আলু
আলু নিয়ে বেকায়দায় চাঁদপুরের চাষি ও হিমাগার কর্তৃপক্ষ
আলুর বাজারদরে ধস নামায় চাঁদপুরের আলুচাষিরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। হিমাগারে রাখা আলু তারা যেমন তুলতে পারছেন না, তেমনি গত মৌসুমে বাকিতে কেনা আলুবীজের ধারদেনাও মেটাতে পারছেন না। এতে বিপাকে পড়েছে হিমাগার কর্তৃপক্ষও।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় আলুচাষির সংখ্যা ৫৬ হাজার ৮৬০ জন। সবচেয়ে বেশি আলু চাষ হয় চাঁদপুর সদর, মতলব দক্ষিণ ও কচুয়া উপজেলায়। এসব উপজেলার প্রত্যেকটিতে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়।
সরেজমিনে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, সাপ্তাহিক হাটবাজারে এখনো পুরোনো আলু মাত্র ৭–৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে শহর ও গ্রামীণ হাটবাজারে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় প্রায় সব ধরনের সবুজ শাকসবজির দাম কমেছে। শিম, বরবটি, করলা ও গাজর বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে, টমেটো ৪০ টাকা কেজিতে। মাত্র ১৫–২০ দিন আগেও এসব সবজির দাম ছিল ৯০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।
আলুর দাম কমে যাওয়ায় বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়ে এবার জেলায় অনেক চাষি আলু চাষে বিমুখ হয়েছেন। তারপরও জেলার বিভিন্ন স্থানে নতুন মৌসুমে অনেক চাষিকে আবার আলু বপনে ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে। সদর, কচুয়া ও মতলব দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ মোবারক হোসেন ইউএনবিকে বলেন, এবার আলুর বাজারে কোনো সিন্ডিকেট না থাকায় দাম কমই থাকবে। তিনি বলেন, ‘গত মৌসুমে সিন্ডিকেটের কারণে ক্রেতাদের ৮০ টাকা কেজিতে আলু কিনতে হয়েছে। এবার সে পরিস্থিতি নেই।’
কচুয়া উপজেলায় হিমাগারে আলু রাখা চাষিরা মারাত্মক সংকটে আছেন। একইভাবে বিপাকে পড়েছে হিমাগার কর্তৃপক্ষও। উপজেলার তিনটি হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু মজুত আছে। বাজারদর পানির দরে নেমে আসায় প্রকৃত চাষিরা আলু বের করছেন না। ফলে হিমাগারের ভাড়া আদায় করতে পারছেন না কর্মচারীরা।
দুই হিমাগার ব্যবস্থাপক মঙ্গল খান ও ইয়াছিন মিয়া জানান, চাষিরা আলু না তুললে বা ফেরত না নিলে সেগুলো বিক্রি করেও ভাড়ার টাকা আদায় সম্ভব হচ্ছে না। কারণ হাটবাজারে আলুর দাম অত্যন্ত কম।
গত মৌসুমে জেলায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছিল। বর্তমানে বাজারে ভালো মানের পুরোনো আলু ৮–১০ টাকা কেজিতে এবং নতুন আলু ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাকিলা বাজারে প্রবীণ আলুচাষি ও বিক্রেতা বাচ্চু মিজি বলেন, ‘আমার জমিতে ১০০ মণ আলু হয়েছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি, পুরোটাই লস।’
তিনি ও অন্য চাষিরা জানান, সামনে তারা আর আলু চাষ করতে চান না।
সদরের শাহ মাহমুদপুর এলাকার চাষি বাবুল, মকবুল, জহুরুল হক, হানিফ পাটোয়ারি ও তার ছেলেরাও একই হতাশার কথা জানান।
হানিফ পাটোয়ারি বলেন, ‘গত মৌসুমের আলুবীজের টাকাই এখনো দিতে পারিনি। যে লস খেয়েছি, সামনে আর আলু চাষ করব না।’ তিনি আরও জানান, বাবুরহাট বিসিক শিল্পনগরীর হিমাগারে রাখা তার ৩৩ বস্তা (প্রতি বস্তা ৫০ কেজি) আলু বস্তাপ্রতি মাত্র ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
কচুয়া উপজেলাতেও আলুচাষিদের অবস্থা ভালো নয়। লাভের আশায় তারা আলু হিমাগারে রেখেছিলেন। কিন্তু বাজারদর কম থাকায় সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরের শুরুতে আলু ফেরত নেওয়ার কথা থাকলেও এখনো অর্ধেকের বেশি আলু হিমাগারে পড়ে আছে। এতে কচুয়ার হিমাগার কর্তৃপক্ষের হতাশাও বাড়ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জেলা সদর, হাইমচর, কচুয়া, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় অধিকাংশ মাঠে আলু রোপণ ও বপনের কাজ চলছে। কোথাও জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে, আবার কোথাও শ্রমিক নিয়ে আলু রোপণ ও বপনে ব্যস্ত চাষিরা।
