তিস্তার পানি বণ্টন
আমাদের দেশকে অপমান করা হয়েছে: মোস্তাফিজ ইস্যুতে ফখরুল
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ক্রিকেটের ব্যাপারে রাজনৈতিক প্রশ্ন জড়িত আছে। আমাদের দেশের সম্মান জড়িত আছে। নিঃসন্দেহে আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে। আমরা মনে করি, আমাদের দেশকেই অপমান করা হয়েছে।’
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মোস্তাফিজ ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি বহু আগে ক্রিকেট খেলতাম। ক্রিকেট কট্রোল বোর্ডের (বিসিবি) সদস্যও ছিলাম। এখন ক্রিকেট খেলি না; রাজনীতি করি। এই ক্রিকেটের ব্যাপারে রাজনৈতিক প্রশ্ন জড়িত আছে। আমাদের দেশের সম্মান জড়িত আছে। নিঃসন্দেহে আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে। আমরা মনে করি আমাদের দেশকে অপমান করা হয়েছে।
‘সেই ক্ষেত্রে আমি মনে করি যে, ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের যে সিদ্ধান্ত, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা একমত। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা এটাও মনে করি, ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই বেটার।’
এ সময় সরকার গঠন করতে পারলে ভারতের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কটা প্রস্তুত করবেন—সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটা স্বাধীন দেশ হিসেবে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে আমরা দাবি আদায়ের চেষ্টা করব।’
ভারতের সঙ্গে চলমান যে উত্তেজনা, সে বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি সঠিকভাবে কুটনৈতিক আচরণ করতে পারি, তাহলে এটা কমে যাবে।
ক্ষমতায় গেলে তিস্তা, পদ্মা ও অভিন্ন নদী যেগুলো আছে, সেগুলোর ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে পানির হিস্যা আদায় করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের ভোটারদের বড় দুটি দল নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা সবার বেলা প্রযোজ্য নয়। এই দেশে যা কিছু ভালো সবকিছুই কিন্তু বিএনপির অর্জন! যে সংস্কার একদলীয় গণতন্ত্র থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে আসা, প্রেসিডেনশিয়াল ফরম থেকে পার্লামেন্টারি ফরমে আসা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা—সবই বিএনপি করেছে। বিএনপি ৩১ দফার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করেছে।
‘এখন যে সংস্কার কমিটির মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে তা সবই বিএনপির প্রস্তাবের মধ্যে আছে। সুতরাং আমরা মনে করি, বিএনপি নিঃসন্দেহে সেলফ সাফিশিয়েন্ট (স্বয়ংসম্পূর্ণ) একটি রাজনৈতিক দল, যে অতীতে এককভাবে সরকার চালিয়েছে, সরকারে ছিল এবং সব ভালো কাজগুলো করতে সক্ষম হয়েছে।’
নির্বাচনি পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে, তবে নির্বাচনের পরিস্থিতি বোঝা যাবে যখন প্রচারণা শুরু হবে তখন, তার আগে বোঝা যাবে না। প্রকৃত অবস্থা আপনি বুঝতে পারবেন যখন প্রচার শুরু হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সেই রকম উন্নত হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয় না। তবে আমি আশাবাদি যে নির্বাচন চলাকালীন উন্নতি করবে এবং একটা ভালো অবস্থায় আসবে।’
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ বিএনপি নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৭ ঘণ্টা আগে
দিল্লিতে হাসিনা-মোদি আলোচনায় তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়টি উত্থাপিত হবে: পররাষ্ট্র সচিব
আগামী সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়টিও উত্থাপন করবে বাংলাদেশ।
রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের তিস্তার পানি বণ্টনের ইস্যু আছে যা অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী উত্থাপন করবেন। আমাদের আরও কিছু সমস্যা আছে। আমাদের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে।’
তিনি বলেন, গঙ্গার পানি চুক্তি আরেকটি বিষয়, যা শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে।
দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি সই হয়।
