহাসের সাক্ষী হবার কারণেই নতুন উপজেলা করা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় নিজের সম্পদ, পারিবারিক প্রতিষ্ঠান, ছেলের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে পদত্যাগ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও তিনি কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিবগঞ্জ উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল যে, মোকামতলায় একটি আলাদা উপজেলা করার। আমি এমপি এবং মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মাথায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে ডিও দিয়ে দুই মাসের মাথায় বাংলাদেশের প্রথম যে পাঁচটি উপজেলা হয়—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাননীয় মহাসচিবের ওখানে দুটি, কক্সবাজারে একটি, লক্ষ্মীপুরে একটি এবং আমার নির্বাচনে একটি নতুন উপজেলা হয়—মোকামতলা উপজেলা। এই উপজেলাতে আজ হোক, কাল হোক, কেউ না কেউ করতই। আমার ইচ্ছা ছিল যে, এটা আমার সময় যদি হয়, তাহলে ইতিহাসের পাতায় আমার নামটি লেখা থাকবে যে আমার সময় শিবগঞ্জ ভেঙে নতুন একটি উপজেলা হয়েছে। এই ইতিহাসের সাক্ষী হবার কারণেই নতুন উপজেলা করা।’
তিনি বলেন, ‘আমার উপজেলায় নতুন কিছু ইউনিয়ন ছিল, যেগুলো অনেক বড় বড় ইউনিয়ন। যে ইউনিয়নগুলোকে বিভক্ত করার প্রয়োজন ছিল, সেই ইউনিয়নগুলোকে আমরা বিভক্ত করেছি। আমি নতুন চারটি ইউনিয়ন তৈরি করেছি। ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে হয়তো অনেক প্রশ্ন ছিল, অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে, তার অনুশাসন অনুযায়ী তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে নতুন করে আবার ওই এলাকার জনগণ যেভাবে চাইছে, সেভাবে নামকরণের ব্যবস্থা হয়েছে।’
বগুড়া দীর্ঘদিন উন্নয়নবঞ্চিত ছিল দাবি করে তিনি বলেন, জেলার উন্নয়ন ঘাটতি পূরণে তিনি মন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করেছেন।
ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট না করার আহ্বান
শুরুতেই ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট করা হলে রাষ্ট্রীয় কাজে নিজের মেধার বিকাশ ঘটানো সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
নিজেকে লক্ষ্যবস্তু করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি। কিন্তু আমরা কাজ তো শুরু করেছি। আমাদের কাজ করবার যোগ্যতা আছে কি না, এটা তো কিছুদিন আপনাদের দেখতে হবে। শুরুতেই যদি আমাকে ধাক্কা মারা হয়, শুরুতেই যদি আমাকে টার্গেট করা হয়, তাহলে তো যেটুকু মেধা মহান আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন, আপনাদের চেয়ে কম অথবা বেশি বা সমান, এইটুকু মেধার বিকাশ তো আমি রাষ্ট্রীয় কাজে বা আমার মন্ত্রণালয়ে দেখাতে পারব না। এইটুকু সুযোগ তো আমাকে করে দিতে হবে কাজ করার।
নিজের অর্থে প্রতিষ্ঠানের দাবি
এলাকায় নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, উন্নয়নের ব্যাপারে আমার একটা পাগলামো রয়েছে। আমি এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে অনেক চেষ্টা করি, কাজ করি দীর্ঘদিন যাবত। আপনারা জানেন যে, এবার অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। আমি প্রথম চেয়ারম্যান হওয়ার পরে আমার গ্রামে কিন্তু প্রাইমারি স্কুল করি আমার নামে, ১৯৯৭ সাল, যেটি এখন সরকারি।