সদরের বাগাদীর শামসুল ইসলাম ও ধনপর্দির ইসমাইল হোসেন ও সুরুজ মিয়া জানান, গত বছর তারা আলুর ন্যায্য দাম পাননি। তাই এবার কম বা অর্ধেক জমিতে আলু চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও বাম্পার ফলনের আশা করছেন, তবে ভালো দাম পাওয়া যাবে কি না—তা নিয়ে তারা সন্দিহান।
অতি সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জ থেকে নৌপথে চাঁদপুরের বাজারে নতুন আলু আসতে শুরু করেছে। তবে নতুন আলুর দাম ৭০ টাকা কেজি থেকে নেমে ২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। বর্তমানে ৫ কেজি নতুন আলু ১০০ টাকা, আর ১০ কেজি পুরোনো আলু ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কৃষিবিদ মোবারক হোসেন আরও জানান, জেলায় বর্তমানে ১০টি হিমাগার চালু রয়েছে। এতে মোট ৮০ হাজার ১৬৯ টন আলু সংরক্ষিত আছে। এসব হিমাগারের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ৮০ হাজার ২৫০ টন। তার মতে, যদি সিন্ডিকেট থাকত, তাহলে বাজারে আলুর দাম ৭০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে উঠত।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু তাহের ইউএনবিকে বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ২০০ হেক্টর, যা গতবারের তুলনায় ১ হাজার হেক্টর কম। এর প্রধান কারণ হলো, চাষিরা আলুর প্রকৃত দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন এবং আগের দেনা পরিশোধ করতে পারছেন না।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে তিনি দেখেছেন, দাম ভালো পেলে চাষিরা স্বাভাবিকভাবেই সেই ফসল চাষে আগ্রহী হন।
১ দিন আগে
ভারত থেকে আলু আমদানি করা ছাড়া উপায় ছিল না: বাণিজ্য উপদেষ্টা
কৃষি, খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তথ্য-উপাত্তের যে ঘাটতি ছিল, সেই ঘাটতি মোকাবিলা করতে প্রতিবেশি দেশ ভারত থেকে আলু আমদানি করা ছাড়া উপায় ছিল না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন।
সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সাভারের হরিণধরায় বিসিক চামড়া শিল্প নগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিদর্শন শেষে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশে ভারতের বাণিজ্য বিভিন্ন কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে আলুর মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক। বর্তমানে বাংলাদেশে পেঁয়াজ, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কমেছে, তবে চাল ও তেলের দাম বেড়েছে। শুধু দাম বাড়ছে- কথাটা সঠিক নয়, বিশ্ব বাজারেও নানা কারণে এসব পণ্যের দাম বেশি।’
আরও পড়ুন: রমজানে পণ্যের দাম নিম্নমুখী আরও পড়ুন: থাকবে: বাণিজ্য উপদেষ্টা
তবে শুধু ভারত নয়, চীন ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকেও বাংলাদেশে পণ্য আমদানি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শেখ বশির উদ্দীন বলেন, ‘হাজারীবাগ থেকে যখন সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর করা হয়, তখন থেকে (ট্যানারি) মালিকরা অনেক সমস্যায় ভুগছিলেন। কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের সুফল উদ্যোক্তরা ঠিক মত পাননি। তাই আজকে আমরা পরিদর্শন করে সমস্যা কোথায় কোথায়- জানার চেষ্টা করেছি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় নানা উদ্যোগ হাতে নিয়েছে এবং আগামী কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ট্যানারির সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।’
এ সময় শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব জাকিয়া সুলতানা, বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সালাউদ্দিন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন খান, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ নেওয়াজ, বাংলাদেশ ফিনিশ লেদার অ্যান্ড ফুটওয়ার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল আউয়াল নান্নু, বিটিএর সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির কারণেই সয়াবিন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ: বাণিজ্য উপদেষ্টা