৩০ বছরের চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সব সময়ই সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে তিস্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছে। ‘আমরা এটাকে সবসময় আলোচনার এজেন্ডায় রাখতাম। এবারও আমরা আশা করছি প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলবেন।
বাংলাদেশ মনে করে দুই দেশের পানি বণ্টন সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে, কারণ দুই দেশ পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে কাজ করতে ‘মানসিকভাবে একমত’।
আরও পড়ুন: বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ‘ক্রমবর্ধমান সংঘাত, সামরিক অভ্যুন্থান’ নিয়ে উদ্বিগ্ন ঢাকা: পররাষ্ট্র সচিব মোমেন
পূর্ববর্তী আলোচনার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তা নদীর পানি বণ্টন সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী চুক্তি শেষ করার জন্য বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। যার খসড়া ২০১১ সালে চূড়ান্ত করা হয়েছিল।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে রাষ্ট্রীয় সফরের সময়, উভয় নেতা নদী দূষণের মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে এবং অভিন্ন নদীর ক্ষেত্রে নদীর পরিবেশ ও নদীর নাব্যতা উন্নত করার জন্য কর্মকর্তাদের একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন।
এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ৯-১০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে জি-২০ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশগ্রহণ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ‘সুবর্ণ অধ্যায়ে’ আরও একটি পালক যুক্ত করবে।
ভারত সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
পানিবন্টন ইস্যুতে ফলোআপ আলোচনা
এর আগে, পররাষ্ট্র সচিব ২০২৩ সালের জাতিসংঘের পানি সম্মেলনে বাংলাদেশের দেওয়া ১০টি প্রতিশ্রুতি নিয়ে একটি ফলোআপ আলোচনায় অংশ নেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তারা মূলত আলোচনা করেছেন কীভাবে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা যায় এবং উন্নয়ন সহযোগীরা কীভাবে এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, অধিকাংশ অঙ্গীকার ২০৩০ সালের মধ্যে পূরণ হবে এবং বিশ্বের অনেক দেশ আলাদাভাবে তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আরও পড়ুন: এ বছর ১০০০ রোহিঙ্গা নিয়ে প্রত্যাবাসন শুরু করতে চায় সরকার: পররাষ্ট্র সচিব
ইউএন ২০২৩ ওয়াটার কনফারেন্সে ওয়াটার অ্যাকশন এজেন্ডা গ্রহণ করা হয়েছে, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজিস) এবং পানির সঙ্গে যুক্ত তাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য দেশ ও অংশীজনদের স্বেচ্ছামূলক প্রতিশ্রুতির প্রতিনিধিত্ব করে।
আয়োজনটিতে ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিল।
সভায় ওয়াটার অ্যাকশন এজেন্ডা বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান এবং অপরিবর্তনীয় সম্পদ রক্ষার জন্য আর্থিক প্রতিশ্রুতি, সহযোগী প্রকল্প এবং পদক্ষেপের আকারে প্রায় ৭০০ প্রতিশ্রুতি পেয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, জীবিকা ও বেঁচে থাকার জন্য পানি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তারা উপকূলীয় অঞ্চল, লবণাক্ততা সমস্যা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস, প্লাস্টিক দূষণ, কৃষিজ পানির অপচয়, বৃষ্টির পানি সংগ্রহ এবং পানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, কয়েক বছর পর উদ্বিগ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সম্পদ সংগ্রহের ওপর জোর দিয়েছেন।
জাতিসংঘ বলেছে, পানি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং মানুষ ও গ্রহের অন্যদের জীবনের স্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির জন্য একটি আবশ্যিক উপাদান।
জাতিসংঘ আরও বলেছে, কিন্তু পানি সংক্রান্ত লক্ষ্য ও লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি উদ্বেগজনকভাবে আলোচনার বাইরে রয়েছে। যা সমগ্র টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডাকে বিপন্ন করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: ব্রিকসে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া নিয়ে আশাহত হওয়ার কোনো কারণ নেই: পররাষ্ট্র সচিব
৮৬২ দিন আগে