তিনি বলেন, ২০০৩ সালে কারিগরি শিক্ষাকে মাথায় রেখে আমি ‘মীর শাহ আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করি। এরপরে আমার নামে ওখানে কৃষি এবং মৎস্য কলেজ রয়েছে, আমার নামে মাদরাসা রয়েছে, ভেটেরিনারি স্কুল রয়েছে। এরপরে মোকামতলা নতুন উপজেলায় আমার নামে নতুন একটি কলেজ রয়েছে, শিবগঞ্জে আরেকটি কলেজ রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো আমি ১৯৯৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নিজের সম্পত্তি, পৈতৃক সম্পত্তি দিয়ে, কোথাও সম্পত্তি কিনে, নিজের অর্থ দিয়ে ঘরবাড়ি তৈরি করে দিয়ে আস্তে আস্তে এই প্রতিষ্ঠানগুলো আমি দাঁড় করিয়েছি। এর মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই আমি বিএনপি করার কারণে এমপিওভুক্ত হয়নি। নতুন করে সরকার আসার পরে আবেদন করেছি, চেষ্টা করছি প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে এমপিওভুক্ত হয়। কারণ, দীর্ঘদিন এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বেতন পাননি; কারণ হচ্ছে আমি।
‘জাতীয় রাজনীতিতে আমার ভূমিকা ছিল’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ঠিক যে জাতীয় রাজনীতিতে আমার কোনো পদ-পদবি ছিল না। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে আমি অনেক কাজ করেছি। আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম স্যারের সঙ্গে আমি কাজ করেছি, রিজভী আহমেদের সঙ্গে আমি বহুবার কাজ করেছি এবং জাতীয় রাজনীতিতে প্রকাশ্যে হোক, অপ্রকাশ্যে হোক, আমার বহু ভূমিকা ছিল। যেহেতু আমি ঢাকা শহরেই বসবাস করতাম, ঢাকা শহরই পরিবারসহ আমার বসবাস।’
‘সমালোচনা পরিবার নিতে পারে না’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘কয়েকদিন আগে একটা পত্রিকায় দেখলাম, আমি ওই প্রসঙ্গে যেতে চাই না, একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে হাইড করে কিছু নিউজ করা হয়। এগুলো আসলে হয় কি, আমরা হেয় প্রতিপন্ন মাঝে মাঝে হলে খুব একটা খারাপ লাগে না। কারণ রাজনীতি করি তো; সবাই আমাদের খুশি করবে তা না, কখনও গালি দেবে, কখনও ভালো বলবে। কিন্তু আমাদের সম্বন্ধে নেগেটিভ কিছু গেলে এটা পরিবার নিতে পারে না, আত্মীয়-স্বজনের কাছে এটা খারাপ লাগে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের সন্তানরা কিছু করলে এটা বিভিন্নভাবে সমালোচিত হয়। যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাহেবের ছেলে কেন ক্রিকেট বোর্ডে, সালাউদ্দিন সাহেবের ছেলে কেন ক্রিকেট বোর্ডে, বা মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেবের ভাই কেন ক্রিকেট বোর্ডে। আমার নিজেরও সন্তান ক্রিকেট বোর্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে এসেছিল। যখন সমালোচনা শুরু হয়েছে, আমার সন্তান আমার ওপর খুবই মন খারাপ করেছে। আমি তাকে ডেকে বুঝিয়ে বলেছি, বাবা, এটা নিয়ে নানা কথা হবে, তোমার ব্যবসা-বাণিজ্য এখন অনেক দেখতে হবে, তুমি দয়া করে পদত্যাগ কর।’
তিনি বলেন, ‘যেদিন বোর্ড নির্বাচিত হয়েছে, ফার্স্ট বোর্ড মিটিং করেছে, পরের দিনই আমার কথামতো গিয়ে আমার ছেলে ক্রিকেট বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছে। এই নিউজটা আপনারা কেউ হাইলাইট করেন না যে একজন মন্ত্রী তার সন্তানকে ক্রিকেট বোর্ড থেকে সরিয়ে নিয়ে আসছেন।’
তার ভাষায়, ‘আমাদের সন্তানরা বিরোধী দলের থাকার সময় সরকারের রোষানলে পড়বে, আবার ক্ষমতায় আসার পরে সমালোচকদের রোষানলে পড়বে; তাহলে এরা উচ্চ শিক্ষিত হয়ে, উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে, রাজনৈতিকভাবে, ব্যবসায়িকভাবে মেধার বিকাশটা তাহলে ঘটাবে কোথায়? এরা সমাজে অবদানটা রাখবে কীভাবে? এই বিষয়গুলো মনে হয় আপনাদের নোটিশে আনা দরকার।’