৩৮৪ দিন আগে
হিলি দিয়ে ফের পেঁয়াজ ও আলু আমদানি শুরু
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার অনলাইনে স্লট বুকিং বন্ধ করে দেওয়ায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ ও আলু আমদানি বন্ধ ছিল। এ কারণে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টার পর থেকে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।
তবে অনলাইনে স্লট বুকিং আবারও চালু করায় বুধবার (২৭ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ফের আমদানি শুরু হয়। ওই সময় পেঁয়াজবোঝাই ৫টি ট্রাক হিলি স্থলবন্দরম দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
এর মধ্য দিয়ে আমদানি-রপ্তানির কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরল। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পেঁয়াজবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও আলু আমদানি হয়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী বলেন, ভারত থেকে অনলাইনে স্লট বুকিং বন্ধ থাকার কারণে একদিন পেঁয়াজ ও আলু রপ্তানি করতে পারেননি ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এতে তাদের লোকসান গুনতে হয়েছে। লোকসানের কারণে তারা সব পণ্য ধরনের রপ্তানি বন্ধ রেখেছিল।
আরও পড়ুন: হিলি বন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু, প্রথম চালানে আসল ১৩১ টন
তিনি বলেন, গত রাতে তারা সমস্যার সমাধান করতে পারায় আজ (বুধবার) থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। তবে এখনও আলু আমদানি করা যায়নি। সব সমস্যা কাটিয়ে দ্রুত সব ধরনের পণ্য ভারত থেকে আমদানি হবে বলে আশা করছি।
হিলি কাস্টমসের তথ্য মতে, চলতি সপ্তাহে ভারত থেকে ৫৫টি ট্রাকে ২ হাজার ২০০ টন চাল, ১৬৬টি ট্রাকে ৪ হাজার ৭০০ টন আলু এবং ৪৫টি ট্রাকে ১ হাজার ৩০০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।
এদিকে, ভারত থেকে আমদানি বন্ধের অজুহাতে চাল, পেঁয়াজ ও আলুর দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা তোলার ফায়দা লুটেছে সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীরা। দুই দিনের ব্যবধানে জিরাশাইল ও সম্পাকাটারী চালের দাম বেড়ে গেছে।
জিরাশাইল চাল কেজি প্রতি ২ টাকা বেড়ে ৭০ টাকায় এবং সম্পাকাটারী ২ টাকা বেড়েছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই সময়ে বেড়েছে ভারতীয় পেঁয়াজ ও আলুর দামও। পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৫ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা এবং ভারতীয় আলু কেজি প্রতি ১২ টাকা বেড়ে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে আমদানি পণ্য বাজারে গেলে দাম কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন: হিলি বন্দর দিয়ে ডিম আমদানি করতে না পারার অভিযোগ ব্যবসায়ীদের
৪০৩ দিন আগে
ভারত থেকে আলু ও পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ, দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা
হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আলু ও পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করায় ট্রাকের অনলাইন স্লট বুকিং নিচ্ছে না ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
রবিবার (২৪ নভেম্বর) সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কারণে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দেশের ব্যবসায়ীরা।
এদিকে সোমবার (২৫ নভেম্বর) সকাল থেকে বন্দরে প্রবেশ করতে পারেনি আলু ও পেঁয়াজবাহী ট্রাক। শুধুমাত্র আগের অনলাইন স্লট বুকিং থাকায় সকালে আলুবাহী একটি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেছে।
এছাড়া অনলাইন স্লট বুকিং বন্ধ থাকায় রবিবার সন্ধ্যা থেকে বন্দরের মোকামে কেজিতে ৮-১০ টাকা বেড়ে ৬৪-৬৫ টাকায় পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় আলু। গত শনিবার একই মানের আলু প্রতি কেজি ৫৪-৫৫ টাকায় বিক্রি হয়। তবে সোমবার পর্যন্ত পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত রবিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত বাংলাদেশে রপ্তানির অপেক্ষায় প্রায় ৫০-৬০টির মতো আলু ও পেঁয়াজবাহী ট্রাক ভারতের অভ্যন্তরে আটকা পড়েছে। অনলাইন স্লট বুকিং বন্ধ থাকার কারণে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো বাংলাদেশে যেতে পারছে না।
ভারতের হিলির রপ্তানিকারক পাপ্পু আগরওয়াল বলেন, ‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার রবিবার সকাল থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি না করার জন্য আলু ও পেঁয়াজবাহী ট্রাকের অনলাইন স্লট বুকিং বন্ধ রাখে। সোমবার অনলাইনে এই দুটি পণ্যবাহী ট্রাকের স্লট বুকিং দেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সার্ভারে ঢোকা যায়নি। আলু ও পেঁয়াজের রপ্তানি স্বাভাবিক রাখতে আমরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আবেদনের উদ্যোগ নিয়েছি।’
আরও পড়ুন: খেজুর আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহার
তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে মালদা ও বালুঘাট জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মিটিংয়ের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। আগে যেসব আলু ও পেঁয়াজবাহী ট্রাকের স্লট বুকিং নেওয়া হয়েছিল, শুধুমাত্র সেসব ট্রাক গত রবিবার বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এই মুহূর্তে আলু ও পেঁয়াজের রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হলে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সহসভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি। আমাদের অনেক এলসি করা আছে। আমাদের আলু ও পেঁয়াজ আমদানি করতে সুযোগ দেওয়া হোক। না হলে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব।’
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, ‘দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণ রাখতে আমদানিকারকরা আলু ও পেঁয়াজের আমদানি করছেন। এই দুটি পণ্য বন্দরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে আমরা খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করি। যাতে আমদানিকারকরা পণ্যগুলো সঠিক সময়ে গন্তব্যে নিতে পারেন। তবে রবিবার শুনেছি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই দুটি পণ্যের রপ্তানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরকে না জানিয়ে সেখান থেকে অন্য রাজ্যে এবং বাংলাদেশে আলু ও পেঁয়াজ রপ্তানি করা হচ্ছিল। ফলে সেখানে আলুসহ পেঁয়াজের দাম হু হু করে বাড়ছে। এমন অভিযোগ তুলে ধরে গত বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে আলু ও পেঁয়াজের রপ্তানি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেই বার্তার পরই শুক্রবার (২২ নভেম্বর) নবান্নে বৈঠকে বসে টাস্কফোর্স কমিটি। মুখ্য সচিবের সঙ্গে টাস্কফোর্সের এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মুখ্যমন্ত্রীর পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ভিন্ন রাজ্যসহ বাংলাদেশে আপাতত আলু ও পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ থাকবে।
বিভিন্ন সূত্রে আরও জানা গেছে, হিলি ছাড়াও আরও ৪টি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে যেকোন পণ্য রপ্তানি করার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবহন দপ্তর থেকে পণ্যবাহী ট্রাকের জন্য অনলাইনে স্লট বুকিং দিয়ে সিরিয়াল নিতে হয়। সে অনুযায়ী রপ্তানি করা পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে। কিন্তু গত রবিবার (২৪ নভেম্বর) সকাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার রপ্তানি করা আলু ও পেঁয়াজবাহী ট্রাকের স্লট বুকিং বন্ধ করে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: আমনের ফসলহানীতে সৃষ্ট ঘাটতি ঠেকাতে চাল আমদানি করা হচ্ছে: খাদ্য উপদেষ্টা
৪০৫ দিন আগে