সম্পদ নিয়ে ব্যাখ্যা, তদন্তের আহ্বান
সম্পদের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনি হলফনামায় তার সব সম্পদের তথ্য রয়েছে। ‘তাহলে সমস্ত হলফনামাকে আপনি হাইড করে একটা চিহ্নকে গোল চিহ্ন দিয়ে যদি বলেন যে, আমি প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর আমার সম্পত্তির পরিমাণ আট গুণ বেড়েছে, তখন কিন্তু কষ্ট লাগে।’
তিনি বলেন, ‘আপনি ওখানে সম্পত্তিতে দেখালেন ৩১ শতক, কিন্তু আমার হলফনামাতে তো সম্পত্তি দেওয়া আছে এক হাজার ৮৩৫ শতক। তাহলে কোথায় এক হাজার ৮৩৫ শতক আর আপনি হাইলাইট করলেন ৩১ শতক। হ্যাঁ, আমার উপজেলায় আমি মন্ত্রী হওয়ার পরে সম্পত্তি কেনা হয়েছে, এ তো আমি অস্বীকার করছি না। আমার কোম্পানির নামে সম্পত্তি আমার সন্তান কিনেছে। নতুন ইন্ডাস্ট্রি করার জন্য সম্পত্তি কেনার প্রয়োজন হলে সম্পত্তি কিনবে না? অবশ্যই কিনবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু সেটার আয়ের উৎসটা কী, সেটা আপনারা দেখেন, সেটা তদন্ত করুন। ট্যাক্স অফিস আছে, তারা দেখবে যে সেটা বৈধ না অবৈধ। ব্যক্তিগত নামে তো কোনো সম্পত্তি কেনা হয়নি; রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলের নামে, ফাউন্ডেশনের নামে সম্পত্তি কেনা হচ্ছে, কারণ সেখানে আমরা নতুন ইন্ডাস্ট্রি করব, নতুন ব্যবসা করব।’
টাকার উৎস সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি যে ৪২ কোটি টাকা দিয়ে একটা অটো রাইস মিল বিক্রি করলাম, নগদ টাকার উৎস তো এখানেই বের হয়ে আসে। আমি অন্য জায়গায় না-ই গেলাম, আমার অন্যান্য ব্যবসাগুলো নাহয় আমি বাদই দিলাম।’
‘মন্ত্রী আমাকে ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন না’
মন্ত্রণালয়ের কাজের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আমার মন্ত্রণালয়ে কাজ করছি, খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কারণ আমার সৌভাগ্য যে আমার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দলের মহাসচিব। উনি দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তি, আমার পরম শ্রদ্ধেয় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং শ্রদ্ধেয় স্যার কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত... আমি ওনার বয়সে অনেক ছোট, নবীন হিসাবে উনি আমাকে ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। যেকোনো বিষয়ে উনি আমাকে ডাকেন অথবা খবর দেন, আমি গিয়ে উনার কাছে বসলে উনি বলেন যে আমরা এটা এভাবে করতে চাচ্ছি, আমরা এক সমন্বিতভাবেই পরিচালনা করছি।’
তিনি বলেন, ‘আর আমার নিরাপত্তার জায়গা, ফাইল স্বাক্ষরের শেষ জায়গা হচ্ছে মাননীয় মন্ত্রী। আর উনি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাহলে আমার নিরাপত্তা, আমার প্রোটেকশনের দেওয়ালটা তো এখানে আছে, আমি তো ফাইনাল অথরিটি না আমার মন্ত্রণালয়ের। আমার পরেও ফাইলটা তার কাছে যায়। যদি ওখানে কোনো অন্যায় থাকে, নেগেটিভ কিছু থাকে আমার স্বাক্ষরের পরে, তাহলে তো মাননীয় মন্ত্রী সেটা ফেরত দিতে পারবেন বা ওটা এলাউ করবেন না।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি
স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের নির্বাচনের জন্য চলতি বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনও প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, ইউনিয়ন—এই নির্বাচনগুলো করার জন্য তারাও প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। সব মিলিয়ে এই বছরটি সরকারের এই বড় একটি বাজেট বাস্তবায়নে যেমন একটা চ্যালেঞ্জ হবে, আমাদের সামনে নির্বাচনগুলো আসবে। এখানেও নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করবার জন্য সরকারের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হয়েছে।’
বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
১৯ ঘণ্টা আগে
‘তারেক রহমানের বন্ধু’ পরিচয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্ধু নন; বরং বিএনপির একজন সাধারণ কর্মী। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকে ‘তারেক রহমানের বন্ধু’ পরিচয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমি বন্ধু না। আমি বিএনপির সাধারণ একজন কর্মী।’
তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু নিউজে আসে, আমি মাঝখানে একটা সাক্ষাৎকারে বলেছি যে তারেক রহমানের বন্ধু মীর শাহে আলম দুর্নীতি করবে, তারেক রহমানের বন্ধু মীর শাহ আলমের সম্পদ আট গুণ বাড়ল—এই যে কথাগুলি। তারেক রহমান শ্রদ্ধেয় তারেক রহমান বড় হয়েছেন, পড়াশোনা করেছেন ঢাকা শহরে। আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা বগুড়া এবং শিবগঞ্জে। উনার সঙ্গে আমার রাজনৈতিকভাবে সাক্ষাতই হয়েছে ১৯৯৩-৯৪ সালে, আমি ছাত্রদলের সেক্রেটারি হবার পরে, যখন উনার বগুড়ায় যাওয়া-আসা শুরু করলেন।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমি আপনাদের মাধ্যমে আবারও বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করি যে এই বিষয়টি কখনোই কেউ নোটিশে বা নজরে নিয়ে আসবেন না। কোনো কারণেই কোনোভাবেই আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমি বন্ধু না। আমি বিএনপির সাধারণ একজন কর্মী।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির কর্মী হিসেবে আমার বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া। বগুড়া জেলার দায়িত্ব পালন করার কারণে যেহেতু বগুড়ায় বাড়ি শ্রদ্ধেয় নেতা তারেক রহমানের, তার সঙ্গে বহুবার আমার সাক্ষাৎ হয়েছে, দেখা হয়েছে। স্বাভাবিক কারণেই তিনি আমাদের স্নেহ করেন এবং বিভিন্ন সময় পরামর্শ দেন।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বগুড়ার মানুষ হিসেবে এইটুকু যোগাযোগ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার আছে। তিনি আমাকে চেনেন, ব্যক্তিগতভাবে জানেন—এইটুকুই তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক। তার সঙ্গে আমার বয়সেরও অনেক তারতম্য রয়েছে। সব মিলিয়ে এই যে মানুষের সামনে তিনি উপস্থাপন করেন যে তারেক রহমানের বন্ধু মীর শাহ আলম এটা করল, এই জিনিসটা আমি এবং আমার পরিবার বা সমাজের অন্য মানুষ নিশ্চয়ই ভালোভাবে নেবেন না। অনুগ্রহপূর্বক এই জিনিসটা থেকে, এই বিষয়টা থেকে আপনারা একটু দূরে থাকবেন বা সবাইকে সজাগ করবেন—এইটুকু আমি অনুরোধ করছি।’
বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
১৯ ঘণ্টা আগে
যাচাই-বাছাই করেই ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
যাচাই-বাছাই করেই ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয় বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
রবিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম'র (বিএসআরএফ) উদ্যোগে আয়োজিত 'বিএসআরএফ সংলাপ' এ অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
বিএসআরএফ সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকের সঞ্চালনায় এসময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সভাপতি ফসিহ উদ্দীন মাহতাব।