গুদামে পচে নষ্ট হচ্ছে আলু, আরও আসছে ভারতীয় ট্রাক
হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আনা ভারতীয় আলু তীব্র গরমে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে আমদানিকারকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রতিদিনি এই বন্দরের মাধ্যমে দেশে আলু আমদানি করা হচ্ছে। পচা আলুগুলো সড়কের পাশে ফেলায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে পথচারীদের চলাচলেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বন্দরের স্থানীয় আমদানিকারক ও কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্টরা জানান, বন্দরে হিমাগার (কোল্ড ষ্টোরেজ) ব্যবস্থা না থাকায় আলুসহ যেকোন কাঁচামাল আমদানি করা হলে এই অবস্থা হচ্ছে। হিলিতে বেশ কয়েকদিন ধরে তীব্র তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। প্রতিদিন প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বয়ে যাচ্ছে। এর ফলে গুদামের ভেতরে বস্তায় থাকা আলু প্রচণ্ড গরমে পচে রস বের হচ্ছে। আবহাওয়ার বিরুপ প্রভাবের কারণে আমাদের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভারত থেকে ৪ চালানে ১০০০ মেট্রিক টন আলু আমদানি
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ বলেন, দেশে আলুর দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকার আলু আমদানি করার অনুমতি দেয়। ফলে বন্দরের আমদানিকারকরা প্রতিবেশি দেশ ভারত থেকে আলু আমদানি করছেন। প্রতিদিন তারা আলু আমদানি করে দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করছেন। আমদানি করার পর ভারতীয় ট্রাক থেকে আলুর বস্তাগুলো খালাস করে গুদামে রাখার জন্য নেওয়া হয়। বিক্রির জন্য সেখানে ২ থেকে ৩দিন মজুদ থাকে।
বর্তমানে প্রচণ্ড গরমে বাইরে থেকে পাইকাররা কম আসছেন। আবার তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে পচে নষ্ট হচ্ছে। এই অবস্থায় আমদানিকারকরা আলু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাদের লাভ তো দূরের কথা, এখন গুনতে হচ্ছে বড় অঙ্কের লোকসান।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকদের প্রণোদনার মাধ্যমে আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া না হলে দেশে পণ্য সংকটকালীন সময়ে পণ্য আমদানিতে নিরুৎসাহিত হবেন। বিষয়টি সরকারের খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্দরের মোকামে আমদানিকৃত ভারতীয় আলুর জাত ভেদে ৩৮-৪০ টাকা কেজিতে পাইকারী বিক্রি হচ্ছে। আর বন্দরের আশ-পাশের বাজারে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকায়। তবে ভারতীয় আলু কিনতে ভোক্তাদের আগ্রহ কম। তারা দেশি আলু কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
বন্দরের আমদানিকারকদের প্রতিনিধি সিরাজ হোসেন জানান, দেশে আলুর দাম বেশি। তাই আমরা ভারত থেকে আলু আমদানি করছি। কিন্তু সাম্প্রতিককালে হিলিসহ দেশে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে বস্তায় থাকা আলু গরমে পচে নষ্ট হচ্ছে। প্রতি বস্তায় ২ থেকে ৩ কেজি করে নষ্ট আলু বের হচ্ছে। এখন আলু আমদানি মানেই আর্থিক ক্ষতি। আবার ভারতে গত কয়েকদিন ধরে কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা দাম বেড়েছে। বন্দরে কোল্ড ষ্টোরেজ ব্যবস্থা থাকলে এই ক্ষতি হতো না।
পৌর শহরের বাসিন্দা আসাদুর রহমান জানান, ডাঙ্গাপাড়া-ছাতনি সড়কের পাশে ভারতীয় পচা আলুগুলো ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এতে আমাদের যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছে। এমনিতেই তীব্র তাপে হাঁসফাঁস অবস্থা। তার উপর পচাগন্ধ আরও বিরক্তিকর। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজর দেওয়া দরকার।
এদিকে হিলি স্থলবন্দরের বেসরকারি অপারেটর পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন মল্লিক জানান, ভারত থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আলু আমদানি হচ্ছে। প্রতিদিনই আলু আসছে। আলু পচণশীল পণ্য হওয়ায় কাস্টমসের রাজস্ব আদায় সাপেক্ষে দ্রত খালাস করাসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে নিতে আমদানিকারকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে পোর্ট এলাকায় আলু সহ কাঁচাপণ্য রাখার জন্য কোল্ড ষ্টোরেজ ব্যবস্থা থাকলে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতেন না।
আরও পড়ুন: তীব্র গরমে বন্দরে পচতে শুরু করেছে ৩৭০ টন আলু
৬১৫ দিন আগে
বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ২০০ মেট্রিক টন আলু আমদানি
বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দর হয়ে ৮টি ট্রাকে করে ২০০ মেট্রিক টন আলু বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। আলু আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক রেজাউল করিম।
এর আগে গত ২ ডিসেম্বর ৩টি ট্রাকে ৭৪ মেট্রিক টন আলু আমদানি হয়। এরপর আর কোনো আলু আমদানি হয়নি।
আলুর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ইন্টিগ্রেটেড ফুডস অ্যান্ড বেভারেজেস এবং রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারতের পেপসিকো ইন্ডিয়া হোল্ডিংস বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আলুর চালানটি বন্দর থেকে খালাস নিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করেছেন ট্রান্সমেরিন লজিস্টিক লিমিটেড সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি মাসুম বিল্লা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় ভারতীয় ৮টি ট্রাকে ২০০ মেট্রিক টন আলু আমদানি করা হয়েছে। যার প্রতি মেট্রিক টন আলুর আমদানি খরচ পড়ছে ১৯৪ মার্কিন ডলার।
আরও পড়ুন: ভারত থেকে ১৪০০ টন ছোলা আমদানি হয়েছে
আলুর চালানটি রবিবার (১৭ মার্চ) খালাস হবে বলে তিনি জানান।
রেজাউল করিম বলেন, ‘দ্বিতীয় চালানে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ২০০ মেট্রিক টন আলু আমদানি হয়েছে। দ্রুত ছাড়করণের জন্য আমদানিকারকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।’
বেনাপোল বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কর্মকর্তা হেমন্ত কুমার সরকার বলেন, আমদানিকারকের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে আলুর মান পরীক্ষা শেষে খালাসের অনুমতি দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি
হিলি স্থলবন্দর দিয়ে এই প্রথম ভারত থেকে নারিকেল আমদানি
৬৬০ দিন আগে
লালমনিরহাটে আলুর ট্রলি উল্টে চালক নিহত
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে আলু বহনকারী একটি ট্রলি উল্টে ফরিদুল (৩৫) নামের এক ট্রলিচালক নিহত হয়েছে।
রবিবার রাত ১১টার দিকে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের সাপ্টিবাড়ি বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ফরিদুল হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের কাশিমবাজার এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।
আরও পড়ুন: যশোরের মণিরামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে পুলিশ জানায়, আলুর বস্তাবোঝাই একটি ট্রলি নিয়ে আদিতমারী থেকে লালমনিরহাটের দিকে যাচ্ছিল। সাপ্টিবাড়ি বাজার এলাকায় এলে ট্রলিটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এসময় পেছনে একইদিক থেকে একটি ট্রাক ট্রলির কাছাকাছি আসায় আত্মরক্ষায় ফরিদুল ট্রলি থেকে লাফ দেয়। এতে মাথায় আঘাত পেয়ে সে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ উন নবী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবহন শ্রমিক নিহত
৬৭৮ দিন আগে
সিলেটে আলুর কেজি ৮০ টাকা
সিলেটে আলুর দাম কেজিতে ৮০ টাকা হয়েছে। বাজারে নতুন আলু আসার পরও দামবৃদ্ধির জন্য আমদানি বন্ধকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে আলুর দাম বৃদ্ধির কারণ খুঁজতে মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বাজারে নামবেন বলে জানিয়েছেন বাজার মনিটরিং টিম।
সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ইউএনবির সিলেট প্রতিনিধি দেখতে পান, নতুন আলু ৭০-৭৫ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। পুরাতন আলু বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে ৮০ টাকার নিচে মিলছে না আলু।