জেলা প্রশাসক নিয়োগে বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতি নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, কিছু কর্মকর্তাকে ডিসি হিসেবে পদায়নের পর তুলে নেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মাঠ প্রশাসন দেখে, তারা বিষয়গুলো যাচাইবাছাই করে। একজন মানুষকে যখন ডেস্কে কাজ করতে দেখেন, তার এক ধরনের পারফরমেন্স থাকে; মাঠের কাজের ধরন কিন্তু ভিন্ন রকম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যাচাইবাছাই করেই ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়। এদের সংখ্যা কিন্তু কম, দুই-একজন বিভিন্ন কারণে ফেইল করে। তারা হয়তো ওখানে গিয়ে অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে পারছেন না। অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে যেটা আমাদের অনেক সময় এম্বারেসও করে। সেসমস্ত ক্ষেত্রে আমরা তুলে নিয়েছি।’
তিনি বলেন, আমরা চেয়েছি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন, যাতে করে আমাদের কর্মকর্তারা চমৎকারভাবে কাজ করতে পারেন এবং একই সঙ্গে কিন্তু আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে চালিয়ে নিতে পারেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাদের তুলে নেওয়া হয়েছে তাদের ২০ জন ছিলেন ২২ ব্যাচের। আশা করছি এ মাসের মধ্যেই তারা যুগ্ম সচিব হয়ে যাবেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে কিছু অভিযোগ ছিল, অভিযোগগুলো দেখে মনে হয়েছে সেটা রাখা ঠিক হবে না। জনমনে বেশকিছু অস্বস্তি আছে সেজন্য আমরা তুলে নিয়েছি। দু’একজন তুলেছি মনে হয়েছে তারা ডেস্কে যেভাবে কাজ করেছেন ওখানে গিয়ে সেভাবে পারছেন না। নিয়মের বাইরে, আইনের বাইরে, বিধিবিধানের বাইরে কিন্তু কোনো কিছু করিনি। ডিসি কিন্তু একদিনে হয় না। মাঠ প্রশাসনে তাদের দুই বছর কাজ করতে হয়।
প্রতিমন্ত্রীর দাবি, প্রশাসনের ভারমূর্তি প্রতিনিয়তই উন্নত হচ্ছে, ভালো হচ্ছে, এই ভাবমুর্তি উন্নয়ন হওয়ার গতিধারা সেটা যেন ঠিক থাকে সেজন্য আমরা এই কাজগুলো করে থাকি। যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের কতটুকু প্রশিক্ষিত করেছি সেটা অনুযায়ী তাদের পদায়ন করে থাকি। সেজন্য একথা বলার কোনো স্কোপ নেই, কারণ রাতারাতি কেউ ডিসি হয় না। আমি চাইলেই পলিটিক্যাল কাউকে ডিসি করতে পারব না।
তিনি বলেন, সরকারের পলিসি রয়েছে, আমরা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আমরা উপহার দিতে চাই। সেটার জন্য আমরা বদ্ধ পরিকর। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে সেটি ব্যক্ত করেছেন। আমরা কিন্তু সেদিকে যাচ্ছি। সেটির জন্য কিন্তু সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া আছে যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো অতিকথন বলা যাবে না, যেটি কিনা প্রশাসনে ঝামেলার সৃষ্টি হতে পারে। সেজন্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সুন্দরভাবে আপনারা কাজ করবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনার যেভাবে চাইবেন সেভাবে চলবে। আমাদের তরফ থেকে আমরা একটি নির্বাচন সুন্দর করার জন্য যতটুকু সহযোগিতা করা দরকার ততটুকু করছি।’
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পিএস নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বেছে-বেছে সেরা অফিসারদের সেখানে দেওয়া হয়েছিল। ভালো কর্মকর্তাদের ডিসি করা হচ্ছে। এখানে কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি।
১০৭৫ দিন আগে