আরও পড়ুন: আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে অর্ধেক দামে ডাল-তেল, আলু-পেঁয়াজ বিক্রি করবে টিসিবি
ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি মাসের ১৫ ডিসেম্বর থেকে আলু আমদানির অনুমতিপত্র-আইপি ইস্যু বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, এরপরই সক্রিয় হয়ে উঠে সিন্ডিকেট। বাড়তে থাকে আলুর দর। নগরীর পাইকারী বাজারে আলুর কেজি মান ভেদে ৬০-৬৫ টাকা। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকার আশেপাশে।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা জ্যৈষ্ঠ কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আবু সালেহ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘হঠাৎ করে আলুর দাম বেড়েছে। বাজারে ৬৫ থেকে ৭০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আমরা এর কারণ খুঁজছি। সোমবার বড়দিনের সরকারি ছুটি ছিল। মঙ্গলবার বাজার মনিটরিংয়ে নেমে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানব।’
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে পেঁয়াজ-আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
ভারত থেকে আমদানি করা ৭৪ টন আলুর প্রথম চালান দেশে
৭৪০ দিন আগে
ভারত থেকে আমদানি করা ৭৪ টন আলুর প্রথম চালান দেশে
দেশের বাজারে আলুর দাম লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকায় এবার ভারত থেকে ৭৪ টন আলু আমদানি করল সরকার।
চাল, ডাল, গম, পেঁয়াজ, সজনেডাটা ও কাঁচামরিচসহ নানা পণ্যের পর ভারত থেকে প্রথমবারের মতো এবার আলু আমদানি শুরু করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে তিনটি ট্রাকে ১ হাজার ৪৮০ বস্তায় ৭৪ দশমিক ১ টন আলু ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে আসে।
আরও পড়ুন: বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৪ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক
শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকায় আলুর চালানটি বন্দর থেকে খালাস করা সম্ভব হয়নি। তাই শনিবার (২ ডিসেম্বর) বন্দর থেকে চালানটি ছাড় করা হচ্ছে।
আলুর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ইন্টিগ্রেটেড ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড বাংলাদেশ এবং রপ্তানিকারক পেপসিকো ইন্ডিয়া হোল্ডিংস, ভারত।
সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ৭৭টি আবেদনের বিপরীতে সরকার ১২ জন আমদানিকারককে ভারত থেকে প্রায় ৫০ হাজার টন আলু আমদানির অনুমতি দেয়।
গত ৩০ অক্টোবর সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কোনোক্রমেই আলুর কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকার বেশি হতে পারে না।
৭০ থেকে ৮০ টাকা আলুর কেজি হবে কেন?
আলু আমদানির এই সিদ্ধান্ত বাজারে প্রভাব পড়বে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, পড়বে বলেই আমরা আমদানির অনুমতি দিয়েছি।
বেনাপোল ও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আলুগুলো আমদানি করা হবে।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি টন আলু ১৮০ মার্কিন ডলারে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতি টন আলুর শুল্ক ৬ হাজার ৬৮৯ টাকা ৫০ পয়সা। সে মোতাবেক প্রতি কেজি আলুতে শুল্ক দিতে হচ্ছে ৬ টাকা ৭০ পয়সা। আলু কেনা, এলসি খরচ ও শুল্কসহ প্রতি কেজি আলুতে আমদানিকারকের খরচ পড়ছে প্রায় ২৯ টাকা। ফলে বাজারে ৩০ থেকে ৩২ টাকায় সরবরাহ করা সম্ভব। ফলে দেশের বাজারে আলুর দাম অনেক কমে আসবে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রেজাউল করিম জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে ভারত থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৭৪ টন আলু বন্দরে প্রবেশ করেছে। তবে শুক্রবার ছুটি থাকার কারণে শনিবার আলুর চালানটি খালাস হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ‘আতা ফলের’ ঘোষণায় এলো ‘পার্সিমন’!
পূজার কারণে বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক
৭৬৪ দিন আগে
ডিসেম্বরে পেঁয়াজ-আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, নিজেদের উৎপাদন শুরু হলে আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে পেঁয়াজ ও আলু কম দামে পাওয়া যাবে।
বুধবার (৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি মনিটরিং ও রিভিউ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আমদানি ও বাজার মনিটরিং নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আলু ও ডিম আমদানি করতে হলে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগে। আমরা সেই অনুমতি নিয়ে দুই মাস আগে আলু আমদানির অনুমতি দিয়েছি। যদি পেছনের সমর্থন না পাই, তাহলে আমরা অনেক সময় করতে পারি না। সংকট যখন প্রকট হয়ে যায়, তখন তারা মেনে নেন, কিন্তু তখন আবার অনেক দেরি হয়ে যায়।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরবরাহ যদি ভালো থাকে, তাহলে সমস্যা হয় না। আবার আলু যদি অতিরিক্ত থেকে যায়, তখন প্রশ্ন করা হয়, কৃষকরা আলুর দাম পাচ্ছেন না, আপনি কী ব্যবস্থা করেছেন? দুইভাবেই সমস্যা। উৎপাদন যাতে বাড়ে, সেই প্রচারটা করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একটা হলো আমাদের দেশের উৎপাদন, আরেকটি আমদানি করে আনা হয়। বিভিন্ন জিনিসের বিভিন্ন রকম অবস্থা। পেঁয়াজের দাম কবে কমবে? এটা আমরা সবাই বুঝি যে যখন নতুন পেঁয়াজ বাজারে উঠবে, কৃষক যখন ফসল ঘরে তুলবে। হয়ত আগামী মাসে মুড়িকাটা পেঁয়াজটা বাজারে উঠবে, তখন হয়ত পেঁয়াজের দাম কমবে। আবার আলু যেমন ডিসেম্বরের শেষের দিকে বাজারে উঠতে শুরু করবে, তখন দাম কমবে।
আরও পড়ুন: ৩০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চায় বাংলাদেশ: বাণিজ্যমন্ত্রী
তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে ভারতীয় বাজারে ৮০ রুপি প্রতি কেজি পেঁয়াজ, যা আমাদের টাকায় ১০৫ বা ১১০ টাকা করে। পেঁয়াজের ন্যূনতম দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ভারত ৮০০ ডলার। ওই টাকায় আমরা আমদানি করলে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১২০ কিংবা ১২৫ টাকা পড়ে যাবে। এজন্য আমাদের নিজেদের উৎপাদনের ওপর নির্ভর করতে হবে।
তিনি বলেন,‘একইভাবে আলু আমাদের যা আছে কোল্ড স্টোরেজগুলোতে, তা প্রয়োজন অনুসারে ভীষণ টাইট অবস্থা। ডিসেম্বরের শেষের দিকে আলু উঠতে শুরু করবে। তখন দাম কিছুটা কমবে। আমদানিও শুরু হয়েছে, বাজারে সেটার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।’
মন্ত্রী বলেন, আমদানিটা ভালোভাবে এলে দাম কিছুটা সাশ্রয় হবে। ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছি, বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে কিছুটা সময় লেগেছে। এরইমধ্যে প্রথম চালান এসেছে।
টিপু মুনশি বলেন,‘যখন মুদ্রাস্ফীতি থাকে, তখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। দামের ওপর মূল্যস্ফীতি একটা বড় প্রভাব বিস্তার করে। এখন প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশের ওপরে মূল্যস্ফীতি। সেটার সমাধান করতে না পারলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কিংবা অন্য কেউ খুব একটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না।’
আরও পড়ুন: নিত্যপণ্য সরবরাহ প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
৭৮৮ দিন আগে